ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক প্রশ্নের উত্তর Class 9 History
ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক প্রশ্নের উত্তর Class 9 History নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইতিহাস বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করতে WWW.WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। এখানে নবম শ্রেণির ভূগোল অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হলো।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক প্রশ্নের উত্তর Class 9 History :
বিভাগ ক: বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ও উত্তর
১. ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ফ্রান্সের প্রচলিত লবণ-করটির নাম কী ছিল?
(ক) টেইলি
(খ) গ্যাবেল
(গ) ক্যাপিটেশন
(ঘ) তিত
উত্তর: (খ) গ্যাবেল
২. ‘The Spirit of the Laws’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
(ক) মন্টেস্কু
(খ) ভলতেয়ার
(গ) রুশো
(ঘ) দিদেরো
উত্তর: (ক) মন্টেস্কু
৩. ফ্রান্সের রাজনৈতিক কারাগার বাস্তব দুর্গটির পতন ঘটেছিল কোন তারিখে?
(ক) ৫ মে ১৭৮৯
(খ) ২০ জুন ১৭৮৯
(গ) ১৪ জুলাই ১৭৮৯
(ঘ) ৪ আগস্ট ১৭৮৯
উত্তর: (গ) ১৪ জুলাই ১৭৮৯
৪. তৃতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের টেনিস কোর্টের শপথ গ্রহণের প্রধান উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
(ক) দাঁতোঁ
(খ) রোবসপিয়ার
(গ) মিরাবো ও আবে সিয়েস
(ঘ) লাফায়েত
উত্তর: (গ) মিরাবো ও আবে সিয়েস
৫. ফরাসি সমাজের যাজক সম্প্রদায় কোন এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
(ক) প্রথম এস্টেট
(খ) দ্বিতীয় এস্টেট
(গ) তৃতীয় এস্টেট
(ঘ) চতুর্থ এস্টেট
উত্তর: (ক) প্রথম এস্টেট
৬. ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ার ক্যাথলিক চার্চকে কী বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন?
(ক) দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান
(খ) কুখ্যাত অপশক্তি (‘L’infâme’)
(গ) অন্ধকারের কারখানা
(ঘ) শোষণের স্তম্ভ
উত্তর: (খ) কুখ্যাত অপশক্তি (‘L’infâme’)
৭. কোন ফরাসি অর্থমন্ত্রী ‘ট্রেজারি রিপোর্ট’ বা ‘কম্পতে রঁদু’ (Compte Rendu) প্রকাশ করে রাজকোষের আর্থিক সংকট জনসমক্ষে আনেন?
(ক) তুর্গো
(খ) ক্যালোনে
(গ) নেকার
(ঘ) ব্রিয়েঁ
উত্তর: (গ) নেকার
৮. ফ্রান্সে গিলোটিন যন্ত্রটির উদ্ভাবন ঘটেছিল মূলত কোন উদ্দেশ্যে?
(ক) কঠোর শারীরিক নির্যাতন চালানো
(খ) যন্ত্রণা ছাড়া দ্রুত ও বৈষম্যহীন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা
(গ) রাজপরিবারের মর্যাদা রক্ষা করা
(ঘ) প্রকাশ্যে ভয় প্রদর্শন করা
উত্তর: (খ) যন্ত্রণা ছাড়া দ্রুত ও বৈষম্যহীন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা
৯. ফরাসি বিপ্লবকালে মুদ্রা হিসাবে প্রচলিত হওয়া সরকারি কাগজী নোটের নাম কী ছিল?
(ক) লিভর
(খ) অ্যাসাইনেট
(গ) ফ্রাঁ
(ঘ) ক্রাউন
উত্তর: (খ) অ্যাসাইনেট
১০. ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ৫ মে স্টেটস্ জেনারেলের অধিবেশন ফরাসি সম্রাট ষোড়শ লুই কোথায় আহ্বান করেছিলেন?
(ক) প্যারিস নগরীতে
(খ) ভার্সাই প্রাসাদে
(গ) মার্সেইলে
(ঘ) বাস্তিল চত্বরে
উত্তর: (খ) ভার্সাই প্রাসাদে
১১. রোবসপিয়ার কোন রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা ছিলেন?
(ক) জিরন্ডিস্ট
(খ) জ্যাকোবিন
(গ) কর্ডেলিয়ার্স
(ঘ) রাজতন্ত্রী
উত্তর: (খ) জ্যাকোবিন
১২. ফরাসি জাতীয় পরিষদ ‘ব্যক্তি ও নাগরিকের অধিকার ঘোষণাপত্র’ কবে গ্রহণ করে?
(ক) ১৪ জুলাই ১৭৮৯
(খ) ৪ আগস্ট ১৭৮৯
(গ) ২৬ আগস্ট ১৭৮৯
(ঘ) ২১ সেপ্টেম্বর ১৭৯২
উত্তর: (গ) ২৬ আগস্ট ১৭৮৯
১৩. বিপ্লবের সময় ‘সাঁ-কুলোৎ’ কাদের বলা হতো?
(ক) অভিজাত ভূস্বামীদের
(খ) প্যারিসের প্রান্তিক দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষকে
(গ) উচ্চপদস্থ বুর্জোয়াদের
(ঘ) ধর্মযাজকদের
উত্তর: (খ) প্যারিসের প্রান্তিক দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষকে
১৪. ‘সামাজিক চুক্তি’ (The Social Contract) গ্রন্থের রচয়িতা কে?
(ক) রুশো
(খ) মন্টেস্কু
(গ) ভলতেয়ার
(ঘ) ডেনিস দিদেরো
উত্তর: (ক) রুশো
১৫. ফ্রান্সে সামন্ততন্ত্র ও সামন্ততান্ত্রিক কর বিলোপের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জাতীয় পরিষদ কবে নিয়েছিল?
(ক) ১৪ জুলাই ১৭৮৯
(খ) ৪ আগস্ট ১৭৮৯
(গ) ২৬ আগস্ট ১৭৮৯
(ঘ) ২১ জানুয়ারি ১৭৯৩
উত্তর: (খ) ৪ আগস্ট ১৭৮৯
১৬. ফরাসি সম্রাট ষোড়শ লুইকে কবে গিলোটিনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়?
(ক) ১০ আগস্ট ১৭৯২
(খ) ২১ সেপ্টেম্বর ১৭৯২
(গ) ২১ জানুয়ারি ১৭৯৩
(ঘ) ২৮ জুলাই ১৭৯৪
উত্তর: (গ) ২১ জানুয়ারি ১৭৯৩
১৭. ১৭৯৩-১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে সন্ত্রাসের শাসনের অন্যতম প্রধান পরিচালক সংস্থা কোনটি ছিল?
(ক) জাতীয় সভা
(খ) জননিরাপত্তা কমিটি (Committee of Public Safety)
(গ) ডিরেক্টরি
(ঘ) সেনেট
উত্তর: (খ) জননিরাপত্তা কমিটি (Committee of Public Safety)
১৮. ‘থার্মিডোরীয় প্রতিক্রিয়া’ (Thermidorian Reaction) কবে সংঘটিত হয়েছিল?
(ক) জুলাই ১৭৯৪
(খ) জানুয়ারি ১৭৯৩
(গ) আগস্ট ১৭৮৯
(ঘ) নভেম্বর ১৭৯৯
উত্তর: (ক) জুলাই ১৭৯৪
১৯. ফরাসি জাতীয় সংগীত ‘লা মার্সেইয়েজ’ কে রচনা করেন?
(ক) রুজে দ্য লিল
(খ) মিরাবো
(গ) লাফায়েত
(ঘ) মেরি আঁতোয়ানেত
উত্তর: (ক) রুজে দ্য লিল
২০. ফ্রান্সে কত খ্রিস্টাব্দে ডিরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটিয়ে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ক্ষমতা দখল করেন?
(ক) ১৭৯৫
(খ) ১৭৯৭
(গ) ১৭৯৯
(ঘ) ১৮০৪
উত্তর: (গ) ১৭৯৯
@ ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
বিভাগ খ: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ও উত্তর
১. প্রাক্-বিপ্লব ফ্রান্সের প্রত্যক্ষ কর ‘টেইলি’ (Taille) কী ছিল?
উত্তর: ‘টেইলি’ ছিল প্রাক্-বিপ্লব ফ্রান্সে তৃতীয় এস্টেটের দরিদ্র প্রজাদের ওপর আরোপিত একটি বাধ্যতামূলক প্রত্যক্ষ ভূমিকর।
২. ফ্রান্সে রোমান ক্যাথলিক চার্চ প্রজাদের কাছ থেকে কোন্ ধর্মীয় কর আদায় করত?
উত্তর: চার্চ উৎপাদিত ফসলের এক-দশমাংশ ধর্মকর হিসেবে আদায় করত, যার নাম ছিল ‘তিত’ (Tithe)।
৩. ‘কাহিয়ের’ (Cahiers de doléances) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে স্টেটস্ জেনারেলের অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে ফ্রান্সের তিনটি এস্টেটের সাধারণ মানুষের লিখিত অভাব-অভিযোগ ও দাবির তালিকাকে ‘কাহিয়ের’ বলা হয়।
৪. ফরাসি বিপ্লবের মূল তিনটি আদর্শ বা বাণী কী কী ছিল?
উত্তর: ফরাসি বিপ্লবের প্রধান তিনটি আদর্শ ছিল সাম্য (Liberty), মৈত্রী (Fraternity) এবং স্বাধীনতা (Equality)।
৫. ফরাসি সমাজে ‘ইনটেনডেন্ট’ কাদের বলা হতো?
উত্তর: প্রাক্-বিপ্লব ফ্রান্সে রাজস্ব আদায় ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তৃত্ব পরিচালনাকারী দুর্নীতিগ্রস্ত রাজকীয় কর্মচারীদের সাধারণ মানুষ ব্যঙ্গ করে ‘অর্থলোলুপ নেকড়ে’ বা ইনটেনডেন্ট বলত।
৬. রুশো তাঁর কোন্ গ্রন্থে ‘সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত’ থাকার তত্ত্ব প্রচার করেন?
উত্তর: রুশো তাঁর বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ ‘The Social Contract’ (সামাজিক চুক্তি)-এ এই মতবাদ ব্যক্ত করেন।
৭. টেনিস কোর্টের শপথ কবে গৃহীত হয়েছিল?
উত্তর: ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ২০ জুন তৃতীয় এস্টেটের প্রতিনিধিরা ভার্সাইয়ের টেনিস কোর্টে এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ করেছিলেন।
৮. বাস্তিল দুর্গ আক্রমণের সময় ওই দুর্গের গভর্নর কে ছিলেন?
উত্তর: বাস্তিল দুর্গের গভর্নর ছিলেন দ্য লনে (Marquis de Launay)।
৯. ফ্রান্সে কোন সংগঠন ‘সিভিল কনস্টিটিউশন অব দ্য ক্লার্জি’ আইন পাস করে?
উত্তর: ফরাসি সংবিধান সভা বা জাতীয় পরিষদ (National Constituent Assembly) ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে এটি পাস করে।
১০. ‘সিভিল কনস্টিটিউশন অব দ্য ক্লার্জি’ আইনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: ফরাসি চার্চকে রোমের পোপের কর্তৃত্বমুক্ত করে রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং যাজকদের সরকারি কর্মচারীতে পরিণত করা।
১১. ফরাসি রাজপরিবার কবে রাতের অন্ধকারে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল (যা ‘Flight to Varennes’ নামে পরিচিত)?
উত্তর: ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দের ২০-২১ জুন রাজপরিবার ছদ্মবেশে দেশত্যাগের চেষ্টা করে ভারেনেস নামক স্থানে ধরা পড়ে।
১২. ফরাসি বিপ্লবে ‘লেফেভর’ উল্লেখিত ‘মহাভীতি’ বা ‘Great Fear’ কী ছিল?
উত্তর: ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের জুলাই-আগস্ট মাসে গুজব ছড়ায় যে অভিজাতরা দস্যুদল ভাড়া করে কৃষকদের ফসল ধ্বংস করছে; এর ফলে সারা দেশের কৃষকদের মধ্যে এক তীব্র আতঙ্ক ও বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে, যা ‘মহাভীতি’ নামে পরিচিত।
১৩. ‘ফ্রেন্ড অব দ্য পিপল’ (L’Ami du peuple) পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তর: চরমপন্থী জ্যাকোবিন নেতা জঁ পল মারাঁ (Jean-Paul Marat)।
১৪. ফ্রান্সকে কবে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
উত্তর: ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন সংবিধান রচিত হওয়ার পর ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়মতান্ত্রিক বা সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে পরিণত হয়।
১৫. ফ্রান্সে কবে রাজতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটিয়ে ‘প্রথম ফরাসি প্রজাতন্ত্র’ ঘোষণা করা হয়?
উত্তর: ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দের ২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় কনভেনশন ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের বিলোপ ঘটিয়ে প্রথম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে।
১৬. সন্ত্রাসের রাজত্বের প্রধান চালিকাশক্তি বা সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা কে ছিলেন?
উত্তর: জ্যাকোবিন নেতা ম্যাক্সিমিলিয়ান রোবসপিয়ার (Maximilien Robespierre)।
১৭. সন্দেহভাজনদের আইন (Law of Suspects) কবে পাস করা হয়?
উত্তর: ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ সেপ্টেম্বর এই দমনমূলক আইন পাস করা হয়।
১৮. ‘সর্বোচ্চ সীমা আইন’ বা ‘Law of Maximum’ কী উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছিল?
উত্তর: সন্ত্রাসের শাসনকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ ও মজুরি নির্দিষ্ট করার উদ্দেশ্যে এই আইন জারি হয়।
১৯. রোবসপিয়ারকে কবে গিলোটিনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়?
উত্তর: ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জুলাই (ফরাসি বিপ্লবী ক্যালেন্ডার মতে ১০ থার্মিডোর) রোবসপিয়ারকে গিলোটিনে হত্যা করা হয়।
২০. ‘১৮ই ব্রুমায়ার’-এর অভ্যুত্থান কবে এবং কার নেতৃত্বে ঘটেছিল?
উত্তর: ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দের ৯ নভেম্বর সেনাপতি নেপোলিয়ন বোনাপার্টের নেতৃত্বে এই অভ্যুত্থান ঘটে।
@ ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
বিভাগ গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ২)
১. ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ফ্রান্সকে ‘ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুঘর’ বলা হয়েছিল কেন?
অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্য ও বৈষম্য:
বিখ্যাত ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ ফ্রান্সকে ‘ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুঘর’ (A museum of economic errors) বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর মতে, ফ্রান্সে মোট জনসংখ্যার মাত্র দুই শতাংশ অভিজাত ও যাজক সর্বাধিক ধনসম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও কোনো কর দিত না।
ত্রুটিপূর্ণ কর ব্যবস্থা:
দেশের শতকরা ৯৭ ভাগ মানুষ, বিশেষত দরিদ্র কৃষক ও বুর্জোয়ারা সমস্ত রাজকীয় ও ধর্মীয় কর বহন করত। কর আদায়ে কোনো সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা ছিল না এবং ইনটেনডেন্টদের শোষণ রাজকোষের পরিবর্তে মধ্যস্বত্বভোগীদের সমৃদ্ধ করত।
২. ফ্রান্সের দ্বিতীয় এস্টেট বা অভিজাতদের কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যেত ও কী কী?
জন্মসূত্রে অভিজাত (Nobles of the Sword):
এঁরা ছিলেন বংশপরম্পরায় সামরিক ও সামন্ততান্ত্রিক পদমর্যাদাভোগী প্রাচীন অভিজাত সম্প্রদায়। এঁরা অত্যন্ত সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে রাজপ্রাসাদে বাস করতেন এবং রাজদরবারে আধিপত্য বজায় রাখতেন।
পোশাকী বা পদবিধারী অভিজাত (Nobles of the Robe):
এঁরা মূলত অর্থবান বুর্জোয়া শ্রেণিভুক্ত ছিলেন, যাঁরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিচার বিভাগীয় বা প্রশাসনিক উচ্চপদ ও আভিজাত্যের খেতাব ক্রয় করে সামাজিক স্তরে নিজেদের অভিজাত শ্রেণিতে উন্নীত করেছিলেন।
৩. ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ‘টেনিস কোর্টের শপথ’-এর গুরুত্ব কী ছিল?
জনগণের সার্বভৌমত্বের দাবি:
তৃতীয় এস্টেটের প্রতিনিধিরা সভাকক্ষ বন্ধ দেখে নিকটবর্তী টেনিস কোর্টে সমবেত হয়ে শপথ নেন যে, যতদিন না ফ্রান্সের জন্য একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান রচিত হচ্ছে, ততদিন তাঁরা বিচ্ছিন্ন হবেন না।
রাজতান্ত্রিক স্বৈরাচারের পরাজয়:
এই শপথ রাজার নিরঙ্কুশ রাজতান্ত্রিক কর্তৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায় এবং প্রমাণ করে যে জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতার উৎস, যা প্রকৃতপক্ষে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা নির্দেশ করে।
৪. বাস্তিল দুর্গের পতনের (১৪ জুলাই ১৭৮৯) ঐতিহাসিক তাৎপর্য কী ছিল?
স্বৈরতন্ত্রের প্রতীক ধ্বংস:
প্যারিসের বাস্তিল দুর্গটি ছিল বুরবোঁ রাজাদের নিরঙ্কুশ স্বেচ্ছাচারিতা, নির্যাতন ও রাজকীয় অত্যাচারের ঘৃণ্য প্রতীক। দুর্গটির পতনের মাধ্যমে ফ্রান্সে স্বৈরতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের ভিত্তি চিরতরে কেঁপে ওঠে।
জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার আত্মপ্রকাশ:
দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের এই সশস্ত্র প্রতিরোধ প্রমাণ করেছিল যে ফরাসি জনগণের ওপর রাজা আর তাঁর ইচ্ছামতো শাসন চালাতে পারবেন না। এই দিনটির স্মরণে আজও ১৪ জুলাই ফ্রান্সে জাতীয় দিবস পালিত হয়।
৫. ‘ব্যক্তি ও নাগরিকের অধিকার ঘোষণাপত্র’-এর দুটি প্রধান শর্ত উল্লেখ করুন।
জন্মগত স্বাধীনতা ও সাম্য:
ঘোষণাপত্রের প্রথম ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়—মানুষ জন্মগতভাবেই স্বাধীন এবং অধিকারে সমান (“Men are born and remain free and equal in rights”)। সামাজিক বৈষম্য কেবল সাধারণ উপযোগিতার ভিত্তিতেই হতে পারে।
আইনের চোখে সমতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা:
আইন হলো সাধারণ ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ এবং আইনের চোখে সব নাগরিক সমান। এছাড়া বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ধর্মের স্বাধীনতাকে অলঙ্ঘনীয় অধিকার বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
৬. ‘সাঁ-কুলোৎ’ (Sans-culottes) কারা ছিলেন? তাঁদের পোশাকের বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
সামাজিক পরিচয়:
ফরাসি বিপ্লবের সময় প্যারিসের চরম বিপ্লবী মনোভাবাপন্ন দিনমজুর, কারিগর, ছোট দোকানদার, কসাই এবং অন্যান্য সর্বহারা মেহনতি মানুষদের ‘সাঁ-কুলোৎ’ বলা হতো।
পোশাকের বিশিষ্টতা:
‘সাঁ-কুলোৎ’ কথার আক্ষরিক অর্থ ‘হাঁটু পর্যন্ত আঁটসাঁট প্যান্টহীন’। অভিজাতরা হাঁটু পর্যন্ত বিশেষ ট্রাউজার্স (Culottes) পরতেন; এর বিপরীতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ নিজেদের শ্রমজীবী পরিচয় স্পষ্ট করতে ঢিলেঢালা লম্বা পায়জামা এবং মাথায় বিপ্লবের প্রতীক লাল টুপি (Phrygian cap) পরতেন।
৭. মন্টেস্কুর বিখ্যাত ‘ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি’ (Separation of Powers) কী?
স্বৈরাচার রোধের ব্যবস্থা:
মন্টেস্কু তাঁর ‘The Spirit of the Laws’ গ্রন্থে ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা রোধের লক্ষ্যে এই তত্ত্ব তুলে ধরেন।
তিনটি বিভাগের পৃথকীকরণ:
তিনি প্রস্তাব করেন যে সরকারের প্রধান তিনটি অঙ্গ—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ এবং বিচার বিভাগকে কোনো একক ব্যক্তি বা সংস্থার হাতে না রেখে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বাধীন রাখতে হবে, যাতে তারা পরস্পরের ওপর ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
৮. ‘অ্যাসাইনেট’ (Assignat) কী এবং এর পরিণতি কী হয়েছিল?
কাগজী নোটের প্রবর্তন:
ফ্রান্সের তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা ও ঋণের সংকট মেটাতে জাতীয় পরিষদ বাজেয়াপ্ত করা চার্চের সম্পত্তির মূল্যের ওপর ভিত্তি করে একপ্রকার সরকারি কাগজী ঋণপত্র বা নোট চালু করে, যাকে অ্যাসাইনেট বলা হতো।
মুদ্রাস্ফীতি ও সংকট:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত হারে অ্যাসাইনেট ছাপানোর ফলে এর অন্তর্নিহিত মূল্য নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায় এবং ফ্রান্সে মারাত্মক মুদ্রাস্ফীতি ও কালোবাজারি দেখা দেয়।
৯. সেপ্টেম্বর হত্যাকাণ্ড (September Massacre) বলতে কী বোঝায়?
যুদ্ধকালীন আতঙ্ক ও উন্মাদনা:
১৭৯২ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে প্রুশিয়া ও অস্ট্রিয়ার যৌথ বাহিনী প্যারিসের দিকে অগ্রসর হলে বিপ্লবী মহলে তীব্র ভীতি ছড়ায় যে কারাগারের বন্দিরা বহিরাগত শত্রুদের সাহায্য করবে।
নির্বিচার বন্দি নিধন:
জঁ পল মারাঁ প্রমুখের প্ররোচনায় উন্মত্ত জনতা প্যারিসের বিভিন্ন কারাগারে ঢুকে প্রায় সহস্রাধিক রাজনৈতিক বন্দি, অভিজাত এবং চার্চের যাজককে কোনো বিচার ছাড়াই কয়েকদিনের মধ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
১০. জ্যাকোবিন ও জিরন্ডিস্ট দলের মধ্যে মূল দুটি পার্থক্য লেখো।
রাজনৈতিক আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি:
জিরন্ডিস্টরা ছিল তুলনামূলকভাবে নরমপন্থী, নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের সমর্থক; পক্ষান্তরে জ্যাকোবিনরা ছিল চরমপন্থী, কেন্দ্রীয় শক্তিশালী শাসন এবং প্রজাতন্ত্রের উগ্র সমর্থক।
শ্রেণিগত ভিত্তি:
জিরন্ডিস্টদের মূল সমর্থন ছিল প্রাদেশিক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে, আর জ্যাকোবিনদের প্রধান শক্তি ছিল প্যারিসের উগ্র মেহনতি সাঁ-কুলোৎ শ্রেণি।
১১. ‘লেভী অন মাস’ (Levée en Masse) কী ছিল?
সার্বজনীন গণ-সামরিকীকরণ:
১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বিদেশি আক্রমণকারীদের প্রতিহত করতে জাতীয় কনভেনশন ফ্রান্সে গণ-নিয়োগ বা সর্বজনীন বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা সংক্রান্ত যে ফরমান জারি করে, তাকে ‘লেভী অন মাস’ বলে।
জাতির সম্মিলিত যুদ্ধপ্রয়াস:
এই নির্দেশের ফলে ফ্রান্সের সমস্ত অবিবাহিত তরুণদের সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক হয়, মহিলারা সামরিক হাসপাতালে কাজ নেন এবং বৃদ্ধরা অস্ত্রাগারে শ্রম দিয়ে ফ্রান্সকে এক বিশাল সামরিক শিবিরে পরিণত করেন।
১২. বিপ্লবকালে ‘সন্দেহভাজনদের আইন’ (Law of Suspects) কেন জারি করা হয়েছিল?
বিপ্লববিরোধীদের দমন:
১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ সেপ্টেম্বর জ্যাকোবিন সরকার অভ্যন্তরীণ প্রতিবিপ্লবী চক্রান্ত ও গুপ্তচরবৃত্তি সমূলে বিনাশ করতে এই মারাত্মক কঠোর আইনটি প্রণয়ন করে।
নাগরিক অধিকার খর্ব:
আইনটির আওতায় কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই যে কোনো ব্যক্তিকে বিপ্লবের শত্রু বা সন্দেহভাজন মনে হলে গ্রেফতার ও বিপ্লবী ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করার অবাধ ক্ষমতা প্রশাসনকে দেওয়া হয়।
১৩. ‘থার্মিডোরীয় প্রতিক্রিয়া’ (Thermidorian Reaction) বলতে কী বোঝায়?
সন্ত্রাসের শাসনের অবসান:
১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের ২৭ জুলাই (ফরাসি বিপ্লবী ক্যালেন্ডারের ৯ থার্মিডোর) জাতীয় কনভেনশনের সদস্যরা রোবসপিয়ার ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচরদের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে বন্দি করেন এবং পরদিন তাঁদের গিলোটিনে মৃত্যুদণ্ড দেন।
নরমপন্থীদের ক্ষমতা দখল:
রোবসপিয়ারের পতনের সাথে সাথে রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসের শাসনের ইতি ঘটে এবং জ্যাকোবিনদের উগ্র নিয়ন্ত্রণ থেকে ক্ষমতা মধ্যপন্থী ও বিত্তবান বুর্জোয়াদের হাতে ফিরে আসে, যাকে থার্মিডোরীয় প্রতিক্রিয়া বলা হয়।
১৪. ফরাসি বিপ্লবে রুশোর প্রধান অবদান কী ছিল?
জনগণমনকে বিপ্লবমুখী করা:
জঁ-জ্যাক রুশো ছিলেন ফরাসি বিপ্লবের তাত্ত্বিক রূপকার। তাঁর ‘The Social Contract’ গ্রন্থে প্রচারিত “মানুষ জন্মায় স্বাধীনভাবে, অথচ সর্বত্র সে শৃঙ্খলিত” উক্তিটি ফরাসি জনগণকে চরম উদ্বুদ্ধ করেছিল।
সাধারণ ইচ্ছার তত্ত্ব:
তিনি রাজকীয় ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতার ধারণাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি হিসেবে ‘সাধারণ ইচ্ছা’ বা জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন, যা সাম্য ও গণতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করে।
১৫. ডিরেক্টরি শাসন কী এবং এটি কতদিন স্থায়ী ছিল?
শাসনতান্ত্রিক কাঠামো:
১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দের সংবিধানে ফ্রান্সে একনায়কতন্ত্র ঠেকাতে পাঁচজন ‘ডিরেক্টর’ বা পরিচালকের সমন্বয়ে একটি যৌথ শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, যা ডিরেক্টরি নামে পরিচিত।
স্থায়িত্ব ও ব্যর্থতা:
এই শাসন ১৭৯৫ থেকে ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মাত্র চার বছর স্থায়ী ছিল। অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অরাজকতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে নেপোলিয়ন ১৭৯৯ সালে এই ব্যবস্থার পতন ঘটান।
@ ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
বিভাগ ঘ: বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৪)
১. ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ফরাসি সমাজের অর্থনৈতিক সংকট কীভাবে বিপ্লবের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল?
ফরাসি বিপ্লবের পেছনে সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ গভীর হলেও, এর তাৎক্ষণিক ও সর্বাধিক সক্রিয় উপাদানটি ছিল এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট। প্রাক্-বিপ্লব ফ্রান্সের অর্থনীতি ছিল কাঠামোগতভাবে পঙ্গু ও ভারসাম্যহীন।
বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য কর কাঠামো:
প্রাক্-বিপ্লব ফ্রান্সে করভার বণ্টনের নীতি ছিল চরম অন্যায়। সমাজের প্রথম দুটি শ্রেণি—যাজক ও অভিজাতরা—দেশের মোট ভূসম্পত্তির প্রায় চল্লিশ শতাংশেরও বেশি ভোগ করলেও তারা কার্যত সকল প্রকার রাজকীয় প্রত্যক্ষ কর প্রদান থেকে মুক্ত ছিল। অন্যদিকে, কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ বুর্জোয়াদের নিয়ে গঠিত তৃতীয় এস্টেটকে সমস্ত করের বোঝা বহন করতে হতো। তারা দিত ভূমির ওপর ‘টেইলি’ (Taille), আয়ের ওপর ‘ভিংটিয়েমে’ (Vingtième), মাথার ওপর ধার্য কর ‘ক্যাপিটেশন’ (Capitation), এবং লবণের ওপর চরম অত্যাচারী কর ‘গ্যাবেল’ (Gabelle)। তদুপরি কৃষকদের চার্চকে উৎপন্ন ফসলের অংশ ‘তিত’ (Tithe) এবং সামন্তপ্রভুদের সামন্তকর মেটাতে হতো। ফলে কৃষকের আয়ের প্রায় আশি শতাংশই বিভিন্ন কর মেটাতে নিঃশেষিত হতো।
রাজকোষের দেউলিয়াত্ব ও বিপুল জাতীয় ঋণ:
বুরবোঁ রাজাদের অমিতব্যয়িতা এবং ক্রমাগত ব্যয়বহুল যুদ্ধ ফরাসি রাজকোষকে সম্পূর্ণ শূন্য করে দিয়েছিল। চতুর্দশ ও পঞ্চদশ লুইয়ের যুদ্ধনীতি এবং বিশেষভাবে ষোড়শ লুইয়ের আমলে মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধে (American Revolutionary War) প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের কারণে ফ্রান্সের জাতীয় ঋণের পরিমাণ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছায়। ঐতিহাসিক জর্জ লেফেভর (Georges Lefebvre)-এর মতে, যুদ্ধের ফলে ফ্রান্সের ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় চার বিলিয়ন লিভর, যার বার্ষিক সুদ মেটাতেই রাজস্বের অর্ধেকের বেশি ব্যয় হয়ে যেত।
প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি:
১৭৮৮-১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে তীব্র খরা এবং পরবর্তী শিলাবৃষ্টি ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে কৃষিক্ষেত্রে চরম শস্যহানি ঘটে। খাদ্যাভাবের কারণে ফ্রান্সে প্রধান খাদ্য রুটির (Bread) দাম আকাশচুম্বী হয়। সাধারণ দিনমজুর পরিবারের মোট আয়ের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কেবল এক বেলার রুটি জোগাড় করতেই ব্যয় হতে থাকে। ব্যবসায় মন্দা ও বেকারত্ব শহরগুলোতে এক বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতির জন্ম দেয়।
অর্থনৈতিক সংস্কারের ব্যর্থতা:
সংকট মোকাবিলায় সম্রাট ষোড়শ লুই পর্যায়ক্রমে তুর্গো, নেকার, ক্যালোনে এবং ব্রিয়েঁ-র মতো দক্ষ অর্থনীতিবিদদের অর্থমন্ত্রী নিয়োগ করেন। তাঁরা সকলেই একবাক্যে অভিজাত ও যাজকদের করমুক্তির বিশেষাধিকার প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু নতিস্বীকারহীন কায়েমি স্বার্থান্বেষী অভিজাতদের বিরোধিতায় সম্রাট বারবার সংস্কারকদের বরখাস্ত করতে বাধ্য হন। ফলে ঋণগ্রস্ত রাজতন্ত্র কোনো পথ না পেয়ে দীর্ঘ ১৭৫ বছর পর ‘স্টেটস্ জেনারেল’ আহ্বান করতে বাধ্য হয়, যা বিপ্লবের বারুদাগারে অগ্নিসংযোগ করে।
২. বাস্তিল দুর্গের পতনের পটভূমি ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করুন।
১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতন কেবল ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসের নয়, সমগ্র ইউরোপের আধুনিক ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত। এটি ছিল রাজতান্ত্রিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এক ঐক্যবদ্ধ ও সশস্ত্র বিদ্রোহ।
বাস্তিল পতনের কারণ ও ঐতিহাসিক পটভূমি:
সেনাবাহিনীর সমাবেশ ও গণ-উদ্বেগ: টেনিস কোর্টের শপথের পর তৃতীয় এস্টেট নিজেদের ‘জাতীয় সভা’ হিসেবে ঘোষণা করলে রাজা ষোড়শ লুই গোপনে ভার্সাই ও প্যারিসের চতুর্দিকে প্রায় কুড়ি হাজার সুইস ও জার্মান সৈন্যের সমাবেশ ঘটান। এর ফলে প্যারিসের মুক্তিকামী জনতার মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে যে সম্রাট বলপ্রয়োগ করে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেবেন।
জনপ্রিয় অর্থমন্ত্রী নেকারের বরখাস্ত: ১১ জুলাই ১৭৮৯ রাজা তৃতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সহানুভূতিশীল অর্থমন্ত্রী জ্যাক নেকারকে বরখাস্ত করলে প্যারিসবাসী চরম ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ক্যামিল দেসমুলার (Camille Desmoulins) মতো তরুণ নেতারা উন্মুক্ত রাস্তায় সাধারণ মানুষকে অস্ত্র তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।
অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ও বারুদের সন্ধান: ১৪ জুলাই সকালে উত্তেজিত জনতা প্যারিসের ‘ইনভ্যালিডস’ (Les Invalides) অস্ত্রাগার আক্রমণ করে হাজার হাজার মাস্কেট বন্দুক দখল করে। কিন্তু সেখানে বারুদ না থাকায় বারুদের সন্ধানে তারা এগিয়ে যায় কুখ্যাত বাস্তিল দুর্গের দিকে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য:
স্বৈরতান্ত্রিক দুর্নীতির প্রতীক চূর্ণ: বাস্তিল কেবল একটি সাধারণ অস্ত্রাগার ছিল না; এটি ছিল বুরবোঁ রাজতন্ত্রের লেটার দ্য ক্যাশে (Lettres de Cachet)-এর মাধ্যমে বিনা বিচারে বন্দি রাখার এক অন্ধকার প্রতীক। দুর্গটির পতন ঘটেছিল সাধারণ জনতার অদম্য শক্তিতে। ঐতিহাসিক আলবার্ট সোবুল (Albert Soboul)-এর ভাষায়, “The fall of the Bastille was the fall of the absolute monarchy.” অর্থাৎ বাস্তিলের পতন বস্তুত স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রেরই পতন ছিল।
মিউনিসিপ্যাল বিপ্লব ও প্যারিস কমিউনের জন্ম: বাস্তিল জয়ের ফলে প্যারিসের প্রশাসনিক ক্ষমতা জনতার নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রতিষ্ঠিত হয় স্বায়ত্তশাসিত ‘প্যারিস কমিউন’ এবং বিপ্লব রক্ষার জন্য গঠিত হয় ‘জাতীয় রক্ষীবাহিনী’ (National Guard), যার সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন মারকুইস দ্য লাফায়েত।
বিপ্লবের বিস্তার ও সামাজিক জাগরণ: বাস্তিলের বিজয়ের বার্তা দ্রুত ফ্রান্সের গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কৃষকরা উৎসাহিত হয়ে সামন্তপ্রভুদের দুর্গ আক্রমণ করে কর ও সামন্ততান্ত্রিক নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলে, যা ফ্রান্সে সামন্তপ্রথা বিলোপের প্রক্রিয়াকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দেয়।
৩. ১৭৯৩-১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে জ্যাকোবিনদের পরিচালিত ‘সন্ত্রাসের শাসন’ কি কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত ছিল?
১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের জুন থেকে ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের জুলাই পর্যন্ত সময়কাল আধুনিক ইতিহাসে জ্যাকোবিন ‘সন্ত্রাসের শাসন’ (Reign of Terror) নামে কুখ্যাত। বিপ্লবের অস্তিত্ব রক্ষার নামে লক্ষাধিক মানুষকে কারাগারে নিক্ষেপ এবং হাজার হাজার নিরীহ নাগরিককে গিলোটিনে প্রাণদণ্ড দেওয়া হলেও এর ঐতিহাসিক মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
সন্ত্রাসের শাসনের অনুকূলে বা প্রতিরক্ষামূলক যুক্তি:
বাইরের শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করা: ১৭৯৩ সালে ফ্রান্স কেবল এক চরম সংকটে ছিল না, বরং তার অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। অস্ট্রিয়া, প্রুশিয়া, ব্রিটেন, স্পেন ও হল্যান্ডের মতো বৃহৎ ইউরোপীয় শক্তিগুলো সম্মিলিতভাবে প্রথম ফরাসি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করতে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। এই সংকটময় মুহূর্তে একটি কঠোর ও নির্দয় কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ছাড়া বিদেশি শক্তির মোকাবিলা অসম্ভব ছিল।
অভ্যন্তরীণ প্রতিবিপ্লবী বিদ্রোহ দমন: ফ্রান্সের অভ্যন্তরেই ভঁদে (Vendée), লিওঁ, তুলোঁ এবং বোর্দো প্রদেশে বিপ্লববিরোধী ক্যাথলিক ও রাজতন্ত্রীদের এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। দেশের ভেতরের দেশদ্রোহিতা ও বিশ্বাসঘাতকতা নির্মূল করতে সন্ত্রাসের কঠোর নীতি প্রয়োগ অত্যন্ত অপরিহার্য বলে জ্যাকোবিন নেতারা মনে করতেন।
অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার পুনঃপ্রতিষ্ঠা: মজুতদারি, চোরাচালান ও খাদ্যের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি রোখার জন্য জ্যাকোবিনরা ‘ল অব ম্যাক্সিমাম’ প্রয়োগ করে পণ্যের দাম বেঁধে দেয়। কঠোর দমননীতির ভয়েই মুনাফাখোরি বন্ধ হয়েছিল এবং সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল।
সন্ত্রাসের শাসনের অন্ধকার ও অনৈতিক দিক:
মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মর্মান্তিক বিনাশ: বিপ্লবের প্রাথমিক আদর্শ ছিল সাম্য ও স্বাধীনতা। কিন্তু সন্ত্রাসের রাজত্বে ‘সন্দেহভাজনদের আইন’ পাস করে সাধারণ মানুষের নাগরিক ও আইনি অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগটুকু না দিয়ে বিপ্লবী ট্রাইব্যুনাল নির্বিচারে মানুষকে গিলোটিনে পাঠাতে থাকে।
মতানৈক্য নির্মূল ও দলীয় হিংসা: সন্ত্রাস কেবল বিপ্লবের শত্রুদের ওপর নয়, বিপ্লবী শিবিরের ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপরও লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নরমপন্থী জিরন্ডিস্ট নেতৃবৃন্দ, এমনকি প্রখ্যাত জ্যাকোবিন নেতা দাঁতোঁ (Danton) ও দেসমুলার মতো ব্যক্তিত্বকেও রোবসপিয়ারের উগ্রতার শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছিল। রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সন্ত্রাসকে পরিণত করা হয় ব্যক্তিগত প্রতিশোধের হাতিয়ারে।
উপসংহার:
ঐতিহাসিকরা মনে করেন, সংকটকালে বিপ্লবের অস্তিত্ব রক্ষার্থে প্রাথমিকভাবে সন্ত্রাসের একটি সাময়িক উপযোগিতা থাকলেও, রোবসপিয়ার ও জ্যাকোবিনরা এটিকে অন্ধ রক্তপিপাসায় রূপ দিয়েছিলেন। যেমন ঐতিহাসিক ফ্রাঁসোয়া ফুরে (François Furet) নির্দেশ করেছেন, সন্ত্রাসের শাসন শেষ পর্যন্ত বিপ্লবের মূল আদর্শকেই গ্রাস করে ফেলেছিল এবং তার চরম পরিণতিতেই থার্মিডোরীয় প্রতিক্রিয়া ঘটে।
@ ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
বিভাগ ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৮)
১. ফরাসি বিপ্লবের পেছনে দার্শনিক ও চিন্তাবিদদের ভূমিকা কতটা গভীর ছিল? এই দার্শনিকরা কি বিপ্লবের প্রত্যক্ষ রূপকার ছিলেন?
১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ফরাসি বিপ্লব কোনো আকস্মিক সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না; এটি ছিল বহু বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে ওঠা একটি সুসংগঠিত বৌদ্ধিক ও সামাজিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। অষ্টাদশ শতককে ইউরোপে বলা হয় ‘জ্ঞানদীপ্তির যুগ’ বা ‘Age of Enlightenment’। এই যুগে ফ্রান্সের একঝাঁক প্রতিভাধর দার্শনিক ও চিন্তাবিদ তাঁদের কলমের মাধ্যমে তৎকালীন ফরাসি সমাজের অন্ধবিশ্বাস, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং স্বৈরাচারী রাজতান্ত্রিক শোষণকে জনসমক্ষে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন।
অষ্টাদশ শতকের জ্ঞানদীপ্তি (Enlightenment)
│
┌────────────────────────────────┼────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
চার্লস মন্টেস্কু ভলতেয়ার জঁ-জ্যাক রুশো
'The Spirit of the Laws' 'Letters on the English' 'The Social Contract'
[ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ তত্ত্ব] [চার্চ ও স্বৈরাচারের তীব্র সমালোচনা] [জনগণের সার্বভৌমিকতা ও সাম্য]
│ │ │
└────────────────────────────────┼────────────────────────────────┘
▼
বিশ্বকোষ প্রণেতা (দিদেরো)
│
▼
বিপ্লবের বৌদ্ধিক ভিত্তি ও মানসিক প্রস্তুতি
প্রধান দার্শনিকদের মতাদর্শ ও ভূমিকা
মন্টেস্কু (Montesquieu, ১৬৮৯–১৭৫৫):
মন্টেস্কু ছিলেন একজন প্রখ্যাত ফরাসি আইনজীবী ও রাষ্ট্রতত্ত্ববিদ। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘The Spirit of the Laws’ (১৭৪৮) ফরাসি রাষ্ট্রদর্শনের ইতিহাসে এক নবদিগন্তের সূচনা করে।
ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতার বিরোধিতা: তিনি রাজার ‘ঈশ্বরপ্রদত্ত ঐশ্বরিক ক্ষমতা’ (Divine Right of Kings) তত্ত্বকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক বলে নস্যাৎ করেন।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি: তিনি দেখান যে, রাষ্ট্রের আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ যদি একক ব্যক্তি বা সংস্থার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে, তবে ব্যক্তিস্বাধীনতা বিনষ্ট হতে বাধ্য। ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থার অনুকরণে তিনি এই তিন বিভাগের সম্পূর্ণ পৃথকীকরণের প্রস্তাব দেন, যা ফরাসি মধ্যবিত্তদের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কারের গভীর আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছিল।
ভলতেয়ার (Voltaire, ১৬৯৪–১৭৭৮):
ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদ প্রচারের সর্বপ্রধান অগ্রদূত ছিলেন ফ্রাঁসোয়া-মারি আরুয়ে, যিনি ভলতেয়ার নামেই বিশ্বখ্যাত। তাঁর তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক লেখনী সরাসরি তৎকালীন ক্যাথলিক চার্চ এবং বুরবোঁ রাজাদের প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল।
চার্চের ভণ্ডামির মুখোশ উন্মোচন: ভলতেয়ার রোমান ক্যাথলিক চার্চের দুর্নীতি, অন্ধবিশ্বাস ও পরমতসহিষ্ণুতার তীব্র নিন্দা করেন এবং চার্চকে অভিহিত করেন “কুখ্যাত অপশক্তি” বা “Écrasez l’infâme” (Crush the infamous thing) বলে।
নাগরিক ও বাকস্বাধীনতার দাবি: তিনি তাঁর ‘Letters on the English’ (১৭৩৪) গ্রন্থে ইংল্যান্ডের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ভূয়সী প্রশংসা করে ফরাসিদের বোঝাতে সক্ষম হন যে তাঁরা কেমন এক চরম দাসত্ব ও অপশাসনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
জঁ-জ্যাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau, ১৭১২–১৭৭৮):
রুশো ছিলেন ফরাসি বিপ্লবের সর্বাধিক অনুপ্রেরণাদায়ী দার্শনিক। ঐতিহাসিকদের মতে, বিপ্লবীরা নিজেদের মুখ দিয়ে যে কথাগুলো বলতেন, তা ছিল মূলত রুশোর চিন্তারই প্রকাশ।
মানুষের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলমোচন: তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘The Social Contract’ (১৭৬২)-এর অমর প্রারম্ভিক বাক্যটি সমগ্র ইউরোপ কাঁপিয়ে দিয়েছিল:
“Man is born free, and everywhere he is in chains.”
(মানুষ জন্মায় স্বাধীনভাবে, অথচ সর্বত্র সে শৃঙ্খলিত।)
জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সাধারণ ইচ্ছা (General Will): রুশো প্রচার করেন যে রাষ্ট্র কোনো সম্রাটের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি হলো নাগরিকদের মধ্যে এক পারস্পরিক চুক্তি। সরকারের ক্ষমতা আসে জনগণের সম্মতির ওপর ভিত্তি করে। অতএব, যদি কোনো শাসক প্রজাস্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই সরকারকে উৎখাত করার পূর্ণ অধিকার জনগণের রয়েছে। তাঁর এই বৈপ্লবিক ধারণাটি বিপ্লবীদের বিদ্রোহের পথ দেখিয়েছিল।
বিশ্বকোষ প্রণেতা ও ফিজিওক্র্যাটগণ (Encyclopaedists and Physiocrats):
ডেনিস দিদেরো (Denis Diderot) এবং জঁ ডি’অ্যালমবার্ট (Jean d’Alembert)-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত বিশাল ‘বিশ্বকোষ’ (Encyclopédie) সমাজের যাবতীয় অন্ধবিশ্বাস, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং বিজ্ঞানমনস্কতার অভাবকে প্রকাশ্যে উন্মোচিত করে। পাশাপাশি ফ্রাঁসোয়া কেনে (François Quesnay)-র মতো অর্থনীতিবিদরা দেশের অন্যায্য অভ্যন্তরীণ শুল্ক ও সামন্ততান্ত্রিক ভূমিব্যবস্থার অবসান দাবি করেন।
দার্শনিকরা কি বিপ্লবের প্রত্যক্ষ রূপকার ছিলেন?
দার্শনিকরা কি সজ্ঞানে বিপ্লব সৃষ্টি করেছিলেন, নাকি তাঁরা কেবল সচেতনতার বাতাবরণ প্রস্তুত করেছিলেন—এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
দার্শনিকরা বিপ্লবী বা ধ্বংসকামী ছিলেন না:
মন্টেস্কু বা ভলতেয়ার কেউই রক্তক্ষয়ী গণবিপ্লব বা রাজতন্ত্র উচ্ছেদের পক্ষপাতী ছিলেন না। মন্টেস্কু চেয়েছিলেন সাংবিধানিক রাজতন্ত্র; ভলতেয়ার চেয়েছিলেন একজন ‘জ্ঞানদীপ্ত স্বৈরাচারী’ (Enlightened Despot) সংস্কারক শাসক। এমনকি রুশোও রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানের নির্দেশ দেননি। তদুপরি ১৭৮৯ সালের বিপ্লব যখন শুরু হয়, তখন এদের কেউই জীবিত ছিলেন না (ভলতেয়ার ও রুশো উভয়েরই মৃত্যু হয় ১৭৭৮ সালে)।
পরোক্ষ রূপকার ও মানসিক বারুদ প্রস্তুতকারী:
দার্শনিকরা হয়তো রাস্তায় নেমে নেতৃত্ব দেননি, কিন্তু তাঁরা মানুষের মন থেকে রাজতন্ত্র ও চার্চ সম্পর্কে গড়ে ওঠা শতাব্দীপ্রাচীন ভয় ও শ্রদ্ধাকে নির্মূল করে দিয়েছিলেন। তাঁরা একটি মানসিক পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন।
বিখ্যাত ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ আলফ্রেড কোবান (Alfred Cobban) এবং জর্জ রুদে (George Rudé) দেখিয়েছেন যে, দার্শনিকদের চিন্তাভাবনা সরাসরি দরিদ্র কৃষক পর্যন্ত না পৌঁছালেও, প্যারিসের ক্যাফে, সেলুন ও রাজনৈতিক ক্লাবগুলোর মাধ্যমে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বুর্জোয়া শ্রেণির রক্তে মিশে গিয়েছিল। আর এই বুর্জোয়ারাই ১৭৮৯ সালে সাধারণ মানুষকে বিপ্লবের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।
দার্শনিকরা বিপ্লব নামক বিস্ফোরণটি সরাসরি ঘটাননি ঠিকই, কিন্তু তাঁরা সমাজের ভেতরে জমে থাকা শুকনো বারুদে বৈচারিক স্ফুলিঙ্গ যুক্ত করেছিলেন। ফরাসি সম্রাট ষোড়শ লুই রাজবন্দি অবস্থায় কারাগারের লাইব্রেরিতে ভলতেয়ার ও রুশোর গ্রন্থ দেখে আক্ষেপ করে বলেছিলেন: “এই দুজন মানুষই আমার রাজ্য এবং রাজবংশকে ধ্বংস করে দিল।” অতএব, দার্শনিকরা প্রত্যক্ষ পরিকল্পনাকারী না হলেও, তাঁদের যুগান্তকারী চিন্তাভাবনা ছাড়া ফরাসি বিপ্লব আত্মাহীন ও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়ত।
@ ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
২. ফ্রান্সে জ্যাকোবিনদের পরিচালিত ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ (Reign of Terror)-এর একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন করুন। এর উত্থানের পটভূমি, কর্মপদ্ধতি এবং পতনের কারণসমূহ আলোচনা করুন।
১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার আলোকবর্তিকা নিয়ে যে ফরাসি বিপ্লবের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা মাত্র চার বছরের ব্যবধানে ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে এসে এক রক্তস্নাত, ভয়াবহ ও চরম নিয়ন্ত্রণকামী রূপ ধারণ করে। ১৭৯৩ সালের ২ জুন থেকে ১৭৯৪ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত স্থায়ী এই ভয়াল পর্বটিকে ইতিহাসে জ্যাকোবিনদের পরিচালিত ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ (Reign of Terror) বলা হয়।
জ্যাকোবিন সন্ত্রাসের উত্থান ও রূপরেখা
│
┌─────────────────────────────────┼─────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
চরম সংকটাবস্থা সাংগঠনিক কাঠামো দমন ও পরিণতি
┌──────────────────────┐ ┌──────────────────────┐ ┌──────────────────────┐
│• বিদেশি জোটের আক্রমণ │ │• জননিরাপত্তা কমিটি │ │• সন্দেহভাজনদের আইন │
│• ভঁদে ও গৃহযুদ্ধ │ ──► │• বিপ্লবী ট্রাইব্যুনাল │ ──► │• গিলোটিনে গণহত্যা │
│• খাদ্যাভাব ও মুদ্রাস্ফীতি│ │• রোবসপিয়ারের নিয়ন্ত্রণ│ │• থার্মিডোরীয় পতন │
└──────────────────────┘ └──────────────────────┘ └──────────────────────┘
সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার পটভূমি
বহিরাগত সামরিক আগ্রাসন:
১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি ফরাসি সম্রাট ষোড়শ লুইকে গিলোটিনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া, প্রুশিয়া, হল্যান্ড, স্পেন ও সার্ডিনিয়া একত্রিত হয়ে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ‘প্রথম ইউরোপীয় সামরিক জোট’ (First Coalition) গঠন করে। এই বিদেশি শত্রুরা চতুর্দিক থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে প্যারিসের দিকে ধেয়ে আসছিল। ফ্রান্সের নবজাত প্রজাতন্ত্রের ভৌগোলিক অস্তিত্ব তখন মুছে যাওয়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল।
অভ্যন্তরীণ প্রতিবিপ্লবী গৃহযুদ্ধ:
একই সময়ে ফ্রান্সের ভেতরেই প্রায় ষাটটি জেলায় বিপ্লববিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়। পশ্চিম ফ্রান্সের ভঁদে (Vendée) অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ ক্যাথলিক ও রাজতন্ত্রকামীরা প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে খোলাখুলি যুদ্ধ ঘোষণা করে। এছাড়া লিওঁ, মার্সেই এবং তুলোঁ বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো জ্যাকোবিনদের কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
অর্থনৈতিক অরাজকতা ও খাদ্যসংকট:
কাগজী মুদ্রা অ্যাসাইনেটের দাম অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পাওয়ার ফলে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা খাদ্যশস্য মজুত করে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ তৈরি করছিল। প্যারিসের চরমপন্থী সাঁ-কুলোৎ শ্রেণি ক্ষুধার্ত হয়ে রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল। এই ত্রিমুখী মহাসংকট মোকাবিলায় জ্যাকোবিন দল নরমপন্থী জিরন্ডিস্টদের ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রের সামগ্রিক কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেয়।
সন্ত্রাসের সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মপদ্ধতি
জ্যাকোবিনরা কোনো বিশৃঙ্খল উপায়ে নয়, বরং সুপরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে সন্ত্রাস পরিচালনা করেছিল। এর প্রধান তিনটি স্তম্ভ ছিল:
জননিরাপত্তা কমিটি (Committee of Public Safety):
বারোজন সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিটি কার্যত ফ্রান্সের যুদ্ধকালীন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী একনায়কতান্ত্রিক মন্ত্রিসভায় পরিণত হয়। এর প্রধান নীতি-নির্ধারক ছিলেন ম্যাক্সিমিলিয়ান রোবসপিয়ার (Maximilien Robespierre), লুই সেন্ট জুস্ট এবং কুঁথো। রোবসপিয়ার বিশ্বাস করতেন যে গুণ বা সততাকে রক্ষা করতে হলে সন্ত্রাস অপরিহার্য। তাঁর বিখ্যাত নীতি ছিল:
“Terror is nothing other than justice, prompt, severe, inflexible.”
(সন্ত্রাস আর কিছুই নয়, তা হলো দ্রুত, কঠোর এবং আপসহীন ন্যায়বিচার।)
বিপ্লবী ট্রাইব্যুনাল (Revolutionary Tribunal):
এটি ছিল একটি বিশেষ আদালত, যেখানে রাজনৈতিক বন্দি এবং প্রতিবিপ্লবীদের বিচার করা হতো। এখানে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার বা আপিলের কোনো সুযোগ ছিল না। বিচারের রায় ছিল মাত্র দুটি—হয় বেকসুর খালাস, নয়তো সোজা গিলোটিনে শিরশ্ছেদ।
কঠোর দমনমূলক আইনসমূহ:
সন্দেহভাজনদের আইন (Law of Suspects – ১৭ সেপ্টেম্বর ১৭৯৩): এর মাধ্যমে যে কোনো ব্যক্তিকে ন্যূনতম সন্দেহের বশে কারারুদ্ধ করার অবাধ লাইসেন্স দেওয়া হয়।
সর্বোচ্চ সীমা আইন (Law of Maximum): পণ্যের মূল্য ও শ্রমিকদের মজুরি নির্দিষ্ট করে দিয়ে কালোবাজারিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
২২ প্রেইরিয়ালের আইন (Law of 22 Prairial): এই আইনে সাক্ষ্যপ্রমাণের বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়, যার ফলে সন্ত্রাসের রক্তপাত চরম আকার ধারণ করে। ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পর্বে প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয় এবং তিন লক্ষাধিক মানুষকে বন্দি করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন রানি মেরি আঁতোয়ানেত, মাদাম রোল্যান্ড এবং বিজ্ঞানি ল্যাভয়সিয়ে।
সন্ত্রাসের শাসন পতনের কারণসমূহ
যে সন্ত্রাস ফ্রান্সকে সংকট থেকে বাঁচাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই সন্ত্রাসই অবশেষে নিজের প্রতিষ্ঠাতাদের গ্রাস করে ফেলে:
সন্ত্রাসের কার্যকারিতা ফুরিয়ে যাওয়া:
১৭৯৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ‘লেভী অন মাস’ প্রয়োগ করে গঠিত ফরাসি গণবাহিনী ফ্লেউরাসের যুদ্ধে (Battle of Fleurus) সম্মিলিত বিদেশি বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহগুলোও প্রায় নিস্তেজ হয়ে আসে। ফলে জনমানসে ও কনভেনশনের সদস্যদের মধ্যে ধারণা জন্মায় যে যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা আর নেই, সুতরাং সন্ত্রাসের আর কোনো প্রয়োজন অবশিষ্ট নেই।
দলীয় কোন্দল ও অতি-উগ্রবাদ:
রোবসপিয়ার ক্ষমতার চূড়ায় উঠে নিজের দলের ভিন্নমতাবলম্বীদেরও শেষ করতে শুরু করেন। চরম বামপন্থী এবার্তিস্টদের (Hébertists) হত্যার পর তিনি নরমপন্থী মধ্যপন্থা সমর্থক জঁ পল দাঁতোঁ (Danton) এবং দেসমুলার মতো জনপ্রিয় নেতাদেরও গিলোটিনে পাঠান। দাঁতোঁ মৃত্যুর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—”রোবসপিয়ারও শীঘ্রই আমার পথেই আসবে।” দলের নির্ভরযোগ্য নেতাদের হারিয়ে জ্যাকোবিনদের জনভিত্তি ভেঙে পড়ে।
সর্বজনীন নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতি:
রোবসপিয়ারের অতি-নৈতিকতাবাদী ‘সততার শাসন’ (Republic of Virtue) কায়েমের নামে প্রতিদিন যেভাবে গিলোটিনে রক্তের বন্যা বইছিল, তাতে জাতীয় কনভেনশনের প্রতিটি সদস্য প্রতিনিয়ত নিজেদের প্রাণ হারানোর আশঙ্কায় কাঁপতেন। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, রোবসপিয়ারকে না থামালে কেউই রক্ষা পাবে না।
থার্মিডোরীয় প্রতিক্রিয়া ও চূড়ান্ত পতন:
১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই রোবসপিয়ার কনভেনশনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন যে তাঁর কাছে আরও অনেক ‘বিশ্বাসঘাতক’ সদস্যের তালিকা রয়েছে, তবে তিনি তাঁদের নাম প্রকাশ করেননি। এর ফলে সভাকক্ষে উপস্থিত সকলেই নিশ্চিত মৃত্যুর আতঙ্কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যান। পরদিন ২৭ জুলাই (ফরাসি ক্যালেন্ডারের ৯ থার্মিডোর) সভাকক্ষে রোবসপিয়ারকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সর্বসম্মতভাবে ‘স্বৈরাচারী’ ঘোষণা করে বন্দি করা হয়। পরের দিন অর্থাৎ ২৮ জুলাই ১৭৯৪ রোবসপিয়ার এবং তাঁর একুশজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গিলোটিনে শিরশ্ছেদ করা হয়। এর সাথেই অবসান ঘটে বিভীষিকাময় সন্ত্রাসের শাসনের।
ঐতিহাসিক মূল্যায়ন
জ্যাকোবিন সন্ত্রাসের শাসনকে কেবল নিষ্ঠুরতার নিরিখে বিচার করলে ইতিহাসের অপব্যাখ্যা হবে। এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই সমভাবে স্পষ্ট:
একদিকে এটি প্রমাণ করেছিল যে চরম জাতীয় সংকটে কীভাবে একটি যুদ্ধকালীন অর্থনীতির বিকাশ ঘটিয়ে, সর্বজনীন গণবাহিনী গঠন করে দেশকে নিশ্চিত বিদেশি দাসত্ব ও অভ্যন্তরীণ ধ্বংস থেকে রক্ষা করা যায়।
কিন্তু অন্যদিকে এটি সাম্য ও ব্যক্তি স্বাধীনতার বৈপ্লবিক স্বপ্নকে গিলোটিনের নির্মম কুঠারতলে বলি দিয়েছিল। সন্ত্রাসবাদ কখনোই দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্রের ভিত্তি হতে পারে না—জ্যাকোবিনদের এই মর্মান্তিক পতনের শিক্ষাই শেষ পর্যন্ত আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের কাছে এক চিরন্তন ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
- নবম শ্রেণির ইতিহাস অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর
- ইতিহাস MCQ MOCK TEST
PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)
ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ, SAQ , ২ নম্বরের প্রশ্ন, ৪ নম্বরের প্রশ্ন, ৮ নম্বরের প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232
১) নবম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম অধ্যায় – ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক (Only for Subscribers)
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সকল বিষয়ের MCQ প্রশ্নের মক টেস্ট প্রদান করতে নিম্নের লিঙ্কটি অনুসরণ করতে হবে
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে।
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে। @ ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি। @ ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।






















