জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্নের উত্তর Class 9 History
জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্নের উত্তর Class 9 History নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইতিহাস বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করতে WWW.WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। এখানে নবম শ্রেণির ভূগোল অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হলো।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্নের উত্তর Class 9 History :
বিভাগ ক: বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ও উত্তর
১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি রক্ষার্থে গঠিত প্রথম সার্বজনীন আন্তর্জাতিক সংস্থা কোনটি ছিল?
(ক) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ
(খ) জাতিসংঘ বা লিগ অব নেশনস (League of Nations)
(গ) আন্তর্জাতিক রেড ক্রস
(ঘ) হেগ ট্রাইব্যুনাল
উত্তর: (খ) জাতিসংঘ বা লিগ অব নেশনস (League of Nations)
২. লিগ অব নেশনস বা জাতিসংঘের খসড়া সংবিধানটিকে কী বলা হতো?
(ক) চার্টার (Charter)
(খ) কভেন্যান্ট (Covenant)
(গ) ডিক্রি (Decree)
(ঘ) প্রোটোকল (Protocol)
উত্তর: (খ) কভেন্যান্ট (Covenant)
৩. জাতিসংঘের কভেন্যান্ট বা চুক্তিপত্রে মোট কয়টি ধারা অন্তর্ভুক্ত ছিল?
(ক) ২০টি
(খ) ২৬টি
(গ) ৩৫টি
(ঘ) ৫৪টি
উত্তর: (খ) ২৬টি
৪. জাতিসংঘের প্রথম সাধারণ অধিবেশন ১৯২০ সালের ১৫ নভেম্বর কোন শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
(ক) প্যারিস
(খ) লন্ডন
(গ) জেনেভা
(ঘ) নিউ ইয়র্ক
উত্তর: (গ) জেনেভা
৫. লিগ অব নেশনস-এর প্রথম মহাসচিব (Secretary-General) কে ছিলেন?
(ক) স্যার এরিক ড্রামন্ড
(খ) জোসেফ অ্যাভেনল
(গ) শন লেস্টার
(ঘ) উইনস্টন চার্চিল
উত্তর: (ক) স্যার এরিক ড্রামন্ড
৬. লিগ অব নেশনস-এর অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কোন রাষ্ট্র এতে যোগদান করেনি?
(ক) গ্রেট ব্রিটেন
(খ) ফ্রান্স
(গ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
(ঘ) ইতালি
উত্তর: (গ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
৭. ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে জাপানের কোন অঞ্চল আক্রমণের ঘটনায় লিগ অব নেশনস-এর চরম অক্ষমতা প্রকাশ্যে আসে?
(ক) কোরিয়া
(খ) মাঞ্চুরিয়া
(গ) ফরমোজা
(ঘ) সাংহাই
উত্তর: (খ) মাঞ্চুরিয়া
৮. ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে মুসোলিনির ইতালি কর্তৃক আফ্রিকার কোন দেশ আক্রমণের বিরুদ্ধে লিগ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়?
(ক) মিশর
(খ) আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া)
(গ) লিবিয়া
(ঘ) সুদান
উত্তর: (খ) আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া)
৯. কত খ্রিস্টাব্দে লিগ অব নেশনস আনুষ্ঠানিকভাবে অবলুপ্ত হয়ে তার সমস্ত দায়দায়িত্ব সম্মিলিত জাতিপুঞ্জকে অর্পণ করে?
(ক) ১৯৩৯
(খ) ১৯৪৫
(গ) ১৯৪৬
(ঘ) ১৯৫০
উত্তর: (গ) ১৯৪৬
১০. ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গঠনের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্থানে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়?
(ক) ইয়াল্টা
(খ) ডাম্বারটন ওকস
(গ) সান ফ্রান্সিসকো
(ঘ) তেহরান
উত্তর: (খ) ডাম্বারটন ওকস
১১. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদে (UN Charter) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা কত ছিল?
(ক) ৫১টি
(খ) ৫০টি
(গ) ৬০টি
(ঘ) ৪৫টি
উত্তর: (ক) ৫১টি
১২. সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে উপস্থিত না থেকেও ৫১তম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে পরবর্তীকালে সনদে স্বাক্ষর করেছিল কোন দেশ?
(ক) ভারত
(খ) পোল্যান্ড
(গ) মেক্সিকো
(ঘ) কিউবা
উত্তর: (খ) পোল্যান্ড
১৩. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের বর্তমান প্রধান সদর দপ্তর কোন শহরে অবস্থিত?
(ক) জেনেভা
(খ) ওয়াশিংটন ডিসি
(গ) নিউ ইয়র্ক
(ঘ) দ্য হেগ
উত্তর: (গ) নিউ ইয়র্ক
১৪. জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভায় (General Assembly) প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কয়জন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারেন?
(ক) ১ জন
(খ) ৩ জন
(গ) ৫ জন
(ঘ) ১০ জন
উত্তর: (গ) ৫ জন
১৫. জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভায় প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র ভোটদানের ক্ষেত্রে কয়টি ভোট দিতে পারে?
(ক) ১টি
(খ) ২টি
(গ) ৩টি
(ঘ) ৫টি
উত্তর: (ক) ১টি
১৬. জাতিপুঞ্জের আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের (ICJ) মোট বিচারক সংখ্যা কত?
(ক) ৯ জন
(খ) ১১ জন
(গ) ১৫ জন
(ঘ) ২১ জন
উত্তর: (গ) ১৫ জন
১৭. আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের বিচারকদের কার্যকালের মেয়াদ কত বছর?
(ক) ৩ বছর
(খ) ৫ বছর
(গ) ৯ বছর
(ঘ) ১০ বছর
উত্তর: (গ) ৯ বছর
১৮. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ’ (ECOSOC)-এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা কত?
(ক) ১৮টি
(খ) ২৭টি
(গ) ৫৪টি
(ঘ) ৭৫টি
উত্তর: (গ) ৫৪টি
১৯. ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে কোরিয়া যুদ্ধের সংকটকালে নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থা কাটাতে সাধারণ সভায় কোন ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাস হয়?
(ক) শান্তির জন্য ঐক্য প্রস্তাব (Uniting for Peace Resolution)
(খ) ভেটো বর্জন প্রস্তাব
(গ) যৌথ নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাব
(ঘ) বান্দুং প্রস্তাব
উত্তর: (ক) শান্তির জন্য ঐক্য প্রস্তাব (Uniting for Peace Resolution)
২০. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ‘সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র’ (UDHR) কবে গৃহীত হয়েছিল?
(ক) ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫
(খ) ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮
(গ) ১ জানুয়ারি ১৯৫০
(ঘ) ২৬ জুন ১৯৪৫
উত্তর: (খ) ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮
@ জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
বিভাগ খ: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ও উত্তর
১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লিগ অব নেশনস গঠনের মূল রূপকার কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন?
উত্তর: মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন (তাঁর বিখ্যাত ‘চৌদ্দ দফা নীতি’-র চতুর্দশ দফার ভিত্তিতে)।
২. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত দেশগুলির ওপর শাসন ও পুনর্বাসনের জন্য লিগ অব নেশনস কোন্ বিশেষ শাসনব্যবস্থা চালু করেছিল?
উত্তর: ম্যান্ডেট ব্যবস্থা (Mandate System)।
৩. লিগ অব নেশনস-এর প্রধান তিনটি প্রশাসনিক অঙ্গ কী কী ছিল?
উত্তর: সাধারণ সভা (Assembly), পরিষদ বা কাউন্সিল (Council), এবং স্থায়ী সচিবালয় (Secretariat)।
৪. মার্কিন সেনেট কেন লিগ অব নেশনস-এ আমেরিকার যোগদান প্রত্যাখ্যান করেছিল?
উত্তর: ঐতিহ্যবাহী মার্কিন বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতি (Monroe Doctrine) বজায় রাখতে এবং ইউরোপের যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার উদ্দেশ্যে।
৫. ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের মধ্যবর্তী কোন্ দ্বীপমালার বিরোধ নিষ্পত্তিতে লিগ অব নেশনস সাফল্য অর্জন করেছিল?
উত্তর: অল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (Aaland Islands, ১৯২০-২১)।
৬. লিটন কমিশন (Lytton Commission) কেন গঠিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৩১ সালে জাপানের মাঞ্চুরিয়া আগ্রাসনের তদন্তের উদ্দেশ্যে লিগ অব নেশনস এই কমিশন গঠন করেছিল।
৭. লিগ অব নেশনস কর্তৃক নিন্দিত হওয়ার পর জাপান কবে লিগ থেকে পদত্যাগ করে?
উত্তর: ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে।
৮. ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ফিনল্যান্ড আক্রমণের অপরাধে কোন দেশকে লিগ অব নেশনস থেকে বহিষ্কার করা হয়?
উত্তর: সোভিয়েত ইউনিয়নকে।
৯. জাতিসংঘ বা লিগের অধীন আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার নাম কী ছিল?
উত্তর: আন্তর্জাতিক বিচার সংক্রান্ত স্থায়ী আদালত (Permanent Court of International Justice – PCIJ)।
১০. আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আই.এল.ও (ILO) কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে (ভার্সাই সন্ধির মাধ্যমে)।
১১. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে ‘মস্কো ঘোষণা’ (Moscow Declaration) কবে স্বাক্ষরিত হয়?
উত্তর: ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে (আমেরিকা, ব্রিটেন, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে)।
১২. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা কোন ঐতিহাসিক সম্মেলনে চূড়ান্ত করা হয়?
উত্তর: ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ইয়াল্টা সম্মেলনে (Yalta Conference)।
১৩. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রথম মহাসচিব ট্রিগভে লি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
উত্তর: নরওয়ের।
১৪. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের একমাত্র কোন মহাসচিব বিমান দুর্ঘটনায় কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যান?
উত্তর: দ্বিতীয় মহাসচিব ড্যাগ হ্যামারশোল্ড (১৯৬১ সালে, কঙ্গো সংকটকালে)।
১৫. জাতিপুঞ্জের সনদের কত নম্বর অধ্যায়ে বিবাদের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ষষ্ঠ অধ্যায়ে (Chapter VI)।
১৬. জাতিপুঞ্জের সনদের কত নম্বর অধ্যায়ে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামরিক বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: সপ্তম অধ্যায়ে (Chapter VII)।
১৭. জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভার বর্তমান নিয়মিত অধিবেশন প্রতি বছর কোন্ মাসে শুরু হয়?
উত্তর: সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার।
১৮. নিরাপত্তা পরিষদের মোট বর্তমান সদস্য সংখ্যা কত?
উত্তর: ১৫টি (৫টি স্থায়ী এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র)।
১৯. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ‘অছি পরিষদ’ (Trusteeship Council)-এর কাজ বর্তমানে স্থগিত করা হয় কেন?
উত্তর: ১৯৯৪ সালে পালাউ স্বাধীনতা অর্জনের পর বিশ্বের সমস্ত অছি অঞ্চল স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা লাভ করায় এর প্রাথমিক দায়িত্ব সমাপ্ত হয়।
২০. জাতিপুঞ্জের কাজ পরিচালনার জন্য সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃত কয়টি ভাষা রয়েছে?
উত্তর: ৬টি ভাষা (ইংরেজি, ফরাসি, রুশ, চীনা, স্প্যানিশ এবং আরবি)।
@ জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
বিভাগ গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ২)
১. উড্রো উইলসনের ‘চৌদ্দ দফা নীতি’-তে লিগ অব নেশনস সম্পর্কে কী বলা হয়েছিল?
সার্বজনীন আন্তর্জাতিক ঐক্যের প্রস্তাব:
উইলসনের চতুর্দশ বা অন্তিম দফায় স্পষ্টভাবে বলা হয়—ছোট-বড় নির্বিশেষে প্রতিটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার পারস্পরিক নিরাপত্তা দিতে একটি সার্বজনীন জাতি-সংঘ গঠন করতে হবে।
ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রতিরোধের অঙ্গীকার:
গোপন কূটনীতি পরিহার করে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে বিবাদ মেটানোই ছিল এই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।
২. লিগ অব নেশনস-এর ‘ম্যান্ডেট ব্যবস্থা’ (Mandate System) কী ছিল?
পরাজিত শক্তির উপনিবেশ পরিচালনার ভার:
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাস্ত তুরস্ক ও জার্মানির অনুন্নত উপনিবেশগুলি সরাসরি মিত্রশক্তির দখলে না রেখে, লিগের অভিভাবকত্বে দায়িত্বশীল উন্নত রাষ্ট্রগুলির হাতে ন্যস্ত করার ব্যবস্থাকে ম্যান্ডেট ব্যবস্থা বলে।
অগ্রগতির নিরীক্ষণ:
ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত দেশগুলির ওপর দায়িত্ব ছিল সেই অঞ্চলের অনগ্রসর জনগণকে স্বায়ত্তশাসনের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং বার্ষিক অগ্রগতির হিসাব লিগকে জমা দেওয়া।
৩. লিগ অব নেশনস কভেন্যান্টের বিখ্যাত ‘১০ নম্বর ধারা’ (Article 10) কী ছিল?
যৌথ নিরাপত্তার মূল ভিত্তি:
এই ধারায় লিগের সমস্ত সদস্য রাষ্ট্র অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা প্রতিটি সদস্য দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও বিদ্যমান রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে পারস্পরিকভাবে সম্মান করবে এবং বহিরাগত আগ্রাসন থেকে রক্ষা করবে।
আমেরিকার বিরোধিতার কারণ:
মার্কিন সেনেট এই ধারার তীব্র বিরোধিতা করে জানায় যে, এটি কার্যকর হলে আমেরিকার কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই মার্কিন সেনাদের বিশ্বের যে কোনো বিবাদে জড়িয়ে পড়তে হবে।
৪. লিগ অব নেশনস-এর দুটি উল্লেখযোগ্য প্রাথমিক রাজনৈতিক সাফল্য লেখো।
অল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সমস্যা সমাধান (১৯২০-২১):
সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে বাল্টিক সাগরের অল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চরম সামরিক উত্তেজনা দেখা দিলে লিগের মধ্যস্থতায় ফিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে দ্বীপটিকে সুরক্ষিত ও নিরস্ত্রীকৃত করা হয়।
গ্রিস-বুলগেরিয়া সীমান্ত সংঘর্ষ নিরসন (১৯২৫):
গ্রিক বাহিনী বুলগেরিয়ার ভূখণ্ড আক্রমণ করলে লিগ দ্রুত যুদ্ধবিরতির নির্দেশ দেয় এবং আগ্রাসী গ্রিসকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়ায়।
৫. লিগ অব নেশনস রাজনৈতিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও সমাজকল্যাণে কী কী সাফল্য অর্জন করেছিল?
শরণার্থী পুনর্বাসন ও নানসেন পাসপোর্ট:
লিগের উচ্চায়ুক্ত ফ্রিডটজফ নানসেনের নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রায় চার লক্ষ যুদ্ধবন্দিকে পুনর্বাসন দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রহীন শরণার্থীদের জন্য বিখ্যাত ‘নানসেন পাসপোর্ট’ চালু করা হয়।
মহামারি রোধ ও দাসপ্রথা উচ্ছেদ:
লিগের স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বজুড়ে টাইফাস ও ম্যালেরিয়া রোধে কার্যকর ভূমিকা নেয় এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক ড্রাগ চোরাচালান ও বেআইনি দাসপ্রথা রোধে আইন প্রণয়ন করে।
৬. লিগ অব নেশনস-এর পতনে ‘মাঞ্চুরিয়া সংকট’ (১৯৩১)-এর ভূমিকা কী ছিল?
পরাশক্তির নির্লজ্জ আগ্রাসন:
জাপান যখন কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম না মেনে চীনের মাঞ্চুরিয়া দখল করে একটি পুতুল রাষ্ট্র বানায়, তখন লিগ কেবল মৌখিক তদন্ত কমিশন (লিটন কমিশন) গঠন ছাড়া কোনো অর্থনৈতিক বা সামরিক অবরোধ আরোপ করতে ব্যর্থ হয়।
বিশ্বমঞ্চে বিশ্বাসযোগ্যতা ধ্বংস:
জাপান অবলীলায় লিগ ত্যাগ করে নিজের দখলদারি বজায় রাখে, যা প্রমাণ করে দেয় যে পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দুর্বল দেশকে রক্ষা করার বাস্তব ক্ষমতা লিগের নেই।
৭. ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ‘আটলান্টিক সনদ’ (Atlantic Charter) কীভাবে জাতিপুঞ্জ গঠনের পথ প্রস্তুত করেছিল?
যুদ্ধোত্তর বিশ্বনীতির রূপরেখা:
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট যুদ্ধজাহাজে বসে এই ঐতিহাসিক সনদে স্বাক্ষর করে ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধের পর কোনো রাষ্ট্র বিস্তার করা হবে না এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে মর্যাদা দেওয়া হবে না।
স্থায়ী নিরস্ত্রীকরণ ও বিশ্বব্যবস্থা:
সনদের শেষ দফায় বিশ্বের সমস্ত জাতিকে আগ্রাসনের ভয় থেকে মুক্ত রাখতে একটি বিস্তৃত ও স্থায়ী সার্বজনীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়, যা জাতিপুঞ্জের ভ্রূণ হিসেবে কাজ করে।
৮. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদের (UN Charter) প্রস্তাবনার মূল সুর কী?
যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা:
সনদের ঐতিহাসিক প্রস্তাবনাটি শুরু হয়েছে—”আমরা সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের জনগণ…” এই বাক্যাংশ দিয়ে; যার প্রধান শপথ হলো মানবজাতিকে এক প্রজন্মে দু-দুবার দেখা মহাযুদ্ধের নরকযন্ত্রণা থেকে চিরতরে রক্ষা করা।
মৌলিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা:
ব্যক্তির মর্যাদা, নারী-পুরুষের সম-অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা অটুট রাখার সামগ্রিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে এতে।
৯. জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভাকে (General Assembly) কেন “বিশ্বের সংসদ” বলা হয়?
সর্বজনীন প্রতিনিধিত্ব:
জাতিপুঞ্জের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র (বর্তমানে ১৯৩টি দেশ) সাধারণ সভায় সমানাধিকারের ভিত্তিতে আসন পায় এবং প্রতিটি দেশের একটিই অমূল্য ভোট থাকে।
বিশ্বজনীন বিতর্ক ও নীতি প্রণয়ন:
বিশ্বের যেকোনো কোণায় শান্তি বিঘ্নিত হলে বা কোনো আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিলে সাধারণ সভা বিশ্বের মুক্ত মঞ্চ হিসেবে আলোচনা, বিতর্ক এবং প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারে।
১০. নিরাপত্তা পরিষদের (Security Council) প্রধান কাজগুলি কী?
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা:
বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখা দিলে মধ্যস্থতা করা, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা এবং প্রয়োজনে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া।
সামরিক পদক্ষেপ ও মহাসচিবের সুপারিশ:
শান্তি রক্ষার্থে সশস্ত্র সেনা অভিযান অনুমোদন করা এবং সাধারণ সভার কাছে জাতিপুঞ্জের নতুন সদস্য গ্রহণ ও মহাসচিব নির্বাচনের সুপারিশ পাঠানো।
১১. জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ‘ভেটো’ (Veto) ক্ষমতা কেন রাখা হয়েছিল?
পরাশক্তিগুলির স্বার্থরক্ষা ও সংহতি বজায় রাখা:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী বৃহৎ পাঁচ শক্তি যাতে এই বিশ্বসংস্থায় স্থায়ীভাবে অংশ নেয় এবং কোনো পরাশক্তির জাতীয় স্বার্থ তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংখ্যাগুরুর ভোটে খর্ব না হয়, সেজন্য এই নীতি গ্রহণ করা হয়।
বাস্তবধর্মী ভারসাম্য:
কোনো বড় পরাশক্তির অমতে কোনো সিদ্ধান্ত বলপ্রয়োগ করে কার্যকর করতে গেলে আরেকটি ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই এই রক্ষাকবচ তৈরি হয়।
১২. জাতিপুঞ্জের ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ’ (ECOSOC)-এর ভূমিকা কী?
সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতিবিধান:
বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণ, বেকারত্ব মোচন, শিশু ও নারীর অধিকার রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের সার্বিক তদারকি করা।
বিশেষায়িত সংস্থাগুলির সমন্বয়:
ইউনেস্কো (UNESCO), হু (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF) এবং আই.এম.এফ (IMF)-এর মতো বিশ্বসংস্থাগুলির কাজের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা।
১৩. জাতিপুঞ্জের ‘আন্তর্জাতিক বিচারালয়’ (ICJ)-এর এক্তিয়ার বা পরিধি কী?
রাষ্ট্রীয় বিরোধের আইনসম্মত নিষ্পত্তি:
দুই বা ততোধিক সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যকার আন্তর্জাতিক সীমানা বিরোধ, জলবণ্টন বা চুক্তি লঙ্ঘনের আইনি সমাধান প্রদান করা।
পরামর্শমূলক মতামত:
সাধারণ সভা, নিরাপত্তা পরিষদ বা জাতিপুঞ্জের অন্যান্য বিশেষায়িত সংস্থা আন্তর্জাতিক আইনের কোনো জটিল বিষয়ে পরামর্শ চাইলে আইনগত মতামত পেশ করা।
১৪. জাতিপুঞ্জের ‘শান্তির জন্য ঐক্য প্রস্তাব’ (Uniting for Peace Resolution, ১৯৫০) কী ছিল?
ভেটোজনিত অচলাবস্থা কাটানোর উপায়:
নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী কোনো সদস্য রাষ্ট্র বারবার ভেটো প্রয়োগ করে শান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হলে, সাধারণ সভা জরুরি বিশেষ অধিবেশন ডেকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় শান্তি রক্ষার জন্য যৌথ সামরিক পদক্ষেপের সুপারিশ করতে পারে।
কোরিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপট:
১৯৫০ সালে সোভিয়েত ভেটোর আশঙ্কা কাটিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় জাতিপুঞ্জের যৌথ সেনা পাঠানোর পথ সুগম করতে আমেরিকা এই বিশেষ প্রস্তাবটি সাধারণ সভায় পাস করিয়েছিল।
১৫. লিগ অব নেশনস ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মধ্যে মূল প্রশাসনিক পার্থক্য কী ছিল?
সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পার্থক্য:
লিগ অব নেশনস-এ অধিকাংশ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্ত সদস্যের ‘সর্বসম্মত সম্মতি’ (Unanimity) বাধ্যতামূলক ছিল, যা কাজকে স্থবির করে দিত; পক্ষান্তরে জাতিপুঞ্জে নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং স্থায়ী সদস্যদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত হয়।
সামরিক প্রয়োগ ক্ষমতার অভাব ও উপস্থিতি:
লিগের কোনো শান্তিরক্ষা বাহিনী বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বাস্তবসম্মত বিধান ছিল না; জাতিপুঞ্জ নিজস্ব কাঠামোর আওতায় সনদের সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী যৌথ শান্তিরক্ষা সেনা নামাতে পারে।
@ জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
বিভাগ ঘ: বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৪)
১. লিগ অব নেশনস বা জাতিসংঘের ব্যর্থতার মূল কারণগুলি বিশ্লেষণ করুন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসের পর এক উজ্জ্বল আশার প্রতীক হিসেবে লিগ অব নেশনস আত্মপ্রকাশ করলেও, মাত্র দুই দশকের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়।
আমেরিকার অনুপস্থিতি ও পরাশক্তিগুলির স্বার্থান্বেষী রূপ:
লিগের মূল রূপকার ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন, কিন্তু মার্কিন সেনেট এই সংস্থায় যোগ দিতে অস্বীকার করায় লিগ শুরু থেকেই চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক অভিভাবকহীনতায় ভোগে। তদুপরি ব্রিটেন ও ফ্রান্স সংস্থাটিকে নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ ও ভার্সাই সন্ধির কালাকানুন রক্ষার ব্যক্তিগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।
সাংগঠনিক দুর্বলতা ও সিদ্ধান্তহীনতা:
কভেন্যান্টের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ সভা বা কাউন্সিলে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের ‘সর্বসম্মত ভোট’ অপরিহার্য ছিল। ফলে কোনো একটি দেশ বিরোধিতা করলেই জরুরি পদক্ষেপ ভেস্তে যেত। এছাড়া আক্রমণকারী দেশকে থামাতে কেবল মৌখিক নিন্দা বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বাইরে লিগের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী ছিল না।
উগ্র একনায়কতন্ত্রের আগ্রাসনের মুখে চরম পঙ্গুত্ব:
১৯৩০-এর দশকে বিশ্ব মহামন্দার পর যখন জাপান মাঞ্চুরিয়া দখল করল, মুসোলিনি আবিসিনিয়া আক্রমণ করল এবং হিটলার ভার্সাই সন্ধির শর্তাবলি একে একে পদদলিত করল—তখন লিগ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল। агресসার দেশগুলি অবলীলায় লিগ থেকে পদত্যাগ করে বেরিয়ে যায় এবং লিগের অস্তিত্বকে উপহাস করে।
২. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের (UNO) সাধারণ সভা ও নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যকার ক্ষমতার সম্পর্ক ও বৈপরীত্য আলোচনা করুন।
জাতিপুঞ্জের সনদে সাধারণ সভা (General Assembly) এবং নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council)—উভয় অঙ্গকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাদের ক্ষমতার চরিত্র ও কার্যকারিতায় বিরাট বৈপরীত্য বিদ্যমান।
সাধারণ সভা বনাম নিরাপত্তা পরিষদ
│
┌──────────────────────────────┴──────────────────────────────┐
▼ ▼
সাধারণ সভা (General Assembly) নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council)
┌──────────────────────────────────────┐ ┌──────────────────────────────────────┐
│• সকল সদস্যের সমান প্রতিনিধিত্ব (১৯৩টি)│ │• মাত্র ১৫ সদস্যের ক্ষুদ্র কার্যকর বডি│
│• বিশ্বের উন্মুক্ত বিতর্ক ও পরামর্শ সভা│ │• আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ│
│• সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক নয় (সুপারিশ) │ │• সিদ্ধান্ত সকল রাষ্ট্রের ওপর বাধ্যতামূলক │
│• কোনো ভেটো ক্ষমতা নেই │ │• ৫ স্থায়ী সদস্যের চরম 'ভেটো' ক্ষমতা │
└──────────────────────────────────────┘ └──────────────────────────────────────┘
প্রতিনিধিত্ব বনাম সার্বভৌম ক্ষমতা:
সাধারণ সভা হলো সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক একটি অঙ্গ, যেখানে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে বিশ্বের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের একটি করে সমমর্যাদার ভোট রয়েছে। এটিকে বিশ্বের নীতিগত কণ্ঠস্বর বলা হয়। কিন্তু এর বিপরীতে নিরাপত্তা পরিষদ হলো মাত্র ১৫টি রাষ্ট্রের একটি অভিজাত পরিষদ, যার মূল চালিকাশক্তি পাঁচটি পরমাণু শক্তিধর স্থায়ী দেশ।
আইনগত বাধ্যবাধকতা ও প্রয়োগের বৈপরীত্য:
সাধারণ সভার সিদ্ধান্তগুলি মূলত ‘সুপারিশমূলক’ (Moral Recommendations); কোনো রাষ্ট্র তা অমান্য করলে সাধারণ সভা সরাসরি সেনা পাঠিয়ে তা কার্যকর করতে পারে না। কিন্তু সনদের ২৫ নম্বর ধারা অনুসারে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আইনত বাধ্যতামূলক (Binding Decisions)। সনদের সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদ আগ্রাসী দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ এবং জাতিপুঞ্জ সেনা নামিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারে।
ক্ষমতার ভারসাম্য ও পরিবর্তনশীলতা:
নিরাপত্তা পরিষদ অতি-শক্তিশালী হলেও স্থায়ী সদস্যদের ভেটো প্রয়োগের কারণে তা বহু সময় অচলাবস্থায় নিমজ্জিত হয়। এই সংকট কাটাতে ১৯৫০ সালের ‘শান্তির জন্য ঐক্য প্রস্তাব’-এর মাধ্যমে সাধারণ সভা বিশেষ পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষার পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা লাভ করে নিজেদের মর্যাদা কিছুটা বাড়াতে পেরেছে।
৩. আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিপুঞ্জের ‘শান্তিরক্ষা বাহিনী’ (UN Peacekeeping Force)-র ভূমিকা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করুন।
জাতিপুঞ্জের নিজস্ব কোনো স্থায়ী সৈন্যদল না থাকলেও সনদের মূল সুর বজায় রেখে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের স্বেচ্ছায় পাঠানো সেনা ও পুলিশ সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয় ‘জাতিপুঞ্জ শান্তিরক্ষা বাহিনী’ (যা তাদের হেলমেটের রঙের জন্য ‘ব্লু হেলমেটস’ বা নীল টুপি বাহিনী নামে পরিচিত)।
শান্তিরক্ষা অভিযানের মূল চরিত্র:
এই বাহিনী কোনো দেশকে আক্রমণ বা দখল করার জন্য নিযুক্ত হয় না। প্রধানত বিবদমান দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, বাফার জোন পাহারা দেওয়া, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে অসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সাহায্য করাই এদের কাজ। এই বাহিনী কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থ ছাড়া আগ বাড়িয়ে অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে না।
ঐতিহাসিক সাফল্য ও অবদান:
১৯৫৬ সালে সুয়েজ সংকটকালে ইতিহাসের প্রথম জরুরি শান্তিরক্ষা বাহিনী (UNEF) মোতায়েন করে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে আরব-ইজরায়েল সংঘাত, কঙ্গোর গৃহযুদ্ধ (১৯৬০), সাইপ্রাস সংকট এবং পরবর্তীতে নামিবিয়ার স্বাধীনতা রূপায়ণে ব্লু হেলমেট বাহিনী প্রশংসনীয় অবদান রেখেছে।
১৯৮৮ সালে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের শান্তিরক্ষা বাহিনীকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ:
পরাশক্তির রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং কঠোর কমান্ডের অনুপস্থিতির কারণে অনেক সময় এই বাহিনী গণহত্যা থামাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে; যার মর্মান্তিক উদাহরণ হলো ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডার জাতিগত গণহত্যা এবং ১৯৯৫ সালের বসনিয়ার সেব্রেনিৎসা ট্র্যাজেডি।
@ জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
বিভাগ ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৮)
১. লিগ অব নেশনস বা জাতিসংঘের উৎপত্তি ও সাংগঠনিক কাঠামোর বিস্তারিত বিবরণ দিন। এই সংস্থাটি কেন গঠিত হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে এর ভূমিকা কীরূপ ছিল?
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী ধ্বংসলীলা (১৯১৪-১৯১৮) সমগ্র মানবজাতিকে এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। ভবিষ্যতের কোনো বিধ্বংসী যুদ্ধ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য বিশ্বের রাষ্ট্রনায়করা একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক মঞ্চের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভব করেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের প্যারিস শান্তি সম্মেলনের মাধ্যমে এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসনের ‘চৌদ্দ দফা নীতি’-র অন্তিম প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেয় বিশ্বের প্রথম সার্বজনীন নিরাপত্তা সংস্থা—লিগ অব নেশনস বা জাতিসংঘ।
লিগ অব নেশনস-এর মূল রূপরেখা
│
┌───────────────────┬──────────────┴───────┬───────────────────┐
▼ ▼ ▼ ▼
সাধারণ সভা কাউন্সিল সচিবালয় আন্তর্জাতিক বিচারালয়
┌─────────────────┐ ┌─────────────────┐ ┌─────────────────┐ ┌─────────────────┐
│ • জেনেভায় অধিবেশন│ │ • স্থায়ী ও অস্থায়ী │ │ • দৈনন্দিন প্রশাসন│ │ • দ্য হেগ শহরে │
│ • সকল সদস্য রাষ্ট্র│ │ • শান্তি ও নিরাপত্তা│ │ • মহাসচিবের দপ্তর │ │ • ১৫ জন বিচারক │
│ • সর্বসম্মত ভোট │ │ • সর্বসম্মত সম্মতি │ │ • দলিল ও অনুবাদ │ │ • আইনি বিবাদ মীমাংসা│
└─────────────────┘ └─────────────────┘ └─────────────────┘ └─────────────────┘
লিগ অব নেশনস-এর প্রধান সাংগঠনিক অঙ্গসমূহ
লিগের কভেন্যান্ট বা চুক্তির ২৬টি ধারার ভিত্তিতে এর মূল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল:
সাধারণ সভা (The Assembly):
লিগের সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রকে নিয়ে গঠিত হতো সাধারণ সভা। জেনেভায় বছরে একবার এর অধিবেশন বসত। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ তিনজন প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ থাকলেও ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল মাত্র একটি। যেকোনো আন্তর্জাতিক সমস্যা, নতুন সদস্য গ্রহণ এবং বাজেট অনুমোদনের ক্ষমতা এই সভার হাতে ন্যস্ত ছিল।
কাউন্সিল বা পরিষদ (The Council):
এটি ছিল লিগের প্রকৃত কার্যনির্বাহী অঙ্গ। মূল পরিকল্পনায় ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জাপান—এই চারটি পরাশক্তি ছিল স্থায়ী সদস্য এবং চারটি ছোট রাষ্ট্রকে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে সাধারণ সভা দ্বারা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত করা হতো। বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত হলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা এবং বিবাদ মীমাংসার পথ খোঁজা ছিল কাউন্সিলের মূল দায়িত্ব।
স্থায়ী সচিবালয় (The Secretariat):
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় লিগের প্রধান কার্যালয় বা সদর দপ্তরে অবস্থিত সচিবালয় ছিল দৈনন্দিন কাজের প্রাণকেন্দ্র। এর প্রধান ছিলেন মহাসচিব (প্রথম মহাসচিব ছিলেন ব্রিটিশ কূটনীতিবিদ স্যার এরিক ড্রামন্ড)। লিগের যাবতীয় নথিপত্র সংরক্ষণ, বিভিন্ন দেশের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সমীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব সচিবালয় পালন করত।
অন্যান্য বিশেষায়িত শাখা:
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘আন্তর্জাতিক বিচার সংক্রান্ত স্থায়ী আদালত’ (PCIJ), যা আন্তর্জাতিক বিরোধের আইনি ব্যাখ্যা দিত। এছাড়া শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ উন্নত করতে গঠিত হয়েছিল ‘আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা’ (ILO) এবং অছি অঞ্চলগুলির তদারকির জন্য ম্যান্ডেট কমিশন।
আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে লিগের ভূমিকা ও মূল্যায়ন
লিগ অব নেশনস তার অস্তিত্বের প্রথম দশকে ছোট ছোট বিরোধ মেটাতে যথেষ্ট কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিল:
সফলতার দিকসমূহ (১৯২০–১৯২৯):
অল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বিরোধ (১৯২০): বাল্টিক সাগরের অল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের বিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে মেটায়।
আপার সাইলেসিয়া সমস্যা (১৯২১): জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যবর্তী বিতর্কিত শিল্পাঞ্চল আপার সাইলেসিয়াকে গণভোটের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে দেয়।
গ্রিস-বুলগেরিয়া যুদ্ধ রোধ (১৯২৫): সীমানা সংঘাতের জেরে গ্রিক সেনা বুলগেরিয়ায় ঢুকলে লিগের আলটিমেটামের মুখে গ্রিস সেনা প্রত্যাহার করে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়।
মসুল বিরোধ (১৯২৬): ইরাক ও তুরস্কের মধ্যে পেট্রোলিয়াম সমৃদ্ধ মসুল অঞ্চলের সীমান্ত সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করে।
চরম ব্যর্থতার দিকসমূহ (১৯৩০–১৯৩৯):
১৯৩০-এর দশকে উগ্র সামরিক একনায়কদের উত্থানের মুখে লিগের সম্পূর্ণ অন্তঃসারশূন্য রূপ প্রকট হয়ে ওঠে:
মাঞ্চুরিয়া সংকট (১৯৩১): জাপান নির্লজ্জভাবে চীনের মাঞ্চুরিয়া দখল করলেও লিগ কেবল একটি তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া ছাড়া জাপানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারেনি; জাপান অবলীলায় লিগ থেকে পদত্যাগ করে বেরিয়ে যায়।
আবিসিনিয়া আগ্রাসন (১৯৩৫): মুসোলিনির ইতালি বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগ করে আফ্রিকার স্বাধীন রাষ্ট্র আবিসিনিয়া দখল করে। লিগ নামমাত্র অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করলেও তেল ও সুয়েজ খাল বন্ধ করেনি, ফলে ইতালি নির্বিঘ্নে আগ্রাসন চালায়।
হিটলারের আগ্রাসন ও স্পেনের গৃহযুদ্ধ: হিটলার যখন একের পর এক ভার্সাই চুক্তি ভেঙে রাইনল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও চেকোস্লোভাকিয়া গ্রাস করছিলেন, তখন লিগ ছিল এক মৃতপ্রায় নির্বাক দর্শকের মতো।
ঐতিহাসিক মূল্যায়ন
ঐতিহাসিক ই. এইচ. কার (E. H. Carr) যথার্থই উল্লেখ করেছেন যে, লিগ অব নেশনস কোনো স্বাধীন শক্তি ছিল না; এটি ছিল বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির সদিচ্ছার প্রতিফলন মাত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি, নিজস্ব সামরিক বাহিনীর অভাব এবং ব্রিটিশ ও ফরাসি তোষণ নীতির বলি হয়ে শেষ পর্যন্ত লিগ অব নেশনস পরাশক্তিগুলির আগ্রাসন রুখতে ব্যর্থ হয়। এর মর্মান্তিক পরিণতিতেই ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাবানল জ্বলে ওঠে এবং ১৯৪৬ সালে এই প্রথম আন্তর্জাতিক শান্তিসংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষিত হয়।
@ জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
২. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (United Nations Organisation – UNO)-এর উদ্দেশ্য ও মূল নীতিগুলি বিশ্লেষণ করুন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বে মানবকল্যাণ, ঔপনিবেশিকতা মুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে জাতিপুঞ্জের সামগ্রিক অবদান মূল্যায়ন করুন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবর্ণনীয় ধ্বংসস্তূপ ও পারমাণবিক বোমার ভয়াল বিভীষিকার মাঝে দাঁড়িয়ে বিশ্বনেতারা উপলব্ধি করেছিলেন যে, মানবসভ্যতাকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে লিগ অব নেশনস-এর চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী ও বাস্তববাদী আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এই ঐতিহাসিক প্রয়োজনেই ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২৪ অক্টোবর সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ৫১টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতিক্রমে জন্ম নেয় সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বা UNO।
জাতিপুঞ্জের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের রূপরেখা
│
┌────────────────────────────────┼────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
সনদের মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক নীতি মানবকল্যাণ ও সংঘাত নিরসন
┌───────────────────────────────┐ ┌───────────────────────────────┐ ┌───────────────────────────────┐
│• ভবিষ্যৎ যুদ্ধ থেকে মুক্তি │ │• সকল সদস্যের সার্বভৌম সমতা │ │• শান্তিরক্ষা অভিযান ও মধ্যস্থতা │
│• মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা │ │• বলপ্রয়োগ বা হুমকি বর্জন │ │• এশিয়া-আফ্রিকার অব-উপনিবেশায়ন│
│• আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষা │ │• অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার চর্চা│ │• WHO, UNESCO ও ইউনিসেফের অবদান│
└───────────────────────────────┘ └───────────────────────────────┘ └───────────────────────────────┘
জাতিপুঞ্জের মূল উদ্দেশ্য ও আদর্শসমূহ (সনদের ১ নম্বর ধারা)
জাতিপুঞ্জের সনদের প্রথম ধারায় এর চারটি প্রধান উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ঘোষিত হয়েছে:
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা: যেকোনো মূল্যে আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখা এবং যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে আগ্রাসী শক্তিকে প্রতিহত করা।
জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন: প্রতিটি জাতির সমান অধিকার এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের (Right of Self-determination) ওপর ভিত্তি করে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা: অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সমস্যা সমাধানে এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভাষা নির্বিশেষে মানবাধিকার রক্ষায় যৌথ সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা: আন্তর্জাতিক উদ্দেশ্যগুলি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় সাধনের একটি কেন্দ্রীয় কেন্দ্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
সনদে বর্ণিত মৌলিক নীতিসমূহ (সনদের ২ নম্বর ধারা)
এই মহান উদ্দেশ্যগুলি পূরণের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলি কতগুলি মৌলিক নীতি মান্য করতে দায়বদ্ধ:
সার্বভৌম সমতা: ছোট-বড় নির্বিশেষে সমস্ত সদস্য রাষ্ট্র সমান সার্বভৌম অধিকার ভোগ করবে।
সততা ও আনুগত্য: সনদের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা আন্তরিকতার সাথে পালন করতে হবে।
শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি: আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিপন্ন না করে সমস্ত বিবাদ আলোচনা, সালিশি ও আদালতের মাধ্যমে মেটাতে হবে।
বলপ্রয়োগের হুমকি বর্জন: কোনো রাষ্ট্রের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তিপ্রয়োগ বা হুমকির আশ্রয় নেওয়া যাবে না।
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অহস্তক্ষেপ: কোনো রাষ্ট্রের একান্ত অভ্যন্তরীণ শাসন বা বিচারিক বিষয়ে জাতিপুঞ্জ অন্যায় হস্তক্ষেপ করবে না।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জের বহুমুখী অবদান
বিগত কয়েক দশকে জাতিপুঞ্জ বিভিন্ন ফ্রন্টে মানবজাতির সেবায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে:
আন্তর্জাতিক সংকট নিরসন ও যুদ্ধ প্রতিরোধ:
ঠান্ডা লড়াইয়ের তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ এবং পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিভীষিকার মাঝে দাঁড়িয়েও জাতিপুঞ্জ বিশ্বকে একটি তৃতীয় সর্বনাশা মহাযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
কোরিয়া যুদ্ধ (১৯৫০): উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসন প্রতিহত করতে যৌথ সেনা পাঠানো হয়।
সুয়েজ সংকট (১৯৫৬): মধ্যপ্রাচ্য থেকে ব্রিটিশ, ফরাসি ও ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করিয়ে প্রথমবার শান্তিরক্ষা বাহিনী (UNEF) মোতায়েন করা হয়।
কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট (১৯৬২): তৎকালীন মহাসচিব উ থান্টের মধ্যস্থতায় আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন মুখোমুখি যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসে।
অব-উপনিবেশায়ন (Decolonisation) ও স্বাধীনতা আন্দোলন:
জাতিপুঞ্জের অছি পরিষদ এবং সাধারণ সভার অবিরাম কূটনৈতিক চাপে এশিয়া ও আফ্রিকার বিশাল সাম্রাজ্যবাদী উপনিবেশগুলির পতন ত্বরান্বিত হয়। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ঘানা, আলজেরিয়া থেকে শুরু করে নামিবিয়ার মতো বহু দেশ জাতিপুঞ্জের মঞ্চকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বাধীনতার লড়াইকে বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি দিয়েছে।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বজনীন সনদ:
১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জাতিপুঞ্জ কর্তৃক ঘোষিত ‘সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র’ (Universal Declaration of Human Rights) আধুনিক গণতন্ত্রের বিবেক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের মুক্তি এবং নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তির পক্ষে বিশ্বমত গঠনে জাতিপুঞ্জ ছিল অগ্রদূত।
মানবকল্যাণ, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন:
জাতিপুঞ্জের বিশেষায়িত সংস্থাগুলি নীরবে কোটি কোটি মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO): বিশ্ব থেকে ম্যালেরিয়া, গুটিবসন্ত (Smallpox) ও পোলিও নির্মূল করতে নেতৃত্ব দিয়েছে।
ইউনিসেফ (UNICEF) ও ইউনেস্কো (UNESCO): যুদ্ধপীড়িত ও দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা, খাদ্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অভূতপূর্ব কাজ করে চলেছে।
শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (UNHCR): যুদ্ধের কারণে বাস্তুহারা কোটি কোটি উদ্বাস্তুর ত্রাণ ও আশ্রয় নিশ্চিত করেছে।
সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা
এত সাফল্য সত্ত্বেও জাতিপুঞ্জের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দৃশ্যমান:
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ পরাশক্তির অন্ধ স্বার্থপরতা ও লাগাতার ‘ভেটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ বহু ক্ষেত্রে মানবতা রক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজস্ব স্থায়ী সামরিক বাহিনী না থাকায় এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলির রাজনৈতিক মর্জির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল।
আমেরিকার ইরাক আক্রমণ কিংবা রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের মতো পরাশক্তিগুলির একতরফা আগ্রাসনে জাতিপুঞ্জ বহু সময় অসহায় হয়ে পড়েছে।
তবুও নির্দ্বিধায় বলা যায়, এই সীমাবদ্ধতা জাতিপুঞ্জ নামক আদর্শের নয়, এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির সীমাবদ্ধতা। মানবসভ্যতার ইতিহাসে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ হলো এমন এক আলোকবর্তিকা যার বিকল্প আজও তৈরি হয়নি। পারমাণবিক যুগের জটিল বিশ্বে মতপ্রকাশের মুক্ত মঞ্চ হিসেবে এটি মানবজাতির বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় ঢাল।
PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)
জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ, SAQ , ২ নম্বরের প্রশ্ন, ৪ নম্বরের প্রশ্ন, ৮ নম্বরের প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232
১) নবম শ্রেণির ইতিহাস সপ্তম অধ্যায় – জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (Only for Subscribers)
Click here to view pdf file
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সকল বিষয়ের MCQ প্রশ্নের মক টেস্ট প্রদান করতে নিম্নের লিঙ্কটি অনুসরণ করতে হবে
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে।
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে। @ জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি। @ জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।






















