shilpobiplob-uponibeshbad-o-samrajjobad-question-answers

শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ প্রশ্নের উত্তর Class 9 History

শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ প্রশ্নের উত্তর Class 9 History নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইতিহাস বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করতে WWW.WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। এখানে নবম শ্রেণির ভূগোল অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হলো। 

আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি। 

শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ প্রশ্নের উত্তর Class 9 History : 

 

বিভাগ ক: বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ও উত্তর

১. ‘শিল্পবিপ্লব’ (Industrial Revolution) কথাটি সর্বপ্রথম ইংরেজিতে জনপ্রিয় করে তোলেন কোন ঐতিহাসিক?

(ক) অগাস্ট ব্ল্যাঙ্কি

(খ) আর্নল্ড টয়েনবি

(গ) এরিক হবসবম

(ঘ) কার্ল মার্ক্স

উত্তর: (খ) আর্নল্ড টয়েনবি

২. বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লব কোন দেশে ঘটেছিল?

(ক) ফ্রান্স

(খ) জার্মানি

(গ) ইংল্যান্ড

(ঘ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর: (গ) ইংল্যান্ড

৩. বস্ত্রবয়ন শিল্পে দ্রুত সুতো কাটার জন্য ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে ‘উড়ন্ত মাকু’ (Flying Shuttle) কে আবিষ্কার করেন?

(ক) জন কে

(খ) জেমস হারগ্রিভস

(গ) রিচার্ড আর্করাইট

(ঘ) এডমন্ড কার্টরাইট

উত্তর: (ক) জন কে

৪. ‘স্পিনিং জেনি’ (Spinning Jenny) নামক সুতো কাটার আধুনিক যন্ত্রটি কে উদ্ভাবন করেছিলেন?

(ক) জেমস ওয়াট

(খ) জেমস হারগ্রিভস

(গ) স্যামুয়েল ক্রম্পটন

(ঘ) হামফ্রে ডেভি

উত্তর: (খ) জেমস হারগ্রিভস

৫. বাষ্পীয় শক্তিচালিত জলযান বা প্রথম কার্যকর স্টিমবোট কে তৈরি করেন?

(ক) জর্জ স্টিফেনসন

(খ) রবার্ট ফুলটন

(গ) থমাস নিউকোমেন

(ঘ) ম্যাথিউ বোল্টন

উত্তর: (খ) রবার্ট ফুলটন

৬. কয়লাখনির শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য ‘নিরাপত্তা বাতি’ (Safety Lamp) কে আবিষ্কার করেন?

(ক) জেমস ওয়াট

(খ) স্যার হামফ্রে ডেভি

(গ) হেনরি বেসেমার

(ঘ) রবার্ট পিল

উত্তর: (খ) স্যার হামফ্রে ডেভি

৭. আধুনিক রেলপথের জনক কাকে বলা হয় (যিনি প্রথম সফল রেল ইঞ্জিন ‘রকেট’ তৈরি করেছিলেন)?

(ক) জর্জ স্টিফেনসন

(খ) টমাস টেলফোর্ড

(গ) জন ম্যাকঅ্যাডাম

(ঘ) জেমস ওয়াট

উত্তর: (ক) জর্জ স্টিফেনসন

৮. উনিশ শতকে কোন দেশকে বিশ্ব বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে ‘বিশ্বের কারখানা’ (Workshop of the World) বলা হতো?

(ক) ফ্রান্স

(খ) ব্রিটেন

(গ) বেলজিয়াম

(ঘ) রাশিয়া

উত্তর: (খ) ব্রিটেন

৯. অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডের অবাধ বাণিজ্যনীতির সমর্থক এবং ‘ওয়েলথ অব নেশনস’ গ্রন্থের প্রণেতা কে?

(ক) ডেভিড রিকার্ডো

(খ) অ্যাডাম স্মিথ

(গ) টমাস ম্যালথাস

(ঘ) জন স্টুয়ার্ট মিল

উত্তর: (খ) অ্যাডাম স্মিথ

১০. শিল্পবিপ্লবকালে ইংল্যান্ডে নতুন যন্ত্রপাতির বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ক্ষুব্ধ যন্ত্র-ভাঙা আন্দোলন কী নামে পরিচিত?

(ক) চার্টিস্ট আন্দোলন

(খ) লুডাইট আন্দোলন (Luddite Movement)

(গ) ফ্যাবিয়ান আন্দোলন

(ঘ) সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন

উত্তর: (খ) লুডাইট আন্দোলন (Luddite Movement)

১১. ইংল্যান্ডে সর্বজনীন ভোটাধিকার ও কর্মক্ষেত্রে সংস্কারের দাবিতে শ্রমিকদের ‘চার্টিস্ট আন্দোলন’ কবে শুরু হয়?

(ক) ১৮১২

(খ) ১৮৩০

(গ) ১৮৩৮

(ঘ) ১৮৪৮

উত্তর: (গ) ১৮৩৮

১২. বিখ্যাত ‘ইম্পেরিয়ালিজম: আ স্টাডি’ (Imperialism: A Study) গ্রন্থের লেখক কে?

(ক) ভি. আই. লেনিন

(খ) জে. এ. হবসন

(গ) কার্ল মার্ক্স

(ঘ) রোজা লুক্সেমবার্গ

উত্তর: (খ) জে. এ. হবসন

১৩. ‘সাম্রাজ্যবাদ: পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায়’ (Imperialism: The Highest Stage of Capitalism) গ্রন্থটি কার রচনা?

(ক) ভি. আই. লেনিন

(খ) ফ্রেডারিক এঙ্গেলস

(গ) ট্রটস্কি

(ঘ) আন্তোনিও গ্রামসি

উত্তর: (ক) ভি. আই. লেনিন

১৪. ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা আফ্রিকা দখলের তীব্র প্রতিযোগিতাকে কী বলা হয়?

(ক) অন্ধকার যুগের সূচনা

(খ) আফ্রিকার জন্য কাড়াকাড়ি (Scramble for Africa)

(গ) প্রাচ্য সংকট

(ঘ) বার্লিন সমঝোতা

উত্তর: (খ) আফ্রিকার জন্য কাড়াকাড়ি (Scramble for Africa)

১৫. কোন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আফ্রিকাকে ইউরোপীয় শক্তিগুলির মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ভাগ-বাটোয়ারার নীতি গৃহীত হয়?

(ক) ভিয়েনা সম্মেলন (১৮১৫)

(খ) বার্লিন সম্মেলন (১৮৮৪–১৮৮৫)

(গ) প্যারিস সম্মেলন (১৮৫৬)

(ঘ) জেনেভা সম্মেলন (১৮৯৮)

উত্তর: (খ) বার্লিন সম্মেলন (১৮৮৪–১৮৮৫)

১৬. ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী কবি রুডইয়ার্ড কিপলিং ইউরোপীয় উপনিবেশবাদকে মহিমান্বিত করতে কোন তত্ত্ব প্রচার করেছিলেন?

(ক) সমাজ ডারউইনবাদ

(খ) শ্বেতাঙ্গদের বোঝা (The White Man’s Burden)

(গ) সভ্যতার সংঘাত

(ঘ) লেবেনসরাউম তত্ত্ব

উত্তর: (খ) শ্বেতাঙ্গদের বোঝা (The White Man’s Burden)

১৭. ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে যুক্তকারী সুয়েজ খাল কত খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করা হয়?

(ক) ১৮৫৭

(খ) ১৮৬৯

(গ) ১৮৮২

(ঘ) ১৮৯৮

উত্তর: (খ) ১৮৬৯

১৮. ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি কোন দেশকে কেন্দ্র করে ‘তরমুজের মতো খণ্ডবিখণ্ড করা’ বা ‘কাটিং অব দ্য চাইনিজ মেলন’ নীতি গ্রহণ করেছিল?

(ক) ভারত

(খ) জাপান

(গ) চীন

(ঘ) ইন্দোনেশিয়া

উত্তর: (গ) চীন

১৯. ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে চীনের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে সমস্ত বিদেশি শক্তির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘উন্মুক্ত দ্বার নীতি’ (Open Door Policy) কে ঘোষণা করেন?

(ক) জন হে

(খ) লর্ড কার্জন

(গ) বিসমার্ক

(ঘ) থিওডোর রুজভেল্ট

উত্তর: (ক) জন হে

২০. উনিশ শতকে আফ্রিকায় দীর্ঘস্থায়ী ‘বোয়ার যুদ্ধ’ (Boer War) কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?

(ক) ব্রিটিশ ও ডাচ (ওলন্দাজ) বংশোদ্ভূতদের

(খ) ফরাসি ও জার্মানদের

(গ) পর্তুগিজ ও বেলজিয়ানদের

(ঘ) ব্রিটিশ ও জুলুদের

উত্তর: (ক) ব্রিটিশ ও ডাচ (ওলন্দাজ) বংশোদ্ভূতদের

@ শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ – WBNOTES.IN

বিভাগ খ: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ও উত্তর

১. ফরাসি চিন্তাবিদদের মধ্যে কে প্রথম ১৮৩৭ সালে ‘শিল্পবিপ্লব’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন?

উত্তর: অর্থনীতিবিদ লুই অগাস্ট ব্ল্যাঙ্কি (Louis Auguste Blanqui)।

২. বাষ্পীয় ইঞ্জিনের (Steam Engine) প্রকৃত আধুনিক রূপকার কে ছিলেন?

উত্তর: স্কটিশ উদ্ভাবক জেমস ওয়াট (১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে পেটেন্টপ্রাপ্ত)।

৩. লোহার পাত থেকে সহজ উপায়ে উন্নতমানের ইস্পাত তৈরির পদ্ধতি কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: ব্রিটিশ বিজ্ঞানী হেনরি বেসেমার (১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে, বেসেমার পদ্ধতি)।

৪. অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডের বস্ত্রবয়ন কেন্দ্র হিসেবে কোন শহর সবচেয়ে বেশি খ্যাতি লাভ করেছিল?

উত্তর: ম্যানচেস্টার (যাকে পরে ‘বিশ্বের সুতোর রাজধানী’ বা কটনোপলিস বলা হতো)।

৫. খনি ও কারখানার ভারী পণ্য পরিবহনের জন্য ইংল্যান্ডে পাথরকুচি বিছিয়ে পাকা রাস্তা তৈরির কৌশল কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: জন ম্যাকঅ্যাডাম (তাঁর নামানুসারেই একে ‘ম্যাকঅ্যাডাম পদ্ধতি’ বলা হয়)।

৬. ফ্রান্সে রেল ব্যবস্থা প্রসারের মাধ্যমে শিল্পায়ন কোন শাসকের আমলে সর্বাধিক গতি পেয়েছিল?

উত্তর: সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নের আমলে (১৮৫২–১৮৭০)।

৭. ‘জলীয় ফ্রেম’ বা ওয়াটার ফ্রেম (Water Frame) কে আবিষ্কার করেছিলেন?

উত্তর: রিচার্ড আর্করাইট (১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে)।

৮. শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে সমাজে মূলত কোন্ দুটি বিপরীতমুখী প্রধান শ্রেণির সৃষ্টি হয়?

উত্তর: পুঁজিপতি মালিক শ্রেণি (বুর্জোয়া) এবং কারখানা শ্রমিক শ্রেণি (প্রলেতারিয়েত)।

৯. নেড লুডের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডে শ্রমিকরা কারখানার যন্ত্রপাতির ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল কেন?

উত্তর: তাঁদের ধারণা ছিল, নতুন যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলেই তাঁদের কাজ হারাতে হচ্ছে এবং মজুরি হ্রাস পাচ্ছে।

১০. ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের সংসদ কোন সংস্কার আইন পাস করে শিল্পপতি বুর্জোয়াদের ভোটাধিকার প্রদান করে?

উত্তর: প্রথম সংস্কার আইন (First Reform Act, 1832)।

১১. ব্রিটিশ ভারতে রেলপথের সূচনা কত খ্রিস্টাব্দে এবং কার শাসনকালে হয়েছিল?

উত্তর: ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ডালহৌসির শাসনকালে (বোম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত)।

১২. উপনিবেশবাদ (Colonialism) শব্দটির মূল ভিত্তি কী?

উত্তর: একটি শক্তিশালী দেশ কর্তৃক কোনো দুর্বল ভৌগোলিক অঞ্চলের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য কায়েম করে নিজ দেশের স্বার্থে তার সম্পদ শোষণ করা।

১৩. ‘নয়া সাম্রাজ্যবাদ’ (New Imperialism) কোন সময়কালকে বলা হয়?

উত্তর: ১৮৭০ থেকে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা) পর্যন্ত তীব্র ঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতার কালকে।

১৪. কোন ঐতিহাসিক আবিষ্কার ও অনুসন্ধানের পর থেকে আফ্রিকাকে ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ’ বলা হতো?

উত্তর: ডেভিড লিভিংস্টোন ও হেনরি স্ট্যানলির অভিযানের আগে পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ পথ অজানা থাকায় ইউরোপীয়রা একে ওই নামে ডাকত।

১৫. আফ্রিকার কঙ্গো অববাহিকায় নিজের ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য গড়ে তুলে কুখ্যাত নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছিলেন কোন ইউরোপীয় শাসক?

উত্তর: বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ড।

১৬. ১৮৮৪-৮৫ খ্রিস্টাব্দের বার্লিন সম্মেলন কার উদ্যোগে এবং কোন শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তর: জার্মান চ্যান্সেলর অটো ভন বিসমার্কের উদ্যোগে বার্লিন শহরে।

১৭. আফ্রিকায় ব্রিটেনের সাম্রাজ্য বিস্তার প্রকল্পের মূল স্লোগান বা সংযোগ রেখা কী ছিল?

উত্তর: কায়রো থেকে কেপ টাউন (Cape-to-Cairo) সংযোগ ব্যবস্থা।

১৮. ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সেসিল রোডস কোন অঞ্চলে নিজের নামে ব্রিটিশ উপনিবেশ কায়েম করেছিলেন?

উত্তর: রোডেশিয়া (বর্তমান জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া)।

১৯. ১৮৩৯-১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে চীনের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তর: প্রথম আফিম যুদ্ধ (First Opium War)।

২০. ১৯০৪-১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের যুদ্ধে কোন এশীয় দেশের কাছে পরাক্রমশালী ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি রাশিয়া পরাজিত হয়?

উত্তর: জাপান।

@ শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ – WBNOTES.IN

বিভাগ গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ২)

১. ‘শিল্পবিপ্লব’ বলতে কী বোঝায়?

  • উৎপাদন পদ্ধতির যুগান্তকারী রূপান্তর:

    অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডে কায়িক শ্রম ও কুটির শিল্পের পরিবর্তে বাষ্পীয় শক্তিচালিত উন্নত যন্ত্রপাতির সাহায্যে কারখানায় বিপুল পরিমাণে পণ্য উৎপাদনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাকে শিল্পবিপ্লব বলে।

  • সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন:

    এটি কেবল উৎপাদনে পরিবর্তন আনেনি, বরং কৃষিভিত্তিক সমাজকে আধুনিক নগরভিত্তিক এবং পুঁজিবাদী সমাজে রূপান্তর করেছিল।

২. ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের ভিত্তি হিসেবে লোহা ও কয়লার গুরুত্ব কী ছিল?

  • যন্ত্র নির্মাণ ও জ্বালানি সরবরাহ:

    নতুন নতুন কারখানা, রেললাইন ও জলযান তৈরির জন্য পর্যাপ্ত লোহা প্রয়োজন ছিল; আর সেই লোহা গলানো এবং বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালানোর জন্য অপরিহার্য জ্বালানি ছিল কয়লা।

  • ভৌগোলিক সান্নিধ্য:

    ইংল্যান্ডের একই খনি অঞ্চলে কয়লা ও লোহার সহাবস্থান পরিবহন ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন খরচ নাটকীয়ভাবে হ্রাস করতে সাহায্য করেছিল।

৩. ‘ঘেরাবেড়া প্রথা’ বা এনক্লোজার ব্যবস্থা (Enclosure Movement) কীভাবে শিল্পবিপ্লবে সাহায্য করেছিল?

  • জমি একত্রীকরণ:

    আইন পাস করে ছোট ছোট কৃষিজমি ও চারণভূমিকে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে বড় বড় খামারে পরিণত করা হয়, যার ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

  • সস্তা শ্রমিকের জোগান:

    জমি হারিয়ে লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র চাষি ও প্রান্তিক কৃষক সর্বহারা হয়ে জীবিকার খোঁজে শিল্পনগরীগুলিতে পাড়ি জমায় এবং কারখানার জন্য সস্তা শ্রমিকের বিশাল বাহিনী তৈরি করে।

৪. জেমস ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিনকে কেন শিল্পবিপ্লবের হৃৎপিণ্ড বলা হয়?

  • প্রাকৃতিক শক্তির ওপর নির্ভরতা মুক্তি:

    পূর্বে কারখানাগুলি নদী বা বাতাসের শক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকায় কেবল নদী তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠত; বাষ্পীয় ইঞ্জিন যেকোনো স্থানে কারখানা স্থাপনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়।

  • অবিরাম ও গতিশীল শক্তি সরবরাহ:

    এই ইঞ্জিন টেক্সটাইল, লোহা শিল্প, রেল ও জাহাজে অবিরাম সমতা রেখে ভারী কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়, যা শিল্পায়নের গতিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

৫. ‘ফ্যাক্টরি প্রথা’ (Factory System)-র দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন।

  • কেন্দ্রীভূত উৎপাদন ব্যবস্থা:

    গৃহভিত্তিক উৎপাদনের অবসান ঘটিয়ে এক ছাদের নিচে শত শত শ্রমিক, ভারী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল একত্র করে বাষ্পীয় শক্তিনির্ভর উৎপাদনের সূচনা করা হয়।

  • শ্রমবিভাগ ও মজুরি ব্যবস্থা:

    একজন কারিগরের একক উৎপাদনের বদলে জটিল শ্রমবিভাজনের মাধ্যমে প্রতিটি শ্রমিককে একটি নির্দিষ্ট কাজের অংশ বরাদ্দ দেওয়া হতো এবং নির্দিষ্ট ঘণ্টার নিরিখে দৈনিক মজুরি প্রদান করা হতো।

৬. শিল্পবিপ্লব কীভাবে ইউরোপে নগরায়ণ (Urbanisation) ত্বরান্বিত করেছিল?

  • গ্রাম থেকে শহরে গণ-অভিবাসন:

    গ্রামাঞ্চলে কাজ হারিয়ে গ্রামীণ মানুষ কাজের সন্ধানে কলকারখানা সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে স্থায়ীভাবে ভিড় জমাতে থাকে।

  • নতুন শিল্পনগরের জন্ম:

    ম্যানচেস্টার, লিডস, বার্মিংহাম ও শেফিল্ডের মতো প্রত্যন্ত জনপদগুলি কয়েক দশকের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ আধুনিক বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়।

৭. ‘লুডাইট দাঙ্গা’ (Luddite Riots) কী ছিল?

  • যন্ত্রবিরোধী বিদ্রোহ:

    ১৮১১ থেকে ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের বস্ত্রশ্রমিকরা জনৈক নেড লুডের কাল্পনিক নেতৃত্বে সংগঠিত হয়ে নতুন বয়নযন্ত্র ভাঙচুর শুরু করেন।

  • ক্ষোভের কারণ:

    শ্রমিকদের বিশ্বাস ছিল যে দ্রুতগামী আধুনিক যন্ত্রই তাদের বেকারত্ব, আয় হ্রাস এবং শোচনীয় জীবনের মূল কারণ।

৮. ইংল্যান্ডে ১৮৩৮ সালের ‘চার্টিস্ট আন্দোলন’-এর মূল দাবিগুলি কী ছিল?

  • সর্বজনীন ভোটাধিকার:

    সম্পত্তির শর্ত দূর করে দেশের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রদান করা।

  • সংসদীয় সংস্কার ও গোপন ব্যালট:

    গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ, বার্ষিক সাধারণ নির্বাচন এবং দরিদ্র শ্রমিকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে সংসদ সদস্যদের সরকারি বেতনের ব্যবস্থা করা।

৯. ‘উপনিবেশবাদ’ (Colonialism) এবং ‘সাম্রাজ্যবাদ’ (Imperialism)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

  • উপনিবেশবাদের প্রকৃতি:

    উপনিবেশবাদ হলো প্রত্যক্ষভাবে অন্য কোনো দেশে বসতি স্থাপন বা সামরিক শাসন কায়েম করে সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ ও কাঁচামাল নিজের দেশে পাচার করা।

  • সাম্রাজ্যবাদের ব্যাপকতা:

    সাম্রাজ্যবাদ হলো একটি সামগ্রিক ব্যবস্থা বা মতাদর্শ, যেখানে সামরিক শক্তি বা অর্থনৈতিক আধিপত্যের মাধ্যমে সার্বভৌম অন্য রাষ্ট্রের ওপর পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়।

১০. পুঁজিবাদের বিস্তার কীভাবে নয়া সাম্রাজ্যবাদের জন্ম দিয়েছিল?

  • উদ্বৃত্ত পুঁজির বিনিয়োগ:

    ইউরোপে কলকারখানার মালিকদের হাতে জমে থাকা বিপুল মুনাফা বা উদ্বৃত্ত পুঁজি নিজ দেশে বিনিয়োগ করে অধিক লাভ পাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না; তাই তারা এশিয়া ও আফ্রিকার অনুন্নত বাজারে বিনিয়োগের জন্য রাষ্ট্রকে চাপ দেয়।

  • বাজার ও কাঁচামালের ক্ষুধা:

    কারখানায় বিপুল উৎপাদন সচল রাখতে সস্তা কাঁচামাল (যেমন তুলা, রবার, তেল) সংগ্রহ এবং উৎপাদিত পণ্যের একচেটিয়া বাজার দখলের তাগিদেই সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

১১. ‘শ্বেতাঙ্গদের বোঝা’ (The White Man’s Burden) তত্ত্বের মূল কথা কী ছিল?

  • জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার:

    ইউরোপীয়রা প্রচার করত যে শ্বেতাঙ্গ জাতি জন্মগতভাবেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও উন্নত মানবগোষ্ঠী।

  • সভ্য করার কৃত্রিম দায়িত্ব:

    এশিয়া ও আফ্রিকার অশ্বেতাঙ্গ ও পশ্চাৎপদ মানুষজনকে ‘সভ্য’ ও ‘আধুনিক’ করা শ্বেতাঙ্গদের এক নৈতিক ঈশ্বরপ্রদত্ত পবিত্র দায়িত্ব—এই বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব প্রচার করে তারা ঔপনিবেশিক শোষণকে ন্যায্য প্রমাণের চেষ্টা করত।

১২. ১৮৮৪-৮৫ খ্রিস্টাব্দের বার্লিন সম্মেলনের তাৎপর্য কী ছিল?

  • রক্তপাতহীন বাঁটোয়ারা:

    কোনো সশস্ত্র যুদ্ধ ছাড়াই ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি একটি গোলটেবিলে বসে পুরো আফ্রিকা মহাদেশকে নিজেদের মধ্যে মানচিত্রের ওপর দাগ টেনে ভাগ করে নেয়।

  • কার্যকর দখলের নীতি:

    সম্মেলনে নীতি গৃহীত হয় যে কোনো শক্তি আফ্রিকায় কোনো অঞ্চলের দাবি করলে তাকে সেখানে সেনা ও প্রশাসন বসিয়ে ‘কার্যকর দখল’ (Effective Occupation) প্রমাণ করতে হবে।

১৩. ‘সুয়েজ খাল’ কেন সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

  • পথের দূরত্ব হ্রাস:

    ১৮৬৯ সালে সুয়েজ খাল চালুর ফলে ইউরোপ থেকে ভারতের জলপথ প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার কমে যায় এবং আফ্রিকা প্রদক্ষিণ করার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়।

  • সাম্রাজ্যের জীবনরেখা:

    ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশ সাম্রাজ্য রক্ষা করা এবং দ্রুত সেনা ও কাঁচামাল আনা-নেওয়ার পথ সুগম হওয়ায় ব্রিটিশরা একে ‘সাম্রাজ্যের শিরোধমনী’ (Lifeline of the Empire) বলে গণ্য করত।

১৪. চীনে সাম্রাজ্যবাদী ‘উন্মুক্ত দ্বার নীতি’ (Open Door Policy) কেন ঘোষিত হয়েছিল?

  • মার্কিন বাণিজ্যের স্বার্থরক্ষা:

    ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলি যখন চীনকে নিজেদের প্রভাব বলয়ে (Spheres of Influence) ভাগ করে একচেটিয়া ব্যবসা করছিল, তখন পিছিয়ে পড়া আমেরিকা ১৮৯৯ সালে এই নীতি আনে।

  • সমান অধিকারের দাবি:

    এর মূল কথা ছিল—চীনের কোনো অঞ্চল কোনো একটি শক্তি দখল করে রাখলেও সব বিদেশি শক্তি সেখানে সমান বাণিজ্যিক ও শুল্ক সুবিধা পাবে।

১৫. শিল্পবিপ্লব কীভাবে পরিবেশগত বিপর্যয়ের সূচনা করেছিল?

  • বায়ু ও জলদূষণ:

    লাখ লাখ টন কয়লা পোড়ানো বিষাক্ত ধোঁয়ায় শিল্পনগরীগুলির আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং কারখানার অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য শহরের নদীগুলিতে ফেলা শুরু হয়।

  • অস্বাস্থ্যকর বস্তি পরিবেশ:

    পর্যাপ্ত পয়ঃপ্রণালী ও আলো-বাতাসহীন ঘিঞ্জি কারখানার বস্তিগুলিতে কলেরা ও যক্ষ্মার মতো সংক্রামক ব্যাধি মহামারির আকার ধারণ করে।

@ শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ – WBNOTES.IN

 

বিভাগ ঘ: বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৪)

১. সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডেই কেন শিল্পবিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল? ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করুন।

অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে ইউরোপের অন্যান্য দেশ ফ্রান্স বা নেদারল্যান্ডস যথেষ্ট সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও ইংল্যান্ডের মাটিতেই সর্বপ্রথম বৈপ্লবিক শিল্পায়নের সূত্রপাত ঘটেছিল। এর পেছনে কতগুলি অনুকূল অভ্যন্তরীণ কারণ একযোগে কাজ করেছিল।

  • প্রাকৃতিক সম্পদ ও অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থান:

    ইংল্যান্ডের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য তার শিল্পোন্নয়নের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ ছিল।

    • কয়লা ও লোহার প্রাচুর্য: আধুনিক ভারী শিল্পের মূল ভিত্তি লোহা ও কয়লার বিপুল খনি ইংল্যান্ডে কাছাকাছি অবস্থানে বিদ্যমান ছিল, যা পরিবহন ব্যয় কমিয়ে দ্রুত লোহা গলানো ও বাষ্পীয় শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করেছিল।

    • আর্দ্র আবহাওয়া ও নদীপথ: ল্যাঙ্কাশায়ারের আর্দ্র আবহাওয়া সুতো কাটার জন্য অত্যন্ত উপযোগী ছিল, যার ফলে সুতো সহজে ছিঁড়ত না। এছাড়া ইংল্যান্ড ছিল একটি দ্বীপরাষ্ট্র; চারপাশের উন্মুক্ত সমুদ্র এবং অভ্যন্তরীণ নাব্য নদীজাল সস্তায় কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য আনা-নেওয়ার অতুলনীয় সুযোগ তৈরি করেছিল।

  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ পরিবেশ:

    ইউরোপের মূল ভূখণ্ড যখন সপ্তবর্ষীয় যুদ্ধ কিংবা পরবর্তী ফরাসি বিপ্লব ও নেপোলিয়নীয় বিধ্বংসী যুদ্ধে পুড়ছিল, তখন ব্রিটেন তার ভৌগোলিক দ্বীপ-অবস্থানের কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। ১৬৮৮ সালের গৌরবময় বিপ্লবের পর সেখানে এক স্থিতিশীল সাংবিধানিক সংসদীয় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে বণিকদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির আইনি সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছিল, যা দীর্ঘমেয়াদী শিল্প বিনিয়োগের জন্য ছিল অপরিহার্য।

  • কৃষি বিপ্লবের সাফল্য ও সস্তা শ্রমিকের জোগান:

    অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডে বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ এবং ‘এনক্লোজার’ বা ঘেরাবেড়া আইনের ফলে বিপুল কৃষি উৎপাদন বাড়ে। ক্ষুদ্র কৃষকরা জমি হারিয়ে কারখানার সস্তা শ্রমিকে পরিণত হয় এবং খাদ্য উদ্বৃত্ত বর্ধিত নগরবাসীদের পুষ্টি জোগাতে সক্ষম হয়।

@ শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ – WBNOTES.IN

২. শিল্পবিপ্লব তৎকালীন সমাজে কীভাবে পুঁজিপতি মালিক ও সর্বহারা শ্রমিক—এই দুটি বিপরীতমুখী শ্রেণির জন্ম দিয়েছিল?

শিল্পবিপ্লব কেবল উৎপাদন কাঠামোর যান্ত্রিক রূপান্তর ছিল না; এটি শতাব্দীপ্রাচীন সামন্ততান্ত্রিক সমাজকে ভেঙে এক চরম শ্রেণি-বিভক্ত ও বৈষম্যমূলক পুঁজিবাদী সমাজের জন্ম দেয়। এই ব্যবস্থার দুটি প্রান্তিক শক্তি ছিল ধনিক বুর্জোয়া ও শোষিত প্রলেতারিয়েত।

  • পুঁজিপতি বা বুর্জোয়া শ্রেণির একাধিপত্য:

    শিল্পায়নের ফলে সমাজ পরিচালনার চাবিকাঠি চলে যায় কারখানা, খনি, ব্যাংক ও বৃহৎ বাণিজ্যের মালিকদের হাতে, যাঁদের সাধারণ অর্থে ‘পুঁজিপতি’ (Bourgeoisie) বলা হয়।

    • উৎপাদন উপাদানের মালিকানা: জমি, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল এবং আর্থিক পুঁজির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল এঁদের করায়ত্ত।

    • রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্পদ সঞ্চয়: অবাধ বাণিজ্যের (Laissez-faire) নীতি অনুসরণ করে পুঁজিপতিরা শ্রমিকদের রক্তজল করা শ্রমের বিনিময়ে আকাশচুম্বী মুনাফা অর্জন করেন। দ্রুতই এই শ্রেণিটি তৎকালীন আইন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থকে আইনি বৈধতা দেয়।

  • সর্বহারা শ্রমিক শ্রেণি বা প্রলেতারিয়েতের (Proletariat) বিপন্নতা:

    কাজের খোঁজে গ্রাম থেকে আসা সর্বস্বান্ত মানুষেরা নিজেদের শ্রমশক্তি বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায়ের মালিক ছিল না।

    • অমানুষিক কাজের পরিবেশ: প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা দমবন্ধ কারখানায় নামমাত্র মজুরিতে কাজ করতে হতো। সামান্যতম নিরাপত্তা বিধি ছিল না; খনিতে দুর্ঘটনা বা অঙ্গহানি ছিল নৈমিত্তিক ঘটনা।

    • নারী ও শিশুশ্রমের নির্মম শোষণ: কম মজুরিতে কাজ করানো যায় বলে কয়লাখনি ও সুতোকলে পাঁচ-ছয় বছরের শিশুদের নিয়োগ করা হতো। এই অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে কার্ল মার্ক্স ও এঙ্গেলস ১৮৪৮ সালে তাঁদের ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’-তে সতর্ক করে লিখেছিলেন:

    “The history of all hitherto existing society is the history of class struggles.”

    (এ যাবৎ বিদ্যমান সমস্ত সমাজের ইতিহাস হলো শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস।)

    শ্রমিকদের এই বৈষম্যমূলক জীবন থেকেই পরবর্তীকালে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রের জন্ম হয়।

৩. উনিশ শতকের শেষভাগে ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলির মধ্যে “আফ্রিকার জন্য কাড়াকাড়ি” (Scramble for Africa)-র মূল কারণ কী ছিল?

১৮৭০ থেকে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় নব্বই শতাংশ অংশ নিজেদের মধ্যে দখল করে নেয়। আধুনিক ইতিহাসে এই তীব্র ও উন্মত্ত ঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতাকে ‘Scramble for Africa’ বলা হয়।

                               আফ্রিকা দখলের মূল চালিকাশক্তি
                                             │
             ┌───────────────────────────────┼───────────────────────────────┐
             ▼                               ▼                               ▼
       অর্থনৈতিক ক্ষুধা                 কৌশলগত ও রাজনৈতিক               আবিষ্কার ও বিভ্রান্তিকর আদর্শ
 ┌──────────────────────┐        ┌──────────────────────┐        ┌──────────────────────┐
 │• খনিজ ও কাঁচামাল     │        │• জাতীয় মর্যাদার প্রতীক │        │• স্ট্যানলির রোমাঞ্চকর অভিযান│
 │• রবার, সোনা ও হিরে   │        │• সুয়েজ খালের সামরিক পথ │        │• 'অন্ধকার মহাদেশে' অনুপ্রবেশ│
 │• সুরক্ষিত পণ্য বাজার  │        │• নতুন জার্মানির উচ্চাশা│        │• 'শ্বেতাঙ্গদের বোঝা' তত্ত্ব │
 └──────────────────────┘        └──────────────────────┘        └──────────────────────┘
  • অর্থনৈতিক স্বার্থ ও অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ:

    ইউরোপের দ্বিতীয় পর্যায়ের শিল্পবিপ্লবের ফলে রবার, তামা, পাম তেল, তুলা এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকার সোনা ও হিরের খনির সন্ধান পাওয়া যায়। নিজেদের কলকারখানা টিকিয়ে রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত সামগ্রী বিক্রির জন্য একটি সুরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত বাজার পাওয়ার লোভে ইউরোপের পুঁজিপতিরা আফ্রিকাকে লুটের চারণভূমি হিসেবে বেছে নেয়।

  • উগ্র জাতীয়তাবাদী শ্রেষ্ঠত্ব ও ভূ-কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা:

    ১৮৭০ সালের পর ইউরোপে ইউনিফাইড জার্মানি ও ইতালির মতো নতুন শক্তিশালী জাতিরাষ্ট্রের উত্থান ঘটে। জার্মানির কায়জার দ্বিতীয় উইলিয়াম বিশ্বজুড়ে জার্মানির প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে চান (যা ‘ওয়েল্টপলিটিক’ নামে পরিচিত)। প্রতিটি দেশ মনে করত, বিদেশে উপনিবেশ থাকা মানেই তাদের জাতীয় মর্যাদা ও শক্তির প্রমাণ। ফ্রান্স ১৮৭০ সালে প্রুশিয়ার কাছে যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর নিজের হৃত গৌরব ফিরে পেতে আফ্রিকায় বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তার শুরু করে।

  • ১৮৮৪-৮৫ খ্রিস্টাব্দের বার্লিন সম্মেলন ও সাম্রাজ্যের আইনসিদ্ধকরণ:

    ইউরোপীয়দের এই কাড়াকাড়ি যাতে নিজেদের মধ্যে বড় সামরিক সংঘর্ষে না পৌঁছায়, সেজন্য বিসমার্ক বার্লিন সম্মেলন ডাকেন। এখানে কোনো আফ্রিকান প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই আফ্রিকার ভৌগোলিক সীমানাকে ছুরি দিয়ে কেকের মতো কেটে বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তির ভাগে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

@ শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ – WBNOTES.IN

 

বিভাগ ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৮)

১. শিল্পবিপ্লব কী ছিল? উনিশ শতকে এই বৈপ্লবিক রূপান্তর ইউরোপের অর্থনীতি, সমাজ ও দৈনন্দিন জীবনে কী ধরনের গভীর প্রভাব ফেলেছিল?

অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে উনিশ শতক জুড়ে ইউরোপে কায়িক শ্রমের পরিবর্তে আধুনিক বাষ্পীয় শক্তিনির্ভর উন্নত যন্ত্রপাতি ও কারখানা ব্যবস্থার সাহায্যে পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে অবিশ্বাস্য রূপান্তর ঘটেছিল, তাকে ‘শিল্পবিপ্লব’ (Industrial Revolution) বলা হয়। এটি মানবসভ্যতার ইতিহাসে কৃষিকাজের আবিষ্কারের পর সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী ঘটনা। এই বিপ্লব কেবল উৎপাদনের সরঞ্জাম বদলায়নি, ইউরোপের অর্থনীতি, সমাজ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার রূপরেখা চিরতরে পরিবর্তন করে দিয়েছিল।

                                    শিল্পবিপ্লবের বহুমুখী প্রভাব
                                                  │
                 ┌────────────────────────────────┼────────────────────────────────┐
                 ▼                                ▼                                ▼
           অর্থনৈতিক পরিবর্তন                 সামাজিক মেরুকরণ                    নগরজীবন ও পরিবেশ
 ┌───────────────────────────────┐ ┌───────────────────────────────┐ ┌───────────────────────────────┐
 │• পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিকাশ   │ │• বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েত শ্রেণি│ │• দ্রুত অপরিকল্পিত নগরায়ণ    │
 │• কুটির শিল্পের অবলুপ্তি         │ │• নারী ও শিশুদের নির্মম শোষণ   │ │• বস্তির নরকযন্ত্রণা ও রোগব্যাধি │
 │• বিশ্ব বাণিজ্য ও বাজারের সৃষ্টি │ │• ট্রেড ইউনিয়ন ও সমাজতন্ত্রের জন্ম│ │• বায়ুদূষণ ও নতুন সামাজিক চেতনা│
 └───────────────────────────────┘ └───────────────────────────────┘ └───────────────────────────────┘

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তনসমূহ

  • উৎপাদন ও বাণিজ্যের নাটকীয় স্ফীতি:

    হাতে তৈরি পণ্যের বদলে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহারে উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। উদাহরণস্বরূপ, বস্ত্র উৎপাদনে এক ঘণ্টার ব্যবধানে শত শত গুণ সুতো কাটা সম্ভব হতে থাকে। পণ্যের উৎপাদন ব্যয় ব্যাপকভাবে হ্রাস পায় এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে বিভিন্ন দ্রব্য পৌঁছে যায়।

  • পুঁজিবাদের একচ্ছত্র আধিপত্য ও আধুনিক ব্যাংকিং:

    শিল্পকারখানা পরিচালনার জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় যৌথ-মূলধনী কোম্পানি (Joint-Stock Companies), আধুনিক বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং স্টক এক্সচেঞ্জের অভাবনীয় বিস্তার ঘটে। মহাজন বা সামন্তপ্রভুদের প্রভাব বিলুপ্ত হয়ে অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি চলে যায় বাণিজ্যিক ও শিল্পপতি পুঁজিপতিদের হাতে।

  • বিশ্বব্যাপী বাজারের সংযোগ ও মুক্তবাণিজ্য:

    বাষ্পীয় রেল ইঞ্জিন এবং স্টিমশিপের আবিষ্কার দূরদূরান্তের বাজারগুলিকে একত্রিত করে এক অখণ্ড বিশ্ব অর্থনীতির জাল তৈরি করে। অ্যাডাম স্মিথের ‘মুক্তবাণিজ্য’ বা লেইসেজ-ফেয়ার (Laissez-faire) নীতি রাজ্যগুলির মধ্যে শুল্ক বাধা দূর করে পুঁজির অবাধ চলাচলের পথ খুলে দেয়।

সামাজিক ও শ্রেণি কাঠামোর রূপান্তর

  • সমাজ দ্বিধাবিভক্ত হওয়া:

    শিল্পবিপ্লবের সর্বাধিক বিপজ্জনক দিক ছিল সমাজের দুই বিপরীত মেরুর সৃষ্টি:

    • ধনিক বুর্জোয়া শ্রেণি: এঁরা উৎপাদনের উপায়সমূহের (কারখানা, জমি, খনি ও অর্থ) মালিক ছিলেন এবং অবাধে পুঁজি সঞ্চয় করতেন।

    • সর্বহারা শ্রমিক শ্রেণি: এঁদের নিজস্ব কোনো সম্বল ছিল না; বেঁচে থাকার জন্য সামান্য মজুরির বিনিময়ে রক্ত জল করা দৈহিক শ্রম বিক্রি করতেন। ফলে সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যবর্তী বৈষম্য বিপজ্জনক রূপ নেয়।

  • নারী ও শিশুশ্রমের চরম অবক্ষয়:

    যন্ত্রপাতি চালনা সহজ হওয়ায় এবং পুরুষদের তুলনায় অনেক কম মজুরি দিতে হয় বলে মালিকরা বিপুল হারে নারী ও শিশুদের কাজে নিয়োগ করে। কারখানার তীব্র অন্ধকার ঘরে পাঁচ-ছয় বছরের শিশুরা ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত খাটত। শিশুদের সুরক্ষা ও কাজের সময় নির্দিষ্ট করার দাবিতে ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ সংসদে ‘ফ্যাক্টরি অ্যাক্ট’ পাস করতে বাধ্য হয় সরকার।

  • শ্রমিক আন্দোলন ও সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার উত্থান:

    শোষণের প্রতিক্রিয়ায় শ্রমিকরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় গোপন সংগঠন ও ‘ট্রেড ইউনিয়ন’ গড়ে তুলতে শুরু করে। এর পরিণতিতেই কার্ল মার্ক্স, রবার্ট ওয়েন ও সেন্ট সাইমনের সমাজতান্ত্রিক ধারণার বিকাশ ঘটে, যা শোষিত মেহনতি মানুষের মুক্তির স্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

দৈনন্দিন জীবন ও পরিবেশগত অভিঘাত

  • অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বস্তি সংস্কৃতি:

    ম্যানচেস্টার, লিভারপুল, শেফিল্ডের মতো জনবহুল শহরগুলি কোনো প্রাথমিক স্বাস্থ্যবিধি বা পয়ঃপ্রণালী ছাড়াই গড়ে ওঠে। কারখানার পাশে তৈরি হয় আলো-বাতাসহীন অস্বাস্থ্যকর খুপরি বস্তি (Slums)। চরম দারিদ্র্য, অপুষ্টি এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে টাইফয়েড, কলেরা এবং যক্ষ্মা মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ত। সমকালীন সমাজতাত্ত্বিক ফ্রেডারিক এঙ্গেলস ১৮৪৫ সালে তাঁর বিখ্যাত ‘The Condition of the Working Class in England’ গ্রন্থে ইংল্যান্ডের শ্রমিকদের এই চরম অমানবিক জীবনের বাস্তব চিত্র চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।

  • জীবনযাপনের গতি ও সময়জ্ঞান:

    পূর্বে মানুষের জীবন সূর্য ওঠা ও ডোবার প্রাকৃতিক ছন্দে চলত। কারখানা প্রথা চালু হওয়ার পর মানুষের জীবন বাঁধা পড়ে গেল ঘড়ির কাঁটা এবং কারখানার সাইরেনের নির্দিষ্ট শৃঙ্খলায়। ছুটির দিনের ধারণা, সংবাদপত্র পাঠ এবং রেল ভ্রমণের মতো আধুনিক অভ্যাস সাধারণের দৈনন্দিন জীবনে প্রবেশ করতে শুরু করে।

ঐতিহাসিক মূল্যায়ন

শিল্পবিপ্লব ছিল আশীর্বাদ ও অভিশাপের এক জটিল সংমিশ্রণ। ঐতিহাসিক টি. এস. অ্যাশটন (T. S. Ashton) যথার্থই বলেছেন যে, সমস্ত মানবিক ক্লেশ ও শোষণের পরেও শিল্পবিপ্লব আধুনিক যুগের দরজা খুলে দিয়েছিল; এটি মানুষের উৎপাদন ক্ষমতাকে এমন এক সীমাহীন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল যা পূর্বে কোনো সভ্যতার পক্ষেই কল্পনা করা সম্ভব ছিল না।

@ শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ – WBNOTES.IN

২. উনিশ শতকের শেষভাগে ইউরোপে ‘নয়া সাম্রাজ্যবাদ’ (New Imperialism)-এর উত্থানের পেছনে অর্থনৈতিক কারণগুলি কতটা প্রভাবশালী ছিল? হবসনের তত্ত্ব ও লেনিনের সাম্রাজ্যবাদ সংক্রান্ত ধারণার আলোকে তা ব্যাখ্যা করুন।

১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪) শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে ইউরোপের বৃহৎ শক্তিগুলি এশিয়া ও আফ্রিকায় নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বিস্তারে এক অভূতপূর্ব হিংস্র প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। এই আক্রমণাত্মক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাম্রাজ্য বিস্তারকে ইতিহাসের পরিভাষায় ‘নয়া সাম্রাজ্যবাদ’ (New Imperialism) বলা হয়। এই সাম্রাজ্যবাদের পেছনে সামরিক, জাতীয়তাবাদী কিংবা ভূ-রাজনৈতিক কারণ থাকলেও এর সবচেয়ে প্রভাবশালী চালিকাশক্তি ছিল শিল্পবিপ্লবোদ্ভূত গভীর অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা।

                               নয়া সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক গতিপথ
                                               │
             ┌─────────────────────────────────┼─────────────────────────────────┐
             ▼                                 ▼                                 ▼
    দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব               বাজার ও কাঁচামালের সংকট              উদ্বৃত্ত পুঁজির চাপ
 ┌──────────────────────┐           ┌──────────────────────┐           ┌──────────────────────┐
 │• উৎপাদন ক্ষমতার স্ফীতি│           │• সস্তা কাঁচামালের টান │           │• মুনাফার হার ক্রমহ্রাসমান│
 │• রাসায়নিক ও ভারী শিল্প│    ──►    │• অভ্যন্তরীণ বাজারের অভাব│    ──►    │• উপনিবেশে পুঁজি পাচার│
 │• একচেটিয়া ট্রাস্ট গঠন │           │• সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা│          │• আর্থিক পুঁজির আধিপত্য  │
 └──────────────────────┘           └──────────────────────┘           └──────────────────────┘
                                               │
                                               ▼
                              ঔপনিবেশিক দখল ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি

নয়া সাম্রাজ্যবাদের পেছনে প্রধান অর্থনৈতিক কারণসমূহ

  • শিল্পজাত সামগ্রী বিক্রির জন্য সুরক্ষিত বাজারের অপরিহার্যতা:

    দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ডের পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স ও আমেরিকা শিল্পপণ্য উৎপাদনে প্রকাণ্ড শক্তি অর্জন করে। এর ফলে সমস্ত দেশেই প্রয়োজনের চেয়ে বহুগুণ বেশি পণ্য উৎপাদিত হতে থাকে। কিন্তু নিজ দেশের শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা কম থাকায় অভ্যন্তরীণ বাজারে এই বিপুল পণ্য বিক্রি অসম্ভব হয়ে পড়ে। উপরন্তু ইউরোপের প্রতিটি রাষ্ট্র নিজেদের দেশীয় শিল্পকে বাঁচাতে অন্য দেশের পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক (Protective Tariffs) বসায়। ফলে কোনো শুল্কবিহীনভাবে নিজেদের পণ্য একচেটিয়া বিক্রি করতে তাদের প্রয়োজন হয়ে পড়ে নতুন নতুন নিজস্ব উপনিবেশের।

  • সস্তা ও নিরবচ্ছিন্ন কাঁচামালের তীব্র ক্ষুধা:

    ভারী শিল্প, বৈদ্যুতিক শিল্প এবং রাসায়নিক কলকারখানা টিকিয়ে রাখতে ইউরোপে না-পাওয়া যাওয়া কাঁচামাল অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মোটরগাড়ির জন্য রবার, বিদ্যুতের তারের জন্য তামা, সাবান ও যন্ত্রের পিচ্ছিলতার জন্য পাম তেল, এবং কার্পাস বস্ত্রের জন্য অপরিশোধিত তুলা। এই কাঁচামালগুলি অন্য শক্তির দয়া ছাড়াই সস্তায় হস্তগত করতে ঔপনিবেশিক ভূমি দখল অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।

  • উদ্বৃত্ত পুঁজির পাহাড় ও বিনিয়োগের তাগিদ:

    কলকারখানার মালিক ও ব্যাংকারদের হাতে মুনাফা জমে বিপুল পরিমাণ অলস অর্থ বা উদ্বৃত্ত পুঁজি (Surplus Capital) তৈরি হয়। নিজ দেশে সেই পুঁজি নতুন করে বিনিয়োগ করলে অতিরিক্ত কারখানা তৈরি হয়ে মুনাফার হার কমে যাওয়ার ভয় ছিল। পক্ষান্তরে এশিয়া ও আফ্রিকায় সস্তা কায়িক শ্রম, জমি এবং অবিকশিত সম্পদ থাকায় সেখানে রেললাইন বসিয়ে, খনি খনন করে বা বাগান তৈরি করে বিনিয়োগ করলে কয়েক গুণ বেশি মুনাফা অর্জনের পথ খোলা ছিল।

জন এ. হবসনের সাম্রাজ্যবাদী বিশ্লেষণ

ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন অ্যাটকিনসন হবসন (J. A. Hobson) ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত ‘Imperialism: A Study’ গ্রন্থে সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক ভিত্তির একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেন:

  • কম ভোগ বা অনুভোগ তত্ত্ব (Under-consumption Theory):

    হবসন দেখান যে, সমাজে সম্পদের অসম বণ্টনের কারণে সাধারণ শ্রমিকরা পর্যাপ্ত মজুরি পেত না। ফলে তাদের ভোগ করার বা পণ্য কেনার ক্ষমতা খুব কম ছিল (Under-consumption)। অন্যদিকে ধনী পুঁজিপতিদের হাতে জমে উঠত অলস পুঁজি।

  • সাম্রাজ্যবাদের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ফিন্যান্স:

    হবসনের মতে, এই সংকট কাটাতে পুঁজিপতিরা সরকারকে বাধ্য করত সামরিক শক্তি ব্যবহার করে বিদেশের জমি দখল করতে, যাতে তারা সেখানে নিজেদের উদ্বৃত্ত পুঁজি নিরাপদভাবে বিনিয়োগ করতে পারে। হবসন স্পষ্ট ভাষায় লিখেছিলেন:

    “Imperialism is the endeavour of the great controllers of industry to broaden the channel for the flow of their surplus wealth by seeking foreign markets and foreign investments to take off the goods and capital they cannot sell or use at home.”

    (সাম্রাজ্যবাদ হলো শিল্পপতিদের এমন এক মরিয়া প্রচেষ্টা, যার মাধ্যমে তারা বিদেশে বাজার ও বিনিয়োগ খুঁজে নিয়ে সেই উদ্বৃত্ত পণ্য ও পুঁজি খাটাতে চায় যা তারা নিজেদের দেশে বিক্রি বা ব্যবহার করতে পারছে না।)

ভি. আই. লেনিনের বৈপ্লবিক ব্যাখ্যা

রুশ কমিউনিস্ট বিপ্লবী ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন ১৯১৬ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রক্তের মাঝে বসে রচনা করেন তাঁর যুগান্তকারী গবেষণা গ্রন্থ ‘Imperialism: The Highest Stage of Capitalism’ (সাম্রাজ্যবাদ: পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায়)। লেনিন হবসনের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে গ্রহণ করেও বিষয়টিকে আরও বৈপ্লবিক রাজনৈতিক দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করেন:

  • একচেটিয়া পুঁজি ও ফিন্যান্স ক্যাপিটাল (Finance Capital):

    লেনিনের মতে, মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পুঁজিবাদ উনিশ শতকের শেষে এসে কয়েকটি বৃহৎ ব্যাংকিং ট্রাস্ট ও সিন্ডিকেটের হাতে কুক্ষিগত হয়ে একচেটিয়া রূপ ধারণ করে। শিল্প পুঁজি এবং ব্যাংক পুঁজি মিলেমিশে সৃষ্টি হয় ‘আর্থিক পুঁজি’ (Finance Capital)।

  • পণ্যের বদলে পুঁজি রপ্তানির প্রাধান্য:

    ধ্রুপদী সাম্রাজ্যবাদে প্রধান ছিল সাধারণ ভোগ্যপণ্য রপ্তানি; কিন্তু নয়া সাম্রাজ্যবাদের মূল চরিত্র হয়ে দাঁড়ায় ‘পুঁজি রপ্তানি’ (Export of Capital)। বৃহৎ পুঁজিপতিরা সমগ্র বিশ্বকে নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক বলয়ে ভাগ করে ফেলে।

  • বিশ্বের ভৌগোলিক ভাগ-বাটোয়ারা ও অনিবার্য যুদ্ধ:

    লেনিন উল্লেখ করেন, সমগ্র বিশ্ব যখন পরাশক্তিগুলির মধ্যে সম্পূর্ণ ভাগ হয়ে যায়, তখন নতুন শক্তিগুলির (যেমন জার্মানি) পক্ষে সাম্রাজ্য বাড়াতে হলে ইতিমধ্যে অন্য কারও অধিকারে থাকা ঔপনিবেশিক ভূমিকে জোর করে কেড়ে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। ফলে বিশ্বযুদ্ধ সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদী ব্যবস্থার এক অবধারিত পরিণতি। লেনিনের ভাষায়:

    “Imperialism is capitalism in that stage of development in which the dominance of monopolies and finance capital has established itself; in which the export of capital has acquired pronounced importance…”

    (সাম্রাজ্যবাদ হলো পুঁজিবাদের এমন এক পরিণত পর্যায় যেখানে একচেটিয়া কারবার ও আর্থিক পুঁজির আধিপত্য চূড়ান্ত রূপ পায় এবং যেখানে পুঁজি রপ্তানি সর্বাধিক গুরুত্ব অর্জন করে…)

সারসংক্ষেপ

অবশ্যই জাতীয় শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা, উগ্র দেশপ্রেম এবং কৌশলগত নৌ-ঘাঁটি দখলের মতো অ-অর্থনৈতিক উপাদানগুলিও নয়া সাম্রাজ্যবাদের উন্মেষের পেছনে কাজ করেছিল। কিন্তু গভীরে দৃষ্টি দিলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, এগুলি ছিল বাহ্যিক আবরণ বা অনুঘটক মাত্র।

শিল্পবিপ্লবজাত ইউরোপীয় পুঁজিবাদের অভ্যন্তরীণ সংকট—অর্থাৎ বাজারের ক্ষুধা, সস্তা কাঁচামালের তাগিদ এবং মুনাফাকামী উদ্বৃত্ত পুঁজির নিরাপদ বহির্গমন পথ তৈরি করাই ছিল নয়া সাম্রাজ্যবাদের মূল চালিকাশক্তি। এই অপ্রতিরোধ্য সাম্রাজ্যবাদী লোভই শেষ পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবীকে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ভয়াবহ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সর্বগ্রাসী আগুনে নিক্ষেপ করেছিল।

PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)

শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ

শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ, SAQ , ২ নম্বরের প্রশ্ন, ৪ নম্বরের প্রশ্ন, ৮ নম্বরের প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232

১) নবম শ্রেণির ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় – শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ (Only for Subscribers) 

Click here to view pdf file

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সকল বিষয়ের MCQ প্রশ্নের মক টেস্ট প্রদান করতে নিম্নের লিঙ্কটি অনুসরণ করতে হবে 

নবম শ্রেণির ভূগোল প্রশ্নের উত্তর

সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে

উত্তর আমেরিকা MCQ

আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে।

ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।

জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে। @ শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।

পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি। @ শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করার প্রচেষ্টা করবেন না !
Scroll to Top