চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র
চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র দ্বাদশ শ্রেণির উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা পরীক্ষা প্রদান করতে চলা শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নগুলি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে তাদের উচ্চমাধ্যমিক বাংলা চতুর্থ সেমিস্টার পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র :
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা (দ্বাদশ শ্রেণি — চতুর্থ সেমিস্টার)
বিষয়: বাংলা (প্রথম ভাষা — বাংলা ‘ক’)
সময়: ২ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৪০
১. গল্প থেকে অনধিক ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫ × ১ = ৫
(ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পে কুসংস্কার, গ্রামীণ মনস্তত্ত্ব এবং বিজ্ঞানচেতনার যে সংঘাত লক্ষ করা যায়, তা নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ করো। (৫)
অথবা
(খ) “হারুণ সালেমের মাসি” গল্প অবলম্বনে মাসি চরিত্রটির জীবনসংগ্রাম ও মানবিক সংবেদনশীলতার পরিচয় দাও। (৫)
২. কবিতা থেকে অনধিক ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫ × ১ = ৫
(ক) “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির” — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবির এই প্রার্থনার মধ্য দিয়ে স্বদেশের জন্য যে মুক্তির রূপরেখা ফুটে উঠেছে, তা আলোচনা করো। (২ + ৩)
অথবা
(খ) জীবনানন্দ দাশের ‘তিমির হননের গান’ কবিতায় সমকালীন অন্ধকারের বিরুদ্ধে যে নতুন সূর্যোদয় ও মানবমুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে, তা সংক্ষেপে লেখো। (৫)
@ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র – WBNOTES.IN
৩. নাটক থেকে অনধিক ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫ × ১ = ৫
(ক) “শিল্পকে যে মানুষ ভালোবেসেছে—তার বার্ধক্য নেই…” — কোন্ নাটকের অংশ? বক্তা কে? এই উক্তির মধ্য দিয়ে নাট্যকারের যে গভীর প্রত্যয় প্রকাশিত হয়েছে, তা আলোচনা করো। (১ + ১ + ৩)
অথবা
(খ) ‘নানা রঙের দিন’ একাঙ্ক নাটকে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিরোমন্থন ও নিঃসঙ্গতার যন্ত্রণা কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, তা পাঠ্য নাটকের সূত্র ধরে লেখো। (৫)
৪. পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ (‘ডাকঘর’) থেকে অনধিক ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫ × ২ = ১০
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র অমলের মুক্তিকামী মানসিকতার পরিচয় দাও। বদ্ধ ঘরের মধ্যে থেকেও সে কীভাবে বিশ্বপ্রকৃতির সাথে একাত্ম হতে চেয়েছে? (২ + ৩)
অথবা
(খ) ‘ডাকঘর’ নাটকে ‘রাজার চিঠি’ ও ‘রাজার ডাকঘর’-এর অন্তর্নিহিত রূপক-তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। (৫)
অথবা
(গ) “আমি রাজার ডাকঘরের হরকরা হব।” — কে, কার কাছে এই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল? এই ইচ্ছার অন্তর্নিহিত অর্থ আলোচনা করো। (২ + ৩)
অথবা
(ঘ) অমলের সঙ্গে দইওয়ালা ও সুধার কথোপকথন কীভাবে অমলের অন্তর্জগৎ ও মানবিক বন্ধনকে তুলে ধরে, তা সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫)
@ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র – WBNOTES.IN
৫. বাংলা শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস থেকে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫ × ১ = ৫
(ক) বাংলা চিত্রকলার ইতিহাসে জামিনী রায়ের নিজস্ব চিত্ররীতির বৈশিষ্ট্য ও অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫)
অথবা
(খ) বাংলা চলচ্চিত্রের ধারায় ঋত্বিক ঘটক কিংবা মৃণাল সেনের যেকোনো একজনের স্বকীয় অবদান মূল্যায়ন করো। (৫)
৬. অনধিক ৩০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: ১০ × ১ = ১০
(ক) প্রদত্ত ভূমিকা বা প্রস্তাবনাকে অবলম্বন করে পূর্ণাঙ্গ প্রবন্ধ রচনা করো:
বিষয়: সাহিত্যে সমাজবাস্তবতা
“সাহিত্য কেবল লেখকের কল্পনা নয়, তা সমকালের ইতিহাস ও সামাজিক স্পন্দনের সজীব দলিল। সমাজ ও মানুষের সুখ-দুঃখের দ্বন্দ্ব থেকেই সাহিত্যের যথার্থ প্রাণশক্তি তৈরি হয়।”
[এই প্রস্তাবনাটিকে সূত্র হিসেবে ধরে বিষয়বস্তুর গভীরে প্রবেশ করে যুক্তি ও উদাহরণসহ পূর্ণাঙ্গ রচনাটি গড়ে তোলো।]
অথবা
(খ) প্রদত্ত সূত্র ও তথ্য অবলম্বনে একটি জীবনীমূলক প্রবন্ধ রচনা করো:
বিষয়: সত্যজিৎ রায়
- জন্ম ও বংশপরিচয়: ২ মে, ১৯২১; কলকাতার সুকুমার রায় ও সুপ্রভা দেবীর বিখ্যাত রায় পরিবারে।
- শিক্ষা: বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল, প্রেসিডেন্সি কলেজ (অর্থনীতিতে অনার্স) এবং শান্তিনিকেতনের কলাভবনে শিল্পকলা শিক্ষা।
- কর্মজীবন: বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘ডি জে কিমার’-এ ভিজ্যুয়ালাইজার হিসেবে পেশাগত সূচনা, গ্রন্থচিত্রণ ও বুক কভার ডিজাইন।
- চলচ্চিত্র পরিচালনা: ১৯৫৫ সালে ‘পথের পাঁচালী’ দিয়ে সূচনা; ‘অপরাজিত’, ‘অপুর সংসার’, ‘জলসাঘর’, ‘চারুলতা’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘সোনার কেল্লা’, ‘হীরক রাজার দেশে’ প্রভৃতি কালজয়ী সৃষ্টি।
- সাহিত্য ও সঙ্গীত: ফেলুদা ও প্রফেসর শঙ্কু চরিত্রের স্রষ্টা; সঙ্গীত পরিচালনা ও বাংলা হরফের ক্যালিগ্রাফি নকশা উদ্ভাবন।
- স্বীকৃতি: দেশ-বিদেশের অজস্র পুরস্কার, ভারতরত্ন এবং ১৯৯২ সালে অস্কারের আজীবন সম্মাননা (Lifetime Achievement Award)।
- জীবনাবসান: ২৩ এপ্রিল, ১৯৯২।
@ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র – WBNOTES.IN
প্রশ্নপত্রের পূর্ণাঙ্গ আদর্শ উত্তর ও মূল্যায়ন সংকেতঃ-
১. গল্প
(ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পে কুসংস্কার, গ্রামীণ মনস্তত্ত্ব এবং বিজ্ঞানচেতনার যে সংঘাত লক্ষ করা যায়, তা নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ করো। ৫
ভূমিকা:
বাস্তববাদী কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পটি গ্রামীণ সমাজের অবচেতন মন, ভূত-প্রেত কেন্দ্রিক সংস্কার এবং কার্যকারণভিত্তিক বাস্তবতার দ্বন্দ্বের ওপর গড়ে উঠেছে।
গ্রামীণ মনস্তত্ত্ব ও কুসংস্কার:
গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মনে শতাব্দীপ্রাচীন লোকবিশ্বাস, ডাইনি-ভূত এবং অশরীরী শক্তির ভয় গভীরভাবে প্রোথিত। অসুস্থতা, ফসলের ক্ষতি বা আকস্মিক মানসিক বিভ্রান্তিকে যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা না করে তারা প্রায়শই অলৌকিক অভিশাপ বা প্রেতাত্মার দৃষ্টি বলে মনে করে। ‘হলুদ পোড়া’র মতো তুকতাক ও গুণিন-তান্ত্রিকের বিধানে আস্থা রাখা সেই পশ্চাৎপদ মনস্তত্ত্বের বহিঃপ্রকাশ। অন্ধবিশ্বাস তাদের কাছে এক সহজ মনস্তাত্ত্বিক আশ্রয়, যেখানে যুক্তি খাটিয়ে সত্য অনুসন্ধানের শ্রম থাকে না।
বিজ্ঞানচেতনা ও সংঘাত:
গল্পে বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির আগমনে এই বিশ্বাসের ভিত্তিমূল কেঁপে ওঠে। লেখক দেখিয়েছেন, মানুষের যে-কোনো শারীরিক বা মানসিক পরিবর্তন প্রকৃতিবিরুদ্ধ নয়, বরং তার পেছনে রয়েছে সুস্পষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরবৃত্তীয় কারণ। ভয় ও অজ্ঞানতাই অলৌকিকত্ব তৈরি করে; আলোর স্পর্শ পেলে ভূতের অস্তিত্ব মিলিয়ে যায়।
উপসংহার:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের ভেতরের জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক সত্যকে উন্মোচন করে অন্ধ সংস্কারের মুখোশ খুলে দিয়েছেন। গল্পটির মূল সুরই হলো—যুক্তির আঘাত ছাড়া গ্রামীণ সমাজের চেতনাকে মুক্ত করা অসম্ভব।
@ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র – WBNOTES.IN
(অথবা) (খ) “হারুণ সালেমের মাসি” গল্প অবলম্বনে মাসি চরিত্রটির জীবনসংগ্রাম ও মানবিক সংবেদনশীলতার পরিচয় দাও। ৫
ভূমিকা:
মহাশ্বেতা দেবীর ‘হারুণ সালেমের মাসি’ গল্পে প্রান্তিক, সর্বহারা শ্রেণির প্রতিদিনের টিকে থাকার লড়াই এবং সেই রুক্ষ বাস্তবের মাঝেও গভীর মাতৃত্ব ও মানবিক ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক হলো ‘মাসি’ চরিত্রটি।
জীবনসংগ্রাম:
মাসি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত স্তরের প্রতিনিধি। তীব্র দারিদ্র্য, জীবিকার অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক অবিচার তার নিত্যসঙ্গী। পেটের ভাত জোগাড় করার জন্য তাকে প্রতিনিয়ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বার্ধক্যের শারীরিক ক্লান্তি সত্ত্বেও সে থেমে থাকে না; বরং সমাজের রক্তচক্ষু ও অবহেলাকে উপেক্ষা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বাঁচার লড়াই চালিয়ে যায়।
মানবিক সংবেদনশীলতা ও বাৎসল্য:
রক্তের সম্পর্কের বাইরেও যে গভীর মানবিক টান গড়ে উঠতে পারে, মাসি তারই প্রমাণ। হারুণ ও সালেমের প্রতি তার স্নেহ কোনো স্বার্থ বা শর্তের ওপর নির্ভরশীল নয়। চরম অনটনের দিনেও সে নিজের মুখের গ্রাস তুলে দেয় ছেলেদের মুখে। তাদের বিপদে আগলে রাখা, স্নেহ-মমতায় ভরিয়ে দেওয়া এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা মাসির চরিত্রকে এক অনন্য মাতৃরূপ দান করেছে।
উপসংহার:
মাসি কেবল একটি চরিত্র নয়, সমাজের নিঃস্ব অথচ মমতাময়ী নারীশক্তির বিশ্বস্ত প্রতিচ্ছবি, যার অন্তরে স্নেহ ও মানবিকতা কখনোই অভাবের কাছে হার মানে না।
@ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র – WBNOTES.IN
২. কবিতা
(ক) “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির” — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবির এই প্রার্থনার মধ্য দিয়ে স্বদেশের জন্য যে মুক্তির রূপরেখা ফুটে উঠেছে, তা আলোচনা করো। (২ + ৩)
উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরাধীন স্বদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের আত্মিক ও বৌদ্ধিক মুক্তির স্বপ্ন দেখেছেন। পরাধীনতার প্রধান গ্লানি হলো অন্তরের ভয় ও দাসসুলভ হীনম্মন্যতা। তাই কবি সর্বাগ্রে এমন এক দেশের প্রার্থনা করেছেন, যেখানে প্রতিটি মানুষ ভীতিহীন চিত্তে শিরদাঁড়া সোজা করে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারবে।
মুক্তির সামগ্রিক রূপরেখা:
মুক্ত জ্ঞান: জ্ঞান যেখানে সংকীর্ণ সামাজিক বিধিনিষেধ বা শ্রেণিগত সুবিধায় আবদ্ধ থাকবে না, সবার জন্য উন্মুক্ত হবে।
বিশ্বভ্রাতৃত্ব: যেখানে দেশ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আঞ্চলিকতা, জাতিভেদ ও সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার “গৃহপ্রাচীর” দিয়ে খণ্ডবিখণ্ড হবে না।
সত্যের সাধনা: মানুষের ভাষা হবে আন্তরিক, যা হৃদয়ের গভীর অন্তস্তল থেকে উৎসারিত হবে।
যুক্তিবোধ: অতীতের মৃত আচারের বালুরাশির মধ্যে যাতে বিচারবুদ্ধির নির্মল স্রোত হারিয়ে না যায়; অন্ধ কুসংস্কারের বদলে বৈজ্ঞানিক যুক্তি হবে জীবনের ভিত্তি।
অনন্ত কর্মপ্রয়াস: ক্লান্তিহীন প্রয়াস মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাবে নিখুঁত ও পরিপূর্ণ আদর্শের দিকে।
(অথবা) (খ) জীবনানন্দ দাশের ‘তিমির হননের গান’ কবিতায় সমকালীন অন্ধকারের বিরুদ্ধে যে নতুন সূর্যোদয় ও মানবমুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে, তা সংক্ষেপে লেখো। ৫
ভূমিকা:
যুদ্ধোত্তর পৃথিবীর ক্ষয়িষ্ণুতা, মূল্যবোধের সংকট এবং সার্বিক হতাশার প্রেক্ষাপটে রচিত জীবনানন্দ দাশের ‘তিমির হননের গান’ অন্ধকার বিনাশের এক অমোঘ সংকল্প।
তিমির বা অন্ধকারের স্বরূপ:
কবি যে সময়টির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, মহামারী ও মানবিক শূন্যতার যুগ। লোভ, শোষণ ও হিংসায় সমাজ তখন পথভ্রষ্ট। কবি এই অবক্ষয়িত বাস্তবতাকে গভীর ‘তিমির’ বা আধ্যাত্মিক অন্ধকারের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সূর্যোদয় ও মানবমুক্তির আশাবাদ:
তবে জীবনানন্দ কেবল ক্লান্তির কবি নন; এই কবিতায় তিনি বিপ্লব ও পুনরুজ্জীবনের জয়গান গেয়েছেন:
তিনি বিশ্বাস করেন, ইতিহাসের রক্তক্ষয়ী অন্ধকারের মধ্যেও মানুষের ভেতরের আলো নিঃশেষিত হয়ে যায়নি।
তিমির বা রাত্রির এই বুক চিরে অবশেষে জ্ঞানের ও সত্যের ‘নতুন সূর্যোদয়’ ঘটবে।
কবি আহ্বান জানান সকল ক্লান্ত, বিভ্রান্ত মানুষকে সম্মিলিত শক্তিতে অন্ধকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে।
উপসংহার:
যাবতীয় ক্লান্তি ও হতাশার অবসান ঘটিয়ে এক সাম্যবাদী, আলোকিত মানবিক ভোরের আগমন ঘটবে—এটাই কবিতাটির মূল আশাবাদ ও জীবনদর্শনের নির্যাস।
@ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র – WBNOTES.IN
৩. নাটক
(ক) “শিল্পকে যে মানুষ ভালোবেসেছে—তার বার্ধক্য নেই…” — বক্তা কে? এই উক্তির মধ্য দিয়ে নাট্যকারের যে গভীর প্রত্যয় প্রকাশিত হয়েছে, তা আলোচনা করো। (২+ ৩)
নাটক ও বক্তার পরিচয়:
অংশটি নাট্যকার অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’ একাঙ্ক নাটক থেকে গৃহীত।
বক্তা হলেন নাটকের প্রধান চরিত্র, বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়।
উক্তির অন্তর্নিহিত প্রত্যয়:
রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় তাঁর ৬৮ বছরের জীবনে যৌবন, প্রণয় ও পারিবারিক সুখ বিসর্জন দিয়ে থিয়েটারের মঞ্চকেই জীবনের একমাত্র আশ্রয় করেছিলেন। জীবনের সায়াহ্নে এসে ফাঁকা পেক্ষাগৃহের অন্ধকারে যখন তিনি একাকী দাঁড়িয়ে মৃত্যুর পদধ্বনি শুনছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর মনে জেগে ওঠে এই গভীর সত্যোপলব্ধি:
শারীরিক বয়স ও জরা মানুষের দেহকে আক্রমণ করতে পারে, কিন্তু সৃজনশীল শিল্পীকে স্পর্শ করতে পারে না।
শিল্পীর রক্তে যখন অভিনয়ের আবেগ, কণ্ঠের ধার এবং সৃষ্টির উন্মাদনা বহমান থাকে, তখন ক্যালেন্ডারের দিন-ক্ষণ মূল্যহীন হয়ে পড়ে।
নাট্যকার অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রজনীকান্তের মুখ দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন—শিল্প অমর, শাশ্বত। যে মানুষ আন্তরিকভাবে শিল্পকে ভালোবেসেছে, সে বয়সের ঊর্ধ্বে উঠে চিরনবীন থেকে যায়।
@ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র – WBNOTES.IN
(অথবা) (খ) ‘নানা রঙের দিন’ একাঙ্ক নাটকে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিরোমন্থন ও নিঃসঙ্গতার যন্ত্রণা কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, তা পাঠ্য নাটকের সূত্র ধরে লেখো। ৫
ভূমিকা:
অ্যান্টন চেখভের ‘সোয়ান সং’ অবলম্বনে রচিত ‘নানা রঙের দিন’ মূলত এক নিঃসঙ্গ অভিনেতার জীবনের অস্তরাগের অন্তর্বেদনা।
স্মৃতিরোমন্থন:
জনহীন প্রেক্ষাগৃহে মদ্যপ অবস্থায় ফেলে আসা জীবনের কথা মনে করেন রজনী। একসময় তাঁর রূপ, কণ্ঠ ও অভিনয়ে মুগ্ধ হতো দর্শক; মঞ্চ কাঁপিয়ে তিনি দর্শকদের উল্লাসে ভাসাতেন। তাঁর স্মৃতিতে ভেসে ওঠে সেই সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েটির কথা, যে তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে ভালোবাসলেও বিয়ের শর্ত হিসেবে থিয়েটার ছাড়তে বলেছিল। শিল্পের ভালোবাসায় রজনীকান্ত সেই ভালোবাসার শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
নিঃসঙ্গতার যন্ত্রণা:
স্মৃতির আনন্দের পরেই নেমে আসে রূঢ় বাস্তব:
নাটকের সফল সমাপ্তির পর করতালি থেমে যায়, দর্শকরা বাড়ি ফিরে যায়; অভিনেতা পড়ে থাকেন সম্পূর্ণ একা।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে রজনীকান্ত উপলব্ধি করেন তাঁর কোনো সংসার নেই, স্বজন নেই, এমনকি ঘরে ফিরে কুশল সংবাদ নেওয়ার মতো কেউ নেই।
থিয়েটারের সাজঘরে প্রম্পটার কালীনাথের সামনে দাঁড়িয়ে রজনী নিজের একাকীত্বকে উন্মোচন করেন—তিনি বুঝতে পারেন যে, অভিনেতা আসলে সমাজের কাছে নিতান্তই এক মনোরঞ্জনকারী পুতুল ছাড়া আর কিছু নয়।
৪. পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ (‘ডাকঘর’)
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র অমলের মুক্তিকামী মানসিকতার পরিচয় দাও। বদ্ধ ঘরের মধ্যে থেকেও সে কীভাবে বিশ্বপ্রকৃতির সাথে একাত্ম হতে চেয়েছে? (২ + ৩)
অমলের মুক্তিকামী মানসিকতা:
অমল এক চিরন্তন মুক্তির প্রতীক। অনাথ বালকটি কবিরাজ মহাশয়ের নির্দেশে অসুস্থতার কারণে চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি। কিন্তু তার মনকে কোনো প্রাচীর দিয়ে আটকে রাখা যায় না। তার সত্তা সীমার বাঁধন ভেঙে অসীমের পানে ধাবিত হতে চায়। অদেখা জগতের প্রতি তার এক অতৃপ্ত কৌতূহল ও ব্যাকুল টান রয়েছে।
বিশ্বপ্রকৃতির সাথে একাত্মতা:
জানলার সংযোগ: বদ্ধ ঘরের জানলাটিই অমলের কাছে বিশ্বের প্রবেশদ্বার। সেখানে বসেই সে বাইরের পথিক, পশুপাখি ও আকাশের মেঘের সঙ্গে আত্মীয়তা পাতে।
পথের টান: মাধব দত্তের সঞ্চিত সম্পদের চেয়ে পথের ধুলোবালি ও অবাধ চলাচলের দৃশ্য তাকে বেশি টানে। সে পাহাড় পার হয়ে চলে যাওয়া অবারিত দূর দেশের কল্পনা করে।
অন্যের জীবনের শরিক হওয়া: অমল দইওয়ালার শ্যামলী নদীর ধারের গ্রাম, মালিনীর মেয়ে সুধার ফুলের বন কিংবা চাষিদের ক্ষেতে যাওয়ার রূপকল্পের মাঝে নিজেকে ছড়িয়ে দেয়। তার শরীর ঘরে আটকা থাকলেও, চেতনা ছড়িয়ে থাকে অনন্ত বিশ্বচরাচরে।
@ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র – WBNOTES.IN
(অথবা) (খ) ‘ডাকঘর’ নাটকে ‘রাজার চিঠি’ ও ‘রাজার ডাকঘর’-এর অন্তর্নিহিত রূপক-তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। ৫
ভূমিকা:
রবীন্দ্রনাথের ‘ডাকঘর’ একটি বিশিষ্ট রূপক-সাংকেতিক নাটক। এখানে রাজা, ডাকঘর এবং চিঠি কোনো পার্থিব বিষয় নয়; এরা গভীর আধ্যাত্মিক চেতনার দ্যোতক।
রাজার ডাকঘরের রূপক-তাৎপর্য:
নাটকে অমলের ঘরের সামনে তৈরি হওয়া নতুন বাড়িটি হলো ‘রাজার ডাকঘর’। রবীন্দ্রনাথের দর্শনে বিশ্বপ্রকৃতিই হলো ঈশ্বরের বা পরমাত্মার ডাকঘর। আকাশ, বাতাস, ঋতুর পরিবর্তন—সবকিছুর মধ্য দিয়ে পরম পিতার আহ্বান প্রতিনিয়ত মানবচেতনায় এসে পৌঁছায়। অমল সেই পবিত্র বার্তার অপেক্ষায় থাকে।
রাজার চিঠির তাৎপর্য:
‘রাজার চিঠি’ হলো পার্থিব জীবনের বন্ধন থেকে মুক্তির আহ্বান বা মহাজীবনের আমন্ত্রণপত্র।
প্রচলিত অর্থে মৃত্যু যেখানে ভীতিকর এক পরিসমাপ্তি, রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে তা হলো পার্থিব সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে পরমেশ্বরের অনন্ত আনন্দলোকে উত্তরণ।
অমল সেই চিঠির প্রতীক্ষায় প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করে। পরিশেষে রাজার দূত ও চিকিৎসকের আগমনের মধ্য দিয়ে অমল পার্থিব ব্যাধি ও সংকীর্ণতা অতিক্রম করে পরম শান্তির ঘুমে নিমগ্ন হয়।
(অথবা) (গ) “আমি রাজার ডাকঘরের হরকরা হব।” — কে, কার কাছে এই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল? এই ইচ্ছার অন্তর্নিহিত অর্থ আলোচনা করো। (২ + ৩)
বক্তা ও শ্রোতার পরিচয়:
উদ্ধৃত উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র অমল তার পালক পিতা মাধব দত্ত-এর কাছে প্রকাশ করেছিল।
ইচ্ছার অন্তর্নিহিত অর্থ:
মাধব দত্ত চেয়েছিলেন অমল লেখাপড়া শিখে পণ্ডিত হোক, অর্থোপার্জন করুক এবং সামাজিক প্রতিপত্তি লাভ করুক। কিন্তু অমলের কাছে অর্থ বা পদমর্যাদার কোনো মূল্য ছিল না। সে চেয়েছিল ‘হরকরা’ বা ডাকপিয়ন হতে, কারণ:
হরকরা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বন্দি থাকে না; সে কাঁধে ঝোলা ঝুলিয়ে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে, বনে-পাহাড়ে অবাধে ঘুরে বেড়ায়।
হরকরা মানুষের ঘরে ঘরে মিলনের বার্তা, আনন্দের খবর পৌঁছে দেয়।
অমল আসলে বিশ্বমানবের সঙ্গে ঈশ্বরের মিলনের দূত হতে চায়। নিজের অন্তরের স্বাধীনতাকে উদযাপনের জন্যই সে সামাজিক স্থিতাবস্থার বদলে নিরন্তর গতিশীল হরকরার জীবন কামনা করেছিল।
@ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র – WBNOTES.IN
(অথবা) (ঘ) অমলের সঙ্গে দইওয়ালা ও সুধার কথোপকথন কীভাবে অমলের অন্তর্জগৎ ও মানবিক বন্ধনকে তুলে ধরে, তা সংক্ষেপে আলোচনা করো। ৫
ভূমিকা:
অমলের সারল্য ও নিষ্কলুষ ভালোবাসা তার জানলার সামনে দিয়ে যাওয়া প্রতিটি অচেনা মানুষকে এক গভীর মানবিক বন্ধনে আবদ্ধ করেছিল। দইওয়ালা ও সুধার সাথে তার কথোপকথন এর উজ্জ্বল প্রমাণ।
দইওয়ালার সাথে কথোপকথন:
দইওয়ালা পেশাদার ব্যবসায়ী, সে পথ দিয়ে যাচ্ছিল দই বিক্রির হাঁক দিয়ে। অমল তাকে ডেকে দইয়ের স্বাদের চেয়েও বেশি জানতে চাইল তার গ্রামের রূপ—শ্যামলী নদীর ধার, পাহাড়ের তলা, কাশফুল আর লাল মাটির কথা। অমলের শিশুর মতো নিবিড় কৌতুহলে রুক্ষ ব্যবসায়ী দইওয়ালার ভেতরের সহৃদয় মানুষটি জেগে ওঠে। সে অমলকে বিনা পয়সায় দই খাওয়াতে চায় এবং তার প্রতি এক অদ্ভুত স্নেহ অনুভব করে।
সুধার সাথে কথোপকথন:
সুধা মালা গাঁথার জন্য ফুল তুলতে যাচ্ছিল। অমল তার কাছে আবদার জানায়, ফিরে আসার পথে যেন সে তার সঙ্গে দেখা করে যায়। সুধা অমলকে প্রতিশ্রুতি দেয়। নাটকের শেষে যখন অমল শান্তিতে চোখ বুজেছে, তখন সুধাই ফিরে এসে রাজার কবিরাজকে বলে—“অমলকে বোলো সুধা তাকে ভোলেনি।”
উপসংহার:
এই কথোপকথনগুলি প্রমাণ করে অমলের কাছে জীবনের প্রধান সত্য ছিল স্নেহ, প্রীতি ও নিষ্কাম ভালোবাসা—যা মানুষের হৃদয়ের বন্ধনকে চিরন্তন রূপ দেয়।
@ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র – WBNOTES.IN
৫. বাংলা শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস
(ক) বাংলা চিত্রকলার ইতিহাসে জামিনী রায়ের নিজস্ব চিত্ররীতির বৈশিষ্ট্য ও অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। ৫
ভূমিকা:
পাশ্চাত্য অ্যাকাডেমিক শৈলী এবং নব্য-বঙ্গীয় ধারার অনুকরণের বাইরে গিয়ে বিশুদ্ধ ভারতীয় ও দেশজ লোকশিল্পের আশ্রয়ে আধুনিক চিত্রকলার রূপদান করেছিলেন শিল্পী জামিনী রায় (১৮৮৭–১৯৭২)।
চিত্ররীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য:
১. পটশিল্পের প্রভাব: বাংলার বাঁকুড়া ও মেদিনীপুরের গ্রামীণ পটশিল্প এবং মাটির খেলনার সারল্যকে তিনি তাঁর ছবির প্রধান ভিত্তি করেছিলেন।
২. দৃঢ় ও সাবলীল রেখা: তুলির বলিষ্ঠ, টানা এবং ছন্দোময় রেখাচিত্র ছিল তাঁর ছবির অন্যতম প্রাণ। তিনি সূক্ষ্ম খুঁটিনাটির বদলে অবয়বের মূল কাঠামোকে স্পষ্ট রূপ দিতেন।
৩. দেশজ রঙের ব্যবহার: রাসায়নিক রঙের বদলে তিনি গাছপালার নির্যাস, গিরিমাটি, খড়িমাটি, ভূষা কালি ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি দেশজ চুন ও মেটে রঙের গাঢ় প্রলেপ ব্যবহার করতেন।
৪. বিষয়বৈচিত্র্য: সাঁওতাল নারী, মা ও শিশু, গোপিনী, বাউল, রাধাকৃষ্ণ এবং যিশুখ্রিস্টের ভারতীয় রূপ ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য অঙ্কন বিষয়।
অবদান:
জামিনী রায় চিত্রশিল্পকে মধ্যবিত্তের নাগালে আনতে ছবির বহুল প্রতিলিপিকরণ করেছিলেন। তিনি লোকায়ত চেতনাকে আধুনিক শিল্পভাষার বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করে যান।
(অথবা) (খ) বাংলা চলচ্চিত্রের মৃণাল সেনের যেকোনো একজনের স্বকীয় অবদান মূল্যায়ন করো। ৫
ভূমিকা:
বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সমাজসচেতন, রাজনৈতিক ও নিরীক্ষাধর্মী চলচ্চিত্রের পথপ্রদর্শক হলেন মৃণাল সেন (১৯২৩–২০১৮)। তিনি ভারতীয় সমান্তরাল সিনেমার এক অবিসংবাদিত কাণ্ডারি।
প্রধান অবদানসমূহ:
১. নবতরঙ্গ সিনেমার সূচনা: ১৯৬৯ সালে নির্মিত তাঁর হিন্দি ছবি ‘ভুবন সোম’ ভারতীয় চলচ্চিত্রে ‘নিউ ওয়েভ’ বা নবতরঙ্গ ধারার আনুষ্ঠানিক সূচনা করে। এতে তৎকালীন সমাজবাস্তবতা ও ব্যঙ্গের নিপুণ রূপ দেখা যায়।
২. কলকাতা ত্রয়ী ও রাজনৈতিক চেতনা: সত্তরের দশকের উত্তাল কলকাতার রাজনৈতিক অস্থিরতা, বেকারত্ব ও যুবসমাজের ক্ষোভকে তিনি ক্যামেরা বন্দি করেন ‘ইন্টারভিউ’ (১৯৭১), ‘ক্যালকাটা ৭১’ (১৯৭২) এবং ‘পদাতিক’ (১৯৭৩) ছবিতে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভণ্ডামি ও আপসকামিতাকে তিনি তীব্রভাবে আঘাত করেন।
৩. ফর্ম ও আঙ্গিক নিয়ে নিরীক্ষা: জাম্প-কাট, ফ্রিজ ফ্রেম, চরিত্রের সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে কথা বলা (ব্রেখটীয় নাট্যরীতি) প্রভৃতি আধুনিক সিনেমাটিক ভাষার সফল প্রয়োগ তিনি দেখিয়েছেন।
৪. মানবিক সংকট ও অনুশোচনা: ‘খারিজ’, ‘একদিন প্রতিদিন’ কিংবা ‘খণ্ডহর’-এর মতো চলচ্চিত্রে তিনি পারিবারিক বন্ধন ও মধ্যবিত্ত সমাজের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন উন্মোচন করেছেন।
উপসংহার:
কান, বার্লিন, ভেনিস সহ বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত মৃণাল সেন চলচ্চিত্রকে কেবল বিনোদন নয়, সামাজিক প্রতিবাদের ধারালো মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে অমর হয়ে আছেন।
@ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র – WBNOTES.IN
৬. প্রবন্ধ রচনা
(ক) প্রদত্ত ভূমিকা বা প্রস্তাবনাকে অবলম্বন করে পূর্ণাঙ্গ প্রবন্ধ রচনা: ১০
বিষয়: সাহিত্যে সমাজবাস্তবতা
“সাহিত্য কেবল লেখকের কল্পনা নয়, তা সমকালের ইতিহাস ও সামাজিক স্পন্দনের সজীব দলিল। সমাজ ও মানুষের সুখ-দুঃখের দ্বন্দ্ব থেকেই সাহিত্যের যথার্থ প্রাণশক্তি তৈরি হয়।”
১. ভূমিকা:
‘সাহিত্য’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘হিতের সহিত’ অর্থাৎ সম্মিলন। এই সম্মিলন মানুষে-মানুষে, ব্যক্তিতে-সমাজে। কোনো সাহিত্যিকই শূন্যে বাস করেন না; তিনি যে সমাজে শ্বাস নেন, সেখানকার আলো-বাতাস, আনন্দ-বেদনা, শোষণ ও সংগ্রাম তাঁর কলমের কালিকে সিক্ত করে। তাই সাহিত্যকে বলা হয় সমাজের দর্পণ বা সমকালের সচেতন বিবেক।
২. সমাজ ও সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক:
সমাজদেহ থেকে রসদ সংগ্রহ করেই সাহিত্য মহীরুহে পরিণত হয়। রাজনৈতিক বিপ্লব, অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক রীতিনীতির পরিবর্তন সাহিত্যের গতিপথ নির্ধারণ করে। প্রাচীনকালে রাজসভা বা দেবদেবীকেন্দ্রিক সাহিত্য রচিত হলেও সময়ের নিয়মে সেখানে প্রবেশ করেছে সাধারণ ব্রাত্য মানুষ। মঙ্গলকাব্যের ফুল্লরার বারোমাস্যা থেকে শুরু করে আধুনিক উপন্যাসের মজুর-কৃষকের জীবন—সমাজবাস্তবতাই সাহিত্যকে ধূলিমাটির স্পর্শ দিয়েছে।
৩. বাংলা সাহিত্যে বাস্তবতাবোধের বিবর্তন:
ঊনবিংশ শতকের নবজাগরণের আলোয় বঙ্কিমচন্দ্র ও মাইকেলের হাতে যে আধুনিকতার সূচনা, তা বিশ শতকে এসে পূর্ণ বাস্তবতার রূপ নেয়:
শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে তৎকালীন সমাজব্যবস্থার অচলায়তন, জাতপাত ও নারীর নিগ্রহ বাস্তব হয়ে উঠেছে।
কল্লোল যুগের লেখকরা (প্রেমেন্দ্র মিত্র, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত প্রমুখ) সমাজের নিম্নবর্গীয় কয়লাকুঠির কুলি ও বস্তিবাসীদের সাহিত্যের আঙিনায় নিয়ে আসেন।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাঢ়ের সমাজ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি’র জেলেজীবন এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশ্চিন্দিপুরের দারিদ্র্যপীড়িত রূপ সমাজবাস্তবতারই উজ্জ্বল স্বাক্ষর।
৪. কল্পনা বনাম বাস্তবতা:
সাহিত্যে কল্পনা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু ভিত্তিহীন অলীক কল্পনা সাহিত্যকে স্থায়িত্ব দিতে পারে না। বাস্তবতার মাটিতে কল্পনার সুরভি মেশালে তবেই তা কালজয়ী রূপ পায়। যে সাহিত্য সমকালের জ্বলন্ত প্রশ্নগুলিকে এড়িয়ে কেবল কল্পনার বিলাসিতায় মগ্ন থাকে, তা ক্ষণস্থায়ী বুদবুদের মতোই মিলিয়ে যায়।
৫. উপসংহার:
সাহিত্য শুধু অতীতের ইতিহাস নয়, তা ভবিষ্যতের আশার দলিল। লেখকের দায়িত্ব সমাজকে অবিকল তুলে ধরার পাশাপাশি মানবমুক্তির পথ নির্দেশ করা। সমকালের স্পন্দনকে ধারণ করেই সাহিত্য সার্বজনীন ও শাশ্বত হয়ে ওঠে।
@ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা প্রশ্নপত্র – WBNOTES.IN
(অথবা) (খ) প্রদত্ত সূত্র ও তথ্য অবলম্বনে একটি জীবনীমূলক প্রবন্ধ রচনা: ১০
বিষয়: সত্যজিৎ রায়: এক বিশ্বপথিক প্রতিভা
১. ভূমিকা:
বাঙালি সংস্কৃতির নবজাগরণজাত আধুনিক মনন ও বিশ্বমানের সৃজনশীলতার এক অনন্য মিলন ঘটেছিল যে ব্যক্তিসত্তায়, তিনি সত্যজিৎ রায়। চলচ্চিত্রকার, সাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী ও সঙ্গীতস্রষ্টা—প্রতিটি ভূমিকাতেই তিনি বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে শীর্ষাসনে পৌঁছে দিয়েছেন।
২. জন্ম ও পারিবারিক ঐতিহ্য:
সত্যজিৎ রায় ১৯২১ সালের ২ মে কলকাতার সুবিখ্যাত রায় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন শিশুসাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম স্রষ্টা সুকুমার রায় এবং মাতা সুপ্রভা দেবী। পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর বহুমুখী শিল্পপ্রতিভা উত্তরাধিকারসূত্রে তাঁর রক্তে প্রবাহিত ছিল। শৈশবেই পিতৃহীন হলেও মায়ের অদম্য স্নেহে তিনি সাহিত্য ও শিল্পানুরাগের আবহে বড় হয়ে ওঠেন।
৩. শিক্ষা ও প্রারম্ভিক কর্মজীবন:
বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ করে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে সাম্মানিক স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনের কলাভবনে গিয়ে নন্দলাল বসু ও বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্যে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের চারুকলার পাঠ নেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ব্রিটিশ বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘ডি জে কিমার’-এ জুনিয়ার ভিজ্যুয়ালাইজার হিসেবে যোগ দেন। পাশাপাশি সিগনেট প্রেসের বইয়ের প্রচ্ছদ ও চিত্রাঙ্কনে তিনি নতুন ঘরানার জন্ম দেন।
৪. চলচ্চিত্র নির্মাণ ও যুগান্তকারী সাফল্য:
১৯৫৫ সালে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে তিনি নির্মাণ করেন তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালী’। অপেশাদার অভিনেতা ও সীমিত সাধ্যের মাঝে নির্মিত এই ছবি কানের মতো বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত হয়ে বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ‘অপরাজিত’ ও ‘অপুর সংসার’ যুক্ত হয়ে নির্মিত হয় বিশ্বখ্যাত ‘অপু ত্রয়ী’। তাঁর পরিচালিত ‘জলসাঘর’, ‘চারুলতা’, ‘দেবী’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’, ‘সোনার কেল্লা’ কিংবা ‘হীরক রাজার দেশে’ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একেকটি মাইলফলক।
৫. সাহিত্য ও বহুমুখী প্রতিভা:
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি শিশু-কিশোর সাহিত্যে তিনি ইতিহাস গড়েছেন। গোয়েন্দা ‘ফেলুদা’ ও বৈজ্ঞানিক ‘প্রফেসর শঙ্কু’ চরিত্র দুটি আজও বাঙালি পাঠকের কাছে তুলনাহীন। ‘সন্দেশ’ পত্রিকার নবপর্যায়ের সম্পাদনা, নিজের ছবির চিত্রনাট্য রচনা, ক্যামেরা পরিচালনা, আবহ সঙ্গীত সৃষ্টি এবং বাংলা ফন্ট ক্যালিগ্রাফির আধুনিকায়ন—সবখানেই ছিল তাঁর স্বকীয় স্বাক্ষর।
৬. স্বীকৃতি ও জীবনাবসান:
অজস্র জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারের পাশাপাশি তিনি ভূষিত হন ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মান ‘লেজিওঁ দ্য নর’ এবং ভারতের ‘ভারতরত্ন’-এ। মৃত্যুর অল্প কিছুদিন পূর্বে ১৯৯২ সালে একাডেমি অব মোশন পিকচার্স তাঁকে আজীবন অবদানের জন্য সম্মানজনক ‘অস্কার’ (Lifetime Achievement Oscar) প্রদান করে। অবশেষে ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল এই বিশ্ববরেণ্য স্রষ্টার জীবনাবসান ঘটে। নিজের অবিস্মরণীয় সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বসংস্কৃতির আঙিনায় চিরভাস্বর হয়ে আছেন।
PDF DOWNLOAD LINK (ONLY FOR SUBSCRIBERS)
দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর (নোট) দেখতে নিম্নের লিঙ্কটি অনুসরণ করতে হবে
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে।
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে। @ ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি। @ ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।























