জাতি এবং জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর 2nd Semester Political science
জাতি এবং জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর 2nd Semester Political science আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাদের দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নের উত্তরগুলি ভালো করে তৈরি করবে। এখানে দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করা হলো।
আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি।
জাতি এবং জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর 2nd Semester Political science :
মান ২ প্রশ্নের উত্তরঃ
১. ‘Nation’ (জাতি) শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী?
উত্তর: ইংরেজি ‘Nation’ শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ‘Natio’ বা ‘Natus’ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এই শব্দগুলির মূল অর্থ হলো ‘জন্ম’ (Birth) বা ‘বংশোদ্ভূত’ (Race)। সুতরাং ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে জাতি বলতে সম-রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ বা একই বংশোদ্ভূত জনসমষ্টিকে বোঝায়।
২. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘জাতি’ (Nation) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: রাষ্ট্রবিজ্ঞানে জাতি হলো এমন একটি রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত জনসমাজ, যারা অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা বা ভৌগোলিক সান্নিধ্যের সূত্রে এক গভীর মানসিক ও জাতীয় ঐক্যের অনুভূতির দ্বারা আবদ্ধ এবং যারা সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে বা সার্বভৌমত্ব অর্জনে সচেষ্ট।
৩. জনসমাজ (Nationality) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: জনসমাজ হলো এমন এক মানবগোষ্ঠী, যারা ঐতিহাসিক বিবর্তন, ভাষা, সাহিত্য, ধর্ম বা ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে নিজেদের মধ্যে এক নিবিড় মানসিক ও আধ্যাত্মিক ঐক্যে বিশ্বাসী। জনসমাজ হলো জাতির প্রাথমিক স্তর; এতে রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রগঠনের উপাদান তখনও চূড়ান্ত রূপ নেয় না।
৪. জনসমাজ ও জাতির মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর: জনসমাজ ও জাতির মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য হলো—
- জনসমাজ প্রধানত একটি মানসিক বা সাংস্কৃতিক ধারণা; কিন্তু জাতি হলো সাংস্কৃতিক ঐক্যের সঙ্গে রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের সমন্বিত রূপ।
- প্রতিটি জাতির নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক সংগঠন থাকে বা গঠনের আকাঙ্ক্ষা থাকে, কিন্তু জনসমাজের নিজস্ব রাষ্ট্র না-ও থাকতে পারে।
৫. জাতীয়তাবোধ (National Sentiment) কাকে বলে?
উত্তর: জাতীয়তাবোধ হলো কোনো জনসমাজের সদস্যদের মধ্যে গড়ে ওঠা এক গভীর মানসিক, আধ্যাত্মিক ও ভাবগত একাত্মতাবোধ। এই অনুভূতির ফলে সেই জনসমাজ নিজেদের অন্যান্য জনসমাজ থেকে স্বতন্ত্র মনে করে এবং নিজেদের মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য ভ্রাতৃত্ববোধ অনুভব করে।
৬. জাতীয়তাবাদ (Nationalism) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: জাতীয়তাবাদ হলো জাতীয়তাবোধের এমন এক সক্রিয় রাজনৈতিক ও আদর্শগত রূপ, যার মাধ্যমে কোনো জনসমাজ নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবতীর্ণ হয় অথবা নিজের স্বতন্ত্র জাতীয় ঐতিহ্য ও স্বার্থ রক্ষা করতে উদ্বুদ্ধ হয়।
৭. জাতীয়তাবাদের দুটি ইতিবাচক দিক উল্লেখ করো।
উত্তর: জাতীয়তাবাদের দুটি ইতিবাচক দিক হলো—
- এটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে গভীর দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও সামাজিক সংহতি গড়ে তোলে।
- এটি সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বিদেশি শোষণের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
৮. উগ্র বা সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের দুটি বিপদ উল্লেখ করো।
উত্তর: উগ্র বা বিকৃত জাতীয়তাবাদের দুটি বড় বিপদ হলো—
- এটি অন্ধ স্বজাতিপ্রীতি ও অন্য জাতির প্রতি হিংসা-বিদ্বেষের জন্ম দেয়, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও সৌহার্দ্যকে বিনষ্ট করে।
- উগ্র জাতীয়তাবাদ সাম্রাজ্যবাদী বিস্তার ও রক্তক্ষয়ী বিশ্বযুদ্ধের জন্ম দিতে পারে (যেমন ফ্যাসিবাদের ও নাৎসিবাদের উত্থান)।
৯. জাতীয় জনসমাজ গঠনে ভৌগোলিক ঐক্যের ভূমিকা কী?
উত্তর: দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ভূখণ্ডে একসাথে বসবাস করার ফলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মেলামেশা, নির্ভরতা ও আন্তরিকতা তৈরি হয়। নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা একটি জনসমাজকে নিজেদের সাধারণ মাতৃভূমি হিসেবে ভালোবাসতে শেখায় এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে।
১০. ভাষাভিত্তিক ঐক্য জাতীয় জনসমাজ গঠনে কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর: ভাষা হলো মনের ভাব ও অনুভূতি প্রকাশের সর্বপ্রধান মাধ্যম। অভিন্ন ভাষায় কথা বলা মানুষ একে অপরের সুখ-দুঃখ সহজেই ভাগ করে নিতে পারে। অভিন্ন সাহিত্য ও ভাষার আদান-প্রদান মানসিক সান্নিধ্য বৃদ্ধি করে জাতীয়তাবোধকে তীব্র করে তোলে।
@ জাতি এবং জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
১১. রক্তের বা বংশগত সম্পর্ক কি জাতি গঠনের জন্য অপরিহার্য?
উত্তর: রক্তের বা বংশগত সম্পর্ক জাতি গঠনের জন্য কোনো অপরিহার্য উপাদান নয়। বর্তমান বিশ্বে কোনো জাতিই পুরোপুরি বিশুদ্ধ রক্তের দাবি করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বংশ ও রক্তের মানুষের সংমিশ্রণে গড়ে উঠলেও সেখানে এক শক্তিশালী জাতি গঠিত হয়েছে।
১২. জাতি গঠনে ধর্মের ভূমিকা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: অতীতে এক ধর্মের অনুসারী মানুষের মধ্যে সংহতি গড়ে তুলতে ধর্ম অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে। তবে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ধর্ম জাতি গঠনের একমাত্র বা অপরিহার্য শর্ত নয়; ভারতে বহু ধর্মের মানুষ থাকা সত্ত্বেও এক অভিন্ন ভারতীয় জাতিসত্তা বিদ্যমান।
১৩. ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ঐক্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো জনসমষ্টি যখন দীর্ঘকাল ধরে এক সাধারণ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রামের স্মৃতি এবং জাতীয় বীরদের স্মৃতিচারণায় অংশ নেয়, তখন তাদের মনে ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ঐক্য তৈরি হয়। সম্মিলিত আনন্দ-বেদনার অতীত ইতিহাস জাতীয় চেতনাকে অটুট রাখে।
১৪. রাজনৈতিক চেতনা কীভাবে জনসমাজকে জাতিতে রূপান্তরিত করে?
উত্তর: কোনো জনসমাজ কেবল মানসিক ঐক্য নিয়ে অনির্দিষ্টকাল থাকতে পারে, কিন্তু যখন সেই জনসমাজের মধ্যে নিজস্ব রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ার তীব্র চেতনা জন্মায়, তখনই তা পূর্ণাঙ্গ ‘জাতি’তে পরিণত হয়।
১৫. জাতি গঠনের আত্মিক বা মনোগত উপাদানটি কী?
উত্তর: রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আর্নেস্ট রেনাঁর মতে, জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় উপাদান হলো একটি মানসিক ও আত্মিক অনুভূতি— অর্থাৎ ‘একত্রে বাস করার অবিচল ইচ্ছা’ এবং ‘অতীতের সাধারণ স্মৃতি সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার অঙ্গীকার’।
@ জাতি এবং জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
১৬. আর্নেস্ট রেনাঁ জাতিকে ‘প্রতিদিনের গণভোট’ (Daily Plebiscite) কেন বলেছেন?
উত্তর: রেনাঁর মতে, জাতি কোনো জড় বস্তু বা স্থায়ী ভৌগোলিক রূপ নয়; এটি মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা ও পারস্পরিক সম্মতির এক জীবন্ত প্রকাশ। নাগরিকরা প্রতিদিন তাদের আনুগত্য ও সহাবস্থানের ইচ্ছার মাধ্যমে জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে বলেই তিনি একে ‘প্রতিদিনের গণভোট’ বলেছেন।
১৭. আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার (Right to Self-determination) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বলতে বোঝায় যে প্রতিটি স্বতন্ত্র জনসমাজের নিজস্ব রাজনৈতিক ভাগ্য, ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা নিজেদের ইচ্ছামতো বেছে নেওয়ার অবিচ্ছেদ্য অধিকার রয়েছে। সহজ কথায়, এটি প্রতিটি জাতির নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের অধিকার।
১৮. আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে দুটি যুক্তি দাও।
উত্তর: আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে দুটি যুক্তি হলো—
- এই নীতি পরাধীন ও শোষিত জাতিকে বিদেশি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি পেতে নৈতিক ও আইনগত ভিত্তি দেয়।
- প্রতিটি জাতির নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে স্বাধীনভাবে রক্ষা ও বিকাশ করার সুযোগ সৃষ্টি করে।
১৯. আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিপক্ষে দুটি যুক্তি উল্লেখ করো।
উত্তর: আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিপক্ষে দুটি প্রধান যুক্তি হলো—
- এই নীতি অন্ধভাবে প্রয়োগ করলে বহুজাতির সমন্বয়ে গঠিত আধুনিক বৃহৎ রাষ্ট্রগুলি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
- বিশ্বের প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আলাদা রাষ্ট্র পরিচালনার মতো অর্থনৈতিক ও সামরিক সামর্থ্য থাকে না।
২০. “এক জাতি, এক রাষ্ট্র” (One Nation, One State) নীতিটির মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: এই নীতির মূল বক্তব্য হলো— প্রতিটি স্বতন্ত্র জাতি বা জনসমাজের জন্য কেবল একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র থাকবে এবং একটি রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে কেবলমাত্র একটি একক জাতিই বসবাস করবে। জন স্টুয়ার্ট মিল এই নীতির অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন।
@ জাতি এবং জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
মান ৪ প্রশ্নের উত্তরঃ
প্রশ্ন ১: আর্নেস্ট রেনাঁর ‘জাতি’ সংক্রান্ত মনোগত তত্ত্বটি সংক্ষেপে লেখো। (মান: ৪)
উত্তর:
ফরাসি দার্শনিক আর্নেস্ট রেনাঁ ১৮৮২ সালে প্যারিসের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতা ‘What is a Nation?’ (জাতি কী?)-এ জাতি গঠনে বস্তুগত উপাদানের পরিবর্তে আত্মিক ও মানসিক উপাদানকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন।
১. বস্তুগত উপাদানের অসারতা:
রেনাঁ তাঁর তত্ত্বে প্রমাণ করেছেন যে বংশ বা রক্ত, ভাষা, ধর্ম এবং ভৌগোলিক সীমারেখা— এগুলির কোনোটিই একটি জাতির স্থায়িত্বের চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দিতে পারে না। রক্ত বিশুদ্ধ থাকে না, একই ভাষায় বহু জাতি কথা বলে, এবং এক ধর্মে থেকেও মানুষ আলাদা জাতি গঠন করতে পারে।
২. জাতির দুটি আত্মিক মূল ভিত্তি:
রেনাঁর মতে জাতি হলো একটি আত্মিক ও মানসিক সত্তা (A Spiritual Principle), যা প্রধানত দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে:
অতীতের সাধারণ স্মৃতি: অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, পূর্বপুরুষদের মহৎ আত্মত্যাগ এবং সম্মিলিত দুঃখ-কষ্টের স্মৃতি।
বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্মতি: বর্তমানে একসঙ্গে সুখে-দুঃখে বাস করার আন্তরিক ইচ্ছা এবং সেই সাধারণ উত্তরাধিকারকে অক্ষুণ্ণ রেখে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প।
৩. ‘প্রতিদিনের গণভোট’ (Daily Plebiscite):
রেনাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি হলো— “একটি জাতির অস্তিত্ব হলো এক নিরবচ্ছিন্ন বা প্রতিদিনের গণভোট।” এর অর্থ হলো, জাতি কোনো জড় বস্তু নয়; দেশের নাগরিকরা তাদের স্বাধীন ইচ্ছা, আনুগত্য এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের মানসিকতার মাধ্যমেই প্রতিদিন জাতির অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে।
৪. মূল্যায়ন:
রেনাঁর এই ব্যাখ্যা জাতি সম্পর্কে সব ধরনের সংকীর্ণ বর্ণবাদী বা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে বাতিল করে দিয়ে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা ও নৈতিক অনুভূতিকে জাতির আসল প্রাণশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
@ জাতি এবং জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
প্রশ্ন ২: জাতীয়তাবাদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলি সংক্ষেপে লেখো। ($২ + ২ = ৪$)
উত্তর:
জাতীয়তাবাদ আধুনিক বিশ্বের একটি প্রবল শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি। মানুষের সমাজবিকাশে এর যেমন বহু গঠনমূলক ভূমিকা রয়েছে, তেমনি এর অপপ্রয়োগে ধ্বংসাত্মক পরিণতিও ঘটতে পারে।
জাতীয়তাবাদের ইতিবাচক দিক:
১. দেশপ্রেম ও সামাজিক সংহতি: জাতীয়তাবাদ দেশের বিভিন্ন ভাষা, বর্ণ বা অঞ্চলের মানুষের ভেদাভেদ দূর করে এক গভীর ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সংহতি গড়ে তোলে। দেশের সংকটে নাগরিকদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে।
২. শোষণ ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি: সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলন সংগঠিত করার মূল চালিকাশক্তি হলো জাতীয়তাবাদ। পরাধীন জাতিকে আত্মমর্যাদা ও অধিকার সচেতন করতে এর ভূমিকা অনন্য।
জাতীয়তাবাদের নেতিবাচক দিক:
১. উগ্র স্বজাত্যবোধ ও পরজাতিবিদ্বেষ: জাতীয়তাবাদ যখন বিকৃত বা উগ্র রূপ নেয়, তখন তা অন্ধ অহংকারের জন্ম দেয় এবং অন্য জাতিকে নিকৃষ্ট ভাবতে শেখায়। ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ে।
২. সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধ: উগ্র জাতীয়তাবোধ প্রায়শই সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্ররোচনা দেয়। বিংশ শতাব্দীর দুটি বিশ্বযুদ্ধ এবং ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের উত্থান ছিল এই সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদেরই ধ্বংসাত্মক পরিণতি।
প্রশ্ন ৩: জনসমাজ ও জাতির মধ্যকার মূল পার্থক্যগুলি আলোচনা করো। (মান: ৪)
উত্তর:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘জনসমাজ’ (Nationality) এবং ‘জাতি’ (Nation)— ধারণাদুটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত হলেও উভয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও গুণগত পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. প্রকৃতিগত পার্থক্য:
জনসমাজ হলো মূলত একটি মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারণা। অভিন্ন ভাষা, ধর্ম, বংশ বা ভৌগোলিক সান্নিধ্যের সূত্রে একাত্মবোধে আবদ্ধ মানবগোষ্ঠীকে জনসমাজ বলে। পক্ষান্তরে, জাতি হলো একটি সমন্বিত রাজনৈতিক রূপ— অর্থাৎ জনসমাজের সঙ্গে যখন রাজনৈতিক চেতনা ও সার্বভৌমত্বের আকাঙ্ক্ষা বা প্রতিষ্ঠা যুক্ত হয়, তখনই তা জাতিতে পরিণত হয়।
২. রাজনৈতিক সংগঠনের উপস্থিতি:
একটি জনসমাজ নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন বা সরকার ছাড়াও কেবল সাংস্কৃতিক ঐক্যের ভিত্তিতে অনির্দিষ্টকাল টিকে থাকতে পারে। কিন্তু জাতির অস্তিত্বের সঙ্গে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক সংগঠন, শাসনব্যবস্থা বা নিজস্ব রাষ্ট্র অপরিহার্যভাবে জড়িত।
৩. সার্বভৌমত্বের অধিকার:
জনসমাজের সার্বভৌম ক্ষমতা বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা না-ও থাকতে পারে; কোনো পরাধীন দেশেও একাধিক স্বতন্ত্র জনসমাজ বাস করতে পারে। পক্ষান্তরে, জাতি বলতে এমন একটি জনসমাজকে বোঝায় যারা ইতোমধ্যে সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করেছে অথবা সেই সার্বভৌমত্ব অর্জনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
৪. ধারণার বিবর্তনগত স্থান:
জনসমাজ হলো জাতির প্রাথমিক স্তর বা ভিত্তিপ্রস্তর। লর্ড ব্রাইসের ভাষায় যথাযথভাবে বলা যায়— “একটি জনসমাজ যখন রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে অথবা স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সচেষ্ট হয়, তখনই তা জাতিতে রূপান্তরিত হয়।” অর্থাৎ, জনসমাজ + রাজনৈতিক স্বাধীনতা = জাতি।
@ জাতি এবং জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN
প্রশ্ন ৪: জাতীয় জনসমাজ গঠনে সহায়ক প্রধান উপাদানগুলি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো। (মান: ৪)
উত্তর:
কোনো সাধারণ মানবগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর জাতীয় ঐক্য ও একাত্মতাবোধ গড়ে ওঠার পেছনে একাধিক প্রাকৃতিক ও সামাজিক উপাদানের সক্রিয় ভূমিকা থাকে। প্রধান উপাদানগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ভৌগোলিক সান্নিধ্য ও ঐক্য:
একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করার ফলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, মেলামেশা ও সামাজিক নির্ভরতা বাড়ে। এই সাধারণ বাসভূমি তাদের মনে গভীর দেশপ্রেম ও স্বজাত্যবোধের জন্ম দেয়।
২. অভিন্ন ভাষা ও সাহিত্য:
ভাষা হলো মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। অভিন্ন ভাষায় কথা বলার ফলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি ও মানসিক সান্নিধ্য দ্রুত গড়ে ওঠে। সাধারণ সাহিত্য, লোকগাথা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান জাতীয় চেতনাকে তীব্র করে।
৩. ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও অভিন্ন স্মৃতি:
দীর্ঘ ঐতিহাসিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা আনন্দ, বেদনা, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের সাধারণ ইতিহাস মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। কোনো জাতির পূর্বপুরুষদের গৌরবময় ইতিহাস অথবা বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াইয়ের স্মৃতি জাতীয় ঐক্যের মজবুত ভিত তৈরি করে।
৪. মনোগত বা মানসিক উপাদান:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আর্নেস্ট রেনাঁর মতে, বাহ্যিক উপাদানের চেয়ে সবচেয়ে বড় উপাদান হলো মানসিক বা আধ্যাত্মিক অনুভূতি— অর্থাৎ ‘একত্রে বসবাস করার সম্মিলিত ইচ্ছা’। এই গভীর আন্তরিক অনুভূতিই চূড়ান্ত পর্যায়ে একটি বিচ্ছিন্ন মানবগোষ্ঠীকে শক্তিশালী জাতীয় জনসমাজে পরিণত করে।
PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)
জাতি এবং জাতীয়তাবাদ প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। একাদশ শ্রেণির নোট সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232
১) মান ২ প্রশ্নের উত্তর – ৫০টি (Only for Subscribers)
২) মান ৬ প্রশ্নের উত্তর – ৬টি (Only for Subscribers)
একাদশ শ্রেণির সমস্ত বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে
আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে। @ জাতি এবং জাতীয়তাবাদ – WBNOTES.IN
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ জাতি এবং জাতীয়তাবাদ – WBNOTES.IN
আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন। @ জাতি এবং জাতীয়তাবাদ – WBNOTES.IN






