বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ প্রশ্নের উত্তর Class 10
বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ প্রশ্নের উত্তর Class 10 এখানে WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে দশম শ্রেণির মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করা হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই ইতিহাস প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ প্রশ্নের উত্তর Class 10 :
১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
বাংলা ভাষায় প্রথম সচিত্র গ্রন্থ কোনটি?
(ক) অন্নদামঙ্গল (খ) বর্ণপরিচয় (গ) বোধোদয় (ঘ) কথামালা
উত্তর: (ক) অন্নদামঙ্গল (১৮১৬ খ্রি.)
‘অন্নদামঙ্গল’ গ্রন্থটির প্রকাশক কে ছিলেন?
(ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (খ) গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য (গ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (ঘ) পঞ্চানন কর্মকার
উত্তর: (খ) গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
বাংলা হরফ বা টাইপ তৈরির পথিকৃৎ কাকে বলা হয়?
(ক) উইলিয়াম কেরি (খ) পঞ্চানন কর্মকার (গ) চার্লস উইলকিন্স (ঘ) সুরেশচন্দ্র মজুমদার
উত্তর: (গ) চার্লস উইলকিন্স
চার্লস উইলকিন্সকে বাংলা হরফ তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন—
(ক) গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য (খ) পঞ্চানন কর্মকার (গ) রামরাম বসু (ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর: (খ) পঞ্চানন কর্মকার
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
(ক) ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (ক) ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে
ইউ. রায় অ্যান্ড সন্স (U. Ray & Sons) ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন—
(ক) সুকুমার রায় (খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (গ) সত্যজিৎ রায় (ঘ) সুবিনয় রায়
উত্তর: (খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৯৫ খ্রি.)
ভারতে হাফটোন ব্লক প্রিন্টিং পদ্ধতির প্রবর্তক কে ছিলেন?
(ক) চার্লস উইলকিন্স (খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (গ) পঞ্চানন কর্মকার (ঘ) অন্নদাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: (খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
‘টুনটুনির বই’ কার লেখা?
(ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (খ) সুকুমার রায় (গ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার (ঘ) যোগীন্দ্রনাথ সরকার
উত্তর: (ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স’ (IACS) কে প্রতিষ্ঠা করেন?
(ক) জগদীশচন্দ্র বসু (খ) আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় (গ) ড. মহেন্দ্রলাল সরকার (ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
উত্তর: (গ) ড. মহেন্দ্রলাল সরকার (১৮৭৬ খ্রি.)
চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন (সি. ভি. রমন) তাঁর বিখ্যাত ‘রমন এফেক্ট’ আবিষ্কারের গবেষণা কোথায় করেছিলেন?
(ক) বসু বিজ্ঞান মন্দির (খ) IACS (গ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: (খ) IACS
‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ (Bose Institute) প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
(ক) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (গ) ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে (৩০শে নভেম্বর)
জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদের প্রাণের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য কোন যন্ত্র আবিষ্কার করেন?
(ক) ক্রেসকোগ্রাফ (খ) ব্যারোমিটার (গ) মাইক্রোস্কোপ (ঘ) গ্যালভানোমিটার
উত্তর: (ক) ক্রেসকোগ্রাফ
‘বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
(ক) প্রফুল্লচন্দ্র রায় (খ) নীলরতন সরকার (গ) মহেন্দ্রলাল সরকার (ঘ) আনন্দমোহন বসু
উত্তর: (ক) আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় (১৮৯২/১৯০১ খ্রি.)
কাকে ‘ভারতের রসায়ন শাস্ত্রের জনক’ বলা হয়?
(ক) মহেন্দ্রলাল সরকার (খ) মেঘনাদ সাহা (গ) আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় (ঘ) জগদীশচন্দ্র বসু
উত্তর: (গ) আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়
‘A History of Hindu Chemistry’ গ্রন্থটি কার রচনা?
(ক) প্রফুল্লচন্দ্র রায় (খ) রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী (গ) মহেন্দ্রলাল সরকার (ঘ) উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী
উত্তর: (ক) আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়
জাতীয় শিক্ষা পরিষদ (National Council of Education – NCE) কত সালে গঠিত হয়?
(ক) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (খ) ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ১১ই মার্চ
জাতীয় শিক্ষা পরিষদের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
(ক) অরবিন্দ ঘোষ (খ) রাসবিহারী ঘোষ (গ) সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: (খ) সত্যবিহারী ঘোষ (বা স্যার রাসবিহারী ঘোষ)
বেঙ্গল ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ কে ছিলেন?
(ক) সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (খ) অরবিন্দ ঘোষ (গ) রাসবিহারী ঘোষ (ঘ) তারকনাথ পালিত
উত্তর: (খ) শ্রী অরবিন্দ ঘোষ
‘ডন সোসাইটি’ (Dawn Society) কে প্রতিষ্ঠা করেন?
(ক) সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (খ) ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় (গ) অরবিন্দ ঘোষ (ঘ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: (ক) সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৯০২ খ্রি.)
বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (BTI) প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
(ক) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (খ) ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে (২৫শে জুলাই)
বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের বর্তমান নাম কী?
(ক) শিবপুর বি. ই. কলেজ (খ) প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় (গ) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: (গ) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় প্রধান আর্থিক পৃষ্ঠপোষক কে ছিলেন?
(ক) তারকনাথ পালিত (খ) নীলরতন সরকার (গ) রাসবিহারী ঘোষ (ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর: (ক) তারকনাথ পালিত
শান্তিনিকেতন আশ্রম কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: (খ) মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬৩ খ্রি.)
শান্তিনিকেতনে ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
(ক) ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (খ) ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে (২২শে ডিসেম্বর)
বিশ্বভারতী কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (গ) ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে
বিশ্বভারতী কত সালে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে?
(ক) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (গ) ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে
বিশ্বভারতীর প্রথম উপাচার্য (Vice-Chancellor) কে ছিলেন?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশ
উত্তর: (খ) রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
‘তোতাকাহিনী’ গল্পের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ কীসের সমালোচনা করেছেন?
(ক) বিজ্ঞান শিক্ষার (খ) ব্রিটিশ কেরানি তৈরির যান্ত্রিক মুখস্থ শিক্ষাব্যবস্থার (গ) পাঠশালার শিক্ষার (ঘ) আশ্রমিক শিক্ষার
উত্তর: (খ) ব্রিটিশ কেরানি তৈরির যান্ত্রিক মুখস্থ শিক্ষাব্যবস্থার
বাংলা ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র কোনটি?
(ক) সমাচার দর্পণ (খ) দিকদর্শন (গ) বেঙ্গল গেজেট (ঘ) সংবাদ প্রভাকর
উত্তর: (খ) দিকদর্শন (সাময়িকপত্র) / সমাচার দর্পণ (সাপ্তাহিক সংবাদপত্র, ১৮১৮ খ্রি.)
কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ (University College of Science and Technology) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৯০৬ (খ) ১৯১৪ (গ) ১৯১৭ (ঘ) ১৯২৪
উত্তর: (খ) ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে
@ বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
২. একটি বাক্যে উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
বাংলা মুদ্রণশিল্পের জনক কাকে বলা হয়?
উত্তর: চার্লস উইলকিন্সকে বাংলা মুদ্রণশিল্পের জনক বলা হয়।
ভারতে প্রথম কারা ছাপাখানা চালু করেছিল?
উত্তর: ষোড়শ শতকে পর্তুগিজরা (গোয়ায়) ভারতে প্রথম ছাপাখানা চালু করেছিল।
গ্রামার অফ দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ (A Grammar of the Bengal Language) গ্রন্থের রচয়িতা কে?
উত্তর: ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড (১৭৭৮ খ্রি.)।
পঞ্চানন কর্মকার কে ছিলেন?
উত্তর: পঞ্চানন কর্মকার ছিলেন একজন দক্ষ বাঙালি কারিগর ও ধাতুশিল্পী, যিনি চার্লস উইলকিন্সকে বাংলা ছাপাখানার জন্য আধুনিক ধাতব হরফ তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন।
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদিত ছোটদের বিখ্যাত পত্রিকাটির নাম কী?
উত্তর: ‘সন্দেশ’ পত্রিকা (১৯১৩ খ্রি.)।
আই.এ.সি.এস (IACS)-এর পুরো নাম কী?
উত্তর: Indian Association for the Cultivation of Science।
জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদের ওপর গবেষণার ফলাফল কোন গ্রন্থে প্রকাশ করেছিলেন?
উত্তর: ‘The Response in the Living and Non-Living’ গ্রন্থে।
‘বেঙ্গল ইমিউনিটি’ কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তর: চিকিৎসক চারুচন্দ্র বসু এবং ডা. নীলরতন সরকার।
কার্লাইল সার্কুলার কবে জারি করা হয়েছিল?
উত্তর: ১৯০৫ সালের ১০ই অক্টোবর (বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের জন্য)।
অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু (১৯০৫ খ্রি.)।
জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠনে বড় অঙ্কের অর্থ দান করেছিলেন এমন একজন দেশপ্রেমিকের নাম লেখো।
উত্তর: ময়মনসিংহের মহারাজা ব্রজেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এবং সুবোধচন্দ্র মল্লিক।
সুবোধচন্দ্র মল্লিককে জনগণ কী উপাধি দিয়েছিলেন?
উত্তর: জাতীয় শিক্ষায় বিপুল অর্থ দানের জন্য তাঁকে ‘রাজা’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
শ্রীনিকেতন কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: পল্লী পুনর্গঠন, কৃষি গবেষণা এবং কুটির শিল্পের প্রসারের উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রীনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
শ্রীনিকেতন প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথকে কোন বিদেশি কৃষিবিদ সহায়তা করেছিলেন?
উত্তর: লিওনার্ড এলমহার্স্ট (Leonard Elmhirst)।
বিশ্বভারতীর মূল আদর্শ বা নীতিবাক্য কী ছিল?
উত্তর: “যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্” (যেখানে সমগ্র বিশ্ব এসে একটি নীড়ে মিলিত হয়)।
বসু বিজ্ঞান মন্দিরের প্রতীক চিহ্ন হিসেবে কী ব্যবহার করা হয়েছিল?
উত্তর: দধীচির ত্যাগের প্রতীক হিসেবে ‘বজ্র’।
‘বর্ণপরিচয়’ কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ প্রকাশিত হয়।
কলকাতায় বিশ্ববিদ্যলয় স্তরে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে কে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন?
উত্তর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
উপেন্দ্রকিশোর উদ্ভাবিত ছাপাখানার বিশেষ স্ক্রিনটির নাম কী ছিল?
উত্তর: ডায়াফ্রাম স্ক্রিন (৬৭ ডিগ্রি কোণে হাফটোন ব্লক তৈরির পদ্ধতি)।
‘সহজ পাঠ’ গ্রন্থটির অলংকরণ ও ছবি কারা এঁকেছিলেন?
উত্তর: বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসু।
@ বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৩. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ২)
১. চার্লস উইলকিন্সকে কেন ‘বাংলার ক্যাক্সটন’ বলা হয়?
উত্তর: ইংল্যান্ডে উইলিয়াম ক্যাক্সটন যেমন প্রথম মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন করেছিলেন, তেমনি চার্লস উইলকিন্স প্রথম ন্যাথানিয়েল হ্যালহেডের বাংলা ব্যাকরণ বই ছাপার জন্য ১৭৭৮ সালে আধুনিক বাংলা ধাতব হরফ ঢালাই ও আবিষ্কার করেছিলেন। তাই তাঁকে ‘বাংলার ক্যাক্সটন’ বা ‘বাংলা মুদ্রণশিল্পের জনক’ বলা হয়।
২. শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব কী ছিল?
উত্তর: ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুরে এই ছাপাখানা স্থাপন করেন। এর গুরুত্ব ছিল:
এটি ভারতীয় ভাষায় বাইবেল অনুবাদ ছাড়াও অসংখ্য বাংলা পাঠ্যপুস্তক, রামায়ণ ও মহাভারত কম খরচে ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল।
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র ‘দিকদর্শন’ এবং প্রথম সংবাদপত্র ‘সমাচার দর্পণ’ এই প্রেস থেকেই প্রকাশিত হয়ে বাঙালি সমাজের আধুনিকায়নে পথ দেখায়।
৩. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী মুদ্রণ শিল্পে কেন স্মরণীয়?
উত্তর: উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ১৮৯৫ সালে ‘ইউ. রায় অ্যান্ড সন্স’ প্রতিষ্ঠা করে আধুনিক মুদ্রণ প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটান। তিনি ভারতে প্রথম অর্ধস্বচ্ছ হাফটোন ব্লক প্রিন্টিং, আধুনিক ক্যামেরায় স্ক্রিন অ্যাডজাস্টিং ও ডায়াফ্রাম সিস্টেম উদ্ভাবন করেন। তাঁর এই গবেষণা ব্রিটিশ গবেষণাপত্র ‘Penrose Graphic Arts Process’-এ অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছিল।
৪. ড. মহেন্দ্রলাল সরকার কেন আই.এ.সি.এস (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ড. মহেন্দ্রলাল সরকার লক্ষ্য করেন যে ব্রিটিশ শিক্ষা কেরানি তৈরি করছে, কিন্তু মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার কোনো প্রতিষ্ঠান ভারতে নেই। তাই ভারতীয়দের স্বউদ্যোগে ও সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থানুকূল্যে আধুনিক বিজ্ঞানচর্চা, মৌলিক গবেষণা ও প্রযুক্তি শেখানোর লক্ষ্য নিয়ে তিনি ১৮৭৬ সালে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স’ স্থাপন করেন।
৫. আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় কেন ‘স্বদেশী শিল্পোদ্যোগী’ নামে পরিচিত?
উত্তর: রসায়নবিদ প্রফুল্লচন্দ্র রায় কেবল পরীক্ষাগারে বিজ্ঞানচর্চায় আবদ্ধ থাকেননি; তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে পরাধীন দেশের বেকার যুবকদের অর্থনৈতিক মুক্তি প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৯২ সালে নিজস্ব পুঁজি ও দেশীয় উপাদান দিয়ে ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ভারতে আধুনিক ঔষধ ও রাসায়নিক শিল্পের স্বদেশী ভিত্তি তৈরি করে।
৬. কার্লাইল সার্কুলার (১৯০৫) কী ছিল?
উত্তর: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনে স্কুল-কলেজের ছাত্রদের অংশগ্রহণ রুখতে বাংলার তৎকালীন মুখ্যসচিব আর. ডব্লিউ. কার্লাইল ১৯০৫ সালের ১০ই অক্টোবর একটি দমনমূলক নির্দেশনামা জারি করেন। এতে বলা হয়, কোনো ছাত্র রাজনৈতিক আন্দোলন বা পিকেটিংয়ে যোগ দিলে তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে, বৃত্তি বাতিল হবে এবং স্কুলটির সরকারি অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হবে।
৭. জাতীয় শিক্ষা পরিষদ (NCE) কেন ব্যর্থ হয়েছিল?
উত্তর:
চাকরির সুযোগের অভাব: জাতীয় শিক্ষা পরিষদের ডিগ্রি ব্রিটিশ সরকার স্বীকৃতি দেয়নি, ফলে এই শিক্ষা নিয়ে সরকারি চাকরি পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল।
আর্থিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ: শুধুমাত্র দেশীয় অনুদানের ওপর ভিত্তি করে এই বিশাল শিক্ষা ব্যবস্থা বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যায়নি এবং জাতীয় নেতাদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বনাম কারিগরি শিক্ষা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।
৮. বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (BTI) প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য কী ছিল?
উত্তর: ১৯০৬ সালে তারকনাথ পালিতের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় বিটিআই প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল বিদেশি শিক্ষার বিকল্প হিসেবে ভারতীয় যুবকদের নিজস্ব দেশে আধুনিক কারিগরি, মেকানিক্যাল ও রাসায়নিক ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা, যাতে তারা দেশীয় শিল্প কলকারখানা গড়ে তুলে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করতে পারে।
৯. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে ঔপনিবেশিক শিক্ষার প্রধান ত্রুটি কী ছিল?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথের মতে ব্রিটিশদের চাপিয়ে দেওয়া ঔপনিবেশিক শিক্ষা ছিল চার দেওয়ালের খাঁচায় বন্দি যান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা, যা মানুষের সৃজনশীলতা ও হৃদয়বৃত্তি বিনষ্ট করত। বিদেশি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষা নেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীর আনন্দের বিকাশ ঘটত না। ‘তোতাকাহিনী’ গল্পের মাধ্যমে তিনি দেখান যে এই তোতাপাখির মতো মুখস্থ শিক্ষায় প্রাণের অপমৃত্যু ঘটে।
১০. বিশ্বভারতীর মূল বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ১৯২১ সালে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভাবধারার মহামিলনের ক্ষেত্র হিসেবে। এর মূল নীতি ছিল সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের বদলে সর্বজনীন মানবতাবাদ প্রচার করা। এখানে দেশ-বিদেশের পণ্ডিতরা এক ছাদের তলায় শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত ও দর্শন চর্চায় মিলিত হতেন।
@ বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৪. বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৪)
প্রশ্ন ১: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার প্রসারে ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ (Bose Institute)-এর অবদান আলোচনা করো।
উত্তর:
১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে নভেম্বর আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতায় ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল ভারতে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ কেন্দ্র।
মৌলিক গবেষণা কেন্দ্র: জগদীশচন্দ্র বসু এই প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞান সাধনার একটি তীর্থক্ষেত্র বা মন্দির হিসেবে গড়ে তোলেন। এখানে পদার্থবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, শারীরতত্ত্ব এবং পরিবেশ বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা শুরু হয়।
উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা প্রমাণ: জগদীশচন্দ্র তাঁর আবিষ্কৃত ক্রেসকোগ্রাফ ও রেজোন্যান্ট রেকর্ডার যন্ত্রের সাহায্যে এই প্রতিষ্ঠানে প্রমাণ করেন যে প্রাণীদের মতো উদ্ভিদেরও সংবেদনশীলতা, বৃদ্ধি এবং ব্যথাবোধ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিজ্ঞানীদের সমাবেশ: বিশ্বের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, ম্যাক্স প্লাঙ্ক এবং রোম্যাঁ রোলাঁ এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভারতীয় তরুণ বিজ্ঞানীরা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখাপেক্ষী না হয়ে দেশেই গবেষণার সুযোগ পান।
প্যাটেন্টমুক্ত বিজ্ঞান সেবা: জগদীশচন্দ্র বিজ্ঞানের গবেষণাকে বাণিজ্যিক স্বার্থে প্যাটেন্ট করার বিরোধী ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন বিজ্ঞানের সুফল যেন সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে উন্মুক্ত থাকে—বসু বিজ্ঞান মন্দির এই মহৎ আদর্শ লালন করেছিল।
প্রশ্ন ২: ছাপা বইয়ের সাথে বাংলায় শিক্ষা বিস্তারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর:
উনিশ শতকে বাংলায় আধুনিক শিক্ষা প্রসারের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছিল ছাপাখানার বিস্তার ও সহজলভ্য ছাপা বই।
সহজলভ্য পাঠ্যপুস্তক: ছাপাখানা আসার আগে হাতে লেখা পুঁথি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দুর্লভ ছিল, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকত। ১৮০০ সালে শ্রীরামপুর প্রেস এবং ১৮১৭ সালে ‘ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠার পর জলের দরে স্কুল পাঠ্যবই ছাত্রছাত্রীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
শিক্ষার গণতন্ত্রীকরণ: ছাপা বইয়ের ফলে শিক্ষা নির্দিষ্ট উচ্চবিত্ত শ্রেণির কুক্ষিগত না থেকে সমাজের সাধারণ ও প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষার গণতন্ত্রীকরণ ঘটে।
ভাষা ও লিপির মান্য রূপ: বর্ণপরিচয়, বোধোদয়, কথামালার মতো মুদ্রিত পাঠ্যবই প্রকাশের ফলে সমগ্র বাংলা জুড়ে বাংলা ভাষার বানান, শব্দভাণ্ডার এবং ব্যাকরণের একটি সার্বিক প্রমিত ও সর্বজনীন কাঠামো গড়ে ওঠে।
শিশুসাহিত্য ও মনন বিকাশ: উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর মতো মুদ্রণবিদদের হাত ধরে সচিত্র বইয়ের প্রচলন শুরু হয়। ছবিযুক্ত বই শিশুদের পড়াশোনায় আকর্ষণ বাড়িয়ে প্রাথমিক শিক্ষাকে অনেক বেশি আনন্দদায়ক করে তোলে।
প্রশ্ন ৩: বাংলায় স্বদেশী আন্দোলনের যুগে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ (NCE)-এর ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর:
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে সরকারি শিক্ষা বর্জন করে স্বনির্ভর বিকল্প শিক্ষার দাবিতে ১৯০৬ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয় ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’।
বিকল্প স্বদেশী শিক্ষা কাঠামো: সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মতো মনীষীদের নেতৃত্বে এটি গঠিত হয়। সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘গোলামখানা’ আখ্যা দিয়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত সাহিত্য, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার এক স্বদেশী ত্রিস্তরীয় পাঠ্যক্রম রূপায়ণ করা হয়।
জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপন: পরিষদের অধীনে কলকাতায় ‘বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজ অ্যান্ড স্কুল’ ছাড়াও পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার জেলাগুলিতে প্রায় বহু জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। শ্রী অরবিন্দ ঘোষ এই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হয়ে তরুণদের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করেন।
মাতৃভাষায় উচ্চশিক্ষা: জাতীয় শিক্ষা পরিষদই প্রথম দাবি তোলে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরে বিজ্ঞান ও কলার বিষয়গুলি মাতৃভাষা অর্থাৎ বাংলায় শিক্ষাদান করতে হবে।
কারিগরি শিক্ষার ভিত্তি: জাতীয় শিক্ষা পরিষদের মাধ্যমেই বাংলায় প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ (BTI) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীকালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
@ বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৫. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৮)
প্রশ্ন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাভাবনা ও শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। তিনি কীভাবে প্রকৃতি, মানুষ ও শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন? (৪ + ৪)
উত্তর:
ক. রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাভাবনা ও শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা (মান: ৪):
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথাগত বিদ্যালয়ের চার দেওয়ালের বন্দিদশা ও পরীক্ষাভিত্তিক যান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে তীব্র ঘৃণা করতেন। তিনি ছিলেন প্রকৃতির মুক্ত পরিবেশে আনন্দঘন ও সার্বিক মানববিকাশের শিক্ষার আজীবন সমর্থক।
১. ঔপনিবেশিক শিক্ষার বিরোধিতা:
ব্রিটিশ প্রণীত ঔপনিবেশিক শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য ছিল কেরানি তৈরি করা। রবীন্দ্রনাথ উপলব্ধি করেন, যে শিক্ষা শিশুর স্বাভাবিক কৌতূহল দমন করে এবং কল্পনাশক্তিকে হত্যা করে, তা শিক্ষার নামে এক কৃত্রিম বোঝা। তাই তিনি প্রাচীন ভারতের তপোবনের আশ্রমিক আদর্শের ভিত্তিতে একটি বিকল্প শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তুলতে চান।
২. শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম স্থাপন (১৯০১):
১৯০১ খ্রিস্টাব্দের ২২শে ডিসেম্বর (৭ই পৌষ) বোলপুরের শান্তিনিকেতনে মাত্র পাঁচজন ছাত্র ও পাঁচজন শিক্ষককে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠা করেন ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল:
শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালের বাইরে গাছপালার ছায়ায় খোলামেলা আকাশের নিচে বসে পাঠদান।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রাচীন গুরু-শিষ্যের মতো এক আত্মিক ও স্নেহপূর্ণ পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।
মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে ইন্দ্রিয়ের জাগরণ, সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, হস্তশিল্প ও শরীরচর্চার মাধ্যমে শিশুর অন্তরের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো।
৩. বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা (১৯২১):
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে জাতীয়তাবাদের উন্মাদনা যখন বিশ্বজুড়ে হানাহানি সৃষ্টি করেছিল, তখন রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনেই গড়ে তোলেন ‘বিশ্বভারতী’। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য—উভয় সংস্কৃতির মিলন ঘটিয়ে এক আন্তর্জাতিক মিলনতীর্থ তৈরি করা, যার মূল আদর্শ ছিল—”যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্” (সমগ্র বিশ্ব যেখানে একটি নীড়ে পরিণত হয়)।
খ. প্রকৃতি, মানুষ ও শিক্ষার সমন্বয় ভাবনা (মান: ৪):
রবীন্দ্রনাথের সামগ্রিক শিক্ষাদর্শের মূল কথাটিই ছিল—‘প্রকৃতি, মানুষ ও শিক্ষার মেলবন্ধন’। তিনি এই তিনটি উপাদানের বিচ্ছিন্নতাকে মানবজীবনের সব সংকটের মূল কারণ বলে মনে করতেন।
১. প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্ক:
রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন শিশুর প্রথম শিক্ষক হলো প্রকৃতি। প্রকৃতির ঋতুচক্র—গ্রীষ্মের দাবদাহ, বর্ষার নতুন জল, শরতের মেঘ, বসন্তের ফুল—শিশুর ইন্দ্রিয়কে সজাগ ও অনুভূতিশীল করে তোলে। শান্তিনিকেতনে তাই বৃক্ষরোপণ, বর্ষামঙ্গল, বসন্ত উৎসবের মতো অনুষ্ঠানগুলিকে শিক্ষার অঙ্গ করে নেওয়া হয়েছিল।
২. মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সেবাধর্ম:
শিক্ষাকে তিনি সমাজ ও মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করে রাখতে চাননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন গ্রামীণ কৃষক ও মেহনতি মানুষের উন্নতি ছাড়া দেশ বাঁচতে পারে না। তাই শান্তিনিকেতনের পাশেই ১৯২২ সালে এলমহার্স্টের সহযোগিতায় তিনি স্থাপন করেন ‘শ্রীনিকেতন’। সেখানে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, কুটির শিল্প, তাঁত ও জনস্বাস্থ্য শিক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সাধারণ পল্লীবাসীর সাথে একাত্ম হতে শেখানো হতো।
৩. মুক্তির মাধ্যম হিসেবে আনন্দ ও শিক্ষা:
রবীন্দ্রনাথের মতে শিক্ষার লক্ষ্য শুধু তথ্য মুখস্থ করা নয়, বরং পরম সত্যকে উপলব্ধি করে আত্মমুক্তি অর্জন করা। তাই তিনি বলেছেন—
“শিক্ষার প্রধান কাজ মানবমনকে প্রকৃতির সাথে এবং মানুষের সাথে সার্বিক সম্প্রীতিতে বেঁধে রাখা।”
উপসংহার:
রবীন্দ্রনাথের বিকল্প শিক্ষাদর্শ কেবল আধুনিক ভারতের নয়, সমগ্র বিশ্বের সামনে এক অনন্য দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। পুঁথিগত কেরানি তৈরির কারখানা ভেঙে তিনি শান্তিনিকেতনে মুক্ত প্রকৃতি ও মানবপ্রেমের যে মিলন ঘটিয়েছিলেন, তা আজও আধুনিক পরিবেশবান্ধব শিক্ষার শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়।
PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)
বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ (১০০টি) , SAQ (১০০টি), ২ নম্বরের প্রশ্ন (৫০টি), ৪ নম্বরের প্রশ্ন (১৫টি) উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232
১) মাধ্যমিক ইতিহাস পঞ্চম অধ্যায় – বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ (Only for Subscribers)
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে। @ বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে।
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। @ বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন।
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।






















