protirodh-o-bidroho-question-answer-class-10

প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ প্রশ্নের উত্তর Class 10

প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ প্রশ্নের উত্তর Class 10 এখানে WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে দশম শ্রেণির মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করা হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই ইতিহাস প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।

আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি। 

প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ প্রশ্নের উত্তর Class 10 : 

 

১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)

  1. ‘চুয়াড় বিদ্রোহ’ (১৭৯৮-৯৯) মূলত কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?

    (ক) ছোটনাগপুর (খ) মেদিনীপুর ও জঙ্গলমহল (গ) সাঁওতাল পরগনা (ঘ) রংপুর

    উত্তর: (খ) মেদিনীপুর ও জঙ্গলমহল

  2. চুয়াড় বিদ্রোহের একজন অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন—

    (ক) বিরসা মুন্ডা (খ) সিধু (গ) দুর্জন সিংহ (ঘ) তিতুমীর

    উত্তর: (গ) দুর্জন সিংহ

  3. ‘রংপুর বিদ্রোহ’ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?

    (ক) ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে

    উত্তর: (ক) ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে

  4. রংপুর বিদ্রোহের সময় অত্যাচারী ইজারাদার কে ছিলেন?

    (ক) দেবী সিংহ (খ) কৃষ্ণদেব রায় (গ) শ্যাম সুন্দর (ঘ) হরনাথ রায়

    উত্তর: (ক) দেবী সিংহ

  5. কোল বিদ্রোহ (১৮৩১-৩২) প্রধানত কোথায় হয়েছিল?

    (ক) মেদিনীপুর (খ) ছোটনাগপুর অঞ্চল (গ) মালদা (ঘ) দিনাজপুর

    উত্তর: (খ) ছোটনাগপুর অঞ্চল

  6. কোল বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান নেতা কে ছিলেন?

    (ক) সুই মুন্ডা ও বুদ্ধু ভগত (খ) সিধু ও কানহু (গ) সেজো ও কালিয়া (ঘ) বিরসা মুন্ডা

    উত্তর: (ক) সুই মুন্ডা ও বুদ্ধু ভগত

  7. সাঁওতাল বিদ্রোহ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?

    (ক) ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে

    উত্তর: (ক) ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে

  8. সাঁওতাল বিদ্রোহের মূল কেন্দ্র বা অঞ্চলটির নাম কী ছিল?

    (ক) জঙ্গলমহল (খ) দামিন-ই-কোহ (গ) রাঁচি (ঘ) চেরো অঞ্চল

    উত্তর: (খ) দামিন-ই-কোহ

  9. সাঁওতালদের ভাষায় সাঁওতাল বিদ্রোহকে কী বলা হয়?

    (ক) উলগুলান (খ) হুল (গ) দিকু (ঘ) খেরওয়ারি

    উত্তর: (খ) হুল

  10. মুন্ডা বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?

    (ক) বিরসা মুন্ডা (খ) বুদ্ধু ভগত (গ) জয়া ভগত (ঘ) তিতুমীর

    উত্তর: (ক) বিরসা মুন্ডা

  11. ‘উলগুলান’ শব্দের অর্থ কী?

    (ক) স্বাধীন রাষ্ট্র (খ) ভয়ঙ্কর বিশৃঙ্খলা বা প্রবল আলোড়ন (গ) মুক্তি (ঘ) শান্তি

    উত্তর: (খ) ভয়ঙ্কর বিশৃঙ্খলা বা প্রবল আলোড়ন

  12. মুন্ডা সমাজে প্রচলিত যৌথ কৃষিব্যবস্থার নাম কী ছিল?

    (ক) খুতকাঠি প্রথা (খ) রায়তওয়ারি (গ) ভাগচাষ (ঘ) জমিদারি প্রথা

    উত্তর: (ক) খুতকাঠি প্রথা

  13. ‘ওয়াহাবি’ শব্দের মূল অর্থ কী?

    (ক) নবজাগরণ (খ) বিপ্লব (গ) বিদ্রোহ (ঘ) অত্যাচারী

    উত্তর: (ক) নবজাগরণ

  14. ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

    (ক) মহম্মদ আবদুল ওয়াহাব (খ) সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি (গ) তিতুমীর (ঘ) দুদু মিঞা

    উত্তর: (খ) সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি

  15. বাংলার ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন—

    (ক) তিতুমীর (মীর নিসার আলী) (খ) হাজী শরিয়তুল্লাহ (গ) দুদু মিঞা (ঘ) মহম্মদ মহসিন

    উত্তর: (ক) তিতুমীর (মীর নিসার আলী)

  16. তিতুমীর তাঁর বিখ্যাত বাঁশের কেল্লা কোথায় নির্মাণ করেছিলেন?

    (ক) পুণ্ড্রবর্ধন (খ) নারকেলবেড়িয়া গ্রামে (গ) রানাঘাট (ঘ) শ্রীরামপুর

    উত্তর: (খ) নারকেলবেড়িয়া গ্রামে

  17. ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবর্তক কে ছিলেন?

    (ক) দুদু মিঞা (খ) হাজী শরিয়তুল্লাহ (গ) তিতুমীর (ঘ) সৈয়দ আহমেদ

    উত্তর: (খ) হাজী শরিয়তুল্লাহ

  18. ‘ফরায়েজি’ শব্দের অর্থ কী?

    (ক) ঈশ্বর নির্দেশিত আবশ্যিক কর্তব্য (খ) স্বাধীনতা যুদ্ধ (গ) প্রতিবাদ (ঘ) ধার্মিক ব্যক্তি

    উত্তর: (ক) ঈশ্বর নির্দেশিত আবশ্যিক কর্তব্য

  19. হাজী শরিয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজি আন্দোলনের হাল ধরেন কে?

    (ক) তিতুমীর (খ) দুদু মিঞা (মহম্মদ মহসিন) (গ) নোয়া মিঞা (ঘ) গোলাম মাসুম

    উত্তর: (খ) দুদু মিঞা (মহম্মদ মহসিন)

  20. নীল বিদ্রোহ কত সালে শুরু হয়েছিল?

    (ক) ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে

    উত্তর: (ক) ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে

  21. নীল বিদ্রোহের সূচনা প্রথম কোথায় হয়?

    (ক) নদীয়ার চৌগাছা গ্রামে (খ) বারাসাত (গ) পাবনা (ঘ) মেদিনীপুর

    উত্তর: (ক) নদীয়ার চৌগাছা গ্রামে

  22. নীল বিদ্রোহের দুই বিশিষ্ট নেতা দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস কোন আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন?

    (ক) কোল বিদ্রোহ (খ) নীল বিদ্রোহ (গ) সাঁওতাল বিদ্রোহ (ঘ) ওয়াহাবি আন্দোলন

    উত্তর: (খ) নীল বিদ্রোহ

  23. ভারতে প্রথম অরণ্য আইন পাস হয়েছিল—

    (ক) ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে

    উত্তর: (ক) ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে

  24. ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের অরণ্য আইনে অরণ্যকে কয়টি স্তরে ভাগ করা হয়?

    (ক) দুটি (খ) তিনটি (গ) চারটি (ঘ) পাঁচটি

    উত্তর: (খ) তিনটি (সংরক্ষিত, সুরক্ষিত ও গ্রামীণ অরণ্য)

  25. সাঁওতাল পরগনা জেলা গঠিত হয়েছিল কোন বিদ্রোহের পর?

    (ক) মুন্ডা বিদ্রোহ (খ) সাঁওতাল বিদ্রোহ (গ) চুয়ার বিদ্রোহ (ঘ) নীল বিদ্রোহ

    উত্তর: (খ) সাঁওতাল বিদ্রোহ

  26. ‘দামিন-ই-কোহ’ কথাটির অর্থ কী?

    (ক) পাহাড়ের প্রান্তদেশ (খ) পাহাড়ের চূড়া (গ) গভীর জঙ্গল (ঘ) নদীমাতৃক অঞ্চল

    উত্তর: (ক) পাহাড়ের প্রান্তদেশ

  27. কোন ভাইসরয়ের আমলে নীল কমিশন (Indigo Commission) গঠিত হয়?

    (ক) লর্ড ডালহৌসি (খ) লর্ড ক্যানিং (গ) লর্ড কার্জন (ঘ) লর্ড রিপন

    উত্তর: (খ) লর্ড ক্যানিং (১৮৬০ খ্রি.)

  28. দাদন কথাটির অর্থ কী?

    (ক) কর বা খাজনা (খ) অগ্রিম অর্থ (গ) বেগার শ্রম (ঘ) জমির মালিকানা

    উত্তর: (খ) অগ্রিম অর্থ

  29. সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান নেতা কে ছিলেন?

    (ক) ভবানী পাঠক (খ) দুদু মিঞা (গ) সিধু (ঘ) বিরসা মুন্ডা

    উত্তর: (ক) ভবানী পাঠক

  30. সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত বিখ্যাত উপন্যাসটি হলো—

    (ক) দুর্গেশনন্দিনী (খ) আনন্দমঠ (গ) কপালকুণ্ডলা (ঘ) বিষবৃক্ষ

    উত্তর: (খ) আনন্দমঠ

@ প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

২. একটি বাক্যে উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

  1. ‘দিকু’ কাদের বলা হতো?

    উত্তর: সাঁওতাল ও মুন্ডাদের আদিবাসী এলাকায় বহিরাগত মহাজন, ব্যবসায়ী ও ইংরেজ কর্মচারীদের ‘দিকু’ বলা হতো।

  2. সাঁওতাল বিদ্রোহের দুজন প্রধান নেতার নাম লেখো।

    উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান দুই নেতা ছিলেন সিধু ও কানহু।

  3. রংপুর বিদ্রোহে কৃষকদের দ্বারা নির্বাচিত নেতার উপাধি কী ছিল?

    উত্তর: কৃষকরা নুরুলউদ্দিনকে নেতা নির্বাচন করে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধি দিয়েছিলেন।

  4. তিতুমীরের প্রধান সেনাপতির নাম কী ছিল?

    উত্তর: তিতুমীরের প্রধান সেনাপতি ছিলেন গোলাম মাসুম।

  5. কোন ইংরেজ সেনাপতি তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা কামানের গোলার আঘাতে ধ্বংস করেন?

    উত্তর: মেজর আলেকজান্ডার (বা কর্নেল স্টুয়ার্ট-এর সেনাদল) ১৮৩১ সালে বাঁশের কেল্লা ধ্বংস করেন।

  6. কার নির্দেশে ও পরিচালনায় নীল কমিশন (১৮৬০) গঠিত হয়েছিল?

    উত্তর: ছোটলাট জে. পি. গ্রান্টের উদ্যোগে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ডব্লিউ. এস. সিটন-কার-এর সভাপতিত্বে নীল কমিশন গঠিত হয়।

  7. নীলচাষের প্রধান দুটি পদ্ধতি কী কী ছিল?

    উত্তর: নীলচাষের প্রধান দুটি পদ্ধতি ছিল—’নিজ আবাদি’ (নীলকরের খাস জমিতে চাষ) এবং ‘রায়তি আবাদি’ (কৃষকের নিজস্ব জমিতে দাদন দিয়ে চাষ)।

  8. সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের একজন উল্লেখযোগ্য নারী নেত্রীর নাম লেখো।

    উত্তর: দেবী চৌধুরানী ছিলেন সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের একজন উল্লেখযোগ্য নারী নেত্রী।

  9. ‘ধরতি আবা’ কাকে বলা হতো এবং এর অর্থ কী?

    উত্তর: বিরসা মুন্ডাকে ‘ধরতি আবা’ বলা হতো; এর অর্থ ‘পৃথিবীর পিতা’ বা ‘জগতের পিতা’।

  10. কোল বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার আদিবাসীদের জন্য কোন স্বতন্ত্র প্রশাসনিক অঞ্চল গঠন করে?

    উত্তর: কোল বিদ্রোহের পর ‘দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি’ (South-Western Frontier Agency) গঠন করা হয়।

  11. ফরায়েজি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল?

    উত্তর: তৎকালীন পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলা ছিল ফরায়েজি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র।

  12. দুদু মিঞার একটি বিখ্যাত উক্তি কী ছিল?

    উত্তর: দুদু মিঞার বিখ্যাত উক্তি ছিল—”জমি ঈশ্বরের দান, তাই জমিতে কর বসানোর অধিকার কারও নেই।”

  13. চুয়াড় বিদ্রোহের প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল?

    উত্তর: মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত কর্ণগড় ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ছিল চুয়াড় বিদ্রোহের প্রধান কেন্দ্র।

  14. রানী শিরোমণি কেন স্মরণীয়?

    উত্তর: মেদিনীপুরের কর্ণগড়ের রানী শিরোমণি চুয়াড় বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য স্মরণীয়; তাঁকে ‘বাংলার লক্ষ্মীবাঈ’ বলা হয়।

  15. তারিকা-ই-মুহম্মদীয়া কথাটির অর্থ কী?

    উত্তর: ‘তারিকা-ই-মুহম্মদীয়া’ কথাটির অর্থ হলো হজরত মহম্মদের নির্দেশিত বিশুদ্ধ ধর্মীয় পথ।

  16. কোন আইনে অরণ্যবাসীদের বনের অধিকার সম্পূর্ণরূপে কেড়ে নেওয়া হয়?

    উত্তর: ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের দ্বিতীয় ভারতীয় অরণ্য আইনের মাধ্যমে।

  17. মুন্ডা বিদ্রোহ কত সালে ঘটেছিল?

    উত্তর: ১৮৯৯ থেকে ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে মুন্ডা বিদ্রোহ (উলগুলান) ঘটেছিল।

  18. কার্ল মার্ক্স তাঁর কোন রচনায় সাঁওতাল বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম গণসংগ্রাম বলে উল্লেখ করেছেন?

    উত্তর: তাঁর ‘নোটস অন ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি’ (Notes on Indian History) গ্রন্থে।

  19. পাবনা কৃষক বিদ্রোহ কত সালে হয়েছিল?

    উত্তর: ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলার পাবনা জেলায় জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিল।

  20. নীল বিদ্রোহের সময় হিন্দু পেট্রিয়ট পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

    উত্তর: নির্ভীক সাংবাদিক হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন তৎকালীন হিন্দু পেট্রিয়ট পত্রিকার সম্পাদক।

@ প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৩. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ২)

১. ফরায়েজি আন্দোলন কি নিছক একটি ধর্মীয় আন্দোলন ছিল?

উত্তর: প্রারম্ভিক পর্বে ফরায়েজি আন্দোলন ইসলাম ধর্মের কুসংস্কার দূর করে কোরান নির্দেশিত পথ অনুসরণের ধর্মীয় আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়েছিল। তবে হাজী শরিয়তুল্লাহর পুত্র দুদু মিঞার নেতৃত্বে এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপ পরিগ্রহ করে। তিনি জমিদার ও নীলকরদের অবৈধ কর আদায়ের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং ঘোষণা করেন যে “সমস্ত জমি ঈশ্বরের, তাই কাউকে খাজনা দেওয়া অন্যায়।” ফলে এটি দ্রুত কৃষক-শোষণ বিরোধী আন্দোলনের রূপ নেয়।

২. ভারতে কোম্পানি শাসনামলে অরণ্য আইন প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: ব্রিটিশ সরকার ১৮৬৫ ও ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় অরণ্য আইন পাস করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল:

  • ভারতে রেললাইন পাতার জন্য প্রয়োজনীয় স্লিপার তৈরি এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের জন্য মূল্যবান সেগুন ও শাল কাঠের ওপর একচ্ছত্র রাষ্ট্রীয় অধিকার কায়েম করা।

  • বনজ সম্পদের ওপর আদিবাসীদের চিরাচরিত ও প্রথাগত অধিকার কেড়ে নিয়ে বনভূমিকে সরকারের রাজস্ব আয়ের উৎসে পরিণত করা।

৩. ‘দামিন-ই-কোহ’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ‘দামিন-ই-কোহ’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ ‘পাহাড়ের প্রান্তদেশ’। ১৮৩২-৩৩ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার রাজমহল পাহাড়ের উপত্যকা অঞ্চলকে সাঁওতালদের স্থায়ী বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয় এবং এই অঞ্চলের নাম দেয় ‘দামিন-ই-কোহ’। সাঁওতালরা জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে চাষযোগ্য জমি তৈরি করেছিল, যদিও পরবর্তীকালে এই অঞ্চলেই মহাজন ও ইংরেজদের শোষণের বিরুদ্ধে সাঁওতাল বিদ্রোহ ঘটেছিল।

৪. কোল বিদ্রোহের (১৮৩১-৩২) দুটি প্রধান কারণ লেখো।

উত্তর:

  • ভূমি স্বত্ব হারানো: কোলদের চিরাচরিত জমি বহিরাগত হিন্দু, মুসলিম ও শিখ মহাজন ও ব্যবসায়ীদের হাতে ইজারা দেওয়া হয়, ফলে কোলরা নিজস্ব জমিতেই ভূমিদাসে পরিণত হয়।

  • অতিরিক্ত কর ও শোষণ: ব্রিটিশ সরকার আফিম চাষে বাধ্য করে এবং মদ তৈরির ওপর ‘হাঁড়িয়া কর’ (পোচুই কর) বসিয়ে দরিদ্র কোলদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেয়।

৫. উলগুলান (মুন্ডা বিদ্রোহ) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ১৮৯৯-১৯০০ খ্রিস্টাব্দে রাঁচি ও ছোটনাগপুর অঞ্চলে বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে সংঘটিত মুন্ডা বিদ্রোহ ইতিহাসে ‘উলগুলান’ নামে পরিচিত। মুন্ডা ভাষায় উলগুলান শব্দের অর্থ হলো ‘ভয়ঙ্কর বিশৃঙ্খলা’ বা ‘প্রবল আলোড়ন’। ব্রিটিশ সরকার, মহাজন ও ঠিকাদারদের যৌথ শোষণের বিরুদ্ধে মুন্ডারা তাঁদের চিরাচরিত ‘খুতকাঠি প্রথা’ (জমির যৌথ মালিকানা) রক্ষা করতে এই সহিংস সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

৬. তিতুমীর কেন বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন?

উত্তর: তিতুমীর অত্যাচারী জমিদার রামনারায়ণ ও কৃষ্ণদেব রায়ের শোষণ এবং ব্রিটিশ নীলকরদের হাত থেকে স্থানীয় দরিদ্র মুসলিম ও হিন্দু কৃষকদের রক্ষা করার জন্য বারাসাতের নারকেলবেড়িয়া গ্রামে একটি সুদৃঢ় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। এটি ছিল তিতুমীরের নিজস্ব স্বাধীন প্রশাসন পরিচালনার প্রধান কেন্দ্র এবং ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা ও সশস্ত্র প্রতিরোধের মূল দুর্গ।

৭. চুয়ার বিদ্রোহকে কেন কেউ কেউ ভারতের প্রথম কৃষক বিদ্রোহ বলে মনে করেন?

উত্তর: ব্রিটিশরা জঙ্গলমহলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং জমি বাজেয়াপ্ত করার যে নীতি নিয়েছিল, তার প্রতিবাদে পাইকান জমির স্বত্ব হারানো স্থানীয় কৃষক ও পাইকরা অস্ত্র তুলে নিয়েছিল। এই বিদ্রোহে কোনো ধর্মীয় রং ছিল না; বেঁচে থাকার অধিকার ও কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে সাধারণ কৃষকরাই জমিদারদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৮ শতকের শেষে প্রথম কোম্পানির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলে।

৮. নীল বিদ্রোহে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর: নীল বিদ্রোহ ছিল ভারতের প্রথম কৃষক আন্দোলন যেখানে শিক্ষিত বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজ সরাসরি কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘হিন্দু পেট্রিয়ট’ পত্রিকায় নীলকরদের নারকীয় অত্যাচারের খবর নিয়মিত প্রকাশ করতেন, দীনবন্ধু মিত্র ‘নীলদর্পণ’ নাটক লিখে সমাজের বিবেক নাড়িয়ে দেন এবং শিশিরকুমার ঘোষের মতো সাংবাদিকরা কৃষকদের সংগঠিত হওয়ার বার্তা প্রচার করেছিলেন।

৯. সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ কেন ব্যর্থ হয়েছিল?

উত্তর:

  • সুসংহত নেতৃত্বের অভাব: ভবানী পাঠক, মজনু শাহ, দেবী চৌধুরানী প্রমুখ নিজ নিজ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করলেও তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের অভাব ছিল।

  • আধুনিক অস্ত্রের অভাব: বিদ্রোহীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত থাকায় কোম্পানির আধুনিক কামান ও রাইফেলের সুপ্রশিক্ষিত সামরিক বাহিনীর সামনে টিকে থাকতে পারেনি।

১০. খুতকাঠি প্রথা কী এবং এটি কীভাবে মুন্ডা বিদ্রোহের কারণ হয়?

উত্তর: মুন্ডা সমাজব্যবস্থায় বনজঙ্গল পরিষ্কার করে তৈরি করা যৌথ কৃষিজমির যৌথ মালিকানাকে ‘খুতকাঠি প্রথা’ বলা হতো। এই ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত কোনো জমিদারি বা মালিকানা থাকত না। ব্রিটিশ সরকার জমিদারি বন্দোবস্ত চালু করে খুতকাঠি প্রথা বাতিল করে দিলে বহিরাগত মহাজন ও জমিদাররা মুন্ডাদের জমি কেড়ে নেয়। এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঐতিহ্য ধ্বংস হওয়াই মুন্ডা বিদ্রোহের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

@ প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৪. বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৪)

প্রশ্ন ১: ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সাঁওতালরা কেন বিদ্রোহের পথ বেছে নিয়েছিল?

উত্তর:

১৮৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত সাঁওতাল বিদ্রোহ (হুল) ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী আদিবাসী প্রতিরোধ। সরল ও শান্ত সাঁওতালরা নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য বিদ্রোহে বাধ্য হয়েছিল:

  • দিকুদের অমানবিক শোষণ: সাঁওতালরা রক্ত জল করে রাজমহল পাহাড়ের জঙ্গল পরিষ্কার করে ‘দামিন-ই-কোহ’ অঞ্চল চাষযোগ্য করেছিল। কিন্তু বহিরাগত ব্যবসায়ী ও মহাজনরা (দিকু) সেখানে প্রবেশ করে ৫০% থেকে ৫০০% পর্যন্ত চড়া সুদে ঋণ দিত এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সমস্ত ফসল কেড়ে নিত।

  • ভুয়ো বাটখারার ব্যবহার: কেনাবেচার ক্ষেত্রে মহাজনরা দুটি অসদুপায় অবলম্বন করত—জিনিস কেনার সময় ভারী বাটখারা ‘কেনারাম’ এবং জিনিস বিক্রির সময় হালকা বাটখারা ‘বেচারাম’ ব্যবহার করে সাঁওতালদের প্রতিনিয়ত ঠকাত।

  • জমি থেকে উৎখাত ও বেগার শ্রম: ঋণ শোধ করতে না পারলে মহাজনরা সাঁওতালদের জমি দখল করে নিত এবং তাদের ক্রীতদাসে (কমিয়াটি ও হারওয়াহি প্রথা) পরিণত করত। এছাড়া স্থানীয় রেলপথ তৈরির কাজে তাদের জোরপূর্বক বিনা মজুরিতে বেগার খাটানো হতো।

  • ধর্ম ও সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপ: ইউরোপীয় খ্রিস্টান মিশনারিরা সাঁওতালদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করত এবং ব্রিটিশ কর্মচারীরা তাদের সামাজিক রীতি ও নারীদের সম্মানহানি করত।

এই সামগ্রিক অস্তিত্বের সংকট থেকে মুক্তি পেতেই সিধু, কানহু, চাঁদ ও ভৈরবের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ হাজার সাঁওতাল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

প্রশ্ন ২: নীল বিদ্রোহের (১৮৫৯-৬০) প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তর:

ব্রিটিশ ভারতে উনিশ শতকের অন্যতম সফল ও সুসংগঠিত কৃষক আন্দোলন ছিল নীল বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি ছিল নিম্নরূপ:

  • অহিংস থেকে সশস্ত্র রূপ ও ধর্মীয় ঐক্য: হিন্দু ও মুসলিম কৃষকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। প্রথমদিকে অহিংস উপায়ে চাষ বন্ধ করা ও ধর্মঘট দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে যখন লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে আক্রমণ করা হয়, তখন কৃষকরা বর্শা, ধনুক ও লাঠি নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

  • নেতৃত্বের গণতান্ত্রিক চরিত্র: এই বিদ্রোহে কোনো রাজা বা জমিদারের একক কর্তৃত্ব ছিল না। দিগম্বর বিশ্বাস, বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস, রফিক মণ্ডল, রামরতন মল্লিকদের মতো সাধারণ গ্রামীণ জোতদার ও কৃষকদের সম্মিলিত নেতৃত্বে আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল।

  • আইনি ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই: এটিই প্রথম বিদ্রোহ যেখানে কৃষকরা শুধু মাঠেই লড়াই করেনি, তারা ব্রিটিশ আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তারা নীলচাষের চুক্তি খতিয়ে দেখে আদালতে মোকদ্দমা লড়েছিল।

  • শিক্ষিত মধ্যবিত্তের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন: হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সাংবাদিকতা, দীনবন্ধু মিত্রের নাটক ‘নীলদর্পণ’ এবং মধুসূদন দত্তের ইংরেজি অনুবাদ ইংরেজদের মুখোস খুলে দেয়। খ্রিস্টান মিশনারি রেভারেন্ড জেমস লং স্বয়ং কৃষকদের পক্ষে দাঁড়িয়ে কারাবরণ করেছিলেন।

এই আন্দোলনের ব্যাপক চাপের মুখেই ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ সালে নীল কমিশন গঠন করতে এবং শেষ পর্যন্ত কৃষকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে নীলচাষ করানো বেআইনি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

প্রশ্ন ৩: তিতুমীরের বারাসাত বিদ্রোহের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:

উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলায় ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের অন্যতম প্রধান মাইলফলক ছিল মীর নিসার আলী বা তিতুমীরের পরিচালিত বারাসাত বিদ্রোহ (১৮৩০-৩১)। আপাতদৃষ্টিতে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন হলেও এটি ছিল মূলত কৃষক-শ্রমিকদের ঔপনিবেশিকতাবিরোধী এক অনন্য লড়াই।

  • শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: তিতুমীর কেবল ব্রিটিশদের নয়, স্থানীয় অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। বিশেষত পুড়ার জমিদার কৃষ্ণদেব রায় মুসলমানদের দাড়ির ওপর বৈষম্যমূলক কর বসালে তিতুমীর কৃষকদের নিয়ে সেই অবৈধ কর দিতে সরাসরি অস্বীকার করেন।

  • বিকল্প সার্বভৌম প্রশাসন প্রতিষ্ঠা: তিতুমীর নারকেলবেড়িয়া গ্রামে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ২৪ পরগনা, নদীয়া ও ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘোষণা করেন। তিনি নিজেকে ‘বাদশাহ’, মইনুদ্দিনকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ এবং বিশ্বস্ত গোলাম মাসুমকে ‘সেনাপতি’ নিযুক্ত করে একটি সমান্তরাল স্বাধীন প্রশাসন পরিচালনা শুরু করেন।

  • হিন্দু-মুসলিম কৃষকদের মিলনমঞ্চ: জমিদাররা একে নিছক ‘মুসলিম দাঙ্গা’ হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করলেও বাস্তবে বহু হিন্দু তাঁতি, চর্মকার ও প্রান্তিক কৃষক তিতুমীরের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কারণ তাঁদের অভিন্ন শত্রু ছিল নীলকর ও অত্যাচারী জমিদাররা।

১৮৩১ সালের ১৯শে নভেম্বর কামানের গোলায় তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ধ্বংস ও তাঁর বীরোচিত মৃত্যু হলেও এই বিদ্রোহ ভবিষ্যৎ ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে সাধারণ মেহনতি মানুষের আত্মত্যাগের এক অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠে।

@ প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৫. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৮)

প্রশ্ন: নীল বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো। এই আন্দোলনে সংবাদপত্র ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর:

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো ১৮৫৯-৬০ খ্রিস্টাব্দের নীল বিদ্রোহ। নদীয়া জেলার চৌগাছা গ্রাম থেকে শুরু হয়ে এই বিদ্রোহ খুব দ্রুত সমগ্র বাংলা ও বিহারের নীলচাষের অঞ্চলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল।

ক. নীল বিদ্রোহের কারণসমূহ:

১. দাদন প্রথা ও জবরদস্তি চুক্তি:

নীলকর সাহেবরা কৃষকদের সামান্য কিছু টাকা অগ্রিম বা ‘দাদন’ দিত। একবার কোনো নিরক্ষর কৃষক দাদন নিলে তাঁর পুরুষানুক্রমে সেই ঋণের ফাঁদ থেকে মুক্তি মিলত না। এমনকি উর্বর ধানের জমিতে জোরপূর্বক খাদ্যশস্যের বদলে কৃষকদের অপছন্দের নীলচাষ করতে বাধ্য করা হতো।

২. অর্থনৈতিক ক্ষতি ও বৈষম্য:

নীল চাষ করে কৃষকদের কোনো লাভ হতো না, বরং চরম লোকসান হতো। এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করে কৃষক যে আয় করত, নীল চাষ করলে তার অর্ধেকও পাওয়া যেত না। নীলকররা বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে সেই নীল জোর করে কিনে নিত।

৩. নীলকরদের নারকীয় সন্ত্রাস:

চাষ করতে অস্বীকার করলে কৃষকদের ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হতো, গবাদিপশু লুট করা হতো এবং চাষিদের ধরে এনে নীলকুঠিতে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আটক রেখে চাবুক (যাকে কৃষকরা বলত ‘শ্যামচাঁদ’) দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। নারীদের ওপর পাশবিক অত্যাচার করা হতো।

৪. পক্ষপাতদুষ্ট বিচারব্যবস্থা:

তৎকালীন ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারকরা নিজেরাও ইউরোপীয় হওয়ার কারণে নীলকরদের অপরাধের কোনো শাস্তি দিতেন না। আদালত নীলকরদের নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল।

খ. শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও সংবাদপত্রের ভূমিকা:

নীল বিদ্রোহ ছিল ভারতের প্রথম আন্দোলন যেখানে শহরের আধুনিক শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় প্রত্যন্ত গ্রামের চাষিদের সমর্থনে সরাসরি লেখনী ধরেছিল।

  • হিন্দু পেট্রিয়ট পত্রিকার অবদান: হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় তাঁর নিজস্ব পত্রিকা ‘হিন্দু পেট্রিয়ট’-এ নির্ভীকভাবে নীলকরদের বর্বরতার চিত্র তুলে ধরতেন। তিনি দরিদ্র কৃষকদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিতেন এবং তাঁদের হয়ে আদালতে মামলা পরিচালনা করতেন।

  • নীলদর্পণ নাটক ও জনসচেতনতা: ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে দীনবন্ধু মিত্রের রচিত ‘নীলদর্পণ’ নাটক সমকালীন সমাজের চোখ খুলে দেয়। রাইচরণ, ক্ষেত্রমণির ওপর অত্যাচারের দৃশ্য দেখে দেশবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত এই নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন এবং এটি রেভারেন্ড জেমস লং-এর নামে প্রকাশিত হয়। এজন্য লং সাহেবের এক হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল (কালীপ্রসন্ন সিংহ আদালতে সেই জরিমানার অর্থ প্রদান করেন)।

  • অন্যান্য বুদ্ধিজীবী: শিশিরকুমার ঘোষ, মনোমোহন ঘোষ এবং গিরিশচন্দ্র ঘোষের মতো ব্যক্তিরা ব্রিটিশ সরকারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন এবং কৃষকদের অধিকার নিয়ে আইনি সওয়াল করেন।

গ. নীল বিদ্রোহের ফলাফল ও গুরুত্ব:

১. নীল কমিশন গঠন (১৮৬০): বিদ্রোহের তীব্রতায় বাধ্য হয়ে ব্রিটিশ সরকার চার্লস সিটন-কারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের ‘নীল কমিশন’ গঠন করে। কমিশন স্বীকার করে যে নীলচাষ অত্যন্ত লাভহীন এবং কৃষকদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

২. কৃষকদের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা: ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দের নির্দেশনামায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে নীলচাষ সম্পূর্ণ কৃষকের ইচ্ছাধীন; কোনো চাষিকে জোর করে নীলচাষে বাধ্য করা যাবে না। এরপর বাংলায় নীলচাষ কার্যত চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

৩. জাতীয়তাবাদের স্ফুরণ: ঐতিহাসিক ঐতিহাসিক অমলেশ ত্রিপাঠী ও সুপ্রিয় মুন্সীর মতে, নীল বিদ্রোহ ছিল পরবর্তীকালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে পরিচালিত জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক বাস্তববাদী মহড়া। এই বিদ্রোহ সাধারণ কৃষক ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করে ভবিষ্যৎ জাতীয়তাবাদের পথকে প্রশস্ত করেছিল।

উপসংহার:

নীল বিদ্রোহ ছিল ঔপনিবেশিক শোষণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপামর বাঙালি সমাজের সম্মিলিত জয়। এই লড়াই প্রমাণ করেছিল যে গ্রামীণ কৃষক এবং নাগরিক বুদ্ধিজীবী যদি একজোট হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তবে অত্যাচারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকেও মাথা নত করতে বাধ্য করা যায়।

PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)

প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ প্রশ্নের উত্তর Class 10 প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ (১০০টি) , SAQ (১০০টি), ২ নম্বরের প্রশ্ন (৫০টি), ৪ নম্বরের প্রশ্ন (১৫টি) উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232

  

১) মাধ্যমিক ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায় – প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ প্রশ্নের উত্তর Class 10 (Only for Subscribers) 

Click here to view pdf file

সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে

তালনবমী MCQ

আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে। @ প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।

জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে।

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। @ প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।

পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।

আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন।

আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করার প্রচেষ্টা করবেন না !
Scroll to Top