বহির্জাত প্রকৃয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ প্রশ্নের উত্তর Class 10 Geography
বহির্জাত প্রকৃয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ প্রশ্নের উত্তর Class 10 Geography এখানে WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে দশম শ্রেণির মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করা হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই ভূগোল প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
বহির্জাত প্রকৃয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ প্রশ্নের উত্তর Class 10 Geography :
১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষয়, পরিবহন ও সঞ্চয় কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি হয়ে ভূ-পৃষ্ঠ সমতলে পরিণত হয়, তাকে বলে—
(ক) অন্তর্জাত প্রক্রিয়া (খ) পর্যায়ন (গ) আবহবিকার (ঘ) পুঞ্জিত ক্ষয়
উত্তর: (খ) পর্যায়ন (Gradation)
‘পর্যায়ন’ (Gradation) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন ভূবিজ্ঞানী—
(ক) জি. কে. গিলবার্ট (খ) চেম্বারলিন ও স্যালিসবারি (গ) ডব্লিউ. এম. ডেভিস (ঘ) পেঙ্ক
উত্তর: (খ) চেম্বারলিন ও স্যালিসবারি (১৯০৪ খ্রি.)
ক্ষয়সীমা (Base level of erosion) ধারণার প্রবর্তক হলেন—
(ক) জে. ডব্লিউ. পাওয়েল (খ) ডব্লিউ. এম. ডেভিস (গ) পেঙ্ক (ঘ) হ্যাক
উত্তর: (ক) জে. ডব্লিউ. পাওয়েল (১৮৭৫ খ্রি.)
নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলে তার বহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়—
(ক) ১৬ গুণ (খ) ৩২ গুণ (গ) ৬৪ গুণ (ঘ) ১২৮ গুণ
উত্তর: (গ) ৬৪ গুণ (ষষ্ঠ ঘাতের সূত্রানুসারে)
শুষ্ক অঞ্চলে সৃষ্ট গভীর ও গিরিখাত সদৃশ গিরিসঙ্কটকে বলে—
(ক) ক্যানিয়ন (খ) অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ (গ) প্লাঞ্জপুল (ঘ) ড্রামলিন
উত্তর: (ক) ক্যানিয়ন
বিশ্বের গভীরতম গিরিখাত কোনটি?
(ক) গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (খ) কালীগণ্ডকী বা অন্ধাগলচি (গ) ইয়ারলুং সাংপো (ঘ) কলোরাডো গিরিখাত
উত্তর: (খ) কালীগণ্ডকী বা অন্ধাগলচি (নেপাল)
জলপ্রপাতের তলদেশে সৃষ্ট বিশালাকার গর্তকে কী বলা হয়?
(ক) মন্থকূপ (খ) প্রপাতকূপ বা প্লাঞ্জপুল (গ) পলল শঙ্কু (ঘ) কেট্ল
উত্তর: (খ) প্রপাতকূপ বা প্লাঞ্জপুল
নদীর তলদেশে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ছোট ছোট গোল গর্তগুলিকে বলে—
(ক) মন্থকূপ বা পটহোল (খ) প্লাঞ্জপুল (গ) ফিয়র্ড (ঘ) ইয়ার্দাং
উত্তর: (ক) মন্থকূপ বা পটহোল
পাখির পায়ের মতো আকৃতির বদ্বীপ দেখা যায় কোন নদীতে?
(ক) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র (খ) নীল নদ (গ) মিসিসিপি-মিসৌরি (ঘ) রাইন
উত্তর: (গ) মিসিসিপি-মিসৌরি
ধনুকাকৃতি বদ্বীপের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো—
(ক) নীল নদের বদ্বীপ (খ) মিসিসিপির বদ্বীপ (গ) তাইবার নদীর বদ্বীপ (ঘ) সুবর্ণরেখার বদ্বীপ
উত্তর: (ক) নীল নদের বদ্বীপ (গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপও এর অন্তর্গত)
নদীর সঞ্চয়কাজের ফলে সৃষ্ট ধনুকের মতো বাঁকা হ্রদকে বলে—
(ক) ক্র্যাটায়ার হ্রদ (খ) অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ (গ) উপহ্রদ (ঘ) প্যাটারনস্টার হ্রদ
উত্তর: (খ) অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ
হিমবাহ ও পর্বতগাত্রের মধ্যবর্তী ফাঁক বা ফাটলকে বলে—
(ক) ক্রেভাস (খ) বার্গস্রুন্ড (গ) সার্ক (ঘ) এরিতি
উত্তর: (খ) বার্গস্রুন্ড
হিমবাহের উপরিভাগে সৃষ্ট আড়াআড়ি ও সমান্তরাল ফাটলকে কী বলে?
(ক) বার্গস্রুন্ড (খ) ক্রেভাস (গ) সার্ক (ঘ) রারিকি
উত্তর: (খ) ক্রেভাস
ফ্রান্সে সার্ক বা করি ভূমিরূপটিকে কী বলা হয়?
(ক) কম্ব (খ) বোথেন (গ) সার্ক (ঘ) কোয়ারি
উত্তর: (গ) সার্ক (ওয়েলসে ‘কম্ব’ ও স্কটল্যান্ডে ‘করি’)
হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট পিরামিড চূড়ার একটি বিখ্যাত উদাহরণ হলো—
(ক) মাউন্ট এভারেস্ট (খ) আল্পস পর্বতের ম্যাটারহর্ন (গ) কাঞ্চনজঙ্ঘা (ঘ) কে-টু
উত্তর: (খ) আল্পস পর্বতের ম্যাটারহর্ন
ঝুলন্ত উপত্যকায় হিমবাহের গলিত জল বা নদী পতিত হয়ে সৃষ্টি করে—
(ক) জলপ্রপাত (খ) অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ (গ) গিরিখাত (ঘ) ইয়ার্দাং
উত্তর: (ক) জলপ্রপাত
হিমবাহের অবঘর্ষ ও উৎপাটন ক্ষয়ের ফলে অসম মসৃণ-অমসৃণ ঢালযুক্ত শিলাখণ্ডকে বলে—
(ক) রশ মোতানে (খ) ড্রামলিন (গ) এসকার (ঘ) কাম
উত্তর: (ক) রশ মোতানে
উল্টানো নৌকা বা ডিমভর্তি ঝুড়ির মতো দেখতে ভূমিরূপ কোনটি?
(ক) রশ মোতানে (খ) ড্রামলিন (গ) কেম (ঘ) বার্খান
উত্তর: (খ) ড্রামলিন
হিমবাহ বাহিত অসম আকৃতির সঞ্চিত নুড়ি, বালি, পাথরকে একত্রে বলে—
(ক) গ্রাবরেখা (খ) টিল বা বোল্ডার ক্লে (গ) লোয়েস (ঘ) ইনসেলবার্জ
উত্তর: (খ) টিল বা বোল্ডার ক্লে
হিমবাহ গলা জলের ধারার সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো ভূমিরূপ হলো—
(ক) এসকার (খ) কেম (গ) বার্খান (ঘ) জুগেন
উত্তর: (ক) এসকার
উপকূল অঞ্চলে হিমবাহের ক্ষয়ে সৃষ্ট সমুদ্রজলে নিমজ্জিত উপত্যকাকে বলে—
(ক) ফিয়র্ড (খ) কয়াল (গ) ব্যাকওয়াটার (ঘ) খাড়ি
উত্তর: (ক) ফিয়র্ড (নরওয়ের উপকূলে সর্বাধিক দৃশ্যমান)
মরু অঞ্চলের শুষ্ক ও জলহীন নদীখাতকে বলা হয়—
(ক) ওয়াদি (খ) প্লায়া (গ) বাজাদা (ঘ) পেডিমেন্ট
উত্তর: (ক) ওয়াদি
মরু অঞ্চলে ক্ষয়ের ফলে অবশিষ্ট দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন শিলার টিলাকে বলে—
(ক) ইনসেলবার্জ (খ) ইয়ার্দাং (গ) মোনাডনক (ঘ) ড্রামলিন
উত্তর: (ক) ইনসেলবার্জ
বাতাসের অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে ভূমিরূপকে বলে—
(ক) জিউগেন (খ) গৌর বা গারা (গ) ইয়ার্দাং (ঘ) বার্খান
উত্তর: (খ) গৌর বা গারা
কঠিন ও কোমল শিলা উলম্বভাবে অবস্থান করলে বায়ুর অবঘর্ষে খাঁজকাটা রূপ নেয়—
(ক) জিউগেন (খ) ইয়ার্দাং (গ) গৌর (ঘ) ইনসেলবার্জ
উত্তর: (খ) ইয়ার্দাং
অর্ধচন্দ্রাকার চলমান বালিয়াড়িকে কী বলা হয়?
(ক) সিফ বালিয়াড়ি (খ) বার্খান (গ) নক্ষত্র বালিয়াড়ি (ঘ) অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি
উত্তর: (খ) বার্খান
বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত সূক্ষ্ম হলুদ কাদার কণা দ্বারা গঠিত সমভূমি হলো—
(ক) প্লায়া (খ) হামাদা (গ) লোয়েস (ঘ) বাজাদা
উত্তর: (গ) লোয়েস সমভূমি (চীনের হোয়াংহো অববাহিকা)
মরুভূমির লবণাক্ত জলের অস্থায়ী হ্রদকে কী বলা হয়?
(ক) প্লায়া (খ) ধান্দ (গ) কয়াল (ঘ) তাল
উত্তর: (ক) প্লায়া (রাজস্থানে ‘ধান্দ’)
পর্বতের পাদদেশে বায়ু ও জলধারার যৌথ কার্যের ফলে গঠিত ক্ষয়জাত সমভূমি হলো—
(ক) পেডিমেন্ট (খ) বাজাদা (গ) প্লায়া (ঘ) ইনসেলবার্জ
উত্তর: (ক) পেডিমেন্ট
পাথুরে বা শিলাময় মরুভূমি সাহারায় কী নামে পরিচিত?
(ক) আর্গ (খ) হামাদা (গ) রেগ (ঘ) ধান্দ
উত্তর: (খ) হামাদা
@ বহির্জাত প্রকৃয়া প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
২. একটি বাক্যে উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
বহির্জাত প্রক্রিয়াগুলির শক্তির মূল উৎস কী?
উত্তর: সূর্য এবং সৌরশক্তি (অতিরিক্ত প্রভাব ফেলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি)।
আরোহণ প্রক্রিয়া কাকে বলে?
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় ক্ষয়প্রাপ্ত বা বাহিত পদার্থ সঞ্চিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, তাকে আরোহণ প্রক্রিয়া বলে।
অবরোহণ প্রক্রিয়া কাকে বলে?
উত্তর: আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠের উঁচু স্থানগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নীচু হওয়ার প্রক্রিয়াকে অবরোহণ বলে।
নদীর ষষ্ঠ ঘাতের সূত্রটি কার দেওয়া?
উত্তর: ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে ডব্লিউ. হপকিন্স এই সূত্রটি প্রদান করেন।
পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ সমভূমি কোনটি?
উত্তর: গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনা বা সুন্দরবন বদ্বীপ সমভূমি।
ভারতের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত কোনটি?
উত্তর: কর্ণাটকের বরাহী নদীর উপর অবস্থিত কুঞ্চিকল জলপ্রপাত (উচ্চতা প্রায় ৪৫৫ মিটার)।
পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাতটির নাম কী?
উত্তর: ভেনেজুয়েলার চুরুন নদীর উপর অবস্থিত সালতো অ্যাঞ্জেল বা অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত (৯৭৯ মিটার)।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন কোন নদীর গতিপথে গড়ে উঠেছে?
উত্তর: উত্তর আমেরিকার কলোরাডো নদীর গতিপথে।
হিমরেখা (Snowline) কাকে বলে?
উত্তর: ভূ-পৃষ্ঠের যে উচ্চতা সীমার উপরে বরফ কখনও গলে না এবং যার নিচে বরফ স্থায়ীভাবে জমে থাকে না, তাকে হিমরেখা বলে।
পৃথিবীর দ্রুততম হিমবাহ কোনটি?
উত্তর: গ্রিনল্যান্ডের জ্যাকবসাভন (বা কুয়ারাইয়াক) হিমবাহ।
পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশীয় হিমবাহ কোনটি?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকার ল্যাম্বার্ট হিমবাহ।
ভারতের দীর্ঘতম উপত্যকা বা পার্বত্য হিমবাহ কোনটি?
উত্তর: কারাকোরাম পর্বতমালার সিয়াচেন হিমবাহ (দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৬ কিমি)।
দুটি সার্ক পাশাপাশি অবস্থান করলে তাদের মাঝখানের তীক্ষ্ণ শৈলশিরাকে কী বলে?
উত্তর: এরিতি বা আরেত (Arête) বলে।
হিমবাহের উপত্যকার ইংরেজি অক্ষরের রূপ কেমন হয়?
উত্তর: ইংরেজি ‘U’ আকৃতির মতো দেখতে হয়।
মরুভূমির দুটি বার্খানের মধ্যবর্তী বালিহীন পথকে কী বলা হয়?
উত্তর: গাসি (Gassi) বা করিডোর বলে।
মরুস্থলী কথাটির আক্ষরিক অর্থ কী?
উত্তর: ‘মৃতের দেশ’।
মরু অঞ্চলের সমতল প্লায়া হ্রদকে উত্তর আফ্রিকায় কী বলে?
উত্তর: শটস (Chotts) বলা হয়।
পেডিমেন্টের সামনের অংশে নুড়ি-বালি সঞ্চিত হয়ে যে মৃদু ঢালু সমভূমি গড়ে তোলে তাকে কী বলে?
উত্তর: বাজাদা (Bajada) বলে।
ভারতের বৃহত্তম মরুভূমির নাম কী?
উত্তর: রাজস্থানের থর মরুভূমি।
সমুদ্রের তলদেশে নিমজ্জিত হিমবাহের সঞ্চিত বালির ঢিবিকে কী বলা হয়?
উত্তর: মগ্নচড়া (Submerged Bank) বলে।
@ বহির্জাত প্রকৃয়া প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৩. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ২)
১. পর্যায়ন (Gradation) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে গতিশীল প্রাকৃতিক বহির্জাত প্রক্রিয়ায় ক্ষয়কাজের মাধ্যমে উঁচু স্থান নীচু হওয়া (অবরোহণ) এবং সঞ্চয়কাজের মাধ্যমে নীচু স্থান ভরাট হওয়া (আরোহণ)—এই দুইয়ের পারস্পরিক সমন্বয়ে ভূ-পৃষ্ঠে একটি সাধারণ তল বা ভারসাম্য অবস্থা তৈরি হয়, তাকে পর্যায়ন বলে।
২. ষষ্ঠ ঘাতের সূত্র (Sixth Power Law) কী?
উত্তর: নদীর বহন ক্ষমতার সাথে তার প্রবাহের গতিবেগের একটি গাণিতিক সম্পর্ক রয়েছে। নদীর গতিবেগ যদি কোনো কারণে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়, তবে তার পলি, বালি, পাথর বহন করার ক্ষমতা $2^6 = 64$ গুণ বৃদ্ধি পায়। একেই হপকিন্সের ‘ষষ্ঠ ঘাতের সূত্র’ বলা হয়।
৩. জলবিভাজিকা (Water Divide) কাকে বলে?
উত্তর: যে উচ্চভূমি (যেমন—পাহাড়, পর্বত বা মালভূমি) পাশাপাশি অবস্থিত দুটি বা ততোধিক নদী অববাহিকাকে পরস্পর থেকে পৃথক করে রাখে, তাকে জলবিভাজিকা বলে। যেমন—মধ্য ভারতের বিন্ধ্য পর্বত উত্তর ভারতের গঙ্গা নদী অববাহিকা ও দক্ষিণ ভারতের নর্মদা অববাহিকাকে পৃথক করেছে।
৪. ক্যানিয়ন (Canyon) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: বৃষ্টিহীন শুষ্ক মরু বা শুষ্কপ্রায় অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয় খুব বেশি হয়, কিন্তু বৃষ্টিপাতের অভাবে আবহবিকার ও পার্শ্বক্ষয় প্রায় হয় না বললেই চলে। ফলে নদীখাতটি অত্যন্ত গভীর, সংকীর্ণ এবং খাড়া বা ‘I’ আকৃতির রূপ ধারণ করে। একে ক্যানিয়ন বলে (যেমন—যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন)।
৫. প্রপাতকূপ বা প্লাঞ্জপুল (Plunge Pool) কী?
উত্তর: জলপ্রপাতের তলদেশে ওপর থেকে বিপুল বেগে নেমে আসা জলধারা ও তার সাথে বাহিত পাথরের টুকরোর প্রবল ঘূর্ণি ও আঘাতের (জলপ্রবাহ ক্ষয় ও অবঘর্ষের) কারণে যে বিশালাকার গভীর হাঁড়ির মতো গর্ত তৈরি হয়, তাকে প্রপাতকূপ বা প্লাঞ্জপুল বলে।
৬. বার্গস্রুন্ড (Bergschrund) ও ক্রেভাস (Crevasse)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
বার্গস্রুন্ড: এটি পর্বতের খাড়া দেওয়াল ও হিমবাহের উৎসের মধ্যে তৈরি হওয়া একটিমাত্র গভীর ও বিপজ্জনক ফাটল।
ক্রেভাস: এটি হিমবাহের অসম ঢালে চলাচলের সময় তার বরফের উপরিভাগে সৃষ্ট অসংখ্য আড়াআড়ি ও সমান্তরাল সাময়িক ফাটল।
৭. ফিয়র্ড (Fiord) কাকে বলে?
উত্তর: উচ্চ অক্ষাংশে উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রাচীন হিমবাহের ক্ষয়ে তৈরি হওয়া গভীর ‘U’ আকৃতির উপত্যকাগুলি হিমবাহ গলে যাওয়ার পর সমুদ্রের জলতলের উত্থানের কারণে নিমজ্জিত হয়ে যে সংকীর্ণ ও খাড়া দেওয়ালযুক্ত সামুদ্রিক খাঁড়ির সৃষ্টি করে, তাকে ফিয়র্ড বলে। নরওয়েকে ‘ফিয়র্ডের দেশ’ বলা হয়।
৮. ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley) কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: পার্বত্য অঞ্চলে প্রধান নদী উপত্যকার তুলনায় প্রধান হিমবাহ উপত্যকা অনেক বেশি গভীর ও চওড়া হয়। ফলে ছোট ছোট উপনদী বা উপ-হিমবাহের কম ক্ষয়প্রাপ্ত অগভীর উপত্যকাগুলি প্রধান হিমবাহ উপত্যকার ওপর শূন্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে হয়। একে ঝুলন্ত উপত্যকা বলে।
৯. রশ মোতানে (Roche Moutonnée) কী?
উত্তর: হিমবাহের প্রবাহপথে কোনো কঠিন শিলাখণ্ড অবস্থান করলে, হিমবাহের ঘর্ষণে তার প্রবাহের দিকটি (সম্মুখ ভাগ) অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় মসৃণ ও মৃদু ঢালু হয় এবং বিপরীত দিকটি উৎপাটন প্রক্রিয়ায় ভেঙে খাঁজকাটা ও খাড়া অমসৃণ রূপ নেয়। এই ধরনের শিলাঢিবিকে রশ মোতানে বলে।
১০. ড্রামলিন (Drumlin) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: হিমবাহ ও জলধারার যৌথ সঞ্চয়কাজের ফলে প্রান্তভাগে টিল ও বোল্ডার ক্লে সঞ্চিত হয়ে উল্টানো চামচ, উল্টানো নৌকা বা ডিমভর্তি ঝুড়ির মতো দেখতে যেসব দীর্ঘাকার ঢিবির সৃষ্টি হয়, তাদের ড্রামলিন বলে। ড্রামলিন অধ্যুষিত অঞ্চলকে ‘Basket of Eggs Topography’ বলা হয়।
১১. ওয়াদি (Wadi) কী?
উত্তর: মরুভূমি অঞ্চলে হঠাৎ ক্ষণস্থায়ী ও প্রবল বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট সাময়িক জলধারা যে অগভীর, শুষ্ক ও পাথুরে নদীখাত তৈরি করে, তাকে ওয়াদি বলে। বছরের অধিকাংশ সময় এই নদীখাতগুলি সম্পূর্ণ জলহীন ও শুকনো থাকে।
১২. গৌর বা গারা (Mushroom Rock) কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্য ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১ থেকে ২ মিটারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। ফলে নিচের কোমল শিলাস্তর দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সরু স্তম্ভে রূপ নেয় এবং ওপরের অংশ কম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিশালাকার ছত্রাক বা ব্যাঙের ছাতার মতো অবস্থান করে। একে গৌর বলে। সাহারায় এটি ‘গারা’ নামে পরিচিত।
১৩. বার্খান (Barchan) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বায়ুর সঞ্চয়কাজের ফলে বায়ুপ্রবাহের দিকের সাথে আড়াআড়িভাবে গড়ে ওঠা অর্ধচন্দ্রাকার চলমান বালিয়াড়িকে বার্খান বলে। এর বায়ুমুখী ঢালটি উত্তল ও মৃদু এবং বিপরীত দিকের ঢালটি অবতল ও খাড়া হয়। এর দুটি প্রান্তে দুটি তীক্ষ্ণ শিং বা শৃঙ্গ থাকে।
১৪. লোয়েস (Loess) সমভূমি কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: ‘লোয়েস’ একটি জার্মান শব্দ, যার অর্থ স্থানচ্যুত বা শিথিল সূক্ষ্ম মৃত্তিকা। মরু অঞ্চলের অতি সূক্ষ্ম বালিকণা ও কাদা বায়ু দ্বারা শত শত কিমি দূরবর্তী অঞ্চলে পরিবাহিত হয়ে কোনো তৃণাবৃত নীচু ভূমিতে দীর্ঘকাল ধরে জমা হয়ে যে উর্বর পলি সমভূমি গড়ে তোলে, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে। যেমন—চিনের হোয়াংহো অববাহিকার সমভূমি।
১৫. পেডিমেন্ট (Pediment) ও বাজাদা (Bajada)-র মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর: মরু ও শুষ্ক অঞ্চলে বায়ু ও ক্ষণস্থায়ী জলধারার যৌথ ক্ষয়ের ফলে পর্বতের পাদদেশে যে মৃদু ঢালু ও নগ্ন প্রস্তরময় ক্ষয়জাত সমভূমি গড়ে ওঠে, তা হলো পেডিমেন্ট। আর পেডিমেন্টের সামনের ঢালে জলপ্রবাহের দ্বারা বাহিত পলি, বালি ও নুড়ি সঞ্চিত হয়ে যে একাধিক পলল শঙ্কু বা সঞ্চয়জাত সমভূমি গড়ে ওঠে, তাকে বলে বাজাদা।
@ বহির্জাত প্রকৃয়া প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৪. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ৩)
প্রশ্ন ১: নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
| তুলনার বিষয় | নদী উপত্যকা | হিমবাহ উপত্যকা |
| ১. আকৃতি | নদীর নিম্নক্ষয় ও পার্শ্বক্ষয়ের ভারসাম্য থাকলে এটি ইংরেজি ‘V’ বা ‘I’ আকৃতির মতো দেখতে হয়। | হিমবাহের তলদেশ ও পার্শ্বদেশ সমানভাবে ক্ষয় হওয়ার ফলে এটি ইংরেজি ‘U’ আকৃতির হয়। |
| ২. তলদেশের প্রকৃতি | নদী উপত্যকার তলদেশ সাধারণত ক্রমশ মসৃণ ও স্বাভাবিক ঢালযুক্ত হয়। | হিমবাহ উপত্যকার তলদেশ সিঁড়ির মতো ধাপযুক্ত ও কর্দমাক্ত গর্তবিশিষ্ট (হিমসোপান) হয়। |
| ৩. উপত্যকার শাখা | উপনদী উপত্যকাগুলি প্রধান নদী উপত্যকার সাথে একই সমতলে এসে মিলিত হয়। | উপ-হিমবাহ উপত্যকাগুলি প্রধান হিমবাহের ওপর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে (ঝুলন্ত উপত্যকা)। |
প্রশ্ন ২: অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ কীভাবে গঠিত হয়? চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে সমভূমি অঞ্চলে স্রোতের বেগ কমে যাওয়ার ফলে নদী সোজাপথে না গিয়ে এঁকেবেঁকে বা মিয়েন্ডার (Meander) আকারে প্রবাহিত হয়।
বাঁকের বিকাশ: নদীর যেদিকে স্রোত ধাক্কা দেয় (অবতল পাড়) সেখানে প্রবল ক্ষয় হয় এবং বিপরীত শান্ত অংশে (উত্তল পাড়) সঞ্চয় বা পলি জমা হতে থাকে। ফলে বাঁক ক্রমশ বাড়তেই থাকে।
সোজা প্রবাহ: বর্ষাকালে নদীতে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে নদী তীব্র বেগে বাঁকা পথ ছেড়ে দুটি বাঁকের মধ্যবর্তী অংশ কেটে সরাসরি সোজাপথে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
হ্রদ সৃষ্টি: পরিত্যক্ত প্রাচীন অর্ধচন্দ্রাকার বাঁকটির মুখ পলি জমে মূল নদী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন ঘোড়ার খুরের মতো দেখতে এক জলাশয়ের সৃষ্টি হয়, একে অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ বলে (যেমন—মুর্শিদাবাদে ভাগীরথীর তীরে মোতিঝিল)।
[প্রস্তর/নদী বাঁক] [বাঁক কেটে সোজা প্রবাহ] [বিচ্ছিন্ন হ্রদ]
___ | | ( ) <- অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ
~ / \ ~ | | \__/
~ / \ ~ ======> | | ======> | | <- মূল নদী
~ \___/ ~ ___| |___ | |
( পলি জমা মুখ )
প্রশ্ন ৩: গ্রাবরেখা (Moraine) কাকে বলে? এর শ্রেণিবিভাগ সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
হিমবাহ পার্বত্য উপত্যকা দিয়ে নামার সময় অবঘর্ষ ও উৎপাটন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট নানা আকৃতির পাথরখণ্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি ও মাটিকে বহন করে আনে এবং গলন অঞ্চলে তা স্তূপাকারে সঞ্চয় করে। এই সঞ্চয়কে গ্রাবরেখা বলা হয়।
পার্শ্ব গ্রাবরেখা: হিমবাহের প্রবাহপথের দুই পাশে যে নুড়িপাথরের স্তূপ সঞ্চিত হয়।
মধ্য গ্রাবরেখা: দুটি হিমবাহ পাশাপাশি মিলিত হলে তাদের মধ্যবর্তী প্রান্তে মিলিত পার্শ্বগ্রাবরেখাটি ‘মধ্য গ্রাবরেখা’ গঠন করে।
প্রান্ত গ্রাবরেখা: হিমবাহ যে স্থানে গলে শেষ হয়ে যায়, তার সম্মুখভাগে বা শেষ প্রান্তে সঞ্চিত হওয়া অবক্ষেপ।
তল গ্রাবরেখা বা ভূমি গ্রাবরেখা: হিমবাহের তলদেশে অর্থাৎ মাটির সংস্পর্শে যে শিলাচূর্ণ জমা থাকে।
অবিন্যস্ত গ্রাবরেখা: হিমবাহের গলনের পর কোনো নির্দিষ্ট রূপ ছাড়া এলোমেলোভাবে পড়ে থাকা সঞ্চয়।
প্রশ্ন ৪: নদীর মোহনায় সবক্ষেত্রে বদ্বীপ (Delta) গড়ে ওঠে না কেন?
উত্তর:
মোহনায় নদীর গতিবেগ মন্থর হলে বাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে গ্রিক অক্ষর ডেল্টা ($\Delta$) বা বাংলা ‘মাত্রাাহীন ব’-এর মতো ভূখণ্ড গঠিত হয়। কিন্তু নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য সব নদীতে বদ্বীপ গড়ে উঠতে পারে না:
নদীবাহিত পলির অভাব: নদীর গতিপথে হ্রদ থাকলে বা নদীর দৈর্ঘ্য অত্যন্ত ছোট হলে (যেমন—ভারতের নর্মদা ও তাপ্তি) নদীতে পর্যাপ্ত পলির জোগান থাকে না।
মোহনায় তীব্র সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা: মোহনায় যদি তীব্র সামুদ্রিক ঢেউ, প্রবল জোয়ার-ভাটা বা গভীর সমুদ্রখাত থাকে, তবে নদীর সঞ্চিত পলি সমুদ্রের গভীরে ভেসে চলে যায় এবং বদ্বীপ গড়ে ওঠার সুযোগ পায় না।
প্রতিকূল বায়ুপ্রবাহ: স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে তীব্র বাতাস প্রবাহিত হলে পলি জমাট বাঁধার আগেই তা ছত্রভঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্ন ৫: বার্খান ও সিফ বালিয়াড়ির মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য নির্দেশ করো।
উত্তর:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | বার্খান (Barchan) | সিফ বালিয়াড়ি (Seif Dune) |
| ১. বাতাসের সাথে রূপ | বায়ুপ্রবাহের গতির সাথে আড়াআড়ি বা তির্যকভাবে গড়ে ওঠে। | বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে অনুদৈর্ঘ্য শৈলশিরার মতো গড়ে ওঠে। |
| ২. আকৃতি | দেখতে অর্ধচন্দ্রাকার এবং এর সম্মুখভাগে দুটি স্পষ্ট শিং বা শৃঙ্গ থাকে। | দেখতে সোজা তরবারির মতো সংকীর্ণ এবং কোনো শিং থাকে না। |
| ৩. রূপান্তর | বায়ুর গতি পরিবর্তনের ফলে বার্খান ভেঙে সিফ বালিয়াড়িতে রূপান্তরিত হতে পারে। | সিফ সাধারণত অন্য বালিয়াড়িতে সহজে রূপ বদল করে না; এটি আকারে অনেক দীর্ঘ হয়। |
@ বহির্জাত প্রকৃয়া প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
৫. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫)
প্রশ্ন ১: নদীর উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট প্রধান তিনটি ভূমিরূপ চিত্রসহ আলোচনা করো। (৫)
উত্তর:
উৎস থেকে সমভূমিতে নামার পূর্ব পর্যন্ত নদীর পার্বত্য গতিকে উচ্চগতি বলে। এই অংশে ভূমির ঢাল প্রবল থাকায় নদীর মূল কাজ হয় নিম্নক্ষয়। এর ফলে নিম্নলিখিত প্রধান তিনটি ভূমিরূপ গড়ে ওঠে:
১. গিরিখাত ও ক্যানিয়ন (Gorge & Canyon):
গিরিখাত: পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর প্রবল নিম্নক্ষয়ের সাথে সাথে বৃষ্টির জলের আঘাতে পার্শ্বক্ষয়ও চলতে থাকে। এর ফলে নদী উপত্যকাটি অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ হয়ে ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো রূপ নেয়। একে গিরিখাত বলে।
উদাহরণ: নেপালের কালীগণ্ডকী নদীর গিরিখাত বা ‘অন্ধাগলচি’ পৃথিবীর অন্যতম গভীর গিরিখাত।
ক্যানিয়ন: শুষ্ক মরুপ্রায় অঞ্চলে নদীর কেবল নিম্নক্ষয় ঘটে, কিন্তু পার্শ্বক্ষয় ঘটে না। ফলে উপত্যকাটি খাড়া দেওয়ালের মতো গভীর ও সংকীর্ণ ‘I’ আকৃতির হয়। একে ক্যানিয়ন বলে।
উদাহরণ: আমেরিকার কলোরাডো নদীর ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’।
২. জলপ্রপাত ও প্রপাতকূপ (Waterfall & Plunge Pool):
জলপ্রপাত: নদীর প্রবাহপথে আড়াআড়িভাবে কঠিন শিলা ও কোমল শিলা অবস্থান করলে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয় পেয়ে খাড়া খাঁদ সৃষ্টি করে। ফলে নদীর জল ওপর থেকে খাড়া ঢাল বেয়ে প্রবল বেগে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একে জলপ্রপাত বলে।
প্রপাতকূপ: জলপ্রপাতের তলদেশে পতিত জলের প্রবল ঘূর্ণি ও নুড়ি-পাথরের অবঘর্ষ আঘাতে যে বিশালাকার জলপূর্ণ গর্ত বা কুয়া তৈরি হয়, তাকে প্রপাতকূপ (Plunge Pool) বলে।
উদাহরণ: কর্ণাটকের শরাবতী নদীর উপর ‘যোগ জলপ্রপাত’ (জেরসোপ্পা)।
৩. মন্থকূপ (Potholes):
নদীর তলদেশের কঠিন শয্যার ওপর দিয়ে যখন ছোট ছোট নুড়ি, বালি বা শিলাখণ্ড জলের স্রোতে ঘুরতে ঘুরতে প্রবাহিত হয়, তখন অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় নদীর তলদেশে ছোট ছোট মসৃণ গোলাকার গর্ত তৈরি হয়। এদের মন্থকূপ বা পটহোল বলে।
একাধিক মন্থকূপ পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে নদী উপত্যকাকে আরও গভীর করে তোলে।
উদাহরণ: ঝাড়খণ্ডের সুবর্ণরেখা ও খরকাই নদীর তলদেশে অসংখ্য মন্থকূপ দেখতে পাওয়া যায়।
[গিরিখাত ও ক্যানিয়ন] [জলপ্রপাত ও প্রপাতকূপ]
\ / <- V-আকৃতি [কঠিন শিলা] ===> \
\ / | \ (জলপতন)
| | <- I-আকৃতি [কোমল শিলা] ===> | \
( O ) <- প্রপাতকূপ
@ বহির্জাত প্রকৃয়া প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
প্রশ্ন ২: বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত প্রধান ভূমিরূপগুলির বিবরণ দাও। (৫)
উত্তর:
মরু ও মরুপ্রায় অঞ্চলে প্রবল বেগে বয়ে চলা বাতাসের সাথে বাহিত বালি, ধূলিকণা ও পলল যখন বাতাসের বেগ কমে যাওয়ার কারণে কিংবা কোনো গাছপালা, শৈলশিরা বা বাধার সংস্পর্শে এসে মাটিতে থিতিয়ে পড়ে, তখন তাকে বায়ুর সঞ্চয়কার্য বলে। এর ফলে গঠিত প্রধান ভূমিরূপগুলি নিম্নরূপ:
১. বালিয়াড়ি (Sand Dunes):
বাতাসের গতিপথে বালি স্তূপাকারে সঞ্চিত হয়ে যে দীর্ঘাকার বালির পাহাড় বা ঢিবি গড়ে তোলে, তাকে বালিয়াড়ি বলে। প্রকৃতি অনুযায়ী এটি প্রধানত দু-রকমের হয়:
বার্খান (Barchan): বায়ুপ্রবাহের সাথে আড়াআড়িভাবে গঠিত অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়ি। এর বাতাসমুখী ঢালটি উত্তল ও মৃদু এবং বিপরীত ঢালটি অবতল ও খাড়া হয়। এর অগ্রভাগে দুটি শিং থাকে। এটি অত্যন্ত গতিশীল ও পরিবর্তনশীল।
সিফ বালিয়াড়ি (Seif Dunes): বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে গঠিত সরু, সোজা ও দীর্ঘ বালির শৈলশিরা। আরবি শব্দ ‘সিফ’ কথার অর্থ তরবারি। এগুলি শত শত কিলোমিটার জুড়ে সোজা লাইনে বিস্তৃত থাকে।
২. লোয়েস সমভূমি (Loess Plain):
মরুভূমির মধ্যভাগ থেকে অতি সূক্ষ্ম হলুদ রঙের কোয়ার্টজ বালিকণা এবং কাদামাটি বাতাসের দ্বারা ভাসমান অবস্থায় হাজার হাজার মাইল দূরে পরিবাহিত হয়।
দূরবর্তী কোনো আর্দ্র বা তৃণাবৃত নীচু সমভূমিতে এই বালিকণা দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে সঞ্চিত হয়ে যে বিস্তৃত উর্বর পলি সমভূমি গঠন করে, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে।
উদাহরণ: মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমি থেকে সূক্ষ্ম হলুদ বালুকণা উড়ে গিয়ে উত্তর চিনের হোয়াংহো নদী অববাহিকায় সুবিশাল ‘পীত বা লোয়েস সমভূমি’ সৃষ্টি করেছে (এজন্যই এই নদীর জল হলুদ এবং এর নাম পীত নদী)।
৩. ড্রিপস্টোন বা বায়ু-জলধারার সম্মিলিত সঞ্চয়জাত বাজাদা (Bajada):
যদিও এটি বায়ু ও ক্ষণস্থায়ী জলধারার যৌথ কাজের ফল, তবুও মরু অঞ্চলে পেডিমেন্টের নিম্ন ঢালে পলল শঙ্কুগুলি পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে যে মৃদু ঢালু বালুময় সঞ্চয় সমভূমি তৈরি করে, তা মরুপ্রান্তের একটি বিশেষ সঞ্চিত ভূমিরূপ।
উপসংহার:
বায়ুর এই সঞ্চয়জাত ভূমিরূপগুলি কেবল মরুভূমির নিজস্ব ভৌগোলিক রূপ তৈরি করে না, বরং বার্খানের মতো চলমান বালিয়াড়ি মরুভূমির ক্রমাগত প্রসারণ ঘটিয়ে পারিপার্শ্বিক জনজীবন ও কৃষিকাজে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে আনে।
PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)
বহির্জাত প্রকৃয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ, SAQ , ২ নম্বরের প্রশ্ন, ৩ নম্বরের প্রশ্ন, ৫ নম্বরের প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232
১) মাধ্যমিক ভূগোল প্রথম অধ্যায় – বহির্জাত প্রকৃয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ (Only for Subscribers)
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে। @ বহির্জাত প্রকৃয়া প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে।
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। @ বহির্জাত প্রকৃয়া প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ বহির্জাত প্রকৃয়া প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।




















