prithibir-gotisomuho-question-answers-class-9-geography

পৃথিবীর গতিসমূহ প্রশ্নের উত্তর Class 9 Geography

পৃথিবীর গতিসমূহ প্রশ্নের উত্তর Class 9 Geography নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভূগোল বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করতে WWW.WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। এখানে নবম শ্রেণির ভূগোল অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হলো। 

আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি। 

পৃথিবীর গতিসমূহ প্রশ্নের উত্তর Class 9 Geography : 

 

১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) 

  1. পৃথিবীর নিজ অক্ষের চারদিকে একপাক ঘুরতে প্রকৃত সময় লাগে কত?

    (ক) ২৪ ঘণ্টা (খ) ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড (গ) ২৪ ঘণ্টা ৫ মিনিট (ঘ) ২৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট

    উত্তর: (খ) ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড

  2. ভূপৃষ্ঠের কোন স্থানে আবর্তন বেগ সবচেয়ে বেশি?

    (ক) কর্কটক্রান্তি রেখায় (খ) সুমেরু বৃত্তে (গ) নিরক্ষরেখায় (ঘ) উত্তর মেরুবিন্দুতে

    উত্তর: (গ) নিরক্ষরেখায় (প্রায় ১,৬৭০ কিমি/ঘণ্টা)

  3. উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন এবং সবচেয়ে ছোট রাত কোন তারিখে হয়?

    (ক) ২১ মার্চ (খ) ২১ জুন (গ) ২৩ সেপ্টেম্বর (ঘ) ২২ ডিসেম্বর

    উত্তর: (খ) ২১ জুন

  4. ‘মহাবিষুব’ (Vernal Equinox) কোন তারিখে ঘটে?

    (ক) ২১ মার্চ (খ) ২১ জুন (গ) ২৩ সেপ্টেম্বর (ঘ) ২২ ডিসেম্বর

    উত্তর: (ক) ২১ মার্চ

  5. পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে দূরত্ব সবচেয়ে কম হয় কোন দিনে?

    (ক) ৪ জুলাই (খ) ৩ জানুয়ারি (গ) ২১ জুন (ঘ) ২৩ সেপ্টেম্বর

    উত্তর: (খ) ৩ জানুয়ারি (অনুসূর অবস্থান)

  6. কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে কোন দিকে বেঁকে যায়?

    (ক) বাঁ দিকে (খ) ডান দিকে (গ) সোজা প্রবাহিত হয় (ঘ) পেছনের দিকে

    উত্তর: (খ) ডান দিকে (ফেরেলের সূত্রানুসারে)

  7. ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ (Land of Midnight Sun) কাকে বলা হয়?

    (ক) জাপান (খ) ফিনল্যান্ড (গ) নরওয়ের হামারফেস্ট বন্দর (ঘ) আইসল্যান্ড

    উত্তর: (গ) নরওয়ের হামারফেস্ট বন্দর

  8. পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সঙ্গে কত ডিগ্রি কোণে হেলে অবস্থান করে?

    (ক) ২৩.৫° (খ) ৬৬.৫° (গ) ৯০° (ঘ) ৪৫°

    উত্তর: (খ) ৬৬.৫°

  9. অপসূর (Aphelion) অবস্থানে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যকার দূরত্ব প্রায় কত থাকে?

    (ক) ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি (খ) ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি (গ) ১৫ কোটি কিমি (ঘ) ১৬ কোটি কিমি

    উত্তর: (খ) ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি

  10. সুমেরু প্রভা বা উত্তর মেরুজ্যোতিকে ইংরেজিতে কী বলা হয়?

    (ক) অরোরা অস্ট্রালিস (খ) অরোরা বোরিয়ালিস (গ) সৌরকলঙ্ক (ঘ) ছায়াবৃত্ত

    উত্তর: (খ) অরোরা বোরিয়ালিস

  11. লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষে বছরে মোট কত দিন থাকে?

    (ক) ৩৬৫ দিন (খ) ৩৬৬ দিন (গ) ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা (ঘ) ৩৬৭ দিন

    উত্তর: (খ) ৩৬৬ দিন

  12. কোন বছরটি লিপ ইয়ার নয়?

    (ক) ২০০০ (খ) ২০০৪ (গ) ১৯০০ (ঘ) ২০২৪

    উত্তর: (গ) ১৯০০ (শতাব্দী বছর ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য না হলে তা লিপ ইয়ার হয় না)

  13. ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখটিকে কী বলা হয়?

    (ক) মহাবিষুব (খ) জলবিষুব (গ) কর্কটসংক্রান্তি (ঘ) মকরসংক্রান্তি

    উত্তর: (খ) জলবিষুব (শারদ বিষুব)

  14. পৃথিবীর সূর্য পরিক্রমণের সঠিক পথটি কেমন?

    (ক) বৃত্তাকার (খ) উপবৃত্তাকার (গ) সর্পিল (ঘ) ত্রিভুজাকার

    উত্তর: (খ) উপবৃত্তাকার

  15. মেরুবিন্দুদ্বয়ে পৃথিবীর আবর্তন বেগ কত?

    (ক) ০ কিমি/ঘণ্টা (খ) ১,৬৭০ কিমি/ঘণ্টা (গ) ৮০০ কিমি/ঘণ্টা (ঘ) ১,০০০ কিমি/ঘণ্টা

    উত্তর: (ক) ০ কিমি/ঘণ্টা

  16. কোন বিজ্ঞানী প্রথম পেন্ডুলাম দোলকের সাহায্যে পৃথিবীর আবর্তন প্রমাণ করেছিলেন?

    (ক) গ্যালিলিও (খ) জঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো (গ) কোপার্নিকাস (ঘ) নিউটন

    উত্তর: (খ) জঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো (১৮৫১ সালে)

  17. দক্ষিণ গোলার্ধে যখন গ্রীষ্মকাল, উত্তর গোলার্ধে তখন কোন ঋতু বিরাজ করে?

    (ক) শরৎকাল (খ) বসন্তকাল (গ) শীতকাল (ঘ) বর্ষাকাল

    উত্তর: (গ) শীতকাল

  18. ‘বিষুব’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ কী?

    (ক) সমান দিন ও রাত (খ) চরম উত্তাপ (গ) সূর্যের উত্তরায়ন (ঘ) ঋতু পরিবর্তন

    উত্তর: (ক) সমান দিন ও রাত

  19. সূর্যের আপাত বার্ষিক গতিপথকে কী বলা হয়?

    (ক) ছায়াপথ (খ) রবিমার্গ (গ) কক্ষপথ (ঘ) মেরুরেখা

    উত্তর: (খ) রবিমার্গ (Ecliptic)

  20. মকরসংক্রান্তি কোন তারিখে ঘটে?

    (ক) ২১ জুন (খ) ২২ ডিসেম্বর (গ) ৪ জুলাই (ঘ) ২১ মার্চ

    উত্তর: (খ) ২২ ডিসেম্বর

@ পৃথিবীর গতিসমূহ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

২. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) 

  1. পৃথিবীর দুটি প্রধান গতি কী কী?

    উত্তর: আহ্নিক গতি (দৈনিক আবর্তন) ও বার্ষিক গতি (পরিক্রমণ গতি)।

  2. পৃথিবীর আবর্তনের দিক কোন দিক থেকে কোন দিকে?

    উত্তর: পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে বা Anticlockwise)।

  3. নক্ষত্র দিন (Sidereal Day) বলতে কী বোঝায়?

    উত্তর: কোনো স্থির নক্ষত্রের সাপেক্ষে পৃথিবীর নিজের অক্ষে সম্পূর্ণ একবার ঘুরে আসতে যে সময় লাগে (২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড), তাকে নক্ষত্র দিন বলে।

  4. সৌর দিন (Solar Day) কত সময়ের হয়?

    উত্তর: ঠিক ২৪ ঘণ্টার।

  5. কোরিওলিস বল কাকে বলে?

    উত্তর: পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির ফলে ভূপৃষ্ঠের উপর প্রবাহমান বস্তু বা বায়ুর ওপর যে বিক্ষেপকারী শক্তির সৃষ্টি হয়, তাকে কোরিওলিস বল বলে।

  6. ফেরেলের সূত্রটি কী?

    উত্তর: কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ বা সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁ দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

  7. অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ারের অতিরিক্ত দিনটি কোন মাসে যুক্ত হয়?

    উত্তর: ফেব্রুয়ারি মাসে (তখন ফেব্রুয়ারি মাস ২৯ দিনের হয়)।

  8. অনুসূর অবস্থানে পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার দূরত্ব কত হয়?

    উত্তর: প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিলোমিটার।

  9. অপসূর অবস্থান কোন তারিখে ঘটে?

    উত্তর: ৪ জুলাই।

  10. কর্কটসংক্রান্তি দিবসে সূর্যরশ্মি কোন রেখার ওপর লম্বভাবে পড়ে?

    উত্তর: কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর ($২৩^\circ ৩০’\text{ N}$)।

  11. মকরসংক্রান্তি দিবসে সূর্যরশ্মি কোন রেখার ওপর লম্বভাবে পড়ে?

    উত্তর: মকরক্রান্তি রেখার ওপর ($২৩^\circ ৩০’\text{ S}$)।

  12. দক্ষিণ মেরুজ্যোতিকে কী বলা হয়?

    উত্তর: অরোরা অস্ট্রালিস (Aurora Australis)।

  13. সূর্যের উত্তরায়ন কোন তারিখ থেকে শুরু হয়?

    উত্তর: ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে (২৩ ডিসেম্বর থেকে ২১ জুন পর্যন্ত)।

  14. সূর্যের দক্ষিণায়ন কোন তারিখ থেকে শুরু হয়?

    উত্তর: ২১ জুনের পর থেকে (২২ জুন থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত)।

  15. ছায়াবৃত্ত (Circle of Illumination) কাকে বলে?

    উত্তর: পৃথিবীর যে সীমারেখাটি আলোকিত অংশ এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশকে পৃথক করে রাখে, তাকে ছায়াবৃত্ত বলে।

  16. কোন দুটি তারিখে পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয়?

    উত্তর: ২১ মার্চ (মহাবিষুব) এবং ২৩ সেপ্টেম্বর (জলবিষুব)।

  17. পৃথিবীর পরিক্রমণের গড় গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় কত?

    উত্তর: প্রায় ২৯.৮ কিমি বা প্রায় ৩০ কিমি/সেকেন্ড।

  18. মেরু অঞ্চলে একটানা কত মাস দিন এবং কত মাস রাত থাকে?

    উত্তর: একটানা ৬ মাস দিন এবং একটানা ৬ মাস রাত থাকে।

  19. আহ্নিক গতির অপর নাম কী?

    উত্তর: আবর্তন গতি বা দৈনিক গতি।

  20. উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কথা প্রথম কোন জ্যোতির্বিজ্ঞানী প্রকাশ করেন?

    উত্তর: জার্মান জ্যোতির্বিদ জোহানেস কেপলার (কেপলারের প্রথম সূত্রানুসারে)।

@ পৃথিবীর গতিসমূহ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৩. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (মান – ২) 

১. ‘উষা’ ও ‘গোধূলি’ বলতে কী বোঝায়?

  • উষা: সূর্যোদয়ের ঠিক পূর্বে ভূপৃষ্ঠ পুরোপুরি অন্ধকার থাকা সত্ত্বেও বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণায় প্রতিফলিত যে মৃদু আলো দেখা যায়, তাকে উষা বলে।

  • গোধূলি: সূর্যাস্তের ঠিক পর এবং সম্পূর্ণ অন্ধকার নামার আগের অন্তর্বর্তী হালকা আলোর সময়কে গোধূলি বলে।

২. অনুসূর ও অপসূরের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

বৈশিষ্ট্যঅনুসূর (Perihelion)অপসূর (Aphelion)
তারিখ ও দূরত্ব৩ জানুয়ারি ঘটে; দূরত্ব সবচেয়ে কম (প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি)।৪ জুলাই ঘটে; দূরত্ব সবচেয়ে বেশি (প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)।
পরিক্রমণ বেগএই সময়ে পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ সামান্য বৃদ্ধি পায়।এই সময়ে পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ কিছুটা কমে যায়।

৩. কোরিওলিস বল কীভাবে সৃষ্টি হয়?

  • ঘূর্ণন গতি: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অবিরাম আবর্তন করে চলেছে।

  • গতির অসামঞ্জস্য: অক্ষাংশভেদে ভূপৃষ্ঠের পরিধি ভিন্ন হওয়ায় বিভিন্ন অক্ষাংশে আবর্তন বেগের পার্থক্য থাকে। এই অসম আবর্তন বেগ ও কেন্দ্রাতিগ বলের যৌথ ক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের চলমান বস্তুর ওপর যে বিক্ষেপকারী বলের উদ্ভব ঘটে, তাকে কোরিওলিস বল বলে।

৪. অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার (Leap Year) কেন ধরা হয়?

  • সময়ের হিসাব: পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড (প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা)। কিন্তু ক্যালেন্ডারে বছর ধরা হয় ৩৬৫ দিনে।

  • সমন্বয়: ফলে প্রতি বছর প্রায় ৬ ঘণ্টা উদ্বৃত্ত থাকে, যা ৪ বছরে $৪ \times ৬ = ২৪$ ঘণ্টা বা ১ সম্পূর্ণ দিনের সমান হয়। এই উদ্বৃত্ত দিনটিকে প্রতি চার বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসে (২৯ দিন) যোগ করে বছরটিকে ৩৬৬ দিন ধরে সমন্বয় করা হয়।

৫. ‘নিশীথ সূর্য’ (Midnight Sun) কাকে বলে?

  • ধারণা: উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে (বিশেষত মে থেকে জুলাই মাস) সুমেরুবৃত্তীয় অঞ্চলে ($৬৬^\circ ৩০’\text{ N}$ থেকে $৯০^\circ\text{ N}$) সূর্য কয়েক সপ্তাহের জন্য দিগন্তের নিচে অস্ত যায় না।

  • বৈশিষ্ট্য: ফলে স্থানীয় সময় অনুসারে মধ্যরাত্রেও আকাশে সূর্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই অবস্থাকে নিশীথ সূর্য বলে (যেমন— নরওয়ের হামারফেস্ট বন্দরে)।

৬. পৃথিবীর অক্ষ যদি কক্ষতলের সঙ্গে ৯০° কোণে লম্বভাবে থাকত, তবে কী ঘটত?

  • দিন-রাত্রি: পৃথিবীর সর্বত্র সারা বছর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হতো (১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত)।

  • ঋতু পরিবর্তন: সূর্যরশ্মির পতন কোণের কোনো পরিবর্তন হতো না, ফলে পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন ঘটত না; চিরকাল এক স্থান নির্দিষ্ট ঋতুতেই আবদ্ধ থাকত।

৭. মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora) কীভাবে সৃষ্টি হয়?

  • প্রক্রিয়া: মেরু অঞ্চলে ৬ মাসব্যাপী দীর্ঘ অন্ধকারের সময় বায়ুমণ্ডলের উচ্চ স্তরে (আয়নোস্ফিয়ারে) সৌরঝড় থেকে আগত ইলেকট্রন ও প্রোটন কণা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে প্রবেশ করে।

  • ফলাফল: এই সৌরকণাগুলি বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসের পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে বিচ্ছুরিত সুন্দর রঙিন আলোকপ্রভার সৃষ্টি করে, একে মেরুজ্যোতি বলে।

৮. কর্কটসংক্রান্তি ও মকরসংক্রান্তির মূল দুটি পার্থক্য কী?

বৈশিষ্ট্যকর্কটসংক্রান্তি (Summer Solstice)মকরসংক্রান্তি (Winter Solstice)
তারিখ ও অবস্থান২১ জুন ঘটে; সূর্যরশ্মি কর্কটক্রান্তি রেখায় ($২৩^\circ ৩০’\text{ N}$) লম্বভাবে পড়ে।২২ ডিসেম্বর ঘটে; সূর্যরশ্মি মকরক্রান্তি রেখায় ($২৩^\circ ৩০’\text{ S}$) লম্বভাবে পড়ে।
দিনের দৈর্ঘ্যউত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও সবচেয়ে ছোট রাত হয়।দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও সবচেয়ে ছোট রাত হয়।

৯. বিষুব (Equinox) বলতে কী বোঝায়?

  • অর্থ ও তাৎপর্য: ল্যাটিন শব্দ ‘Aequus’ (সমান) এবং ‘Nox’ (রাত) থেকে ‘Equinox’ বা ‘বিষুব’ কথাটি এসেছে, যার অর্থ “দিন ও রাতের সমান দৈর্ঘ্য”।

  • ঘটনা: ২১ মার্চ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্যরশ্মি বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখার ওপর সরাসরি লম্বভাবে আপতিত হয়। ফলে এই দুই দিনে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে সমান দূরত্বে থাকে এবং পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত সমান (১২ ঘণ্টা করে) হয়।

১০. রবিমার্গ (Ecliptic) কী?

  • সংজ্ঞা: পৃথিবী সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করার সময় আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় সূর্য যেন সারাবছর তারামণ্ডলের মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট বৃত্তাকার পথে আকাশ অতিক্রম করছে।

  • তাৎপর্য: সূর্যের এই কাল্পনিক আপাত বার্ষিক পরিক্রমণ পথকেই ‘রবিমার্গ’ বা ক্রান্তিবৃত্ত বলা হয়। এটি পৃথিবীর কক্ষতলের সমতলে অবস্থান করে।

@ পৃথিবীর গতিসমূহ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৪. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (মান – ৩) 

১. ফুকোর দোলকের পরীক্ষার সাহায্যে কীভাবে পৃথিবীর আবর্তন প্রমাণ করা যায়?

  • পটভূমি: ১৮৫১ সালে ফরাসি পদার্থবিদ জঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো প্যারিসের প্যান্থিয়ন গির্জার ছাদ থেকে ৬৭ মিটার লম্বা সরু তারের নিচে ২৮ কেজি ওজনের একটি ভারী গোলক ঝুলিয়ে স্বাধীনভাবে দুলিয়ে দেন।

  • পর্যবেক্ষণ: দোলকটির নিচে ছড়িয়ে রাখা বালির স্তরে পিনের সাহায্যে দাগ কাটার ব্যবস্থা ছিল। দেখা যায়, দোলকটির দোলা স্থির সমতলে চললেও বালির ওপর দাগটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘড়ির কাঁটার দিকে সামান্য ঘুরে যাচ্ছে।

  • বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা: নিউটনের গতিসূত্র অনুসারে কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে ঝুলন্ত দোলকের দোলা তার তল পরিবর্তন করতে পারে না। অতএব, দোলকের তল নয়, বরং তার নিচে থাকা ভূতল বা পৃথিবীই পশ্চিম থেকে পূর্বে অনবরত ঘুরে চলেছে— এটি এর দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণিত হয়।

২. অপসূর ও অনুসূর অবস্থানের মধ্যে তুলনা করো।

তুলনার বিষয়অনুসূর অবস্থান (Perihelion)অপসূর অবস্থান (Aphelion)
সংঘটনের তারিখপ্রতি বছর ৩ জানুয়ারি তারিখে ঘটে।প্রতি বছর ৪ জুলাই তারিখে ঘটে।
সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্বদূরত্ব সবচেয়ে কম হয়— প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি।দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয়— প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি।
পরিক্রমণের বেগকেপলারের সূত্রানুযায়ী মাধ্যাকর্ষণ বেশি থাকায় পরিক্রমণের বেগ সামান্য বৃদ্ধি পায় (প্রায় ৩০.৩ কিমি/সে)।সূর্য থেকে দূরে থাকায় পরিক্রমণের গতিবেগ সামান্য হ্রাস পায় (প্রায় ২৯.৩ কিমি/সে)।
সূর্যের আপাত ব্যাসপৃথিবী কাছে থাকায় এই দিনে সূর্যকে আকাশপটে সামান্য বড় দেখায়।দূরত্বের কারণে সূর্যকে আকাশপটে সামান্য ছোট দেখায়।

৩. নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে পৃথিবীর আবর্তন বেগ ক্রমশ কমে যায় কেন?

  • পরিধির পার্থক্য: পৃথিবী একটি গোলক (অভিগত গোলক)। তাই নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৪০,০৭৫ কিমি), কিন্তু যত মেরুর দিকে যাওয়া যায়, অক্ষরেখাগুলির ব্যাসার্ধ ও পরিধি ক্রমশ ছোট হতে থাকে। মেরুবিন্দুতে এসে পরিধি শূন্যে পরিণত হয়।

  • সময়ের সমতা: সব অক্ষাংশকেই ২৪ ঘণ্টায় নিজ অক্ষের ওপর ৩৬০° পথ সম্পূর্ণ ঘুরতে হয়।

  • বেগের সূত্র: গতিবেগ = $\frac{\text{দূরত্ব}}{\text{সময়}}$। নিরক্ষরেখার বিশাল পরিধি ২৪ ঘণ্টায় পার হতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১,৬৭০ কিমি বেগে ঘুরতে হয়। কর্কটক্রান্তি রেখায় এই বেগ কমে হয় প্রায় ১,৫৩৪ কিমি/ঘণ্টা, সুমেরুবৃত্তে প্রায় ৬৬৫ কিমি/ঘণ্টা এবং মেরুবিন্দুতে পরিধি না থাকায় ঘূর্ণন বেগ হয় ০ কিমি/ঘণ্টা।

৪. জলবিষুব ও মহাবিষুবের ভৌগোলিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

  • মহাবিষুব (২১ মার্চ):

    • এই দিনে সূর্য বিষুবরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সূর্য থেকে সমদূরত্বে অবস্থান করে।

    • পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত সমান (১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত) হয়।

    • উত্তর গোলার্ধে তখন বসন্তকাল বিরাজ করে (তাই একে বসন্তকালীন বিষুব বলে) এবং দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শরৎকাল।

  • জলবিষুব (২৩ সেপ্টেম্বর):

    • এই দিনেও সূর্যরশ্মি বিষুবরেখার ওপর উল্লম্বভাবে পতিত হয় এবং সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।

    • উত্তর গোলার্ধে তখন শরৎকাল থাকে (শারদ বিষুব) এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিরাজ করে বসন্তকাল।

  • তাৎপর্য: বিষুব দুটি হলো ঋতু পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ, যা পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে।

৫. কোনো স্থানে বায়ুর চাপ ও বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে পৃথিবীর আহ্নিক গতির ভূমিকা কী?

  • দিন-রাত্রির তাপীয় পরিবর্তন: আহ্নিক গতির ফলে দিন ও রাতের চক্রাকার আবর্তন ঘটে। দিনে সূর্যতাপে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়ে নিম্নচাপ এবং রাতে তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়ে উচ্চচাপের পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা স্থানীয় বায়ুপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে।

  • বায়ুর গতিবিক্ষেপ (কোরিওলিস প্রভাব): আহ্নিক গতির ফলে উদ্ভূত কোরিওলিস বল সোজাসুজি প্রবাহিত হতে থাকা বায়ুর দিক বিক্ষেপ ঘটায়। ফেরেলের সূত্র মেনে বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁ দিকে বেঁকে যায়।

  • নিয়ত বায়ুপ্রবাহ ও ঘূর্ণবাত: পৃথিবীর আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু এবং মেরু বায়ুর মতো বৃহৎ বায়ুচাপ বলয় ও নিয়ত বায়ুপ্রবাহের গতিপথ এবং ঘূর্ণবাতের ঘূর্ণন চক্র সম্পূর্ণরূপে আহ্নিক গতির ওপর নির্ভরশীল।

@ পৃথিবীর গতিসমূহ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৫. দীর্ঘ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (মান – ৫) 

১. পৃথিবীর আবর্তন গতির (আহ্নিক গতি) প্রধান ভৌগোলিক ফলাফলগুলি বিষদে আলোচনা করো।

ভূমিকা: পৃথিবী তার মেরুদণ্ডের ওপর ভর করে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অবিরাম লাটিমের মতো পাক খেয়ে চলেছে। একে পৃথিবীর আবর্তন বা আহ্নিক গতি বলে। এই আবর্তন গতির ফলে মানবজীবন ও সামগ্রিক ভৌগোলিক পরিবেশে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে।

প্রধান ফলাফলসমূহ:

  1. দিন ও রাত্রির সংঘটন:

    পৃথিবী নিজস্ব আলোহীন একটি অস্বচ্ছ গোলক। আবর্তনের কারণে পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের মুখোমুখি আসে, সেখানে সূর্যালোক পড়ে দিন হয়। বিপরীত অন্ধকার অংশে রাত হয়। পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘুরছে বলেই পূর্ব দিকের দেশগুলিতে আগে সূর্যোদয় ও দিন হয়। আবর্তন না থাকলে এক অর্ধাংশে চিরকাল দিন ও অন্য অংশে চিরকাল রাত থাকত।

  2. সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও সময়ের গণনা:

    আহ্নিক গতির ফলেই প্রতিদিন সকালে পূর্ব আকাশে সূর্যোদয় এবং সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সূর্যাস্ত হতে দেখা যায়। এই গতির এক পূর্ণ পাকের সময়কে (২৪ ঘণ্টা) ভিত্তি করে মানবজাতি সময়কে ঘণ্টা, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে দৈনন্দিন কাজকর্ম ও স্থানীয় সময় নির্ধারণ করে থাকে।

  3. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের দিকবিক্ষেপ (ফেরেলের সূত্র):

    পৃথিবীর আবর্তনজনিত কারণে কোরিওলিস বলের উদ্ভব ঘটে। এই বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে প্রবাহিত যে কোনো গতিশীল মাধ্যম (যেমন নিয়ত বায়ু এবং সমুদ্রস্রোত) সরাসরি সরলরেখায় চলতে পারে না। তারা উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁ দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

  4. জোয়ার-ভাটার পুনরাবৃত্তি:

    পৃথিবীর আবর্তনের ফলেই সমুদ্রপৃষ্ঠের কোনো নির্দিষ্ট স্থান নির্দিষ্ট সময় অন্তর চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় বলের সরাসরি সম্মুখীন হয়। ফলে প্রতিটি স্থানে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে (প্রায় ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট অন্তর) পর্যায়ক্রমে দুবার জোয়ার এবং দুবার ভাটা সংঘটিত হয়।

  5. পৃথিবীর আকৃতি গঠন ও জীবজগতের জীবনচক্র:

    • অভিগত গোলকীয় রূপ: সৃষ্টির আদিকালে পৃথিবী যখন তরল-নমনীয় অবস্থায় দ্রুত ঘুরছিল, তখন আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে মধ্যভাগ স্ফীত হয়ে এবং দুই মেরু কিছুটা চ্যাপ্টা রূপ নিয়ে বর্তমান অভিগত গোলক আকার ধারণ করেছে।

    • জীবজগতের ছন্দ: নিয়মিত আলো ও অন্ধকারের চক্র উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ, প্রাণীদের খাদ্য সংগ্রহ এবং বিশ্রাম ও নিদ্রার ছন্দকে নিয়ন্ত্রণ করে।

উপসংহার: আহ্নিক গতি কেবলমাত্র পৃথিবীর রূপরেখাকেই নির্ধারণ করেনি, বরং পৃথিবীর পৃষ্ঠে জীবনধারণের উপযুক্ত পরিবেশ ও দিন-রাত্রির প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

@ পৃথিবীর গতিসমূহ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

২. চিত্র ব্যতিরেকে যুক্তি ও তারিখ সহযোগে পৃথিবীতে কীভাবে ঋতু পরিবর্তন ঘটে তা সবিস্তারে আলোচনা করো।

ভূমিকা: পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি, উপবৃত্তাকার কক্ষপথ এবং কক্ষতলের সঙ্গে পৃথিবীর মেরুদণ্ডের ৬৬.৫° কোণে স্থায়ীভাবে হেলে থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অংশে সূর্যরশ্মির পতন কোণ ও দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের তারতম্য ঘটে। এর ফলে উষ্ণতার তারতম্য ঘটে এবং পর্যায়ক্রমিক ঋতুচক্র আবর্তিত হয়।

ঋতু পরিবর্তনের প্রধান চারটি পর্যায়:

  1. গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত বা কর্কটসংক্রান্তি (২১ জুন):

    • অবস্থান: ২১ জুন তারিখে পৃথিবীর উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সর্বাধিক (২৩.৫°) ঝুঁকে থাকে এবং সূর্যরশ্মি কর্কটক্রান্তি রেখার ($২৩^\circ ৩০’\text{ N}$) ওপর লম্বভাবে আপতিত হয়।

    • দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য: এই সময় উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন (১৪ ঘণ্টা বা তার বেশি) এবং সবচেয়ে ছোট রাত হয়। সুমেরুবৃত্তে একটানা ২৪ ঘণ্টাই সূর্যালোক থাকে।

    • ফলাফল: অধিক সময় ধরে লম্ব সূর্যরশ্মি পাওয়ার কারণে উত্তর গোলার্ধে সঞ্চিত উত্তাপ বেশি হয় এবং সেখানে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। বিপরীতভাবে, দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ছোট ও রাত বড় হওয়ায় সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে, ফলে সেখানে তখন শীতকাল চলে।

  2. শারদ বিষুব বা জলবিষুব (২৩ সেপ্টেম্বর):

    • অবস্থান: ২১ জুনের পর সূর্য ক্রমশ দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হতে থাকে (দক্ষিণায়ন)। ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে সূর্যরশ্মি বিষুবরেখার ($০^\circ$) ওপর সরাসরি লম্বভাবে পড়ে।

    • দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য: পৃথিবীর দুই মেরুই সূর্য থেকে সমান দূরত্বে থাকায় এই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান (১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত) হয়।

    • ফলাফল: এই সময়ে উত্তাপের চরমতা থাকে না। উত্তর গোলার্ধে না-শীত-না-গরম অর্থাৎ শরৎকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীতভাবে বসন্তকাল বিরাজ করে।

  3. শীতকালীন অয়নান্ত বা মকরসংক্রান্তি (২২ ডিসেম্বর):

    • অবস্থান: ২২ ডিসেম্বর তারিখে পৃথিবীর দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে সর্বাধিক ঝুঁকে থাকে এবং সূর্যরশ্মি মকরক্রান্তি রেখার ($২৩^\circ ৩০’\text{ S}$) ওপর লম্বভাবে পড়ে।

    • দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য: এই সময় দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় এবং রাত সবচেয়ে ছোট হয়। কুমেরুবৃত্ত অঞ্চলে একটানা ২৪ ঘণ্টা দিন থাকে। অপরদিকে উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে ছোট এবং রাত সবচেয়ে দীর্ঘ হয়।

    • ফলাফল: দক্ষিণ গোলার্ধে প্রচণ্ড তাপ সঞ্চয়ের কারণে গ্রীষ্মকাল এবং উত্তর গোলার্ধে তির্যক রশ্মি ও ক্ষুদ্র দিনের কারণে তাপ ক্ষয় বেশি হওয়ায় তীব্র শীতকাল বিরাজ করে।

  4. বসন্তকালীন বিষুব বা মহাবিষুব (২১ মার্চ):

    • অবস্থান: ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে সূর্যের উত্তরমুখী আপাত গতি (উত্তরায়ন) শুরু হয়। ২১ মার্চ তারিখে সূর্য পুনরায় বিষুবরেখার ওপর সরাসরি লম্বভাবে কিরণ দেয়।

    • দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য: এই দিনেও পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ সমান আলো পায়, ফলে সর্বত্র দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য পুনরায় সমান (১২ ঘণ্টা) হয়।

    • ফলাফল: আবহাওয়া মৃদু ও মনোরম থাকে। উত্তর গোলার্ধে তখন শীতের বিদায়ে আগমন ঘটে বসন্তকালের এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিরাজ করে শরৎকাল।

উপসংহার: পৃথিবীর বার্ষিক পরিক্রমণ এবং তার অক্ষের নির্দিষ্ট কোণে হেলে থাকার সম্মিলিত প্রভাবেই প্রতি বছর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে পর্যায়ক্রমে গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত— এই প্রধান চারটি ঋতুর চক্রাকার আবর্তন ঘটে থাকে।

PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)

পৃথিবীর গতিসমূহ প্রশ্নের উত্তর

পৃথিবীর গতিসমূহ প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ, SAQ , ২ নম্বরের প্রশ্ন, ৩ নম্বরের প্রশ্ন, ৫ নম্বরের প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232

১) নবম শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় – পৃথিবীর গতিসমূহ (Only for Subscribers) 

Click here to view pdf file

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সকল বিষয়ের MCQ প্রশ্নের মক টেস্ট প্রদান করতে নিম্নের লিঙ্কটি অনুসরণ করতে হবে 

নবম শ্রেণির ভূগোল প্রশ্নের উত্তর

সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে

উত্তর আমেরিকা MCQ

আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে।

ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।

জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে।

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।

পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।

আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন।

আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করার প্রচেষ্টা করবেন না !
Scroll to Top