ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত প্রশ্নের উত্তর Class 9 History
ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত প্রশ্নের উত্তর Class 9 History নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইতিহাস বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করতে WWW.WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। এখানে নবম শ্রেণির ভূগোল অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হলো।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত প্রশ্নের উত্তর Class 9 History :
বিভাগ ক: বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ও উত্তর
১. ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ঐতিহাসিক ভিয়েনা সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেছিলেন কে?
(ক) জার প্রথম আলেকজান্ডার
(খ) প্রিন্স মেটারনিখ
(গ) ক্যাসেলরি
(ঘ) তালিরঁ
উত্তর: (খ) প্রিন্স মেটারনিখ
২. ভিয়েনা সম্মেলনের প্রধান চালিকাশক্তি মেটারনিখ কোন দেশের চ্যান্সেলর ছিলেন?
(ক) প্রুশিয়া
(খ) অস্ট্রিয়া
(গ) রাশিয়া
(ঘ) ফ্রান্স
উত্তর: (খ) অস্ট্রিয়া
৩. ভিয়েনা সম্মেলনে ফ্রান্সে প্রাক্-বিপ্লব বুরবোঁ রাজবংশকে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল কোন নীতির ভিত্তিতে?
(ক) ক্ষতিপূরণ নীতি
(খ) শক্তিসাম্য নীতি
(গ) ন্যায্য অধিকার নীতি (Principle of Legitimacy)
(ঘ) আত্মনিয়ন্ত্রণ নীতি
উত্তর: (গ) ন্যায্য অধিকার নীতি (Principle of Legitimacy)
৪. ইউরোপে রক্ষণশীল স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে রাশিয়া, প্রুশিয়া ও অস্ট্রিয়া মিলে ১৮১৫ সালে কোন চুক্তি স্বাক্ষর করে?
(ক) চতুঃশক্তি চুক্তি
(খ) পবিত্র চুক্তি (Holy Alliance)
(গ) তিলসিতের চুক্তি
(ঘ) লন্ডন চুক্তি
উত্তর: (খ) পবিত্র চুক্তি (Holy Alliance)
৫. ইউরোপের সংকট মেটাতে বড় শক্তিগুলির সম্মিলিত আলোচনামূলক ব্যবস্থাকে কী বলা হতো?
(ক) ভিয়েনা কংগ্রেস
(খ) ইউরোপীয় শক্তি সমবায় (Concert of Europe)
(গ) লিগ অব নেশনস
(ঘ) সেন্ট পিটার্সবার্গ কনভেনশন
উত্তর: (খ) ইউরোপীয় শক্তি সমবায় (Concert of Europe)
৬. জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও অধ্যাপকদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমনে মেটারনিখ ১৮১৯ সালে কোন নির্দেশ জারি করেন?
(ক) বার্লিন ডিক্রি
(খ) কার্লসব্যাড ডিক্রি (Karlsbad Decrees)
(গ) মিলান ডিক্রি
(ঘ) ফ্রাঙ্কফুর্ট ডিক্রি
উত্তর: (খ) কার্লসব্যাড ডিক্রি (Karlsbad Decrees)
৭. ফ্রান্সে ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লবের সময় বুরবোঁ বংশের কোন রাজা সিংহাসনে ছিলেন?
(ক) অষ্টাদশ লুই
(খ) দশম চার্লস
(গ) লুই ফিলিপ
(ঘ) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
উত্তর: (খ) দশম চার্লস
৮. ফ্রান্সে ১৮৩০ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে কোন রাজবংশের পতন ঘটেছিল?
(ক) বুরবোঁ রাজবংশ
(খ) অর্লিয়েন্স রাজবংশ
(গ) হাবসবার্গ রাজবংশ
(ঘ) রোমানভ রাজবংশ
উত্তর: (ক) বুরবোঁ রাজবংশ
৯. জুলাই বিপ্লবের পর ফ্রান্সে কে ‘নাগরিক রাজা’ (Citizen King) হিসেবে সিংহাসনে বসেন?
(ক) লুই বোনাপার্ট
(খ) লুই ফিলিপ
(গ) লাফায়েত
(ঘ) কঁতে দ্য শাঁবর
উত্তর: (খ) লুই ফিলিপ
১০. ১৮৩০ সালের বিপ্লবের প্রত্যক্ষ প্রভাবে কোন দেশটি হল্যান্ডের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে?
(ক) পোল্যান্ড
(খ) বেলজিয়াম
(গ) সুইজারল্যান্ড
(ঘ) গ্রিস
উত্তর: (খ) বেলজিয়াম
১১. অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে স্বাক্ষরিত কোন চুক্তির দ্বারা স্বাধীন গ্রিস রাষ্ট্রের জন্ম হয়?
(ক) আড্রিয়ানোপলের সন্ধি
(খ) লন্ডন সন্ধি
(গ) কনস্টান্টিনোপলের সন্ধি
(ঘ) প্যারিস চুক্তি
উত্তর: (গ) কনস্টান্টিনোপলের সন্ধি
১২. ব্রিটিশ কবি লর্ড বায়রন কোন দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন?
(ক) ইতালি
(খ) গ্রিস
(গ) পোল্যান্ড
(ঘ) হাঙ্গেরি
উত্তর: (খ) গ্রিস
১৩. ইউরোপের ইতিহাসে কোন বছরকে ‘বিপ্লবের বছর’ (Year of Revolutions) বলা হয়?
(ক) ১৮১৫
(খ) ১৮৩০
(গ) ১৮৪৮
(ঘ) ১৮৭০
উত্তর: (গ) ১৮৪৮
১৪. ফ্রান্সে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের সময় প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
(ক) থিয়ার্স
(খ) গিজো (François Guizot)
(গ) লাফায়েত
(ঘ) ত্যুরগো
উত্তর: (খ) গিজো (François Guizot)
১৫. ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে ফ্রান্সে কী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
(ক) প্রথম ফরাসি প্রজাতন্ত্র
(খ) সাংবিধানিক রাজতন্ত্র
(গ) দ্বিতীয় ফরাসি প্রজাতন্ত্র
(ঘ) দ্বিতীয় সাম্রাজ্য
উত্তর: (গ) দ্বিতীয় ফরাসি প্রজাতন্ত্র
১৬. ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ধাক্কায় মেটারনিখ অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর পদ থেকে পদত্যাগ করে কোথায় পালিয়ে যান?
(ক) প্যারিস
(খ) লন্ডন
(গ) বার্লিন
(ঘ) রোম
উত্তর: (খ) লন্ডন
১৭. ১৮৪৮ সালে অখণ্ড জার্মানির জাতীয় সংবিধান রচনার লক্ষ্যে প্রতিনিধিরা কোন শহরে ‘জাতীয় সংসদ’ বা পার্লামেন্টে সমবেত হন?
(ক) মিউনিখ
(খ) ফ্রাঙ্কফুর্ট
(গ) বার্লিন
(ঘ) হামবুর্গ
উত্তর: (খ) ফ্রাঙ্কফুর্ট
১৮. হাঙ্গেরিতে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের জাতীয়তাবাদী ও স্বাধিকার আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা কে ছিলেন?
(ক) লুই কোসুথ (Louis Kossuth)
(খ) ম্যাৎসিনি
(গ) কাউন্ট কাভুর
(ঘ) গ্যারিবল্ডি
উত্তর: (ক) লুই কোসুথ (Louis Kossuth)
১৯. ইতালিকে ঐক্যবদ্ধ ও মুক্ত করার লক্ষ্যে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে ‘ইয়ং ইতালি’ (Young Italy) দল কে প্রতিষ্ঠা করেন?
(ক) ভিক্টর ইমানুয়েল
(খ) জোসেফ ম্যাৎসিনি
(গ) গ্যারিবল্ডি
(ঘ) কাভুর
উত্তর: (খ) জোসেফ ম্যাৎসিনি
২০. “When France sneezes, Europe catches cold” (ফ্রান্স যখন হাঁচে, গোটা ইউরোপের সর্দি লাগে)—উক্তিটি কার?
(ক) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
(খ) প্রিন্স মেটারনিখ
(গ) অটো ভন বিসমার্ক
(ঘ) দশম চার্লস
উত্তর: (খ) প্রিন্স মেটারনিখ
@ ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ – WBNOTES.IN
বিভাগ খ: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ও উত্তর
১. ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ভিয়েনা সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: নেপোলিয়ন-উত্তর ইউরোপের রাজনৈতিক সীমানা পুনর্গঠন করা এবং বিপ্লবী আদর্শ মুছে দিয়ে প্রাক্-বিপ্লব রক্ষণশীল রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনা।
২. ভিয়েনা সম্মেলনে গৃহীত তিনটি মূল নীতি কী কী ছিল?
উত্তর: ন্যায্য অধিকার নীতি (Principle of Legitimacy), ক্ষতিপূরণ নীতি (Principle of Compensation), এবং শক্তিসাম্য নীতি (Principle of Balance of Power)।
৩. ভিয়েনা কংগ্রেসে ‘ন্যায়সঙ্গত অধিকার নীতি’র প্রধান প্রবক্তা কে ছিলেন?
উত্তর: ফরাসি কূটনীতিবিদ চার্লস মরিস দ্য তালিরঁ (Talleyrand)।
৪. মেটারনিখ যুগ (Age of Metternich) বলতে কোন সময়সীমাকে বোঝানো হয়?
উত্তর: ১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে ইউরোপের ইতিহাসে মেটারনিখ যুগ বলা হয়।
৫. ‘পবিত্র চুক্তি’ (Holy Alliance)-এর মূল পরিকল্পনাকারী কে ছিলেন?
উত্তর: রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজান্ডার।
৬. ‘কনসার্ট অব ইউরোপ’ বা ‘ইউরোপীয় শক্তি সমবায়’ আনুষ্ঠানিকভাবে কোন চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে রূপ পায়?
উত্তর: ১৮১৫ সালের ২০ নভেম্বর ব্রিটেন, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া ও প্রুশিয়ার মধ্যে সম্পাদিত ‘চতুঃশক্তি চুক্তি’ (Quadruple Alliance)-র মাধ্যমে।
৭. কার্লসব্যাড ডিক্রির মাধ্যমে জার্মান ছাত্র সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করা হয়; সেই ছাত্র সংগঠনগুলির নাম কী ছিল?
উত্তর: বুরশেনশাফট (Burschenschaft)।
৮. ফ্রান্সে ১৮৩০ সালের জুলাই বিপ্লবের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে দশম চার্লস জারিকৃত দমনমূলক আদেশের নাম কী ছিল?
উত্তর: পলিগনাক অর্ডিন্যান্স বা জুলাই অর্ডিন্যান্স (জুলাই ১৮৩০)।
৯. ফ্রান্সে ‘জুলাই রাজতন্ত্র’ (July Monarchy) বলতে কোন রাজার শাসনকালকে বোঝায়?
উত্তর: অর্লিয়েন্স বংশীয় রাজা লুই ফিলিপের শাসনকালকে (১৮৩০-১৮৪৮)।
১০. ১৮৩০ সালের বিপ্লবের সময় পোল্যান্ড কার সামরিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল?
উত্তর: জার-শাসিত রাশিয়ার স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে।
১১. উসমানীয় বা অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে গ্রিক জাতীয়তাবাদীদের সশস্ত্র বিদ্রোহ পরিচালনার প্রধান গোপন বিপ্লবী সংগঠন কোনটি ছিল?
উত্তর: হেটাইরিয়া ফিলিকে (Philikí Etaireía)।
১২. কত খ্রিস্টাব্দে গ্রিস আনুষ্ঠানিকভাবে একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে?
উত্তর: ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দের কনস্টান্টিনোপলের সন্ধির মাধ্যমে।
১৩. ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী নেতা কে ছিলেন?
উত্তর: লুই ব্ল্যাঙ্ক (Louis Blanc)।
১৪. দ্বিতীয় ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি কে হয়েছিলেন?
উত্তর: লুই নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (পরবর্তীকালে তৃতীয় নেপোলিয়ন)।
১৫. ১৮৪৮ সালের বিপ্লবের ফলে অস্ট্রিয়ার কোন সম্রাট সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য হন?
উত্তর: সম্রাট প্রথম ফার্দিনান্দ (তাঁর স্থলে সিংহাসনে বসেন ফ্রাঞ্জ জোসেফ)।
১৬. ফ্রাঙ্কফুর্ট পার্লামেন্ট ঐক্যবদ্ধ জার্মানির রাজমুকুট কোন প্রুশীয় রাজাকে অর্পণ করতে চেয়েছিল?
উত্তর: প্রুশিয়ার রাজা চতুর্থ ফ্রেডেরিক উইলিয়ামকে (তিনি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন)।
১৭. অস্ট্রিয়ার সেনাবাহিনী কার নেতৃত্বে ১৮৪৮-এ প্রাগে স্লাভদের জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহ দমন করে?
উত্তর: যুবরাজ উইন্ডিশগ্রাটজ (Prince Windischgrätz)।
১৮. ইতালির কোন গোপন বিপ্লবী দল কার্বোনারি (Carbonari) নামে পরিচিত ছিল?
উত্তর: কয়লা প্রস্তুতকারকদের ছদ্মবেশে গঠিত মধ্য ও দক্ষিণ ইতালির একটি সশস্ত্র জাতীয়তাবাদী গুপ্ত সমিতি।
১৯. মেটারনিখ ইতালিকে ব্যঙ্গ করে কী আখ্যা দিয়েছিলেন?
উত্তর: “একটি ভৌগোলিক সংজ্ঞামাত্র” (“A mere geographical expression”)।
২০. ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের পর রাশিয়ার জার প্রথম নিকোলাসকে ইউরোপের ইতিহাসে কী অভিধায় চিহ্নিত করা হয়?
উত্তর: “ইউরোপের দারোয়ান” বা “ইউরোপের পুলিশম্যান” (Gendarme of Europe), কারণ তিনি হাঙ্গেরি ও অন্যান্য দেশের বিপ্লব দমনে সেনা পাঠিয়েছিলেন।
@ ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ – WBNOTES.IN
বিভাগ গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ২)
১. ভিয়েনা সম্মেলনের (১৮১৫) ‘ন্যায্য অধিকার নীতি’ বলতে কী বোঝায়?
প্রাক্-বিপ্লব রাজবংশের পুনর্বাসন:
এই নীতির মূল কথা ছিল—১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ফরাসি বিপ্লব এবং পরবর্তী নেপোলিয়নীয় যুদ্ধের ফলে যেসব প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজবংশ সিংহাসনচ্যুত হয়েছিল, তাদের সিংহাসনে পুনরায় ফিরিয়ে আনা।
বাস্তবায়নের উদাহরণ:
ফ্রান্স, স্পেন ও নেপলসে প্রাচীন বুরবোঁ রাজবংশকে, উত্তর ইতালির পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ায় স্যাভয় বংশকে এবং হল্যান্ডে অরেঞ্জ রাজবংশকে পুনরায় নিজ নিজ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
২. ভিয়েনা ব্যবস্থার ‘শক্তিসাম্য নীতি’ (Balance of Power) কেন গ্রহণ করা হয়েছিল?
ভবিষ্যৎ আগ্রাসন রোধ:
ইউরোপে কোনো একক দেশ যাতে অতিমাত্রায় শক্তিশালী হয়ে অন্য দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন করতে না পারে, বিশেষ করে ফ্রান্স যাতে আর কখনো নেপোলিয়নীয় ভঙ্গিমায় আক্রমণ না চালায়, সেজন্য এ নীতি গ্রহণ করা হয়।
বেষ্টনী নির্মাণ:
ফ্রান্সের চারদিকে শক্তিশালী প্রতিরোধ-বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়; যেমন উত্তরে বেলজিয়াম ও হল্যান্ডকে যুক্ত করে এক শক্তিশালী রাজ্য এবং দক্ষিণে পিডমন্টের সঙ্গে জেনোয়াকে যুক্ত করা হয়।
৩. ‘মেটারনিখ ব্যবস্থা’ (Metternich System) কী ছিল?
রক্ষণশীল স্থিতাবস্থা রক্ষা:
অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর মেটারনিখ ১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ সাল পর্যন্ত ইউরোপজুড়ে উদারনীতি, জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের বিস্তারকে স্তব্ধ করে প্রাক্-বিপ্লব স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার যে নীতি নেন, তাকে মেটারনিখ ব্যবস্থা বলে।
দমনমূলক হাতিয়ার প্রয়োগ:
এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য পূরণে তিনি সংবাদপত্রের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি গুপ্তচরবৃত্তি, দমনমূলক ডিক্রি জারি এবং সেনাবাহিনী দিয়ে গণবিক্ষোভ চূর্ণ করার পথ বেছে নেন।
৪. ১৮১৯ সালের ‘কার্লসব্যাড ডিক্রি’ (Karlsbad Decrees)-র দুটি উল্লেখযোগ্য নির্দেশ কী ছিল?
ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধকরণ ও সার্বক্ষণিক নজরদারি:
জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন ‘বুরশেনশাফট’কে সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয় এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি পরিদর্শক নিয়োগ করে শিক্ষকদের ওপর কড়া নজর রাখা হয়।
মুদ্রণ ও সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ:
বিশ পৃষ্ঠার কম দৈর্ঘ্যের সমস্ত পুস্তিকা, সাময়িকপত্র ও সংবাদপত্রের ওপর কঠোর সরকারি সেন্সরশিপ চাপিয়ে দেওয়া হয়, যাতে মুক্তচিন্তা ও উদারবাদী ভাবনা ছড়াতে না পারে।
৫. ‘ইউরোপীয় শক্তি সমবায়’ (Concert of Europe) কেন গঠিত হয়েছিল?
যৌথ নিরাপত্তা বিধান:
ইউরোপের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং ভিয়েনা ব্যবস্থার সিদ্ধান্তগুলিকে শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে কার্যকর রাখতে এই সংস্থা গঠিত হয়।
বিপ্লব দমন ও যৌথ কূটনীতি:
ইউরোপীয় কোনো ভূখণ্ডে রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লব দেখা দিলে বড় শক্তিগুলি (অস্ট্রিয়া, প্রুশিয়া, রাশিয়া ও ব্রিটেন) সম্মিলিত সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়।
৬. ১৮৩০ সালের ফ্রান্সে ‘জুলাই অর্ডিন্যান্স’ কেন জারি করা হয়েছিল?
উদারপন্থীদের নির্বাচনী বিজয়ে ক্ষোভ:
১৮৩০ সালের মে মাসের নির্বাচনে চরম রাজতন্ত্রী রাজা দশম চার্লসের মনোনীত দলের বিরুদ্ধে উদারপন্থী প্রতিনিধিরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন।
সংবিধানকে বুড়ো আঙুল প্রদর্শন:
এই ফলাফল বাতিল করতে দশম চার্লস ও তাঁর মন্ত্রী পলিগনাক ২৫ জুলাই এক ঘোষণাবলে নতুন নির্বাচিত সংসদ ভেঙে দেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেন এবং ভোটার তালিকা সংকুচিত করে বিত্তবানদের ভোটাধিকার দেন।
৭. ফ্রান্সে ১৮৩০ সালের জুলাই বিপ্লবের দুটি প্রধান ফলাফল কী ছিল?
স্বৈরাচারী বুরবোঁ শাসনের চিরসমাপ্তি:
এই বিপ্লবের মুখে প্রতিক্রিয়াশীল রাজা দশম চার্লস সিংহাসন ছেড়ে ইংল্যান্ডে পালিয়ে যান এবং ফ্রান্সে প্রাচীন ঐশ্বরিক রাজতন্ত্রের চিরতরে অবসান ঘটে।
সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা:
জনগণ নিজেদের সার্বভৌম প্রতিনিধি হিসেবে অর্লিয়েন্স বংশের লুই ফিলিপকে ‘ফরাসিদের রাজা’ হিসেবে নির্বাচিত করে একটি নিয়ন্ত্রিত উদারনৈতিক শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
৮. ১৮৩০ সালের বেলজিয়াম বিপ্লবের মূল কারণ কী ছিল?
অন্যায্য সংমিশ্রণ:
১৮১৫ সালের ভিয়েনা কংগ্রেস ফরাসি আগ্রাসন ঠেকানোর নামে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির ক্যাথলিক বেলজিয়ামবাসীদের প্রোটেস্ট্যান্ট হল্যান্ডের রাজতন্ত্রের অধীনে জোর করে যুক্ত করেছিল।
ওলন্দাজদের পক্ষপাতদুষ্ট শাসন:
হল্যান্ডবাসী কম জনসংখ্যা নিয়েও প্রশাসনে সমস্ত উচ্চপদ, বিচারব্যবস্থা ও সামরিক কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে রাখে এবং বেলজিয়ামের ওপর ডাচ ভাষা চাপিয়ে দিলে জাতীয়তাবাদী ক্ষোভে বেলজিয়ামবাসী বিদ্রোহ করে।
৯. গ্রিসের স্বাধীনতা সংগ্রামের (১৮২১-১৮৩২) তাৎপর্য কী ছিল?
অটোমান সাম্রাজ্যের আধিপত্য খর্ব:
দীর্ঘ চার শতাব্দী ধরে চলা মুসলিম অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনতাপাশ ছিন্ন করে একটি খ্রিস্টান স্লাভ জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভিয়েনা বন্দোবস্তের ভাঙন:
মেটারনিখের জাতীয়তাবাদবিরোধী অবস্থানের মুখেও ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার হস্তক্ষেপে গ্রিস স্বাধীন হওয়ায় প্রমাণিত হয় যে শক্তিপ্রয়োগ করে চিরকাল জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম চেপে রাখা অসম্ভব।
১০. ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের ‘ফেব্রুয়ারি বিপ্লব’-এর পেছনে অর্থনৈতিক কারণ কী ছিল?
ভয়াবহ ফসলহানি ও খাদ্যাভাব:
১৮৪৬-১৮৪৭ সালে আলুর মড়ক ও ফসলের চরম ক্ষতির ফলে ফ্রান্সে রুটি ও খাদ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে পড়ে, যা শ্রমিকশ্রেণিকে চরম অনাহারে ঠেলে দেয়।
শিল্পমন্দা ও তীব্র বেকারত্ব:
ইউরোপজুড়ে ব্যাপক বাণিজ্যিক মন্দার কারণে প্যারিসের কলকারখানাগুলি বন্ধ হয়ে যায়, লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে তীব্র সরকারবিরোধী বিদ্রোহে শামিল হয়।
১১. ১৮৪৮ সালের বিপ্লবকে কেন “জনগণের বসন্ত” (Springtime of the Peoples) বলা হয়?
সর্বজনীন জাতীয়তাবাদী বিস্ফোরণ:
১৮৪৮ সালে একই সঙ্গে ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও ডেনমার্কসহ সমগ্র মহাদেশজুড়ে স্বৈরতন্ত্রের শৃঙ্খল ভেঙে জনগণ নিজেদের গণতান্ত্রিক ও জাতীয় মুক্তির দাবিতে জেগে উঠেছিল।
নবায়নের আশা:
শীতের রুক্ষতার পর বসন্তের নতুন পাতার মতো ইউরোপের পদানত ও শোষিত জাতিগুলি নিজেদের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় সমকালীন ইতিহাসবিদরা এই গণজাগরণকে ‘জনগণের বসন্ত’ আখ্যা দিয়েছিলেন।
১২. লুই ব্ল্যাঙ্কের ‘জাতীয় কর্মশালা’ (National Workshops) কী ছিল?
কর্মসংস্থানের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ:
১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পর গঠিত অস্থায়ী সরকারে সমাজতন্ত্রী নেতা লুই ব্ল্যাঙ্কের চাপে প্যারিসের বেকার শ্রমিকদের কাজের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে এই কারখানাগুলো চালু হয়।
ব্যর্থতা ও অসন্তোষ:
যথাযথ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে এগুলি অনুৎপাদক সংস্থায় পরিণত হয়; পরবর্তীতে বিত্তবান বুর্জোয়ারা এটি বন্ধ করে দিলে শ্রমিকরা আবার ‘জুনের দিনগুলিতে’ রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহ ঘটায়।
১৩. ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের ‘ফ্রাঙ্কফুর্ট পার্লামেন্ট’ কেন ব্যর্থ হয়েছিল?
সামরিক শক্তির অভাব:
ফ্রাঙ্কফুর্টের সংসদীয় প্রতিনিধিদের কোনো নিজস্ব সেনাবাহিনী ছিল না; ফলে তারা অস্ট্রিয়া বা প্রুশিয়ার মতো পরাক্রমশালী রাজতন্ত্রের সদিচ্ছার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল।
প্রুশীয় রাজার রাজমুকুট প্রত্যাখ্যান:
সংসদ যখন প্রুশিয়ার রাজা চতুর্থ ফ্রেডেরিক উইলিয়ামকে গণতান্ত্রিক জার্মানির মুকুট দিতে যায়, তখন তিনি “জনতার নর্দমা থেকে তোলা মুকুট” পরবেন না বলে রাজতন্ত্রীদের পক্ষ নিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
১৪. ‘ইয়ং ইতালি’ (Young Italy) দলের মূল আদর্শ কী ছিল?
স্বনির্ভর জাতীয়তাবাদী আন্দোলন:
ম্যাৎসিনি বিশ্বাস করতেন যে কোনো বিদেশি শক্তির মুখাপেক্ষী না হয়ে ইতালির নিজস্ব তরুণ সমাজের রক্তদান ও ত্যাগের মাধ্যমেই দেশকে মুক্ত করতে হবে।
ঐক্যবদ্ধ প্রজাতান্ত্রিক লক্ষ্য:
এই দলের একমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল ইতালির বিচ্ছিন্ন রাজত্ব ও অস্ট্রিয়ার আধিপত্য উচ্ছেদ করে একটি অখণ্ড, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ‘ইতালীয় প্রজাতন্ত্র’ গড়ে তোলা।
১৫. ১৮৪৮ সালের বিপ্লব ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য কী ছিল?
সামন্ততন্ত্র ও ভূমিদাসত্বের স্থায়ী বিলোপ:
এই বিপ্লবের চাপে পড়ে অস্ট্রিয়া ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলি মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক বাধ্যতামূলক বেগার শ্রম ও ভূমিদাস প্রথা চিরতরে রদ করতে বাধ্য হয়।
পরবর্তী ঐক্যের ভিত্তিপ্রস্তর:
১৮৪৮ সালের আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী আবেগই পরবর্তী দুই দশকের মধ্যে ইতালি (১৮৬১) ও জার্মানির (১৮৭১) চূড়ান্ত জাতীয় ঐক্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।
@ ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ – WBNOTES.IN
বিভাগ ঘ: বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৪)
১. ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ভিয়েনা বন্দোবস্তের প্রধান ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতাগুলি বিশ্লেষণ করুন।
নেপোলিয়নের পতনের পর ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপের রাষ্ট্রনায়করা অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় সমবেত হয়ে যে পুনর্গঠন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন, তা আপাতদৃষ্টিতে কিছুকালের জন্য শান্তি ফিরিয়ে আনলেও কাঠামোগতভাবে বহু মারাত্মক ত্রুটিতে জর্জরিত ছিল।
জাতীয়তাবাদী ও উদারবাদী আবেগের প্রতি চরম অবজ্ঞা:
ভিয়েনা সম্মেলনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল ফরাসি বিপ্লবজাত প্রধান দুটি আদর্শ—’জাতীয়তাবাদ’ ও ‘গণতন্ত্র’কে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা। ঐতিহাসিক ডেভিড থমসন (David Thomson)-এর মতে, সম্মেলনে সমবেত রাষ্ট্রনেতারা মনে করেছিলেন বিপ্লব যেন একটি ক্ষতিকর রোগ, যার উপসর্গ দমন করলেই সমাজ আবার পুরনো ধাঁচে ফিরে যাবে। তাঁরা জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে কোনো আমলই দেননি।
স্বার্থপর ভৌগোলিক পুনর্বণ্টন ও কৃত্রিম সংযুক্তি:
ক্ষতিপূরণ নীতির নামে ইউরোপের মানচিত্রকে এমনভাবে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছিল যা স্থানীয় জনগণের ইচ্ছার সম্পূর্ণ বিরোধী ছিল।
ভিন্ন ভাষা ও ঐতিহ্যের বেলজিয়ামকে ডাচ-শাসিত হল্যান্ডের সঙ্গে জোর করে যুক্ত করা হয়।
স্বাধীনতাকামী পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সত্তা বিনষ্ট করে তাকে রাশিয়ার গ্রাসে ঠেলে দেওয়া হয়।
উত্তর ইতালির লোম্বার্ডি ও ভেনিসিয়া অঞ্চল তুলে দেওয়া হয় চরম প্রতিক্রিয়াশীল হাবসবার্গ সাম্রাজ্যের (অস্ট্রিয়া) হাতে।
ঐতিহাসিক নদীর গতি রুদ্ধ করার নিষ্ফল চেষ্টা:
ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দ প্রাক্-১৭৮৯ সালের সামন্ততান্ত্রিক স্থিতাবস্থা ফেরাতে গিয়ে ভুলে গিয়েছিলেন যে আড়াই দশকের বৈপ্লবিক পরিবর্তন মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ফলে এই অন্যায্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পরবর্তী তিন দশক ধরে সমগ্র মহাদেশে একের পর এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লব (১৮২০, ১৮৩০ ও ১৮৪৮) সংঘটিত হতে থাকে।
@ ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
২. ইউরোপে ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই বিপ্লবের কারণ ও সামগ্রিক গুরুত্ব আলোচনা করুন।
১৮৩০ সালের জুলাই মাসে প্যারিসের রাস্তায় সংঘটিত তিন দিনের সংক্ষিপ্ত অথচ তীব্র রক্তক্ষয়ী বিপ্লব (যা ‘Les Trois Glorieuses’ নামে পরিচিত) মেটারনিখের প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থার মুখে প্রথম প্রত্যক্ষ আঘাত হেনেছিল।
বিপ্লবের প্রধান কারণসমূহ:
দশম চার্লসের চরম স্বৈরাচারী প্রতিক্রিয়াশীলতা: বুরবোঁ রাজা অষ্টাদশ লুইয়ের পর ১৮২৪ সালে ক্ষমতায় এসে দশম চার্লস ফরাসি বিপ্লবের সমস্ত অর্জনকে বাতিল করার চেষ্টা করেন। তিনি চার্চের একচ্ছত্র আধিপত্য ফিরিয়ে আনেন এবং বিপ্লবকালে ক্ষতিগ্রস্ত অভিজাতদের ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপর বিপুল কর চাপান। তিনি দম্ভভরে বলতেন—”ইংল্যান্ডের রাজার মতো শাসন করার চেয়ে আমি বরং বনে কাঠুরে হয়ে থাকা পছন্দ করব।”
জুলাই অর্ডিন্যান্সের বিস্ফোরণ: ১৮৩০ সালের নির্বাচনে বিরোধী উদারপন্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ক্ষুব্ধ রাজা চার্লস ও তাঁর প্রধানমন্ত্রী পলিগনাক ২৫ জুলাই চারটি কালাকানুন বা ‘জুলাই অর্ডিন্যান্স’ জারি করেন। এর মাধ্যমে নতুন নির্বাচিত পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয় এবং বুর্জোয়াদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ২৬-২৯ জুলাই প্যারিসের ছাত্র, শ্রমিক ও মধ্যবিত্তরা রাস্তায় ব্যারিকেড গড়ে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়া:
ঐশ্বরিক রাজতন্ত্রের অবসান: দশম চার্লস সিংহাসন ছেড়ে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতার অহংকার ভেঙে এবার সিংহাসনে বসানো হয় জনসাধারণের নির্বাচিত প্রতিনিধি বা ‘নাগরিক রাজা’ লুই ফিলিপকে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিপ্লবের ঢেউ: মেটারনিখীয় রক্ষণশীলতা এই ধাক্কায় প্রথম কেঁপে ওঠে। ফ্রান্সের দেখাদেখি বেলজিয়াম বিদ্রোহ ঘোষণা করে হল্যান্ডের শৃঙ্খলমুক্ত হয়। পোল্যান্ডে জার-বিরোধী অভ্যুত্থান এবং ইতালি ও জার্মানির বিভিন্ন রাজ্যে জাতীয়তাবাদী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
৩. ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের বিপ্লবকে কেন “বিপ্লবের বছর” বা “জাতীয়তাবাদের বিস্ফোরণ” বলা হয়?
১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ ইউরোপের আধুনিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড় নির্দেশ করে। এই একক বছরে ফ্রান্সের সীমানা ছাড়িয়ে বিপ্লবের যে লেলিহান শিখা গোটা মহাদেশকে গ্রাস করেছিল, ইতিহাসে তার কোনো দ্বিতীয় নজির নেই।
বিপ্লবের দ্রুত ও সর্বজনীন বিস্তার:
১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারিসে লুই ফিলিপের সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে যে আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়েছিল, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা দাবানলের মতো গোটা মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরি: খোদ মেটারনিখের সাম্রাজ্যের রাজধানী ভিয়েনায় ছাত্র-জনতার সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়; পরাক্রমশালী মেটারনিখ নারীবেশে ইংল্যান্ডে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। হাঙ্গেরিতে লুই কোসুথের নেতৃত্বে ম্যাগায়াররা পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলে।
ইতালি: মিলান, ভেনিস, নেপলস ও রোমে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পিডমন্টের নেতৃত্বে মুক্তির যুদ্ধ শুরু হয়।
জার্মানি: বার্লিনসহ বিভিন্ন জার্মান রাজ্যের রাজন্যবর্গ জনতার চাপে সংবিধান দিতে বাধ্য হন এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে ঐক্যবদ্ধ জার্মানির রূপরেখা তৈরিতে জাতীয় সংসদ বসে।
নতুন সমাজশক্তির আত্মপ্রকাশ:
১৮৪৮ সালের বিপ্লব ছিল চরিত্রগতভাবে পূর্ববর্তী বিপ্লবগুলির থেকে পৃথক। এবার কেবল বুর্জোয়া মধ্যবিত্ত নয়, কার্ল মার্ক্স ও এঙ্গেলসের ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ (১৮৪৮)-র সমসাময়িক আবহে সচেতন শিল্প-শ্রমিক শ্রেণি (Proletariat) নিজেদের সামাজিক অধিকার ও বাঁচার দাবির স্পষ্ট পতাকা নিয়ে রাজপথের ব্যারিকেডে দাঁড়িয়েছিল।
উপসংহার:
যদিও সামরিক দিক থেকে বিভিন্ন দেশের রাজন্যবর্গ এই বিপ্লবকে শেষ পর্যন্ত নৃশংসভাবে দমন করেছিল, তবুও এই বছরটি ইউরোপে প্রাচীন রাজতান্ত্রিক আধিপত্যের নৈতিক মৃত্যুকে নিশ্চিত করেছিল। জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের যে অপ্রতিরোধ্য স্রোত এই বছর আত্মপ্রকাশ করেছিল, তাকে দমন করার সাধ্য কোনো রাজতন্ত্রেরই ছিল না।
@ ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ – WBNOTES.IN
বিভাগ ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৮)
১. প্রিন্স মেটারনিখের ইউরোপীয় কূটনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূল্যায়ন করুন। এই ব্যবস্থা কেন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল?
১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ভিয়েনা সম্মেলন থেকে ১৮৪৮-এর ফেব্রুয়ারি বিপ্লব পর্যন্ত ইউরোপীয় ইতিহাসের সমগ্র পর্যায়টি অস্ট্রো-হাবসবার্গ সাম্রাজ্যের চ্যান্সেলর প্রিন্স ক্লেমেন্স ভন মেটারনিখ (Klemens von Metternich)-এর অপ্রতিহত প্রভাব ও কূটনৈতিক চাতুর্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। তাই আধুনিক ঐতিহাসিকরা এই কালপর্বকে যথার্থ অর্থেই ‘মেটারনিখ যুগ’ (Age of Metternich) বলে চিহ্নিত করেছেন।
মেটারনিখ ব্যবস্থার মূল রূপরেখা
│
┌────────────────────────────────┼────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
রাজনৈতিক দর্শন ব্যবহারিক হাতিয়ার পতনের নিয়ামক
┌───────────────────────────────┐ ┌───────────────────────────────┐ ┌───────────────────────────────┐
│• প্রাচীনতন্ত্র ও স্থিতাবস্থা │ │• ইউরোপীয় কনসার্ট (সম্মেলন) │ │• জাতীয়তাবাদী ভাবধারার বিস্তার│
│• ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ দমন │ │• কার্লসব্যাড ডিক্রি (১৮১৯) │ │• ১৮৩০ ও ১৮৪৮-এর গণঅভ্যুত্থান │
│• পরিবর্তনহীন রাজতান্ত্রিক শাসন│ │• পুলিশি দমন ও গোয়েন্দা নজরদারি│ │• মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক শ্রেণির উদয়│
└───────────────────────────────┘ └───────────────────────────────┘ └───────────────────────────────┘
মেটারনিখের রাজনৈতিক দর্শন ও মূল উদ্দেশ্য
মেটারনিখ ছিলেন মূলত অষ্টাদশ শতকের চরম যুক্তিবাদী অথচ অনমনীয় স্থিতাবস্থার সমর্থক এক কূটনীতিবিদ। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল কথা ছিল—”শাসন করো কিন্তু কোনো পরিবর্তন কোরো না” (Govern and change nothing)।
ফরাসি বিপ্লবের প্রতি তীব্র ঘৃণা: তিনি বিপ্লবকে সামাজিক বিশৃঙ্খলা এবং একটি ধ্বংসাত্মক সংক্রামক ব্যাধি বলে মনে করতেন। তিনি নিজেকে অভিহিত করতেন ইউরোপীয় স্থিতাবস্থার ‘প্রধান চিকিৎসক’ হিসেবে।
হাবসবার্গ সাম্রাজ্যের আত্মরক্ষা: মেটারনিখের গৃহভূমি অস্ট্রিয়া ছিল জার্মান, হাঙ্গেরীয়, চেক, স্লোভাক, পোল ও ইতালীয়দের মতো বহু বিচিত্র জাতিগোষ্ঠীর একটি জটিল সংমিশ্রণ। তিনি খুব ভালো করেই জানতেন যে, ফরাসি বিপ্লবের সাম্য ও জাতীয়তাবাদের ছোঁয়া লাগলে এই বহুজাতিক কৃত্রিম হাবসবার্গ সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। তাই অস্ট্রিয়াকে অখণ্ড রাখতেই সমগ্র ইউরোপজুড়ে জাতীয়তাবাদকে ধ্বংস করা তাঁর প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।
মেটারনিখ ব্যবস্থার ব্যবহারিক কার্যপ্রণালী
উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে মেটারনিখ মূলত দুটি ফ্রন্টে তাঁর আক্রমণ শানিয়েছিলেন—আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এবং অস্ট্রিয়া ও জার্মানির অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে:
ইউরোপীয় শক্তি সমবায় ও সামরিক হস্তক্ষেপের অধিকার:
মেটারনিখ বড় শক্তিগুলিকে (অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, প্রুশিয়া, ব্রিটেন) একত্রিত করে ‘ইউরোপীয় কনসার্ট’ গড়ে তোলেন। ১৮১৮ সালের এক্স-লা-শ্যাপেল, ১৮২০ সালের ট্রপো এবং ১৮২১ সালের লাইবাখ কংগ্রেসে তিনি ‘হস্তক্ষেপের নীতি’ (Principle of Intervention) পাস করিয়ে নেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল—ইউরোপের যে কোনো দেশে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণবিপ্লব দেখা দিলে বৃহৎ শক্তিগুলি সেনা পাঠিয়ে তা রক্তক্ষয়ীভাবে দমন করবে। তিনি এই নীতি প্রয়োগ করে নেপলস ও স্পেনের প্রগতিশীল বিদ্রোহ দমন করেন।
জার্মানিতে দমনমূলক নীতি ও কার্লসব্যাড ডিক্রি (১৮১৯):
জার্মানির ৩৯টি রাজ্যের ওপর অস্ট্রিয়ার কর্তৃত্ব বজায় রাখতে মেটারনিখ সচেষ্ট ছিলেন। জেনা ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উদারবাদী আন্দোলন শুরু হলে মেটারনিখ অত্যন্ত কঠোর ‘কার্লসব্যাড ডিক্রি’ জারি করেন। এর মাধ্যমে ছাত্র সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়, মুক্তমনা অধ্যাপকদের বরখাস্ত করা হয় এবং সংবাদপত্রের স্বাধীন মতামত প্রকাশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়।
অস্ট্রিয়ায় লৌহ-প্রাচীর নির্মাণ:
অস্ট্রিয়ার অভ্যন্তরে যাতে কোনো প্রগতিশীল বইপত্র, সংবাদপত্র বা বাইরের দেশের চিন্তাভাবনা প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য তিনি এক সর্বগ্রাসী পুলিশি রাষ্ট্র ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক কায়েম করেন।
মেটারনিখ ব্যবস্থার পতনের কারণসমূহ
মেটারনিখের এই কঠোর দমনমূলক কাঠামোটি বাহ্যিকভাবে অপরাজেয় মনে হলেও তার ভিত্তিমূল ছিল বালির ওপর প্রতিষ্ঠিত। নিম্নলিখিত ঐতিহাসিক কারণগুলির ঘাত-প্রতিঘাতে তা ভেঙে পড়ে:
ইতিহাসের স্বাভাবিক অগ্রগতির সঙ্গে সংঘাত:
মেটারনিখের সবচেয়ে বড় অন্ধতা ছিল—তিনি সময়ের পরিবর্তনকে স্বীকার করতে চাননি। শিল্পবিপ্লবের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপে এক সচেতন, বিত্তবান ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এবং শক্তিশালী শ্রমিক শ্রেণির উদয় হয়েছিল। মেটারনিখের পক্ষে তাদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে চিরকাল পিষে রাখা অসম্ভব ছিল।
মিত্রশক্তির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও ইংল্যান্ডের অসহযোগিতা:
মেটারনিখের তথাকথিত শক্তি সমবায়ে প্রথম থেকেই মতভেদ ছিল। ইংল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ ক্যানিং যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের চরম বিরোধিতা করেন। ফলে ‘কনসার্ট অব ইউরোপ’ ভেঙে যায় এবং হস্তক্ষেপের নীতি অচল হয়ে পড়ে।
১৮৩০ সালের জুলাই বিপ্লবের প্রথম আঘাত:
১৮৩০ সালে ফ্রান্সে বুরবোঁদের পতন এবং বেলজিয়ামের স্বাধীনতা লাভের ঘটনা মেটারনিখের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, স্বৈরাচারী শক্তির রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করে জাতীয়তাবাদ জয়যুক্ত হতে পারে।
১৮৪৮-এর বিপ্লব ও মেটারনিখের চরম পতন:
১৮৪৮ সালের মার্চ মাসে ভিয়েনার ছাত্র, কারিগর ও সাধারণ জনতা রাজপ্রাসাদ ঘেরাও করে গণতন্ত্রের দাবিতে গর্জে ওঠে। মেটারনিখের নিজস্ব সৈন্যবাহিনীও জনতার ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানায়। দীর্ঘ ৩৩ বছর ইউরোপের ভাগ্যবিধাতা হিসেবে শাসন চালানো মেটারনিখ অবশেষে ১৩ মার্চ ১৮৪৮ নিঃশব্দে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং এক সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে লন্ডনে পালিয়ে যান।
ঐতিহাসিক সি. ডি. হেজেন (C. D. Hazen) যথার্থই লিখেছেন:
“Metternich’s system was a system of immobility, a system of suppression, fighting a losing battle against the spirit of the modern age.”
(মেটারনিখের ব্যবস্থা ছিল গতিহীনতা ও দমনের ব্যবস্থা, যা আধুনিক যুগের চেতনার বিরুদ্ধে এক নিশ্চিত পরাজয়ের লড়াইয়ে লিপ্ত ছিল।)
@ ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ – WBNOTES.IN
২. ফ্রান্সে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের কারণ ও চরিত্র বিশ্লেষণ করুন। এই বিপ্লব কীভাবে ইউরোপের অন্যান্য দেশে রাজতান্ত্রিক স্বৈরাচারের ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল?
১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্রান্সে যে দ্বিতীয় বিপ্লবটি সংঘটিত হয়েছিল, তা কেবল ফরাসি রাজনীতিতেই পরিবর্তন আনেনি, বরং গোটা ইউরোপীয় মহাদেশে রাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বে এক প্রলয়ংকরী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। এই বিপ্লব লুই ফিলিপের সুবিধাবাদী বুর্জোয়া রাজতন্ত্রের কবর রচনা করে ফ্রান্সে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের জন্ম দেয়।
ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের কারণ ও প্রভাব
│
┌───────────────────────────────┴───────────────────────────────┐
▼ ▼
বিপ্লবের কারণসমূহ ইউরোপীয় প্রেক্ষাপটে প্রভাব
┌──────────────────────────────────────┐ ┌──────────────────────────────────────┐
│• লুই ফিলিপের সংকীর্ণ মধ্যবিত্ত তোষণ │ │• অস্ট্রিয়া: মেটারনিখের পলায়নের ঘটনা │
│• ভোটাধিকার সম্প্রসারণে অস্বীকার │ │• হাঙ্গেরি: লুই কোসুথের জাতীয় বিদ্রোহ │
│• প্রধানমন্ত্রী গিজোর স্থবিরতা ও অনড়তা │ │• জার্মানি: ফ্রাঙ্কফুর্ট পার্লামেন্ট গঠন │
│• শিল্পশ্রমিকদের তীব্র ক্ষোভ ও সমাজবাদ │ │• ইতালি: কার্ল অ্যালবার্টের যুদ্ধ ঘোষণা│
└──────────────────────────────────────┘ └──────────────────────────────────────┘
│
▼
ইউরোপীয় প্রাচীন রাজতন্ত্রের চিরন্তন অবক্ষয়
ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের মূল কারণসমূহ
লুই ফিলিপের সংকীর্ণ শ্রেণিভিত্তিক শাসন (‘জুলাই রাজতন্ত্র’):
১৮৩০ সালে জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় এলেও রাজা লুই ফিলিপ তাঁর সমস্ত নীতি পরিচালনা করতেন কেবল ধনী উচ্চ-বুর্জোয়া, ব্যাংকার ও শিল্পপতিদের স্বার্থে। ঐতিহাসিকদের ভাষায় এটি ছিল একটি “ব্যাংকারদের প্রজাতন্ত্র”। ফ্রান্সের সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষক, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং উঠতি শ্রমিক শ্রেণির কল্যাণকে তিনি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন।
ভোটাধিকার সংস্কারের অনীহা ও গিজোর একগুঁয়েমি:
ফ্রান্সের মোট সাড়ে তিন কোটি জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র আড়াই লক্ষ ধনী ব্যক্তির ভোটাধিকার ছিল। উদারপন্থী এবং সমাজতন্ত্রীরা যখন সার্বজনীন ভোটাধিকারের দাবি তোলেন, তখন লুই ফিলিপের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া গিজো চরম ঔদ্ধত্যের সাথে দরিদ্র জনগণকে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন:
“Enrichissez-vous par le travail et par l’épargne et vous deviendrez électeurs!”
(কঠোর পরিশ্রম ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে আগে ধনী হও, তবেই তোমরা ভোটার হতে পারবে!)
শাসকগোষ্ঠীর এই চরম গণবিরোধী আচরণ তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট:
১৮৪৬-৪৭ সালের ভয়াবহ আলুর মড়ক এবং দেশজোড়া ফসলের ক্ষতি খাদ্যশস্যের দাম অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে সংঘটিত শিল্পমন্দার ফলে প্যারিসের কলকারখানাগুলি বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে। এই বিস্ফোরক পরিস্থিতিতে লুই ব্ল্যাঙ্ক এবং প্রুধোঁর সমাজতান্ত্রিক মতবাদ মেহনতি মানুষকে সরাসরি বিপ্লবের দিকে চালিত করে।
ভোজসভার আন্দোলন ও তাৎক্ষণিক কারণ:
রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকায় বিরোধীরা ভোটাধিকারের দাবিতে ফ্রান্সে ‘ভোজসভা আন্দোলন’ (Banquet Campaign) শুরু করে। ১৮৪৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্যারিসে এক বিশাল রাজনৈতিক ভোজসভা আয়োজনের কথা ছিল। সরকার তা বলপ্রয়োগ করে নিষিদ্ধ করলে ছাত্র, জনতা ও প্যারিসের জাতীয় রক্ষীবাহিনী রাস্তায় ব্যারিকেড গড়ে তোলে। ২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মুখে ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী গিজো পদত্যাগ করেন এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজা লুই ফিলিপ সিংহাসন ছেড়ে সপরিবারে ছদ্মবেশে ইংল্যান্ডে পালিয়ে যান। প্রতিষ্ঠিত হয় ‘দ্বিতীয় ফরাসি প্রজাতন্ত্র’।
১৮৪৮-এর বিপ্লবের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য
এই বিপ্লবের চরিত্র পূর্ববর্তী ১৭৮৯ বা ১৮৩০-এর বিপ্লব থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ছিল:
শ্রমিকশ্রেণির ঐতিহাসিক ভূমিকা: এটি কেবল মধ্যবিত্তের শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের আন্দোলন ছিল না; এই বিপ্লবে প্যারিসের প্রলেতারিয়েত বা সর্বহারা মেহনতি শ্রমিক শ্রেণি কাজের অধিকার ও বাঁচার দাবির লাল পতাকা নিয়ে এক স্বাধীন সামাজিক শক্তি হিসেবে রাজপথে অবতীর্ণ হয়েছিল।
সমাজতান্ত্রিক মতবাদের প্রভাব: ইতিহাসে প্রথমবার রাষ্ট্রীয় নীতিতে সমাজতান্ত্রিক দাবি অন্তর্ভুক্ত হয় এবং লুই ব্ল্যাঙ্কের চাপে শ্রমিকদের জন্য ‘জাতীয় কর্মশালা’ খোলার মতো প্রত্যক্ষ কল্যাণকামী উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয় রাষ্ট্র।
ইউরোপীয় দেশগুলিতে বিপ্লবের সুদূরপ্রসারী অভিঘাত
প্যারিসের এই বৈপ্লবিক স্ফুলিঙ্গ গোটা ইউরোপে মেটারনিখীয় শৃঙ্খলে আবদ্ধ দেশগুলির বুকে বিস্ফোরণ ঘটায়:
অস্ট্রিয়া ও মেটারনিখের সাম্রাজ্য চূর্ণ হওয়া:
ফ্রান্সের ঘটনার তিন সপ্তাহের মধ্যে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ছাত্র-শ্রমিকরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। সেনাবাহিনী পিছু হটলে পরাক্রমশালী রক্ষণশীলতার প্রতিমূর্তি মেটারনিখ পদত্যাগ করে আত্মগোপন করেন। ভিয়েনায় মেটারনিখের পতন গোটা ইউরোপের স্বৈরাচারীদের আত্মবিশ্বাসকে গুঁড়িয়ে দেয়।
হাঙ্গেরিতে কোসুথের জাতীয়তাবাদী উত্থান:
অস্ট্রিয়ার দুর্বলতার সুযোগে লুই কোসুথের নেতৃত্বে হাঙ্গেরির ম্যাগায়াররা বিদ্রোহ করে নিজেদের পৃথক সংসদ, সেনাবাহিনী ও স্বায়ত্তশাসন ঘোষণা করে। হাবসবার্গ সম্রাট নিরুপায় হয়ে সেই দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন (যদিও পরে রাশিয়ার সেনার সহায়তায় এই বিদ্রোহ চূর্ণ করা হয়)।
জার্মান ঐক্য আন্দোলন ও ফ্রাঙ্কফুর্ট পার্লামেন্ট:
বার্লিনে গণবিক্ষোভের মুখে প্রুশিয়ার রাজা চতুর্থ ফ্রেডেরিক উইলিয়াম জনগণের গণতান্ত্রিক সংবিধানের দাবি মেনে নেন। মে মাসে সমগ্র জার্মানির নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে ঐতিহাসিক ‘ফ্রাঙ্কফুর্ট পার্লামেন্ট’ গঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল জার্মানিকে একটি অখণ্ড সাংবিধানিক রাষ্ট্র হিসেবে রূপ দেওয়া।
ইতালির মুক্তিসংগ্রাম ও প্রাথমিক ঐক্য:
ইতালির মিলান ও ভেনিস থেকে অস্ট্রিয়ার সৈন্যদের বিতাড়িত করা হয়। পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার রাজা চার্লস অ্যালবার্ট অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ ঘোষণা করেন। রোমে প্রজাতন্ত্র ঘোষিত হয় এবং পোপ নবম পায়াস প্রাণভয়ে পালিয়ে যান। তরুণ বিপ্লবী জোসেফ ম্যাৎসিনি এবং গ্যারিবল্ডি সেখানে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের পতাকা উত্তোলন করেন।
ঐতিহাসিক মূল্যায়ন
যদিও ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপের প্রতিক্রিয়াশীল রাজতান্ত্রিক শক্তিগুলি রাশিয়ার জারের সামরিক সহায়তায় রক্তবন্যা বইয়ে সাময়িকভাবে এই সমস্ত বিপ্লবকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল, তবুও ১৮৪৮-এর বিপ্লবকে কখনোই ‘ব্যর্থ বিপ্লব’ বলা যায় না।
ঐতিহাসিক জি. এম. ট্রেভেলিয়ান (G. M. Trevelyan) তাঁর বিখ্যাত মূল্যায়নে এই বছরটিকে “The turning point at which modern history failed to turn” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। বাস্তব সত্য হলো—এই বিপ্লব মেটারনিখের শতাব্দীর প্রাচীন লৌহ-শৃঙ্খলকে এমনভাবে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল যা আর জোড়া লাগানো যায়নি। সামন্তপ্রথা ও দাসত্বের শেষ অবশেষ মুছে গিয়েছিল। ১৮৪৮-এর রক্তস্নাত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই পরবর্তী দুই দশকের মধ্যে ইতালি ও জার্মানির ঐতিহাসিক জাতীয় ঐক্য সম্পন্ন হয়েছিল।
PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)
ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ, SAQ , ২ নম্বরের প্রশ্ন, ৪ নম্বরের প্রশ্ন, ৮ নম্বরের প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232
১) নবম শ্রেণির ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায় – ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত (Only for Subscribers)
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সকল বিষয়ের MCQ প্রশ্নের মক টেস্ট প্রদান করতে নিম্নের লিঙ্কটি অনুসরণ করতে হবে
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে।
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে। @ ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি। @ ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।






















