uttor-ouponibeshik-varat-question-answers-class-10

উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত প্রশ্নের উত্তর Class 10

উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত প্রশ্নের উত্তর Class 10 এখানে WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে দশম শ্রেণির মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করা হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই ইতিহাস প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।

আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি। 

উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত প্রশ্নের উত্তর Class 10 : 

 

১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)

  1. স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

    (ক) চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী (খ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন (গ) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ (ঘ) জওহরলাল নেহরু

    উত্তর: (খ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন

  2. স্বাধীন ভারতের প্রথম ও শেষ ভারতীয় গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

    (ক) চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী (খ) ড. বি. আর. আম্বেদকর (গ) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল (ঘ) ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন

    উত্তর: (ক) চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী

  3. কাকে ‘ভারতের লৌহমানব’ (Iron Man of India) বলা হয়?

    (ক) জওহরলাল নেহরু (খ) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল (গ) সুভাষচন্দ্র বসু (ঘ) বি. আর. আম্বেদকর

    উত্তর: (খ) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল

  4. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির দলিলটির আনুষ্ঠানিক নাম কী ছিল?

    (ক) স্ট্যান্ডস্টিল এগ্রিমেন্ট (খ) ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেসন (Instrument of Accession) (গ) দিল্লি চুক্তি (ঘ) মাউন্টব্যাটেন রোয়েদাদ

    উত্তর: (খ) ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেসন

  5. স্বাধীনতা লাভের সময় ভারতে মোট কতগুলি দেশীয় রাজ্য ছিল?

    (ক) প্রায় ৫৬৫টি (খ) প্রায় ৪০৫টি (গ) প্রায় ৬৫০টি (ঘ) প্রায় ৩০০টি

    উত্তর: (ক) প্রায় ৫৬৫টি

  6. হায়দরাবাদের ভারতভুক্তির জন্য ভারতীয় সেনা পরিচালিত সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম কী ছিল?

    (ক) অপারেশন ব্লু স্টার (খ) অপারেশন পোলো (গ) অপারেশন বিজয় (ঘ) অপারেশন মেঘদূত

    উত্তর: (খ) অপারেশন পোলো (১৯৪৮ খ্রি.)

  7. ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় কাশ্মীরের মহারাজা কে ছিলেন?

    (ক) মহারাজা হরিসিং (খ) গুলাব সিং (গ) শেখ আবদুল্লা (ঘ) করণ সিং

    উত্তর: (ক) মহারাজা হরিসিং

  8. কাশ্মীরের কোন জনপ্রিয় নেতা ভারতভুক্তির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছিলেন?

    (ক) মহম্মদ আলি জিন্না (খ) শেখ আবদুল্লা (গ) লিয়াকত আলি (ঘ) গোলাম আহমেদ

    উত্তর: (খ) শেখ আবদুল্লা (শের-ই-কাশ্মীর)

  9. জুনাগড় রাজ্যটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে?

    (ক) গণভোট (Plebiscite) দ্বারা (খ) সরাসরি যুদ্ধের দ্বারা (গ) আলোচনার মাধ্যমে (ঘ) কেনাবেচার মাধ্যমে

    উত্তর: (ক) গণভোট দ্বারা (১৯৪৮ খ্রি.)

  10. নেহরু-লিয়াকত চুক্তি (দিল্লি চুক্তি) কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

    (ক) ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে

    উত্তর: (খ) ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ৮ই এপ্রিল

  11. ‘ছেড়ে আসা গ্রাম’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

    (ক) শঙ্খ ঘোষ (খ) দক্ষিणारঞ্জন বসু (গ) অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় (ঘ) জ্যোতির্ময়ী দেবী

    উত্তর: (খ) দক্ষিণারঞ্জন বসু

  12. ‘এপার বাংলা ও ওপার বাংলা’ গ্রন্থটি কার লেখা?

    (ক) প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী (খ) মল্লিকা সেনগুপ্ত (গ) সুনীতি চট্টোপাধ্যায় (ঘ) অমলেন্দু দে

    উত্তর: (খ) মল্লিকা সেনগুপ্ত

  13. ‘দ্য মার্জিনাল মেন’ (The Marginal Men) গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

    (ক) ড. সুগত বসু (খ) প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী (গ) রণজিৎ গুহ (ঘ) বিপিনচন্দ্র

    উত্তর: (খ) প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী

  14. দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে নির্মিত বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘মেঘে ঢাকা তারা’র পরিচালক কে?

    (ক) সত্যজিৎ রায় (খ) ঋত্বিক ঘটক (গ) মৃণাল সেন (ঘ) তপন সিংহ

    উত্তর: (খ) ঋত্বিক ঘটক

  15. ভাষাগত ভিত্তিতে গঠিত স্বাধীন ভারতের প্রথম রাজ্য কোনটি?

    (ক) অন্ধ্রপ্রদেশ (খ) পশ্চিমবঙ্গ (গ) গুজরাট (ঘ) মহারাষ্ট্র

    উত্তর: (ক) অন্ধ্রপ্রদেশ (১৯৫৩ খ্রি.)

  16. পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের দাবিতে আমরণ অনশন করে মৃত্যুবরণ করেন কে?

    (ক) শ্রীরামালু পোট্টি (খ) টি. প্রকাশম (গ) এন. জি. রঙ্গ (ঘ) সি. রাজাগোপালাচারী

    উত্তর: (ক) শ্রীরামালু পোট্টি (পোট্টি শ্রীরামুলু)

  17. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন (States Reorganisation Commission – SRC) কত সালে গঠিত হয়?

    (ক) ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে

    উত্তর: (খ) ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে

  18. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সভাপতি কে ছিলেন?

    (ক) বিচারপতি ফজল আলি (খ) কে. এম. পানিক্কর (গ) হৃদয়নাথ কুঞ্জরু (ঘ) জওহরলাল নেহরু

    উত্তর: (ক) বিচারপতি ফজল আলি

  19. রাজ্য পুনর্গঠন আইন (States Reorganisation Act) পার্লামেন্টে পাস হয়েছিল কত সালে?

    (ক) ১৯৫৩ সালে (খ) ১৯৫৬ সালে (গ) ১৯৫৮ সালে (ঘ) ১৯৬২ সালে

    উত্তর: (খ) ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে

  20. ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইন অনুযায়ী ভারতে কয়টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি হয়?

    (ক) ১৪টি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (খ) ১২টি রাজ্য ও ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (গ) ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (ঘ) ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল

    উত্তর: (ক) ১৪টি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল

  21. বোম্বাই রাজ্যটি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট রাজ্য দুটি তৈরি হয় কত সালে?

    (ক) ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে

    উত্তর: (খ) ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে

  22. ভারতের সঙ্গে পর্তুগিজ উপনিবেশ গোয়ার অন্তর্ভুক্তি ঘটেছিল কত সালে?

    (ক) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে

    উত্তর: (গ) ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে (অপারেশন বিজয় দ্বারা)

  23. ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগর আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতভুক্ত হয় কত সালে?

    (ক) ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে (গণভোট) / ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে (চূড়ান্ত হস্তান্তর) (খ) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে

    উত্তর: (ক) ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে (পশ্চিমবঙ্গের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়)

  24. পন্ডিচেরি (পুদুচেরি) কোন দেশের ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণে ছিল?

    (ক) পর্তুগিজ (খ) ফরাসি (গ) ডাচ (ঘ) ব্রিটিশ

    উত্তর: (খ) ফরাসি

  25. ভারতীয় সংবিধানের খসড়া কমিটির (Drafting Committee) চেয়ারম্যান কে ছিলেন?

    (ক) ড. বি. আর. আম্বেদকর (খ) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ (গ) জওহরলাল নেহরু (ঘ) সর্দার প্যাটেল

    উত্তর: (ক) ড. বি. আর. আম্বেদকর

  26. ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয় কোন দিনটিতে?

    (ক) ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট (খ) ১৯৪৯ সালের ২৬শে নভেম্বর (গ) ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি (ঘ) ১৯৫০ সালের ১৫ই আগস্ট

    উত্তর: (গ) ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি

  27. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে হিন্দিকে সরকারি কাজের ভাষা (Union Official Language) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়?

    (ক) ৩৭০ নং (খ) ৩৪৩ নং (গ) ৩৫২ নং (ঘ) ৩৫৬ নং

    উত্তর: (খ) ৩৪৩ নং অনুচ্ছেদে

  28. ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে (8th Schedule) বর্তমানে স্বীকৃত মোট সরকারি ভাষা কয়টি?

    (ক) ১৪টি (খ) ১৮টি (গ) ২২টি (ঘ) ২৪টি

    উত্তর: (গ) ২২টি (শুরুতে ছিল ১৪টি)

  29. ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি পর্যালোচনার জন্য ১৯৪৮ সালে কংগ্রেস কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের কমিটি কোনটি?

    (ক) ফজল আলি কমিশন (খ) জেভিপি (JVP) কমিটি (গ) সাইমন কমিশন (ঘ) রাধাকৃষ্ণন কমিশন

    উত্তর: (খ) জেভিপি (JVP) কমিটি (জওহরলাল, বল্লভভাই, পট্টভি সীতারামাইয়া)

  30. পাঞ্জাব ভেঙে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্য দুটি আত্মপ্রকাশ করে কত সালে?

    (ক) ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে

    উত্তর: (খ) ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে

@ উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

২. একটি বাক্যে উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) 

  1. কোন আইন অনুসারে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক ডোমিনিয়ন সৃষ্টি হয়েছিল?

    উত্তর: ১৯৪৭ সালের ‘ভারতীয় স্বাধীনতা আইন’ (Indian Independence Act)-এর মাধ্যমে।

  2. ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্ত নির্ধারণকারী সীমানা কমিশনের সভাপতি কে ছিলেন?

    উত্তর: স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ (তাঁর নামানুসারেই সীমারেখাটির নাম ‘র‍্যাডক্লিফ লাইন’)।

  3. সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের বিশ্বস্ত সচিব ও দেশীয় রাজ্য দফতরের প্রধান কে ছিলেন?

    উত্তর: ভি. পি. মেনন।

  4. হায়দরাবাদের নিজামের নাম কী ছিল?

    উত্তর: মীর ওসমান আলি খান।

  5. কাশ্মীরকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছিল সংবিধানের কোন ধারায়?

    উত্তর: ৩৭০ নম্বর ধারায়।

  6. উদ্বাস্তু সমস্যা বলতে কী বোঝায়?

    উত্তর: ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ধর্মীয় দাঙ্গা ও নিরাপত্তার অভাবে ভিটেমাটি ত্যাগ করে পাকিস্তান থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া কোটি কোটি সর্বস্বান্ত মানুষের অস্তিত্বের সংকটকে উদ্বাস্তু সমস্যা বলে।

  7. ‘বাস্তুহারা’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ কী?

    উত্তর: যে মানুষ নিজ বসতবাটি বা বাসভূমি থেকে বলপূর্বক উৎখাত হয়েছে।

  8. পশ্চিমবঙ্গে আসা পূর্ববঙ্গের উদ্বাস্তুদের অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরগুলির একটি প্রধান শিবিরের নাম কী ছিল?

    উত্তর: নদীয়া জেলার কুপার্স ক্যাম্প (বা কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন প্ল্যাটফর্ম/ধানবাদ ক্যাম্প)।

  9. ঋত্বিক ঘটকের দেশভাগভিত্তিক ট্রিলজির তিনটি ছবির নাম লেখো।

    উত্তর: ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কোমল গান্ধার’ এবং ‘সুবর্ণরেখা’।

  10. জেভিপি (JVP) কমিটির সদস্যদের নাম কী কী?

    উত্তর: জওহরলাল নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল এবং পট্টভি সীতারামাইয়া।

  11. দর কমিশন (Dhar Commission) কত সালে গঠিত হয়েছিল?

    উত্তর: ১৯৪৮ সালে (বিচারপতি এস. কে. দরের নেতৃত্বে ভাষাভিত্তিক প্রদেশ পুনর্গঠন খতিয়ে দেখতে)।

  12. পোট্টি শ্রীরামুলু কত দিন অনশন করার পর মারা যান?

    উত্তর: ৫৮ দিন অনশনের পর (১৯৫২ সালের ১৫ই ডিসেম্বর)।

  13. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের অপর দুই সদস্য কে ছিলেন?

    উত্তর: ইতিহাসবিদ কে. এম. পানিক্কর এবং সমাজসেবী হৃদয়নাথ কুঞ্জরু (চেয়ারম্যান ছিলেন ফজল আলি)।

  14. সরকারি ভাষা আইন (Official Languages Act) কত সালে পাস হয়?

    উত্তর: ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে।

  15. ভারতের কোন অংশে পর্তুগিজরা শেষ দিন পর্যন্ত ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম রেখেছিল?

    উত্তর: গোয়া, দমন ও দিউ অঞ্চলে।

  16. অপারেশন বিজয় (Operation Vijay) কত সালে পরিচালিত হয়েছিল?

    উত্তর: ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে গোয়া মুক্ত করার জন্য।

  17. ‘রাজভাতা’ (Privy Purse) কী ছিল?

    উত্তর: ভারতে যোগদানের বিনিময়ে দেশীয় রাজাদের কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক প্রদেয় নির্দিষ্ট পরিমাণ বার্ষিক বিশেষ পেনশন ও সুযোগসুবিধা।

  18. চন্দননগর কবে আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাথে যুক্ত হয়?

    উত্তর: ১৯৫৪ সালের ২রা অক্টোবর।

  19. পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলাটি কোন আন্দোলনের ফলস্বরূপ এবং কবে গঠিত হয়?

    উত্তর: ভাষাভিত্তিক বঙ্গভুক্তি আন্দোলনের ফলে ১৯৫৬ সালের ১লা নভেম্বর (বিহারের মানভূম ভেঙে)।

  20. ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?

    উত্তর: ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।

@ উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৩. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ২) 

১. ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেসন’ (Instrument of Accession) কী ছিল?

উত্তর: এটি ছিল ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইনের অধীনস্থ একটি আইনগত দলিল বা ভারতভুক্তির অঙ্গীকারপত্র। দেশীয় রাজ্যের রাজারা এই দলিলে স্বাক্ষর করে প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক নীতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা—এই তিনটি প্রধান বিষয়ের কর্তৃত্ব ভারত সরকারের হাতে তুলে দিয়ে ভারতীয় ইউনিয়নে নিজেদের রাজ্যকে যুক্ত করতেন।

২. সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে কেন ‘ভারতের বিসমার্ক’ বলা হয়?

উত্তর: অটো ভন বিসমার্ক যেমন উনিশ শতকে বহু খণ্ডবিখণ্ড ক্ষুদ্র রাজ্যকে একত্রিত করে ঐক্যবদ্ধ জার্মানি গড়ে তুলেছিলেন, ঠিক তেমনি স্বাধীন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার প্যাটেল কূটনীতি, দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতের ৫৬৫টিরও বেশি বিচ্ছিন্ন দেশীয় রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে আধুনিক ভারতের ভৌগোলিক সংহতি নিশ্চিত করেন। তাই তাঁকে ‘ভারতের বিসমার্ক’ বলা হয়।

৩. জুনাগড় রাজ্যটি কীভাবে ভারতভুক্ত হয়েছিল?

উত্তর: কাথিয়াবাড়ের জুনাগড়ের নবাব মুহম্মদ মহাবত খানজি পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হতে চাইলে তাঁর হিন্দু প্রজারা তীব্র বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ‘আরজি হুকুমত’ নামে অস্থায়ী সরকার গঠন করেন। নবাব করাচিতে পালিয়ে গেলে ভারত সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে সেনা পাঠায় এবং ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৯৯% প্রজা ভারতের পক্ষে মত দেওয়ায় রাজ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।

৪. নেহরু-লিয়াকত চুক্তি বা দিল্লি চুক্তির (১৯৫০) মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: দেশভাগের পরবর্তী সময়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে এবং ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রদায়িক হিংসা এবং বিপুল উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানকল্পে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল উভয় দেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ রোধ করা এবং দেশত্যাগী শরণার্থীদের সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করা।

৫. পাঞ্জাব ও বাংলার উদ্বাস্তু সমস্যার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী ছিল?

উত্তর: পশ্চিম পাকিস্তান (পাঞ্জাব) থেকে আসা শরণার্থীরা মূলত একবারেই একতরফা বিপুল সংখ্যায় চলে এসেছিল এবং কেন্দ্রীয় সরকার তাদের ফেলে আসা সম্পত্তির বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছিল। পক্ষান্তরে, পূর্ব পাকিস্তান (বাংলা) থেকে উদ্বাস্তুরা একবারে আসেনি; দীর্ঘকাল ধরে দফায় দফায় ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় এসেছিল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতার ফলে তাদের পুনর্বাসন বহু বছর ধরে চরম অবহেলিত ছিল।

৬. পোট্টি শ্রীরামুলু কেন স্মরণীয়?

উত্তর: পোট্টি শ্রীরামুলু ছিলেন একজন গান্ধীবাদী নেতা। তিনি তৎকালীন মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির তেলুগুভাষী অঞ্চলগুলিকে পৃথক করে একটি নতুন তেলুগুভাষী রাজ্য ‘অন্ধ্রপ্রদেশ’ গঠনের দাবিতে ১৯৫২ সালে আমরণ অনশন শুরু করেন। টানা ৫৮ দিন অনশনের পর তাঁর আত্মবলিদানের ফলে তেলুগুভাষীদের আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকার অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যটি গঠন করতে বাধ্য হয়।

৭. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন (১৯৫৩) কেন গঠিত হয়েছিল?

উত্তর: পোট্টি শ্রীরামুলুর মৃত্যুর পর পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠিত হলে সমগ্র ভারতে বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাষাভিত্তিক নিজস্ব রাজ্য গঠনের দাবি তীব্র আকার ধারণ করে। সমগ্র ভারতের রাজ্যগুলির সীমারেখা নির্ধারণের যৌক্তিকতা বিচার ও পর্যালোচনা করার উদ্দেশ্যে নেহরু সরকার ১৯৫৩ সালে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ফজল আলির সভাপতিত্বে তিন সদস্যের এই কমিশন গঠন করে।

৮. সরকারি ভাষা আইন (Official Languages Act, ১৯৬৩)-এর মূল বিধান কী ছিল?

উত্তর: ভারতীয় সংবিধানে উল্লেখ ছিল যে ১৯৬৫ সালের ২৬শে জানুয়ারি থেকে ইংরেজি ভাষা বন্ধ হয়ে হিন্দিই হবে একমাত্র সরকারি ভাষা। এর প্রতিবাদে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলিতে (বিশেষত তামিলনাড়ুতে) তীব্র আন্দোলন শুরু হলে ১৯৬৩ সালে এই আইন পাস করা হয়। এতে স্পষ্ট বলা হয় যে ১৯৬৫ সালের পরও অনির্দিষ্টকালের জন্য হিন্দিকে প্রধান সরকারি ভাষা রাখার পাশাপাশি ইংরেজিকেও সহযোগী সরকারি কাজের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

৯. ‘অপারেশন পোলো’ (Operation Polo) কী ছিল?

উত্তর: স্বাধীন ভারতের অভ্যন্তরে থেকেও হায়দরাবাদের শাসক নিজাম ওসমান আলি খান ভারতে যোগ না দিয়ে কাসিম রিজভির ‘রাজাকার’ গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে হিন্দু প্রজাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সর্দার প্যাটেলের নির্দেশে ১৯৪৮ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনা হায়দরাবাদে প্রবেশ করে সামরিক অভিযান চালায়। এই অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন পোলো’। মাত্র চার দিনের মাথায় ১৮ই সেপ্টেম্বর নিজাম আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।

১০. গোয়া কীভাবে স্বাধীন ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল?

উত্তর: ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হলেও পর্তুগিজরা গোয়া, দমন ও দিউ খালি করতে অস্বীকার করে এবং আন্দোলনরত শান্তিকামী ভারতীয়দের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়। অবশেষে ১৯৬১ সালের ১৮ই ডিসেম্বর জওহরলাল নেহরুর নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী স্থল, জল ও আকাশপথে ‘অপারেশন বিজয়’ শুরু করে। পর্তুগিজ গভর্নর ম্যানুয়েল সিলভা আত্মসমর্পণ করেন এবং ১৯৬১ সালের ১৯শে ডিসেম্বর গোয়া ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে যুক্ত হয়।

@ উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৪. বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৪)

প্রশ্ন ১: কাশ্মীর সমস্যা সৃষ্টিতে পাকিস্তানের ভূমিকা এবং ভারতের অন্তর্ভুক্তির প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।

উত্তর:

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় কাশ্মীর ছিল একটি কৌশলগত দেশীয় রাজ্য। এর মহারাজা হরিসিং হিন্দু হলেও প্রজার সিংহভাগ ছিল মুসলিম।

  • স্ট্যান্ডস্টিল চুক্তি ও হরিসিংয়ের অবস্থান: মহারাজা হরিসিং ভারত বা পাকিস্তান কোনো ডোমিনিয়নেই অবিলম্বে যোগ না দিয়ে একটি স্বাধীন কাশ্মীর রাষ্ট্র হিসেবে বজায় রাখার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি পাকিস্তানের সাথে ‘স্থিতাবস্থা চুক্তি’ (Standstill Agreement) স্বাক্ষর করেন।

  • পাকিস্তানের আগ্রাসন ও বিশ্বাসঘাতকতা: স্থিতাবস্থা চুক্তি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান কাশ্মীরকে জোরপূর্বক দখল করার চক্রান্ত করে। ১৯৪৭ সালের ২২শে অক্টোবর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মদতে হাজার হাজার অস্ত্রধারী আফ্রিদি উপজাতি হানাদার কাশ্মীর আক্রমণ করে এবং গণহত্যা ও লুণ্ঠন চালিয়ে রাজধানী শ্রীনগরের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

  • ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর: দিশাহারা মহারাজা হরিসিং ভারত সরকারের কাছে সামরিক সহায়তার আর্জি জানান। ভারত সরকার জানায়, বৈধ ভারতভুক্তি ছাড়া সেখানে ভারতীয় সেনা পাঠানো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। অবশেষে ১৯শে অক্টোবর মহারাজা হরিসিং ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেসন’-এ স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেন।

  • সেনা অভিযান ও বর্তমান সমস্যা: ভারতীয় বিমানবাহিনীর জওয়ানরা দ্রুত শ্রীনগরে নেমে পাক হানাদারদের পিছু হটতে বাধ্য করে। কাশ্মীরের সিংহভাগ এলাকা মুক্ত হলেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পাকিস্তানের দখলে থেকে যায়, যা আজ ‘পাক-অধিকৃত কাশ্মীর’ (POK) নামে পরিচিত। জওহরলাল নেহরু বিষয়টি রাষ্ট্রসংঘে নিয়ে গেলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিতর্কে পরিণত হয়।

প্রশ্ন ২: দেশভাগের পর সৃষ্ট উদ্বাস্তু সমস্যার প্রকৃতি ও পুনর্বাসনে সরকারের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের দেশভাগ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। ভিটেমাটি হারানো কোটি কোটি মানুষের উদ্বাস্তু সংকট স্বাধীন ভারতের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

  • উদ্বাস্তু সংকটের ভৌগোলিক দ্বিমুখিতা: পশ্চিম পাকিস্তান (পাঞ্জাব) এবং পূর্ব পাকিস্তান (বাংলা) থেকে আসা উদ্বাস্তুদের মধ্যে চারিত্রিক ভিন্নতা ছিল:

    • পাঞ্জাব সীমান্ত: প্রায় ৬০ লক্ষ শিখ ও হিন্দু একবারে চলে আসেন। একই সাথে মুসলিমরাও ভারতে তাদের জমি ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যায়। ফলে পশ্চিম সীমান্তে কেন্দ্রীয় সরকার জমি ও সম্পত্তির সমবণ্টন ও বিনিময় করে পুনর্বাসনের কাজ তুলনামূলকভাবে দ্রুত শেষ করতে পেরেছিল।

    • বাংলা সীমান্ত: পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর মাঝেমধ্যেই দাঙ্গা ও নির্যাতন শুরু হলে লক্ষ লক্ষ বাঙালি উদ্বাস্তু কিস্তিতে কিস্তিতে ভারতে আসতে থাকেন। ১৯৫০-এর দাঙ্গা ও ১৯৬৫-র যুদ্ধের সময় এই সংখ্যা মারাত্মক আকার নেয়।

  • সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও অবহেলা: কেন্দ্রীয় সরকার পাঞ্জাবের উদ্বাস্তুদের জন্য ‘ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী পুনর্বাসন’ দিলেও পূর্ববঙ্গের উদ্বাস্তুদের ক্ষেত্রে ধরে নিয়েছিল যে পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা ফিরে যাবে। ফলে বাংলায় আসা উদ্বাস্তুদের জন্য কেবল নামমাত্র ‘ত্রাণ শিবির’ (দণ্ডকারণ্য, আন্দামান) খোলা হয়েছিল, যা ছিল চরম অমানবিক ও রোগ-মহামারীতে পূর্ণ।

  • বাঙালির স্বউদ্যোগী লড়াই: সরকারি অনীহার মুখে পূর্ববঙ্গের উদ্বাস্তুরা কলকাতার উপকণ্ঠে সরকারি ও বেসরকারি খাস জমি দখল করে ‘জবরদখল কলোনি’ গড়ে তুলে নিজস্ব আত্মমর্যাদা ও পরিশ্রমের জোরে সমাজে বেঁচে থাকার অধিকার ছিনিয়ে নেন।

প্রশ্ন ৩: স্বাধীন ভারতে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন আন্দোলনের কারণ ও ফলাফল সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা তাদের প্রশাসনিক ও সামরিক সুবিধার জন্য অবৈজ্ঞানিকভাবে বিভিন্ন ভাষাভাষী অঞ্চলকে একসাথে জুড়ে বড় বড় প্রদেশ তৈরি করেছিল। স্বাধীনতা লাভের পর ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে:

  • আন্দোলনের কারণসমূহ:

    • গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা: সাধারণ মানুষের মাতৃভাষার সাথে সরকারি ভাষা ও আদালতের ভাষার মিল না থাকায় একটি বহুভাষিক প্রদেশে সংখ্যালঘুরা নিজেদের শোষিত মনে করত।

    • কংগ্রেসের ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি: ১৯২০ সালে নাগপুর অধিবেশনে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে দেশ স্বাধীন হলে ভাষাভিত্তিক প্রদেশ গঠন করা হবে। স্বাধীনতার পর নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে নেহরু ও প্যাটেল এই দাবি স্থগিত রাখতে চাইলে আঞ্চলিক জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

  • শ্রীরামুলুর বলিদান ও প্রথম স্ফুরণ: মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে তামিলদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে তেলুগুভাষী নেতা পোট্টি শ্রীরামুলুর আত্মবলিদানের জেরে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ শুরু হলে ১৯৫৩ সালে প্রথম ভাষাভিত্তিক রাজ্য ‘অন্ধ্রপ্রদেশ’ গঠিত হয়।

  • ফলাফল ও রাজ্য পুনর্গঠন আইন (১৯৫৬):

    • আন্দোলনের চাপে সরকার ‘রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন’ (SRC) গঠন করতে বাধ্য হয়। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাস হয়।

    • এর ফলে ভারতে ১৪টি পূর্ণাঙ্গ রাজ্য এবং ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করা হয়। ভাষাভিত্তিক ক্ষোভ প্রশমিত হওয়ায় ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশের অভ্যন্তরীণ জাতীয় সংহতি ও যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো আরো অনেক বেশি সুদৃঢ় হয়।

@ উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৫. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৮) 

প্রশ্ন: দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ক্ষেত্রে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকা মূল্যায়ন করো। হায়দরাবাদ কীভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল? (৫ + ৩)

উত্তর:

ক. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তিতে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকা (মান: ৫):

১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ব্রিটিশ শাসনের অবসানের সময় ভারতে প্রায় ৫৬৫টি দেশীয় রাজ্য ছিল। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হওয়া ভারতীয় স্বাধীনতা আইনে বলা হয়েছিল যে দেশীয় রাজ্যগুলি ভারত বা পাকিস্তান যেকোনো রাষ্ট্রে যোগ দিতে পারে, কিংবা ইচ্ছা করলে সম্পূর্ণ স্বাধীন হিসেবেও থাকতে পারে। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরে শত শত ‘সার্বভৌম রাষ্ট্র’ তৈরি হয়ে ভারতের মানচিত্র এক টুকরো টুকরো ‘বলকান রাষ্ট্রপুঞ্জে’ পরিণত হওয়ার ঘোর আশঙ্কা দেখা দেয়।

এই মহাসংকটের মুহূর্তে স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল তাঁর প্রখর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সচিব ভি. পি. মেননের সহযোগিতায় অসাধ্য সাধন করেন:

১. দেশপ্রেমের মানবিক আবেদন:

প্যাটেল প্রথমে সমস্ত দেশীয় রাজন্যবর্গকে আবেগময় আহ্বান জানিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন যে ভারতমাতার ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা তাঁদের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি রাজাদের বোঝান যে সাধারণ প্রজারা ভারতে যোগ দেওয়ার পক্ষে, তাই রাজারা জনমতের বিরুদ্ধে গেলে নিজ রাজ্যেই জনবিদ্রোহে উৎখাত হবেন।

২. কার্যকরী নীতি ও প্রলোভন (ক্যারেট অ্যান্ড স্টিক পলিসি):

তিনি ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেসন’ দলিলের মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত আপস করেন। রাজাদের আশ্বস্ত করা হয় যে তাঁদের রাজকোষ, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পারিবারিক সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকবে। এছাড়া রাজাদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারি তহবিল থেকে নির্দিষ্ট বার্ষিক করমুক্ত বিশেষ পেনশন বা ‘রাজভাতা’ (Privy Purse) মঞ্জুর করা হয়।

৩. কঠোর ও আপসহীন মনোভাব:

অধিকাংশ দেশীয় রাজ্য সহজে স্বাক্ষর করলেও ত্রিবাঙ্কুর, ভূপাল, যোধপুর, জুনাগড় ও হায়দরাবাদের মতো কিছু রাজ্য স্বাধীনতা বজায় রাখার জেদ ধরে। প্যাটেল স্পষ্ট বার্তা দেন যে ভারতের ভৌগোলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে দেশের অভ্যন্তরে কোনো ‘শত্রুর দুর্গ’ গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। যেখানে কূটনীতি ব্যর্থ হয়েছিল, সেখানে তিনি পুলিশ ও সামরিক শক্তির কঠোর প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন।

প্যাটেলের এই অতুলনীয় দৃঢ়তা ও দেশপ্রেমের কারণেই রক্তপাত ছাড়াই ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্য দ্রুত ভারতের মানচিত্রে অঙ্গীভূত হয়ে আধুনিক সার্বভৌম ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম দেয়।

খ. হায়দরাবাদের ভারতভুক্তি (মান: ৩):

হায়দরাবাদ ছিল আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে ভারতের বৃহত্তম ও সম্পদশালী দেশীয় রাজ্য। এর প্রায় ৮৫% প্রজা ছিল হিন্দু, কিন্তু শাসক নিজাম মীর ওসমান আলি খান ছিলেন মুসলিম।

১. নিজামের ঔদ্ধত্য ও ষড়যন্ত্র:

নিজাম স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখার দাবি জানিয়ে ভারতের সাথে এক বছরের জন্য ‘স্থিতাবস্থা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। কিন্তু গোপনে তিনি পর্তুগিজদের সাথে গোয়া বন্দর ব্যবহারের চুক্তি করেন, পাকিস্তানের কাছ থেকে অস্ত্র আমদানি করেন এবং কাসিম রিজভির নেতৃত্বে উগ্র সাম্প্রদায়িক ‘রাজাকার বাহিনী’ গড়ে তোলেন। রাজাকাররা তেলেঙ্গানার নিরীহ হিন্দু প্রজা ও কৃষকদের ওপর হত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণের তাণ্ডব চালাতে শুরু করে।

২. অপারেশন পোলো (Operation Polo):

পরিস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে উঠলে সর্দার প্যাটেল চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেন। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই সেপ্টেম্বর মেজর জেনারেল জয়ন্তনাথ চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনী চারদিক থেকে হায়দরাবাদ আক্রমণ করে, যার সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন পোলো’।

৩. চূড়ান্ত পরিণতি:

আধুনিক ভারতীয় সেনাবাহিনীর সামরিক শক্তির সামনে রাজাকার বাহিনী ও নিজামের সেনা মাত্র চার দিনের মধ্যে ভেঙে পড়ে। ১৯৪৮ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর নিজাম নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। হায়দরাবাদ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং নিজামকে ‘রাজপ্রমুখ’ পদে নিয়োগ করে ভারত সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

উপসংহার:

সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের আপসহীন জাতীয়তাবাদী মনোভাব যদি সেই মুহূর্তে সক্রিয় না থাকত, তবে ভারত বহু বিচ্ছিন্ন রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে গৃহযুদ্ধের আঁতুড়ঘরে পরিণত হতো। তাঁর এই অনন্য অবদানের ফলেই ভারত আজকের মতো একটি অখণ্ড ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরাশক্তিতে রূপান্তরিত হতে পেরেছে।

PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)

উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত প্রশ্নের উত্তর

উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ (১০০টি) , SAQ (১০০টি), ২ নম্বরের প্রশ্ন (৫০টি), ৪ নম্বরের প্রশ্ন (১৫টি) উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232

১) মাধ্যমিক ইতিহাস অষ্টম অধ্যায় – উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত (Only for Subscribers) 

Click here to view pdf file

সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে

তালনবমী MCQ

আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে। @ উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।

জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে।

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। @ উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।

পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।

আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন।

আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করার প্রচেষ্টা করবেন না !
Scroll to Top