harun-salemer-masi-question-answers

হারুন সালেমের মাসি গল্পের প্রশ্নের উত্তর । দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা

উচ্চমাধ্যমিক বাংলা চতুর্থ সেমিস্টার পরীক্ষার প্রস্তুতির লক্ষ্যে WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে হারুন সালেমের মাসি গল্পের প্রশ্নের উত্তর । দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রদান করা হলো। যে সকল শিক্ষার্থীরা দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিস্টারের পড়া সম্পূর্ণ করে চতুর্থ সেমিস্টারের প্রস্তুতি শুরু করতে চলেছো তাদের জন্য এখানে মহাশ্বেতা দেবী রচিত হারুন সালেমের মাসি গল্পের গুরুত্বপূর্ণ বড়ো প্রশ্নের উত্তর -গুলি প্রদান করা হলো। পূর্ণাঙ্গ গল্পটি পাঠ করতে শিক্ষার্থীরা আমাদের ক্লাস নোট বিভাগে দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা নোট পেজ ভিজিট করো।

হারুন সালেমের মাসি গল্পের প্রশ্নের উত্তর । দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা : 

 

নিম্নে হারুন সালেমের মাসি গল্পের বিষয়বস্তুর আলোচনা প্রদান করা হলো- 

হারুন সালেমের মাসি গল্পের প্রশ্নোত্তরঃ 

 

১) ‘হারুন সালেমের মাসি’ গল্প অবলম্বনে গৌরবী চরিত্রটি আলোচনা করো। ৫ 

উৎসঃ

আধুনিক যুগের স্বনামধন্য লেখিকা ‘মহাশ্বেতা দেবী’ রচিত ‘স্তন্যদায়িনী ও অন্যান্য গল্প’ নামক গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত ‘হারুন সালেমের মাসি’ গল্পের প্রধান চরিত্র হল গৌরবী।

চরিত্র বিচারঃ 

গল্প-ঘটনা পর্যালোচনা করে আমরা গৌরবী চরিত্রের যেসকল বৈশিষ্ট্যের পরিচয় লাভ করি সেগুলি ক্রমান্বয়ে নিম্নে আলোচিত হল –

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাঃ

হতদরিদ্র হিন্দু বিধবা গৌরবী জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী। গল্পে জানা যায় – ‘গৌরবির একখানা পা জন্ম থেকে খুঁতো। গোড়ালি আর পাতা বাঁকা। আঙুলগুলো পেছনে বাঁকানো।’ তার এই প্রতিবন্ধকতার জন্য গৌরবী দ্রুত হাঁটতে পারে না।

কার্যকুশলাঃ

নিজের অসহায়তার জন্য নিয়তিকে দায়ী না করে গৌরবী পরিশ্রমের পথ বেছে নিয়েছে। সে হারার মায়ের সহযোগিতায় বিলের ধার ও খালপাড় থেকে থানকুনি, কচুশাক, যজ্ঞডুমুরের ডাল, দুর্বাঘাস, বেলপাতা সংগ্রহ করে – ‘যা পায় সব ওরা বেচে দেয় যশোদের কাছে।’ 

ভাগ্যবিড়ম্বিতাঃ

গৌরবীর দুই সন্তান, ছেলে নিবারণ ও মেয়ে পুঁটি। মেয়ের বিয়ের সময় বাসের কনডাক্টরকে জামাই করতে গিয়ে গৌরবী ও তার স্বামীর প্রচুর খরচ হয়েছিল। ঘর বানানোর অর্থ খরচ করায় নিবারণ প্রতিবাদ করায় গৌরবী তাকে বলেছিল – ‘তোর এত রিষ কেন? সময়ে পুঁটি আমায় ভাত দিবে।’ কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে গৌরবীর জামাইয়ের কাজ চলে যায়। মেয়ের সংসারে জায়গা হয় না গৌরবীর, আর প্রতিহিংসাপরায়ণ ছেলে নিবারণও মাকে আশ্রয় দিতে অসম্মত হয়।

বুদ্ধিমতীঃ

ভিন্নধর্মীর হারাকে আশ্রয়দানে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হলে গৌরবী অতীতের কথা ভুলে ছেলে নিবারণের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে বলে মনঃস্থির করে – “দুটো ভাত দে নিবারণ।” বলে কেঁদে পড়লে কি নিবারণ মা-কে ফেলে দেবে?’ তাবে তার এই বুদ্ধি শেষপর্যন্ত বিফল হয়।

চিরন্তন মাতৃত্ববোধঃ

সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে গৌরবীর মাতৃসত্তা জয়ী হয়ে ওঠে। তার অবাঞ্ছিত জীবনে হারার মায়ের “মাসির পা ধরে পড়ে থাকিস” নিদান তার মাতৃত্ববোধকে জাগ্রত করে। তাই সে নিবারণের নিশ্চিত নিরাপত্তার প্রলোভন এড়িয়ে, হারাকে আঁকড়ে ধরে শহরের অনিশ্চয়তার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

এইরূপে গৌরবী তার বিবিধ চরিত্র বৈশিষ্ট্য দ্বারা সকল পাঠকের হৃদয় জয় করে নেয়।

 

২) ‘মনে করেছে কাঙালের আস্পর্ধা’ – কারা এ কথা মনে করেছে এবং কার আস্পর্ধার কথা বলা হয়েছে? কোন্ কাজকে কেন কাঙালের আস্পর্ধা মনে করা হয়েছে তা আলোচনা করো। ২+৩=৫ 

উৎসঃ

আধুনিক যুগের স্বনামধন্য লেখিকা ‘মহাশ্বেতা দেবী’ রচিত ‘স্তন্যদায়িনী ও অন্যান্য গল্প’ নামক গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত ‘হারুন সালেমের মাসি’ গল্প থেকে প্রশ্নোক্ত তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি চয়ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য ব্যক্তিবর্গ ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তিঃ 

আলোচ্য গল্পে হারাদের সমাজের মানুষেরা, প্রতিবেশীরা ‘কাঙালের আস্পর্ধা’ মনোভাবনার অধিকারী। হারার বাবা ছিল একজন নামকরা ঘরামি। উদ্ধৃত অংশে তার আস্পর্ধার কথাই উল্লিখিত হয়েছে।

স্পর্ধিত কাজের স্বরূপঃ 

নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের দুঃসহ জীবনযন্ত্রণার চিত্র লেখিকা সমগ্র গল্প-ঘটনায় অনবদ্য দক্ষতায় চিত্রিত করেছেন। আমরা দেখতে পাই কীভাবে সাধারণ মানুষ দুবেলা দুমুঠো অন্নের সংস্থানের জন্য প্রাণপাত করে। তারা নিজেদের শখ-শৌখিনতা বিসর্জন দিতে বাধ্য হয় জীবন রক্ষার প্রয়োজনে।

এরকম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা পাই হারার পরিবারকে। হারার বাবা ছিল একজন নামকরা ঘরামি। স্বভাবতই সে তার পরিবারের জন্য নিজের সমস্ত দক্ষতাকে পাথেয় করে গড়ে তুলতে চেয়েছিল তাদের স্বপ্নের অমরাবতী। যেহেতু সে ঘরামি ছিল তাই খুব উঁচু ও মজবুত করে বানিয়েছিল ঘরটিকে। কিন্তু হারার বাবার এই ঘর বানানো তার সমাজের মানুষ তথা প্রতিবেশীরা ভালোভাবে নেয়নি। গৌরবীর ভাবনায় সমাজের সেই প্রতিচ্ছবিরই পরিচয় পাওয়া যায় – ‘তোমার ছেলে-বিবির ভিখিরির দশা। তুমি সামান্য ঘরামি। তুমি পালবাবুদের চেয়ে উঁচু ঘর তোল কেন?’ আর তাই মাদুর মুড়ে হারার বাবাকে উঠোনসই করবার পর তার সমাজের লোকরাই মাটিতে থুতু ফেলে বলেছিল – ‘ওঃ। ঘর তুলেছিল যেমন কোঠাবাড়ি।’ হারার বাবার এই অবিবেচকের মত ঘর তোলাকেই ‘কাঙালের আস্পর্ধা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

LINK TO VIEW PDF FILE (Only for Subscribers)

আদরিনী গল্পের MCQ প্রশ্নের উত্তর

নিম্নের PDF প্রশ্নের উত্তরগুলি শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য। দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232 

 

৩) ‘হারুন সালেমের মাসি’ গল্প অবলম্বনে হারা চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। ৫ 

উত্তর দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক/টাচ করতে হবে 

৪) ‘তখনই গৌরবী বুঝেছিল কী ভয়ানক প্রতিহিংসা নিবারণের’ – গৌরবী এ কথা কখন বুঝেছিল? নিবারণের ভয়ানক প্রতিহিংসার পরিচয় দাও। ২+৩ 

উত্তর দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক/টাচ করতে হবে 

৫) ‘গৌরবীর শুকনো বুকে যেন কিসের ঢেউ লাগল’ – কখন গৌরবীর এমন অনুভূতি হয়েছিল? আগে কখন গৌরবীর এমন মনে হত? ৩+২ 

উত্তর দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক/টাচ করতে হবে 

৬) ‘গৌরবীর ভেতরটা ভয়ে শুকিয়ে গেল’ – গৌরবীর ভয় পাওয়ার কারণ কী ছিল? ভয় কাটাতে সে কী করেছিল? ৩+২

উত্তর দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক/টাচ করতে হবে  

৭) ‘নিবারণ তো সে কথা শুনেই রেগে গেল’ – নিবারণ কে? তার রেগে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো। ২+৩ 

উত্তর দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক/টাচ করতে হবে 

৮) ‘সেখানে একবার মিশে যেতে পারলে আর কোনো ভয় থাকে না’ – কোথায় মিশে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে? সেখানে একবার মিশতে পারলে ভয় না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করো। ২+৩

উত্তর দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক/টাচ করতে হবে 

৯) ‘অসম্ভব দুশ্চিন্তা হল গৌরবীর’ – কাকে নিয়ে এই দুশ্চিন্তা? এই দুশ্চিন্তার কারণ ব্যাখ্যা করো। ২+৩ 

উত্তর দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক/টাচ করতে হবে 

১০) ‘নাকি সব গরিবের স্বর্গ আসলে এক?’ – উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো। ৫

উত্তর দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক/টাচ করতে হবে 

দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা বিষয়ের অধ্যায়ভিত্তিক সমস্ত নোট দেখতে নিম্নের লিঙ্কটি অনুসরণ করতে হবে 

হলুদ পোড়া গল্পের প্রশ্নের উত্তর

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করার প্রচেষ্টা করবেন না !
Scroll to Top