bayumondol-question-answers-class-10-geography

বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর Class 10 Geography

বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর Class 10 Geography এখানে WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে দশম শ্রেণির মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করা হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই ভূগোল প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।

আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি। 

বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর Class 10 Geography : 

 

১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ) 

  1. বায়ুমণ্ডলে সর্বাধিক পরিমাণে প্রাপ্ত গ্যাসীয় উপাদানটি হলো—

    (ক) অক্সিজেন (খ) নাইট্রোজেন (গ) কার্বন ডাই-অক্সাইড (ঘ) আর্গন

    উত্তর: (খ) নাইট্রোজেন (প্রায় ৭৮.০৮%)

  2. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি প্রভৃতি আবহাওয়াগত গোলযোগ ঘটে?

    (ক) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (খ) মেসোস্ফিয়ার (গ) ট্রপোস্ফিয়ার (ঘ) থার্মোস্ফিয়ার

    উত্তর: (গ) ট্রপোস্ফিয়ার

  3. জেট বিমানগুলি বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করে?

    (ক) ট্রপোস্ফিয়ার (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (গ) আয়নোস্ফিয়ার (ঘ) এক্সোস্ফিয়ার

    উত্তর: (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার

  4. সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UV Rays) শোষণ করে কোন স্তর?

    (ক) ওজোনোস্ফিয়ার (খ) মেসোস্ফিয়ার (গ) ট্রপোস্ফিয়ার (ঘ) এক্সোস্ফিয়ার

    উত্তর: (ক) ওজোনোস্ফিয়ার

  5. বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর কোনটি?

    (ক) মেসোস্ফিয়ার (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (গ) ট্রপোস্ফিয়ার (ঘ) থার্মোস্ফিয়ার

    উত্তর: (ক) মেসোস্ফিয়ার (উষ্ণতা প্রায় -৯৩°C)

  6. বেতার তরঙ্গ বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর থেকে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে?

    (ক) ট্রপোস্ফিয়ার (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (গ) আয়নোস্ফিয়ার বা থার্মোস্ফিয়ার (ঘ) মেসোস্ফিয়ার

    উত্তর: (গ) আয়নোস্ফিয়ার বা থার্মোস্ফিয়ার

  7. মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora) বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে দেখা যায়?

    (ক) আয়নোস্ফিয়ার (খ) ওজোনোস্ফিয়ার (গ) মেসোস্ফিয়ার (ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার

    উত্তর: (ক) আয়নোস্ফিয়ার

  8. ওজোন স্তরের ঘনত্ব পরিমাপের একক হলো—

    (ক) ডেসিবল (খ) ডবসন (গ) মিলিবার (ঘ) নট

    উত্তর: (খ) ডবসন (Dobson Unit বা DU)

  9. ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা হ্রাসের স্বাভাবিক হার হলো—

    (ক) ৫.৫°C (খ) ৬.৪°C (গ) ৬.৫°C (ঘ) ৭.২°C

    উত্তর: (খ) ৬.৪°C (Normal Lapse Rate)

  10. পৃথিবীর অ্যালবেডোর (Albedo) পরিমাণ প্রায়—

    (ক) ৩৪% (খ) ৬৬% (গ) ৫০% (ঘ) ৬৫%

    উত্তর: (ক) ৩৪%

  11. একটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস হলো—

    (ক) নাইট্রোজেন (খ) কার্বন ডাই-অক্সাইড (গ) হাইড্রোজেন (ঘ) অক্সিজেন

    উত্তর: (খ) কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$)

  12. বায়ুর চাপ পরিমাপের যন্ত্রের নাম কী?

    (ক) থার্মোমিটার (খ) অ্যানিমোমিটার (গ) ব্যারোমিটার (ঘ) হাইগ্রোমিটার

    উত্তর: (গ) ব্যারোমিটার

  13. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক গড় চাপ কত?

    (ক) ১০১৩.২৫ মিলিবার (খ) ৯৮০ মিলিবার (গ) ১০৫০.৫ মিলিবার (ঘ) ১২০০ মিলিবার

    উত্তর: (ক) ১০১৩.২৫ মিলিবার

  14. নিরক্ষীয় শান্তবলয় বা ডোলড্রামস (Doldrums) বিস্তৃত থাকে—

    (ক) ০° থেকে ৫° উত্তর-দক্ষিণ অক্ষরেখা (খ) ২৩.৫° থেকে ৩০° অক্ষরেখা (গ) ৬০° থেকে ৬৫° অক্ষরেখা (ঘ) ৮০° থেকে ৯০° অক্ষরেখা

    উত্তর: (ক) ০° থেকে ৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখা

  15. অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitudes) বলা হয় কোন চাপবলয়কে?

    (ক) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় (খ) কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় (২৫°-৩৫°) (গ) উপমেরু নিম্নচাপ বলয় (ঘ) মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয়

    উত্তর: (খ) কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয়

  16. উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়—এটি কার সূত্র?

    (ক) ফেরেলের সূত্র (খ) বয়েলের সূত্র (গ) হেডলির সূত্র (ঘ) বয়েজ ব্যালট সূত্র

    উত্তর: (ক) ফেরেলের সূত্র

  17. বায়ুর গতিবেগ মাপার যন্ত্রের নাম কী?

    (ক) অ্যানিমোমিটার (খ) উইন্ড ভেন বা বাতপতাকা (গ) ব্যারোমিটার (ঘ) হাইগ্রোমিটার

    উত্তর: (ক) অ্যানিমোমিটার

  18. ‘বাণিজ্য বায়ু’ (Trade Wind) নামে পরিচিত কোন নিয়ত বায়ু?

    (ক) আয়ন বায়ু (খ) পশ্চিমা বায়ু (গ) মেরু বায়ু (ঘ) মৌসুমি বায়ু

    উত্তর: (ক) আয়ন বায়ু

  19. ‘গর্জনশীল চল্লিশা’ (Roaring Forties) দেখা যায়—

    (ক) ৪০° উত্তর অক্ষাংশে (খ) ৪০° দক্ষিণ অক্ষাংশে (গ) ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশে (ঘ) ৫০° উত্তর অক্ষাংশে

    উত্তর: (খ) ৪০° দক্ষিণ অক্ষাংশে

  20. রকি পার্বত্য অঞ্চলে প্রবাহিত উষ্ণ ও শুষ্ক স্থানীয় বায়ুর নাম—

    (ক) চিনুক (খ) ফন (গ) সিরোক্কো (ঘ) লু

    উত্তর: (ক) চিনুক (Chinook)

  21. উত্তর ভারতের গ্রীষ্মকালে প্রবাহিত অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ হলো—

    (ক) আঁধি (খ) লু (গ) কালবৈশাখী (ঘ) চিনুক

    উত্তর: (খ) লু

  22. ‘ডক্টরস উইন্ড’ (Doctor Wind) নামে পরিচিত কোন স্থানীয় বায়ু?

    (ক) হারমাটান (খ) মিস্ট্রাল (গ) বোরা (ঘ) চিনুক

    উত্তর: (ক) হারমাটান (পশ্চিম আফ্রিকায়)

  23. ক্যারিবিয়ান সাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতকে কী বলে?

    (ক) টাইফুন (খ) সাইক্লোন (গ) হ্যারিকেন (ঘ) উইলি উইলি

    উত্তর: (গ) হ্যারিকেন

  24. চীন সাগরে সৃষ্ট বিধ্বংসী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় হলো—

    (ক) টাইফুন (খ) টর্নেডো (গ) হ্যারিকেন (ঘ) কালবৈশাখী

    উত্তর: (ক) টাইফুন

  25. বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্রটির নাম—

    (ক) ব্যারোমিটার (খ) আর্দ্র ও শুষ্ক কুণ্ড হাইগ্রোমিটার (গ) অ্যানিমোমিটার (ঘ) রেনগেজ

    উত্তর: (খ) হাইগ্রোমিটার

  26. সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা কত শতাংশ?

    (ক) ৫০% (খ) ৭৫% (গ) ১০০% (ঘ) ০%

    উত্তর: (গ) ১০০%

  27. কোন মেঘকে ‘বজ্রমেঘ’ (Thunder cloud) বলা হয়?

    (ক) কিউমুলোনিম্বাস (খ) সিরাস (গ) স্ট্র্যাটাস (ঘ) অল্টোস্ট্র্যাটাস

    উত্তর: (ক) কিউমুলোনিম্বাস

  28. পরিচলন বৃষ্টিপাত প্রধানত দেখা যায় কোন অঞ্চলে?

    (ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে (খ) মরু অঞ্চলে (গ) মেরু অঞ্চলে (ঘ) ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে

    উত্তর: (ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে (প্রতিদিন বিকেলে ‘৪ ও ক্লক রেন’)

  29. পর্বতের যে ঢালে ধাক্কা খেয়ে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটে, তাকে বলে—

    (ক) অনুবাদ ঢাল (খ) প্রতিবাত ঢাল (গ) মৃদু ঢাল (ঘ) খাড়া ঢাল

    উত্তর: (খ) প্রতিবাত ঢাল (Windward slope)

  30. ওজোন গহ্বর (Ozone Hole) প্রথম কে প্রত্যক্ষ করেন?

    (ক) জে. সি. ফারম্যান (খ) ডবসন (গ) গর্ডন মিলনে (ঘ) আলফ্রেড ওয়াগনার

    উত্তর: (ক) জে. সি. ফারম্যান (১৯৮৫ খ্রি., অ্যান্টার্কটিকার আকাশে)

@ বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

২. একটি বাক্যে উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) 

  1. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে উল্কাপিণ্ড পুড়ে ছাই হয়ে যায়?

    উত্তর: মেসোস্ফিয়ার স্তরে।

  2. ‘মাদার অব পার্ল’ বা শুক্তিতারা মেঘ বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে গঠিত হয়?

    উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে।

  3. ওজোন স্তরের প্রধান ধ্বংসকারী গ্যাসটির নাম কী?

    উত্তর: ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা সিএফসি (CFC)।

  4. অ্যারোসল (Aerosol) কী?

    উত্তর: বায়ুমণ্ডলে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা, লবণকণা, ছাই ও ধাতব কণার সমষ্টিকে অ্যারোসল বলে।

  5. ইনসোলেশন (Insolation)-এর পুরো অর্থ কী?

    উত্তর: Incoming Solar Radiation (আগত সৌর বিকিরণ)।

  6. কোন যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয়?

    উত্তর: হাইগ্রোমিটার (বা সাইক্রোমিটার)।

  7. সমোষ্ণরেখা (Isotherm) কাকে বলে?

    উত্তর: পৃথিবীর মানচিত্রে একই গড় তাপমাত্রা বিশিষ্ট স্থানগুলিকে যুক্ত করে যে কাল্পনিক রেখা আঁকা হয়, তাকে সমোষ্ণরেখা বলে।

  8. উষ্ণতার বৈপরীত্য (Inversion of Temperature) কোথায় দেখা যায়?

    উত্তর: শান্ত ও মেঘমুক্ত শীতের রাতে পাহাড়ি উপত্যকার তলদেশে।

  9. সমচাপরেখা বা সমপ্রেষরেখা (Isobar) কাকে বলে?

    উত্তর: মানচিত্রে সমান বায়ুর চাপযুক্ত স্থানগুলিকে যুক্ত করে অঙ্কিত কাল্পনিক রেখাকে সমচাপরেখা বলে।

  10. কোরিওলিচ বল (Coriolis Force) কোথায় সর্বাধিক হয়?

    উত্তর: দুই মেরু অঞ্চলে কোরিওলিচ বলের মান সর্বাধিক হয় (নিরক্ষরেখায় এর মান শূন্য)।

  11. ‘বয়েজ ব্যালট সূত্র’টি কী নির্দেশ করে?

    উত্তর: উত্তর গোলার্ধে বাতাস যেদিক থেকে বইছে সেদিকে পিছন ফিরে দাঁড়ালে ডানদিকে উচ্চচাপ এবং বাঁদিকে নিম্নচাপ থাকে (দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত)।

  12. আইটিসিজেড (ITCZ)-এর সম্পূর্ণ রূপ কী?

    উত্তর: Inter-Tropical Convergence Zone (আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল)।

  13. পর্বতের অনুবাদ ঢালে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণ কী?

    উত্তর: বাতাস শৈলশিরা অতিক্রম করে নিচে নামার সময় উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে, ফলে সেখানে ‘বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল’ গড়ে ওঠে।

  14. ভারতের একটি প্রধান বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের নাম লেখো।

    উত্তর: পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢালে অবস্থিত দাক্ষিণাত্যের মালভূমি (যেমন—পুনে/শিলং)।

  15. ঘূর্ণবাতের চোখ (Eye of the Cyclone) কোথায় অবস্থান করে?

    উত্তর: ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের একেবারে কেন্দ্রে শান্ত, মেঘহীন ও বাতাসহীন গভীর নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলে।

  16. চিনুক শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?

    উত্তর: ‘তুষার ভক্ষক’ (Snow Eater)।

  17. ঘনীভবনের জন্য বায়ুমণ্ডলে থাকা কোন উপাদানকে ‘জলকণাধারক কেন্দ্র’ বা হাইগ্রোস্কোপিক নিউক্লিয়াস বলা হয়?

    উত্তর: বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও লবণকণাকে।

  18. সিসিলির ওপর দিয়ে প্রবাহিত সাহারার উষ্ণ ও ধূলিময় বায়ুকে কী বলে?

    উত্তর: সিরোক্কো (Sirocco)।

  19. বায়ুর চাপ মাপার এককের নাম কী?

    উত্তর: মিলিবার (mb) বা হেক্টোপাস্কাল (hPa)।

  20. জেট বায়ুর (Jet Stream) গতিপথ বায়ুমণ্ডলের কোন সীমানায় দেখা যায়?

    উত্তর: ট্রপোপজের নিকটবর্তী ঊর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ারে (প্রায় ৯-১২ কিমি উচ্চতায়)।

@ বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৩. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ২) 

১. ট্রপোস্ফিয়ারকে ‘ক্ষুব্ধমণ্ডল’ বলা হয় কেন?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর ট্রপোস্ফিয়ারে সমগ্র বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৭৫% গ্যাসীয় ভর এবং প্রায় সমগ্র জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা অবস্থান করে। জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির কারণে এই স্তরেই নিয়মিত পরিচলন স্রোত, মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত ও কুয়াশার মতো আবহাওয়াজনিত অশান্ত প্রাকৃতিক গোলযোগ ঘটে। তাই এই স্তরকে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলে।

২. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারকে ‘শান্তমণ্ডল’ বলা হয় কেন?

উত্তর: ট্রপোপজের উপরে অবস্থিত স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ধূলিকণা বা জলীয় বাষ্প প্রায় থাকেই না বললেই চলে। মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি বা পরিচলন বায়ুস্রোত সৃষ্টি না হওয়ায় এই স্তরটি সর্বদা শান্ত, পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকে। তাই একে শান্তমণ্ডল বলা হয় এবং এর মধ্য দিয়ে দ্রুতগামী জেট বিমানগুলি কোনো প্রাকৃতিক বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারে।

৩. ওজোন স্তরকে ‘প্রাকৃতিক সৌরপর্দা’ বলা হয় কেন?

উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ২০ থেকে ৩৫ কিমি উচ্চতায় অবস্থিত ওজোন গ্যাস ($O_3$)-এর ঘন স্তরটি সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মির (বিশেষ করে UV-B ও UV-C) প্রায় ৯৯% অংশ শোষণ করে নেয়। এটি ক্ষতিকর রশ্মিকে পৃথিবীতে পৌঁছাতে না দিয়ে মানুষ ও জীবজগৎকে ত্বকের ক্যানসার, চোখের ছানি ও উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ ব্যাহত হওয়ার হাত থেকে ছাতার মতো রক্ষা করে।

৪. পৃথিবীর তাপের ভারসাম্য বা হিট বাজেট (Heat Budget) কী?

উত্তর: সূর্য থেকে বিকিরিত মোট আগত সৌরশক্তির (১০০%) মধ্যে ৩৪% কোনো উত্তপ্ত না করেই সরাসরি মহাশূন্যে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায় (অ্যালবেডো)। অবশিষ্ট ৬৬% তাপ বায়ুমণ্ডল ও ভূ-পৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। দিনশেষে ভূ-পৃষ্ঠ দীর্ঘ তরঙ্গে ঠিক সমপরিমাণ তাপ (৬৬%) পুনরায় মহাশূন্যে ফিরিয়ে দিয়ে পৃথিবীতে দীর্ঘমেয়াদে গড় তাপমাত্রা (প্রায় ১৫°C) অপরিবর্তিত রাখে। তাপের এই আয় ও ব্যয়ের সমতাকেই পৃথিবীর তাপের বাজেট বলে।

৫. উষ্ণতার বৈপরীত্য (Inversion of Temperature) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: স্বাভাবিক নিয়মে উচ্চতা বাড়লে ট্রপোস্ফিয়ারে তাপমাত্রা হ্রাস পায়। কিন্তু বিশেষ অনুকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতিতে (যেমন—মেঘমুক্ত শীতকালীন দীর্ঘ রাত, শান্ত বাতাস ও বরফাবৃত পাহাড়ি উপত্যকায়) উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা না কমে উল্টে বৃদ্ধি পাওয়ার অস্বাভাবিক ঘটনাকে উষ্ণতার বৈপরীত্য বলে। পাহাড়ি উপত্যকার নিচের অংশে ঠান্ডা বাতাস নেমে এসে ওপরে উষ্ণ বাতাসকে ঠেলে দেয়।

৬. অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitudes) কাকে বলে?

উত্তর: উভয় গোলার্ধের ২৫° থেকে ৩৫° অক্ষাংশে অবস্থিত কর্কটীয় ও মকরীয় শান্ত উচ্চচাপ বলয়ে বায়ুর কোনো অনুভূমিক প্রবাহ থাকে না; কেবল ওপর থেকে নিম্নমুখী শান্ত বায়ুপ্রবাহ বিরাজ করে। প্রাচীনকালে পালতোলা জাহাজে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকায় ঘোড়া নিয়ে যাওয়ার সময় এই শান্ত বলয়ে জাহাজ গতিহীন হয়ে পড়লে নাবিকরা জাহাজের ভার কমাতে ঘোড়াগুলিকে জীবন্ত সমুদ্রে ফেলে দিত। তাই এই অঞ্চলকে অশ্ব অক্ষাংশ বলা হয়।

৭. ডোলড্রামস বা নিরক্ষীয় শান্তবলয় কী?

উত্তর: নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ০° থেকে ৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় বাতাস উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে উল্লম্বভাবে ওপরে উঠে যায়। ফলে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে কোনো অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ অনুভূত হয় না এবং একটি শান্তভাব বিরাজ করে। জাহাজ চলাচলের এই গতিহীন শান্ত পরিবেশকে নাবিকরা ‘ডোলড্রামস’ বা নিরক্ষীয় শান্তবলয় বলেন।

৮. ফেরেলের সূত্রটি (Ferrel’s Law) ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ ও কোরিওলিচ বলের প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠে চলাচলকারী বাতাস বা সমুদ্রস্রোত সোজাপথে প্রবাহিত হতে পারে না। বিজ্ঞানী উইলিয়াম ফেরেল (১৮৫৫) প্রমাণ করেন যে, গতিশীল বাতাস উত্তর গোলার্ধে নিজের ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে নিজের বাঁদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। একে ফেরেলের সূত্র বলে।

৯. চিনুক (Chinook) কী এবং একে ‘তুষার ভক্ষক’ বলা হয় কেন?

উত্তর: উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতের পূর্ব ঢাল বেয়ে প্রেইরি তৃণভূমির দিকে নেমে আসা অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক স্থানীয় বাতাসকে ‘চিনুক’ বলা হয় (রেড ইন্ডিয়ান ভাষায় এর অর্থ ‘তুষার ভক্ষক’)। শীতকালে এই বাতাস পর্বতের ঢাল দিয়ে নেমে এলে হঠাৎ স্থানীয় তাপমাত্রা প্রায় ১০°-১৫°C বেড়ে যায়, ফলে তৃণভূমির ওপর জমে থাকা বরফ দ্রুত গলে গিয়ে গবাদিপশুর চারণক্ষেত্র উন্মুক্ত হয়।

১০. সমুদ্র বায়ু ও স্থল বায়ুর মূল পার্থক্য কী?

উত্তর:

  • সমুদ্র বায়ু: দিনের বেলা স্থলভাগ জলভাগের চেয়ে দ্রুত বেশি উত্তপ্ত হয়ে নিম্নচাপ তৈরি করলে সমুদ্রের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ও ভারী বাতাস স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এটি বিকেলে সবচেয়ে তীব্র হয়।

  • স্থল বায়ু: রাতের বেলা স্থলভাগ দ্রুত তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা হয়ে উচ্চচাপ তৈরি করলে গভীর রাতে স্থলভাগ থেকে শীতল বাতাস সমুদ্রের দিকে বয়ে যায়। এটি ভোরে সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।

১১. ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর:

  • ঘূর্ণবাত (Cyclone): কেন্দ্রে থাকে গভীর নিম্নচাপ এবং বাইরে থাকে উচ্চচাপ। ফলে বাতাস তীব্র বেগে বাইরের দিক থেকে কেন্দ্রের দিকে ঘুরতে ঘুরতে ভেতরে ঢোকে এবং আকাশে মেঘ-ঝড়-বৃষ্টি সৃষ্টি করে।

  • প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anticyclone): কেন্দ্রে থাকে শক্তিশালী উচ্চচাপ এবং বাইরে নিম্নচাপ। বাতাস কেন্দ্র থেকে শান্তভাবে বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং আকাশ পরিষ্কার ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকে।

১২. ঘূর্ণবাতের চোখ (Eye of the Storm) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: বিধ্বংসী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের একেবারে কেন্দ্রস্থলে প্রায় ১০ থেকে ৩০ কিমি ব্যাসযুক্ত একটি বৃত্তাকার শান্ত অঞ্চল থাকে, যাকে ঘূর্ণবাতের চোখ বলা হয়। এখানে বায়ুর চাপ সর্বনিম্ন হলেও বাতাস শান্ত থাকে, কোনো মেঘ বা বৃষ্টিপাত থাকে না এবং আকাশ প্রায় পরিষ্কার থাকে।

১৩. আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) কাকে বলে?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে যে পরিমাণ প্রকৃত জলীয় বাষ্প উপস্থিত থাকে, এবং সেই একই তাপমাত্রায় ওই বায়ুকে সম্পূর্ণ সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্পের প্রয়োজন হয়—এই দুইয়ের অনুপাতকে শতকরা হারে প্রকাশ করলে তাকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। এর সূত্র:

$$\text{আপেক্ষিক আর্দ্রতা (\%)} = \frac{\text{নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বায়ুর প্রকৃত জলীয় বাষ্পের ভর}}{\text{ওই একই তাপমাত্রায় বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের ভর}} \times ১০০$$

১৪. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) কীভাবে ঘটে?

উত্তর: সমুদ্রের দিক থেকে ছুটে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বাতাস প্রবাহপথে কোনো পর্বত বা উচ্চভূমিতে বাধা পেলে সেই পর্বতের গা বেয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়। ওপরে ওঠার ফলে বায়ু প্রসারিত ও শীতল হয়ে ঘনীভূত হয় এবং পর্বতের বাতাসমুখী প্রতিবাত ঢালে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।

১৫. মেঘের গর্ভস্থ বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain-shadow region) কী?

উত্তর: পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর জলীয় বাষ্পহীন শুষ্ক বাতাস যখন পর্বতচূড়া পার হয়ে বিপরীত দিকের অনুবাদ ঢালে নিচে নামতে থাকে, তখন তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বাড়ে এবং ঘনীভবন ঘটে না। ফলে অনুবাদ ঢালে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে। এই স্বল্প বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে (যেমন—পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢালের পুনে)।

@ বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৪. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ৩) 

প্রশ্ন ১: ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere)স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)
১. উচ্চতা ও তাপমাত্রা পরিবর্তনভূ-পৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষরেখায় ১৮ কিমি ও মেরুতে ৮ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা ৬.৪°C/কিমি হারে কমে।ট্রপোপজ থেকে ওপরে প্রায় ৫০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। ওজোন গ্যাসের উপস্থিতির কারণে উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা বাড়ে (০°C পর্যন্ত)।
২. বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থাধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প থাকায় ঝড়-বৃষ্টি-কুয়াশার মতো গোলযোগ ঘটে (‘ক্ষুব্ধমণ্ডল’)।জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণাহীন সম্পূর্ণ শান্ত, শুষ্ক ও পরিষ্কার আকাশ থাকে (‘শান্তমণ্ডল’)।
৩. বিমানের গতিবিধিআবহাওয়ার অস্থিরতার কারণে বাণিজ্যিক জেট বিমান চলাচল করতে পারে না।কোনো প্রাকৃতিক বাধা না থাকায় দ্রুতগামী জেট বিমান এই স্তর দিয়ে সহজেই চলাচল করে।

প্রশ্ন ২: বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর তিনটি প্রধান প্রভাব সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর:

বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ($CO_2$, $CH_4$, CFC) মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়াকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে। এর প্রধান তিনটি প্রভাব হলো:

  • মেরু অঞ্চলের বরফ গলন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বিশালাকার হিমবাহ এবং পর্বতের বরফ দ্রুত গলছে। ফলে সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে সুন্দরবন, মালদ্বীপ, বাংলাদেশ সহ বহু নিচু উপকূল অঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

  • আবহাওয়া ও জলবায়ুর চরম পরিবর্তন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হচ্ছে। খরা, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং সুপার সাইক্লোন ও হ্যারিকেনের মতো বিধ্বংসী ঝড়ের তীব্রতা ও পৌনঃপুনিকতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  • বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস: সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা বাড়ার ফলে সমুদ্রের প্রবাল প্রাচীর (Coral bleaching) ধ্বংস হচ্ছে এবং বহু উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী উষ্ণতার সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে বিলুপ্তির মুখে পড়ছে।

প্রশ্ন ৩: ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

তুলনার বিষয়ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত (Tropical Cyclone)নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত (Temperate Cyclone)
১. উৎপত্তিস্থল ও বিস্তার৫° থেকে ৩০° উত্তর-দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে কেবল উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠে ($>২৭^\circ\text{C}$) উৎপন্ন হয়। এটি আয়তনে ছোট কিন্তু ভয়ংকর বিধ্বংসী।৩৫° থেকে ৬৫° উত্তর-দক্ষিণ অক্ষাংশে উষ্ণ ও শীতল বায়ুপ্রাচীর বরাবর জল ও স্থল উভয় স্থানে উৎপন্ন হয়। এটি সুবিশাল এলাকা জুড়ে ঘটে।
২. ঘূর্ণবাতের চোখকেন্দ্রে স্পষ্ট, শান্ত ও মেঘমুক্ত ‘ঘূর্ণবাতের চোখ’ গঠিত হয়।কোনো ঘূর্ণবাতের চোখ থাকে না; কেন্দ্রটি মেঘাচ্ছন্ন থাকে।
৩. প্রকৃতি ও স্থায়িত্ববায়ুর চাপ ঢাল অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় বাতাসের বেগ মারাত্মক হয় ($১২০-২০০\text{ কিমি/ঘণ্টা}$) এবং প্রচুর প্রাণহানি ঘটায়।বায়ুর চাপ ঢাল মৃদু হওয়ায় বাতাসের বেগ কম থাকে, তবে ঝিরিঝিরি বৃষ্টিপাত কয়েকদিন ধরে একটানা চলে।

প্রশ্ন ৪: ওজোন স্তর ক্ষয়ের প্রধান কারণ ও দুটি ফলাফল উল্লেখ করো। (২ + ১)

উত্তর:

  • ওজোন ক্ষয়ের কারণ: রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ফোম ও স্প্রে থেকে নির্গত কৃত্রিম ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC), হ্যালন এবং সুপারসনিক জেট বিমান থেকে নির্গত নাইট্রোজেন অক্সাইড ($NO_x$) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছায়। সেখানে সূর্যের তীব্র অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে CFC ভেঙে সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু ($Cl$) তৈরি করে। একটিমাত্র সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু প্রায় এক লক্ষ ওজোন অণুকে ভেঙে সাধারণ অক্সিজেন গ্যাসে রূপান্তরিত করে ওজোন স্তর পাতলা বা ছিদ্র করে দেয়:

    $$CFCl_3 \xrightarrow{UV} CFCl_2 + Cl$$
    $$Cl + O_3 \rightarrow ClO + O_2$$
    $$ClO + O \rightarrow Cl + O_2$$
  • ক্ষতিকর ফলাফল:

    1. অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ভূ-পৃষ্ঠে এসে মানুষের ত্বকে মারাত্মক মেলানোমা ক্যানসার ও চোখে ছানি সৃষ্টি করে।

    2. সমুদ্রে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ধ্বংস হয়ে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে এবং উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ ব্যাহত হয়।

প্রশ্ন ৫: নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাত কেন ঘটে? একে ‘৪ ও ক্লক রেন’ বলে কেন?

উত্তর:

  • সংঘটনের কারণ: নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী অঞ্চলে সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং সেখানে জলভাগের বিস্তার অত্যন্ত বেশি। ফলে তীব্র তাপে জল বাষ্পীভূত হয়ে প্রচুর আর্দ্র বাতাস উল্লম্বভাবে সোজাসুজি ওপরে উঠে যায়। ওপরে ওঠার ফলে বায়ু দ্রুত শীতল ও প্রসারিত হয়ে ঘন কিউমুলোনিম্বাস মেঘে পরিণত হয় এবং পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়।

  • ‘৪ ও ক্লক রেন’ (4 O’clock Rain): সকাল থেকে সূর্যতাপে বায়ু ক্রমাগত গরম হয়ে বাষ্পীভূত হয়। দুপুর নাগাদ এই বাষ্প ওপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে বিশালাকার কালো কিউমুলোনিম্বাস মেঘ সৃষ্টি করে এবং প্রায় প্রতিদিন নিয়মিতভাবে বিকেল ৩টা থেকে ৪টের মধ্যে বিদ্যুৎ চমক ও বজ্রপাতসহ মুষলধারে প্রবল বর্ষণ ঘটায়। এই নির্দিষ্ট সময়ের কারণে একে ‘৪ ও ক্লক রেন’ বলা হয়।

@ বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৫. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫) 

প্রশ্ন ১: বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার তারতম্যের প্রধান তিনটি নিয়ন্ত্রক সম্পর্কে আলোচনা করো। (৫)

উত্তর:

পৃথিবীর সর্বত্র বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা একরকম নয়; স্থানভেদে ও ঋতুভেদে এর ব্যাপক তারতম্য ঘটে। বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার এই পার্থক্যের পেছনে প্রধান কারণগুলি নিম্নরূপ:

১. অক্ষাংশ বা সূর্যরশ্মির পতনকোণ (Angle of Sun’s Rays):

  • গোলকীয় পৃথিবীর আকারের কারণে বিভিন্ন অক্ষাংশে সূর্যরশ্মির পতনকোণ ভিন্ন হয়।

  • নিরক্ষরেখায় সারা বছর সূর্যরশ্মি লম্বভাবে ($৯০^\circ$) পড়ে। ফলে রশ্মিকে বায়ুমণ্ডলের কম পথ অতিক্রম করতে হয় এবং তা ক্ষুদ্র এলাকায় পুঞ্জীভূত হয়ে তীব্র উত্তাপ সৃষ্টি করে।

  • পক্ষান্তরে, নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে সূর্যরশ্মি ক্রমশ তির্যকভাবে পড়ে। তির্যক রশ্মিকে বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘ পথ ভেদ করে আসতে হয় এবং তা সুবিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় উত্তাপ অনেক কম হয়। তাই নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে।

২. উচ্চতা (Altitude):

  • বায়ুমণ্ডল প্রত্যক্ষভাবে সূর্যের রশ্মি দ্বারা উত্তপ্ত হয় না; বরং সূর্য থেকে আগত তাপ ভূ-পৃষ্ঠকে প্রথমে গরম করে এবং সেই উত্তপ্ত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে বিকিরণ ও পরিবহন পদ্ধতিতে বায়ুমণ্ডল নিচ থেকে ওপরে উত্তপ্ত হয়।

  • নিচের স্তরে বায়ুর ঘনত্ব, ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় তা বেশি তাপ ধরে রাখতে পারে। ওপরের দিকে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অত্যন্ত কম থাকায় তাপ দ্রুত মহাশূন্যে হারিয়ে যায়।

  • এই কারণে ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১০০০ মিটার (১ কিমি) উচ্চতা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা গড়ে ৬.৪°C হারে হ্রাস পায়। একে ‘স্বাভাবিক উষ্ণতা হ্রাসের হার’ (Normal Lapse Rate) বলে। এই কারণেই একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও সমভূমির আগ্রার তুলনায় পাহাড়ি অঞ্চলের দার্জিলিং অনেক শীতল।

৩. জলভাগ ও স্থলভাগের বণ্টন (Land and Water Distribution):

  • জল এবং স্থলের তাপগ্রাহিতা সমান নয়। কঠিন মাটি বা শিলাভাগের আপেক্ষিক তাপ কম হওয়ায় তা দ্রুত উত্তপ্ত হয় এবং দ্রুত তাপ ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে যায়। পক্ষান্তরে, স্বচ্ছ ও তরল জলভাগ ধীরে ধীরে গরম হয় এবং ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়।

  • ফলে সমুদ্রের তীরবর্তী অঞ্চলগুলিতে জলবায়ু সবসময় মৃদুভাবাপন্ন বা সমভাবাপন্ন প্রকৃতির হয় (যেমন—মুম্বই বা কলকাতা)। কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরবর্তী মহাদেশের অভ্যন্তরভাগে গ্রীষ্মকালে তীব্র গরম এবং শীতকালে তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হয়, যাকে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে (যেমন—দিল্লি)।

           [উচ্চতা বৃদ্ধি]                    [সূর্যরশ্মির পতনকোণ]
       উচ্চ পর্বত : অতি শীতল            মেরু অঞ্চল  : তির্যক রশ্মি (কম তাপ)
           / \                                     \  \
          /   \                                     \  \
         /     \                                     ======
        / সমভূমি \ : উষ্ণ               নিরক্ষরেখা : লম্বালম্বি রশ্মি (প্রবল তাপ)
       -----------                                   |||||

@ বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

প্রশ্ন ২: পৃথিবীর প্রধান নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলির সঙ্গে চাপবলয়ের সম্পর্ক চিত্রসহ আলোচনা করো। (৫)

উত্তর:

যে বায়ুপ্রবাহ সারা বছর ধরে নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট গতিবেগে এবং নির্দিষ্ট দিকে পৃথিবীর স্থায়ী উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। পৃথিবীর সাতটি স্থায়ী চাপবলয়ের সাথে ভারসাম্য রেখে প্রধানত তিন প্রকার নিয়ত বায়ু প্রবাহিত হয়:

১. আয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু (Trade Winds):

  • কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় ($২৫^\circ-৩৫^\circ$) থেকে অপেক্ষাকৃত ভারী ও ঠান্ডা বাতাস নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের ($০^\circ-৫^\circ$) দিকে প্রবাহিত হয়।

  • ফেরেলের সূত্রানুসারে, উত্তর গোলার্ধে এটি ডানদিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁদিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু রূপে প্রবাহিত হয়। প্রাচীনকালে পালতোলা বাণিজ্য জাহাজ এই বাতাসের ওপর নির্ভর করে চলাচল করত বলে একে বাণিজ্য বায়ু বলা হয়।

২. পশ্চিমা বায়ু (Westerlies):

  • কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে উষ্ণ বাতাস দুই গোলার্ধের উপমেরু নিম্নচাপ বলয়ের ($৬০^\circ-৬৫^\circ$) দিকে ছুটে যায়।

  • ফেরেলের সূত্রানুযায়ী উত্তর গোলার্ধে এটি ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁদিকে বেঁকে উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু নামে প্রবাহিত হয়।

  • দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি থাকায় কোনো ভূখণ্ডের বাধা ছাড়া এই বাতাস প্রচণ্ড গর্জন সহকারে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। তাই ৪০° দক্ষিণ অক্ষাংশে একে ‘গর্জনশীল চল্লিশা’ (Roaring Forties) এবং ৫০° দক্ষিণ অক্ষাংশে ‘ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশ’ (Furious Fifties) বলা হয়।

৩. মেরু বায়ু (Polar Winds):

  • উত্তর ও দক্ষিণ মেরুদেশীয় স্থায়ী বরফাবৃত উচ্চচাপ বলয় ($৮০^\circ-৯০^\circ$) থেকে অতি শীতল ও ভারী বরফকণা যুক্ত বাতাস দুই গোলার্ধের উপমেরু নিম্নচাপ বলয়ের দিকে ধাবিত হয়।

  • ফেরেলের সূত্রে বেঁকে উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব মেরু বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়। এটি অত্যন্ত শুষ্ক ও তুষারঝড় সৃষ্টিকারী বায়ু।

                                [চাপবলয় ও নিয়ত বায়ুপ্রবাহ]
  
  (৯০° উ:)  ----------------- [ উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় ] -----------------
                 \   \   \  (উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু)
  (৬০°-৬৫° উ:) -------------- [ উত্তর উপমেরু নিম্নচাপ বলয় ] --------------
                 /   /   /  (দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু)
  (২৫°-৩৫° উ:) -------------- [ কর্কটীয় শান্ত উচ্চচাপ বলয় ] --------------
                 \   \   \  (উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু)
  (০°-৫°)    =============== [ নিরক্ষীয় শান্ত নিম্নচাপ বলয় ] ===============
                 /   /   /  (দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু)
  (২৫°-৩৫° দ:) -------------- [ মকরীয় শান্ত উচ্চচাপ বলয় ] --------------
                 \   \   \  (উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু)
  (৬০°-৬৫° দ:) -------------- [ দক্ষিণ উপমেরু নিম্নচাপ বলয় ] --------------
                 /   /   /  (দক্ষিণ-পূর্ব মেরু বায়ু)
  (৯০° দ:)  ----------------- [ দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয় ] -----------------

উপসংহার:

পৃথিবীর এই চাপবলয় এবং নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলি পরস্পরের পরিপূরক। সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের সাথে সাথে চাপবলয়গুলি সামান্য স্থান পরিবর্তন করলে এই নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলিরও ৫° থেকে ১০° সীমানা পরিবর্তন ঘটে, যা সমগ্র পৃথিবীর জলবায়ু ও বৃষ্টিপাতের ধরনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)

বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর

বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ, SAQ , ২ নম্বরের প্রশ্ন, ৩ নম্বরের প্রশ্ন, ৫ নম্বরের প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232

১) মাধ্যমিক ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় – বায়ুমন্ডল (Only for Subscribers) 

Click here to view pdf file

সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে

তালনবমী MCQ

আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে। @ বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।

জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে। @ বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক। @ বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।

আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ বায়ুমন্ডল প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করার প্রচেষ্টা করবেন না !
Scroll to Top