কারক ও অকারক, বিভক্তি, অনুসর্গ, নির্দেশক
আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে বাংলা ব্যাকরণের অন্তর্ভুক্ত কারক থেকে কারক ও অকারক, বিভক্তি, অনুসর্গ, নির্দেশক -এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের আলোচনাগুলি প্রদান করা হলো। শিক্ষার্থীরা এই কারক ও অকারক থেকে প্রশ্নের উত্তর –গুলি তৈরি করে তাদের মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।
কারক ও অকারক, বিভক্তি, অনুসর্গ, নির্দেশক :
১) কারক কাকে বলে?
উঃ কারক শব্দটির ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করলে পাওয়া যায় ‘√কৃ+ণক’ অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদন করে যে। সংস্কৃত ব্যাকরণে কারক সম্পর্কে বলা হয়েছে ‘ক্রিয়ান্বয়ী কারকম্’ অর্থাৎ ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কই হল কারক।
অর্থাৎ, বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে অন্যান্য পদের সম্পর্ককে বলা হয় কারক। কারক হল পদের অন্বয়গত পরিচয়।
যেমনঃ রাম ভাত খায়। এখানে ‘রাম’ কর্তৃকারকের ও ‘ভাত’ কর্মকারকের উদাহরণ।
২) কারকের শ্রেণিবিভাগ লেখো।
কারকের শ্রেণিবিভাগঃ
বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে অন্যান্য পদের সম্পর্ক ছয় রকমের হতে পারে। সেইজন্য কারকও ছয় প্রকার। ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্পর্কের নিরিখে কারকগুলি হল এইরকম-
ক) কর্তৃ কারক- যে ক্রিয়া সম্পন্ন করে
খ) কর্ম কারক- যাকে অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে
গ) করণ কারক- যার সাহায্যে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে
ঘ) নিমিত্ত কারক- যার জন্য ক্রিয়া সম্পন্ন হয়
ঙ) অপাদান কারক- যেখান থেকে/যখন থেকে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হয়
চ) অধিকরণ কারক- যখন/ যেখানে/ যেভাবে/ যে বিষয়ে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
৩) অকারক পদ কাকে বলে?
অকারক পদঃ
বাক্যে এমন কিছু পদ থাকে যাদের সঙ্গে ক্রিয়াপদের সরাসরি সম্পর্ক থাকে না। ক্রিয়াপদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই এমন পদগুলিকে বলা হয় অকারক পদ।
যেমনঃ মামার বাড়ি যাবো। এখানে ‘মামার’ পদটি সম্মন্ধ পদ, যা অকারকের উদাহরণ।
৪) অকারক পদের শ্রেণিবিভাগ লেখো।
অকারক পদের শ্রেণিবিভাগঃ
অকারক পদ দুই প্রকার। যথা –
ক) সম্বন্ধ পদঃ
যে পদের সঙ্গে ক্রিয়াপদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক থাকে না বরং অন্য কোনো নামপদের সম্পর্ক থাকে তাকে সম্বন্ধ পদ বলে। ক্রিয়াপদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকে না বলে একে অকারক পদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
যেমনঃ আমি কাকার বাড়ি যাবো।
অন্যান্য উদাহরণঃ-
অ) গরুর দুধ খুব পুষ্টিকর।
আ) গ্রামের যোগী ভিক্ষা পায় না।
ই) রাজার ছেলে রাজা হয়।
ঈ) আমি বাবার ঘড়িটা পড়েছি।
উ) বাড়ির প্রাচীরটা ভেঙে গেছে।
খ) সম্বোধন পদঃ
সম্বোধন করার অর্থ হল ডাকা বা আহ্বান করা। যে পদের সাহায্যে কাউকে সম্বোধন করা হয় বা ডাকা হয় সেই পদকে সম্বোধন পদ বলা হয়। সম্বোধন পদের সঙ্গেও ক্রিয়াপদের সরাসরি সম্পর্ক থাকে না। তাই এটি অকারক পদ।
যেমনঃ
অ) মহারাজা, আদেশ করুন
আ) দাদা, এইদিকে আসুন।
ই) মহাশয়, আপনার নাম কী?
ঈ) হে পিতৃব্য, তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে।
উ) এই যে দিদি, এদিকে শুনুন।
৪) বিভক্তি কাকে বলে?
বিভক্তিঃ
যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি (লেখ্যরূপে, বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি) শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শব্দকে পদে পরিণত করে তাকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তি শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল বিভাজন। কিন্তু ব্যাকরণে বিভক্তি বোঝায় সেই ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে যা শব্দকে বাক্যে ব্যবহারের উপযোগি করে তুলে।
শব্দ + বিভক্তি = পদ
৫) বিভক্তির শ্রেণিবিভাগ করো।
বিভক্তির শ্রেণিবিভাগঃ
বিভক্তি মূলত দুই প্রকার। যথা-
ক) শব্দ বিভক্তিঃ
যে বিভক্তি শব্দকে পদে (নামপদে) পরিণত করে তাকে শব্দ বিভক্তি বলে।
যেমন- এ, কে, রে, তে, য়, র, এর এবং শূন্য বিভক্তি।
বাক্যে উদাহরণঃ
এ বিভক্তি – পাগলে সবই বলে।
কে বিভক্তি – ভুতকে ভয় পেয়ো না।
রে বিভক্তি – দেবতারে প্রণাম করিও।
তে বিভক্তি – তিনি কলকাতাতে থাকেন।
য় বিভক্তি – কলকাতায় সব পাওয়া যায়।
র বিভক্তি – বাবার যোগ্য ছেলে।
এর বিভক্তি – বাপের ব্যাটা।
শূন্য বিভক্তি – যেমন বাবা তেমন ছেলে।
খ) ক্রিয়া বিভক্তিঃ
ধাতুর সঙ্গে যে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠন করে তাকে ক্রিয়া বিভক্তি বলে।
যেমন – ছি, ছে, ছেন ইত্যাদি।
৬) শূন্য বিভক্তি কাকে বলে?
ব্যাকরণের নিয়ম হল, শব্দের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হলে তবেই শব্দ পদে পরিণত হয় এবং বাক্যে ব্যবহারের উপযোগি হয়ে ওঠে। কিন্তু যদি কোনো পদের সঙ্গে আক্ষরিক অর্থে কোনো বিভক্তি যুক্ত থাকে না তবে ব্যাকরণের খাতিরে ধরে নেওয়া হয় যে একটি বিভক্তি যুক্ত আছে। এই বিভক্তিকে বলা হয় শূন্য বিভক্তি বলে।
যেমনঃ
রাম ভাত খায়। এখানে ‘রাম’ কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি ও ‘ভাত’ কর্মকারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।
৭) তির্যক বিভক্তি কাকে বলে?
বাংলা কারকে প্রায় সব বিভক্তিই একাধিক কারকে ব্যবহৃত হতে পারে। যে বিভক্তি একাধিক কারকে ব্যবহৃত হয়, তাকেই তির্যক বিভক্তি বলে।
উদাহরণঃ
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে। – কর্তৃ কারকে ‘তে’ বিভক্তি।
এ ছুরিতে মাংস কাটা যাবে না। – করণে ‘তে’ বিভক্তি।
ঘরেতে ভ্রমর এলো। — অধিকরণ কারকে ‘তে’ বিভক্তি।
৮) অনুসর্গ কাকে বলে?
বাংলা ভাষায় যেসব অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির মত বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাদেরকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
উদাহরণঃ
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহিতে?
তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না।
৯) অনুসর্গের শ্রেণিবিভাগ করো।
অনুসর্গগুলো প্রধানত দু’ভাবে বিভক্ত। যথা—
ক) নাম অনুসর্গ (বিশেষ্য, বিশেষণ) – বিনা, জন্যে, কাছে, কারণে, অপেক্ষা, নিকট, মধ্যে ইত্যাদি।
খ) ক্রিয়া অনুসর্গ (অসমাপিকা) – করিয়া/করে, চাইতে/চেয়ে, থেকে, দিয়ে, হইতে/হতে, ধরিয়া/ধরে, লাগিয়া/লেগে প্রভৃতি।
১০) নির্দেশক কাকে বলে?
নির্দেশকঃ
যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি নামপদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নামপদটির বচন নির্দেশ করে তাকে নির্দেশক বলে।
যেমনঃ-
একবচনের নির্দেশক – টি, টা, টো, টে।
বহুবচনের নির্দেশক – গুলি, গুলো।
১১) বিভক্তি ও অনুসর্গের পার্থক্য লেখো।
বিভক্তি ও অনুসর্গের মধ্যে যে সকল পার্থক্যগুলি পরিলক্ষিত হয় সেগুলি ক্রমান্বয়ে আলোচিত হলো-
বিভক্তি ও অনুসর্গের পার্থক্যঃ
প্রথমত, বিভক্তি শব্দকে পদে পরিণত করে।
কিন্তু, অনুসর্গ শব্দকে পদে পরিণত করতে পারে না। বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরেই অনুসর্গ বসে।
দ্বিতীয়ত, বিভক্তি হল বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি।
পক্ষান্তরে, অনুসর্গ নিজেই একটি পদ (অব্যয়পদ)।
তৃতীয়ত, বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় অর্থাৎ শব্দের সঙ্গে মিশে যায়।
অপরপক্ষে, অনুসর্গ শব্দের পরে পৃথকভাবে বসে।
চতুর্থত, বিভক্তি সাধারণত অর্থহীন।
অপরপক্ষে, প্রতিটি অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ আছে।