বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর Class 9 History
বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর Class 9 History নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইতিহাস বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করতে WWW.WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। এখানে নবম শ্রেণির ভূগোল অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হলো।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর Class 9 History :
বিভাগ ক: বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ও উত্তর
১. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফ্রান্সে কোন ঘটনার মাধ্যমে শাসনক্ষমতা দখল করেছিলেন?
(ক) থার্মিডোরীয় প্রতিক্রিয়া
(খ) ১৮ই ব্রুমায়ারের কু দ্য’তা (Coup d’état)
(গ) বাস্তিল দুর্গের পতন
(ঘ) সেপ্টেম্বর হত্যাকাণ্ড
উত্তর: (খ) ১৮ই ব্রুমায়ারের কু দ্য’তা (Coup d’état)
২. কনস্যুলেটের শাসনব্যবস্থায় ফ্রান্সে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ‘প্রথম কনসাল’ কে ছিলেন?
(ক) আবে সিয়েস
(খ) দ্যুকো
(গ) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
(ঘ) তালিরঁ
উত্তর: (গ) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
৩. নেপোলিয়ন কত খ্রিস্টাব্দে নিজেকে ফরাসিদের সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন?
(ক) ১৭৯৯
(খ) ১৮০২
(গ) ১৮০৪
(ঘ) ১৮১৫
উত্তর: (গ) ১৮০৪
৪. ‘কোড নেপোলিয়ন’ (Code Napoléon) কোন বছর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবর্তিত হয়?
(ক) ১৮০০
(খ) ১৮০২
(গ) ১৮০৪
(ঘ) ১৮১০
উত্তর: (গ) ১৮০৪
৫. ‘কোড নেপোলিয়ন’-এ মোট কয়টি ধারা বা বিধি অন্তর্ভুক্ত ছিল?
(ক) ২০০০
(খ) ২২৮১
(গ) ২৪০০
(ঘ) ২৫৮০
উত্তর: (খ) ২২৮১
৬. ফরাসি রাষ্ট্র ও রোমান ক্যাথলিক চার্চের মধ্যে সম্পাদিত ‘কনকর্ডাট’ বা ধর্মীয় চুক্তিটি কবে স্বাক্ষরিত হয়?
(ক) ১৭৯৯
(খ) ১৮০১
(গ) ১৮০৪
(ঘ) ১৮০৮
উত্তর: (খ) ১৮০১
৭. কোন ঐতিহাসিক যুদ্ধকে ‘তিন সম্রাটের যুদ্ধ’ (Battle of the Three Emperors) বলা হয়?
(ক) ট্রাফালগারের যুদ্ধ
(খ) অস্টারলিটজের যুদ্ধ
(গ) লাইপজিগের যুদ্ধ
(ঘ) ওয়াটারলুর যুদ্ধ
উত্তর: (খ) অস্টারলিটজের যুদ্ধ
৮. ঐতিহাসিক ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
(ক) ডিউক অব ওয়েলিংটন
(খ) অ্যাডমিরাল নেলসন
(গ) জেনারেল ব্লুচার
(ঘ) উইলিয়াম পিট
উত্তর: (খ) অ্যাডমিরাল নেলসন
৯. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট জার্মানির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে কয়টি রাজ্যের সমন্বয়ে ‘কনফেডারেশন অব দ্য রাইন’ গড়ে তোলেন?
(ক) ১৬টি
(খ) ৩৯টি
(গ) ৪৫টি
(ঘ) ৬০টি
উত্তর: (খ) ৩৯টি
১০. ইউরোপীয় ভূখণ্ডে ব্রিটিশ বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে নেপোলিয়ন ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে কোন ডিক্রি জারি করেন?
(ক) মিলান ডিক্রি
(খ) বার্লিন ডিক্রি
(গ) ওয়ারশ ডিক্রি
(ঘ) ফন্টেনব্লু ডিক্রি
উত্তর: (খ) বার্লিন ডিক্রি
১১. নেপোলিয়নের মহাদেশীয় ব্যবস্থার জবাবে ইংল্যান্ড যে পাল্টা সামরিক নির্দেশনামা জারি করে, তার নাম কী?
(ক) অর্ডার্স ইন কাউন্সিল
(খ) মিলান ডিক্রি
(গ) নেভিগেশন অ্যাক্ট
(ঘ) ব্রিটিশ ব্লকএড রুল
উত্তর: (ক) অর্ডার্স ইন কাউন্সিল
১২. তিলসিতের সন্ধি (১৮০৭) নেপোলিয়ন কোন রাষ্ট্রের জারের সঙ্গে স্বাক্ষর করেছিলেন?
(ক) অস্ট্রিয়া
(খ) প্রুশিয়া
(গ) রাশিয়া
(ঘ) স্পেন
উত্তর: (গ) রাশিয়া
১৩. উপদ্বীপের যুদ্ধ (Peninsular War) কোন উপদ্বীপে সংঘটিত হয়েছিল?
(ক) স্ক্যান্ডিনেভীয়
(খ) বলকান
(গ) আইবেরীয়
(ঘ) ইতালীয়
উত্তর: (গ) আইবেরীয়
১৪. কোন যুদ্ধটি ইউরোপের ইতিহাসে ‘জাতিসমূহের যুদ্ধ’ (Battle of the Nations) নামে সুপরিচিত?
(ক) ওয়াটারলুর যুদ্ধ
(খ) লাইপজিগের যুদ্ধ
(গ) জেনার যুদ্ধ
(ঘ) ফ্রিডল্যান্ডের যুদ্ধ
উত্তর: (খ) লাইপজিগের যুদ্ধ
১৫. ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া অভিযানের সময় রুশ সেনাবাহিনী নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে কোন সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছিল?
(ক) গেরিলা যুদ্ধ
(খ) পরিখা যুদ্ধ
(গ) পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy)
(ঘ) সম্মুখ নৌযুদ্ধ
উত্তর: (গ) পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy)
১৬. নেপোলিয়নের ঐতিহাসিক রাশিয়া অভিযানের সময় ফরাসি সেনাদলের নাম কী ছিল?
(ক) গ্র্যান্ড আর্মি (Grande Armée)
(খ) ইম্পেরিয়াল লিজিওন
(গ) ন্যাশনাল গার্ড
(ঘ) রিপাবলিকান আর্মি
উত্তর: (ক) গ্র্যান্ড আর্মি (Grande Armée)
১৭. প্রথমবার সিংহাসনচ্যুতির পর ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়নকে কোন দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল?
(ক) সেন্ট হেলেনা দ্বীপে
(খ) কর্সিকা দ্বীপে
(গ) এলবা দ্বীপে
(ঘ) সাইপ্রাস দ্বীপে
উত্তর: (গ) এলবা দ্বীপে
১৮. ইউরোপের ইতিহাসে ‘একশত দিবসের রাজত্ব’ (Hundred Days of Reign) কোন বছর সংঘটিত হয়?
(ক) ১৮১২
(খ) ১৮১৪
(গ) ১৮১৫
(ঘ) ১৮২১
উত্তর: (গ) ১৮১৫
১৯. ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুন ওয়াটারলুর অন্তিম যুদ্ধে নেপোলিয়নকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করেন কোন ইংরেজ সেনাপতি?
(ক) ডিউক অব ওয়েলিংটন
(খ) অ্যাডমিরাল নেলসন
(গ) স্যার জন মুর
(ঘ) লর্ড ক্লাইভ
উত্তর: (ক) ডিউক অব ওয়েলিংটন
২০. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে নির্বাসিত অবস্থায় কোন দ্বীপে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন?
(ক) এলবা দ্বীপে
(খ) সেন্ট হেলেনা দ্বীপে
(গ) ক্রিট দ্বীপে
(ঘ) মাল্টা দ্বীপে
উত্তর: (খ) সেন্ট হেলেনা দ্বীপে
@ বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ – WBNOTES.IN
বিভাগ খ: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ও উত্তর
১. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কোন ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: নেপোলিয়ন ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে ভূমধ্যসাগরের কর্সিকা দ্বীপের আজাক্সিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
২. ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের ডিরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটিয়ে নেপোলিয়ন যে নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা কায়েম করেন, তার নাম কী ছিল?
উত্তর: কনস্যুলেট ব্যবস্থা (The Consulate)।
৩. ‘লিজিয়ন অব অনার’ (Legion of Honour) কী?
উত্তর: নেপোলিয়ন প্রবর্তিত একটি সর্বজনীন জাতীয় সম্মাননা পদক, যা যোগ্যতার ভিত্তিতে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য নাগরিকদের দেওয়া হতো।
৪. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কবে ‘ব্যাংক অব ফ্রান্স’ (Bank of France) প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জানুয়ারি নেপোলিয়ন ব্যাংক অব ফ্রান্স প্রতিষ্ঠা করেন।
৫. ‘কোড নেপোলিয়ন’ সংকলনের মূল ভিত্তি কয়টি ভাগে বিভক্ত ছিল?
উত্তর: কোড নেপোলিয়ন মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল—দেওয়ানি বিধি, ফৌজদারি বিধি এবং বাণিজ্যিক বিধি।
৬. ১৮০১ খ্রিস্টাব্দের ‘কনকর্ডাট’ চুক্তিটি নেপোলিয়ন কোন ক্যাথলিক পোপের সঙ্গে স্বাক্ষর করেন?
উত্তর: সপ্তম পোপ পায়াস (Pope Pius VII)-এর সঙ্গে।
৭. ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দের কোন যুদ্ধে ইংল্যান্ডের কাছে নেপোলিয়নের সম্মিলিত ফরাসি-স্পেনীয় নৌবাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিল?
উত্তর: ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধে (Battle of Trafalgar)।
৮. কোন যুদ্ধজয়ের পর নেপোলিয়ন রোমান সাম্রাজ্যের বিলোপ ঘটিয়ে জার্মানির ওপর আধিপত্য সুদৃঢ় করেন?
উত্তর: ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দের অস্টারলিটজের যুদ্ধজয়ের পর।
৯. নেপোলিয়ন প্রবর্তিত ‘মহাদেশীয় ব্যবস্থা’র (Continental System) মূল অর্থনৈতিক লক্ষ্য কী ছিল?
উত্তর: ব্রিটিশ বাণিজ্য ও শিল্পপণ্যকে সমগ্র ইউরোপীয় বাজার থেকে সম্পূর্ণ বহিষ্কার করে অর্থনৈতিকভাবে ব্রিটেনকে ধ্বংস করা।
১০. ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়ন কোন ডিক্রি জারি করে নিরপেক্ষ দেশগুলির ব্রিটেনের সাথে বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন?
উত্তর: মিলান ডিক্রি (Milan Decree)।
১১. নেপোলিয়ন কোন দেশে তাঁর ভাই জোসেফ বোনাপার্টকে জোরপূর্বক সিংহাসনে বসিয়েছিলেন?
উত্তর: স্পেনের সিংহাসনে।
১২. উপদ্বীপের যুদ্ধে স্পেনীয় বিদ্রোহীরা নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোন্ যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করেছিল?
উত্তর: গেরিলা যুদ্ধকৌশল (Guerrilla Warfare)।
১৩. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট তাঁর পতনের প্রধান কারণ হিসেবে কোন যুদ্ধক্ষতকে দায়ী করেছিলেন?
উত্তর: স্পেনের ক্ষতকে (“The Spanish ulcer ruined me”)।
১৪. ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে তিলসিতের সন্ধির মাধ্যমে নেপোলিয়ন কোন দেশের সাথে মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষর করেন?
উত্তর: রাশিয়ার সাথে (জার প্রথম আলেকজান্ডার)।
১৫. ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া আক্রমণের সময় নেপোলিয়নের প্রায় কত সৈন্যের সুবিশাল ‘গ্র্যান্ড আর্মি’ ধ্বংসের মুখে পড়েছিল?
উত্তর: প্রায় ৬ লক্ষ সৈন্যের মধ্যে চার লক্ষাধিক সৈন্য ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
১৬. রাশিয়া কেন মহাদেশীয় ব্যবস্থা ত্যাগ করেছিল?
উত্তর: রাশিয়ার কৃষিজ পণ্য ইংল্যান্ডে রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় এবং ইংল্যান্ডের তৈরি পণ্যের আমদানি রদ হওয়ায় রাশিয়ার অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পড়েছিল।
১৭. লাইপজিগের যুদ্ধ বা ‘জাতিসমূহের যুদ্ধ’ কবে সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর।
১৮. ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবার সিংহাসনচ্যুতির পর নেপোলিয়নের স্থলে ফ্রান্সে কোন রাজবংশের পুনর্বাসন ঘটেছিল?
উত্তর: বুরবোঁ রাজবংশের (অষ্টাদশ লুই সিংহাসনে বসেন)।
১৯. ইতিহাসপ্রসিদ্ধ ওয়াটারলুর যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুন।
২০. নেপোলিয়ন কোন আইনের মাধ্যমে প্রাচীন বংশানুক্রমিক সামন্তপ্রথা ও গির্জার বিশেষ অধিকার স্থায়ীভাবে বাতিল করেছিলেন?
উত্তর: ‘কোড নেপোলিয়ন’ বা নেপোলিয়নের আইন সংহিতার মাধ্যমে।
@ বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ – WBNOTES.IN
বিভাগ গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ২)
১. নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে কেন “বিপ্লবের সন্তান” (Child of the Revolution) বলা হয়?
বিপ্লবোদ্ভূত উত্থান:
ফরাসি বিপ্লবের সাম্য ও সুযোগের সমতার আদর্শ না থাকলে এক সাধারণ কর্সিকান পরিবারের সন্তান হয়ে নেপোলিয়ন কোনোদিনই ফরাসি সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে বা দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে বসতে পারতেন না।
বিপ্লবী সংস্কারের স্থায়ী রূপায়ন:
তিনি বিপ্লবের মূল অর্জন—যেমন সামন্তপ্রথার বিলোপ, সামাজিক সাম্য, চার্চের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ এবং আইনের চোখে সকলের সমতাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ভিত্তি দিয়েছিলেন।
২. নেপোলিয়নকে কেন “বিপ্লবের ধ্বংসকারী” (Destroyer of the Revolution) বলা হয়?
গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার সমাধি:
নেপোলিয়ন ফ্রান্সে ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেন, রাজনৈতিক বিরোধীদের কঠোর হাতে দমন করেন এবং গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে সমস্ত ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন।
রাজতান্ত্রিক রূপান্তর:
বিপ্লব যে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রকে উচ্ছেদ করেছিল, ১৮০৪ সালে নেপোলিয়ন নিজেকে ফরাসিদের বংশানুক্রমিক ‘সম্রাট’ ঘোষণা করে এবং নিজের ভাই-বোনদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সিংহাসনে বসিয়ে সেই রাজতন্ত্রকেই আবার ফিরিয়ে আনেন।
৩. ‘কোড নেপোলিয়ন’ (Code Napoléon)-এর দুটি মূল বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন।
আইনের চোখে সমতা ও সামন্ততন্ত্রের বিলোপ:
জন্মসূত্রে প্রাপ্য সমস্ত সামাজিক ও ধর্মীয় বিশেষাধিকার স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয় এবং সমাজের প্রতিটি নাগরিককে আইনের চোখে সমমর্যাদা দেওয়া হয়।
সম্পত্তির অধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষ বিচার:
ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে আইনগতভাবে অলঙ্ঘনীয় ও পবিত্র ঘোষণা করা হয় এবং বিচার ব্যবস্থাকে চার্চের অন্ধবিশ্বাস ও মধ্যযুগীয় ধর্মীয় অনুশাসন থেকে মুক্ত করা হয়।
৪. ১৮০১ খ্রিস্টাব্দের ‘কনকর্ডাট’ বা ধর্মীয় চুক্তির রাজনৈতিক গুরুত্ব কী ছিল?
রোমান চার্চের সাথে সম্পর্কের মীমাংসা:
বিপ্লবের ফলে পোপের সঙ্গে ফ্রান্সের যে গভীর বৈরিতা তৈরি হয়েছিল, নেপোলিয়ন এই চুক্তির মাধ্যমে ফরাসি চার্চকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে তা শান্ত করেন।
রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা:
পোপ বিপ্লবকালে বাজেয়াপ্ত হওয়া চার্চের সম্পত্তি আর দাবি করবেন না বলে মেনে নেন এবং যাজকদের রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ ও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করে চার্চের ওপর সরকারের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা হয়।
৫. নেপোলিয়ন কীভাবে ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন করেছিলেন?
স্তরীভূত শিক্ষা ও লিসেই (Lycée):
তিনি শিক্ষাকে গির্জার নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ত্রিস্তরীয় কাঠামো গড়ে তোলেন এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও সামরিক শৃঙ্খলাপরায়ণ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা ‘লিসেই’ স্থাপন করেন।
প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা:
সমগ্র দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি সুনির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত করার লক্ষ্যে তিনি ১৮০৮ সালে স্বশাসিত সংস্থা হিসেবে ‘ইউনিভার্সিটি অব ফ্রান্স’ বা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ পরিষদ গঠন করেন।
৬. ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধের (১৮০৫) দুটি প্রধান ফলাফল লেখো।
ব্রিটিশ নৌ-আধিপত্যের চিরস্থায়ী প্রতিষ্ঠা:
অ্যাডমিরাল নেলসনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ নৌবাহিনী ফ্রান্স ও স্পেনের সম্মিলিত নৌবহরকে শোচনীয়ভাবে ধ্বংস করে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর বিশ্বজোড়া অপরাজেয় শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করে।
ইংল্যান্ড জয়ের স্বপ্নভঙ্গ:
নৌবহর ধ্বংস হওয়ার ফলে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে সরাসরি ব্রিটেন আক্রমণ ও দখল করার যে দীর্ঘদিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেপোলিয়নের ছিল, তা চিরতরে শেষ হয়ে যায়।
৭. ‘কনফেডারেশন অব দ্য রাইন’ (Confederation of the Rhine) কী ছিল?
জার্মান ভূখণ্ডের পুনর্গঠন:
অস্টারলিটজের যুদ্ধের পর নেপোলিয়ন ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির প্রায় তিন শতাধিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সামন্ত রাজ্যকে বিলুপ্ত করে ৩৯টি প্রধান রাজ্যকে একত্রিত করে একটি রাজনৈতিক জোট তৈরি করেন।
ফরাসি প্রভাব ও ঐক্যের সূচনা:
এই সংঘ নেপোলিয়নের প্রত্যক্ষ সামরিক সুরক্ষাধীন ছিল; এটি একদিকে জার্মানিতে ফরাসি নিয়ন্ত্রণ পোক্ত করে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে একটি অখণ্ড জার্মান রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক বীজ বপন করে।
৮. নেপোলিয়নের ‘মহাদেশীয় ব্যবস্থা’ (Continental System) বলতে কী বোঝায়?
অর্থনৈতিক যুদ্ধের কৌশল:
সমুদ্রযুদ্ধে ব্রিটেনকে সরাসরি হারাতে না পেরে নেপোলিয়ন ইংল্যান্ডের বৈদেশিক বাণিজ্য ও শিল্পের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে ইউরোপের বন্দরগুলিতে ব্রিটিশ জাহাজের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার যে সর্বাত্মক অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করেন, তাকে মহাদেশীয় ব্যবস্থা বলে।
ডিক্রিসমূহের প্রবর্তন:
১৮০৬ সালের ‘বার্লিন ডিক্রি’ এবং ১৮০৭ সালের ‘মিলান ডিক্রি’-র মাধ্যমে সমগ্র ইউরোপীয় ভূখণ্ড ও ফরাসি মিত্রদেশগুলিতে ব্রিটেনের সমস্ত পণ্য ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
৯. ইংল্যান্ড জারিকৃত ‘অর্ডার্স ইন কাউন্সিল’ (Orders in Council)-এর মূল নির্দেশ কী ছিল?
পাল্টা অর্থনৈতিক অবরোধ:
নেপোলিয়নের বার্লিন ডিক্রির পালটা জবাবে ১৮০৭ সালে ব্রিটিশ সরকার এই নির্দেশ জারি করে।
কঠোর বাণিজ্যাদেশ:
এতে ঘোষণা করা হয় যে নিরপেক্ষ দেশের কোনো জাহাজ ফরাসি অধিকৃত বন্দরে যেতে পারবে না; যদি যেতেই হয়, তবে তাকে প্রথমে ব্রিটিশ বন্দরে এসে শুল্ক প্রদান ও তল্লাশির অনুমতিপত্র নিতে হবে, অন্যথায় ব্রিটিশ নৌবাহিনী সেই জাহাজ বাজেয়াপ্ত করবে।
১০. নেপোলিয়ন কেন ‘স্পেনের ক্ষত’কে তাঁর পতনের অন্যতম কারণ বলেছেন?
দীর্ঘমেয়াদী রক্তক্ষয়:
স্পেনে নিজের ভাই জোসেফকে রাজা করায় জাতীয়তাবাদী স্প্যানিশরা যে প্রবল গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে, তাতে প্রায় তিন লক্ষ সেরা ফরাসি সেনা নিহত হয় এবং ফ্রান্সের রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে।
অপরাজেয় ভাবমূর্তির বিনাশ:
স্পেনের মাটিতে অপরাজেয় ফরাসি বাহিনীর লজ্জাজনক পরাজয় সমগ্র ইউরোপের রাজশক্তিগুলিকে বোঝায় যে নেপোলিয়নকেও যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করা সম্ভব।
১১. ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে রুশ বাহিনীর ‘পোড়ামাটি নীতি’ (Scorched Earth Policy) কী ছিল?
সম্পদ ধ্বংস করে পিছু হটা:
নেপোলিয়নের বিরাট বাহিনীকে মোকাবিলা করতে সরাসরি যুদ্ধ না করে রুশ সেনারা ক্রমশ পিছু হটতে থাকে এবং পেছনে পড়ে থাকা সমস্ত খাদ্যশস্য, খেতের ফসল, জলের কূপ ও বাসস্থান জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দেয়।
শত্রুর খাদ্যসংকট সৃষ্টি:
এর ফলে খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাবে রাশিয়ার চরম শৈত্যপ্রবাহে ফরাসি গ্র্যান্ড আর্মি কোনো রসদ না পেয়ে অনাহারে ও শীতে তিলে তিলে ধ্বংস হয়ে যায়।
১২. লাইপজিগের যুদ্ধকে কেন ‘জাতিসমূহের যুদ্ধ’ (Battle of the Nations) বলা হয়?
সম্মিলিত ইউরোপীয় শক্তির প্রতিরোধ:
১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের এই যুদ্ধে রাশিয়া, প্রুশিয়া, অস্ট্রিয়া, সুইডেন ও ব্রিটেন—ইউরোপের বিভিন্ন জাতির সম্মিলিত জাতীয়তাবাদী সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধ হয়ে নেপোলিয়নের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।
বহুদেশীয় সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ:
ইতিহাসে এর আগে কখনোই ইউরোপের এতগুলো স্বাধীন দেশ একসঙ্গে এক অভিন্ন শত্রুকে উৎখাত করতে বিশাল সেনাবহর নিয়ে এক ময়দানে অবতীর্ণ হয়নি।
১৩. ‘একশত দিবসের রাজত্ব’ (The Hundred Days) বলতে কী বোঝায়?
এলবা দ্বীপ থেকে প্রত্যাবর্তন:
১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ নেপোলিয়ন নাটকীয়ভাবে এলবা দ্বীপের নির্বাসন থেকে পালিয়ে ফ্রান্সে ফিরে আসেন এবং বুরবোঁ রাজা অষ্টাদশ লুই দেশ ছেড়ে পালালে তিনি পুনরায় ফ্রান্সের শাসনভার গ্রহণ করেন।
স্বল্পস্থায়ী শাসন:
২০ মার্চ থেকে ১৮ জুন ওয়াটারলুর যুদ্ধে চূড়ান্ত পরাজয় পর্যন্ত তিনি মাত্র ১০০ দিন ফ্রান্সে রাজত্ব করেছিলেন, যা ইতিহাসে ‘একশত দিবসের রাজত্ব’ নামে চিহ্নিত।
১৪. ওয়াটারলুর যুদ্ধের (১৮১৫) ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী ছিল?
নেপোলিয়নীয় যুগের চিরস্থায়ী অবসান:
১৮১৫ সালের ১৮ জুন এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ডিউক অব ওয়েলিংটনের নেতৃত্বে মিত্রবাহিনীর হাতে পরাজিত হয়ে নেপোলিয়নের রাজনৈতিক ও সামরিক জীবনের সম্পূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।
ইউরোপে বুরবোঁ ও প্রাচীনতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন:
এই যুদ্ধের ফলেই ফ্রান্সে পুনরায় বুরবোঁ রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং ইউরোপের রাজনীতিতে এক দীর্ঘকালীন রক্ষণশীল প্রতিক্রিয়াশীল যুগের (ভিয়েনা ব্যবস্থার যুগ) সূচনা হয়।
১৫. জাতীয়তাবাদ বিকাশে নেপোলিয়নের অভিযানের দুটি ইতিবাচক প্রভাব লেখো।
ভৌগোলিক ঐক্য ও আধুনিক শাসন প্রতিষ্ঠা:
ইতালি ও জার্মানির শতাধিক বিচ্ছিন্ন সামন্তীয় সীমানা ভেঙে সীমিত কয়েকটি রাজ্য গঠন এবং সেখানে সমান আইন চালু করায় মানুষের মনে আঞ্চলিকতার বদলে জাতীয় ঐক্যের বোধ জন্মায়।
বিদেশি শৃঙ্খলমুক্তির আকুলতা:
ফ্রান্সের সামরিক দখলদারিত্ব ও সম্পদ লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মানুষের মনে সম্মিলিত জাতীয় প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, যা আধুনিক জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়।
@ বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ – WBNOTES.IN
বিভাগ ঘ: বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৪)
১. ফরাসি আইনের ইতিহাসে ‘কোড নেপোলিয়ন’-এর গুরুত্ব ও সীমাবদ্ধতা মূল্যায়ন করুন।
ফরাসি বিপ্লবের প্রশাসনিক ও সামাজিক অর্জনসমূহকে একটি মজবুত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে সমগ্র ফ্রান্সের জন্য একক ও আধুনিক যে দেওয়ানি আইন সংহিতা জারি করেন, তা ইতিহাসে ‘কোড নেপোলিয়ন’ নামে অমর হয়ে রয়েছে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বৈপ্লবিক অবদান:
আইনি অরাজকতার অবসান ও জাতীয় ঐক্য: প্রাক্-বিপ্লব ফ্রান্সে রোমান আইন, সামন্ততান্ত্রিক প্রথা ও আঞ্চলিক ডিক্রি মিলিয়ে প্রায় চার শতাধিক ভিন্ন ভিন্ন আইন প্রচলিত ছিল। নেপোলিয়ন চারজন বিশিষ্ট আইনবিদের সহায়তায় দীর্ঘ ৮৪টি অধিবেশনে আলোচনা করে ২২৮১টি ধারাসমন্বিত একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো দেন, যা ফ্রান্সের প্রশাসনিক ঐক্য সুদৃঢ় করে।
সামাজিক সাম্য ও সামন্তপ্রথার স্থায়ী সমাধি: এই সংহিতায় জন্মসূত্রে প্রাপ্ত সমস্ত সুবিধা এবং যাজক ও অভিজাতদের করমুক্তির বিশেষাধিকার চিরতরে বাতিল করা হয়। “আইনের চোখে সকলে সমান” এই নীতিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
ধর্মনিরপেক্ষ বিচার ও মেধার প্রাধান্য: রাষ্ট্রীয় কর্মে ও বিচারে ধর্মের প্রভাব মুক্ত করা হয়। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।
বিশ্বজনীন বিস্তার: পরবর্তীকালে এই আইন বেলজিয়াম, হল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি এবং ইতালির বিস্তীর্ণ অংশে কার্যকর হয়। এমনকি আধুনিক ইউরোপের দেওয়ানি আইনের মূল কাঠামো আজও এই কোডের ওপরই প্রতিষ্ঠিত। সেন্ট হেলেনায় বন্দি অবস্থায় নেপোলিয়ন নিজেই গর্ব করে লিখেছিলেন:
“My true glory is not to have won forty battles; Waterloo will wipe out the memory of so many victories… But what will live forever is my Civil Code.”
(আমার আসল গৌরব চল্লিশটি যুদ্ধে জয় নয়; ওয়াটারলু সেই বিজয়ের স্মৃতি মুছে দেবে… কিন্তু যা চিরকাল বেঁচে থাকবে তা হলো আমার দেওয়ানি বিধি।)
কোড নেপোলিয়নের প্রধান সীমাবদ্ধতা:
নারীদের অধিকার খর্ব: এই আইনে পরিবারের ওপর পিতার নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব (Patria Potestas) চাপিয়ে দেওয়া হয়। বিবাহিতা নারীদের স্বত্বাধিকারহীন করে স্বামীর অধীনস্থ করা হয়; সম্পত্তি কেনাবেচা বা মামলা করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর কোনো স্বাধীন আইনি ক্ষমতা ছিল না।
শ্রমিক স্বার্থ উপেক্ষা: শ্রমিকদের ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং মালিক-শ্রমিক বিরোধে আদালতে মালিকের সাক্ষ্যকেই চূড়ান্ত হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া হয়, যা বিপ্লবের সাম্যের আদর্শকে ক্ষুণ্ণ করেছিল।
২. নেপোলিয়নের ‘মহাদেশীয় ব্যবস্থা’ (Continental System) ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণগুলি কী ছিল?
ব্রিটেনের বিরুদ্ধে সমুদ্রযুদ্ধে জয়লাভ অসম্ভব বিবেচনা করে ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে বার্লিন ডিক্রির মাধ্যমে নেপোলিয়ন ইউরোপীয় মহাদেশে ব্রিটিশ বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার যে আত্মঘাতী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নেন, তা-ই মহাদেশীয় ব্যবস্থা নামে পরিচিত। এই জটিল ব্যবস্থাটি শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
ব্রিটেনের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নৌ-আধিপত্য:
সমগ্র ইউরোপজুড়ে হাজার হাজার মাইল বিস্তৃত সমুদ্র উপকূল পাহারা দেওয়ার মতো শক্তিশালী নৌবহর ফ্রান্সের ছিল না। ট্রাফালগারের যুদ্ধের পর থেকে ইংল্যান্ড ছিল সমুদ্রের অবিসংবাদিত অধিপতি (Mistress of the Seas)। ফলে ফ্রান্সের পক্ষে জলপথে চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ করা কোনোদিনই সম্ভবপর হয়নি।
ইউরোপের শিল্প-অনগ্রসরতা ও বিকল্প সরবরাহের অভাব:
শিল্পবিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ড অত্যন্ত সস্তায় নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচামাল, চিনি, কফি ও বস্ত্র সমগ্র ইউরোপে রপ্তানি করত। ইংল্যান্ডের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে ফরাসি কলকারখানাগুলো ইউরোপীয় মহাদেশের বিশাল চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ফলে গোটা ইউরোপে জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। স্বয়ং নেপোলিয়নের ফরাসি সেনাদের পোশাক ও জুতোও শেষ পর্যন্ত গোপনে ইংল্যান্ড থেকেই আমদানি করতে হয়েছিল!
ইউরোপীয় বণিকদের তীব্র অসন্তোষ ও ব্যাপক চোরাচালান:
বৈধ বাণিজ্য অবরুদ্ধ হওয়ায় হল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি ও পর্তুগালের বন্দরভিত্তিক অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং জনগণ বেঁচে থাকার তাগিদে সর্বত্র ব্যাপক চোরাচালান শুরু করে। খোদ নেপোলিয়নের ভাই লুই বোনাপার্ট হল্যান্ডের সিংহাসনে বসে ফরাসি অবরোধ মানতে অস্বীকার করেন।
আত্মঘাতী যুদ্ধ জড়িয়ে পড়া:
এই অর্থনৈতিক অবরোধকে কঠোরভাবে কার্যকর করতে গিয়েই নেপোলিয়ন একের পর এক মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হন। পর্তুগাল ও স্পেনকে পদানত করতে গিয়ে তিনি রক্তক্ষয়ী ‘উপদ্বীপের যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়েন এবং রাশিয়া এই অবরোধ মানতে নারাজ হওয়ায় ১৮১২ সালে রাশিয়া আক্রমণ করে নিজের মূল সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে বসেন।
৩. নেপোলিয়নের সাম্রাজ্যবাদী শাসন কীভাবে ইউরোপে আধুনিক ‘জাতীয়তাবাদ’ (Nationalism)-এর উন্মেষ ঘটিয়েছিল?
নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণ ছিল মূলত এক দ্বিধারী তরবারি। একদিকে তাঁর সংস্কারগুলি ইউরোপে সামন্তবাদের শিকল কেটেছিল, অন্যদিকে তাঁর ফরাসি আধিপত্য বিভিন্ন দেশের পদানত জাতির আত্মমর্যাদাকে আঘাত করে এক অভূতপূর্ব জাতীয়তাবাদী জাগরণের জন্ম দিয়েছিল।
ঐক্যের পথ প্রশস্ত করা:
নেপোলিয়নের অভিযানের পূর্বে জার্মানি ও ইতালি ছিল শত শত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সামন্তীয় রাজ্যে বিভক্ত ভূখণ্ড। নেপোলিয়ন জার্মানির তিন শতাধিক রাজ্য ভেঙে ৩৯টি রাজ্যের ‘কনফেডারেশন অব দ্য রাইন’ এবং ইতালির ছোট ছোট রাজ্যগুলিকে সংযুক্ত করে উত্তর ও মধ্য ইতালি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এই ভৌগোলিক সংহতি ইতালি ও জার্মানির বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর মনে প্রথম উপলব্ধি করায় যে তারা এক অভিন্ন জাতি।
সামন্ততন্ত্র ও বৈষম্যের অবসান:
অধীকৃত অঞ্চলগুলোতে নেপোলিয়ন সামন্তপ্রথা বিলোপ করেন, গির্জার বিশেষ অধিকার কেড়ে নেন এবং ‘কোড নেপোলিয়ন’ প্রয়োগ করে নাগরিকদের মধ্যে আইনের চোখে সমতা প্রতিষ্ঠা করেন। বিপ্লবের এই আধুনিক সংস্কারগুলো মধ্যবিত্ত ও তরুণ বুদ্ধিজীবীদের মন থেকে প্রাচীন মধ্যযুগীয় প্রাদেশিকতার কুয়াশা দূর করে জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।
ফরাসি শোষণ ও বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া:
প্রাথমিকভাবে ইউরোপের বহু দেশ নেপোলিয়নকে অত্যাচারী সামন্তপ্রভুদের হাত থেকে ‘মুক্তিদাতা’ (Liberator) হিসেবে স্বাগত জানালেও, অচিরেই তাঁদের মোহভঙ্গ ঘটে। ফরাসি সৈন্যরা ইউরোপজুড়ে বিপুল সামরিক কর আদায়, খাদ্যশস্য লুণ্ঠন এবং ফরাসি বাহিনীতে স্থানীয় যুবকদের জোরপূর্বক সৈন্য হিসেবে ভর্তি করাতে শুরু করে। ফলে ফরাসিদের প্রতি জন্ম নেয় প্রবল ঘৃণা।
জাতীয়তাবাদী প্রতিরোধ ও সাহিত্যিক জাগরণ:
বিদেশি ফরাসি আধিপত্য থেকে নিজের দেশকে রক্ষা করার তাগিদে ইউরোপীয় জনগণ ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে। স্পেনে জনতা গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে; প্রুশিয়ায় জোহান ফিকটে (Fichte) তাঁর দেশপ্রেমমূলক বক্তৃতার মাধ্যমে তরুণদের আত্মজাগরণের ডাক দেন। রাশিয়ার মানুষ পিতৃভূমি রক্ষায় অকাতরে নিজের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেন। এই সম্মিলিত দেশপ্রেমিক ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের ‘জাতিসমূহের যুদ্ধ’-এ নেপোলিয়নের সাম্রাজ্যের পতন ডেকে আনে।
@ বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ – WBNOTES.IN
বিভাগ ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৮)
১. ফরাসি সম্রাট হিসেবে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যাবলীর বিস্তারিত বিবরণ দিন। এই সংস্কারগুলি ফ্রান্সের আধুনিকায়নে কতটা সাহায্য করেছিল?
১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের চরম রাজনৈতিক অরাজকতা ও ডিরেক্টরি শাসনের দুর্নীতির আবহে ক্ষমতায় এসে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বুঝতে পেরেছিলেন যে, কেবল সামরিক বিজয় দিয়ে একটি দেশকে শক্তিশালী করা যায় না; তার জন্য প্রয়োজন সুদৃঢ় প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা। ১৮০৪ সালে নিজেকে সম্রাট ঘোষণার পূর্বাপর পর্বে তিনি ফ্রান্সের অভ্যন্তরে যে বহুমুখী পুনর্গঠন সাধন করেন, তা আধুনিক ফ্রান্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।
নেপোলিয়নের অভ্যন্তরীণ সংস্কার
│
┌───────────────────┬──────────────┴───────┬───────────────────┐
▼ ▼ ▼ ▼
আইন সংস্কার অর্থনৈতিক সংস্কার ধর্মীয় মীমাংসা শিক্ষা ও জনকল্যাণ
┌─────────────────┐ ┌─────────────────┐ ┌─────────────────┐ ┌─────────────────┐
│ • কোড নেপোলিয়ন │ │ • ব্যাংক অব ফ্রান্স│ │ • কনকর্ডাট ১৮০১ │ │ • লিসেই ও উচ্চশিক্ষা│
│ • সাম্যের ভিত্তি │ │ • সুষম কর ব্যবস্থা│ │ • চার্চের ওপর │ │ • রাস্তা, সেতু ও │
│ • ২২৮১টি ধারা │ │ • বাণিজ্য প্রসারণ │ │ সরকারি নিয়ন্ত্রণ│ │ লিজিয়ন অব অনার │
└─────────────────┘ └─────────────────┘ └─────────────────┘ └─────────────────┘
প্রধান অভ্যন্তরীণ সংস্কারসমূহ
আইন সংস্কার ও ‘কোড নেপোলিয়ন’ (Code Napoléon):
নেপোলিয়নের সংস্কারমূলক কাজের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো ফরাসি আইন সংহিতার সংকলন (১৮০৪)। প্রাক্-বিপ্লব ফ্রান্সের পরস্পরবিরোধী আইন বাতিল করে তিনি ২২৮১টি ধারাসমন্বিত দেওয়ানি, ফৌজদারি ও বাণিজ্যিক বিধি তৈরি করেন।
সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা: এই কোডে জন্মের ভিত্তিতে সমস্ত বিশেষাধিকার ও সামন্ততান্ত্রিক কর সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়।
সম্পত্তির অধিকার: ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার ও চুক্তির বৈধতাকে অলঙ্ঘনীয় রূপ দেওয়া হয়। ধর্মীয় সহনশীলতা স্বীকৃত হয়।
পারিবারিক কর্তৃত্ব: সমাজের ভিত্তি হিসেবে পরিবারকে চিহ্নিত করে পরিবারের ওপর পিতার সার্বিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা হয়।
অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও আর্থিক শৃঙ্খলা:
বিপ্লবকালীন দেউলিয়াত্ব দূর করতে নেপোলিয়ন বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
ব্যাংক অব ফ্রান্স প্রতিষ্ঠা (১৮০০): দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা ও ঋণব্যবস্থা মজবুত করতে তিনি কেন্দ্রীয় ‘ব্যাংক অব ফ্রান্স’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যে মূলধন জোগাতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।
সুষম কর ব্যবস্থা: তিনি কর আদায়কারী দুর্নীতিগ্রস্ত সংগ্রাহকদের অপসারণ করে পেশাদার সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে সাধারণ বাজেটে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা হয়।
শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়ন: তিনি অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য শুল্ক বিলুপ্ত করেন, নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ভর্তুকি দেন এবং রাস্তাঘাট ও খালের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন আনেন।
ধর্মীয় সংস্কার ও ‘কনকর্ডাট’ চুক্তি (Concordat of 1801):
ফরাসি বিপ্লবের ফলে রোমান ক্যাথলিক চার্চ ও রাষ্ট্রের মধ্যে যে গভীর বিচ্ছেদ ঘটেছিল, নেপোলিয়ন রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে পোপ সপ্তম পায়াসের সঙ্গে ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে এক ধর্মীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে তার সমাধান করেন।
ক্যাথলিক ধর্মের স্বীকৃতি: ক্যাথলিক ধর্মকে “সংখ্যাগরিষ্ঠ ফরাসি জনগণের ধর্ম” হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়, তবে এটিকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়নি; ফলে রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষই থাকে।
চার্চের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ: বিপ্লবের সময় বাজেয়াপ্ত চার্চের সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই থাকে এবং বিশপ ও যাজকদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করে তাঁদের রাষ্ট্রের অনুগত কর্মচারীতে রূপান্তর করা হয়।
শিক্ষাব্যবস্থার আমূল আধুনিকায়ন:
নেপোলিয়ন শিক্ষাকে চার্চের একচেটিয়া কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত করে রাষ্ট্রের দায়িত্বাধীন করেন।
স্তরভিত্তিক শিক্ষা: সমগ্র ফ্রান্সে প্রাথমিক বিদ্যালয়, আধুনিক উচ্চবিদ্যালয় বা ‘লিসেই’ (Lycée) এবং কারিগরি কলেজ স্থাপন করা হয়।
ইউনিভার্সিটি অব ফ্রান্স: ১৮০৮ সালে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার তদারকি, সিলেবাস প্রণয়ন ও শিক্ষক নিয়োগের সার্বিক দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি কেন্দ্রীয় স্বশাসিত সংস্থা হিসেবে ‘ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটি’ বা ইউনিভার্সিটি অব ফ্রান্স গঠিত হয়।
প্রশাসনিক কেন্দ্রীভবন ও মেধার মূল্যায়ন:
তিনি সমগ্র ফ্রান্সের শাসনকে ‘প্রিফেক্ট’ (Prefect) ও ‘সাব-প্রিফেক্ট’-দের মাধ্যমে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। দুর্নীতিগ্রস্ত স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন খর্ব করা হলেও প্রশাসনে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘লিজিয়ন অব অনার’ (Legion of Honour) খেতাব চালু করেন, যা জাতপাত ও সামাজিক পরিচিতি নির্বিশেষে শুধু প্রতিভাধর সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া হতো।
ফ্রান্সের আধুনিকায়নে প্রভাব ও মূল্যায়ন
ঐতিহাসিক এইচ. এ. এল. ফিশার (H. A. L. Fisher) যথার্থই মন্তব্য করেছেন:
“If the conquests of Napoleon were ephemeral, his civil work was permanent.”
(নেপোলিয়নের সামরিক বিজয়গুলি যদি ক্ষণস্থায়ীও হয়, তাঁর অসামরিক সংস্কারের কাজগুলি ছিল চিরস্থায়ী।)
নেপোলিয়নের সংস্কারগুলি ফ্রান্সের বুকে বুরবোঁ আমলের অরাজক ও পঙ্গু প্রশাসনকে সরিয়ে একটি সম্পূর্ণ আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং ধর্মনিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো দান করেছিল। সামন্ততন্ত্রের বিলোপ, একক বাজার অর্থনীতি, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অভিন্ন আইন ব্যবস্থা ফ্রান্সকে দ্রুত একটি শক্তিশালী বুর্জোয়া পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে অনুঘটকের কাজ করেছিল।
যদিও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি জনগণের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে একটি স্বৈরাচারী রূপরেখা তৈরি করেছিলেন, তবুও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তাঁর সুদৃঢ় সংস্কারগুলোই আধুনিক ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় মেরুদণ্ড তৈরি করে দিয়েছিল।
@ বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ – WBNOTES.IN
২. নেপোলিয়নের রাশিয়া অভিযান (১৮১২) এবং উপদ্বীপের যুদ্ধ (১৮০৮-১৮১৪) কীভাবে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যের পতন ডেকে এনেছিল? সমালোচনামূলক আলোচনা করুন।
ইউরোপের অবিসংবাদিত শাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট দুটি সুনির্দিষ্ট ফ্রন্টে দুটি প্রকাণ্ড কৌশলগত ভুল করে বসেন—পশ্চিমে আইবেরীয় উপদ্বীপে স্প্যানিশ ক্ষত এবং পূর্বে তুষারাবৃত রাশিয়ায় আত্মঘাতী সেনা অভিযান। আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, এই দুটি সামরিক বিপর্যয়ই নেপোলিয়নের অপরাজেয় সাম্রাজ্যের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছিল।
নেপোলিয়নের সাম্রাজ্যের পতন
│
┌───────────────────────────────┴───────────────────────────────┐
▼ ▼
উপদ্বীপের যুদ্ধ (স্পেনের ক্ষত) রাশিয়া অভিযান (১৮১২)
┌──────────────────────────────────────┐ ┌──────────────────────────────────────┐
│• বলপূর্বক জোসেফকে সিংহাসনে বসানো │ │• তিলসিতের সন্ধিভঙ্গ ও জার আলেকজান্ডার │
│• তীব্র জাতীয়তাবাদী স্পেনীয় প্রতিরোধ │ │• রাশিয়ার 'পোড়ামাটি নীতি' │
│• নির্মম গেরিলা যুদ্ধ │ │• মস্কোর অগ্নিকাণ্ড ও নির্মম শৈত্যপ্রবাহ │
│• ৩ লক্ষ সেরা সেনার প্রাণহানি │ │• অপরাজেয় 'গ্র্যান্ড আর্মি'র বিনাশ │
└──────────────────────────────────────┘ └──────────────────────────────────────┘
│
▼
সম্মিলিত ইউরোপীয় জাতীয়তাবাদী প্রতিরোধ
(লাইপজিগ ও ওয়াটারলুর অন্তিম পরাজয়)
উপদ্বীপের যুদ্ধ (Peninsular War, ১৮০৮–১৮১৪) ও স্পেনের ক্ষত
অন্যায় হস্তক্ষেপ ও রাজবংশ উচ্ছেদ:
পর্তুগালকে ব্রিটেনের সাথে বাণিজ্য বন্ধে বাধ্য করতে গিয়ে নেপোলিয়ন ফরাসি সেনা পাঠান। কিন্তু পথিমধ্যে তিনি বন্ধুভাবাপন্ন স্পেনের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্পেনের বুরবোঁ রাজা সপ্তম ফার্দিনান্দকে সিংহাসনচ্যুত করেন এবং নিজের ভাই জোসেফ বোনাপার্টকে স্পেনের রাজা ঘোষণা করেন। স্পেনের মানুষ এই অপমানকে তাদের জাতীয় আত্মমর্যাদায় চরম আঘাত বলে গণ্য করে।
স্পেনীয় গেরিলা যুদ্ধ ও তীব্র জাতীয়তাবাদী প্রতিরোধ:
স্পেনের নিয়মিত সেনাবাহিনী ফরাসিদের কাছে দুর্বল হলেও, সমগ্র স্পেনের কৃষক, পাদ্রি ও সাধারণ মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। শুরু হয় ইউরোপের ইতিহাসের প্রথম সংগঠিত সর্বাত্মক ‘গেরিলা যুদ্ধ’ (Guerrilla Warfare)। ফরাসি বাহিনীকে প্রতি পদে পদে ওত পেতে থাকা অদৃশ্য জনতার আক্রমণের শিকার হতে হয়।
ব্রিটিশ হস্তক্ষেপ ও ডিউক অব ওয়েলিংটনের ভূমিকা:
স্পেনের প্রতিরোধকে শক্তিশালী করতে ইংল্যান্ড সেখানে ডিউক অব ওয়েলিংটনের নেতৃত্বে এক সুদক্ষ সেনাবহর প্রেরণ করে। ওয়েলিংটন স্পেন ও পর্তুগিজ বাহিনীকে সাথে নিয়ে বছরের পর বছর ফরাসি বাহিনীকে পরাস্ত করতে থাকেন।
সাম্রাজ্যের ওপর এর মরণঘাতী প্রভাব:
এই দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রায় তিন লক্ষ শ্রেষ্ঠ ফরাসি সেনা নিহত হয় এবং ফ্রান্সের রাজকোষের অঢেল অর্থ নিঃশেষিত হয়। নেপোলিয়ন সেন্ট হেলেনায় বসে নিজের ভুল স্বীকার করে লিখেছিলেন:
“That unfortunate war destroyed me; it divided my forces, multiplied my difficulties, and undermined my reputation.”
(ওই দুর্ভাগ্যজনক যুদ্ধ আমাকে ধ্বংস করেছে; এটি আমার সেনাবাহিনীকে খণ্ডিত করেছে, বিপদ বাড়িয়েছে এবং আমার সুনাম নষ্ট করেছে।)
তিনি একে অভিহিত করেছিলেন “স্পেনের ক্ষত” (The Spanish Ulcer) হিসেবে, যা অনবরত রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে ফরাসি সাম্রাজ্যের প্রাণশক্তি শুষে নিয়েছিল।
১৮১২ খ্রিস্টাব্দের ঐতিহাসিক রাশিয়া অভিযান (Russian Campaign)
অভিযানের নেপথ্য কারণ:
১৮০৭ সালের তিলসিতের সন্ধির মাধ্যমে ফ্রান্স ও রাশিয়ার মৈত্রী গড়ে উঠলেও রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজান্ডার বুঝতে পারেন যে নেপোলিয়নের মহাদেশীয় ব্যবস্থার ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই ১৮১০ সালে রাশিয়া ব্রিটিশ জাহাজের জন্য বন্দর খুলে দেয় এবং ফরাসি পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক বসায়। ক্ষুব্ধ নেপোলিয়ন রাশিয়াকে শায়েস্তা করতে ১৮১২ সালের জুনে প্রায় ৬ লক্ষ সৈন্যের সুবিশাল ‘গ্র্যান্ড আর্মি’ (Grande Armée) নিয়ে রাশিয়া আক্রমণ করেন।
রুশ সেনাপতিদের ‘পোড়ামাটি নীতি’ (Scorched Earth Policy):
রুশ সেনাপতি বার্কলে ডি টলি এবং পরবর্তীতে মিখাইল কুতুজভ এক চমকপ্রদ রণকৌশল নেন। তাঁরা সরাসরি কোনো বড় যুদ্ধ না করে পিছু হটতে থাকেন এবং পশ্চাদপসরণের সময় পেছনে থাকা সমস্ত গ্রাম, খাদ্যশস্য, খেতের ফসল ও জলের কুয়ো জ্বালিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন। ফরাসি বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে যত দূর এগোতে থাকে, ততই তাদের রসদ ফুরিয়ে আসতে থাকে।
মস্কোর অগ্নিকাণ্ড ও রাশিয়ার ভয়াল শীত:
১৮১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বোরোডিনোর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর নেপোলিয়ন মস্কো নগরীতে প্রবেশ করেন। কিন্তু তিনি দেখতে পান সম্পূর্ণ মস্কো শহর জনশূন্য এবং রুশ দেশপ্রেমিকরা খোদ মস্কো শহরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। খাদ্যাভাব ও বাসস্থানের অভাবে নেপোলিয়ন জারের কাছে শান্তির প্রস্তাব পাঠিয়ে এক মাস অপেক্ষা করেও কোনো উত্তর পাননি। অবশেষে ১৯ অক্টোবর তিনি মস্কো ত্যাগ করে পিছু হটার নির্দেশ দেন।
গ্র্যান্ড আর্মির মর্মান্তিক বিনাশ:
ফেরার পথেই নামে রাশিয়ার কুখ্যাত বরফঝড় ও শৈত্যপ্রবাহ (মাইনাস ৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা নেমে যায়)। উপযুক্ত শীতবস্ত্র ও খাদ্যের অভাবে হাজার হাজার ফরাসি সেনা জমে গিয়ে বা অনাহারে মারা পড়ে। তার ওপর রুশ কস্যাক অশ্বারোহী সেনারা ক্রমাগত অতর্কিত আক্রমণ চালাতে থাকে। বেরেজিনা নদী পার হওয়ার সময় এক অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয় ঘটে। প্রায় ৬ লক্ষ সৈন্য নিয়ে প্রবেশকারী ফরাসি বাহিনীর মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার কঙ্কালসার সৈনিক শেষ পর্যন্ত বেঁচে ফিরতে পেরেছিল।
চূড়ান্ত পতনে এই দুই বিপর্যয়ের সম্মিলিত ভূমিকা
স্পেন এবং রাশিয়ার বিপর্যয় শুধুমাত্র সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ছিল না; এটি নেপোলিয়নের অপরাজেয়তার মনস্তাত্ত্বিক ধারণাকে চিরতরে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল:
স্পেন প্রমাণ করেছিল যে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতিকে সামরিক শক্তির জোরে চিরকাল পদানত রাখা যায় না।
রাশিয়ার বরফাবৃত প্রান্তরে নেপোলিয়নের মূল সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার সাথে সাথে সমগ্র ইউরোপে নতুন আশার আলো জ্বলে ওঠে।
প্রুশিয়া, অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, সুইডেন এবং ইংল্যান্ড অনতিবিলম্বে চতুর্দিক থেকে জোটবদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের লাইপজিগের যুদ্ধে নেপোলিয়নকে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করে। এর প্রত্যক্ষ পরিণতিতেই ১৮১৪ সালে নেপোলিয়ন প্রথমবার সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং অবশেষে ১৮১৫ সালে ওয়াটারলুর ময়দানে তাঁর রাজকীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার চিরসমাপ্তি ঘটে।
PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)
বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ, SAQ , ২ নম্বরের প্রশ্ন, ৪ নম্বরের প্রশ্ন, ৮ নম্বরের প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232
১) নবম শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায় – বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ (Only for Subscribers)
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সকল বিষয়ের MCQ প্রশ্নের মক টেস্ট প্রদান করতে নিম্নের লিঙ্কটি অনুসরণ করতে হবে
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে।
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে। @ বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি। @ বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।






















