bisesso-biseshon-sorbonam-obboy-o-kriya-class-eight-bengali

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া । অষ্টম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে বাংলা পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভুক্ত বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া । অষ্টম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ প্রদান করা হলো। শিক্ষার্থীরা এই অষ্টম শ্রেণির বাংলা অনুশীলনীর প্রশ্নের উত্তর –গুলি সমাধানের মধ্য দিয়ে তাদের পরীক্ষা প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে। 

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া । অষ্টম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ :

 

পদঃ 

‘পদ’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি এরকম, √পদ্ + অ = পদ । মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করে বাক্যের সাহায্যে। কয়েকটি শব্দ মিলে একটি বাক্য হয়। আবার এ বাক্যের প্রতিটি শব্দই একেকটি পদ। বিভক্তিযুক্ত শব্দকে পদ বলে। বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি শব্দ এক একটি পদ।

পদের প্রকারভেদঃ 

পদ প্রধানত দুই প্রকার। যথা- নামপদ ও ক্রিয়াপদ।

নামপদঃ 

শব্দ বা প্রাতিপদিকের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ গঠিত হয়, তাকে নামপদ বলে।

ক্রিয়াপদঃ 

ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ গঠিত হয়, তাকে | ক্রিয়াপদ বলে।

নামপদ আবার চার প্রকার। যথা – 
১) বিশেষ্য
২) বিশেষণ
৩) সর্বনাম
৪) অব্যয়।

 

বিশেষ্য পদঃ 

বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, কাল, জাতি, সমষ্টি, কর্ম, ভাব এবং গুণের নাম বুঝায়, তাদেরকে বিশেষ্য পদ বা নামপদ বলে।

বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। যথা – 

নামবাচক বিশেষ্যঃ 

যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, স্থান, নদী, পর্বত, দেশ, শহর, গ্রাম, পুস্তক, সৌধ প্রভৃতির নাম বুঝায়, সেগুলোকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমনঃ ব্যক্তি : নজরুল, ওমর, আনিস। ভৌগোলিক স্থান : ঢাকা, দিল্লি, লন্ডন, মক্কা। ভৌগোলিক সংজ্ঞা : ককেশাস অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য, ইন্দোচীন। গ্রন্থের নাম : গীতাঞ্জলি, অগ্নি-বীণা, বিশ্বনবী।

জাতিবাচক বিশেষ্যঃ 

যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো এক জাতীয় প্রাণী, বস্তু বা বিষয়ের সকলকে বা প্রত্যেককে বুঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। উদাহরণ : গরু, মানুষ, পাখি, ইংরেজ, হিন্দু, মুসলমান।

বস্তুবাচক বিশেষ্যঃ 

যে বিশেষ্য পদ দ্বারা বস্তু বা দ্রব্যকে বুঝায়, তাকে বস্তুবাচক বিশেষ্য বলে। উদাহরণ : চেয়ার, টেবিল, আলনা, চাউল, মাটি, চিনি, লবণ, পানি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্যঃ 

যে বিশেষ্য দ্বারা জাতিবাচক বিশেষ্যের সমষ্টিকে বুঝায়, তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। উদাহরণ : সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, দল।

ভাববাচক বিশেষ্যঃ 

যে বিশেষ্য পদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। উদাহরণ : যাওয়ার কাজ -গমন, দেখার কাজ – দর্শন, খাওয়ার কাজ – ভোজন, শোওয়ার কাজ – শয়ন।

গুণবাচক বিশেষ্যঃ 

যে বিশেষ্যপদ দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বুঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে। উদাহরণ : সততা, ভদ্রতা, নম্রতা, কুলীন, শালীন, মধুরতা, তারল্য,তিক্ততা, তারুণ্য, সৌন্দর্য, বীরত্ব।

 

বিশেষণ পদঃ 

যা কোনো কিছুকে বিশিষ্ট করে বা ফুটিয়ে তোলে, তাকে বিশেষণ বলে। বিশেষণ শুধু বিশেষ্যকেই বিশেষিত করে না বরং অন্যান্য পদকেও বিশেষিত করে।

যেমন – ফুলটি সুন্দর, মেয়েটি চঞ্চল, পনের বছর। এখানে সুন্দর, চঞ্চল, পনের ইত্যাদি বিশেষণ পদ।

বিশেষ্যের বিশেষণ – চলন্ত গাড়ি।

সর্বনামের বিশেষণ – করুণাময় তুমি।

ক্ৰিয়া বিশেষণ – দ্রুত চল।

 

সর্বনাম পদঃ 

বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত পদকে সর্বনাম পদ বলা হয়ে থাকে। যেমন – আমি, তুমি, সে ইত্যাদি। 

সর্বনামের প্রকারভেদঃ 

১) ব্যক্তিবাচকঃ আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা।

২) আত্মবাচকঃ স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩) নির্দেশবাচকঃ এ, এই, ঐ, ইনি, উনি।

৪) সাকুল্যবাচকঃ সবাই, সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, উভয়।

৫) প্রশ্নবাচকঃ কে, কি, কোন, কার ।

৬) অনির্দেশকঃ কোন, কেউ, কিছু। কাদের।

৭) সাপেক্ষঃ যে-সে, যা-তা।

৮) ব্যতিহারিকঃ আপনা-আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর।

৯) অন্যাদিবাচকঃ অন্য, অপর, পর। 

 

অব্যয় পদঃ 

যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে। উদাহরণঃ ও, আর, এবং, কিন্তু, না, বা, অথবা, অপেক্ষা, পর্যন্ত, নতুবা, যদিও, তবুও, তথাপি, যদ্যপি, অর্থাৎ এসব হলো অব্যয় পদ। 

গঠনগত দিক বিচারে অব্যয় পদ চার ধরনের। যথাঃ 

সমুচ্চয়ী অব্যয়ঃ 

যে সমস্ত অব্যয় ‘শব্দের সাথে শব্দের’ অথবা ‘বাক্যের সাথে বাক্যের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায় তাদের সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে। এটি বিভিন্ন প্রকারের হয়-

সংযোজক অব্যয়ঃ 

এ জাতীয় অব্যয় শব্দের সাথে শব্দের বা বাক্যের সাথে বাক্যের সংযোজন ঘটায়। যেমন— তুমি ও আমি সেখানে যাব।

বিয়োজক অব্যয়ঃ 

এ জাতীয় অব্যয় শব্দের সাথে শব্দের বা বাক্যের সাথে বাক্যের বিয়োজন ঘটায়। যেমন- তুমি অথবা আমি সেখানে যাব। মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। লেখাপড়া কর নতুনা ফেল করবে।

সংকোচক অব্যয়ঃ

এ জাতীয় অব্যয় একাধিক পদকে বা একাধিক বাক্যকে একপদ বা একবাক্যে পরিণত করে। যেমন— তুমি, সে ও আমি সেখানে যাব = আমরা সেখানে যাব। এ বাক্যে ‘ও’ সংকোচক অব্যয়।

 

অনন্বয়ী অব্যয়ঃ 

যে সমস্ত অব্যয়ের সাথে মূল বাক্যের কোনো সম্পর্ক নেই, তা কেবল বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনোভাব প্রকাশে সহায়তা করে তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন— হায়! তার পিতা মারা গিয়েছে। এখানে ‘হায়’! অনন্বয়ী অব্যয়।

 

অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ঃ 

যে সমস্ত অব্যয় ধ্বনির দ্যোতনা সৃষ্টি করে বা অনুরণন করে তাদের অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। যেমন – শন শন করে বাতাস বইছে, টপটপ করে বৃষ্টি পড়ছে।

 

অনুসর্গ অব্যয়ঃ 

তৃতীয়া অথবা পঞ্চমী বিভক্তির চিহ্নগুলো যখন অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে। যেমন— পিতা কর্তৃক পুত্র প্রহার হয়েছে। তার দ্বারা এ কাজ হবে না। অনুসর্গ অব্যয় ‘পদান্বয়ী অব্যয়’ নামেও পরিচিত।

 

ক্রিয়াপদঃ 

যে পদ দ্বারা কোন কার্য সম্পাদন করা বুঝায়, তাই ক্রিয়াপদ। যে কোন ক্রিয়াপদে দুটো অংশ থাকে – ক্রিয়ামূল এবং ক্রিয়া-বিভক্তি। ভাব প্রকাশের উপর ভিত্তি করে ক্রিয়াপদ দুই প্রকার। যথাঃ 

সমাপিকা ক্রিয়াঃ

এ ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি জ্ঞাপিত হয়। উদাহরণঃ ছেলেরা খেলা করছে। এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। 

অসমাপিকা ক্রিয়াঃ এ ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বক্তার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। উদাহরণঃ প্রভাতে সূর্য উঠলে

ক্রিয়াপদের প্রকারভেদঃ 

যৌগিক ক্রিয়াঃ

অসমাপিকা ক্রিয়াপদের সাথে সমাপিকা ক্রিয়াপদ মিলিত হয়ে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। অর্থাৎ, ১টি অসমাপিকা ক্রিয়া + ১টি সমাপিকা ক্রিয়া = যৌগিক ক্রিয়া। যেমন— এখন সবাই মিলে দেশ গড়ে তোল। অনেক লোক এসে পড়ল।

প্রযোজক ক্রিয়াঃ 

যে ক্রিয়া নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজ সম্পন্ন করায় তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন— মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। শিক্ষক ছাত্রকে প্রহার করাচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।

প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।

নামধাতুর ক্রিয়াঃ

বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সাথে ‘আ’ যুক্ত করলে নামধাতু পাওয়া যায়। নামধাতুর সাথে ক্রিয়া বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠন করে, তাকে নামধাতুর ক্রিয়া বলে। যেমন— বেত + আ = বেতা, বেতা + ছে = বেতাচ্ছে, শন শন + ছে = শনশনাচ্ছে।

সকর্মক ক্রিয়াঃ

যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে। যেমন— সে বল খেলে – এখানে বল কর্মপদ। মা শিশুকে দেখাচ্ছেন – এখানে শিশুকে কর্মপদ।

অকর্মক ক্রিয়াঃ

যে ক্রিয়ার কর্মপদ নেই। যেমন— আমরা রোজ বেড়াই। আমি চোখে দেখিনে।

দ্বিকর্মক ক্রিয়াঃ

যে ক্রিয়ার দুটো কর্মপদ আছে। যেমন— আমি তাকে একটি গল্প বলব। মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

 

ক্রিয়ার কর্মঃ 

মুখ্য কর্মঃ 

কোন বাক্যের বস্তুবাচক কর্মটিকে মুখ্যকর্ম বলে। যেমন – বাবা আমাকে একটি কলম দিয়েছেন। এ বাক্যে, কলম হলো মুখ্য কর্ম।

গৌণ কর্মঃ

কোন বাক্যের প্রাণিবাচক কর্মটিকে গৌণকর্ম বলে। যেমন – বাবা আমাকে একটি কলম দিয়েছেন। এই ‘আমাকে’ হলো গৌণকর্ম

সমাধাতুজ কর্মঃ

কোনো বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম যদি একই ধাতু থেকে উৎপন্ন হয়, তবে ঐ বাক্যের কর্মটিকে সমধাতুজ কর্ম বলে। যেমন— সে খুব ভালো খেলা খেললো। খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।

নিম্নের Download Option -টি শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য। বাংলা বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232 

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া

অষ্টম শ্রেণির বাংলা অধ্যায়ভিত্তিক নোট দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে

class eight bengali notes

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করার প্রচেষ্টা করবেন না !
Scroll to Top