সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ প্রশ্নের উত্তর Class 10
সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ প্রশ্নের উত্তর Class 10 এখানে WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে দশম শ্রেণির মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করা হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই ইতিহাস প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ প্রশ্নের উত্তর Class 10 :
১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহকে ভারতের ‘প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ’ বলে কে অভিহিত করেছেন?
(ক) রমেশচন্দ্র মজুমদার (খ) বিনায়ক দামোদর সাভারকর (গ) সুরেন্দ্রনাথ সেন (ঘ) বিপিনচন্দ্র পাল
উত্তর: (খ) বিনায়ক দামোদর সাভারকর
১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহের প্রথম শহীদ কাকে মানা হয়?
(ক) মঙ্গল পাণ্ডে (খ) তাতিয়া তোপী (গ) ভক্ত খাঁ (ঘ) নানাসাহেব
উত্তর: (ক) মঙ্গল পাণ্ডে
ব্যারাকপুর সেনাছাউনিতে মঙ্গল পাণ্ডে কবে বিদ্রোহের সূচনা করেন?
(ক) ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ (খ) ১৮৫৭ সালের ১০ই মে (গ) ১৮৫৭ সালের ৮ই এপ্রিল (ঘ) ১৮৫৮ সালের ১লা নভেম্বর
উত্তর: (ক) ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে ঝাঁসির ঝাঁসীর রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাপতি কে ছিলেন?
(ক) কলিন ক্যাম্পবেল (খ) হিউ রোজ (গ) জেমস আউটরাম (ঘ) জন নিকলসন
উত্তর: (খ) হিউ রোজ
১৮৫৭-র বিদ্রোহের সময় মুঘল সম্রাট কে ছিলেন?
(ক) দ্বিতীয় শাহ আলম (খ) দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ (গ) আকবর শাহ (ঘ) প্রথম বাহাদুর শাহ
উত্তর: (খ) দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
মহাবিদ্রোহকে একটি ‘সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন কে?
(ক) রমেশচন্দ্র মজুমদার (খ) সুরেন্দ্রনাথ সেন (গ) ড. বিপিনচন্দ্র (ঘ) ড. তারাচাঁদ
উত্তর: (ক) রমেশচন্দ্র মজুমদার
ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান কোনটি?
(ক) ভারত সভা (খ) বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা (গ) জমিদার সভা (ঘ) জাতীয় কংগ্রেস
উত্তর: (খ) বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা
বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (ক) ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে
জমিদার সভা (Landholders’ Society) কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৮৩৬ (খ) ১৮৩৮ (গ) ১৮৫১ (ঘ) ১৮৭৬
উত্তর: (খ) ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে
জমিদার সভার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি কে ছিলেন?
(ক) রাধাকান্ত দেব (খ) প্রসন্নকুমার ঠাকুর (গ) দ্বারকানাথ ঠাকুর (ঘ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: (ক) রাধাকান্ত দেব
‘ভারত সভা’ (Indian Association) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (ক) ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে (২৬শে জুলাই)
ভারত সভার প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
(ক) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসু (খ) শিবনাথ শাস্ত্রী (গ) উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (ঘ) শিশিরকুমার ঘোষ
উত্তর: (ক) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসু
ভারত সভার প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
(ক) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (খ) রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় (গ) আনন্দমোহন বসু (ঘ) দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর: (খ) রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
‘হিন্দু মেলা’ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (ক) ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে
হিন্দু মেলার প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
(ক) নবগোপাল মিত্র ও রাজনারায়ণ বসু (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: (ক) নবগোপাল মিত্র ও রাজনারায়ণ বসু
হিন্দু মেলার অপর নাম কী ছিল?
(ক) চৈত্র মেলা (খ) বৈশাখী মেলা (গ) জাতীয় মেলা (ঘ) স্বদেশী মেলা
উত্তর: (ক) চৈত্র মেলা
মহারানির ঘোষণাপত্র জারি করা হয়েছিল কত খ্রিস্টাব্দে?
(ক) ১৮৫৮ সালের ১লা নভেম্বর (খ) ১৮৫৭ সালের ১০ই মে (গ) ১৮৫৯ সালের ১লা জানুয়ারি (ঘ) ১৮৬১ সালের ১লা আগস্ট
উত্তর: (ক) ১৮৫৮ সালের ১লা নভেম্বর
মহারানির ঘোষণাপত্রটি এলাহাবাদ দরবারে পাঠ করেন কে?
(ক) লর্ড ডালহৌসি (খ) লর্ড ক্যানিং (গ) লর্ড কার্জন (ঘ) লর্ড লিটন
উত্তর: (খ) লর্ড ক্যানিং
ভারতের প্রথম ভাইসরয় (Viceroy) নিযুক্ত হন কে?
(ক) লর্ড বেন্টিঙ্ক (খ) লর্ড ক্যানিং (গ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন (ঘ) লর্ড রিপন
উত্তর: (খ) লর্ড ক্যানিং
‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসটি কোন পটভূমির ওপর ভিত্তি করে রচিত?
(ক) সিপাহি বিদ্রোহ (খ) সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ (গ) নীল বিদ্রোহ (ঘ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
উত্তর: (খ) সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ
‘বন্দে মাতরম্’ সংগীতটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোন গ্রন্থে?
(ক) আনন্দমঠ (খ) গোরা (গ) দেবী চৌধুরানী (ঘ) সীতারাম
উত্তর: (ক) আনন্দমঠ
‘গোরা’ উপন্যাসটি কে রচনা করেন?
(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থটি কার রচনা?
(ক) স্বামী বিবেকানন্দ (খ) অরবিন্দ ঘোষ (গ) বাল গঙ্গাধর তিলক (ঘ) লালা লাজপত রায়
উত্তর: (ক) স্বামী বিবেকানন্দ
‘ভারতমাতা’ চিত্রটি কে এঁকেছিলেন?
(ক) নন্দলাল বসু (খ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) রবি বর্মা
উত্তর: (খ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
‘ভারতমাতা’ চিত্রটির পূর্ব নাম কী ছিল?
(ক) বঙ্গমাতা (খ) মাতৃভূমি (গ) সুজলা সুফলা (ঘ) ভারতলক্ষ্মী
উত্তর: (ক) বঙ্গমাতা
ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন ও বাবু সমাজের সমালোচনা করেছিলেন কোন শিল্পী?
(ক) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) যামিনী রায় (ঘ) নন্দলাল বসু
উত্তর: (খ) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ইলবার্ট বিলের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
(ক) অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা (খ) ভারতীয় বিচারকদের শ্বেতাঙ্গদের বিচার করার অধিকার দেওয়া (গ) সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা (ঘ) দেশীয় বিদ্যালয় বন্ধ করা
উত্তর: (খ) ভারতীয় বিচারকদের শ্বেতাঙ্গদের বিচার করার অধিকার দেওয়া
ইলবার্ট বিল বিতর্কের সময় ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
(ক) লর্ড লিটন (খ) লর্ড রিপন (গ) লর্ড কার্জন (ঘ) লর্ড ডাফরিন
উত্তর: (খ) লর্ড রিপন
উনবিংশ শতাব্দীকে কে ‘সমিতি গঠনের যুগ’ বলে চিহ্নিত করেছেন?
(ক) ড. অনিল শীল (খ) রমেশচন্দ্র মজুমদার (গ) অমলেশ ত্রিপাঠী (ঘ) ড. তারাচাঁদ
উত্তর: (ক) ড. অনিল শীল
১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে অস্ত্র আইন ও দেশীয় সংবাদপত্র আইন কে পাস করেন?
(ক) লর্ড রিপন (খ) লর্ড লিটন (গ) লর্ড ক্যানিং (ঘ) লর্ড ডালহৌসি
উত্তর: (খ) লর্ড লিটন
@ সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
২. একটি বাক্যে উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?
উত্তর: এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি মেশানোর গুজবই ছিল বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ।
কানপুরে সিপাহি বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
উত্তর: কানপুরে সিপাহি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শেষ পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাওয়ের দত্তকপুত্র নানাসাহেব এবং তাঁর সহযোগী তাতিয়া তোপী।
স্বত্ববিলোপ নীতি কে প্রবর্তন করেছিলেন?
উত্তর: লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেছিলেন।
‘Eighteen Fifty-Seven’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ড. সুরেন্দ্রনাথ সেন।
ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে (২৯শে অক্টোবর) ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
কাকে ‘ভারতের মুকুটহীন রাজা’ বলা হতো?
উত্তর: রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
ভারত সভার প্রথম অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: কলকাতার অ্যালবার্ট হলে (বর্তমান কফি হাউস)।
ইলবার্ট বিল কে তৈরি করেন?
উত্তর: ভাইসরয় লর্ড রিপনের আইন পরিষদের আইন সচিব স্যার কোর্টনি পেরেগ্রিন ইলবার্ট।
শ্বেতাঙ্গরা ইলবার্ট বিলের প্রতিবাদে কোন সমিতি গঠন করেছিল?
উত্তর: ডিফেন্স অ্যাসোসিয়েশন (Defence Association) বা ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সমিতি।
আনন্দমঠ উপন্যাসটি কবে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে আনন্দমঠ প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠ উপন্যাসে সন্ন্যাসী দলের প্রধান চরিত্রগুলির নাম কী ছিল?
উত্তর: সত্যানন্দ, ভবানীশঙ্কর, মহেন্দ্র ও কল্যাণী।
‘ভারতমাতা’ চিত্রটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে আঁকা হয়েছিল?
উত্তর: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে।
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভারতমাতার চার হাতে কী কী রয়েছে?
উত্তর: ভারতমাতার চার হাতে রয়েছে বেদ (পুস্তক), ধানের শিষ, জপের মালা এবং শ্বেতবস্ত্র।
গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত ব্যঙ্গচিত্রের নাম লেখো।
উত্তর: ‘বিরূপ বজ্র’ বা ‘অদ্ভুত লোক’।
হিন্দু মেলা প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: দেশীয় ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, শরীরচর্চা ও স্বদেশী পণ্যের প্রসার ঘটিয়ে যুবসমাজের মনে জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটানো।
নবগোপাল মিত্রকে কী উপাধি দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: সব কাজে জাতীয় ভাবধারার প্রকাশ ঘটানোর জন্য তাঁকে ‘ন্যাশনাল মিত্র’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ভারতীয়দের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৯ বছর করেছিলেন কোন বড়লাট?
উত্তর: বড়লাট লর্ড লিটন (১৮৭৭ খ্রি.)।
মহারানির ঘোষণাপত্রে কোন পদ বিলুপ্ত করা হয়?
উত্তর: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গর্ভনর জেনারেল পদের পরিবর্তে ভারতের জন্য ‘ভাইসরয়’ (রাজপ্রতিনিধি) পদ সৃষ্টি করা হয় এবং কোম্পানির বোর্ড অব কন্ট্রোল বিলুপ্ত হয়।
‘গোরা’ উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন মূল বার্তা দিয়েছেন?
উত্তর: সংকীর্ণ জাতিভেদ ও ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে মানবতাবাদ ও উদার সর্বভারতীয় জাতীয়তাবোধের বার্তা দিয়েছেন।
বর্তমান ভারত বইটি সর্বপ্রথম কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো?
উত্তর: রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের মুখপত্র ‘উদ্বোধন’ পত্রিকায় (১৮৯৯ খ্রি.)।
@ সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৩. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ২)
১. এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ কীভাবে মহাবিদ্রোহের সূচনা করেছিল?
উত্তর: ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত এনফিল্ড রাইফেলের টোটা বা কার্তুজটি বন্দুকের নলে ভরার আগে দাঁত দিয়ে কেটে খুলতে হতো। সেনাদলে গুজব রটে যে এই কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি মেশানো রয়েছে, যা হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের সৈনিকদের ধর্মনাশের চক্রান্ত। ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডে এই কার্তুজ ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিদ্রোহের সূত্রপাত করেন।
২. মহারানির ঘোষণাপত্র (১৮৫৮)-এর মূল প্রতিশ্রুতিগুলি কী ছিল?
উত্তর: ১৮৫৮ সালের ১লা নভেম্বর লর্ড ক্যানিং এলাহাবাদ দরবারে রানি ভিক্টোরিয়ার এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এর মূল বক্তব্য ছিল:
ব্রিটিশ সরকার ভবিষ্যতে ভারতে নতুন কোনো রাজ্য বিস্তার করবে না এবং দেশীয় রাজাদের দত্তকপুত্র গ্রহণের অধিকার ফিরিয়ে দেবে।
জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল যোগ্য ভারতীয় সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ পাবে এবং ভারতীয়দের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রথায় সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
৩. উনবিংশ শতককে ড. অনিল শীল কেন ‘সমিতি গঠনের যুগ’ বলেছেন?
উত্তর: উনিশ শতকে বিশেষ করে প্রথমার্ধের পর থেকে বাংলায় এবং ভারতের অন্যান্য প্রদেশে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে যৌথ স্বার্থরক্ষা ও ব্রিটিশ সরকারের নীতির প্রতিবাদের জন্য একের পর এক রাজনৈতিক সভা ও সমিতি গড়ে উঠতে থাকে (যেমন—বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা, জমিদার সভা, ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন, ভারত সভা প্রভৃতি)। এই কারণে ঐতিহাসিক ড. অনিল শীল এই শতককে ‘সমিতি গঠনের যুগ’ আখ্যা দেন।
৪. বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভাকে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা হয় কেন?
উত্তর: ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা ধর্মীয় বা নিছক সাহিত্য আলোচনার গণ্ডি ছাড়িয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের রাজস্ব নীতি ও নিষ্কর জমিতে কর বসানোর মতো প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে প্রথম সংগঠিত প্রতিবাদ জানিয়েছিল। রাজনৈতিক স্বার্থে সরকারের নীতির প্রকাশ্য আলোচনা করার এই চরিত্রের জন্যই ড. যোগেশচন্দ্র বাগল একে ‘ভারতের প্রথম রাজনৈতিক সমিতি’ বলেছেন।
৫. জমিদার সভার (১৮৩৮) দুটি উদ্দেশ্য লেখো।
উত্তর:
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্ত বজায় রাখা এবং জমিদারি জমিতে সরকারি কর ধার্যের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা।
জমিদার ও ভূস্বামীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার পাশাপাশি তৎকালীন বিচার ও রাজস্ব ব্যবস্থার ত্রুটিগুলি দূর করতে সরকারের কাছে আবেদন জানানো।
৬. ভারত সভা (১৮৭৬) প্রতিষ্ঠার প্রধান দুটি উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারত সভা প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল:
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এক সাধারণ রাজনৈতিক চেতনা ও ঐক্য গড়ে তোলা।
হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করা এবং সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক গণআন্দোলনে যুক্ত করা (যেমন—সিভিল সার্ভিস আন্দোলন, অস্ত্র আইন বিরোধী আন্দোলন)।
৭. হিন্দু মেলার মূল বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর: ১৮৬৭ সালে চৈত্র সংক্রান্তির দিনে নবগোপাল মিত্র ও রাজনারায়ণ বসু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হিন্দু মেলা কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। এর মূল লক্ষ্য ছিল স্বনির্ভরতা অর্জন। এখানে দেশীয় হস্তশিল্পের প্রদর্শনী, ভারতীয় খেলাধুলা ও কুস্তি প্রতিযোগিতা, দেশাত্মবোধক গান রচনা এবং স্বদেশী বস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মশক্তির উদ্বোধন ঘটানো হতো।
৮. ইলবার্ট বিল বিতর্ক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: তৎকালীন বিচারব্যবস্থায় কোনো ভারতীয় বিচারকের কোনো ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গ অপরাধীর বিচার করার অধিকার ছিল না। ভাইসরয় লর্ড রিপনের নির্দেশে আইন সচিব সি. পি. ইলবার্ট ১৮৮৩ সালে একটি খসড়া বিল আনেন, যেখানে ভারতীয় ও ইউরোপীয় বিচারকদের সমান অধিকারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ইংরেজরা ‘ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সমিতি’ গড়ে আন্দোলন শুরু করে, যা ‘ইলবার্ট বিল বিতর্ক’ নামে পরিচিত।
৯. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভারতমাতা’ চিত্রের তাৎপর্য কী?
উত্তর: ১৯০৫ সালের স্বদেশী আন্দোলনের সময় অঙ্কিত ভারতমাতা চিত্রে অবনীন্দ্রনাথ কোনো অস্ত্রধারিণী দেবীকে আঁকেননি; এঁকেছিলেন এক বৈষ্ণবী সন্ন্যাসিনীর রূপ। তাঁর চার হাতে ধরা ছিল অন্ন (ধানের শিষ), বস্ত্র (শ্বেতবস্ত্র), শিক্ষা (পুস্তক) এবং দীক্ষা (জপের মালা)—যা শান্ত, স্নিগ্ধ ও আত্মনির্ভর ভারতবর্ষের রূপক হিসেবে জাতীয়তাবাদী আবেগকে প্রগাঢ় করেছিল।
১০. গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্রগুলির মূল লক্ষ্য কী ছিল?
উত্তর: গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্রের (যেমন—‘অদ্ভুত লোক’, ‘বিরূপ বজ্র’) মাধ্যমে ব্রিটিশদের অন্ধ অনুকরণকারী বাবু সমাজের ভণ্ডামি, মেকি সাহেবিয়ানা, সমাজের বর্ণবৈষম্য এবং ঔপনিবেশিক প্রশাসনের নিষ্ঠুর রূপকে তীব্র পরিহাসের মাধ্যমে জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছিলেন।
@ সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৪. বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৪)
প্রশ্ন ১: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের চরিত্র বা প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর:
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ভারতের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এর চরিত্র নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানা মতবিরোধ রয়েছে:
সিপাহি বিদ্রোহ মতবাদ: ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জন কে, জন লরেন্স এবং চার্লস বল মনে করেন, এটি ছিল মূলত এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ সিপাহিদের এক সীমাবদ্ধ সেনা অসন্তোষ।
সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া: ঐতিহাসিক ড. রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে, স্বত্ববিলোপ নীতি ও বৃত্তি বন্ধের কারণে ক্ষুব্ধ দেশীয় রাজন্যবর্গ (ঝাঁসির রানি, নানাসাহেব, দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ) নিজেদের হৃত ক্ষমতা ফিরে পেতে এই লড়াইয়ে নেমেছিলেন। তাঁর মতে, এটি সমগ্র ভারতের মুক্তি সংগ্রাম ছিল না।
ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ: জাতীয়তাবাদী নেতা বিনায়ক দামোদর সাভারকর তাঁর গ্রন্থ ‘The Indian War of Independence’-এ প্রমাণ করেছেন যে ধর্ম ও স্বরাজ রক্ষার জন্য হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্রিটিশদের দেশ থেকে তাড়াতে চেয়েছিল, তাই এটি প্রথম জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ।
গণবিদ্রোহের প্রকাশ: অযোধ্যা, বিহার ও ঝাঁসির মতো বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সিপাহিদের সাথে সাধারণ কৃষক, তালুকদার ও সাধারণ জনগণও বিপুল সংখ্যায় যোগ দিয়েছিল, যা একে একটি রক্তক্ষয়ী গণবিদ্রোহের রূপ দিয়েছিল।
প্রশ্ন ২: জাতীয়তাবোধ উন্মেষে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের অবদান সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসটিকে ‘ভারতের জাতীয়তাবাদের গীতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই উপন্যাসের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী:
দেশমাতৃকার নতুন রূপ: আনন্দমঠে বঙ্কিমচন্দ্র দেশকে শুধুমাত্র একখণ্ড ভূমি হিসেবে না দেখে দেবী প্রতিমা তথা জন্মদাত্রী মায়ের রূপে কল্পনা করেছেন। উপন্যাসে তিনি দেশের তিনটি রূপ তুলে ধরেন—‘যা ছিলেন মা’ (অতীত সমৃদ্ধি), ‘যা হইয়াছেন মা’ (বর্তমান পরাধীনতা ও দারিদ্র্য) এবং ‘যা হইবেন মা’ (ভবিষ্যতের দশভুজা মহীয়সী রূপ)।
‘বন্দে মাতরম্’ মন্ত্র: এই উপন্যাসের অন্তর্গত ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি বিপ্লবীদের কাছে এক মহামন্ত্রে পরিণত হয়েছিল। স্বদেশী আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে ব্রিটিশের ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিপ্লবীরা হাসিমুখে এই গান গাইতেন।
সন্তান দলের আত্মত্যাগ: উপন্যাসে দেশসেবায় উৎসর্গীকৃত চরিত্র ‘সন্তান সেনা’ দল নিজেদের সংসার, সুখ ও ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করে দেশমাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল। এই ত্যাগ পরবর্তী প্রজন্মের অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দলের সশস্ত্র বিপ্লবীদের বিপুলভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
প্রশ্ন ৩: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘ভারত সভা’র রাজনৈতিক আন্দোলনগুলির পরিচয় দাও।
উত্তর:
১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ‘ভারত সভা’ (Indian Association) ছিল ভারতের জাতীয় কংগ্রেস পূর্ববর্তী সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংগঠন। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এটি বেশ কয়েকটি সফল গণআন্দোলন গড়ে তোলে:
সিভিল সার্ভিস আন্দোলন (১৮৭৭-৭৮): ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের প্রশাসনে ঢোকার পথ বন্ধ করতে আইসিএস পরীক্ষায় বসার সর্বোচ্চ বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৯ বছর করে। ভারত সভা এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সমগ্র উত্তর ও দক্ষিণ ভারত সফর করে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন ও ব্রিটেনে প্রতিনিধিদল পাঠান।
অস্ত্র আইন ও সংবাদপত্র দমন আইনের প্রতিবাদ: ১৮৭৮ সালে লর্ড লিটন ভারতীয়দের অস্ত্র রাখা নিষিদ্ধ করতে ‘অস্ত্র আইন’ এবং দেশীয় সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করতে ‘ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট’ জারি করেন। ভারত সভা জনসভা করে এর তীব্র বিরোধিতা করে এবং স্মারকলিপি জমা দেয়।
ইলবার্ট বিলের পক্ষে লড়াই: ১৮৮৩ সালে ইলবার্ট বিলের সমর্থনে এবং শ্বেতাঙ্গদের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে ভারত সভা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালায়।
জাতীয় সম্মেলন (National Conference): ১৮৮৩ ও ১৮৮৫ সালে ভারত সভা কলকাতায় দুটি সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করে, যা পরবর্তীতে ১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেস গঠনের সুস্পষ্ট পটভূমি তৈরি করেছিল।
@ সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৫. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৮)
প্রশ্ন: স্বামী বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থে কীভাবে ভারতীয় জাতীয়তাবোধ প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো। জাতীয় জাগরণে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভারতমাতা’ চিত্রের ভূমিকা কী ছিল? (৫ + ৩)
উত্তর:
ক. ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থে জাতীয়তাবোধের প্রতিফলন (মান: ৫):
উনিশ শতকের শেষলগ্নে (১৮৯৯ খ্রি.) স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘বর্তমান ভারত’ আধুনিক ভারতীয় সমাজচিন্তা ও দেশাত্মবোধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দলিল। এই গ্রন্থে ইতিহাস পর্যালোচনার মাধ্যমে তিনি যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা প্রচার করেছিলেন তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ঐতিহাসিক বিবর্তন ও ক্ষমতার পালাবদল:
বিবেকানন্দ ঐতিহাসিক সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখিয়েছেন যে মানবসমাজ ক্রমান্বয়ে চারটি বর্ণ দ্বারা শাসিত হয়েছে—ব্রাহ্মণ (পুরোহিততন্ত্র), ক্ষত্রিয় (সামরিক শাসন), বৈশ্য (বাণিজ্যিক শোষণ) এবং আসন্ন চতুর্থ যুগ হলো শূদ্রের (শ্রমিক-কৃষক)। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে বৈশ্য শাসনের প্রতীক ব্রিটিশ রাজত্বের পতন ঘটিয়ে ভারতে সাধারণ মেহনতি মানুষ বা ‘শূদ্রদের উত্থান’ নিশ্চিত।
২. মেকি পাশ্চাত্যকরণের বিরোধিতা:
বিবেকানন্দ তৎকালীন শিক্ষিত ভারতীয়দের অন্ধভাবে ইউরোপীয় আদব-কায়দা অনুকরণ করার প্রবণতাকে তীব্র ব্যঙ্গ করেন। তিনি স্পষ্ট মনে করাতেন যে অন্যের ভালো গ্রহণ করা অন্যায় নয়, তবে আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে সাহেব সাজা চূড়ান্ত কাপুরুষতা।
৩. মানবপ্রেম ও সর্বজনীন দেশাত্মবোধ:
তিনি ঈশ্বর সাধনাকে চার দেওয়ালের মন্দির থেকে টেনে এনে মানুষের সেবায় রূপান্তরিত করেন। তাঁর মতে, দেশই হলো শ্রেষ্ঠ জাগ্রত দেবতা। তিনি সমাজকে আহ্বান জানিয়ে লেখেন—
“হে ভারত, ভুলিও না—নীচ জাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর তোমার রক্ত, তোমার ভাই!… বল—ভারতবাসী আমার ভাই, ভারতবাসী আমার প্রাণ, ভারতের দেবদেবী আমার ঈশ্বর, ভারতের সমাজ আমার শিশুকালীন দোলনা, আমার যৌবনের উপবন, আমার বার্ধক্যের বারাণসী।”
৪. দুর্বলতা ও ভয় ত্যাগ করার বার্তা:
বিবেকানন্দ উপলব্ধি করেছিলেন যে পরাধীনতার মূল কারণ হলো ভারতীয়দের হীনম্মন্যতা ও শারীরিক-মানসিক দুর্বলতা। তাই তিনি দেশবাসীকে পৌরুষ, তেজ ও নৈতিক সাহসের সাথে নির্ভীক হতে বলেন। তাঁর এই জ্বালাময়ী বাণী চরমপন্থী ও সশস্ত্র বিপ্লবীদের দেশমুক্তির লড়াইয়ে প্রত্যক্ষ প্রেরণা জুগিয়েছিল।
খ. জাতীয় জাগরণে ‘ভারতমাতা’ চিত্রের ভূমিকা (মান: ৩):
১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনের তুঙ্গে থাকার সময়ে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিখ্যাত ‘ভারতমাতা’ চিত্রটি অঙ্কন করেন।
১. স্বদেশী ভাবনার মূর্ত প্রতীক: চিত্রটিতে দেখা যায় গেরুয়াবস্ত্র পরিহিতা এক দেবীস্বরূপ নারী শান্ত ও সংযত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর চার হাতে রয়েছে—অন্ন (ধানের শিষ), বস্ত্র (সাদা কাপড়), শিক্ষা (পুস্তক) এবং দীক্ষা (জপের মালা)। এই চারটি উপাদান তৎকালীন ভারতবাসীর মৌলিক চাহিদা ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক ছিল।
২. অহিংস ও আধ্যাত্মিক জাতীয়তাবাদ: অবনীন্দ্রনাথ চিত্রটিতে পাশ্চাত্য রণোন্মত্ত রূপ ফুটিয়ে তোলেননি। ভগিনী নিবেদিতা এই চিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছিলেন, এটি কোনো সাধারণ মানবী নয়—বরং এটি ত্যাগ, ধৈর্য ও পবিত্র আধ্যাত্মিক জাতীয়তাবাদের মূর্ত রূপ।
৩. বিপ্লবী ও আন্দোলনকারীদের প্রেরণা: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী মিছিল ও সভায় এই ছবিটির প্রতিলিপি নিয়ে মিছিল করা হতো। এটি পরাধীন ভারতীয়দের মনে দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার এক নতুন আবেগ ও দেশপ্রেমের সঞ্চার করেছিল।
উপসংহার:
স্বামী বিবেকানন্দের কালজয়ী লেখনী এবং অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনন্য চিত্রকর্ম—উভয়েই শতাব্দীর পরাধীনতার গ্লানি মুছে ফেলে ভারতীয়দের নিজেদের ঐতিহ্য, মাটি ও আত্মমর্যাদার ওপর দাঁড়াতে শিখিয়েছিল, যা বিংশ শতকের বৃহত্তর স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।
PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)
সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ (১০০টি) , SAQ (১০০টি), ২ নম্বরের প্রশ্ন (৫০টি), ৪ নম্বরের প্রশ্ন (১৫টি) উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232
১) মাধ্যমিক ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় – সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা (Only for Subscribers)
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে। @ সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে।
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। @ সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন।
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।






















