Class Ten History Question Paper (90 Marks)
Class Ten History Question Paper (90 Marks) দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই দশম শ্রেণির ইতিহাস প্রশ্নপত্র বা Class Ten History Model Question Paper অনুশীলনের মধ্য দিয়ে তাদের দশম শ্রেণির মাধ্যমিক ইতিহাস (Class Ten Madhyamik History) পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
Class Ten History Question Paper (90 Marks) :
মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষা
বিষয়: ইতিহাস
শ্রেণি: দশম, পূর্ণমান: ৯০
সময়: ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট (প্রথম ১৫ মিনিট প্রশ্ন পড়ার জন্য)
বিভাগ ‘ক’
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো: ১ × ২০ = ২০
১.১ ভারতে ফুটবলের জনক বলা হয়—
(ক) নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী
(খ) গোষ্ঠ পাল
(গ) সুকুমার সেন
(ঘ) বীরেন মুখোপাধ্যায়
১.২ ‘সোমপ্রকাশ’ ছিল একটি—
(ক) দৈনিক পত্রিকা
(খ) সাপ্তাহিক পত্রিকা
(গ) পাক্ষিক পত্রিকা
(ঘ) মাসিক পত্রিকা
১.৩ কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়—
(ক) ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে
১.৪ নববিধান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—
(ক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) কেশবচন্দ্র সেন
(গ) শিবনাথ শাস্ত্রী
(ঘ) রামমোহন রায়
১.৫ চুয়ার বিদ্রোহের প্রথম পর্বের নেতৃত্ব দেন—
(ক) জগন্নাথ সিংহ
(খ) দুর্জন সিংহ
(গ) শ্যাম গঞ্জাম
(ঘ) গঙ্গা নারায়ণ
১.৬ সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫-৫৬ খ্রি.) সংঘটিত হয়েছিল মূলত—
(ক) রাঁচিতে
(খ) দামিন-ই-কো অঞ্চলে
(গ) ছোটনাগপুরে
(ঘ) মেদিনীপুরে
১.৭ ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হল—
(ক) ভারত সভা
(খ) বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা
(গ) জমিদার সভা
(ঘ) জাতীয় কংগ্রেস
১.৮ ‘ভারতমাতা’ চিত্রটি এঁকেছিলেন—
(ক) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(ঘ) নন্দলাল বসু
১.৯ ভারতে হাফটোন প্রিন্টিং পদ্ধতি প্রবর্তন করেন—
(ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
(খ) সুকুমার রায়
(গ) চার্লস উইলকিন্স
(ঘ) পঞ্চানন কর্মকার
১.১০ বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন—
(ক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
১.১১ নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—
(ক) ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে
১.১২ একা বা একতা আন্দোলনের নেতা ছিলেন—
(ক) বাবা রামচন্দ্র
(খ) মাদারি পাসি
(গ) সহজানন্দ সরস্বতী
(ঘ) আল্লুরি সীতারাম রাজু
১.১৩ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ স্থাপন করেন—
(ক) সরলাদেবী চৌধুরানী
(খ) মাতঙ্গিনী হাজরা
(গ) লীলা নাগ
(ঘ) বাসন্তী দেবী
১.১৪ কার্লাইল সার্কুলার জারি করা হয়—
(ক) ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে
১.১৫ ‘দীপালি সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—
(ক) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
(খ) কল্পনা দত্ত
(গ) লীলা নাগ (রায়)
(ঘ) বীণা দাস
১.১৬ মতুয়া মহাসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন—
(ক) হরিচাঁদ ঠাকুর
(খ) গুরুচাঁদ ঠাকুর
(গ) প্রমথরঞ্জন ঠাকুর
(ঘ) বীণাপানি দেবী
১.১৭ দলিতদের প্রথম ‘হরিজন’ আখ্যা দিয়েছিলেন—
(ক) ড. বি. আর. আম্বেদকর
(খ) মহাত্মা গান্ধী
(গ) জ্যোতিরাও ফুলে
(ঘ) শ্রীনারায়ণ গুরু
১.১৮ দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন—
(ক) জওহরলাল নেহরু
(খ) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
(গ) মৌলানা আজাদ
(ঘ) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
১.১৯ ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’ গ্রন্থটি লিখেছেন—
(ক) খুশবন্ত সিং
(খ) সলমন রুশদি
(গ) সাদত হাসান মান্টো
(ঘ) অমৃতা প্রীতম
১.২০ রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাস হয়—
(ক) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে
@ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
বিভাগ ‘খ’
২. যেকোনো ১৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক): ১ × ১৬ = ১৬
উপবিভাগ ২.১: একটি বাক্যে উত্তর দাওঃ
১. ‘জীবনস্মৃতি’ কার আত্মজীবনী?
২. ভারতের প্রথম মহিলা স্নাতক কে কে ছিলেন?
৩. বাঁশের কেল্লা কে নির্মাণ করেছিলেন?
৪. ‘ইন্ডিয়ান লীগ’ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উপবিভাগ ২.২: ঠিক বা ভুল নির্ণয় করো
১. মেকলে মিনিটসের ফলে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার পথ সুগম হয়।
২. ফরাজি একটি প্রাচীন উপজাতির নাম।
৩. বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন জগদীশচন্দ্র বসু।
৪. রশিদ আলি দিবস পালিত হয়েছিল ১৯৪৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি।
উপবিভাগ ২.৩: ‘ক’ স্তম্ভের সাথে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাওঃ
‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
| (১) ডিরোজিও | (ক) হিন্দু মেলা |
| (২) নবগোপাল মিত্র | (খ) ইয়াং বেঙ্গল |
| (৩) বীরেন্দ্রনাথ শাসমল | (গ) আজাদ হিন্দ ফৌজ |
| (৪) লক্ষ্মী সেহগল | (ঘ) অহিংস অসহযোগ আন্দোলন (মেদিনীপুর) |
উপবিভাগ ২.৪: প্রদত্ত ভারতবর্ষের রেখা মানচিত্রে নিম্নলিখিত স্থানগুলি চিহ্নিত ও নামাঙ্কিত করোঃ
১. নীল বিদ্রোহের একটি কেন্দ্র—নদিয়া
২. মহাবিদ্রোহের অন্যতম কেন্দ্র—মিরাট
৩. ভারতভুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশীয় রাজ্য—জুনাগড়
৪. দেশভাগের পর পুনর্বাসনের অঞ্চল—কলকাতা
উপবিভাগ ২.৫: নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলির সাথে সঠিক ব্যাখ্যাটি নির্বাচন করোঃ
১. বিবৃতি: রামমোহন রায় লর্ড আমহার্স্টকে চিঠি লিখেছিলেন (১৮২৩ খ্রি.)।
ব্যাখ্যা ১: ভারতে সতীদাহ প্রথা বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে।
ব্যাখ্যা ২: ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের আবেদন জানিয়ে।
ব্যাখ্যা ৩: সংস্কৃত শিক্ষার প্রসারে সরকারি অর্থ বরাদ্দের জন্য।
২. বিবৃতি: উনিশ শতকে বাংলার সমাজে ছাপাখানার প্রসার ঘটে।
ব্যাখ্যা ১: ব্রিটিশরা ভারতীয়দের শিক্ষাদান বাধ্যতামূলক করেছিল।
ব্যাখ্যা ২: ভারতীয় গ্রন্থ এবং পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা বিপুল বৃদ্ধি পায়।
ব্যাখ্যা ৩: সাধারণ মানুষ সংবাদপত্র প্রকাশ শুরু করতে চেয়েছিল।
৩. বিবৃতি: গান্ধীজি লবণ আইন ভেঙে আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন।
ব্যাখ্যা ১: লবণ ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় ও সর্বজনীন ব্যবহারের উপাদান।
ব্যাখ্যা ২: ব্রিটিশরা কেবল সমুদ্র উপকূলের মানুষদের ওপর কর বসিয়েছিল।
ব্যাখ্যা ৩: ব্যবসায়ীরা গান্ধীজিকে আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য করেছিল।
৪. বিবৃতি: বিংশ শতকে ভারতে বামপন্থী আন্দোলনের প্রসার ঘটে।
ব্যাখ্যা ১: রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব এবং শ্রমিক-কৃষকদের দুর্দশা এর পটভূমি তৈরি করেছিল।
ব্যাখ্যা ২: ব্রিটিশ সরকার কমিউনিস্টদের সব ধরনের সুবিধা প্রদান করেছিল।
ব্যাখ্যা ৩: জাতীয় কংগ্রেস পুরোপুরি সমাজতন্ত্র গ্রহণ করেছিল।
@ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
বিভাগ ‘গ’
৩. দু-তিনটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যেকোনো ১১টি): ২ × ১১ = ২২
৩.১ নতুন সামাজিক ইতিহাসচর্চা বলতে কী বোঝায়?
৩.২ পরিবেশের ইতিহাসচর্চার দুটি গুরুত্ব উল্লেখ করো।
৩.৩ মেকলে মিনিটস কী?
৩.৪ মধুসূদন গুপ্ত ইতিহাসে স্মরণীয় কেন?
৩.৫ তিতুমিরের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
৩.৬ ঔপনিবেশিক অরণ্য আইনের প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?
৩.৭ ব্যঙ্গচিত্র কীভাবে উনিশ শতকের সামাজিক ও রাজনৈতিক সমালোচনার মাধ্যম হয়ে উঠেছিল?
৩.৮ সভা-সমিতির যুগ কাকে বলে এবং কেন?
৩.৯ জাতীয় শিক্ষা পরিষদ (National Council of Education) কেন ব্যর্থ হয়েছিল?
৩.১০ শ্রীনিকেতন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?
৩.১১ বারদোলি সত্যাগ্রহ কেন শুরু হয়েছিল?
৩.১২ মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা কী?
৩.১৩ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার স্মরণীয় কেন?
৩.১৪ পুনা চুক্তির মূল শর্ত কী ছিল?
৩.১৫ দেশীয় রাজ্যগুলির অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন’ (Instrument of Accession)-এর ভূমিকা কী ছিল?
৩.১৬ উদ্বাস্তু সমস্যা বলতে কী বোঝায়?
@ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
বিভাগ ‘ঘ’
৪. সাত-আটটি বাক্যে উত্তর দাও (প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত একটি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে): ৪ × ৬ = ২৪
উপবিভাগ ঘ.১
৪.১ উনিশ শতকের সমাজ সংস্কারে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান মূল্যায়ন করো।
৪.২ নারীশিক্ষার প্রসারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগ সংক্ষেপে লেখো।
উপবিভাগ ঘ.২
৪.৩ ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব কেমন ছিল?
৪.৪ টিকা লেখো: মহারানীর ঘোষণাপত্র (১৮৫৮)।
উপবিভাগ ঘ.৩
৪.৫ বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার বিকাশে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স’ (IACS)-এর অবদান আলোচনা করো।
৪.৬ একা আন্দোলন বা একতা আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উপবিভাগ ঘ.৪
৪.৭ সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা সংক্ষেপে লেখো।
৪.৮ হায়দ্রাবাদ রাজ্যটি কীভাবে ভারতভুক্ত হয়েছিল?
বিভাগ ‘ঙ’
৫. পনেরো-ষোলোটি বাক্যে যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৮ × ১ = ৮
৫.১ নীল বিদ্রোহ কেন ঘটেছিল? এই বিদ্রোহের চরিত্র ও ফলাফল বিশ্লেষণ করো। (৩ + ৫)
৫.২ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাদর্শন ও শান্তি-নিকেতন ভাবনার মূল বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৪ + ৪)
৫.৩ সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা এবং বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণির অংশগ্রহণের চরিত্র আলোচনা করো। (৪ + ৪)
@ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
উত্তরঃ
বিভাগ ‘ক’ (বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন)
১.১ (ক) নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী
১.২ (খ) সাপ্তাহিক পত্রিকা
১.৩ (গ) ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে
১.৪ (খ) কেশবচন্দ্র সেন
১.৫ (ক) জগন্নাথ সিংহ
১.৬ (খ) দামিন-ই-কো অঞ্চলে
১.৭ (খ) বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা
১.৮ (গ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১.৯ (ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
১.১০ (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১.১১ (খ) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে
১.১২ (খ) মাদারি পাসি
১.১৩ (ক) সরলাদেবী চৌধুরানী
১.১৪ (খ) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
১.১৫ (গ) লীলা নাগ (রায়)
১.১৬ (ক) হরিচাঁদ ঠাকুর
১.১৭ (খ) মহাত্মা গান্ধী
১.১৮ (খ) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
১.১৯ (ক) খুশবন্ত সিং
১.২০ (ঘ) ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে
@ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
বিভাগ ‘খ’ (সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন)
উপবিভাগ ২.১: একটি বাক্যে উত্তর দাও
১. ‘জীবনস্মৃতি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী।
২. ভারতের প্রথম দুই মহিলা স্নাতক হলেন কাদম্বিনী (বসু) গঙ্গোপাধ্যায় এবং চন্দ্রমুখী বসু (১৮৮৩ খ্রি.)।
৩. বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন মীর নিসার আলি ওরফে তিতুমির (উত্তর ২৪ পরগনার নারকেলবেড়িয়ায়)।
৪. ‘ইন্ডিয়ান লীগ’ ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে শিশিরকুমার ঘোষ ও আনন্দমোহন বসু প্রতিষ্ঠা করেন।
উপবিভাগ ২.২: ঠিক বা ভুল নির্ণয় করো
১. ঠিক
২. ভুল (ফরাজি কোনো উপজাতি নয়, এটি হাজী শরিয়তউল্লাহ প্রবর্তিত একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন)
৩. ঠিক
৪. ঠিক
উপবিভাগ ২.৩: ‘ক’ স্তম্ভের সাথে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
| (১) ডিরোজিও | (খ) ইয়াং বেঙ্গল |
| (২) নবগোপাল মিত্র | (ক) হিন্দু মেলা |
| (৩) বীরেন্দ্রনাথ শাসমল | (ঘ) অহিংস অসহযোগ আন্দোলন (মেদিনীপুর) |
| (৪) লক্ষ্মী সেহগল | (গ) আজাদ হিন্দ ফৌজ |
@ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
উপবিভাগ ২.৪: মানচিত্র সংক্রান্ত নির্দেশিকা
১. নদিয়া: পশ্চিমবঙ্গের গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলের মধ্যভাগে অবস্থিত (নীল বিদ্রোহের সূচনা ঘটে চৌগাছা গ্রামে)।
২. মিরাট: বর্তমান উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমাংশে, দিল্লির ঠিক উত্তর-পূর্ব দিকে চিহ্নিত করতে হবে।
৩. জুনাগড়: গুজরাটের কাথিয়াবাড় উপদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে চিহ্নিত করতে হবে।
৪. কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ অংশে ভাগীরথী-হুগলি নদীর পূর্ব তীরে চিহ্নিত করতে হবে।
উপবিভাগ ২.৫: বিবৃতি ও ব্যাখ্যা নির্বাচন
১. সঠিক উত্তর: ব্যাখ্যা ২ (ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের আবেদন জানিয়ে)।
২. সঠিক উত্তর: ব্যাখ্যা ২ (ভারতীয় গ্রন্থ এবং পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা বিপুল বৃদ্ধি পায়)।
৩. সঠিক উত্তর: ব্যাখ্যা ১ (লবণ ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় ও সর্বজনীন ব্যবহারের উপাদান)।
৪. সঠিক উত্তর: ব্যাখ্যা ১ (রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব এবং শ্রমিক-কৃষকদের দুর্দশা এর পটভূমি তৈরি করেছিল)।
@ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
বিভাগ ‘গ’ (সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্ন)
৩.১ নতুন সামাজিক ইতিহাসচর্চা:
ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ইতিহাসের রাজা-মহারাজা ও যুদ্ধবিগ্রহের বিবরণের বাইরে গিয়ে সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ, নারী, দলিত, শ্রমিক, কৃষক এবং তাদের দৈনন্দিন সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে চর্চাকে নতুন সামাজিক ইতিহাস বলে। ১৯৬০-৭০-এর দশকে ই. পি. থম্পসন, এরিক হবসবম প্রমুখের হাত ধরে এই ধারার বিকাশ ঘটে।
৩.২ পরিবেশের ইতিহাসচর্চার দুটি গুরুত্ব:
প্রাকৃতিক পরিবেশ, অরণ্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মানুষের হস্তক্ষেপ ও আধুনিক শিল্পায়নের ধ্বংসাত্মক প্রভাব সম্পর্কে ঐতিহাসিক সচেতনতা তৈরি করে।
চিপকো আন্দোলন বা নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের মতো পরিবেশমুখী গণসংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝতে সাহায্য করে।
৩.৩ মেকলে মিনিটস:
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আইন সচিব টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২রা ফেব্রুয়ারি বড়লাটের কাছে একটি প্রস্তাব পেশ করেন, যা ‘মেকলে মিনিটস’ নামে পরিচিত। এতে প্রাচ্য শিক্ষাকে মূল্যহীন ও ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিহিত করা হয় এবং ভারতে সরকারি অনুদানে ইংরেজি ও পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনের সুপারিশ করা হয়।
৩.৪ মধুসূদন গুপ্ত ইতিহাসে স্মরণীয় কেন:
কলকাতা মেডিকেল কলেজের ছাত্র মধুসূদন গুপ্ত ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দের ২৮শে অক্টোবর প্রথম ভারতীয় তথা এশীয় চিকিৎসক হিসেবে সামাজিক কুসংস্কার ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ ভেঙে মানব শবব্যবচ্ছেদ (Human Dissection) করেন। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল।
৩.৫ তিতুমিরের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য:
তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের শুদ্ধিকরণ ও ধর্মীয় সংস্কার। তবে পরবর্তীকালে তা হিন্দু জমিদারদের অন্যায় ‘দাড়ি কর’ ও অত্যাচার এবং ব্রিটিশ নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক মুক্তি সংগ্রামে রূপান্তরিত হয়।
৩.৬ ঔপনিবেশিক অরণ্য আইনের প্রধান লক্ষ্য:
ব্রিটিশ সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল রেললাইনের স্লিপার তৈরি, সামরিক বাহিনীর জাহাজ নির্মাণ ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ভারতের মূল্যবান কাঠ (শাল, সেগুন প্রভৃতি) অবাধে আহরণ ও একচেটিয়া রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং অরণ্যবাসী জনজাতির প্রথাগত অধিকার কেড়ে নেওয়া।
৩.৭ ব্যঙ্গচিত্র সমালোচনার মাধ্যম হওয়ার কারণ:
উনিশ শতকের শেষার্ধে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকা (যেমন—সুলভ সমাচার) ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে ব্রিটিশদের বর্ণবিদ্বেষ, বাবু সংস্কৃতির ভণ্ডামি এবং অন্ধ পাশ্চাত্য অনুকরণপ্রিয় শিক্ষিত বাঙালির দ্বিচারিতাকে তীক্ষ্ণ হাস্যরসের মাধ্যমে সমাজের সামনে তুলে ধরেন।
৩.৮ সভা-সমিতির যুগ কাকে বলে এবং কেন:
ঐতিহাসিক ড. অনিল শীল উনিশ শতককে (বিশেষত ১৮৩৬-১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ) ‘সভা-সমিতির যুগ’ বলেছেন। কারণ এই পর্বে ভারতীয়দের মধ্যে আধুনিক রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে ওঠে এবং জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পূর্বে সমগ্র দেশে বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা, জমিদার সভা, পুনা সার্বজনিক সভা ও ভারত সভার মতো অসংখ্য রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে ওঠে।
৩.৯ জাতীয় শিক্ষা পরিষদ ব্যর্থতার কারণ:
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং এই পরিষদ থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্তদের সরকারি চাকরির সুযোগ না থাকা।
পরিষদের নেতৃত্বাধীন নেতাদের মধ্যে সাধারণ সাহিত্যিক শিক্ষা বনাম প্রযুক্তিগত বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রাধান্য নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব।
৩.১০ শ্রীনিকেতন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য:
পল্লী পুনর্গঠন ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি ছিল এর মূল লক্ষ্য। রবীন্দ্রনাথ কৃষকদের বৈজ্ঞানিক কৃষি পদ্ধতি, কুটির শিল্প, সমবায় ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য ও লোকসংস্কৃতির উন্নয়নের মাধ্যমে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পল্লীসমাজ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।
৩.১১ বারদোলি সত্যাগ্রহ শুরুর কারণ:
১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের সুরাট জেলার বারদোলি তালুকে ব্রিটিশ সরকার তুলোর বাজারদর হ্রাস ও খরার তীব্রতা সত্ত্বেও ভূমি রাজস্বের পরিমাণ হঠাৎ ৩০% (পরে ২১% করা হয়) বৃদ্ধি করে। এই অন্যায় রাজস্ব বৃদ্ধির প্রতিবাদে বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে কৃষকরা খাজনা বন্ধ আন্দোলন শুরু করেন।
৩.১২ মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা:
ভারতে ক্রমবর্ধমান কমিউনিস্ট ও শ্রমিক আন্দোলনের রাশ টানতে ব্রিটিশ সরকার ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে মুজফফর আহমেদ, এস. এ. ডাঙ্গে, ফিলিপ স্প্র্যাট, বেঞ্জামিন ব্র্যাডলি সহ মোট ৩১ জন বামপন্থী ও শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে যে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করে, তা মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত।
৩.১৩ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার স্মরণীয় কেন:
মাস্টারদা সূর্য সেনের নির্দেশে ১৯৩২ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেতৃত্ব দেন। সফল অভিযানের পর ইংরেজ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম নারী শহীদ হিসেবে অমর হন।
৩.১৪ পুনা চুক্তির মূল শর্ত:
১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের পুনা চুক্তিতে (গান্ধীজি ও ড. বি. আর. আম্বেদকরের মধ্যে স্বাক্ষরিত) দলিতদের জন্য ব্রিটিশ ঘোষিত পৃথক নির্বাচনের নীতি বাতিল করা হয় এবং তার পরিবর্তে সাধারণ নির্বাচনী ক্ষেত্রে দলিতদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৭১ থেকে বাড়িয়ে ১৪৮টি করা হয়।
৩.১৫ ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন’-এর ভূমিকা:
এটি ছিল ভারত সরকার কর্তৃক প্রণীত একটি আইনি দলিল (অঙ্গীকারপত্র)। এর মাধ্যমে দেশীয় রাজ্যগুলির শাসকরা প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক বিষয় এবং যোগাযোগ—এই তিনটি প্রধান বিষয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ভারতীয় ইউনিয়নের হাতে সমর্পণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে যোগ দিতেন।
৩.১৬ উদ্বাস্তু সমস্যা বলতে কী বোঝায়:
১৯৪৭-এর ভারত বিভাগের ফলে কোটি কোটি মানুষ বাসস্থান হারিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে বাধ্য হন। এই গৃহহীন, ছিন্নমূল মানুষের সাময়িক ত্রাণ, পুনর্বাসন, খাদ্য, কর্মসংস্থান ও নাগরিক অধিকার প্রদানের যে সংকট স্বাধীন ভারতের সামনে তৈরি হয়, তাকে উদ্বাস্তু সমস্যা বলা হয়।
@ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
বিভাগ ‘ঘ’ (বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন)
৪.১ সমাজ সংস্কারে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান:
ঊনবিংশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায় ভারতীয় সমাজ থেকে মধ্যযুগীয় কুসংস্কার দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা নেন:
সতীদাহ প্রথা রদ: রামমোহনের সবচেয়ে ঐতিহাসিক অবদান হল অমানবিক সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক ও শাস্ত্রীয় জনমত গড়ে তোলা। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে সপ্তদশ বিধি (Regulation XVII) দ্বারা সতীদাহ আইনত নিষিদ্ধ করেন।
অন্যান্য সামাজিক ব্যাধি রোধ: তিনি বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ এবং জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং নারীদের পৈতৃক সম্পত্তিতে অধিকারের পক্ষে যুক্তি দেন।
ব্রাহ্ম আন্দোলন: একেশ্বরবাদী হিন্দুধর্মের আদর্শ প্রচারের জন্য ১৮২৮ সালে তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ধর্মীয় গোঁড়ামিমুক্ত প্রগতিশীল সমাজ সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন করে।
৪.২ নারীশিক্ষার প্রসারে বিদ্যাসাগরের উদ্যোগ:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিশ্বাস করতেন যে নারীর সার্বিক মুক্তি ও অধিকার প্রতিষ্ঠা নারীশিক্ষা ছাড়া অসম্ভব:
স্কুল প্রতিষ্ঠা: সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের পরিদর্শক হিসেবে তিনি দক্ষিণবঙ্গ ও মেদিনীপুর, নদীয়া, বর্ধমান, হুগলি জেলায় নিজ ব্যয়ে ও উদ্যোগে প্রায় ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠা: ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের প্রতিষ্ঠিত ‘ক্যালকাটা ফিমেল স্কুল’ (বর্তমানে বেথুন স্কুল ও কলেজ)-এর তিনি ছিলেন প্রধান উৎসাহদাতা ও সম্পাদক।
সামাজিক আন্দোলন ও তহবিল গঠন: সাধারণ পরিবার যাতে মেয়েদের স্কুলে পাঠায়, সেজন্য তিনি বাড়ি বাড়ি প্রচার করতেন এবং নিজের অর্থ থেকে নারীশিক্ষা বিস্তার ভাণ্ডার গড়ে তোলেন।
৪.৩ মহাবিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব:
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের প্রতি সমকালীন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের মনোভাব ছিল মূলত হতাশাজনক ও ব্রিটিশদের প্রতি আস্থাশীল:
সংস্কার ও সুবিধার প্রতি আস্থা: শিক্ষিত বাঙালি মনে করত ব্রিটিশ শাসন ভারতের আধুনিকীকরণ, ইংরেজি শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে সহায়ক। বিদ্রোহীদের সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার চেয়ে ব্রিটিশ শাসনকে তারা বেশি নিরাপদ মনে করেছিল।
বিরোধিতা ও আনুগত্য: হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকা বিদ্রোহীদের ক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করলেও হিংসাত্মক বিদ্রোহ সমর্থন করেনি। দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, শম্ভুচন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রমুখ প্রকাশ্যে ব্রিটিশদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। তাঁরা আশঙ্কা করেছিলেন যে মুঘল বা সামন্ততন্ত্র ফিরে এলে সামাজিক অগ্রগতি থমকে যাবে।
@ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
৪.৪ টিকা: মহারানীর ঘোষণাপত্র (১৮৫৮):
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ‘ভারত শাসন আইন’ (১৮৫৮) পাস করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায়। এরপর ১লা নভেম্বর ১৮৫৮ সালে এলাহাবাদ দরবারে বড়লাট লর্ড ক্যানিং মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
মূল প্রতিশ্রুতিসমূহ: ভারতীয় রাজ্যগুলির সাথে কোম্পানির স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি রক্ষা করা হবে, সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি প্রত্যাহার করা হবে, স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল হবে, ভারতীয়দের ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যাপারে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না এবং যোগ্যতা অনুসারে সকল ভারতীয়কে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সমান সুযোগ দেওয়া হবে।
মূল্যায়ন: এই ঘোষণাপত্রকে অনেকে ভারতের “ম্যাগনা কার্টা” বললেও ঐতিহাসিকদের মতে এটি ছিল কেবলই একটি রাজনৈতিক ভণ্ডামি বা “প্রতিশ্রুতির রাজনীতি”, কারণ বাস্তবে কোনো প্রতিশ্রুতিই পালন করা হয়নি।
৪.৫ বিজ্ঞানচর্চায় IACS-এর অবদান:
১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ডা. মহেন্দ্রলাল সরকারের উদ্যোগে কলকাতায় ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স’ (IACS) প্রতিষ্ঠিত হয়:
উদ্দেশ্য: বিজ্ঞান শিক্ষায় ভারতীয়দের স্বাবলম্বী করা এবং মৌলিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
বিজ্ঞানীদের কর্মক্ষেত্র: এখানে ফাদার ইউজিন লাঁফো, জগদীশচন্দ্র বসু, আশুতোষ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ বিজ্ঞানচর্চা করেন।
রমন এফেক্ট: এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগারেই গবেষণা চালিয়ে চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন ১৯২৮ সালে তাঁর যুগান্তকারী “রমন এফেক্ট” আবিষ্কার করেন এবং ১৯৩০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
৪.৬ একা আন্দোলন বা একতা আন্দোলন:
১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে উত্তরপ্রদেশের অবধ অঞ্চলের হরদোই, বহরাইচ ও সীতাপুরে মাদারি পাসির নেতৃত্বে এই কৃষক আন্দোলন সংগঠিত হয়:
কারণ: নির্ধারিত হারের চেয়ে ৫০% বেশি রাজস্ব আদায়, বলপূর্বক অতিরিক্ত কর ও ‘নজরানা’ আদায় এবং বেগার খাটানো।
বৈশিষ্ট্য: এটি ছিল একটি শপথবদ্ধ আন্দোলন; কৃষকরা গঙ্গা নদীর জল বা ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার ও বাড়তি খাজনা না দেওয়ার শপথ নিত। অহিংস নীতির বদলে এটি দ্রুত আক্রমণাত্মক রূপ নেয়। কংগ্রেস ও খিলাফত নেতৃবৃন্দ এই উগ্রতার কারণে দ্রুত আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান এবং পুলিশি দমনপীড়নে আন্দোলন থেমে যায়।
৪.৭ সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা:
বিংশ শতকের ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে ভারতের নারীশক্তি দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করে:
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও অসহযোগ পর্ব: সরলাদেবী চৌধুরানী শরীরচর্চা ও লাঠিখেলা শেখানোর জন্য ‘প্রতাপাদিত্য উৎসব’ ও ‘বীরাষ্টমী ব্রত’ চালু করেন।
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ও মাস্টারদার দল: প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে শহীদ হন। কল্পনা দত্ত বিপ্লবী কার্যকলাপে মাস্টারদার সাথে সক্রিয় ছিলেন ও বোমা প্রস্তুত করতেন।
ছাত্রী সমাজের দুঃসাহসিকতা: শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরী কুমিল্লার জেলাশাসক স্টিভেন্সকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করেন। বীণা দাস কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে সরাসরি পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করেন।
৪.৮ হায়দ্রাবাদ রাজ্যের ভারতভুক্তি:
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর হায়দ্রাবাদের নিজাম মীর ওসমান আলি খান স্বাধীন থাকার ঘোষণা করেন এবং ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে অস্বীকার করেন:
অভ্যন্তরীণ সংকট ও রাজাকার বাহিনী: নিজামের উগ্র সাম্প্রদায়িক আধাসামরিক বাহিনী ‘রাজাকার’ কাসিম রিজভির নেতৃত্বে তেলেঙ্গানার কৃষক ও সাধারণ অমুসলিম জনগণের ওপর তীব্র অত্যাচার শুরু করে।
অপারেশন পোলো: পরিস্থিতির জটিলতা দেখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কড়া পদক্ষেপ নেন। ১৯৪৮ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন পোলো’ নামক পুলিশি অভিযান শুরু করে। জেনারেল জে. এন. চৌধুরীর নেতৃত্বে চার দিনের সামরিক অভিযানের পর ১৭ই সেপ্টেম্বর নিজাম আত্মসমর্পণ করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে হায়দ্রাবাদ ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়।
@ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
বিভাগ ‘ঙ’ (দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন)
৫.১ নীল বিদ্রোহ কেন ঘটেছিল? এই বিদ্রোহের চরিত্র ও ফলাফল বিশ্লেষণ করো।
নীল বিদ্রোহের পটভূমি ও কারণসমূহ:
১৮৫৯-৬০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার কৃষকরা ইউরোপীয় নীলকরদের বিরুদ্ধে যে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তা নীল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এর প্রধান কারণগুলি ছিল:
দাদন প্রথা ও জবরদস্তি: নীলকররা দরিদ্র চাষিদের বিঘা প্রতি মাত্র ২ টাকা অগ্রিম অর্থ (দাদন) দিয়ে তাঁদের সেরা উর্বর জমিতে খাদ্যশস্যের বদলে নীল চাষ করতে বাধ্য করত। একবার দাদন নিলে কৃষকের বংশপরম্পরায় সেই ঋণ শোধ হতো না।
অলাভজনক চাষ: চাষে ক্ষতির সম্মুখীন হলেও কৃষকদের বাধ্য করা হতো নামমাত্র মূল্যে নীল নীলকুঠিতে জমা দিতে।
নীলকরদের শারীরিক নিপীড়ন ও লাঠিয়াল বাহিনী: অবাধ্য কৃষকদের নীলকুঠির অন্ধকূপ কারাবাসে বন্দি করা হতো, মহিলাদের অপমান করা হতো এবং লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হতো।
প্রশাসনের পক্ষপাত: আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ আধিকারিকরা ইউরোপীয় নীলকরদের স্বার্থেই আইন প্রয়োগ করত।
বিদ্রোহের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য:
ঐক্যবদ্ধ গণসংগ্রাম: হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সমস্ত কৃষক এই বিদ্রোহে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেয়। দিগম্বর বিশ্বাস, বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস, রফিক মণ্ডল প্রমুখ এর সফল নেতৃত্ব দেন।
বুদ্ধিজীবী শ্রেণির সমর্থন: দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটক, মাইকেল মধুসূদন দত্তের ইংরেজি অনুবাদ এবং হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকার ভূমিকা এই আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক সচেতনতা প্রদান করে।
ধর্মঘটের রূপ: এটি অন্ধ সশস্ত্র দাঙ্গার চেয়ে কৃষকদের ‘নীল না বোনার ধর্মঘট’ ও সামাজিক বয়কটের মাধ্যমে বেশি পরিচালিত হয়েছিল।
ফলাফল ও তাৎপর্য:
নীল কমিশন গঠন: তীব্র আন্দোলনের চাপে ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ সালে ‘ইন্ডিগো কমিশন’ (Indigo Commission) গঠন করে।
চাষির অধিকার স্বীকৃতি: কমিশনের রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয় যে নীল চাষ সম্পূর্ণ কৃষকের ইচ্ছাধীন, কাউকে জোর করা যাবে না।
বাংলায় নীলচাষের অবসান: এরপর বাংলার চাষিরা নীলচাষ বন্ধ করে দেয় এবং নীলকররা ব্যবসা গুটিয়ে বিহারে চলে যেতে বাধ্য হয়। এটিই ভারতের প্রথম সফল অহিংস গণসংগ্রাম।
৫.২ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাদর্শন ও শান্তি-নিকেতন ভাবনার মূল বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শনের মূল নীতি:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রচলিত ঔপনিবেশিক চারদেওয়ালের মধ্যকার মুখস্থনির্ভর শিক্ষাকে “তোতাকাহিনী”র খাঁচায় বন্দি করার সমান মনে করতেন। তাঁর শিক্ষাদর্শন ছিল তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
প্রকৃতির সাথে নিবিড় সান্নিধ্য: উন্মুক্ত আকাশের নিচে গাছপালার ছায়ায় শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করবে।
স্বাধীনতা ও আনন্দ: শিক্ষার পরিবেশ হবে ভীতিহীন ও মুক্ত; শাসনের বদলে স্বতঃস্ফূর্ত সৃজনশীলতার মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করা হবে।
বিশ্বমানবতার মিলন: প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের জ্ঞানবিজ্ঞানের মিলন ঘটবে এই শিক্ষায়।
শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতীর বৈশিষ্ট্য:
ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা (১৯০১ খ্রি.): বীরভূমের বোলপুরে প্রাচীন ভারতের তপোবন আদর্শের অনুকরণে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন।
মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা: রবীন্দ্রনাথ মাতৃভাষাকে শিক্ষাদানের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম (“মাতৃদুগ্ধসম”) মনে করতেন, তবে একই সাথে আধুনিক আন্তর্জাতিক ভাষা শেখারও পক্ষপাতী ছিলেন।
কলা ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়: পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি নৃত্য, গীত, চিত্রকলা (কলাভবন ও সংগীতভবন) এবং দৈহিক শ্রমের প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশ্বভারতী (১৯২১ খ্রি.): শান্তিনিকেতন পরবর্তীতে মহীরুহে পরিণত হয়ে বিশ্বভারতীর রূপ নেয়। যার মূল মন্ত্র ছিল—“যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্” অর্থাৎ “যেখানে সারা বিশ্ব এসে একটি নীড়ে মিলিত হবে।” প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের জ্ঞানচর্চার এক অপূর্ব আন্তর্জাতিক সমন্বয় ক্ষেত্র হয়ে ওঠে এটি।
@ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
৫.৩ সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা এবং বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণির অংশগ্রহণের চরিত্র আলোচনা করো।
সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা:
ভারতের মুক্তি সংগ্রামে ছাত্র সমাজ সর্বদা আত্মবলিদানের অগ্রভাগে ছিল:
গুপ্ত সমিতি ও অনুশীলন সমিতি: ১৯০২ সালে গঠিত অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দলের সিংহভাগ সদস্যই ছিলেন স্কুল-কলেজের জাতীয়তাবাদী ছাত্ররা। প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরাম বসু ছাত্রাবস্থাতেই ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে অভিযান চালান।
চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ (১৯৩০ খ্রি.): মাস্টারদা সূর্য সেনের ডাকে সাড়া দিয়ে আনন্দ গুপ্ত, টেগরা বল (হরিগোপাল বল)-এর মতো কিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থীরা অস্ত্রাগার দখল এবং জালালাবাদ পাহাড়ের ভয়াবহ অসম যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনার বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করেন ও শহীদ হন।
অসহযোগ ও বয়কট: ব্রিটিশ বিরোধী কোনো সার্কুলার (যেমন কার্লাইল সার্কুলার) ছাত্র সমাজকে দমাতে পারেনি; তারা বিকল্প হিসেবে অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি গড়ে তোলে আন্দোলনের মশাল প্রজ্বলিত রেখেছিল।
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণির অংশগ্রহণের চরিত্র:
১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী (স্বদেশী) আন্দোলনে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য:
ধর্মঘটের প্রসার: আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ট্রাম শ্রমিক, প্রেস ও ছাপাখানার কর্মী, হাওড়া বার্ন কোম্পানির কারখানার শ্রমিক এবং ক্লাইভ জুট মিলের শ্রমিকরা তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধর্মঘট পালন করে।
নেতৃত্ব: অশ্বিনীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রভাসচন্দ্র মিত্র, লিয়াকত হোসেন প্রমুখ মধ্যবিত্ত জাতীয়তাবাদী নেতারা শ্রমিকদের সংগঠিত করেন এবং বহু শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে ওঠে।
সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা: শ্রমিকদের আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ জাতীয়তাবাদী নেতারা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, কাজের সময়সীমা কমানোর মতো অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে উদাসীন ছিলেন। স্বদেশী নেতারা কারখানা মালিকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে চাননি, ফলে আন্দোলনের শেষভাগে শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ক্রমশ স্তিমিত হয়ে পড়ে।
LINK TO VIEW PDF FILE (ONLY FOR SUBSCRIBERS)
দশম শ্রেণির বাংলা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে। @ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।
জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে। ইতিহাস টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। @ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।
পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ Class Ten History Question Paper – WBNOTES.IN
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।























