গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্নের উত্তর Class 9 Geography
গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্নের উত্তর Class 9 Geography নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভূগোল বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করতে WWW.WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। এখানে নবম শ্রেণির ভূগোল অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হলো।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্নের উত্তর Class 9 Geography :
১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
সর্বপ্রথম কে প্রমাণ করেন যে পৃথিবী গোলকাকার?
(ক) টলেমি (খ) পাইথাগোরাস (গ) এরাটোস্থেনিস (ঘ) কোপার্নিকাস
উত্তর: (খ) পাইথাগোরাস
‘Geoid’ (জিওয়েড) কথাটির আক্ষরিক অর্থ কী?
(ক) বৃত্তাকার (খ) উপগোলক (গ) পৃথিবীর সদৃশ (ঘ) কমলালেবুর মতো
উত্তর: (গ) পৃথিবীর সদৃশ
সর্বপ্রথম পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেছিলেন কে?
(ক) এরাটোস্থেনিস (খ) অ্যারিস্টটল (গ) গ্যালিলিও (ঘ) আর্যভট্ট
উত্তর: (ক) এরাটোস্থেনিস
পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস ও মেরু ব্যাসের মধ্যে পার্থক্য কত?
(ক) ২১ কিমি (খ) ৪৩ কিমি (গ) ৬৩ কিমি (ঘ) ১২৭ কিমি
উত্তর: (খ) ৪৩ কিমি (নিরক্ষীয় ব্যাস ১২,৭৫৭ কিমি এবং মেরু ব্যাস ১২,৭১৪ কিমি)
জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী লিপ ইয়ারে ফেব্রুয়ারি মাস কত দিনের হয়?
(ক) ২৮ দিন (খ) ২৯ দিন (গ) ৩০ দিন (ঘ) ৩১ দিন
উত্তর: (খ) ২৯ দিন
বেডফোর্ড লেভেল পরীক্ষাটি কে সম্পন্ন করেছিলেন?
(ক) অ্যালফ্রেড রাসেল ওয়ালেস (খ) স্যার আইজ্যাক নিউটন (গ) কলম্বাস (ঘ) ম্যাগেলান
উত্তর: (ক) অ্যালফ্রেড রাসেল ওয়ালেস
নীচের কোন গ্রহটি ‘বামন গ্রহ’ (Dwarf Planet) হিসেবে গণ্য হয়?
(ক) বুধ (খ) নেপচুন (গ) প্লুটো (ঘ) ইউরেনাস
উত্তর: (গ) প্লুটো
অন্তঃস্থ গ্রহগুলির মধ্যে সর্ববৃহৎ গ্রহ কোনটি?
(ক) বুধ (খ) শুক্র (গ) পৃথিবী (ঘ) মঙ্গল
উত্তর: (গ) পৃথিবী
মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখায়?
(ক) লালচে (খ) নীলচে মার্বেলের মতো (গ) হলুদাভ (ঘ) কালো
উত্তর: (খ) নীলচে মার্বেলের মতো
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) কত সালে প্লুটোর গ্রহের মর্যাদা বাতিল করে?
(ক) ২০০০ (খ) ২০০৬ (গ) ২০১০ (ঘ) ২০১৫
উত্তর: (খ) ২০০৬ সালে
পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ প্রায় কত?
(ক) ৬,৪০০ কিমি (খ) ১২,৮০০ কিমি (গ) ৫,৪০০ কিমি (ঘ) ৭,০০০ কিমি
উত্তর: (ক) ৬,৪০০ কিমি
কোন বিজ্ঞানী প্রথম প্রমাণ করেন যে কেন্দ্রাতিগ বলের কারণে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, বরং অভিগত গোলক?
(ক) কেপলার (খ) স্যার আইজ্যাক নিউটন (গ) গ্যালিলিও (ঘ) ব়্যাশনেল
উত্তর: (খ) স্যার আইজ্যাক নিউটন
সৌরজগতের সবচেয়ে ঘন ও ভারী গ্রহ কোনটি?
(ক) বৃহস্পতি (খ) শনি (গ) পৃথিবী (ঘ) বুধ
উত্তর: (গ) পৃথিবী (গড় ঘনত্ব ৫.৫২ গ্রাম/ঘন সেমি)
কোন প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিদ প্রথম বলেছিলেন পৃথিবী গোল এবং নিজের অক্ষের চারদিকে ঘোরে?
(ক) বরাহমিহির (খ) আর্যভট্ট (গ) প্রথম ভাস্করাচার্য (ঘ) ব্রহ্মগুপ্ত
উত্তর: (খ) আর্যভট্ট
চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর কার ছায়া পড়ে?
(ক) সূর্যের (খ) পৃথিবীর (গ) মহাকাশের (ঘ) বৃহস্পতির
উত্তর: (খ) পৃথিবীর
পৃথিবীর নিরক্ষীয় পরিধি প্রায় কত?
(ক) ২০,০০০ কিমি (খ) ৪০,০৭৫ কিমি (গ) ৮০,০০০ কিমি (ঘ) ৬০,০০০ কিমি
উত্তর: (খ) ৪০,০৭৫ কিমি
কুলীন গ্রহের (Major Planet) সংখ্যা সৌরজগতে বর্তমানে কয়টি?
(ক) ৭টি (খ) ৮টি (গ) ৯টি (ঘ) ১০টি
উত্তর: (খ) ৮টি
পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থান কোনটি?
(ক) মাউন্ট এভারেস্ট (খ) কাঞ্চনজঙ্ঘা (গ) কে-টু (ঘ) চিম্বোরাজো
উত্তর: (ক) মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মিটার)
পৃথিবীর গভীরতম খাত কোনটি?
(ক) সুন্দা খাত (খ) মারিয়ানা খাত (গ) রোমান্স খাত (ঘ) পুয়ের্তোরিকো খাত
উত্তর: (খ) মারিয়ানা খাত (চ্যালেঞ্জার ডিপ)
সমুদ্র থেকে একটি জাহাজ তীরের দিকে আসতে থাকলে প্রথমে তার কোন অংশ দেখা যায়?
(ক) নিচের তলা (খ) মাস্তুল (গ) পুরো জাহাজ (ঘ) ডেকে থাকা মানুষ
উত্তর: (খ) মাস্তুল
@ গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
২. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
‘Geoid’ শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেছিলেন?
উত্তর: ১৮৭৩ সালে জার্মান গণিতবিদ ও পদার্থবিদ জোহান বেনেডিক্ট লিস্টিং।
পৃথিবীর আকৃতিকে এক কথায় কী বলা হয়?
উত্তর: অভিগত গোলক বা ‘জিওয়েড’ (Geoid)।
পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস কত?
উত্তর: প্রায় ১২,৭৫৭ কিমি।
পৃথিবীর মেরু ব্যাস কত?
উত্তর: প্রায় ১২,৭১৪ কিমি।
কোন প্রণালী দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে বেডফোর্ড লেভেল পরীক্ষা চালানো হয়েছিল?
উত্তর: ইংল্যান্ডের কেমব্রিজশায়ারের ওল্ড বেডফোর্ড খালে (Old Bedford River)।
সৌরজগতের কোন দুটি গ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই?
উত্তর: বুধ ও শুক্র।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘Goldilocks Zone’ কী?
উত্তর: নক্ষত্র থেকে এমন এক অনুকূল দূরত্ব যেখানে তাপমাত্রা তরল জলের উপস্থিতি ও প্রাণধারণের জন্য উপযুক্ত থাকে।
প্রথম মহাকাশচারী কে ছিলেন এবং তিনি কোন মহাকাশযানে গিয়েছিলেন?
উত্তর: ইউরি গ্যাগারিন (১৯৬১ সালে), ‘ভস্তক ১’ মহাকাশযানে।
মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে প্রথম স্বচক্ষে নীল গ্রহ হিসেবে কে দেখেছিলেন?
উত্তর: রাশিয়ার মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন।
এরাটোস্থেনিস মিশরের কোন দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব মেপে পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেছিলেন?
উত্তর: সিয়েন (বর্তমান আসওয়ান) এবং আলেকজান্দ্রিয়া।
পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল সবচেয়ে বেশি কোথায় অনুভূত হয়?
উত্তর: নিরক্ষরেখায়।
পৃথিবীর অভিগত গোলকীয় আকৃতির কারণে বস্তুর ওজন কোথায় সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর: দুই মেরু অঞ্চলে (কারণ মেরু অঞ্চল পৃথিবীর কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছে)।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা দুটি গ্যাস কী কী?
উত্তর: নাইট্রোজেন (প্রায় ৭৮.০৮%) এবং অক্সিজেন (প্রায় ২০.৯৫%)।
পৃথিবীর পৃষ্ঠের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বিন্দুর মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য কত?
উত্তর: প্রায় ১৯.৮ কিমি বা ২০ কিমি (মাউন্ট এভারেস্ট +৮,৮৪৮.৮৬ মিটার এবং মারিয়ানা খাত -১১,০৩৪ মিটার)।
জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের সংস্কার করে কোন ক্যালেন্ডার চালু হয়?
উত্তর: গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার (১৫৮২ সালে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি দ্বারা)।
ফার্ডিনান্দ ম্যাগেলান কত সালে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে পৃথিবীর গোলকীয় রূপ প্রমাণ করেন?
উত্তর: ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে (অভিযান শেষ হয় ১৫২২ খ্রিস্টাব্দে ভিক্টোরিয়া জাহাজের মাধ্যমে)।
পৃথিবীর কোনো কৃত্রিম উপগ্রহের তোলা ছবি পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কী প্রমাণ করে?
উত্তর: উপগ্রহ চিত্র প্রমাণ করে পৃথিবী একটি অভিগত গোলক, যার মাঝখানটা সামান্য স্ফীত ও দুই প্রান্ত চাপা।
সৌরজগতের কুলীন গ্রহদের কয়টি ভাগে ভাগ করা হয় ও কী কী?
উত্তর: দুটি ভাগে— অন্তঃস্থ গ্রহ (বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল) এবং বহিঃস্থ গ্রহ (বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন)।
বহিঃস্থ গ্রহগুলির মূল উপাদান কী?
উত্তর: মূলত হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও অন্যান্য গ্যাসীয় বা বরফজাত উপাদান (এদের ‘জোভিয়ান গ্রহ’ বা গ্যাসীয় দানব বলা হয়)।
GPS-এর পুরো অর্থ কী?
উত্তর: Global Positioning System (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম)।
@ গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৩. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (মান – ২)
১. ‘জিওয়েড’ (Geoid) বলতে কী বোঝায়?
সংজ্ঞা: গ্রিক শব্দ ‘Geo’ (পৃথিবী) এবং ‘Eidos’ (সদৃশ) থেকে ‘Geoid’ শব্দটির উৎপত্তি, যার অর্থ “পৃথিবীর সদৃশ” বা পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি।
ধারণা: পৃথিবী পুরোপুরি গোলক বা সুষম উপগোলক নয়। পর্বতের উচ্চতা ও সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য থাকা সত্ত্বেও পৃথিবীর গড় সমুদ্রপৃষ্ঠীয় মহাকর্ষীয় তল ধরে যে ত্রিমাত্রিক বিশেষ আকারটি পাওয়া যায়, তাকে কেবল পৃথিবীর নিজের আকৃতির সঙ্গেই তুলনা করা চলে। একেই জিওয়েড বলে।
২. পৃথিবীকে ‘অভিগত গোলক’ (Oblate Spheroid) বলা হয় কেন?
মেরু ও নিরক্ষীয় অঞ্চল: পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস (১২,৭৫৭ কিমি) মেরু ব্যাসের (১২,৭১৪ কিমি) চেয়ে ৪৩ কিমি বেশি।
ঘূর্ণন গতি: নিজ অক্ষের ওপর দ্রুত আবর্তনের কারণে কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চল বাইরের দিকে স্ফীত এবং দুই মেরুপ্রদেশ কিছুটা চ্যাপ্টা হয়েছে। তাই একে সম্পূর্ণ গোলক না বলে অভিগত গোলক বলা হয়।
৩. দিগন্তরেখা (Horizon) বলতে কী বোঝায়? উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে এর কী পরিবর্তন হয়?
সংজ্ঞা: কোনো খোলা মাঠ বা সমুদ্রতীরে দাঁড়ালে দূরে মনে হয় ভূমি বা জলভাগ আকাশের সঙ্গে একটি বৃত্তাকার রেখায় মিশে গেছে; এই কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখাকে দিগন্তরেখা বলে।
পরিবর্তন: দ্রষ্টা যত বেশি উচ্চতায় ওঠেন, দিগন্তরেখার পরিধি ততই বৃদ্ধি পায়। পৃথিবী সমতল হলে দিগন্তরেখার ব্যাপ্তি সর্বদা একই থাকত; এই পরিবর্তন পৃথিবীর গোলকীয় রূপ প্রমাণ করে।
৪. বেডফোর্ড লেভেল পরীক্ষাটির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উদ্দেশ্য: পৃথিবী সমতল নাকি বাঁকা গোলকাকার, তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণ করা।
ফলাফল: ১৮৭০ সালে এ. আর. ওয়ালেস ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড খালে সমান উচ্চতার তিনটি লাঠি ১ মাইল অন্তর সমসূত্রে পুঁতে দূরবীন দিয়ে দেখেন যে মাঝের লাঠিটি দুই প্রান্তের লাঠির চেয়ে প্রায় ৮ ইঞ্চি বেশি উঁচুতে অবস্থান করছে, যা জলপৃষ্ঠের বক্রতা অর্থাৎ পৃথিবীর বক্রাকার রূপ নির্দেশ করে।
৫. কুলীন গ্রহ ও বামন গ্রহের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
| বৈশিষ্ট্য | কুলীন গ্রহ (Major Planet) | বামন গ্রহ (Dwarf Planet) |
| কক্ষপথের পরিচ্ছন্নতা | এদের নিজস্ব কক্ষপথের চারপাশের মহাজাগতিক বস্তুপুঞ্জ সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকে। | এরা নিজেদের কক্ষপথের সংলগ্ন এলাকা মহাজাগতিক জঞ্জালমুক্ত রাখতে পারে না। |
| উদাহরণ | পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি ইত্যাদি। | প্লুটো, সেরেস, এরিস ইত্যাদি। |
৬. ধ্রুবতারা দেখে কীভাবে পৃথিবীর গোলীয় আকৃতি বোঝা যায়?
উত্তর গোলার্ধের আকাশে পর্যবেক্ষণ: উত্তর মেরুতে দাঁড়িয়ে দেখলে ধ্রুবতারাকে একেবারে মাথার ওপর অর্থাৎ ৯০° কোণে দেখা যায়।
অক্ষাংশ অনুযায়ী পরিবর্তন: বিষুবরেখায় এর উন্নতি কোণ ০° হয় এবং দক্ষিণ গোলার্ধে গেলে একে আর দেখাই যায় না। পৃথিবী চ্যাপ্টা বা সমতল হলে সব স্থান থেকেই এটি একই কোণে দেখা যেত।
৭. প্লুটোকে কেন বামন গ্রহ বলা হয়?
২০০৬ সালে প্রাগে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়নের (IAU) অধিবেশনে গ্রহের তিনটি শর্ত নির্ধারিত হয়। প্লুটো প্রথম দুটি শর্ত মানলেও তৃতীয় শর্তটি পূরণ করতে পারেনি:
প্লুটো তার কক্ষপথের আশপাশের অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুকে আকর্ষণ করে পরিষ্কার করতে অক্ষম।
এর কক্ষপথ কখনো কখনো নেপচুনের কক্ষপথকে অতিক্রম করে। ফলে এটি বামন গ্রহ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
৮. পৃথিবী সৌরজগতের সবচেয়ে আদর্শ জীবমণ্ডল কেন?
অনুকূল তাপমাত্রা: সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব (প্রায় ১৫ কোটি কিমি) এমন, যাতে গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৫°C বজায় থাকে।
জল ও গ্যাসীয় উপাদান: তরল জলের প্রাচুর্য এবং বায়ুমণ্ডলে প্রাণদায়ী অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের সুষম অনুপাত জীবজগতের সৃষ্টি ও বেঁচে থাকার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
৯. জোভিয়ান গ্রহ (Jovian Planets) কাদের বলা হয় এবং কেন?
সংজ্ঞা: সৌরজগতের বহিঃস্থ চারটি গ্রহ— বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুনকে একত্রে জোভিয়ান গ্রহ বলা হয়।
নামকরণের কারণ: এই গ্রহগুলির গঠন, কম ঘনত্ব এবং গ্যাসীয় প্রকৃতি বৃহস্পতি গ্রহের (Jupiter) সদৃশ হওয়ায় এদের জোভিয়ান (Jupiter-like) গ্রহ বলা হয়।
১০. ছায়াবৃত্ত (Circle of Illumination) কী?
সংজ্ঞা: পৃথিবীর যে কাল্পনিক বৃত্তাকার সীমারেখা আলোকিত অর্ধাংশ এবং অন্ধকার অর্ধাংশকে পরস্পর থেকে পৃথক করে রাখে, তাকে ছায়াবৃত্ত বলে।
তাৎপর্য: পৃথিবী গোল বলেই এই ছায়ারেখা সর্বদা বৃত্তাকার হয় এবং এর অবস্থানের উপর দিন ও রাত্রির পরিবর্তনের মুহূর্ত নির্ধারিত হয়।
@ গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৪. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (মান – ৩)
১. এরাটোস্থেনিস কীভাবে প্রথম পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেছিলেন?
পটভূমি: খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে মিশরীয় পণ্ডিত এরাটোস্থেনিস জ্যামিতিক উপায়ে পৃথিবীর পরিধি পরিমাপের একটি অনন্য পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।
পর্যবেক্ষণ: ২১ জুন কর্কটক্রান্তি দিবসে তিনি লক্ষ্য করেন যে মিশরের সিয়েন শহরে (বর্তমান আসওয়ান) দুপুরে সূর্যরশ্মি উল্লম্বভাবে কূয়ার তলদেশে প্রতিফলিত হয় (আপতন কোণ ০°)। একই দিনে প্রায় ৮০০ কিমি উত্তরে আলেকজান্দ্রিয়া শহরে একটি উল্লম্ব দণ্ডের ছায়া মেপে দেখেন সূর্যরশ্মি ৭.২° কোণে হেলে পড়েছে।
গাণিতিক গণনা:
পৃথিবীর কেন্দ্রের মোট কোণ = ৩৬০°।
দুটি শহরের মধ্যকার কৌণিক ব্যবধান = ৭.২° (যা ৩৬০°-এর ১/৫০ অংশ)।
অতএব, পৃথিবীর মোট পরিধি = ৫০ × (দুটি শহরের দূরত্ব) = ৫০ × ৮০০ কিমি = ৪০,০০০ কিমি (যা আধুনিক পরিমাপের অত্যন্ত কাছাকাছি)।
২. চন্দ্রগ্রহণের মাধ্যমে পৃথিবীর গোলীয় আকৃতির প্রমাণ দাও।
মূল সূত্র: সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী এসে পড়লে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে এবং চন্দ্রগ্রহণ ঘটে।
গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের যুক্তি: খ্রিস্টপূর্ব ৩৪০ অব্দে দার্শনিক অ্যারিস্টটল উল্লেখ করেন যে প্রতিটি চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের গায়ে পৃথিবীর যে ছায়াটি পড়ে, তা সর্বদা ধনুকের মতো বাঁকা বা সম্পূর্ণ বৃত্তাকার হয়।
জ্যামিতিক সত্য: জ্যামিতির সাধারণ নিয়মানুযায়ী, শুধুমাত্র একটি গোলকাকার বস্তুই তার ঘূর্ণনের প্রতিটি অবস্থাতেই যে কোনো কোণ থেকে একটি নিখুঁত বৃত্তাকার ছায়া ফেলতে পারে। কোনো চ্যাপ্টা বা বেলনাকার বস্তু কখনোই সব সময় বৃত্তাকার ছায়া তৈরি করতে পারে না। এটি পৃথিবীর গোলকাকার রূপের অকাট্য প্রাচীন প্রমাণ।
৩. “পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি পৃথিবীরই মতো”— উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
প্রচলিত ধারণার সীমাবদ্ধতা: অতীতে পৃথিবীকে নিখুঁত গোলক, পরবর্তীকালে কমলালেবু বা নাশপাতির সঙ্গে তুলনা করা হলেও আধুনিক জরিপে দেখা গেছে এই উপমাগুলি সম্পূর্ণ সঠিক নয়।
ভূমির বন্ধুরতা: পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দু মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মিটার) হিমালয় পর্বতে অবস্থিত এবং গভীরতম বিন্দু মারিয়ানা খাত (১১,০৩৪ মিটার) প্রশান্ত মহাসাগরে রয়েছে। এই ব্যাপক বন্ধুরতা সত্ত্বেও সামগ্রিক ব্যাসের সাপেক্ষে এটি খুবই নগণ্য।
উপগ্রহীয় পরিমাপ: কৃত্রিম উপগ্রহ প্রেরিত তথ্যে দেখা যায়—
দক্ষিণ মেরু সামান্য ভেতরের দিকে চাপা (প্রায় ২১ মিটার)।
উত্তর মেরু সামান্য স্ফীত (প্রায় ১৯ মিটার)।
দক্ষিণ গোলার্ধের মধ্যভাগ স্ফীত।
উপসংহার: এই অসম ও অনন্য আকৃতি সৌরজগতের আর কোনো বস্তুর সাথে হুবহু মেলে না। তাই ভূবিজ্ঞানীরা বলেন, পৃথিবীর আকৃতি কোনো ফলের সঙ্গে তুলনীয় নয়, পৃথিবীর আকৃতি কেবল পৃথিবীর মতোই— যাকে ‘জিওয়েড’ (Geoid) বলা হয়।
৪. সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের তুলনায় পৃথিবী অনন্য কেন?
পৃথিবী সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যেখানে জীবন ও জীবমণ্ডলের অস্তিত্ব রয়েছে। এর অনন্য কারণগুলি হলো:
সঠিক কক্ষীয় দূরত্ব: সূর্য থেকে প্রায় ১৪ কোটি ৯৫ লক্ষ কিমি দূরে অবস্থান করায় এটি চরম উত্তপ্ত (যেমন বুধ বা শুক্র) নয়, আবার বরফশীতলও (যেমন নেপচুন) নয়। গড় তাপমাত্রা ১৫° সেন্টিগ্রেড।
তরল জলের অফুরন্ত ভাণ্ডার: পৃথিবীর উপরিভাগের ৭১ শতাংশই জল দ্বারা আবৃত, যা পানিচক্র বজায় রাখে এবং কোষীয় জীবনের ভিত্তি গঠন করে।
সুরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডল ও ওজোনস্তর: বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় মিশ্রণে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন (২০.৯৫%) ও নাইট্রোজেন রয়েছে। উপরন্তু, ওজোনস্তর সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি এবং চৌম্বক ক্ষেত্র ক্ষতিকারক সৌরঝড়কে প্রতিহত করে জীবজগৎকে রক্ষা করে।
৫. অন্তঃস্থ গ্রহ ও বহিঃস্থ গ্রহের মধ্যে প্রধান তিনটি তুলনামূলক পার্থক্য লেখো।
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | অন্তঃস্থ গ্রহ (Terrestrial / Inner Planets) | বহিঃস্থ গ্রহ (Jovian / Outer Planets) |
| অবস্থান ও গ্রহসমূহ | গ্রহাণুপুঞ্জের ভেতরের দিকে অবস্থিত। যথা— বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল। | গ্রহাণুপুঞ্জের বাইরের দিকে অবস্থিত। যথা— বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন। |
| ভৌত উপাদান ও ঘনত্ব | প্রধানত ভারী শিলা ও ধাতব খনিজ দ্বারা গঠিত। গড় ঘনত্ব তুলনামূলক অনেক বেশি (৩.৯ থেকে ৫.৫ গ্রাম/ঘন সেমি)। | প্রধানত হালকা গ্যাস (হাইড্রোজেন, হিলিয়াম) ও বরফ দ্বারা গঠিত। গড় ঘনত্ব খুবই কম (০.৭ থেকে ১.৬ গ্রাম/ঘন সেমি)। |
| আকার ও উপগ্রহ সংখ্যা | আকৃতি ও ভরে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র। এদের উপগ্রহের সংখ্যা খুবই কম বা নেই (যেমন বুধ-শুক্রের ০, পৃথিবীর ১, মঙ্গলের ২)। | আকৃতি ও ভরে অত্যন্ত বিশালাকার। এদের চারিদিকে একাধিক বলয় ও প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক উপগ্রহ থাকে। |
@ গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৫. দীর্ঘ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (মান – ৫)
১. পৃথিবী যে অভিগত গোলক— তার সপক্ষে পাঁচটি অকাট্য ভৌগোলিক প্রমাণ দাও।
ভূমিকা: প্রাচীনকালে পৃথিবীকে সম্পূর্ণ গোলক ভাবা হলেও বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন প্রথম তত্ত্ব দেন যে পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য এটি সম্পূর্ণ গোলক হতে পারে না। আধুনিক উপগ্রহীয় জরিপ নিশ্চিত করেছে যে পৃথিবী একটি অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)— যার নিরক্ষীয় অঞ্চল সামান্য স্ফীত এবং দুই মেরু কিছুটা চাপা।
প্রধান প্রমাণসমূহ:
মেরু ব্যাস ও নিরক্ষীয় ব্যাসের অমিল:
যদি পৃথিবী নিখুঁত গোলক হতো, তবে তার কেন্দ্র থেকে পরিধির সবদিকের দূরত্ব বা ব্যাস সমান হতো। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমাপে দেখা যায়:
পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস = ১২,৭৫৭ কিমি
পৃথিবীর মেরু ব্যাস = ১২,৭১৪ কিমি
উভয় ব্যাসের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৪৩ কিমি ($১২,৭৫৭ – ১২,৭১৪ = ৪৩$ কিমি)। এই পার্থক্য নির্দেশ করে যে নিরক্ষীয় অংশ বাইরের দিকে প্রসারিত এবং মেরু দুটি চাপা।
১° অক্ষাংশের রৈখিক দূরত্বের পার্থক্য:
একটি নিখুঁত গোলকের পৃষ্ঠে সব স্থানে এক ডিগ্রি ($১^\circ$) অক্ষাংশের দৈর্ঘ্য সমান হয়। কিন্তু ভূপৃষ্ঠে মেপে দেখা গেছে:
নিরক্ষরেখার নিকট ১° অক্ষাংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ১১০.৫৭ কিমি।
দুই মেরুর নিকট ১° অক্ষাংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ১১১.৭ কিমি।
মেরুর দিকে বক্রতা কম বলেই প্রতি ডিগ্রির রৈখিক ব্যবধান বৃদ্ধি পায়, যা প্রান্তীয় সমতাত্বকে প্রমাণ করে।
অভিকর্ষজ ত্বরণ ও বস্তুর ওজনের তারতম্য ($g$ এর মান):
নিউটনীয় মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী, বস্তুর ওজন পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের ব্যস্তানুপাতিক ($F \propto \frac{1}{r^2}$)।
স্প্রিং তুলাযন্ত্রের সাহায্যে মেপে দেখা গেছে, একই বস্তুর ওজন নিরক্ষীয় অঞ্চলে সবচেয়ে কম হয় এবং মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি হয়।
এর কারণ মেরু অঞ্চল পৃথিবীর কেন্দ্রের অধিক নিকটবর্তী (কম ব্যাসার্ধ), পক্ষান্তরে নিরক্ষীয় অঞ্চল কেন্দ্র থেকে সর্বাধিক দূরে অবস্থিত।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী জঁ রিশারের ঘড়ির দোলন পরীক্ষা:
১৬৭২ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি জ্যোতির্বিদ জঁ রিশার প্যারিস ($৪৮^\circ ৫০’ \text{ N}$) থেকে একটি সঠিক সময় প্রদর্শনকারী পেন্ডুলাম ঘড়ি নিরক্ষরেখার কাছাকাছি ফরাসি গায়ানার কায়েন শহরে ($৪^\circ ৫৫’ \text{ N}$) নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায় ঘড়িটি প্রত্যহ প্রায় ২ মিনিট ২৮ সেকেন্ড ধীরে চলছে। পেন্ডুলামের দৈর্ঘ্য ছোট করে অভিকর্ষ বলের সামঞ্জস্য আনতে হয়। এটি প্রমাণ করে নিরক্ষরেখায় অভিকর্ষ বল কম, অর্থাৎ স্থানটি কেন্দ্র থেকে দূরে ও স্ফীত।
কৃত্রিম উপগ্রহের কক্ষপথ ও ছায়াচিত্র বিশ্লেষণ:
আধুনিক যুগে মহাশূন্যে প্রেরিত কৃত্রিম উপগ্রহ (যেমন— Vanguard, Sputnik, বিভিন্ন দূরসংবেদন উপগ্রহ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও উচ্চ রেজোলিউশনের ফটোগ্রাফিতে দেখা গেছে পৃথিবীর পরিভ্রমণ পথ ও জ্যামিতিক রূপ একটি নিখুঁত অভিগত উপগোলকের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
উপসংহার: ঘূর্ণনজনিত কেন্দ্রাতিগ বল (Centrifugal Force)-এর প্রাকৃতিক নিয়ম এবং উপরোক্ত সকল প্রত্যক্ষ প্রমাণ নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে পৃথিবী একটি অভিগত গোলক।
@ গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
২. “সৌরজগতের একমাত্র গ্রহরূপী পৃথিবীই জীবের আবাসস্থল”— উপযুক্ত যুক্তি ও পয়েন্টসহ উক্তিটির সত্যতা বিচার করো।
ভূমিকা: মহাবিশ্বে কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে সৌরজগতে অবস্থিত আমাদের পৃথিবী এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত একমাত্র গ্রহ যেখানে জীবমণ্ডলের অস্তিত্ব এবং সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে। ভৌগোলিক ও পরিবেশগত উপাদানের পারস্পরিক সুষম মেলবন্ধনই পৃথিবীকে একটি জীবন্ত গ্রহে পরিণত করেছে।
বাসযোগ্য গ্রহ হিসেবে পৃথিবীর উপযোগী বৈশিষ্ট্যসমূহ:
সূর্য থেকে পরিমিত দূরত্ব ও অনুকূল তাপমাত্রা:
পৃথিবী সূর্য থেকে এমন এক আদর্শ দূরত্বে (প্রায় ১৪ কোটি ৯৫ লক্ষ কিমি) অবস্থান করছে যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় Goldilocks Zone (অনুকূল বাসযোগ্য মণ্ডল) বলা হয়।
এর ফলে পৃথিবী বুধ ও শুক্রের মতো অতিরিক্ত উত্তপ্ত (৪০০°C-এর বেশি) নয়, আবার বৃহস্পতি, শনি বা নেপচুনের মতো পরম বরফশীতলও (-১৫০°C-এর কম) নয়।
পৃথিবীর বার্ষিক গড় ভূপৃষ্ঠীয় তাপমাত্রা প্রায় ১৫° সেন্টিগ্রেড, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও প্রাণিকোষের জৈবরাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য আদর্শ।
তরল জলের পর্যাপ্ত উপস্থিতি (বারিমণ্ডল):
জলই জীবনের মূল আধার। সৌরজগতে একমাত্র পৃথিবীতেই জল তরল অবস্থায় বহমান।
পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৭১% অংশ জুড়ে রয়েছে মহাসাগর ও জলভাগ।
তরল জল জীবদেহের রক্তসঞ্চালন, প্রোটিন সংশ্লেষণ, পুষ্টি পরিবহন এবং সামগ্রিক ভূপ্রকৃতিতে স্বাভাবিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
প্রাণদায়ী গ্যাসীয় সংমিশ্রণ ও বায়ুমণ্ডল:
পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বলের টানে একে ঘিরে প্রায় ১০,০০০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত গ্যাসীয় বায়ুমণ্ডলীয় চাদর জড়িয়ে রয়েছে।
এই বায়ুমণ্ডলে রয়েছে জীবনের অপরিহার্য গ্যাস— অক্সিজেন (২০.৯৫%), যা প্রাণীদের শ্বাসকার্যে লাগে; এবং কার্বন ডাই অক্সাইড (০.০৪%), যা উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির উপাদান।
প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা কবচ (ওজোনস্তর ও চৌম্বক ক্ষেত্র):
ওজোন স্তর (Ozone Shield): স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোন অণুর স্তর সূর্যের মারাত্মক অতিবেগুনী ক্ষতিকর রশ্মি (UV rays) শোষণ করে জীবকোষকে ধ্বংস বা ক্যান্সার সৃষ্টি থেকে রক্ষা করে।
ম্যাগনেটোস্ফিয়ার (চৌম্বক ক্ষেত্র): পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলের গলিত ধাতব প্রবাহের ফলে সৃষ্ট শক্তিশালী ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র মহাকাশের তীব্র সৌরঝড় ও প্রাণঘাতী মহাজাগতিক বিকিরণকে ভূপৃষ্ঠে প্রবেশ করতে দেয় না।
স্বাভাবিক পুষ্টিচক্র ও শিলামণ্ডলীয় পরিবেশ:
পৃথিবীর কঠিন উপরিভাগ বা শিলামণ্ডলে বিভিন্ন খনিজ ও মাটির স্তর রয়েছে।
জল, বায়ু ও সূর্যের আলোর সমন্বয়ে এখানে নাইট্রোজেন চক্র, কার্বন চক্র ও অক্সিজেন চক্রের মতো ভূ-রাসায়নিক চক্রগুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে পুষ্টির প্রবাহ সচল রেখেছে, যার ওপর স্থলজ ও জলজ বাস্তুতন্ত্র দাঁড়িয়ে আছে।
উপসংহার: উপযুক্ত অবস্থান, জলের তরল রূপ, অনুকূল আবহাওয়া এবং সুরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডলীয় স্তরের এক বিরল ও নিখুঁত ভারসাম্য একমাত্র পৃথিবীতেই বর্তমান। এই কারণেই সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে গ্রহরূপে পৃথিবী হয়ে উঠেছে মহাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ জীবন্ত গ্রহ।
PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)
গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ, SAQ , ২ নম্বরের প্রশ্ন, ৩ নম্বরের প্রশ্ন, ৫ নম্বরের প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232
১) নবম শ্রেণির ভূগোল প্রথম অধ্যায় – গ্রহরূপে পৃথিবী (Only for Subscribers)
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সকল বিষয়ের MCQ প্রশ্নের মক টেস্ট প্রদান করতে নিম্নের লিঙ্কটি অনুসরণ করতে হবে
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে।
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে।
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন।
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।























