সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর Class 10
সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর Class 10 এখানে WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে দশম শ্রেণির মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করা হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই ইতিহাস প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর Class 10 :
১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
‘বামাবোধিনী পত্রিকা’র সম্পাদক কে ছিলেন?
(ক) উমেশচন্দ্র দত্ত (খ) শিশিরকুমার ঘোষ (গ) হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: (ক) উমেশচন্দ্র দত্ত
‘নীলদর্পণ’ নাটকটি রচনা করেন—
(ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত (খ) দীনবন্ধু মিত্র (গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ (ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর: (খ) দীনবন্ধু মিত্র
‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ কার ছদ্মনামে রচিত?
(ক) প্যারীচাঁদ মিত্র (খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ (ঘ) ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: (গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ কোথা থেকে প্রকাশিত হতো?
(ক) কলকাতা (খ) কুষ্টিয়ার কুমারখালী (গ) ঢাকা (ঘ) শ্রীরামপুর
উত্তর: (খ) কুষ্টিয়ার কুমারখালী
হিন্দু পেট্রিয়ট পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
(ক) হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ (গ) কৃষ্ণদাস পাল (ঘ) রামগোপাল ঘোষ
উত্তর: (খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়—
(ক) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (খ) ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে
ভারতে প্রথম শবব্যবচ্ছেদকারী চিকিৎসক ছিলেন—
(ক) ড. মহেন্দ্রলাল সরকার (খ) পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত (গ) ড. সূর্যকুমার গুডিভ চক্রবর্তী (ঘ) ডা. কাদম্বিনী বসু (গাঙ্গুলী)
উত্তর: (খ) পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (Vice-Chancellor) ছিলেন—
(ক) লর্ড ক্যানিং (খ) স্যার জেমস উইলিয়াম কোলভিল (গ) গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (ঘ) আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
উত্তর: (খ) স্যার জেমস উইলিয়াম কোলভিল
সতীদাহ প্রথা রদ হয় কোন আইন দ্বারা?
(ক) রেগুলেশন ১৭ (খ) রেগুলেশন ১৫ (গ) রেগুলেশন ১৮ (ঘ) রেগুলেশন ২১
উত্তর: (ক) রেগুলেশন ১৭ (১৮২৯ খ্রি.)
বিধবাবিবাহ আইন পাস হয় কোন বছর?
(ক) ১৮২৯ (খ) ১৮৫৬ (গ) ১৮৫৮ (ঘ) ১৮৭২
উত্তর: (খ) ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে
সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ গঠিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
(ক) ১৮৬৬ (খ) ১৮৭৮ (গ) ১৮৮১ (ঘ) ১৮৩০
উত্তর: (খ) ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে
‘ব্রহ্মানন্দ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন—
(ক) শিবনাথ শাস্ত্রী (খ) কেশবচন্দ্র সেন (গ) আনন্দমোহন বসু (ঘ) বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী
উত্তর: (খ) কেশবচন্দ্র সেন
‘সর্বধর্ম সমন্বয়’-এর আদর্শ প্রচার করেন—
(ক) স্বামী বিবেকানন্দ (খ) শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব (গ) বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী (ঘ) কেশবচন্দ্র সেন
উত্তর: (খ) শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব
১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে শিকাগো বিশ্বধর্ম সম্মেলনে যোগ দেন—
(ক) শ্রীরামকৃষ্ণ (খ) স্বামী বিবেকানন্দ (গ) কেশবচন্দ্র সেন (ঘ) রাজা রামমোহন রায়
উত্তর: (খ) স্বামী বিবেকানন্দ
‘নববিধান’ গঠন করেন—
(ক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) কেশবচন্দ্র সেন (গ) শিবনাথ শাস্ত্রী (ঘ) রামমোহন রায়
উত্তর: (খ) কেশবচন্দ্র সেন
একাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন—
(ক) ডেভিড হেয়ার (খ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (গ) রামমোহন রায় (ঘ) ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন
উত্তর: (খ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থটি কার রচনা?
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (খ) স্বামী বিবেকানন্দ (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) অরবিন্দ ঘোষ
উত্তর: (খ) স্বামী বিবেকানন্দ
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়—
(ক) ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (ক) ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে
উডের ডেসপ্যাচ প্রকাশিত হয়েছিল—
(ক) ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (খ) ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে
হিন্দু কলেজের বর্তমান নাম কী?
(ক) স্কটিশ চার্চ কলেজ (খ) প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় (গ) সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ (ঘ) বিদ্যাসাগর কলেজ
উত্তর: (খ) প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় উপাচার্য কে ছিলেন?
(ক) স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (খ) আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (গ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (ঘ) তারকনাথ পালিত
উত্তর: (ক) স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন—
(ক) রামমোহন রায় (খ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) অক্ষয়কুমার দত্ত (ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর: (খ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৩৯ খ্রি.)
‘বর্ণপরিচয়’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
(ক) মদনমোহন তর্কালঙ্কার (খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (গ) অক্ষয়কুমার দত্ত (ঘ) রামসুন্দর বসাক
উত্তর: (খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
কলকাতা স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়—
(ক) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (ক) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে
মেকলে মিনিট ঘোষিত হয়েছিল কত সালে?
(ক) ১৮১৩ (খ) ১৮২৩ (গ) ১৮৩৫ (ঘ) ১৮৫৪
উত্তর: (গ) ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে
‘জ্ঞানান্বেষণ’ পত্রিকাটি ছিল কাদের মুখপত্র?
(ক) ব্রাহ্মসমাজের (খ) ইয়ং বেঙ্গল বা নব্যবঙ্গ দলের (গ) ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের (ঘ) রামকৃষ্ণ মিশনের
উত্তর: (খ) ইয়ং বেঙ্গল বা নব্যবঙ্গ দলের
১৮৭২ সালের ‘তিন আইন’ দ্বারা কোনটি নিষিদ্ধ করা হয়?
(ক) বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ (খ) সতীদাহ প্রথা (গ) গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন (ঘ) নরবলি
উত্তর: (ক) বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ
কলকাতা ফিমেল স্কুল (বর্তমান বেথুন স্কুল) প্রতিষ্ঠিত হয়—
(ক) ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (ক) ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে
শ্রীরামপুরে ব্যাপটিস্ট মিশন ছাপাখানা কত সালে গড়ে ওঠে?
(ক) ১৮০০ (খ) ১৮১৩ (গ) ১৮১৭ (ঘ) ১৮৩৫
উত্তর: (ক) ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) কারা ছিলেন?
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও যদুনাথ বসু (খ) রমেশচন্দ্র দত্ত ও সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও মধুসূদন দত্ত (ঘ) প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও জগদীশচন্দ্র বসু
উত্তর: (ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও যদুনাথ বসু
@ সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
২. একটি বাক্যে উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’র সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তর: ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’র সম্পাদক ছিলেন হরিনাথ মজুমদার (যিনি ‘কাঙাল হরিনাথ’ নামে পরিচিত)।
হিন্দু কলেজ কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: হিন্দু কলেজ ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দের ২০শে জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়।
নীলদর্পণ নাটকটি ইংরেজিতে কে অনুবাদ করেছিলেন?
উত্তর: নীলদর্পণ নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত (রেভারেন্ড জেমস লং-এর নামে প্রকাশিত হয়েছিল)।
রামমোহন রায়কে ‘ভারত পথিক’ উপাধিতে কে ভূষিত করেছিলেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রামমোহন রায়কে ‘ভারত পথিক’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
বিধবাবিবাহ আইন কার শাসনকালে পাস হয়?
উত্তর: ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ক্যানিং-এর শাসনকালে বিধবাবিবাহ আইন (আইন নম্বর ১৫) পাস হয়।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ (Principal) কে ছিলেন?
উত্তর: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন ড. মাউন্টফোর্ড জোসেফ ব্র্যামলি (Dr. M. J. Bramley)।
তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তর: তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হতো?
উত্তর: ব্যাপটিস্ট মিশনারি উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান এবং উইলিয়াম ওয়ার্ড—এই তিনজনকে একত্রে ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ বলা হতো।
ডিরোজিওর অনুগামীদের কী বলা হতো?
উত্তর: ডিরোজিওর অনুগামীদের ‘নব্যবঙ্গ’ বা ‘ইয়ং বেঙ্গল’ (Young Bengal) বলা হতো।
সতীদাহ প্রথা বিরোধী আইন পাসের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তর: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ছিলেন সতীদাহ প্রথা বিরোধী আইন পাসের সময় গভর্নর জেনারেল।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৪শে জানুয়ারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে প্রথম শবব্যবচ্ছেদ কোন বছর অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দের ২৮শে অক্টোবর পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত প্রথম শবব্যবচ্ছেদ করেন।
‘যত মত, তত পথ’—কথাটি কে প্রচার করেছিলেন?
উত্তর: কথাটি প্রচার করেছিলেন শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব।
বামাবোধিনী পত্রিকার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: তৎকালীন অন্তঃপুরবাসিনী বাঙালি নারীদের শিক্ষিত, সচেতন ও তাঁদের অধিকার সম্পর্কে জাগ্রত করা ছিল এই পত্রিকার মূল উদ্দেশ্য।
ব্রাহ্মধর্মের প্রবক্তা কারা ছিলেন?
উত্তর: ব্রাহ্মধর্মের আদি প্রবক্তা ছিলেন রাজা রামমোহন রায় এবং পরবর্তীকালে এটি সম্প্রসারিত করেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্র সেন।
বেদান্ত কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায় বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম চ্যান্সেলর (Chancellor) কে ছিলেন?
উত্তর: তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম চ্যান্সেলর।
কোন আইনের মাধ্যমে কোম্পানির বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা শিক্ষাখাতে বরাদ্দের কথা বলা হয়?
উত্তর: ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের চার্টার অ্যাক্ট বা সনদ আইনের মাধ্যমে।
কাকে ‘বাংলার নবজাগরণের জনক’ বলা হয়?
উত্তর: রাজা রামমোহন রায়কে ‘বাংলার নবজাগরণের জনক’ বলা হয়।
বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় প্রথম বিধবাবিবাহ কবে সম্পন্ন হয়?
উত্তর: ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৭ই ডিসেম্বর (কলকাতায় শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্নের সঙ্গে কালীমতী দেবীর বিবাহ সম্পন্ন হয়)।
@ সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৩. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ২)
১. মেকলে মিনিট (Macaulay’s Minute) কী?
উত্তর: ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২রা ফেব্রুয়ারি লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আইন সচিব টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ভারতে শিক্ষানীতি বিষয়ক একটি স্মারকলিপি পেশ করেন, যা ‘মেকলে মিনিট’ নামে পরিচিত। এতে প্রাচ্য শিক্ষাকে অনগ্রসর আখ্যা দিয়ে প্রাচ্য শিক্ষার তহবিল বন্ধ করার কথা বলা হয় এবং ভারতে ইংরেজি মাধ্যমে পাশ্চাত্য বিজ্ঞান ও সাহিত্য শিক্ষাদানের সুপারিশ করা হয়।
২. মধুসূদন গুপ্ত কেন স্মরণীয়?
উত্তর: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কৃতী ছাত্র ও আয়ুর্বেদ শিক্ষক পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত ছিলেন আধুনিক ভারতে প্রথম শবব্যবচ্ছেদকারী ভারতীয় চিকিৎসক। ১৮৩৬ সালের ২৮শে অক্টোবর তিনি সামাজিক গোঁড়ামি, কুসংস্কার এবং শাস্ত্রীয় বিধিনিষেধ অগ্রাহ্য করে মানবদেহের শবব্যবচ্ছেদ (Dissection) সম্পন্ন করেন, যা ভারতে আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রের অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করে।
৩. প্রাচ্য-পাশ্চাত্য বিতর্ক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনে ভারতে জনশিক্ষা খাতে কোম্পানির প্রতি বছর এক লক্ষ টাকা ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই অর্থ সংস্কৃত-আরবি-ফারসি প্রভৃতি দেশীয় প্রাচ্য শিক্ষার পেছনে খরচ হবে, নাকি ইংরেজি তথা পাশ্চাত্য বিজ্ঞান-সাহিত্য শিক্ষার পেছনে খরচ হবে—এই নিয়ে ১৮২৩ সালে গঠিত ‘জনশিক্ষা কমিটি’র সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘ মতবিরোধ তৈরি হয়। এটিই ইতিহাসে ‘প্রাচ্য-পাশ্চাত্য বিতর্ক’ নামে পরিচিত।
৪. উডের ডেসপ্যাচ (১৮৫৪)-এর দুটি প্রধান সুপারিশ লেখো।
উত্তর: বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করে একটি নির্দেশনামা পাঠান, যার দুটি প্রধান সুপারিশ ছিল:
কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে তিনটি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।
প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত একটি সমন্বিত স্তরবিন্যাস গড়ে তোলা এবং নারীশিক্ষা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে সরকারি সাহায্য দেওয়া।
৫. ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ গ্রন্থের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?
উত্তর: কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত ব্যঙ্গাত্মক নকশাধর্মী এই গ্রন্থে সমকালীন কলকাতার সমাজজীবনের নিখুঁত রূপচিত্র ফুটে উঠেছে। এতে তৎকালীন তথাকথিত বাবু সমাজের ভণ্ডামি, মাদকাসক্তি, দেখনদারি সমাজসেবা, ধর্মীয় কুসংস্কার এবং চড়ক উৎসব ও রথযাত্রার মতো লোকায়ত সামাজিক জীবনের নিখুঁত জীবন্ত বর্ণনা রয়েছে।
৬. হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কেন স্মরণীয়?
উত্তর: হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন বিখ্যাত সংবাদপত্র ‘হিন্দু পেট্রিয়ট’-এর নির্ভীক সম্পাদক। ১৮৫৯-৬০ সালের নীল বিদ্রোহের সময় তিনি তাঁর পত্রিকার পাতায় ইংরেজ নীলকর সাহেবদের অমানুষিক অত্যাচার ও নিপীড়নের চিত্র সাহসিকতার সাথে তুলে ধরে জনমত গড়ে তোলেন এবং নিজ ব্যয়ে আদালতে কৃষকদের আইনি সহায়তা প্রদান করতেন।
৭. ডিরোজিও ও নব্যবঙ্গ দলের প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?
উত্তর: হিন্দু কলেজের তরুণ শিক্ষক ডিরোজিও ও তাঁর অনুগামী ‘ইয়ং বেঙ্গল’ বা নব্যবঙ্গ দলের প্রধান লক্ষ্য ছিল যুক্তিবাদ ও মুক্তচিন্তার সাহায্যে সমাজে প্রচলিত পৌত্তলিকতা, জাতপাত, বাল্যবিবাহ, সতীদাহের মতো অন্ধ কুসংস্কারগুলির মূলে আঘাত হানা এবং ব্যক্তিগত ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তার প্রসার ঘটানো।
৮. ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন (Bethune) স্মরণীয় কেন?
উত্তর: ভারতে নারীশিক্ষা বিস্তারের অন্যতম পথপ্রদর্শক ছিলেন বড়লাটের আইন পরিষদের সদস্য জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন। তিনি বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় উচ্চ ও মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েদের আধুনিক শিক্ষাদানের জন্য ‘হিন্দু ফিমেল স্কুল’ (বর্তমান বেথুন স্কুল ও বেথুন কলেজ) প্রতিষ্ঠা করেন।
৯. উনিশ শতকে সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে ‘তিন আইন’ (১৮৭২) কী ছিল?
উত্তর: ব্রাহ্ম সমাজের দীর্ঘ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে ‘তিন আইন’ (Third Act) পাস করে। এই বিশেষ আইনের মাধ্যমে ভারতীয় সমাজে প্রচলিত—(১) বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়, (২) বহুবিবাহ বন্ধ করা হয় এবং (৩) বিধবাবিবাহ ও অসবর্ণ বিবাহকে আইনসিদ্ধ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
১০. শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’-এর তাৎপর্য কী ছিল?
উত্তর: উনিশ শতকে হিন্দুধর্ম যখন রক্ষণশীল গোঁড়ামি এবং ব্রাহ্ম ও খ্রিস্টানদের আক্রমণের মুখে দিশাহারা, তখন শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর নিজস্ব সাধনার মাধ্যমে উপলব্ধি করেন এবং প্রচার করেন—‘যত মত, তত পথ’। অর্থাৎ বিভিন্ন ধর্মের শাস্ত্রীয় ও আচারগত পথ ভিন্ন হলেও সবার চূড়ান্ত লক্ষ্য এক ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ। এটি সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ দূর করতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
@ সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৪. বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৪)
প্রশ্ন ১: নারীশিক্ষা বিস্তারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
উনিশ শতকে বাংলায় নারীমুক্তির আন্দোলনে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা ছিল অনন্য। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে সমাজের অর্ধেক অংশ নারীদের নিরক্ষর ও পরনির্ভরশীল রেখে কোনো জাতির সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়।
বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: বিদ্যাসাগর ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সরকারি সহায়তায় অবিভক্ত বাংলায় নারীশিক্ষার এক অভূতপূর্ব বিস্তার ঘটান। তিনি নদীয়া, বর্ধমান, হুগলি ও মেদিনীপুর জেলায় নিজ খরচে ও পরিশ্রমে প্রায় ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন, যেখানে প্রায় ১৩০০ ছাত্রী পড়াশোনা করত।
বেথুন স্কুলের ভিত্তি রচনা: ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে জে. ই. ডি. বেথুনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কলকাতায় মেয়েদের জন্য আধুনিক প্রতিষ্ঠান ‘হিন্দু ফিমেল স্কুল’ (বর্তমান বেথুন স্কুল) প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা নেন এবং আমৃত্যু এর অবৈতনিক সম্পাদক ছিলেন।
সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ: সে যুগে মেয়েদের প্রকাশ্যে স্কুলে পাঠানোকে সমাজ পাপ বলে মনে করত। বিদ্যাসাগর অভিভাবকদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে সচেতন করেন এবং স্কুলগাড়ির গায়ে মনুসংহিতার শ্লোক লিখে দেন—”কন্যাপ্যেবং পালনীয়া শিক্ষণীয়াতিযত্নতঃ” (পুত্রসন্তানের মতো কন্যাকেও যত্নসহকারে শিক্ষা দেওয়া উচিত)।
স্ত্রীশিক্ষা বিধায়িনী তহবিল: বিদ্যালয়ের ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য সরকারি সাহায্য অপ্রতুল হলে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘স্ত্রীশিক্ষা বিধায়িনী তহবিল’ গড়ে তোলেন।
সুতরাং, উপযুক্ত পাঠ্যপুস্তক রচনা (বর্ণপরিচয়, বোধোদয়) থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো নির্মাণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিদ্যাসাগর আধুনিক নারীশিক্ষার পথপ্রদর্শক ছিলেন।
প্রশ্ন ২: শিক্ষা বিস্তারে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর:
১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ১লা জুন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ভারতে আধুনিক প্রাচ্য চিকিৎসা পদ্ধতির পরিবর্তে পাশ্চাত্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
আধুনিক পাঠ্যক্রম ও পাশ্চাত্য শিক্ষা: এর আগে দেশীয় কবিরাজি ও ইউনানি ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা চলত। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজেই প্রথম ইউরোপীয় শারীরস্থান বিদ্যা (Anatomy), শল্যচিকিৎসা এবং আধুনিক ফার্মাকোলজির বিজ্ঞানসম্মত পঠনপাঠন শুরু হয়।
কুসংস্কার ভেঙে শবব্যবচ্ছেদ: হিন্দু সমাজে মৃতদেহ স্পর্শ করা ঘোর পাপ হিসেবে গণ্য হতো। ১৮৩৬ সালের ২৮শে অক্টোবর এই কলেজের ছাত্র পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত শিক্ষক ড. গুডিভ-এর তত্ত্বাবধানে প্রথম ভারতীয় হিসেবে মানবদেহ শবব্যবচ্ছেদ করেন, যা চিকিৎসা শিক্ষার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী বিপ্লব ছিল।
যোগ্য চিকিৎসকের ঘাটতি পূরণ: এই কলেজ থেকে উত্তীর্ণ ছাত্ররা সরকারি হাসপাতাল ও দূরদূরান্তের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিযুক্ত হয়ে কলেরা, প্লেগ, ম্যালেরিয়া প্রভৃতি মহামারীর হাত থেকে ভারতবর্ষের মানুষকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
উচ্চশিক্ষার পথ উন্মোচন: এখান থেকেই সূর্যকুমার গুডিভ চক্রবর্তী, ভোলানাথ বসু প্রমুখ ভারতীয় কৃতী চিকিৎসক বিদেশে গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং দেশে ফিরে আধুনিক পাশ্চাত্য চিকিৎসা গবেষণাকে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দেন।
প্রশ্ন ৩: উনিশ শতকে বাংলার নব্যবঙ্গ (Young Bengal) আন্দোলনের সীমাবদ্ধতাগুলি কী ছিল?
উত্তর:
হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর নেতৃত্বে পরিচালিত বুদ্ধিবৃত্তিক ও সংস্কারকামী আন্দোলন ‘নব্যবঙ্গ আন্দোলন’ নামে খ্যাত। বিপুল উদ্দীপনা সত্ত্বেও এই আন্দোলন চূড়ান্ত সাফল্য পায়নি; এর প্রধান সীমাবদ্ধতাগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
জনসংযোগের অভাব: ডিরোজিয়ানদের কার্যকলাপ প্রধানত কলকাতার উচ্চবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত ইংরেজিভাষী শহুরে যুবকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তৎকালীন বাংলার গ্রামীণ কৃষক, দিনমজুর ও বৃহত্তর জনসমাজের সঙ্গে তাঁদের কোনো প্রত্যক্ষ সংযোগ গড়ে ওঠেনি।
নেতিবাচক ও উগ্র আচরণ: সংস্কারের নামে তাঁরা সনাতন ধর্মের বহু প্রাচীন সংস্কারকে যুক্তির পরিবর্তে উগ্র আচরণের মাধ্যমে আঘাত করতেন। উপবীত (পৈতে) ছিঁড়ে ফেলা, প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ গোমাংস ভক্ষণ করা এবং সমাজের শান্ত নীতিবোধকে ব্যঙ্গ করায় রক্ষণশীল সমাজের তীব্র বিদ্বেষের শিকার হন।
গঠনমূলক কর্মসূচির অভাব: প্রচলিত সমাজ ও ধর্মের সমালোচনাতেই তাঁরা সীমাবদ্ধ ছিলেন। বিকল্প কোনো সামাজিক বা অর্থনৈতিক রূপরেখা তাঁরা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারেননি।
সাময়িক স্থায়িত্ব: ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ২২ বছর বয়সে ডিরোজিওর অকালমৃত্যু এবং হিন্দু কলেজ থেকে তাঁর বহিষ্কারের পর এই আন্দোলন দ্রুত অভিভাবকহীন হয়ে গতি হারিয়ে ফেলে।
@ সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৫. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৮)
প্রশ্ন: উনিশ শতকে বাংলার সমাজসংস্কার ও ধর্মান্দোলনে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর:
উনিশ শতকের সূচনায় বাংলায় আধুনিক সমাজ ও ধর্মচেতনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন রাজা রামমোহন রায়। যুক্তিবাদ ও মানবতার আদর্শে জারিত হয়ে তিনি মধ্যযুগীয় অনগ্রসর সমাজকে আধুনিকতার আলোয় আলোকিত করেন। এজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ‘ভারত পথিক’ এবং আধুনিক গবেষকগণ তাঁকে ‘আধুনিক ভারতের জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ক. সমাজসংস্কারমূলক অবদান:
১. সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ (সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি):
তৎকালীন হিন্দু সমাজের সবচেয়ে নৃশংস প্রথা ছিল মৃত স্বামীর জ্বলন্ত চিতায় জীবিত বিধবা স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারা। ১৮১১ খ্রিস্টাব্দে নিজের অগ্রজ জগমোহনের মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতৃবধূ অলকমঞ্জরীর মর্মান্তিক সহমরণ রামমোহনকে গভীরভাবে ব্যথিত করে।
তিনি প্রাচীন সংস্কৃত শাস্ত্র ও বেদ ঘেঁটে প্রমাণ করেন যে মনু বা পরাশর সংহিতায় সতীদাহের বাধ্যতামূলক বিধান নেই।
তিনি রক্ষণশীলদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন এবং মহাশ্মশানে পাহারা বসানোর ব্যবস্থা করেন।
অবশেষে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় বড়লাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা ডিসেম্বর ১৭ নম্বর রেগুলেশন (Regulation XVII) পাস করে সতীদাহ প্রথাকে আইনত নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণা করেন।
২. নারী অধিকার ও মুক্তির পক্ষে সওয়াল:
রামমোহন নারীদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের কঠোর নিন্দা জানান এবং হিন্দু নারীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারের দাবি তুলে জোরালো প্রবন্ধ রচনা করেন।
৩. জাতিভেদ ও সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ:
তিনি জন্মভিত্তিক জাতিভেদ প্রথা এবং বর্ণভেদের তীব্র বিরোধিতা করেন। জাতিভেদহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার বার্তা দিতে তিনি প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থ ‘বজ্রসূচী’ বাংলায় অনুবাদ করেন।
খ. ধর্মান্দোলন ও সংস্কার:
১. একেশ্বরবাদের প্রচার ও গ্রন্থরচনা:
রামমোহন হিন্দুধর্মের পৌত্তলিকতা, পুরোহিততন্ত্র ও বহু ঈশ্বরবাদের কুসংস্কার দূর করে উপনিষদের মূল সত্য—পরমব্রহ্মের আরাধনা বা একেশ্বরবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চান। এই উদ্দেশ্যে ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে ফারসি ভাষায় ‘তুহফাত-উল-মুওয়াহহিদিন’ (একেশ্বরবাদীদের উপহার) নামক পুস্তক প্রকাশ করেন।
২. আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা (১৮১৫):
কলকাতায় আসার পর সমমনস্ক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি ‘আত্মীয় সভা’ গঠন করেন। এখানে ধর্মীয় গোঁড়ামি পরিহার করে বেদান্তের আলোকে একমেবাদ্বিতীয়ম্ ঈশ্বরভাবনা এবং সামাজিক কুসংস্কার নিয়ে নিয়মিত যুক্তিনির্ভর আলোচনা হতো।
৩. ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা (১৮২৮):
একেশ্বরবাদী উপাসনাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রামমোহন ১৮২৮ সালের ২০শে আগস্ট প্রতিষ্ঠা করেন ‘ব্রাহ্মসভা’ (যা ১৮৩০ সালে ট্রাস্ট ডিডের মাধ্যমে ‘ব্রাহ্মসমাজ’-এ রূপান্তরিত হয়)। এর দরজা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং কোনো ধরনের প্রতিমা পুজো এখানে নিষিদ্ধ ছিল।
গ. শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকতা:
রামমোহন উপলব্ধি করেছিলেন সামাজিক চেতনার আধুনিকীকরণের জন্য পাশ্চাত্য বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি ১৮২৩ সালে বড়লাট লর্ড আমহার্স্টকে চিঠি দিয়ে ভারতে সংস্কৃত শিক্ষার পরিবর্তে ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান। এছাড়া তিনি নিজ ব্যয়ে ‘অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল’ (১৮১৫) এবং ‘বেদান্ত কলেজ’ (১৮২৬) স্থাপন করেন। একই সাথে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দাবিতে তিনি ‘সম্বাদ কৌমুদী’ ও ফারসি পত্রিকা ‘মিরাত-উল-আখবার’ প্রকাশ করেন।
উপসংহার:
যদিও রামমোহনের আন্দোলন মূলত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের মধ্যেই বেশি সীমাবদ্ধ ছিল, তবুও অন্ধ শাস্ত্রীয় অন্ধকারের যুগে দাঁড়িয়ে একক সাহসিকতায় সামাজিক অচলায়তন ভাঙার যে সূচনা তিনি করেছিলেন, তা বাংলার নবজাগরণের ভিত্তিভূমি তৈরি করেছিল। তাই ঐতিহাসিক অমলেশ ত্রিপাঠী রামমোহনকে আধুনিক ভারতের প্রত্যুষের ‘প্রথম শুকতারা’ হিসেবে যথার্থই চিহ্নিত করেছেন।
PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)
সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ (১০০টি) , SAQ (১০০টি), ২ নম্বরের প্রশ্ন (৫০টি), ৪ নম্বরের প্রশ্ন (১৫টি), ৮ নম্বরের প্রশ্ন (৫টি) উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232
১) মাধ্যমিক ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায় – সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (Only for Subscribers)
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে। @ সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে।
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। @ সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন।
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।






















