বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর Class 10
বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর Class 10 এখানে WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে দশম শ্রেণির মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করা হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই ইতিহাস প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর Class 10 :
১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
গান্ধীজির নেতৃত্বে ভারতে প্রথম সফল সত্যাগ্রহ আন্দোলন কোনটি?
(ক) খেদা সত্যাগ্রহ (খ) চম্পারণ সত্যাগ্রহ (গ) আহমেদাবাদ মিল ধর্মঘট (ঘ) রাওলাট সত্যাগ্রহ
উত্তর: (খ) চম্পারণ সত্যাগ্রহ (১৯১৭ খ্রি.)
চম্পারণে প্রচলিত ‘তিনকাঠিয়া ব্যবস্থা’ অনুযায়ী কত অংশে নীলচাষ বাধ্যতামূলক ছিল?
(ক) বিঘাপ্রতি ৩ কাঠা (খ) বিঘাপ্রতি ৫ কাঠা (গ) বিঘাপ্রতি ১০ কাঠা (ঘ) বিঘাপ্রতি ২ কাঠা
উত্তর: (ক) বিঘাপ্রতি ৩ কাঠা (৩/২০ অংশ)
চম্পারণে কৃষকদের দুর্দশা সরেজমিনে দেখার জন্য গান্ধীজিকে কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন?
(ক) রাজকুমার শুক্ল (খ) বাবা রামচন্দ্র (গ) বল্লভভাই প্যাটেল (ঘ) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
উত্তর: (ক) রাজকুমার শুক্ল
‘একা’ বা একতা আন্দোলন কোথায় শুরু হয়েছিল?
(ক) যুক্তপ্রদেশে (উত্তরপ্রদেশ) (খ) বিহারে (গ) গুজরাটে (ঘ) বাংলায়
উত্তর: (ক) যুক্তপ্রদেশে (১৯২১-২২ খ্রি.)
একা আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
(ক) মাদারি পাসি (খ) বাবা রামচন্দ্র (গ) স্বামী বিদ্যানন্দ (ঘ) অল্লুরি সীতারাম রাজু
উত্তর: (ক) মাদারি পাসি
বারদোলি সত্যাগ্রহ কত সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
(ক) ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (খ) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে
বারদোলি সত্যাগ্রহের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
(ক) মহাত্মা গান্ধী (খ) বল্লভভাই প্যাটেল (গ) জওহরলাল নেহরু (ঘ) ইন্দুলাল যাজ্ঞিক
উত্তর: (খ) বল্লভভাই প্যাটেল
বল্লভভাই প্যাটেলকে ‘সর্দার’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন কারা?
(ক) বারদোলির মহিলারা (খ) মহাত্মা গান্ধী (গ) সুভাষচন্দ্র বসু (ঘ) জওহরলাল নেহরু
উত্তর: (ক) বারদোলির মহিলারা (গান্ধীজির মাধ্যমে ঘোষিত)
সারা ভারত কিষাণ সভা (AIKS) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (গ) ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে (লখনউতে)
সারা ভারত কিষাণ সভার প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
(ক) এন. জি. রঙ্গ (খ) স্বামী সহজানন্দ সরস্বতী (গ) ই. এম. এস. নাম্বুদ্রিপাদ (ঘ) পি. সি. যোশী
উত্তর: (খ) স্বামী সহজানন্দ সরস্বতী
অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (ক) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে (৩১শে অক্টোবর)
AITUC-এর প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
(ক) লালা লাজপত রায় (খ) দেওয়ান চমন লাল (গ) চিত্তরঞ্জন দাশ (ঘ) বাল গঙ্গাধর তিলক
উত্তর: (ক) লালা লাজপত রায়
কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক (Comintern)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কে ছিলেন?
(ক) কার্ল মার্ক্স (খ) ভি. আই. লেনিন (গ) জোসেফ স্টালিন (ঘ) এম. এন. রায়
উত্তর: (খ) ভি. আই. লেনিন
মানবেন্দ্রনাথ রায়ের প্রকৃত নাম কী ছিল?
(ক) নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য (খ) তারকনাথ দাস (গ) সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (ঘ) রাসবিহারী বসু
উত্তর: (ক) নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
ভারতের বাইরে প্রথম ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
(ক) মস্কোয় (খ) তাসখন্দে (গ) বার্লিনে (ঘ) সান ফ্রান্সিসকোয়
উত্তর: (খ) তাসখন্দে (১৯২০ সালের ১৭ই অক্টোবর)
ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
(ক) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (খ) ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (কানপুরে, সত্যভক্তের সম্মেলনে)
ব্রিটিশ সরকার কমিউনিস্টদের দমন করতে কত সালে ‘মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করে?
(ক) ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (খ) ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে
মীরাট ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত দুই বিশিষ্ট ব্রিটিশ কমিউনিস্ট নেতা কারা ছিলেন?
(ক) ফিলিপ স্প্রাট ও বেঞ্জামিন ব্রাডলি (খ) লর্ড কার্জন ও চার্লস টেগার্ট (গ) অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম ও ওয়েডারবার্ন (ঘ) জন সাইমন ও চার্লস উড
উত্তর: (ক) ফিলিপ স্প্রাট ও বেঞ্জামিন ব্রাডলি
‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজান্টস পার্টি’ (WPP) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (ক) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে
কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল (CSP) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (খ) ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে (বোম্বাইয়ে)
কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন?
(ক) জয়প্রকাশ নারায়ণ (খ) রামমনোহর লোহিয়া (গ) আচার্য নরেন্দ্র দেব (ঘ) অচ্যুত পট্টবর্ধন
উত্তর: (ক) জয়প্রকাশ নারায়ণ (সভাপতি ছিলেন আচার্য নরেন্দ্র দেব)
‘লাঙ্গল’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
(ক) কাজী নজরুল ইসলাম (খ) মুজফ্ফর আহমদ (গ) সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) হেমন্তকুমার সরকার
উত্তর: (ক) কাজী নজরুল ইসলাম (পরিচালক ছিলেন মুজফ্ফর আহমদ)
‘গণবাণী’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
(ক) মুজফ্ফর আহমদ (খ) কাজী নজরুল ইসলাম (গ) এস. এ. ডাঙ্গে (ঘ) পিসি যোশী
উত্তর: (ক) মুজফ্ফর আহমদ
তেভাগা আন্দোলন কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
(ক) বাংলায় (খ) বিহারে (গ) কেরালায় (ঘ) অন্ধ্রপ্রদেশে
উত্তর: (ক) বাংলায় (১৯৪৬-৪৭ খ্রি.)
তেভাগা আন্দোলনের মূল দাবি কী ছিল?
(ক) উৎপন্ন ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভাগচাষিকে দেওয়া (খ) উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক দেওয়া (গ) সম্পূর্ণ খাজনা মকুব (ঘ) জমিদারি প্রথা বজায় রাখা
উত্তর: (ক) উৎপন্ন ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভাগচাষিকে দেওয়া
তেলেঙ্গানা আন্দোলন কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
(ক) হায়দরাবাদ রাজ্যে (খ) মাদ্রাজ প্রদেশে (গ) মহীশূরে (ঘ) ত্রিবাঙ্কুরে
উত্তর: (ক) নিজামশাসিত হায়দরাবাদ রাজ্যে (১৯৪৬-৫১ খ্রি.)
রয়াল ইন্ডিয়ান নেভি বা নৌবিদ্রোহ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
(ক) ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (গ) ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই ফেব্রুয়ারি
কোন জাহাজে নৌবিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল?
(ক) আই.এন.এস. বিক্রান্ত (খ) এইচ.এম.আই.এস. তলোয়ার (গ) আই.এন.এস. বিরাট (ঘ) এম.ভি. আকবর
উত্তর: (খ) এইচ.এম.আই.এস. তলোয়ার
মোপলা বিদ্রোহ (১৯২১) কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
(ক) মালাবার উপকূলে (কেরালা) (খ) কোরোমণ্ডল উপকূলে (গ) কোঙ্কণ উপকূলে (ঘ) ওড়িশায়
উত্তর: (ক) মালাবার উপকূলে (কেরালা)
র্যাডিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (RDP) কে প্রতিষ্ঠা করেন?
(ক) মানবেন্দ্রনাথ রায় (খ) সুভাষচন্দ্র বসু (গ) পি. সি. যোশী (ঘ) অজয় ঘোষ
উত্তর: (ক) মানবেন্দ্রনাথ রায় (১৯৪০ খ্রি.)
@ বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
২. একটি বাক্যে উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
তিনকাঠিয়া প্রথা কোন ফসলের সঙ্গে যুক্ত ছিল?
উত্তর: নীলচাষের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
উত্তরপ্রদেশে কিষাণ সভা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এমন একজন সন্ন্যাসী নেতার নাম লেখো।
উত্তর: বাবা রামচন্দ্র।
বারদোলি তালুকটি বর্তমান ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
উত্তর: গুজরাট রাজ্যে।
সারা ভারত কিষাণ সভার প্রথম সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তর: অধ্যাপক এন. জি. রঙ্গ।
ভারতে প্রথম মে দিবস (May Day) কবে এবং কোথায় পালিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১লা মে মাদ্রাজে সিঙ্গারাভেলু চেত্তিয়ারের নেতৃত্বে পালিত হয়েছিল।
ভারতের প্রথম ট্রেড ইউনিয়ন কোনটি?
উত্তর: ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে বি. পি. ওয়াদিয়া প্রতিষ্ঠিত ‘মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন’।
আহমেদাবাদ টেক্সটাইল লেবার অ্যাসোসিয়েশন (মজুর মহাজন) কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধী।
কানপুর ষড়যন্ত্র মামলা কত সালে দায়ের করা হয়েছিল?
উত্তর: ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে।
মীরাট ষড়যন্ত্র মামলায় মোট কতজন শ্রমিক ও কমিউনিস্ট নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল?
উত্তর: মোট ৩১ জন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল বা কমিন্টার্নে যোগ দেওয়া প্রথম ভারতীয় কে ছিলেন?
উত্তর: মানবেন্দ্রনাথ রায় (এম. এন. রায়)।
কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দলের মুখপত্রটির নাম কী ছিল?
উত্তর: ‘কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট’ (সম্পাদক ছিলেন রামমনোহর লোহিয়া)।
তেভাগা আন্দোলনের প্রধান স্লোগানগুলি কী ছিল?
উত্তর: “নিজ খোলানে ধান তোলো”, “আধি নয়, তেভাগা চাই” এবং “করজ ধানের সুদ নাই”।
তেভাগা আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট নারী নেত্রীর নাম লেখো।
উত্তর: বিমলা মাজি (বা ইলা মিত্র/রানি মিত্র দাসগুপ্ত)।
তেলেঙ্গানা আন্দোলনের সময় হায়দরাবাদের শাসক কে ছিলেন?
উত্তর: নিজাম মীর ওসমান আলি খান।
নিজামের নিজস্ব সামন্ততান্ত্রিক সশস্ত্র গুণ্ডাবাহিনীর নাম কী ছিল?
উত্তর: রাজাকার বাহিনী (নেতৃত্বে ছিলেন কাসিম রিজভি)।
মোপলারা মূলত কারা ছিলেন?
উত্তর: মালাবার উপকূলের দরিদ্র মুসলিম কৃষক ও খেতমজুর।
হালিপদ্ধতি কী ছিল?
উত্তর: বারদোলির দুবলা ও কালিপরাজ সম্প্রদায়ের মানুষদের বংশানুক্রমিক দাসত্ব বা বেগার খাটার এক অমানবিক প্রথা।
গান্ধীজির ‘ট্রাস্টিশিপ’ বা অছি পরিষদের মূল নীতি কী ছিল?
উত্তর: মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে শ্রেণিদ্বন্দ্বের বদলে মিল মালিকরা নিজেদের শ্রমিকদের কল্যাণে নিয়োজিত অভিভাবক বা ‘অছি’ মনে করবেন।
ফরওয়ার্ড ব্লক দল কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ৩রা মে সুভাষচন্দ্র বসু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভারতের কোন রাজনৈতিক দলকে ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৪ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল?
উত্তর: ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিকে (CPI)।
@ বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৩. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ২)
১. চম্পারণ সত্যাগ্রহের (১৯১৭) ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী ছিল?
উত্তর: বিহারের চম্পারণে ইউরোপীয় নীলকরদের তিনকাঠিয়া প্রথার বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে এই আন্দোলন পরিচালিত হয়। এর গুরুত্ব হলো:
এটি ছিল ভারতের মাটিতে গান্ধীজির প্রথম সফল সত্যাগ্রহ পরীক্ষা, যা তাঁকে ভারতীয় রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বের সারিতে নিয়ে আসে।
আন্দোলনের চাপে সরকার কমিশন গঠন করতে বাধ্য হয় এবং কৃষকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক নীলচাষের অবসান ঘটে ও অবৈধ করের ২৫% ফেরত দেওয়া হয়।
২. একা আন্দোলন বা একতা আন্দোলন কেন শুরু হয়েছিল?
উত্তর: ১৯২১-২২ সালে উত্তরপ্রদেশের হরদোই, রায়বেরিলি ও সীতাপুরে একা আন্দোলন শুরু হয়। জমিদারদের মাত্রাতিরিক্ত খাজনা বৃদ্ধি, বেআইনি নজরানা আদায় এবং কৃষকদের ওপর বেগার খাটার জুলুমের বিরুদ্ধে কৃষকরা এই আন্দোলন শুরু করেন। তাঁরা ধর্মীয় শপথ নিয়ে একতাবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করতেন বলেই এর নাম ‘একা আন্দোলন’।
৩. বারদোলি সত্যাগ্রহের মূল কারণ কী ছিল?
উত্তর: ১৯২৮ সালে গুজরাটের সুরাট জেলার বারদোলি তালুকে প্রবল খরা ও ফসলের দাম পড়ে যাওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশ বোম্বাই প্রেসিডেন্সি সরকার ভূমিরাজস্বের হার প্রায় ২২% থেকে বাড়িয়ে ৩০% করে দেয়। এই অযৌক্তিক ও মাত্রাতিরিক্ত খাজনা বৃদ্ধির প্রতিবাদে বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে কৃষকরা খাজনা বন্ধের আন্দোলন শুরু করেন।
৪. সারা ভারত কিষাণ সভা (১৯৩৬) প্রতিষ্ঠার দুটি প্রধান লক্ষ্য লেখো।
উত্তর: স্বামী সহজানন্দ সরস্বতীর সভাপতিত্বে লখনউতে গঠিত এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল:
সর্বভারতীয় স্তরে কৃষক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে ঔপনিবেশিক শোষণ ও দেশীয় জমিদারি ব্যবস্থার বিলোপ ঘটানো।
কৃষকদের ওপর সমস্ত বেআইনি কর ও ঋণ মকুব করা এবং উৎপন্ন ফসলের ন্যায্য দাম ও রায়তদের জমিতে স্থায়ী অধিকার নিশ্চিত করা।
৫. AITUC প্রতিষ্ঠার পটভূমি কী ছিল?
উত্তর: ১৯২০ সালের ৩১শে অক্টোবর বোম্বাইয়ে লালা লাজপত রায়ের সভাপতিত্বে AITUC প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পটভূমি ছিল:
প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর ভারতে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, দীর্ঘ কাজের সময় ও নামমাত্র মজুরির বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ বৃদ্ধি।
১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা’ (ILO)-তে ভারতীয় শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব পাঠানোর বাধ্যবাধকতা।
৬. মানবেন্দ্রনাথ রায় স্মরণীয় কেন?
উত্তর: আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা এম. এন. রায় ১৯২০ সালে তাসখন্দে প্রথম ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি স্থাপন করেন। তিনি লেলিনের সাথে জাতীয় ও ঔপনিবেশিক প্রশ্নে বিখ্যাত বিতর্কে অংশ নেন এবং ভারতে মার্ক্সবাদী চিন্তাধারা ও র্যাডিক্যাল রাজনীতির প্রসারে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন।
৭. মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) কেন শুরু হয়েছিল?
উত্তর: ১৯২৮-২৯ সালে ভারতে কমিউনিস্ট ও ট্রেড ইউনিয়নগুলির ধর্মঘট ও শ্রমিক জাগরণে ব্রিটিশ সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কমিউনিস্ট প্রভাব সমূলে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সরকার এস. এ. ডাঙ্গে, মুজফ্ফর আহমদ, পিসি যোশী সহ ৩১ জন শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় ও ব্রিটিশ কমিউনিস্ট নেতাকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মীরাট আদালতে মামলা দায়ের করে।
৮. ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজান্টস পার্টির (WPP) মূল নীতি কী ছিল?
উত্তর: ১৯২৮ সালে গঠিত WPP ছিল জাতীয় কংগ্রেসের অভ্যন্তরে থেকে কাজ করা একটি সমাজতান্ত্রিক দল। এর মূল নীতি ছিল:
জাতীয় কংগ্রেসের ধনিকপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে পূর্ণ স্বরাজের দাবিকে তীব্র করা।
কৃষক ও শ্রমিকদের দৈনন্দিন আর্থিক লড়াইকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের সাথে একাত্ম করা এবং জমিদারি ব্যবস্থার অবসান ঘটানো।
৯. তেভাগা আন্দোলনের মূল কারণ কী ছিল?
উত্তর: ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার রংপুর, দিনাজপুর, জলপাইগুড়িতে এই আন্দোলন ঘটে। এর মূল কারণ ছিল—জোতদাররা উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক (আধি) কেড়ে নিত এবং নানারকম বেআইনি কর চাপাত। ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ মেনে ভাগচাষিরা উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক নয়, দুই-তৃতীয়াংশ (তেভাগা) পাওয়ার দাবি জানায়।
১০. তেলেঙ্গানা আন্দোলন (১৯৪৬-৫১) কেন ঘটেছিল?
উত্তর: তৎকালীন হায়দরাবাদের নিজাম শাসনে সামন্ততান্ত্রিক ‘ভাগেল্লা’ (বংশানুক্রমিক বাধ্যতামূলক দাসশ্রম) এবং ‘দেশমুখ’ ও ‘জাগিরদার’দের নির্মম অত্যাচার প্রচলিত ছিল। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে সাধারণ দরিদ্র তেলুগু কৃষকরা এই সামন্ততান্ত্রিক নিপীড়ন ভেঙে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
@ বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৪. বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৪)
প্রশ্ন ১: বারদোলি সত্যাগ্রহের (১৯২৮) গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর:
বল্লভভাই প্যাটেলের দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিচালিত বারদোলি সত্যাগ্রহ ছিল বিশ শতকে ভারতের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে এক চূড়ান্ত সফল ও সুশৃঙ্খল উদাহরণ।
সুসংহত সংগঠন ও নারীশক্তির অংশগ্রহণ: বল্লভভাই প্যাটেল সমগ্র বারদোলি তালুককে ১৩টি ছাউনিতে ভাগ করে বহু কর্মী নিযুক্ত করেন। এই আন্দোলনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল নারীদের ব্যাপক ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। মিতু বেন, সারদা মেহতার মতো নারীরা পুরুষদের পাশাপাশি সভা পরিচালনা করেন এবং বল্লভভাইকে ‘সর্দার’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
সামাজিক বয়কটের অহিংস অস্ত্র: আন্দোলনকারীরা অহিংস উপায়ে সরকারি কর্মচারী ও খাজনা প্রদানকারীদের সামাজিকভাবে পুরোপুরি বয়কট করেন। সরকার কৃষকদের জমি, ঘরবাড়ি, এমনকি গবাদিপশু বাজেয়াপ্ত বা ক্রোক করলেও কৃষকরা তাঁদের দৃঢ় সংকল্প থেকে একচুলও নড়েননি।
দুবলা সম্প্রদায়ের মুক্তি: এই আন্দোলনের ফলে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা ‘হালিপদ্ধতি’ বা কৃষিদাসত্বের শিকল ভেঙে নিচুতলার কালিপরাজ বা দুবলা কৃষকদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ জেগে ওঠে।
চূড়ান্ত সাফল্য: আন্দোলনের দৃঢ়তায় ভীত হয়ে বোম্বাই সরকার ব্লুমফিল্ড ও ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়। কমিটি খাজনা বৃদ্ধির হারকে অযৌক্তিক বলে মেনে নেয় এবং তা কমিয়ে মাত্র ৬.০৩% করে, বাজেয়াপ্ত জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রশ্ন ২: ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাসে ‘মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা’র (১৯২৯) প্রভাব কী ছিল?
উত্তর:
ভারতে সমাজতান্ত্রিক ও বামপন্থী ভাবধারা স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯২৯ সালে যে দমনমূলক চক্রান্তের আশ্রয় নেয়, তা ‘মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে পরিচিত।
জাতীয়তাবাদী নেতাদের সমর্থন: কমিউনিস্টদের দমন করতে গিয়ে ব্রিটিশরা উল্টো বিপাকে পড়ে। জাতীয় কংগ্রেসের মতিলাল নেহরু, জওহরলাল নেহরু, এম. এ. আনসারি এবং ড. তেজবাহাদুর সপ্রুর মতো বিশিষ্ট আইনজীবীরা বন্দি কমিউনিস্টদের পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই লড়তে ‘মীরাট ডিফেন্স কমিটি’ গড়ে তোলেন। মহাত্মা গান্ধী স্বয়ং জেলে গিয়ে বন্দিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
আদালতকে প্রচারমঞ্চে রূপান্তর: কমিউনিস্ট নেতারা মীরাটের কাঠগড়াকে নিজেদের মতাদর্শ প্রচারের বিশ্বমঞ্চে রূপান্তরিত করেন। তাঁরা আদালতের ভেতরে নির্ভীক বিবৃতি দিয়ে মার্ক্সবাদের শ্রেষ্ঠত্ব, সাম্রাজ্যবাদের পতন এবং শ্রমিক শ্রেণির অধিকারের কথা তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক সংহতি: এই মামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, সাহিত্যিক রোম্যাঁ রোলাঁ, এইচ. জি. ওয়েলস প্রমুখ ব্রিটিশ সরকারের চরম নিন্দায় মুখর হন এবং বন্দিদের মুক্তির দাবি তোলেন।
বামপন্থা ছড়িয়ে পড়া: চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মামলার খবর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রে প্রতিদিন ফলাও করে প্রকাশিত হতো। ফলে কমিউনিস্টরা দমন হওয়ার বদলে ভারতের তরুণ প্রজন্মের কাছে বীর দেশপ্রেমিক হিসেবে পরিচিতি পান এবং দেশজুড়ে সমাজতন্ত্র বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।
প্রশ্ন ৩: বিশ শতকের বিশের দশকে গড়ে ওঠা ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজান্টস পার্টি’ (WPP)-র ভূমিকা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
১৯২৭-২৮ সালে ভারতের বোম্বাই, বাংলা, পাঞ্জাব ও যুক্তপ্রদেশে কৃষক ও মেহনতি মানুষের স্বার্থে ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজান্টস পার্টি’ গড়ে ওঠে।
বামপন্থী ও কংগ্রেসের মেলবন্ধন: এই দলটি সরাসরি কমিউনিস্ট নামে কাজ না করে জাতীয় কংগ্রেসের একটি প্রগতিশীল বামপন্থী মোর্চা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় আন্দোলনের মধ্যবিত্ত ও বুর্জোয়া চরিত্রের পরিবর্তন ঘটিয়ে মেহনতি মানুষের মৌলিক আর্থিক দাবিগুলিকে জাতীয় কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা।
শ্রমিক ধর্মঘটে নেতৃত্ব: বোম্বাইয়ের বস্ত্রকল ও বাংলার চটকল ও রেলওয়ে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক ধর্মঘটগুলিতে এই দল প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দেয়। বোম্বাইয়ে গিরনি কামগার ইউনিয়ন গড়ে তুলে তারা হাজার হাজার বস্ত্র শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির দাবি আদায় করেছিল।
পত্রপত্রিকার মাধ্যমে মতাদর্শ প্রচার: সাধারণ মানুষের কাছে শোষণমুক্ত সমাজের বার্তা পৌঁছে দিতে দলটি বাংলায় ‘লাঙ্গল’ ও ‘গণবাণী’, বোম্বাইয়ে ‘ক্রান্তি’, পাঞ্জাবে ‘মেহনতকাশ’ প্রভৃতি শক্তিশালী রাজনৈতিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করত।
পূর্ণ স্বরাজের দাবি উত্থাপন: ১৯২৮ সালের কলকাতা কংগ্রেস অধিবেশনে WPP-র সদস্যরা হাজার হাজার শ্রমিক নিয়ে প্রবেশ করে প্রস্তাব রাখেন যে কংগ্রেসকে আপসকামী স্বায়ত্তশাসনের বদলে ব্রিটিশদের থেকে ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ দাবি করতে হবে।
@ বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৫. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৮)
প্রশ্ন: বিশ শতকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বামপন্থী রাজনীতির উদ্ভব ও বিকাশ আলোচনা করো। জাতীয় কংগ্রেসে সমাজতন্ত্রীরা কী ভূমিকা নিয়েছিল? (৫ + ৩)
উত্তর:
ক. ভারতে বামপন্থী রাজনীতির উদ্ভব ও বিকাশ (মান: ৫):
১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের রুশ বিপ্লবের অভাবনীয় সাফল্য পরাধীন ভারতবর্ষের জাতীয়তাবাদী যুবসমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের নতুন দিকদর্শন দেয়। ভারতে বামপন্থী ভাবধারার বিকাশ প্রধানত নিম্নলিখিত ধাপগুলির মধ্য দিয়ে ঘটেছিল:
১. বিদেশে প্রথম প্রয়াস ও তাসখন্দ সম্মেলন:
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতীয় বিপ্লবীরা বুঝতে পারেন যে কেবলমাত্র চরমপন্থা দিয়ে মুক্তি সম্ভব নয়; মেহনতি মানুষের শক্তি প্রয়োজন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়নের তাসখন্দে মানবেন্দ্রনাথ রায়, অবনী মুখার্জি ও রোজা ফিটিঙ্গভের উদ্যোগে প্রথম ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়।
২. ভারতের মাটিতে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা:
১৯২১ সালের পর থেকে দেশে অবনী মুখার্জি, এস. এ. ডাঙ্গে (বোম্বাই), মুজফ্ফর আহমদ (কলকাতা), সিঙ্গারাভেলু চেত্তিয়ার (মাদ্রাজ) প্রমুখের উদ্যোগে মার্ক্সবাদী গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। অবশেষে ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে কানপুরে সত্যভক্ত আয়োজিত সর্বভারতীয় সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (CPI) প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩. ব্রিটিশ দমননীতি ও ষড়যন্ত্র মামলাসমূহ:
কমিউনিস্টদের গণভিত্তি ধ্বংস করতে সাম্রাজ্যবাদী সরকার একের পর এক দমনপীড়ন চালায়:
পেশোয়ার ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২২-২৩)
কানপুর ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৪)
মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯)
তবে এই মামলাগুলি কমিউনিস্টদের স্তব্ধ করতে পারেনি, বরং তাদের মতাদর্শ দেশের যুবসমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
৪. শ্রমিক ও কৃষক সংগঠন নির্মাণ:
বামপন্থীরা ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত AITUC-এর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং ১৯২৮ সালে ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজান্টস পার্টি’ (WPP) ও ১৯৩৬ সালে ‘সারা ভারত কিষাণ সভা’ গঠন করে দেশের তৃণমূল স্তরের অগণিত শ্রমিক ও কৃষককে জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের সম্মুখ সমরে নিয়ে আসেন।
খ. জাতীয় কংগ্রেসে সমাজতন্ত্রী দলের ভূমিকা (মান: ৩):
১৯৩৪ সালে বোম্বাইয়ে জাতীয় কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই বামপন্থী ভাবাপন্ন যুবনেতাদের নিয়ে ‘কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল’ (Congress Socialist Party – CSP) প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সভাপতি ছিলেন আচার্য নরেন্দ্র দেব এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ। এই দলে রামমনোহর লোহিয়া, অচ্যুত পট্টবর্ধন প্রমুখও যুক্ত ছিলেন।
১. কংগ্রেসের গতিপথ বামপন্থী করা:
সমাজতন্ত্রীরা কংগ্রেসের দক্ষিণপন্থী প্রবীণ নেতাদের আপসকামী ও মধ্যবিত্ত ঘেঁষা রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁরা জওহরলাল নেহরু ও সুভাষচন্দ্র বসুর মতো প্রগতিশীল নেতাদের সাথে একযোগে কাজ করে কংগ্রেসে কৃষক ও শ্রমিকবান্ধব নীতি অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য করেন।
২. জমিদারি উচ্ছেদের দাবি:
তাঁরাই কংগ্রেসে প্রথম স্পষ্ট দাবি তোলেন যে স্বাধীন ভারতে কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই সমস্ত জমিদারি ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে হবে এবং জমি প্রকৃত চাষির হাতে তুলে দিতে হবে।
৩. ভারত ছাড়ো আন্দোলনে (১৯৪২) ঐতিহাসিক ভূমিকা:
১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের শুরুতেই গান্ধীজি সহ প্রথম সারির সমস্ত নেতা গ্রেপ্তার হলে জয়প্রকাশ নারায়ণ, রামমনোহর লোহিয়া ও অরুনা আসফ আলির মতো সমাজতন্ত্রী নেতারা আত্মগোপন করে দেশজুড়ে রেললাইন উপড়ে, ডাকঘর পুড়িয়ে বীর বিক্রমে ‘আগস্ট বিপ্লব’-এর নেতৃত্ব বজায় রেখেছিলেন।
উপসংহার:
বিশ শতকে ভারতে বামপন্থী রাজনীতি কেবলমাত্র ব্রিটিশবিরোধী লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং স্বাধীনতাকে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক ও শ্রমিকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সাথে একাত্ম করেছিল। তাঁদের এই আন্দোলনের ফলেই পরবর্তীকালে স্বাধীন ভারতের সংবিধানে সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মৌলিক অধিকার স্থান লাভ করে।
PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)
বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ (১০০টি) , SAQ (১০০টি), ২ নম্বরের প্রশ্ন (৫০টি), ৪ নম্বরের প্রশ্ন (১৫টি) উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232
১) মাধ্যমিক ইতিহাস ষষ্ঠ অধ্যায় – বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর (Only for Subscribers)
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে। @ বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে।
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। @ বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন।
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।






















