ছেলেবেলা প্রশ্নের উত্তর
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্য পাতাবাহার গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ছেলেবেলা প্রশ্নের উত্তর WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই থেকে ছেলেবেলা পাঠ্যাংশটি পড়ে নিয়ে নিম্নে প্রদান করা ছেলেবেলা প্রশ্নের উত্তর সমাধান করবে।
ছেলেবেলা প্রশ্নের উত্তর :
ক) কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের বাড়িটি কী নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ?
উত্তরঃ কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের বাড়িটি জোঁড়াসাকোর ঠাকুরবাড়ি নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটোদের জন্য লিখেছেন এমন দুটি বইয়ের নাম লেখো ।
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটোদের জন্য লিখেছেন এমন দুটি বইয়ের নাম হল ‘সহজপাঠ’ ও ‘ছেলেবেলা’ ।
গ) ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত কোন দুটি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন ?
উত্তরঃ ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত ‘ভারতী’ ও ‘বালক’ পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন ।
১) সঠিক উত্তরটি বেছে নাওঃ
১.১) ‘চিলেকোঠা’ হল (কাঠের ঘর/ তেতালার ঘর/ ছাদের উপর সিঁড়ির ঘর/ বসবার ঘর) ।
উত্তরঃ সিঁড়ির ঘর
১.২) ভারতবর্ষের বিখ্যাত মরুভূমিটি হল (গোবি/ সাহারা/ থর) ।
উত্তরঃ থর
১.৩) লিভিংস্টন ছিলেন (ইতালি/ জার্মানি/ ইংল্যান্ড/ স্কটল্যান্ড) দেশের মানুষ ।
উত্তরঃ স্কটল্যান্ড
১.৪) জুড়িগাড়ি হল (ঘোড়ায় টানা / হাতিতে টানা/ যন্ত্রচালিত/ গরুতে টানা) গাড়ি ।
উত্তরঃ ঘোড়ায় টানা
২) স্তম্ভ মিলঃ
উত্তরঃ
ক | খ |
কেতাব | বই |
মরুভূমি | শুষ্ক জলহীন স্থান |
ওয়েসিস | মরুদ্যান |
সইস | ঘোড়াকে দেখাশোনা করার লোক |
চৌকিদার | পাহারাদার |
৩) বেমানান শব্দ খোঁজাঃ
৩.১) পুকুরের পাতিহাঁস, ঘাটে লোকজনের আনাগোনা, অর্ধেক পুকুর জোড়া বট গাছের ছাওয়া, জুড়িগাড়ির সইস।
উত্তরঃ জুড়িগাড়ির সইস
৩.২) তেতালা ঘর, সাত সমুদ্দুর, সেকেন্ড ক্লাস, পিলপে্গাড়ি।
উত্তরঃ সাত সমুদ্দুর
৩.৩) চুড়িওয়ালা, ফেরিওয়ালা, সইস, বালক সন্ন্যাসী।
উত্তরঃ বালক সন্ন্যাসী
৩.৪) পিলপে্গাড়ি, জুড়িগাড়ি, রিক্শ, গাড়িবারান্দা।
উত্তরঃ গাড়িবারান্দা
৩.৫) চিল, রোদ্দুর, দুপুর, লোকবসতি।
উত্তরঃ লোকবসতি
৪) পাঠ্যাংশে থাকা পাঁচটি ইংরেজি শব্দঃ
উত্তরঃ
রেলিঙ
সোফা
সেকেন্ড
ক্লাস
ওয়েসিস
৫) ‘চুড়িওয়ালা’ (চুড়ি+ওয়ালা), ‘ফেরিওয়ালা’ (ফেরি+ওয়ালা) এরকম শব্দের শেষে ‘ওয়ালা’ যোগ করে পাঁচটি নতুন শব্দঃ
উত্তরঃ
বাড়িওয়ালা
রিক্শওয়ালা
দুধওয়ালা
সব্জিওয়ালা
বাসনওয়ালা
৬) শূন্যস্থান পূরণ করোঃ
৬.১) রাঙা হয়ে আসত রোদ্দুর , চিল ডেকে যেত আকাশে।
৬.২) আমার জীবনে বাইরের খোলা ছাদ ছিল প্রধান ছুটির দেশ।
৬.৩) নাবার ঘর তাকে যেন বাংলাদেশের শিশু লিভিংস্টন এইমাত্র খুঁজে বের করল।
৬.৪) এই ছাদের মরুভূমিতে তখন একটা ওয়েসিস দেখা দিয়েছিল।
৬.৫) নীচের দেউড়ির ঘন্টায় বাজল চারটে।
৭) বিশেষ্য ও বিশেষণ নির্ণয়ঃ
উত্তরঃ
বিশেষ্য | বিশেষণ |
চুড়ি | বেলোয়ারি |
মাদুর | ঝাঁকড়া |
গড়ন | বিবাগি |
পুকুর | দামি |
লোকজন | নীল |
গরম | |
ঘোলা |
৮) ক্রিয়া নির্ণয়ঃ
৮.১) হঠাৎ তাদের হাঁক পৌঁছত।
উত্তরঃ পৌঁছত
৮.২) সেইখানে অত্যন্ত একলা হয়ে বসতুম।
উত্তরঃ বসতুম
৮.৩) হাত গলিয়ে ঘরের ছিটকিনি দিতুম খুলে।
উত্তরঃ দিতুম খুলে
৮.৪) ধারাজাল পড়ত সকল গায়ে।
উত্তরঃ পড়ত
৮.৫) পুকুর থেকে পাতিহাঁসগুলো উঠে গিয়েছে।
উত্তরঃ উঠে গিয়েছে
৯) বাক্য রচনাঃ
প্রধান = গ্রাম প্রধান গ্রামের উন্নতির প্রচেষ্টা করেন।
দেশ = দেশ মায়ের মুক্তিকল্পে বিপ্লবীরা জীবন উৎসর্গ করেছেন।
বালিশ = বালিশে মাথা রেখে না শুলে, আমার ঘুম আসে না।
মরুভূমি = মরুভূমিতে ক্যাক্টাস গাছ দেখা যায়।
ধূলো = হঠাৎ বাতাসে চারিদিকে ধূলো উড়তে লাগলো।
১০) ‘গ্রহণ’ শব্দটিকে দুটি আলাদা অর্থে ব্যবহার করে পৃথক বাক্য রচনাঃ
উত্তরঃ
গ্রহণ (প্রাপ্তি) – সে আমার দেওয়া উপহারটি গ্রহণ করেছে।
গ্রহণ (গ্রাস) – এখনো অনেকে অন্ধবিশ্বাসী হয়ে গ্রহণের সময় কিছু খান না।
১১) বিপরীতার্থক শব্দঃ
আড়াল – প্রকাশ্য
চুপ – আওয়াজ
আনন্দ – দুঃখ
গলি – বড়ো রাস্তা
ফিকে – উজ্জ্বল
১২) অর্থঃ
মূর্তি = পাথর বা মাটি দিয়ে তৈরী কোনো প্রতিকৃতি
পিলপে্গাড়ি = হাতিতে টানা গাড়ি
বিবাগি = সংসার ত্যাগী
নাগাল = নৈকট্য
দেউড়ি = সদর দরজা
১৩) প্রতিশব্দঃ
পৃথিবী = অবনী, ধরণী, ধরিত্রী, বসুধা, বসুন্ধরা, ধরা, জগৎ, দুনিয়া, ভূবন, বিশ্ব
পাহাড় = পর্বত, গিরি, শৈল, শিখরী, শৃঙ্গী, শৃঙ্গধর, অচল, অদ্রি, ভূধর, গোত্র, মহীধর, মহীন্দ্র
আকাশ = গগন, শূন্য, শূন্যলোক, নভঃ, অম্বর, অনন্ত, অভ্র, নভোমণ্ডল, ব্যোম, নীলিমা
জল = পানি, বারি, সলিল, উদক, অম্বু, নীর, জীবন
গাছ = গাছ, তরু, দ্রুম, মহীরুহ, উদ্ভিদ, অটবি, বিটপী, পর্ণী, গাছপালা, পল্লবী
১৪) দুটি বাক্যে ভাঙাঃ
১৪.১) আমার পিতা যখন বাড়ি থাকতেন তাঁর জায়গা ছিল তেতালের ঘরে।
উত্তরঃ আমার পিতা মাঝে মাঝে বাড়ি থাকতেন। তাঁর জায়গা ছিল তেতালের ঘরে।
১৪.২) আমি লুকিয়ে ছাদে উঠতুম প্রায়ই দুপুরবেলায়।
উত্তরঃ আমি লুকিয়ে ছাদে উঠতুম। আমি প্রায়ই দুপুরবেলায় ছাদে উঠতুম।
১৪.৩) হঠাৎ তাদের হাঁক পৌঁছত, যেখানে বালিশের উপর খোলাচুল এলিয়ে দিয়ে শুয়ে থাকত বাড়ির বউ।
উত্তরঃ হঠাৎ তাদের হাঁক গিয়ে পৌঁছত। বালিশের উপর খোলাচুল এলিয়ে দিয়ে শুয়ে থাকত বাড়ির বউ।
১৪.৪) বিছানার একখানা চাদর নিয়ে গা মুছে সহজ মানুষ হয়ে বসতুম।
উত্তরঃ বিছানার একখানা চাদর নিয়ে গা মুছতুম। গা মুছে সহজ মানুষ হয়ে বসতুম।
১৪.৫) গরম বাতাস হু হু করে ছুটে যাচ্ছে ধুলো উড়িয়ে।
উত্তরঃ গরম বাতাস হু হু করে ছুটে যাচ্ছে। বাতাসে ধুলো উড়ছে।
১৫) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তরঃ
১৫.১) বালক রবীন্দ্রনাথের প্রধান ছুটির দেশ কী ছিল ?
উত্তরঃ ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’-এর লেখা ‘ছেলেবেলা’ গল্পে, বালক রবীন্দ্রনাথের প্রধান ছুটির দেশ ছিল তাঁর বাড়ির খোলা ছাদ।
১৫.২) তাঁর বাড়ির নীচতলায় বারান্দায় বসে রেলিঙের ফাঁক দিয়ে কী কী দেখা যেত ?
উত্তরঃ তাঁর বাড়ির নীচতলায় বারান্দায় বসে রেলিঙের ফাঁক দিয়ে রাস্তার লোক-চলাচল দেখা যেত।
১৫.৩) পাঠ্যাংশে ‘ওয়েসিস’ এর প্রসঙ্গ কীভাবে রয়েছে ?
উত্তরঃ গরমকালে দুপুরবেলা ছাদের উপর দিয়ে যখন গরম বাতাস হু হু করে ধুলো উড়িয়ে বয়ে যেত, তখন বালক লেখক রবীন্দ্রনাথের ছাদটাকে মরুভূমি আর তেতালার নাবার ঘর অর্থাৎ স্নান করার ঘরটাকে মনে হত ওয়েসিস।
১৫.৪) পাঠ্যাংশে রবীন্দ্রনাথের পিতার সম্পর্কে কী জানতে পারো ?
উত্তরঃ লেখক রবীন্দ্রনাথের পিতা ছিলেন ধার্মিক প্রকৃতির মানুষ। তিনি ভোরবেলা সূর্য ওঠার আগে হাত দুটি কোলে জোড় করে সাদা পাথরের মূর্তির মতো ছাদে চুপ করে বসে থাকতেন। মাঝে মাঝে তিনি অনেকদিনের জন্য পাহাড় পর্বতে চলে যেতেন।
১৫.৫) পিতার কলঘরের প্রতি ছোট্ট রবির আকর্ষণের কথা কী ভাবে জানা গেল ?
উত্তরঃ গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে ছোট্ট রবি তার পিতার স্নান ঘরটাকে মনে করত যেন মরুভূমির মধ্যে ওয়েসিস। সেখানে যেতে সে খুবই ভালোবাসত। সে মনে করত সেই ঘরটা যেন লিভিংস্টনের এইমাত্র খুঁজে পাওয়া নতুন দেশ। সেখানে গিয়ে সে স্নান করত এবং বিছানার একখানা চাদর নিয়ে গা মুছে ফেলত।
১৫.৬) ছুটি শেষের দিকে এসে পৌঁছলে রবির মনের ভাব কেমন হতো ?
উত্তরঃ ছুটি শেষের দিকে এসে পৌঁছলে রবির মনে হত রবিবারের বিকেলের আকাশটা বিশ্রী ভাবে মুখ বিগড়ে আছে। আর আসছে সোমবারের হাঁ-করা মুখের গ্রহণ লাগানো ছায়া যেন তাকে গিলতে শুরু করেছে।
১৫.৭) পাঠ্যাংশে কাকে, কেন বাংলাদেশের ‘শিশু লিভিংস্টন’ বলা হয়েছে ?
উত্তরঃ পাঠ্যাংশের লেখক ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ নিজের ছেলেবেলায় নিজেকে অর্থাৎ ছোট্ট রবিকে বাংলাদেশের ‘শিশু লিভিংস্টন’ বলেছেন। পাঠ্যাংশে ছোট্ট রবিকে বাংলাদেশের ‘শিশু লিভিংস্টন’ বলা হয়েছে কারণ ছোট্ট রবিও যেন ডেভিড লিভিংস্টনের মতো ছাদের ঘরে বসে ওয়েসিস আবিষ্কার করেছিল।