bish-shotoker-varoter-nari-chatra-o-prantik-jonogosthir-andolon-question-answers-class-10

বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্নের উত্তর Class 10

বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্নের উত্তর Class 10 এখানে WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে দশম শ্রেণির মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করা হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই ইতিহাস প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।

আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি। 

বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্নের উত্তর Class 10 : 

 

১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ) 

  1. বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সময় নারীদের সংগঠিত করতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ কে গড়ে তোলেন?

    (ক) সরোজিনী নাইডু (খ) সরলাদেবী চৌধুরানী (গ) বাসন্তী দেবী (ঘ) কল্পনা দত্ত

    উত্তর: (খ) সরলাদেবী চৌধুরানী

  2. বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় বীরপুরুষ তৈরি করতে ‘প্রতাপাদিত্য উৎসব’ ও ‘বীরাষ্টমী ব্রত’ কে চালু করেন?

    (ক) মাতঙ্গিনী হাজরা (খ) ভগিনী নিবেদিতা (গ) সরলাদেবী চৌধুরানী (ঘ) লীলা নাগ

    উত্তর: (গ) সরলাদেবী চৌধুরানী

  3. অসহযোগ আন্দোলনের সময় কলকাতায় নারীদের নেতৃত্ব দিয়ে প্রথম গ্রেফতার হন কে?

    (ক) বাসন্তী দেবী (খ) কল্পনা দত্ত (গ) নেলী সেনগুপ্ত (ঘ) বীণা দাস

    উত্তর: (ক) বাসন্তী দেবী (দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী)

  4. ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের লবণ আইন অমান্য আন্দোলনে ধরাসনা লবণ সত্যাগ্রহে নারীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?

    (ক) কস্তুরবা গান্ধী (খ) সরোজিনী নাইডু (গ) সুচেতা কৃপালিনী (ঘ) উষা মেহতা

    উত্তর: (খ) সরোজিনী নাইডু

  5. ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে মেদিনীপুরের তমলুকে কোন বীরাঙ্গনা জাতীয় পতাকা হাতে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন?

    (ক) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (খ) মাতঙ্গিনী হাজরা (গ) কল্পনা দত্ত (ঘ) কনকলতা বড়ুয়া

    উত্তর: (খ) মাতঙ্গিনী হাজরা (যিনি ‘গান্ধীবুড়ি’ নামে পরিচিত)

  6. আসামে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া কিশোরী কন্যার নাম কী?

    (ক) কনকলতা বড়ুয়া (খ) ভোগেশ্বরী ফুকনানী (গ) তারারানী শ্রীবাস্তব (ঘ) মাতঙ্গিনী হাজরা

    উত্তর: (ক) কনকলতা বড়ুয়া

  7. ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় বোম্বাইয়ে গোপন বেতার কেন্দ্র (কংগ্রেস রেডিও) পরিচালনা করেন কে?

    (ক) অরুনা আসফ আলি (খ) উষা মেহতা (গ) সুচেতা কৃপালিনী (ঘ) লীলা রায়

    উত্তর: (খ) উষা মেহতা

  8. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী কে ছিলেন, যিনি নারীদের জন্য ‘দীপালী সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন?

    (ক) কল্পনা দত্ত (খ) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (গ) লীলা নাগ (রায়) (ঘ) সুহাসিনী গাঙ্গুলি

    উত্তর: (গ) লীলা নাগ (রায়) (১৯২৩ খ্রি.)

  9. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে মাস্টারদা সূর্য সেনের অন্যতম সহযোগী বীরাঙ্গনা কে ছিলেন?

    (ক) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ও কল্পনা দত্ত (খ) মাতঙ্গিনী হাজরা (গ) সরলাদেবী (ঘ) বাসন্তী দেবী

    উত্তর: (ক) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ও কল্পনা দত্ত

  10. পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন কে?

    (ক) কল্পনা দত্ত (খ) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (গ) বীণা দাস (ঘ) সুনীতি চৌধুরী

    উত্তর: (খ) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (১৯৩২ খ্রি.)

  11. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন কে?

    (ক) বীণা দাস (খ) কল্যাণী দাস (গ) কল্পনা দত্ত (ঘ) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

    উত্তর: (ক) বীণা দাস (১৯৩২ খ্রি.)

  12. কুমিল্লার অত্যাচারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেন্সকে হত্যা করেছিলেন কোন দুই কিশোরী ছাত্রী?

    (ক) কল্পনা ও প্রীতিলতা (খ) শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরী (গ) বীণা দাস ও সুহাসিনী (ঘ) কল্যাণী ও বাসন্তী দেবী

    উত্তর: (খ) শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরী (১৯৩১ খ্রি.)

  13. বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় কার্লাইল সার্কুলারের বিরুদ্ধে ছাত্ররা কোন সংস্থা গড়ে তোলে?

    (ক) ডন সোসাইটি (খ) অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি (গ) ভারত সভা (ঘ) বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদ

    উত্তর: (খ) অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি (১৯০৫ খ্রি.)

  14. অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটির সম্পাদক কে ছিলেন?

    (ক) শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু (খ) কৃষ্ণকুমার মিত্র (গ) সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (ঘ) সুরেন্দ্রনাথ সেন

    উত্তর: (ক) শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু

  15. অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (AISF) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (ক) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে

    উত্তর: (খ) ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে

  16. আজাদ হিন্দ ফৌজের নারী বাহিনীর নাম কী ছিল?

    (ক) ঝাঁসির রানি রেজিমেন্ট (খ) দুর্গাবতী ব্রিগেড (গ) ভারতমাতা ব্রিগেড (ঘ) মাতঙ্গিনী দল

    উত্তর: (ক) ঝাঁসির রানি রেজিমেন্ট

  17. ঝাঁসির রানি রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?

    (ক) অরুনা আসফ আলি (খ) ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী স্বামীনাথন (সেহগল) (গ) সরোজিনী নাইডু (ঘ) লীলা রায়

    উত্তর: (খ) ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী স্বামীনাথন (সেহগল)

  18. ১৯৪৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি কলকাতায় কোন দিন হিসেবে পালিত হয়?

    (ক) রসিদ আলি দিবস (খ) আজাদ হিন্দ দিবস (গ) নৌবিদ্রোহ দিবস (ঘ) স্বাধীনতা দিবস

    উত্তর: (ক) রসিদ আলি দিবস

  19. ‘দলিত’ কথাটি মূলত কার দ্বারা বেশি পরিচিতি পায়?

    (ক) মহাত্মা গান্ধী (খ) ড. বি. আর. আম্বেদকর (গ) জ্যোতিরাও ফুলে (ঘ) পেরিয়ার

    উত্তর: (খ) ড. বি. আর. আম্বেদকর

  20. অস্পৃশ্য ও দলিতদের ‘হরিজন’ (ঈশ্বরের সন্তান) নাম দিয়েছিলেন কে?

    (ক) ড. বি. আর. আম্বেদকর (খ) মহাত্মা গান্ধী (গ) শ্রীনারায়ণ গুরু (ঘ) হরিচাঁদ ঠাকুর

    উত্তর: (খ) মহাত্মা গান্ধী

  21. মহাদ সত্যাগ্রহ (১৯২৭) কার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়?

    (ক) ড. বি. আর. আম্বেদকর (খ) জ্যোতিরাও ফুলে (গ) গান্ধীজি (ঘ) রামস্বামী নাইকার

    উত্তর: (ক) ড. বি. আর. আম্বেদকর

  22. দলিতদের অধিকার রক্ষায় ড. বি. আর. আম্বেদকর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দলটি হলো—

    (ক) হরিজন সেবক সংঘ (খ) ইন্ডিপেন্ডেন্ট লেবার পার্টি (গ) বহিস্কৃত হিতকারিণী সভা (ঘ) সত্যশোধক সমাজ

    উত্তর: (খ) ইন্ডিপেন্ডেন্ট লেবার পার্টি (বা সংগঠন: ‘বহিস্কৃত হিতকারিণী সভা’)

  23. মতূয়া ধর্মের প্রবর্তক কে ছিলেন?

    (ক) হরিচাঁদ ঠাকুর (খ) গুরুচাঁদ ঠাকুর (গ) প্রমথরঞ্জন ঠাকুর (ঘ) যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল

    উত্তর: (ক) শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর

  24. নমঃশূদ্র আন্দোলনের প্রধান সংগঠক ও রূপকার কে ছিলেন?

    (ক) হরিচাঁদ ঠাকুর (খ) শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর (গ) ব্রজেন্দ্রনাথ দে (ঘ) বীরেন শাসমল

    উত্তর: (খ) শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর

  25. সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি (Communal Award) কে ঘোষণা করেছিলেন?

    (ক) রামসে ম্যাকডোনাল্ড (খ) উইনস্টন চার্চিল (গ) লর্ড লিনলিথগো (ঘ) ক্লিমেন্ট এটলি

    উত্তর: (ক) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামসে ম্যাকডোনাল্ড (১৯৩২ খ্রি.)

  26. ঐতিহাসিক ‘পুনা চুক্তি’ (১৯৩২) কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

    (ক) মহাত্মা গান্ধী ও ড. বি. আর. আম্বেদকর (খ) নেহরু ও জিন্না (গ) সুভাষচন্দ্র ও গান্ধীজি (ঘ) লর্ড আরউইন ও গান্ধীজি

    উত্তর: (ক) মহাত্মা গান্ধী ও ড. বি. আর. আম্বেদকর

  27. দক্ষিণ ভারতে আত্মমর্যাদা আন্দোলন (Self-Respect Movement) কে শুরু করেন?

    (ক) শ্রীনারায়ণ গুরু (খ) ই. ভি. রামস্বামী নাইকার (পেরিয়ার) (গ) কে. কেলাপ্পান (ঘ) টি. কে. মাধবন

    উত্তর: (খ) ই. ভি. রামস্বামী নাইকার (পেরিয়ার)

  28. ‘এক জাতি, এক ধর্ম, এক ঈশ্বর মানবজাতির জন্য’—এই বাণী কার ছিল?

    (ক) শ্রীনারায়ণ গুরু (খ) রামস্বামী নাইকার (গ) ড. আম্বেদকর (ঘ) হরিচাঁদ ঠাকুর

    উত্তর: (ক) শ্রীনারায়ণ গুরু (কেরালা)

  29. অল ইন্ডিয়া ডিপ্রেসড ক্লাসেস কংগ্রেস (১৯৩০) কে প্রতিষ্ঠা করেন?

    (ক) ড. বি. আর. আম্বেদকর (খ) মহাত্মা গান্ধী (গ) জগজীবন রাম (ঘ) গুরুচাঁদ ঠাকুর

    উত্তর: (ক) ড. বি. আর. আম্বেদকর

  30. অসহযোগ আন্দোলনের সময় মেদিনীপুরের কাঁথিতে নারী সত্যাগ্রহীদের নেতৃত্ব দেন কে?

    (ক) চারুশীলা দেবী (খ) হেমাঙ্গিনী সেন (গ) বীণা দাস (ঘ) সরোজিনী নাইডু

    উত্তর: (ক) চারুশীলা দেবী

@ বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

২. একটি বাক্যে উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) 

  1. বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে নারীদের বিদেশি কাচের চুড়ি ভাঙার আহ্বান কে জানিয়েছিলেন?

    উত্তর: রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী (তাঁর রচিত ‘বঙ্গলক্ষ্মীর ব্রতকথা’র মাধ্যমে) এবং স্বদেশী আন্দোলনের নেত্রীরা।

  2. স্বদেশী আন্দোলনের সময় মহিলাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে কে ‘মহিলা শিল্প সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন?

    উত্তর: সরলাদেবী চৌধুরানী।

  3. গান্ধীজির পরিচালিত গুজরাটের খেদা সত্যাগ্রহে অংশ নেওয়া এক বিশিষ্ট নারী নেত্রীর নাম লেখো।

    উত্তর: মণিবেন প্যাটেল (সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের কন্যা)।

  4. দীপালী সংঘের প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?

    উত্তর: নারীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা, প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তার এবং শরীরচর্চা ও আত্মরক্ষার শিক্ষা (লাঠিখেলা, ছোরাখেলা) দেওয়া।

  5. বীণা দাস কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন উপাচার্যের হাত থেকে ডিগ্রি নেওয়ার সময় রিভলভার চালিয়েছিলেন?

    উত্তর: চ্যান্সেলর তথা বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনের দিকে (উপস্থিত উপাচার্য ছিলেন হাসান সোহরাওয়ার্দী)।

  6. কার নির্দেশে অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

    উত্তর: রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে ও ছাত্রনেতা শচীন্দ্রপ্রসাদ বসুর উদ্যোগে।

  7. অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটির মূল স্লোগান কী ছিল?

    উত্তর: দেশীয় শিক্ষাকে জাতীয় মর্যাদা দেওয়া এবং সরকারি স্কুল থেকে বিতাড়িত স্বদেশী ছাত্রদের বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা করা।

  8. মাস্টারদা সূর্য সেনের প্রতিষ্ঠিত বিপ্লবী দলের নাম কী ছিল?

    উত্তর: ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি (চট্টগ্রাম শাখা)।

  9. ‘অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ’ বিষয়ে গান্ধীজির প্রকাশিত বিখ্যাত সাময়িকপত্রটির নাম কী?

    উত্তর: ‘হরিজন’ (Harijan) পত্রিকা।

  10. মহাদ সত্যাগ্রহের মূল লক্ষ্য কী ছিল?

    উত্তর: মহারাষ্ট্রের কোলাবা জেলার মহাদ শহরের চবদার জলাশয় থেকে দলিত বা তথাকথিত নিচু জাতের মানুষের পানীয় জল ব্যবহারের সমান নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

  11. গুরুচাঁদ ঠাকুর নমঃশূদ্রদের উন্নতির জন্য কোথায় বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন?

    উত্তর: ফরিদপুর জেলার ওড়াকান্দি গ্রামে (১৮৮১ খ্রি.)।

  12. নমঃশূদ্ররা পূর্ববঙ্গে নিজেদের আত্মপরিচয়ে কোন প্রাচীন পেশাভিত্তিক হীন নাম অস্বীকার করেছিল?

    উত্তর: ‘চণ্ডাল’ নাম পরিহার করে নিজেদের ‘নমঃশূদ্র’ হিসেবে স্বীকৃতির আন্দোলন করেছিল।

  13. ক্যাপ্টেন রসিদ আলি কে ছিলেন?

    উত্তর: আজাদ হিন্দ ফৌজের সামরিক অফিসার, যাঁর ব্রিটিশদের বিচারে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের প্রতিবাদে কলকাতায় উত্তাল গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল।

  14. ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে তমলুকে গঠিত স্বাধীন বিকল্প সরকারের নাম কী ছিল?

    উত্তর: তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার (সর্বাধিনায়ক ছিলেন সতীশচন্দ্র সামন্ত)।

  15. মাতঙ্গিনী হাজরা কত বছর বয়সে শহীদ হন?

    উত্তর: ৭৩ বছর বয়সে (১৯৪২ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর)।

  16. ‘বহিস্কৃত ভারত’ পত্রিকাটির সম্পাদক কে ছিলেন?

    উত্তর: ড. বি. আর. আম্বেদকর।

  17. পুনা চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

    উত্তর: ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৪শে সেপ্টেম্বর (ইয়েরওয়াড়া জেলে)।

  18. অল ইন্ডিয়া সিডিউল্ড কাস্টস ফেডারেশন (AISCF) কত সালে গঠিত হয়?

    উত্তর: ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ড. বি. আর. আম্বেদকর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।

  19. কেরালার বৈকম সত্যাগ্রহ (১৯২৪-২৫) কেন সংঘটিত হয়েছিল?

    উত্তর: বৈকমের শিব মন্দিরের সম্মুখস্থ রাস্তা দিয়ে তথাকথিত অস্পৃশ্য মানুষের হাঁটার সার্বিক অধিকার আদায়ের জন্য।

  20. স্বদেশী আন্দোলনের সময় ‘স্বদেশ বান্ধব সমিতি’র কোন শাখাটি ছাত্র ও যুবকদের সংগঠিত করেছিল?

    উত্তর: বরিশালে অশ্বিনীকুমার দত্ত প্রতিষ্ঠিত ‘স্বদেশ বান্ধব সমিতি’র ছাত্র স্বেচ্ছাসেবক দল।

@ বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৩. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ২) 

১. বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে মধ্যবিত্ত বাঙালি নারীরা প্রথমবারের মতো রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন। তাঁরা অন্নপূর্ণার রান্নাঘরে ‘অরন্ধন’ ব্রত পালন করেন, বিদেশি কাচের চুড়ি ও রেশমি শাড়ি বর্জন করে মোটা খদ্দরের বস্ত্র পরেন এবং সরলাদেবী চৌধুরানীর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ নিজেদের অলংকার দান করে স্বদেশী শিল্পকে আর্থিক সহায়তা দেন।

২. কল্পনা দত্ত কেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয়?

উত্তর: কল্পনা দত্ত ছিলেন সূর্য সেনের চট্টগ্রাম বিপ্লবী দলের অন্যতম শীর্ষ নারী যোদ্ধা। তিনি বোমা তৈরি ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন এবং পুরুষের ছদ্মবেশে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র গেরিলা লড়াইয়ে অংশ নেন। ১৯৩৩ সালে তিনি গ্রেফতার হন এবং বিচারে তাঁর যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর হয়।

৩. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পাহাড়তলী ক্লাব আক্রমণ করেছিলেন কেন?

উত্তর: চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবের বাইরে বর্ণবিদ্বেষী নোটিশ ঝোলানো থাকত—”কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ”। এই জাতীয়তাবাদী অপমানের মোক্ষম জবাব দিতে মাস্টারদার নির্দেশে ১৯৩২ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর প্রীতিলতার নেতৃত্বে বিপ্লবীরা এই ক্লাবে সফল বোমা ও বন্দুক আক্রমণ চালান। আহত অবস্থায় ধরা পড়ার উপক্রম হলে তিনি সায়ানাইড খেয়ে দেশের জন্য আত্মাহুতি দেন।

৪. অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি (১৯০৫) গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ধ্বংস করতে ব্রিটিশ সরকার দমনমূলক ‘কার্লাইল সার্কুলার’ জারি করলে তার পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে শচীন্দ্রপ্রসাদ বসুর নেতৃত্বে এই সোসাইটি গড়ে ওঠে। এর উদ্দেশ্য ছিল সরকারি স্কুল থেকে বিতাড়িত দেশপ্রেমিক ছাত্রদের বিকল্প জাতীয় বিদ্যালয়ে পড়ার ব্যবস্থা করা এবং স্বদেশী খদ্দরের কাপড় বিক্রির দায়িত্ব নেওয়া।

৫. রসিদ আলি দিবস (১২ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৬) কেন পালিত হয়েছিল?

উত্তর: ব্রিটিশ সামরিক আদালত আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রসিদ আলিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিলে ক্ষুব্ধ ভারতীয় ছাত্রসমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৪৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ধর্মঘট ডাকে। হিন্দু ও মুসলিম ছাত্ররা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাতীয় কংগ্রেস, মুসলিম লিগ ও কমিউনিস্ট পার্টির পতাকা এক সাথে বেঁধে বিশাল যৌথ মিছিল বের করে।

৬. গান্ধীজি কেন দলিতদের ‘হরিজন’ আখ্যা দিয়েছিলেন?

উত্তর: সনাতন হিন্দু সমাজের বর্ণব্যবস্থার শিকার তথাকথিত অস্পৃশ্য ও অন্ত্যজ মানুষদের দীর্ঘদিনের সামাজিক লাঞ্ছনা ও অমানবিক বৈষম্য দূর করতে গান্ধীজি তাঁদের ‘হরিজন’ অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের সন্তান’ বা ‘হরির জন’ বলে অভিহিত করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল বর্ণহিন্দুদের পাপবোধ জাগ্রত করা এবং দলিতদের মূলধারার হিন্দু সমাজের সঙ্গে ভালোবাসা ও সমতার মাধ্যমে আত্মিক ঐক্য স্থাপন করা।

৭. ড. বি. আর. আম্বেদকরের মহাদ সত্যাগ্রহের গুরুত্ব কী ছিল?

উত্তর: ১৯২৭ সালে মহারাষ্ট্রের মহাদে আম্বেদকরের নেতৃত্বে দলিতরা বর্ণহিন্দুদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জনসাধারণের জন্য নির্দিষ্ট চবদার জলাশয়ের জল স্পর্শ ও পান করেন। এটি কোনো সাধারণ জলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল জন্মভিত্তিক সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে দলিতদের মৌলিক মানবাধিকার, আত্মমর্যাদা ও সাম্য প্রতিষ্ঠার এক বৈপ্লবিক হুংকার।

৮. মতূয়া ধর্ম আন্দোলনের মূল আদর্শ কী ছিল?

উত্তর: অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের ওড়াকান্দিতে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর মতূয়া আন্দোলনের সূচনা করেন। এর মূল নীতি ছিল জাতিভেদ ও পৌত্তলিকতা বর্জন করে সহজ প্রেমভক্তি এবং ‘হাতে কাম ও মুখে নাম’ অর্থাৎ দৈনন্দিন কাজের সাথে ঈশ্বরের স্মরণ। তাঁরা নমঃশূদ্রদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছিলেন।

৯. পুনা চুক্তির (১৯৩২) প্রধান শর্ত কী ছিল?

উত্তর: ব্রিটিশ সরকারের পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতিবাদে গান্ধীজির অনশনের প্রেক্ষাপটে আম্বেদকর ও গান্ধীজির মধ্যে পুনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর প্রধান শর্ত ছিল:

  • দলিতদের জন্য প্রস্তাবিত পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা বাতিল করা হবে এবং তারা যৌথ নির্বাচনের অংশ থাকবে।

  • এর বিনিময়ে প্রাদেশিক আইনসভায় দলিতদের সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৭১ থেকে বাড়িয়ে ১৪৮টি করা হবে এবং কেন্দ্রীয় আইনসভাতেও ১৮% আসন সংরক্ষিত থাকবে।

১০. আত্মমর্যাদা আন্দোলনের মূল বক্তব্য কী ছিল?

উত্তর: ১৯২৫ সালে মাদ্রাজে ই. ভি. রামস্বামী নাইকার (পেরিয়ার)-এর নেতৃত্বে এই যুক্তিবাদী আন্দোলন শুরু হয়। এর মূল বক্তব্য ছিল উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণদের আধিপত্য, পুরোহিততন্ত্র, বেদ-পুরাণের ধর্মীয় কুসংস্কার ও পৌত্তলিকতা সম্পূর্ণ বর্জন করে অ-ব্রাহ্মণ দ্রাবিড় জাতিগোষ্ঠীর সামাজিক আত্মমর্যাদা, জাতপাতহীন বিবাহ এবং নারীমুক্তি নিশ্চিত করা।

@ বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৪. বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৪)

প্রশ্ন ১: ভারত ছাড়ো আন্দোলনে (১৯৪২) নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিবরণ দাও।

উত্তর:

১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ভারত ছাড়ো বা ‘আগস্ট আন্দোলন’-এ ভারতীয় নারীসমাজের অংশগ্রহণ ছিল অভূতপূর্ব ও বিপ্লবী। গান্ধীজি সহ প্রথম সারির শীর্ষ নেতারা আন্দোলনের সূচনালগ্নেই বন্দি হলে নারীরা আন্দোলনের হাল ধরেন:

  • মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মবলিদান: মেদিনীপুরের তমলুকে ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা ‘গান্ধীবুড়ি’ মাতঙ্গিনী হাজরা এক বিরাট মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে তমলুক থানা ও আদালত দখল করতে যান। পুলিশের একের পর এক গুলির আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি জাতীয় তেরঙ্গা পতাকা উচ্চে তুলে ধরে রেখেছিলেন এবং মুখে ছিল ‘বন্দে মাতরম্’।

  • ভূগর্ভস্থ বেতার ও নেতৃত্ব: বোম্বাইয়ে যুবনেত্রী উষা মেহতা গোপন বেতার কেন্দ্র ‘কংগ্রেস রেডিও’ পরিচালনা করে সারা দেশের বিপ্লবীদের কাছে আন্দোলনের নির্দেশ পাঠাতেন। অরুনা আসফ আলি বোম্বাইয়ের গোয়ালিয়া ট্যাংক ময়দানে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করেন এবং গোপনে আন্দোলন চালান।

  • প্রাদেশিক প্রতিরোধ: আসামের গোহপুরে মাত্র ১৪ বছরের কিশোরী কনকলতা বড়ুয়া থানা আক্রমণ করতে গিয়ে পুলিশের বুলেটে প্রাণ বিসর্জন দেন। বিহারের তারারানী শ্রীবাস্তব স্বামীর মৃত্যুর পরও জাতীয় পতাকা আঁকড়ে লড়াই জারি রাখেন।

  • তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের বীরাঙ্গনা দল: মেদিনীপুরের ভগিনী সেনা দল গঠন করে মহিলারা যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস, টেলিগ্রাফের তার কাটা এবং রেললাইন উপড়ে ফেলার মতো প্রত্যক্ষ নাশকতা কার্যে পুরুষদের সমান ভূমিকা নিয়েছিলেন।

প্রশ্ন ২: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:

১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনকে গণআন্দোলনের রূপ দেওয়ার প্রধান চালিকাশক্তি ছিল বাংলার ছাত্রসমাজ।

  • বিদেশি পণ্য বয়কট ও পিকেটিং: ছাত্ররা দল বেঁধে দোকানে দোকানে পিকেটিং করত যাতে সাধারণ মানুষ বিদেশি বিলিতি লবণ, চিনি ও বস্ত্র ক্রয় না করে। এমনকি পরীক্ষার হলে বিদেশি তুলট কাগজে লিখতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ছাত্ররা দেশপ্রেমের নজির সৃষ্টি করে।

  • সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও প্রতিষ্ঠান গড়া: ছোটলাটের মুখ্যসচিব আর. ডব্লিউ. কার্লাইল দমনমূলক ‘কার্লাইল সার্কুলার’ জারি করে ছাত্রদের সভায় যাওয়া নিষিদ্ধ করলে ছাত্রনেতা শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু গড়ে তোলেন ‘অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি’। এর মাধ্যমে ছাত্ররা সরকারি স্কুল-কলেজ বর্জন করে এবং হাজার হাজার ছাত্র ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ (NCE) প্রবর্তিত স্বদেশী পাঠশালায় যোগ দেয়।

  • স্বদেশী সামগ্রীর প্রচার ও তহবিল সংগ্রহ: সুরেন্দ্রনাথের অনুপ্রেরণায় ছাত্ররা দ্বারে দ্বারে ঘুরে মুষ্টিভিক্ষা সংগ্রহ করত এবং অশ্বিনীকুমার দত্তের ‘স্বদেশ বান্ধব সমিতি’র মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে স্বদেশী জিনিসপত্র কম মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করত।

  • বিপ্লবী ভাবধারায় রূপান্তর: ছাত্রদের এই স্বতঃস্ফূর্ত জাতীয়তাবাদী ক্ষোভ থেকেই পরবর্তীকালে বারীন্দ্রকুমার ঘোষ ও ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের নেতৃত্বে অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দলের মতো সশস্ত্র বিপ্লবী ধারার বিকাশ ত্বরান্বিত হয়।

প্রশ্ন ৩: বিংশ শতকে বাংলায় নমঃশূদ্র আন্দোলনের রাজনৈতিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:

পূর্ববঙ্গের (মূলত ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ, যশোর ও খুলনা) বৃহত্তর অন্ত্যজ কৃষক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ছিল নমঃশূদ্র সম্প্রদায়। বিংশ শতকে তাঁদের আন্দোলন বাংলার রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা যোগ করেছিল:

  • সামাজিক মর্যাদা ও শিক্ষাবিস্তার: শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের প্রবর্তিত মতূয়া আদর্শ এবং তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে নমঃশূদ্ররা তথাকথিত ‘চণ্ডাল’ পরিচয় মুছে ফেলে নিজেদের আত্মমর্যাদার প্রতিষ্ঠা করে। গুরুচাঁদ ঠাকুর উপলব্ধি করেন যে শিক্ষা ছাড়া মুক্তি নেই, তাই তিনি গ্রামে গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং বর্ণহিন্দুদের সামাজিক অবহেলার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলেন।

  • স্বতন্ত্র রাজনৈতিক স্বত্বা: নমঃশূদ্র নেতারা বর্ণহিন্দুদের পরিচালিত জাতীয় আন্দোলন বা স্বদেশী আন্দোলন থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। কারণ তাঁরা আশঙ্কা করতেন যে ব্রিটিশ শাসন চলে গিয়ে যদি উচ্চবর্ণীয় হিন্দুদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তাঁদের চিরাচরিত সামাজিক শোষণ বহাল থাকবে।

  • সরকারি সুযোগসুবিধার দাবি: নমঃশূদ্ররা ব্রিটিশ সরকারের কাছে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ, শিক্ষায় বৃত্তি এবং আইনসভায় স্বতন্ত্র প্রতিনিধিত্বের দাবি জানায়। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের জনগণনায় তাঁরা সরকারিভাবে ‘নমঃশূদ্র’ হিসেবে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে সফল হন।

  • আম্বেদকরের সাথে মেলবন্ধন: নমঃশূদ্র নেতা যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল ড. বি. আর. আম্বেদকরের সাথে যৌথভাবে দলিত রাজনীতির ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনিই আম্বেদকরকে বাংলা থেকে গণপরিষদে নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছিলেন।

@ বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৫. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৮) 

প্রশ্ন: বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা পর্যালোচনা করো। দলিত অধিকার আন্দোলনে গান্ধীজি ও আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য বিশ্লেষণ করো। (৪ + ৪)

উত্তর:

ক. বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা (মান: ৪):

বিশ শতকের বিশ ও ত্রিশের দশকে বাংলায় সশস্ত্র বিপ্লববাদের এক অভূতপূর্ব অধ্যায় রচিত হয়েছিল নারীদের অসীম সাহসিকতা ও আত্মবলিদানের মাধ্যমে। এর আগে নারীরা সহায়ক হিসেবে থাকলেও এই পর্বে তাঁরা সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধক্ষেত্রে নেমেছিলেন।

১. দীপালী সংঘের ভিত্তি:

১৯২৩ সালে ঢাকায় লীলা নাগ (রায়) প্রতিষ্ঠা করেন ‘দীপালী সংঘ’। এটি আপাতদৃষ্টিতে নারীশিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হলেও গোপনে এটি ছিল নারী বিপ্লবীদের লাঠিখেলা, ছোরা চালানো ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণের প্রধান আখড়া। প্রীতিলতা ও কল্পনার মতো বীরাঙ্গনারা এই সংঘ থেকেই প্রথম রাজনৈতিক দীক্ষা পেয়েছিলেন।

২. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ও মাস্টারদার নারী বাহিনী:

১৯৩০ সালের মাস্টারদা সূর্য সেনের ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম বিদ্রোহে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা নেন:

  • প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার: তিনি ছিলেন বিপ্লবী দলের অন্যতম প্রধান সংগঠক। ১৯৩২ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর তাঁর নেতৃত্বে সফলভাবে ‘পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব’ ধ্বংস করা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশের হাতে ধরা না দিয়ে তিনি সায়ানাইড খেয়ে হাসিমুখে আত্মাহুতি দিয়ে বিপ্লবের ইতিহাসে প্রথম নারী শহীদের মর্যাদা পান।

  • কল্পনা দত্ত: তিনি পুরুষ ছদ্মবেশে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আনা-নেওয়া করতেন এবং সরাসরি পাহাড়ে ব্রিটিশ সেনার সাথে সম্মুখ সমরে অংশ নেন। বিচারে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

৩. ব্যক্তিগত স্তরে সরাসরি আক্রমণ:

  • শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরী: ১৯৩১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর কুমিল্লার ফয়জুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ের দুই নাবালিকা ছাত্রী মিষ্টি দেওয়ার ছল করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চার্লস স্টিভেন্সকে তাঁর বাংলোতে ঢুকে রিভলভার দিয়ে গুলি করে হত্যা করে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বুকে এটি ছিল এক চরম চপেটাঘাত।

  • বীণা দাস: ১৯৩২ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন সভায় বাংলার অত্যাচারী গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে অত্যন্ত কাছ থেকে লক্ষ্য করে পরপর পাঁচটি গুলি চালান। অল্পের জন্য জ্যাকসন প্রাণে বাঁচলেও বীণা দাসের নির্ভীক উচ্চারণ আদালতে ব্রিটিশের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল।

খ. দলিত প্রশ্নে গান্ধীজি বনাম আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য (মান: ৪):

ভারতের দলিত বা পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর সমাজের সার্বিক মুক্তি নিয়ে জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের দুই প্রধান স্থপতি মহাত্মা গান্ধী এবং ড. বি. আর. আম্বেদকরের চিন্তাধারায় মৌলিক মতপার্থক্য ছিল:

তুলনার ক্ষেত্রমহাত্মা গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গিড. বি. আর. আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গি
১. জাতব্যবস্থার মূল্যায়নগান্ধীজি প্রাচীন সনাতন ‘বর্ণাশ্রম প্রথা’র পক্ষপাতী ছিলেন। তিনি মনে করতেন বর্ণব্যবস্থা সমাজের শ্রমবিভাজন মাত্র; সমস্যা হলো এতে প্রবিষ্ট ‘অস্পৃশ্যতার পাপ’।আম্বেদকর মনে করতেন চতুর্বর্ণ প্রথাই সমস্ত শোষণের মূল শেকড়। বর্ণব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস না করলে জাতপাত ও অস্পৃশ্যতার চিরতরে অবসান অসম্ভব।
২. সংস্কারের পদ্ধতিগান্ধীজি বিশ্বাস করতেন বর্ণহিন্দুদের ‘হৃদয় পরিবর্তন’ ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে এই বৈষম্য মেটানো সম্ভব। তাই তিনি দলিতদের ভালোবেসে ‘হরিজন’ নাম দেন।আম্বেদকর কোনো করুণা বা দান চাননি; তিনি দাবি করেছিলেন আইনি ও রাজনৈতিক অধিকার। তাঁর বিখ্যাত বার্তা ছিল—”শিক্ষিত হও, সংগঠিত হও, আন্দোলন করো” (Educate, Agitate, Organise)।
৩. স্বতন্ত্র নির্বাচন ব্যবস্থাগান্ধীজি দলিতদের জন্য কোনো স্বতন্ত্র পৃথক নির্বাচনের ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল এতে হিন্দু সমাজ রাজনৈতিকভাবে চিরতরে টুকরো হয়ে যাবে।আম্বেদকর দলিতদের আত্মরক্ষার জন্য ব্রিটিশের প্রস্তাবিত পৃথক নির্বাচনকে (Separate Electorate) একমাত্র কার্যকর রাজনৈতিক ঢাল মনে করতেন।
৪. ধর্মের ভূমিকাগান্ধীজি আজীবন গোঁড়া হিন্দু ধর্মের কাঠামোর মধ্যে থেকেই সমাজসংস্কার ও দলিত মুক্তির কথা প্রচার করেছিলেন।আম্বেদকর হিন্দু শাস্ত্র ও ‘মনুস্মৃতি’কে দলিত শোষণের মূল গ্রন্থ বলে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে দেন এবং জীবনের শেষপ্রান্তে এসে লক্ষাধিক অনুগামী সহ বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।

উপসংহার:

কৌশলগত ও আদর্শগত বৈপরীত্য সত্ত্বেও উভয়ের উদ্দেশ্য ছিল অভিন্ন—ভারতীয় সমাজের সবচেয়ে পদদলিত ও লাঞ্ছিত শ্রেণিকে মানুষের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা। ১৯৩২ সালের ঐতিহাসিক ‘পুনা চুক্তি’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এই দুই মহান নেতার চিন্তা-ধারার একটি ভারসাম্য তৈরি হয়, যা স্বাধীন ভারতে সংবিধানে দলিতদের সংরক্ষণ ও মৌলিক অধিকারের পথকে সুনিশ্চিত করেছিল।

PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)

ইতিহাসের ধারণা প্রশ্নের উত্তর

বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ (১০০টি) , SAQ (১০০টি), ২ নম্বরের প্রশ্ন (৫০টি), ৪ নম্বরের প্রশ্ন (১৫টি) উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232

  

১) মাধ্যমিক ইতিহাস সপ্তম অধ্যায় – বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্নের উত্তর (Only for Subscribers) 

Click here to view pdf file

সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে

তালনবমী MCQ

আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে। @ বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।

জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে।

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। @ বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।

পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।

আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন।

আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করার প্রচেষ্টা করবেন না !
Scroll to Top