দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্নের উত্তর Class 9 History
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্নের উত্তর Class 9 History নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইতিহাস বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করতে WWW.WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। এখানে নবম শ্রেণির ভূগোল অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হলো।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্নের উত্তর Class 9 History :
বিভাগ ক: বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ও উত্তর
১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ও মার্কিন রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের মধ্যে ‘আটলান্টিক সনদ’ (Atlantic Charter) কবে স্বাক্ষরিত হয়?
(ক) আগস্ট ১৯৩৯
(খ) আগস্ট ১৯৪১
(গ) ডিসেম্বর ১৯৪১
(ঘ) মে ১৯৪৫
উত্তর: (খ) আগস্ট ১৯৪১
২. হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণের জন্য যে সামরিক পরিকল্পনা রূপায়ণ করেছিলেন, তার সাংকেতিক নাম কী ছিল?
(ক) অপারেশন বারবারোসা (Operation Barbarossa)
(খ) অপারেশন ওভারলর্ড
(গ) অপারেশন সি লায়ন
(ঘ) অপারেশন টর্চ
উত্তর: (ক) অপারেশন বারবারোসা (Operation Barbarossa)
৩. জাপান কোন মার্কিন নৌঘাঁটিতে ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর আকস্মিক বোমাবর্ষণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার প্রত্যক্ষ প্রবেশ ঘটায়?
(ক) গুয়াম
(খ) পার্ল হারবার (Pearl Harbor)
(গ) মিডওয়ে দ্বীপ
(ঘ) ওকিনাওয়া
উত্তর: (খ) পার্ল হারবার (Pearl Harbor)
৪. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনকারী ঐতিহাসিক স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধ (Battle of Stalingrad) কোন বছর সমাপ্ত হয়?
(ক) ১৯৪১
(খ) ১৯৪২
(গ) ১৯৪৩
(ঘ) ১৯৪৪
উত্তর: (গ) ১৯৪৩
৫. অক্ষশক্তির হাত থেকে ফ্রান্সের মুক্তির লক্ষ্যে মিত্রবাহিনীর ঐতিহাসিক নরম্যান্ডি অবতরণ বা ‘ডি-ডে’ (D-Day) কবে সংঘটিত হয়েছিল?
(ক) ৬ জুন ১৯৪৪
(খ) ১৫ আগস্ট ১৯৪৪
(গ) ৮ মে ১৯৪৫
(ঘ) ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫
উত্তর: (ক) ৬ জুন ১৯৪৪
৬. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি দ্বারা সংগঠিত প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদি নিধনের পরিকল্পিত গণহত্যাকে কী বলা হয়?
(ক) ব্লিৎসক্রিগ
(খ) হলোকস্ট (Holocaust)
(গ) অ্যান্টি-সেমিটিজম
(ঘ) পোয়েডোম
উত্তর: (খ) হলোকস্ট (Holocaust)
৭. জাপানের হিরোশিমা নগরীতে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট আমেরিকা যে প্রথম পরমাণু বোমাটি নিক্ষেপ করেছিল, তার সাংকেতিক নাম কী ছিল?
(ক) ফ্যাট ম্যান (Fat Man)
(খ) লিটল বয় (Little Boy)
(গ) ট্রিনিটি
(ঘ) বিগ বয়
উত্তর: (খ) লিটল বয় (Little Boy)
৮. জাপানের নাগাসাকি শহরে কত তারিখে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমাটি ফেলা হয়েছিল?
(ক) ৬ আগস্ট ১৯৪৫
(খ) ৮ আগস্ট ১৯৪৫
(গ) ৯ আগস্ট ১৯৪৫
(ঘ) ১৫ আগস্ট ১৯৪৫
উত্তর: (গ) ৯ আগস্ট ১৯৪৫
৯. কত খ্রিস্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (United Nations Organisation – UNO) প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৯৪২
(খ) ১৯৪৪
(গ) ১৯৪৫
(ঘ) ১৯৪৬
উত্তর: (গ) ১৯৪৫
১০. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ দিবস (UN Day) প্রতি বছর কোন তারিখে উদযাপিত হয়?
(ক) ২৪ অক্টোবর
(খ) ২৬ জুন
(গ) ১ জানুয়ারি
(ঘ) ১০ ডিসেম্বর
উত্তর: (ক) ২৪ অক্টোবর
১১. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মূল সনদে (UN Charter) গৃহীত ধারার সংখ্যা কয়টি ছিল?
(ক) ১০০টি
(খ) ১১১টি
(গ) ১২৫টি
(ঘ) ১৫০টি
উত্তর: (খ) ১১১টি
১২. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা কত?
(ক) ৫টি
(খ) ১০টি
(গ) ১৫টি
(ঘ) ২০টি
উত্তর: (ক) ৫টি
১৩. নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসম্মতি জানানোর একক ক্ষমতাকে কী বলা হয়?
(ক) প্রিভিলেজ
(খ) ভেটো (Veto)
(গ) কোরাম
(ঘ) অর্ডিন্যান্স
উত্তর: (খ) ভেটো (Veto)
১৪. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের আন্তর্জাতিক বিচারালয় (International Court of Justice) কোন শহরে অবস্থিত?
(ক) নিউ ইয়র্ক
(খ) জেনেভা
(গ) দ্য হেগ (The Hague)
(ঘ) প্যারিস
উত্তর: (গ) দ্য হেগ (The Hague)
১৫. মার্কিন রাজনীতিবিদ বার্নার্ড বারুচ এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান কোন সংঘাতপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বোঝাতে ‘ঠান্ডা লড়াই’ (Cold War) শব্দটি জনপ্রিয় করেন?
(ক) প্রাচ্য সংকট
(খ) আমেরিকা ও সোভিয়েত রাশিয়ার মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত
(গ) চীন-সোভিয়েত বিরোধ
(ঘ) কোরিয়া যুদ্ধ
উত্তর: (খ) আমেরিকা ও সোভিয়েত রাশিয়ার মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত
১৬. ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার ফুলটন বক্তৃতায় সোভিয়েত প্রভাব বিস্তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে কে প্রথম ‘লৌহ পর্দা’ (Iron Curtain) শব্দটি ব্যবহার করেন?
(ক) হ্যারি ট্রুম্যান
(খ) উইনস্টন চার্চিল
(গ) জর্জ মার্শাল
(ঘ) ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট
উত্তর: (খ) উইনস্টন চার্চিল
১৭. ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলিকে কমিউনিজমের হাত থেকে বাঁচাতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ঘটাতে আমেরিকা ১৯৪৭ সালে কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করে?
(ক) ট্রুম্যান নীতি
(খ) মার্শাল পরিকল্পনা (Marshall Plan)
(গ) মলোটভ পরিকল্পনা
(ঘ) মোনরো নীতি
উত্তর: (খ) মার্শাল পরিকল্পনা (Marshall Plan)
১৮. ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিম ইউরোপের পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলির সামরিক জোটটির নাম কী ছিল?
(ক) ওয়ারশ প্যাক্ট
(খ) ন্যাটো (NATO)
(গ) সিয়াটো (SEATO)
(ঘ) সেন্টো (CENTO)
উত্তর: (খ) ন্যাটো (NATO)
১৯. ন্যাটোর পালটা জবাবে ১৯৫৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে পূর্ব ইউরোপের কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলির সামরিক জোটের নাম কী?
(ক) কমিনফর্ম
(খ) কমিকন
(গ) ওয়ারশ প্যাক্ট (Warsaw Pact)
(ঘ) বলকান লিগ
উত্তর: (গ) ওয়ারশ প্যাক্ট (Warsaw Pact)
২০. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দ্বিখণ্ডিত জার্মানির কোন অংশ সোভিয়েত রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়?
(ক) পশ্চিম জার্মানি (FRG)
(খ) পূর্ব জার্মানি (GDR)
(গ) অস্ট্রিয়ান জোন
(ঘ) বাভারিয়া
উত্তর: (খ) পূর্ব জার্মানি (GDR)
@ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
বিভাগ খ: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ও উত্তর
১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির সেনাপতি এরউইন রোমেলকে তাঁর রণকৌশলের জন্য কী উপাধিতে ডাকা হতো?
উত্তর: ‘মরুশৃগাল’ বা ‘ডেজার্ট ফক্স’ (Desert Fox)।
২. ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ২২ জুন হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর কোন আক্রমণ পরিচালনা করে অনাক্রমণ চুক্তি লঙ্ঘন করেছিলেন?
উত্তর: ‘অপারেশন বারবারোসা’ নামক সামরিক অভিযান।
৩. জাপানের কোন সেনাপ্রধান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পার্ল হারবার আক্রমণের মূল নকশা তৈরি করেছিলেন?
উত্তর: অ্যাডমিরাল ইসোরোকু ইয়ামামোতো।
৪. অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিত্রশক্তির প্রধান তিন পরাশক্তিকে (আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ব্রিটেন) একত্রে কী বলা হতো?
উত্তর: ‘বিগ থ্রি’ (Big Three)।
৫. ১৯৪৩ সালের তেহরান সম্মেলনে মিত্রশক্তির কোন তিনজন শীর্ষনেতা অংশ নিয়েছিলেন?
উত্তর: জোসেফ স্ট্যালিন, উইনস্টন চার্চিল এবং ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট।
৬. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানিতে ইহুদিদের হত্যার জন্য তৈরি কুখ্যাত কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: পোল্যান্ডে অবস্থিত আউশভিৎস-বিরকেনাউ (Auschwitz-Birkenau) মৃত্যুশিবির।
৭. কোন ঐতিহাসিক যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে সোভিয়েত লাল ফৌজ (Red Army) পূর্ব ইউরোপে জার্মানির অগ্রযাত্রা চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়?
উত্তর: স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধ (Battle of Stalingrad)।
৮. ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল পরাজয় নিশ্চিত জেনে হিটলার কোথায় আত্মহত্যা করেন?
উত্তর: বার্লিনের ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে (Führerbunker)।
৯. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপের রণক্ষেত্রে অক্ষশক্তির আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ কোন তারিখে সম্পন্ন হয় (যা Victory in Europe বা VE Day নামে পরিচিত)?
উত্তর: ৮ মে ১৯৪৫।
১০. আমেরিকা প্রথম পারমাণবিক বোমা তৈরির যে অতি-গোপন গবেষণা প্রকল্প চালু করেছিল, তার নাম কী ছিল?
উত্তর: ম্যানহাটন প্রকল্প (Manhattan Project)।
১১. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম কে ব্যবহার করেছিলেন?
উত্তর: মার্কিন রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট (১ জানুয়ারি ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ঘোষণায়)।
১২. ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের কোন সম্মেলনের মাধ্যমে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সংবিধান বা চার্টার চূড়ান্ত রূপ পায়?
উত্তর: সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে (San Francisco Conference)।
১৩. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভাকে (General Assembly) রাষ্ট্রবিজ্ঞানী শুমান কী বলে অভিহিত করেছেন?
উত্তর: “বিশ্বের উন্মুক্ত বিতর্কসভা” (Open forum of the world) বা বিশ্ব সংসদ।
১৪. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রথম মহাসচিব কে ছিলেন?
উত্তর: নরওয়ের নাগরিক ট্রিগভে লি (Trygve Lie)।
১৫. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সচিবালয়ের (Secretariat) প্রশাসনিক প্রধান কে?
উত্তর: মহাসচিব (Secretary-General)।
১৬. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালটি কোথায় বসেছিল?
উত্তর: জার্মানির নুরেমবার্গ শহরে (Nuremberg Trials)।
১৭. ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১২ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান গ্রিস ও তুরস্ককে সমাজতন্ত্রের হাত থেকে বাঁচাতে যে অর্থ ও সামরিক সাহায্যের নীতি ঘোষণা করেন, তার নাম কী?
উত্তর: ট্রুম্যান নীতি (Truman Doctrine)।
১৮. মার্শাল পরিকল্পনার পালটা জবাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলির জন্য যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা গড়ে তোলে, তার নাম কী?
উত্তর: কমিকন বা কমেকন (COMECON)।
১৯. ১৯৪৮-১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত বাহিনী পশ্চিম বার্লিনকে অবরুদ্ধ করলে পশ্চিমী শক্তিগুলি খাদ্য ও রসদ সরবরাহের জন্য কোন ব্যবস্থা নেয়?
উত্তর: বার্লিন এয়ারলিফট (Berlin Airlift)।
২০. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলিতে ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
উত্তর: অব-উপনিবেশায়ন বা বি-উপনিবেশায়ন (Decolonisation)।
@ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
বিভাগ গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ২)
১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের রাশিয়া আক্রমণের (অপারেশন বারবারোসা) দুটি প্রধান কারণ কী ছিল?
মতাদর্শগত শত্রুতা ও স্লাভ বিদ্বেষ:
হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়নের বলশেভিক বা কমিউনিস্ট মতাদর্শকে নাৎসিবাদের চিরশত্রু মনে করতেন এবং পূর্ব ইউরোপের স্লাভ জনগোষ্ঠীকে পদানত করে সেখানে জার্মান জাতির জন্য ‘লেবেনসরাউম’ (বাসস্থান) তৈরি করতে চেয়েছিলেন।
খনিজ ও কৃষিসম্পদের লোভ:
রাশিয়ার বিশাল খাদ্যভাণ্ডার (ইউক্রেনের গম) এবং ককেশাস অঞ্চলের অফুরন্ত পেট্রোলিয়াম ও খনিজ তেলের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের রসদ নিশ্চিত করাই ছিল হিটলারের লক্ষ্য।
২. ১৯৪১ সালের পার্ল হারবার আক্রমণের গুরুত্ব কী ছিল?
আমেরিকার প্রত্যক্ষ যুদ্ধে যোগদান:
জাপানের এই ধ্বংসাত্মক বিমান আক্রমণের পর বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতি পরিহার করে আমেরিকা সরাসরি অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে পূর্ণ সামরিক শক্তি নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।
বিশ্বযুদ্ধের গতিমুখ বদল:
আমেরিকার বিপুল শিল্পোৎপাদন, অফুরন্ত অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও সৈন্যবলের সংযোজন মিত্রশক্তির নৈতিক ও বাস্তব শক্তিকে এমন স্তরে পৌঁছে দেয় যা অক্ষশক্তির পরাজয়কে নিশ্চিত করে তোলে।
৩. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ‘হলোকস্ট’ (Holocaust) বলতে কী বোঝায়?
পরিকল্পিত বর্ণবিদ্বেষী গণহত্যা:
নাৎসি জার্মানি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত সমগ্র ইউরোপে আর্য রক্তের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের অজুহাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে প্রায় ষাট লক্ষ নিরপরাধ ইহুদিকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বিষাক্ত গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে এবং গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করার প্রক্রিয়াকে হলোকস্ট বলা হয়।
মানবতার চরম সংকট:
এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক ও পদ্ধতিগত রাষ্ট্রীয় গণহত্যা, যার শিকার শুধু ইহুদিরা নয়—রোমানি জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও কমিউনিস্টরাও হয়েছিল।
৪. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘোরানো ‘স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধ’ (Battle of Stalingrad)-এর তাৎপর্য কী ছিল?
জার্মান অপরাজেয়তার অবসান:
১৯৪২-৪৩ সালের এই যুদ্ধে জেনারেল পাউলাসের সমগ্র জার্মান ষষ্ঠ সেনাবাহিনী সোভিয়েত রেড আর্মির হাতে শোচনীয়ভাবে বন্দি ও পরাস্ত হয়, যা পূর্ব রণাঙ্গনে নাৎসি শক্তির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।
সোভিয়েত রাশিয়ার বিজয়যাত্রা:
স্তালিনগ্রাদের পর থেকে জার্মানরা আর কখনো রাশিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থানে যেতে পারেনি; সোভিয়েত বাহিনী এরপর একটানা পশ্চাদপসরণকারী জার্মানদের তাড়া করে বার্লিনের রাজপথ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
৫. ‘ডি-ডে’ (D-Day – ৬ জুন ১৯৪৪) বলতে কী বোঝায়?
ইউরোপে দ্বিতীয় রণাঙ্গন উন্মোচন:
জেনারেল ডোয়াইট আইজেনহাওয়ারের সর্বাধিনায়কত্বে মিত্রবাহিনী উত্তর ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে সমুদ্র ও আকাশপথে ইতিহাসের বৃহত্তম সমন্বিত সামরিক অবতরণ পরিচালনা করে।
পশ্চিম ইউরোপের মুক্তি:
এই সফল অভিযানের মাধ্যমেই নাৎসিদের দখল থেকে প্যারিসসহ সমগ্র পশ্চিম ইউরোপকে মুক্ত করার পথ উন্মুক্ত হয় এবং জার্মানি দুই রণাঙ্গনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
৬. আমেরিকা কেন জাপানের ওপর পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করেছিল?
যুদ্ধ দ্রুত শেষ করে ক্ষয়ক্ষতি কমানো:
জাপানের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি সেনা নামিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে গেলে আরও লক্ষ লক্ষ মিত্রবাহিনীর সৈন্যের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল; বোমা নিক্ষেপের ফলে জাপান অবিলম্বে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানো ও ক্ষমতার আস্ফালন:
এশিয়া ভূখণ্ডে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব বিস্তার রোধ করা এবং যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে আমেরিকার একক সামরিক আধিপত্য প্রদর্শন করাও এই বোমা ফেলার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল।
৭. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UNO) প্রতিষ্ঠার মূল দুটি উদ্দেশ্য কী ছিল?
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা:
ভবিষ্যতে যাতে বিশ্বকে তৃতীয় কোনো মহাযুদ্ধের মুখে পড়তে না হয়, সেজন্য যেকোনো আন্তর্জাতিক বিবাদ শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে মেটানো এবং আগ্রাসন প্রতিহত করা।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা:
জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র বিশ্বের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং অনুন্নত দেশগুলিতে অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানোন্নয়নে যৌথ সাহায্য প্রদান করা।
৮. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ‘নিরাপত্তা পরিষদ’ (Security Council)-এর গঠন কীরূপ?
স্থায়ী সদস্যবৃন্দ:
বিশ্বের পাঁচটি পরাশক্তি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন হলো এর পাঁচজন স্থায়ী সদস্য, যাদের প্রত্যেকের কাছে বিতর্কিত বিষয়ে ‘ভেটো’ ক্ষমতা রয়েছে।
অস্থায়ী সদস্যবৃন্দ:
সাধারণ সভার সদস্যদের মধ্য থেকে ভৌগোলিক ভারসাম্য বজায় রেখে দুই বছরের মেয়াদে ১০টি রাষ্ট্রকে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
৯. নিরাপত্তা পরিষদের ‘ভেটো ক্ষমতা’ (Veto Power) কী?
একক অসম্মতি জানানোর অধিকার:
ল্যাটিন শব্দ ‘ভেটো’-র অর্থ হলো “আমি মানি না”। নিরাপত্তা পরিষদের কোনো প্রস্তাবে যদি ১৪টি দেশও সম্মতি জানায়, কিন্তু ৫টি স্থায়ী সদস্যের যেকোনো একটি দেশ ভেটো প্রয়োগ করে, তবে সেই প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যায়।
পরাশক্তির সুরক্ষাকবচ:
কোনো বড় শক্তি যাতে অন্যদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের দ্বারা নিজের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিতে বাধ্য না হয়, সেজন্যই চার্টারে এই বিশেষ অধিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
১০. ‘ঠান্ডা লড়াই’ বা ‘কোল্ড ওয়ার’ (Cold War) বলতে কী বোঝায়?
সরাসরি যুদ্ধহীন অথচ চরম বৈরিতামূলক অবস্থা:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক বিশ্ব এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের মধ্যে কোনো সরাসরি প্রকাশ্য যুদ্ধ না হয়েও যে চরম রাজনৈতিক, মতাদর্শগত, অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতা বজায় ছিল, তাকে ঠান্ডা লড়াই বলে।
মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত:
এই লড়াই পরিচালিত হতো প্রোপাগান্ডা, গুপ্তচরবৃত্তি (CIA বনাম KGB), ছায়াযুদ্ধ (Proxy War) এবং মহাকাশ ও পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।
১১. চার্চিলের ‘লৌহ পর্দা’ (Iron Curtain) ধারণার অর্থ কী ছিল?
ইউরোপের মতাদর্শগত দ্বিখণ্ডন:
১৯৪৬ সালে আমেরিকার ফুলটনে প্রদত্ত ভাষণে উইনস্টন চার্চিল উল্লেখ করেন যে বাল্টিক সাগরের শ্চেচিন থেকে অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের ত্রিয়েস্তে পর্যন্ত সমগ্র ইউরোপীয় মহাদেশে একটি অদৃশ্য কিন্তু দুর্ভেদ্য ‘লৌহ প্রাচীর’ নেমে এসেছে।
সোভিয়েত একনায়কতন্ত্রের বিস্তার:
এর অর্থ ছিল—পূর্ব ইউরোপের পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার মতো দেশগুলি সোভিয়েত ইউনিয়নের লোহার মতো কঠোর কমিউনিস্ট নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়ে বাইরের মুক্ত বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
১২. ‘ট্রুম্যান নীতি’ (Truman Doctrine, ১৯৪৭)-র মূল প্রতিপাদ্য কী ছিল?
কমিউনিজম প্রতিরোধ নীতি (Containment Policy):
মার্কিন রাষ্ট্রপতি হ্যারি ট্রুম্যান ঘোষণা করেন যে বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংখ্যালঘু বা বিদেশি চাপের মুখে কোনো স্বাধীন গণতান্ত্রিক জাতির স্বাধীনতা বিপন্ন হলে আমেরিকা তাকে সর্বতোভাবে রক্ষা করবে।
সামরিক ও আর্থিক সহায়তা:
এই নীতির আওতায় সোভিয়েত বলয়ভুক্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে তৎকালীন গ্রিস ও তুরস্কের রাজতান্ত্রিক ও প্রতিক্রিয়াশীল সরকারকে ৪০ কোটি ডলার অর্থ ও সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করা হয়।
১৩. ‘মার্শাল পরিকল্পনা’ (Marshall Plan)-র প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের পুনর্গঠন:
মার্কিন পররাষ্ট্রসচিব জর্জ মার্শাল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলির অর্থনীতিকে দাঁড় করাতে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের এক সুবিশাল অনুদান প্রকল্প চালু করেন।
সমাজতন্ত্রের সম্প্রসারণ রোধ:
আমেরিকা বুঝতে পেরেছিল দারিদ্র্য, ক্ষোভ ও বেকারত্বই হলো কমিউনিজমের উর্বর জমি; তাই পশ্চিম ইউরোপের পুঁজিবাদী কাঠামোর দ্রুত উন্নতি ঘটিয়ে সাম্যবাদের বিস্তার রোধ করাই ছিল এর গূঢ় রাজনৈতিক লক্ষ্য।
১৪. ‘ন্যাটো’ (NATO) কেন গঠিত হয়েছিল?
যৌথ সামরিক আত্মরক্ষা:
১৯৪৯ সালে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডাসহ ১২টি দেশকে নিয়ে গঠিত নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের মূল চুক্তি ছিল—সদস্য দেশগুলির যেকোনো একজনের ওপর বহিরাগত আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হবে।
সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামরিক ঢাল:
পশ্চিম ইউরোপে সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্ভাব্য সেনা অভিযান প্রতিরোধ করতে এই স্থায়ী যৌথ সামরিক কমান্ড গড়ে তোলা হয়।
১৫. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পর্বে ‘অব-উপনিবেশায়ন’ (Decolonisation) কেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল?
ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির ক্ষয়িষ্ণুতা:
মহাযুদ্ধের পর ব্রিটেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি এতটাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল যে বিপুল অর্থ ব্যয় করে দূরদেশের উপনিবেশগুলি সেনাবাহিনী দিয়ে শাসন করার ক্ষমতা তাদের আর ছিল না।
জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের তীব্রতা:
এশিয়া ও আফ্রিকায় ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও আফ্রিকার দেশে দেশে জাতীয়তাবাদী মুক্তি সংগ্রাম এত তীব্র রূপ নিয়েছিল যে বিদেশি শাসকদের পক্ষে তা আর দাবিয়ে রাখা সম্ভব ছিল না।
@ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
বিভাগ ঘ: বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৪)
১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর হিটলারের আক্রমণের কারণ এবং এর মারাত্মক ফলাফল বিশ্লেষণ করুন।
১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ২২ জুন হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে স্বাক্ষরিত দশ বছরের অনাক্রমণ চুক্তি ধূলিসাৎ করে ইতিহাসের বৃহত্তম সেনা অভিযান ‘অপারেশন বারবারোসা’ শুরু করেন। এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতিপ্রকৃতির সবচেয়ে বড় বাঁক।
আক্রমণের নেপথ্য কারণসমূহ:
মতাদর্শগত বৈরিতা ও লেবেনসরাউম: হিটলারের চরম ফ্যাসিবাদী দর্শনের মূল শত্রু ছিল ইহুদিবাদ ও মার্কসীয় কমিউনিজম। তিনি চেয়েছিলেন বলশেভিক রাশিয়াকে নিশ্চিহ্ন করে স্লাভ জাতিকে ক্রীতদাসে পরিণত করতে এবং জার্মান বসতি স্থাপনের জন্য পূর্ব ইউরোপের বিস্তীর্ণ জমি বা ‘লেবেনসরাউম’ দখল করতে।
অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পদ দখল: দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য জার্মানির কাঁচা তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। ককেশাস পর্বতমালার বাকু তৈলক্ষেত্র এবং ইউক্রেনের উর্বর শস্যভাণ্ডার অধিকার করাই ছিল হিটলারের প্রধান সামরিক লক্ষ্য।
অভিযানের ভয়াবহ ও মারাত্মক পরিণতি:
দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের ফাঁদ: রাশিয়া আক্রমণ করে হিটলার কার্যত একই সাথে পশ্চিমে ইংল্যান্ড ও পূর্বে বিশাল রাশিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিমুখী যুদ্ধের (Two-front War) মারাত্মক আত্মঘাতী ফাঁদে পা দেন, যা এড়ানোর জন্য বিসমার্ক সতর্ক করে গিয়েছিলেন।
জার্মান অপরাজেয় বাহিনীর মেরুদণ্ড চূর্ণ: প্রাথমিক সাফল্যের পর রাশিয়ার কুখ্যাত বরফ ও শৈত্যপ্রবাহের মুখে জার্মান গতি রুদ্ধ হয়। পরবর্তীতে স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর প্রায় তিন লক্ষ সেনা ধ্বংস হয়। রাশিয়ার রেড আর্মি জার্মান বাহিনীকে বিতাড়িত করে বার্লিনের রাইখস্ট্যাগ ভবনে লাল পতাকা উড়িয়ে হিটলারের সাম্রাজ্যের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেয়।
২. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত ‘লিগ অব নেশনস’-এর তুলনায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ‘সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ’ (UNO) কতটা শক্তিশালী ও কার্যকর?
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত ‘লিগ অব নেশনস’ পরাশক্তিগুলির আগ্রাসন রুখতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথ তৈরি করেছিল। কিন্তু ১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ পূর্বসূরির ভুলগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বাস্তববাদী ও ক্ষমতাসম্পন্ন কাঠামো গড়ে তোলে।
লিগ অব নেশনস বনাম সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ: কাঠামোগত তুলনা
│
┌─────────────────────────────────┴─────────────────────────────────┐
▼ ▼
লিগ অব নেশনস (League of Nations) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UNO)
┌──────────────────────────────────────┐ ┌──────────────────────────────────────┐
│• বৃহৎ পরাশক্তি আমেরিকার অনুপস্থিতি │ │• আমেরিকা ও রাশিয়া উভয় পরাশক্তির অন্তর্ভুক্তি│
│• সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের জটিল নিয়ম │ │• ভেটো ক্ষমতাসহ নিরাপত্তা পরিষদের দ্রুত সিদ্ধান্ত│
│• নিজস্ব কোনো সশস্ত্র সেনা বাহিনী নেই │ │• শান্তি রক্ষা বাহিনী (Peacekeeping Force) গঠন│
│• আগ্রাসন রুখতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ│ │• সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ব্যাপক শাখা│
└──────────────────────────────────────┘ └──────────────────────────────────────┘
সকল প্রধান পরাশক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ:
লিগ অব নেশনস-এর প্রধান দুর্বলতা ছিল বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এতে কোনোদিন যোগ না দেওয়া এবং সোভিয়েত ইউনিয়নকে দীর্ঘদিন বাইরে রাখা। কিন্তু জাতিপুঞ্জে শুরু থেকেই আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চীনের মতো সমস্ত বিশ্ব পরাশক্তি সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে, যা একে প্রকৃত বিশ্বসংস্থার মর্যাদা দেয়।
বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিরাপত্তা পরিষদ:
লিগে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে সমস্ত সদস্যের ‘সর্বসম্মত সম্মতি’র প্রয়োজন হতো, যা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণকে অসম্ভব করে তুলত। জাতিপুঞ্জে স্থায়ী পাঁচ শক্তির ‘ভেটো’ ক্ষমতা দিয়ে এই অচলাবস্থা দূর করা হয় এবং আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখার সমস্ত ক্ষমতা একটি ছোট ও কার্যকর ‘নিরাপত্তা পরিষদ’-এর হাতে ন্যস্ত করা হয়।
শান্তি রক্ষা বাহিনী ও সার্বিক সামাজিক ভূমিকা:
জাতিপুঞ্জের নিজস্ব কোনো স্থায়ী সৈন্য না থাকলেও সনদের সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলির সেনা নিয়ে ‘জাতিপুঞ্জ শান্তি রক্ষা বাহিনী’ (UN Peacekeeping Force) গড়ে তোলার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বের বহু অঞ্চলে যুদ্ধ থামাতে সরাসরি মোতায়েন হয়েছে। এছাড়া ইউনেস্কো (UNESCO), ইউনিসেফ (UNICEF), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র মতো শাখাগুলির মাধ্যমে জাতিপুঞ্জ ক্ষুধা, ব্যাধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে লিগের চেয়ে বহু গুণ বেশি সফল।
৩. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ কীভাবে দুটি পরস্পরবিরোধী সামরিক ও অর্থনৈতিক জোটে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পরাজয়ের মধ্য দিয়ে অভিন্ন শত্রুর বিনাশ ঘটলেও, যুদ্ধ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মিত্রশক্তির অন্তর্গত আমেরিকা ও সোভিয়েত রাশিয়ার মধ্যকার গোপন অবিশ্বাস এক সর্বাত্মক মতাদর্শগত ও সামরিক মেরুকরণে রূপ নেয়।
অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিভাজন:
পশ্চিমী অর্থনৈতিক বলয় (মার্শাল পরিকল্পনা): ১৯৪৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং সমাজতন্ত্রের প্রসার রুখতে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের এক বিপুল অর্থনৈতিক অনুদান প্যাকেজ কার্যকর করে। এর মাধ্যমে পশ্চিম ইউরোপের পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলি আমেরিকার অর্থনৈতিক সুরক্ষায় আবদ্ধ হয়।
পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক বলয় (কমিকন): সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্শাল পরিকল্পনাকে আমেরিকার অর্থনৈতিক দাসত্ব তৈরির কৌশল বলে চিহ্নিত করে। জবাবে ১৯৪৯ সালে মস্কো পূর্ব ইউরোপের কমিউনিস্ট উপগ্রহ রাষ্ট্রগুলির (যেমন পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, পূর্ব জার্মানি) জন্য বিকল্প অর্থনৈতিক সংস্থা হিসেবে ‘কমিকন’ (COMECON) গঠন করে।
সামরিক অক্ষের মুখোমুখি অবস্থান:
পুঁজিবাদী সামরিক জোট (ন্যাটো – NATO): বার্লিন সংকটের পর ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিম ইউরোপের ১২টি দেশ মিলে গড়ে তোলে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটো। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের যেকোনো সামরিক বিস্তার যৌথ প্রতিরোধে গুঁড়িয়ে দেওয়া।
কমিউনিস্ট সামরিক জোট (ওয়ারশ প্যাক্ট – Warsaw Pact): ১৯৫৫ সালে পশ্চিম জার্মানিকে ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত করা হলে তার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার অনুগত পূর্ব ইউরোপীয় সাতটি কমিউনিস্ট রাষ্ট্র একত্রিত হয়ে ‘ওয়ারশ চুক্তি’ স্বাক্ষর করে নিজস্ব যৌথ সামরিক কমান্ড গঠন করে।
এই অর্থনৈতিক ও সামরিক বিভাজনের ফলেই গোটা ইউরোপ ভৌগোলিকভাবে দুটি চিরবৈরী যুদ্ধশিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা বিশ্বকে বহু দশক ধরে পারমাণবিক ধ্বংসের আতঙ্কে কাঁপিয়ে রেখেছিল।
@ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
বিভাগ ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৮)
১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সর্বগ্রাসী চরিত্র এবং এর সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক ফলাফল বিস্তারিতভাবে আলোচনা করুন। এই যুদ্ধ কীভাবে বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রকে সম্পূর্ণভাবে পাল্টে দিয়েছিল?
১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় বছরব্যাপী চলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল মানবসভ্যতার ইতিহাসে অদ্যাবধি সংঘটিত সবচেয়ে বিধ্বংসী, প্রাণঘাতী এবং সর্বগ্রাসী যুদ্ধ। পূর্ববর্তী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের তুলনায় এই যুদ্ধ ভৌগোলিক বিস্তার, ধ্বংসের মাত্রা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছিল। এই যুদ্ধের অভিঘাতে শতাব্দীর প্রাচীন ইউরোপ-কেন্দ্রিক সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন দ্বিমেরুকেন্দ্রিক যুগের সূচনা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিশ্বজনীন প্রভাব
│
┌────────────────────────────────┼────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার ভাঙন
┌───────────────────────────────┐ ┌───────────────────────────────┐ ┌───────────────────────────────┐
│• ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের চিরসমাপ্তি │ │• পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু │ │• এশিয়া-আফ্রিকায় অব-উপনিবেশায়ন│
│• দ্বিমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের জন্ম │ │• হলোকস্ট ও পারমাণবিক ধ্বংসলীলা│ │• ভারত, ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা │
│• আমেরিকা বনাম সোভিয়েত রাশিয়া │ │• সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের (UNO) জন্ম│ │• তৃতীয় বিশ্বের (Third World) উদয়│
└───────────────────────────────┘ └───────────────────────────────┘ └───────────────────────────────┘
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সর্বগ্রাসী চরিত্র
সামরিক ও অসামরিক সীমানা মুছে যাওয়া:
এই যুদ্ধ কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এতে আকাশপথে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে লন্ডন, ড্রেসডেন, টোকিওর মতো প্রাচীন শহরের লাখ লাখ সাধারণ নিরপরাধ নাগরিক, নারী ও শিশুদের নিশ্চিহ্ন করা হয়। কারখানা শ্রমিক থেকে শুরু করে কৃষক—সমগ্র সমাজ ও অর্থনীতি যুদ্ধের উপাদানে রূপান্তরিত হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নারকীয় অপব্যবহার:
রাডার, জেট বিমান, ভি-২ রকেট এবং সবশেষে পারমাণবিক বোমার মতো মানববিধ্বংসী চরম প্রযুক্তির ব্যবহার এই যুদ্ধকে চরমতম ধ্বংসাত্মক রূপ দিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক ফলাফল ও বিশ্ব মানচিত্রের পুনর্গঠন
ইউরোপীয় কর্তৃত্বের চিরস্থায়ী অবসান:
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো যে ইউরোপীয় দেশগুলি সমগ্র পৃথিবীকে শাসন করে আসছিল, যুদ্ধের ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও সামরিক ধ্বংসলীলায় তাদের সেই বিশ্বনেতৃত্বের আসন চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তারা বিজয়ী হলেও কার্যত অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া ও দুর্বল দ্বিতীয় সারির রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
দ্বিমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের উত্থান (Bipolar World):
ইউরোপের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্বের বুকে আত্মপ্রকাশ করে সম্পূর্ণ নতুন দুই অতি-পরাশক্তি (Superpowers)—
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: যার অক্ষত মূল ভূখণ্ড, পৃথিবীর সর্বাধিক স্বর্ণভাণ্ডার এবং একক পারমাণবিক অস্ত্রের একচেটিয়া অধিকার তাকে পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন: চরম ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও বিশ্বের বৃহত্তম সেনাবহর (রেড আর্মি) এবং সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে পূর্ব ইউরোপজুড়ে নিজের নিরঙ্কুশ আধিপত্য কায়েম করে।
বিশ্বের রাজনীতি এই দুই প্রধান শিবিরের মতাদর্শগত দ্বন্দ্বে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে।
মানবিক বিপর্যয় ও গণহত্যার কালো দাগ:
ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অনুসারে এই যুদ্ধে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছিল, যার অর্ধেকের বেশি ছিল সাধারণ অসামরিক নাগরিক। নাৎসিদের দ্বারা পরিচালিত ‘হলোকস্ট’-এ ৬০ লক্ষ ইহুদির পরিকল্পিত গণহত্যা মানব সভ্যতার বিবেককে চিরকালের জন্য নাড়া দিয়ে যায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত হয় নুরেমবার্গ ও টোকিও ট্রাইব্যুনাল।
অব-উপনিবেশায়ন (Decolonisation) ও এশিয়া-আফ্রিকার জাগরণ:
ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক প্রভুদের চরম সামরিক ও আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার পরাধীন দেশগুলিতে মুক্তির অগ্নিশিখা জ্বলে ওঠে। যুদ্ধের অব্যবহিত পরেই ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রত্ন ভারত স্বাধীন হয়; একে একে স্বাধীনতা অর্জন করে বার্মা, সিংহল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং আফ্রিকার বহু দেশ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জন্ম নেয় ঔপনিবেশিকতামুক্ত এক নতুন শক্তি, যা পরবর্তীতে ‘তৃতীয় বিশ্ব’ (Third World) নামে পরিচিত হয়।
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UNO)-এর প্রতিষ্ঠা:
লিগ অব নেশনস-এর মর্মান্তিক ব্যর্থতার স্মৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বনেতারা ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেন একটি নতুন এবং অনেক বেশি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা—’সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ’। বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং পারমাণবিক যুগে মানবজাতিকে আরেকটি মহাযুদ্ধ থেকে বাঁচিয়ে রাখার শপথ নিয়ে এই সংস্থা আত্মপ্রকাশ করে।
ঐতিহাসিক মূল্যায়ন
ইতিহাসবিদ এরিক হবসবম (Eric Hobsbawm) তাঁর বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ ‘The Age of Extremes’-এ দেখিয়েছেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল ইতিহাসের এক চরম মহাপ্রলয়। এটি কেবল পুরনো সামন্ততান্ত্রিক ও সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার শেষ ধ্বংসাবশেষকে মুছে দেয়নি, বরং মানবজাতিকে এমন এক পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করিয়েছিল যেখানে যুদ্ধের অর্থ আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের জয় বা পরাজয় নয়, বরং মানবজাতির সামগ্রিক বিনাশ।
@ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পর্বে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (United Nations Organisation – UNO)-এর উৎপত্তি ও সাংগঠনিক রূপরেখা আলোচনা করুন। আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা মূল্যায়ন করুন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ ও কোটি কোটি মানুষের আর্তনাদের মধ্য থেকে বিশ্বশান্তির পরম আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জন্ম নিয়েছিল আধুনিক বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক সংস্থা—সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বা UNO। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২৪ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনের মাধ্যমে ৫১টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতিক্রমে কার্যকর হওয়া এই সংস্থাটি মানবসভ্যতাকে তৃতীয় আরেকটি প্রলয়ংকরী মহাযুদ্ধের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখার প্রধান মঞ্চ হিসেবে কাজ করে চলেছে।
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মূল কাঠামো
│
┌───────────────────┬──────────────┴───────┬───────────────────┐
▼ ▼ ▼ ▼
সাধারণ সভা নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক বিচারালয় সচিবালয়
┌─────────────────┐ ┌─────────────────┐ ┌─────────────────┐ ┌─────────────────┐
│ • বিশ্বের সংসদ │ │ • ১৫ সদস্যবিশিষ্ট│ │ • দ্য হেগ শহরে │ │ • প্রশাসনিক কেন্দ্র│
│ • সকল সদস্য রাষ্ট্র│ │ • ৫ স্থায়ী (ভেটো)│ │ • ১৫ জন বিচারক │ │ • মহাসচিবের নেতৃত্ব│
│ • নীতিগত আলোচনা │ │ • শান্তি ও নিরাপত্তা│ │ • আন্তর্জাতিক বিবাদ│ │ • সনদ প্রয়োগ │
└─────────────────┘ └─────────────────┘ └─────────────────┘ └─────────────────┘
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রধান অঙ্গসমূহ
জাতিপুঞ্জের সনদে মূলত ছয়টি প্রধান অঙ্গের উল্লেখ রয়েছে:
সাধারণ সভা (General Assembly):
এটি হলো জাতিপুঞ্জের প্রধান বিতর্ক ও নীতি নির্ধারণী সভা, যেখানে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের একটি করে ভোটদানের অধিকার রয়েছে। আন্তর্জাতিক শান্তি, নতুন সদস্য গ্রহণ এবং বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে এখানে মুক্ত আলোচনা হয়।
নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council):
এটি হলো জাতিপুঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্বাহী কার্যনির্বাহী অঙ্গ। এটি ৫টি স্থায়ী সদস্য (আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চীন) এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। আন্তর্জাতিক শান্তি বিপন্ন হলে সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি বা সেনা পাঠানোর চূড়ান্ত ক্ষমতা এই পরিষদের হাতেই থাকে। স্থায়ী পাঁচ সদস্যের প্রত্যেকের কোনো সিদ্ধান্তে অসম্মতি জানানোর একক ক্ষমতা বা ‘ভেটো’ (Veto) রয়েছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC):
বিশ্বের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে এই পরিষদ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ সংস্থা—যেমন ইউনেস্কো (UNESCO), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কাজ করে।
আন্তর্জাতিক বিচারালয় (International Court of Justice):
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত এই আদালত ১৫ জন স্বাধীন বিচারক নিয়ে গঠিত, যা রাষ্ট্রগুলির মধ্যবর্তী আইনি বিরোধের নিষ্পত্তি করে।
সচিবালয় (Secretariat):
জাতিপুঞ্জের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের কেন্দ্রবিন্দু হলো সচিবালয়। এর প্রশাসনিক প্রধান হলেন মহাসচিব (Secretary-General), যিনি বিশ্বের নৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেন।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জের প্রধান সাফল্য
বিগত দশকগুলিতে জাতিপুঞ্জের কর্মকাণ্ড মানবজাতির বহু সংকটমোচনে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে:
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ রোধ:
ঠান্ডা লড়াইয়ের তীব্র উত্তেজনা এবং আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মাঝে দাঁড়িয়েও জাতিপুঞ্জ বিশ্বকে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।
আঞ্চলিক যুদ্ধ ও সংকট নিরসন:
১৯৫০ সালে কোরীয় যুদ্ধের সংকট নিরসনে জাতিপুঞ্জের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ।
১৯৫৬ সালে সুয়েজ খাল সংকটকালে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইজরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করা।
১৯৬২ সালের ভয়াবহ কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সময় মহাসচিব উ থান্টের মধ্যস্থতায় বিশ্বকে নিশ্চিত পারমাণবিক মহাযুদ্ধের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা।
উপনিবেশবাদের বিলোপ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ:
জাতিপুঞ্জের সক্রিয় সহযোগিতায় এশিয়া ও আফ্রিকার বহু পরাধীন দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে এবং জাতিপুঞ্জের সদস্য হয়ে নিজেদের সার্বভৌম কণ্ঠস্বর বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পেরেছে।
মানবাধিকার সনদ ও সামাজিক উন্নয়ন:
১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জাতিপুঞ্জ ঐতিহাসিক ‘মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র’ (Universal Declaration of Human Rights) গ্রহণ করে প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকারকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া, গুটিবসন্ত দূরীকরণ এবং যুদ্ধপীড়িত শিশুদের খাদ্য ও পুনর্বাসনে এর অবদান অনস্বীকার্য।
জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা
উজ্জ্বল সাফল্য সত্ত্বেও জাতিপুঞ্জের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে:
ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরাশক্তির দাদাগিরি:
ঠান্ডা লড়াইয়ের যুগে আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেদের স্বার্থে নিরাপত্তা পরিষদে লাগাতার ভেটো প্রয়োগ করে বহু জরুরি সিদ্ধান্ত বানচাল করে দিয়েছে। ফলে আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
নিজস্ব স্থায়ী সেনাবাহিনীর অভাব:
জাতিপুঞ্জের কোনো নিজস্ব স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই; সদস্য রাষ্ট্রগুলির সদিচ্ছা ও সৈন্য প্রেরণের ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় বহু জরুরি গণহত্যা ঠেকাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে (যেমন রুয়ান্ডার গৃহযুদ্ধ ও বসনিয়ার সেব্রেনিৎসা গণহত্যা)।
বৃহৎ শক্তির একক স্বেচ্ছাচারিতা:
বড় পরাশক্তিগুলি বহু ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জের মতামতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে একক সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে (যেমন আমেরিকার ভিয়েতনাম ও ইরাক আক্রমণ, কিংবা সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান ও হাঙ্গেরি অভিযান)। জাতিপুঞ্জ সেখানে এক অসহায় দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে বাধ্য হয়েছিল।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
সমস্ত সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতা সত্ত্বেও জাতিপুঞ্জের ঐতিহাসিক উপযোগিতা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। জাতিপুঞ্জ কোনো বিশ্ব সরকার নয় যে তা সমস্ত দেশকে জবরদস্তি শাসন করবে; এটি হলো সার্বভৌম দেশগুলির পারস্পরিক সমঝোতার একটি গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম।
জাতিপুঞ্জের দ্বিতীয় মহাসচিব ড্যাগ হ্যামারশোল্ড (Dag Hammarskjöld) এক অবিস্মরণীয় উক্তিতে এর সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলেছিলেন:
“The United Nations was not created in order to bring us to heaven, but in order to save us from hell.”
(সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ আমাদের স্বর্গে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি হয়নি, বরং এর সৃষ্টি হয়েছে আমাদের নরকের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।)
পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত আধুনিক পৃথিবীতে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ যদি না থাকত, তবে মানবজাতি হয়তো বহু আগেই আত্মঘাতী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগুনে নিঃশেষ হয়ে যেত। এই কারণেই এটি আজও বিশ্বশান্তির শেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আশা-ভরসার প্রতীক।
PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ, SAQ , ২ নম্বরের প্রশ্ন, ৪ নম্বরের প্রশ্ন, ৮ নম্বরের প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232
১) নবম শ্রেণির ইতিহাস ষষ্ঠ অধ্যায় – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর (Only for Subscribers)
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সকল বিষয়ের MCQ প্রশ্নের মক টেস্ট প্রদান করতে নিম্নের লিঙ্কটি অনুসরণ করতে হবে
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে।
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে। @ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি। @ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।






















