varat-prakritik-poribesh-question-answers

ভারত – প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রশ্নের উত্তর Class 10 Geography

ভারত – প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রশ্নের উত্তর Class 10 Geography এখানে WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে দশম শ্রেণির মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করা হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই ভূগোল প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।

আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি। 

ভারত – প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রশ্নের উত্তর Class 10 Geography : 

 

১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ) 

  1. ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম বিন্দু কোনটি?

    (ক) ইন্দিরা পয়েন্ট (খ) কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ (গ) কিবিথু (ঘ) গুহার মোতি

    উত্তর: (খ) কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ (৮°৪’ উ: অক্ষাংশ)

  2. ভারতের উত্তরতম বিন্দুটির নাম কী?

    (ক) কিবিথু (খ) ইন্দিরা কোল (গ) ইন্দিরা পয়েন্ট (ঘ) কন্যাকুমারিকা

    উত্তর: (খ) ইন্দিরা কোল (লাদাখ)

  3. ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমারেখা (৮২°৩০’ পূ:) কোন শহরের ওপর দিয়ে বিস্তৃত?

    (ক) এলাহাবাদ (প্রয়াগরাজ) (খ) কলকাতা (গ) দিল্লি (ঘ) চেন্নাই

    উত্তর: (ক) এলাহাবাদ (প্রয়াগরাজ)

  4. ভারত ও চীনের মধ্যকার আন্তর্জাতিক সীমারেখাটির নাম কী?

    (ক) ডুরান্ড লাইন (খ) র‍্যাডক্লিফ লাইন (গ) ম্যাকমোহন লাইন (ঘ) নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC)

    উত্তর: (গ) ম্যাকমোহন লাইন

  5. ভারতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?

    (ক) কাঞ্চনজঙ্ঘা (খ) গডউইন অস্টিন বা কে-টু (গ) নন্দাদেবী (ঘ) কামেট

    উত্তর: (খ) গডউইন অস্টিন বা কে-টু (৮,৬১১ মি.)

  6. ভারতের বর্তমান সীমানার মধ্যে অবস্থিত হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো—

    (ক) গডউইন অস্টিন (খ) কাঞ্চনজঙ্ঘা (গ) ধবলগিরি (ঘ) মাকালু

    উত্তর: (খ) কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮,৫৮৬ মি., সিকিম)

  7. ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বত কোনটি?

    (ক) হিমালয় (খ) আরাবল্লী (গ) পশ্চিমঘাট (ঘ) বিন্ধ্য

    উত্তর: (খ) আরাবল্লী পর্বত

  8. আরাবল্লী পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?

    (ক) গুরুশিখর (খ) ধূপগড় (গ) দোদাবেতা (ঘ) আনাইমুদি

    উত্তর: (ক) গুরুশিখর (১,৭২২ মি.)

  9. দক্ষিণ ভারতের বা পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?

    (ক) দোদাবেতা (খ) আনাইমুদি (গ) মহেন্দ্রগিরি (ঘ) কলসুবাই

    উত্তর: (খ) আনাইমুদি (২,৬৯৫ মি., আন্নামালাই পর্বত)

  10. নীলগিরি পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?

    (ক) আনাইমুদি (খ) দোদাবেতা (গ) অগস্ত্যমালাই (ঘ) কুদ্রেমুখ

    উত্তর: (খ) দোদাবেতা (২,৬৩৭ মি.)

  11. শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মধ্যবর্তী অনুদৈর্ঘ্য উপত্যকাকে কী বলে?

    (ক) তাল (খ) দুন (গ) ভাবর (ঘ) কারেওয়া

    উত্তর: (খ) দুন (যেমন—দেরাদুন)

  12. কাশ্মীর উপত্যকার ঝিলম নদীর অববাহিকায় হিমবাহ ও হ্রদজাত উর্বর পলিমাটিকে বলে—

    (ক) কারেওয়া (খ) ভাবর (গ) তরাই (ঘ) খাদার

    উত্তর: (ক) কারেওয়া (এখানে জাফরান চাষ ভালো হয়)

  13. শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশে নুড়ি-পাথরপূর্ণ ছিদ্রযুক্ত মাটির অঞ্চলকে বলে—

    (ক) ভাবর (খ) তরাই (গ) ভাঙর (ঘ) খাদার

    উত্তর: (ক) ভাবর

  14. উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চলের নবীন পলিমাটিকে কী বলা হয়?

    (ক) ভাঙর (খ) খাদার (গ) ভাবর (ঘ) বেট

    উত্তর: (খ) খাদার (পাঞ্জাবে একে ‘বেট’ বলে)

  15. ভারতের দীর্ঘতম নদী কোনটি?

    (ক) সিন্ধু (খ) ব্রহ্মপুত্র (গ) গঙ্গা (ঘ) গোদাবরী

    উত্তর: (গ) গঙ্গা (দৈর্ঘ্য ২,৫২৫ কিমি)

  16. কোন নদীকে ‘দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা’ বা ‘বৃদ্ধ গঙ্গা’ বলা হয়?

    (ক) কৃষ্ণা (খ) গোদাবরী (গ) কাবেরী (ঘ) মহানদী

    উত্তর: (খ) গোদাবরী

  17. ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি বা স্বাদু জলের হ্রদ কোনটি?

    (ক) চিল্কা (খ) উলার হ্রদ (গ) ডাল হ্রদ (ঘ) সম্বর

    উত্তর: (খ) উলার হ্রদ (জম্মু ও কাশ্মীর)

  18. ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ বা কয়াল কোনটি?

    (ক) চিল্কা (খ) পুলিকট (গ) ভেম্বানাদ (ঘ) কোলেরু

    উত্তর: (ক) চিল্কা (ওড়িশা)

  19. ভারতের বৃহত্তম লবণাক্ত জলের অন্তর্বাহিনী হ্রদ কোনটি?

    (ক) চিল্কা (খ) সম্বর হ্রদ (গ) লোকটাক (ঘ) লোনার

    উত্তর: (খ) সম্বর হ্রদ (রাজস্থান)

  20. ভারতের জলবায়ু মূলত কোন প্রকৃতির?

    (ক) ক্রান্তীয় মৌসুমি (খ) নাতিশীতোষ্ণ (গ) ভূমধ্যসাগরীয় (ঘ) মরু প্রকৃতির

    উত্তর: (ক) ক্রান্তীয় মৌসুমি

  21. মৌসুমি বিস্ফোরণ (Burst of Monsoon) প্রথম কোথায় ঘটে?

    (ক) পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে (খ) কেরালা উপকূলে (গ) তামিলনাড়ু উপকূলে (ঘ) ওড়িশা উপকূলে

    উত্তর: (খ) কেরালা উপকূলে (সাধারণত ১লা জুন নাগাদ)

  22. ভারতের কোন উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয়?

    (ক) মালাবার উপকূল (খ) করমণ্ডল বা তামিলনাড়ু উপকূল (গ) কোঙ্কণ উপকূল (ঘ) উত্তর সরকার উপকূল

    উত্তর: (খ) করমণ্ডল বা তামিলনাড়ু উপকূল

  23. ভারতে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbances) কোন ঋতুতে দেখা যায়?

    (ক) গ্রীষ্মকালে (খ) শরৎকালে (গ) শীতকালে (ঘ) বর্ষাকালে

    উত্তর: (গ) শীতকালে

  24. তুলা বা কার্পাস চাষের পক্ষে সবচেয়ে উপযোগী মৃত্তিকা কোনটি?

    (ক) ল্যাটেরাইট (খ) কৃষ্ণ বা রেগুর মৃত্তিকা (গ) পলি মৃত্তিকা (ঘ) লোহিত মৃত্তিকা

    উত্তর: (খ) কৃষ্ণ বা রেগুর মৃত্তিকা

  25. ভারতের কেন্দ্রীয় অরণ্য গবেষণাগার (FRI) কোথায় অবস্থিত?

    (ক) দেরাদুন (খ) জোড়হাট (গ) কলকাতা (ঘ) রাঁচি

    উত্তর: (ক) দেরাদুন (উত্তরাখণ্ড)

  26. ভারতের কেন্দ্রীয় মৃত্তিকা গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত?

    (ক) দেরাদুন (খ) যোধপুর (গ) পুনে (ঘ) নাগপুর

    উত্তর: (ক) দেরাদুন

  27. ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদ ভারতের কোথায় সর্বাধিক দেখা যায়?

    (ক) সুন্দরবন অঞ্চলে (খ) পশ্চিমঘাট পর্বতে (গ) দণ্ডকারণ্যে (ঘ) হিমালয় অঞ্চলে

    উত্তর: (ক) সুন্দরবন অঞ্চলে

  28. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য গড়ে ওঠার জন্য বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রয়োজন—

    (ক) ৫০–১০০ সেমি (খ) ১০০–১৫০ সেমি (গ) ২০০ সেমির বেশি (ঘ) ৫০ সেমির কম

    উত্তর: (গ) ২০০ সেমির বেশি

  29. ভারতের পশ্চিম উপকূলে কেরালায় বালিয়াড়ি দ্বারা আবদ্ধ ব্যাকওয়াটার বা উপহ্রদকে স্থানীয় ভাষায় বলে—

    (ক) কয়াল (খ) তাল (গ) খাদার (ঘ) ওয়াদি

    উত্তর: (ক) কয়াল (যেমন—ভেম্বানাদ কয়াল)

  30. পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রধান বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা হলো—

    (ক) ডিভিসি (DVC) (খ) ভাকরা নাঙ্গাল (গ) হিরাকুঁদ (ঘ) নাগার্জুন সাগর

    উত্তর: (ক) ডিভিসি (দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন)

@ ভারত – প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

২. একটি বাক্যে উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) 

  1. ক্ষেত্রফল অনুসারে পৃথিবীতে ভারতের স্থান কততম?

    উত্তর: সপ্তম স্থান (মোট ক্ষেত্রফল প্রায় ৩২,৮৭,২৬৩ বর্গ কিমি)।

  2. ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু ‘ইন্দিরা পয়েন্ট’ কোথায় অবস্থিত?

    উত্তর: গ্রেট নিকোবর দ্বীপে (৬°৪৫’ উ: অক্ষাংশে)।

  3. ভারতের সঙ্গে কোন প্রতিবেশী দেশের আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তের দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?

    উত্তর: বাংলাদেশের সঙ্গে (দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬.৭ কিমি)।

  4. ভারতের একমাত্র সক্রিয় আগ্নেয়গিরি কোনটি?

    উত্তর: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ব্যারণ দ্বীপ।

  5. দক্ষিণাত্যের মালভূমি লাভা গঠিত অঞ্চলটি কী নামে পরিচিত?

    উত্তর: ডেকান ট্র্যাপ (Trap কথার অর্থ সিঁড়ি)।

  6. পশ্চিমঘাট পর্বতের অপর নাম কী?

    উত্তর: সহ্যাদ্রি পর্বতমালা।

  7. ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহের নাম কী?

    উত্তর: কারাকোরাম পর্বতের সিয়াচেন হিমবাহ (দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৬ কিমি)।

  8. গঙ্গা নদী কোথা থেকে উৎপন্ন হয়েছে?

    উত্তর: উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ তুষারগুহা থেকে (ভাগীরথী নামে)।

  9. ভাগীরথী ও অলকানন্দা নদীর মিলনস্থলটির নাম কী?

    উত্তর: দেবপ্রয়াগ (উত্তরাখণ্ড)।

  10. ভারতের একটি পশ্চিমবাহিনী বা আরব সাগরে পতিত প্রধান নদীর নাম লেখো।

    উত্তর: নর্মদা নদী (বা তাপ্তি নদী)।

  11. নর্মদা নদীর ওপর গড়ে ওঠা বিখ্যাত জলপ্রপাতটির নাম কী?

    উত্তর: মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের কাছে ভেড়াঘাটে অবস্থিত ধুঁয়াধার জলপ্রপাত।

  12. ভারতের দীর্ঘতম বাঁধ কোনটি?

    উত্তর: ওড়িশায় মহানদীর ওপর নির্মিত হিরাকুঁদ বাঁধ।

  13. ভারতের উচ্চতম অভিকর্ষজ (Gravity) বাঁধ কোনটি?

    উত্তর: শতদ্রু নদীর ওপর নির্মিত ভাকরা বাঁধ।

  14. কালবৈশাখী ঝড় আসামে কী নামে পরিচিত?

    উত্তর: ‘বরদৈছিলা’ (Bordoisila)।

  15. দক্ষিণ ভারতে কফি চাষের উপযোগী প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিপাতকে কী বলে?

    উত্তর: চেরি ব্লসম বা কফি বৃষ্টি।

  16. মৌসুমি শব্দটি কোন মূল শব্দ থেকে এসেছে এবং এর অর্থ কী?

    উত্তর: আরবি শব্দ ‘মৌসিম’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘ঋতু’।

  17. মাটিতে থাকা কোন খনিজের উপস্থিতির কারণে কৃষ্ণ মৃত্তিকার রং কালো হয়?

    উত্তর: টাইটেনিফেরাস ম্যাগনেটাইট এবং সামান্য হিউমাসের উপস্থিতিতে।

  18. মরু অঞ্চলের বালুকাময় ও লবণাক্ত মাটিকে কী বলা হয়?

    উত্তর: সিরোজেম (Sirozem) মৃত্তিকা।

  19. শ্বাসমূল (Pneumatophore) ও জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম কোন জাতীয় উদ্ভিদে দেখা যায়?

    উত্তর: লবণাম্বু বা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে (যেমন—সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া)।

  20. ভারতের কোন অরণ্যে এশীয় সিংহ (Asiatic Lion) দেখতে পাওয়া যায়?

    উত্তর: গুজরাটের গির জাতীয় উদ্যানে।

@ ভারত – প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৩. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ২) 

১. ‘ডেকান ট্র্যাপ’ (Deccan Trap) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ক্রিটেশাস যুগে ভূগর্ভস্থ দীর্ঘ ফাটল দিয়ে নিঃসারী শান্ত লাভা নির্গত হয়ে ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিম অংশে প্রায় ৫ লক্ষ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে স্তরে স্তরে ব্যাসল্ট শিলার মালভূমি তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়ের ফলে এই মালভূমির পার্শ্বদেশ ধাপে ধাপে নেমে গেছে। সুইডিশ শব্দ ‘ট্র্যাপ’ কথার অর্থ ‘সিঁড়ি’। তাই এই সিঁড়ির মতো ধাপযুক্ত লাভা মালভূমিকে ডেকান ট্র্যাপ বলা হয়।

২. ভাবর (Bhabar) ও তরাই (Terai)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:

  • ভাবর: শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশে নদী দ্বারা বাহিত নুড়ি, পাথর ও বালি জমা হয়ে যে ৮-১৬ কিমি চওড়া সচ্ছিদ্র ভূমিভাগ গড়ে উঠেছে, তাকে ভাবর বলে। এখানে নদীগুলি মাটির নিচে অদৃশ্য হয়ে যায়।

  • তরাই: ভাবরের ঠিক দক্ষিণে যে স্যাঁতসেঁতে, জলাকীর্ণ, গভীর অরণ্যময় অঞ্চল দিয়ে ভূগর্ভস্থ নদীগুলি পুনরায় ভূ-পৃষ্ঠে আত্মপ্রকাশ করে, তাকে তরাই বলে।

৩. ‘দুন’ (Doon) কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: মধ্য হিমালয় (হিমাচল) এবং বহিঃহিমালয়ের (শিবালিক) সমান্তরাল উত্থানের ফলে তাদের মধ্যবর্তী স্থানে সংকীর্ণ, দীর্ঘ ও সমতল তলদেশযুক্ত যে অনুদৈর্ঘ্য উপত্যকা গড়ে উঠেছে, তাকে স্থানীয় ভাষায় ‘দুন’ বলা হয়। যেমন—উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন ভারতের বৃহত্তম দুন উপত্যকা।

৪. কয়াল (Kayal) কাকে বলে?

উত্তর: ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলবর্তী কেরালার মালাবার উপকূলে সমুদ্রের তরঙ্গের সঞ্চয়কাজে সৃষ্টি হওয়া বালিয়াড়ি দ্বারা সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গড়ে ওঠা অগভীর ও লবণাক্ত উপহ্রদ বা ব্যাকওয়াটারগুলিকে স্থানীয় ভাষায় ‘কয়াল’ বলে। যেমন—কেরালার ভেম্বানাদ কয়াল ও অষ্টমুদি কয়াল।

৫. গঙ্গার দুটি প্রধান উপনদী ও একটি প্রধান শাখানদীর নাম লেখো।

উত্তর:

  • উপনদী: যমুনা (গঙ্গার বৃহত্তম উপনদী), সোন, গণ্ডক, কোশী।

  • শাখানদী: ভাগীরথী-হুগলি নদী ও পদ্মা (বাংলাদেশে প্রবেশকারী মূল শাখা)।

৬. দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি খরস্রোতা কেন?

উত্তর: দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি মালভূমি অঞ্চলের কঠিন গ্রানাইট ও নিস শিলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং এদের গতিপথে বহু চ্যুতি ও খাড়া ঢাল থাকায় নদীগুলিতে প্রচুর জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নদীগুলির গতিপথের ঢাল বেশি হওয়ায় এগুলি অত্যন্ত খরস্রোতা এবং এদের জল জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পক্ষে অনুকূল।

৭. নর্মদা ও তাপ্তি নদীর মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি কেন?

উত্তর:

  • এই নদী দুটি মূলত কঠিন লাভা মালভূমির গ্রস্থ উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী দুটিতে বাহিত পলির পরিমাণ অত্যন্ত কম।

  • মোহনায় খাম্বাত উপসাগরে তীব্র সমুদ্রস্রোত ও প্রবল জোয়ার-ভাটার কারণে পলল সঞ্চিত হতে না পেরে গভীর সমুদ্রে ভেসে চলে যায়।

৮. করমণ্ডল উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয় কেন?

উত্তর: তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে গ্রীষ্মকালের শেষে (জুন-জুলাই মাসে) বঙ্গোপসাগরীয় শাখার ‘দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু’র প্রভাবে প্রথমবার বৃষ্টিপাত হয়। আবার শীতকালে (অক্টোবর-নভেম্বর মাসে) প্রত্যাবর্তনকারী ‘উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু’ বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে আসার সময় জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে করমণ্ডল উপকূলে বাধা পেয়ে দ্বিতীয়বার বৃষ্টিপাত ঘটায়।

৯. ‘মৌসুমি বিস্ফোরণ’ (Burst of Monsoon) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: জুন মাসের শুরুর দিকে উত্তর-পশ্চিম ভারতের গভীর নিম্নচাপের আকর্ষণে ভারত মহাসাগর থেকে আসা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আর্দ্র বাতাস হঠাৎ প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ ও তুমুল ঝড়বৃষ্টি সহকারে কেরালা ও পশ্চিম উপকূলে আছড়ে পড়ে। সাধারণ শুষ্ক আবহাওয়ার পর বর্ষার এই আকস্মিক ও বিধ্বংসী শুভারম্ভকে মৌসুমি বিস্ফোরণ বলে।

১০. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbances) কী?

উত্তর: শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত আর্দ্র ক্রান্তীয় নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত যখন উপক্রান্তীয় পশ্চিমী জেট বায়ু দ্বারা চালিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম ভারতে (পাঞ্জাব, হরিয়ানা, কাশ্মীর) প্রবেশ করে, তখন তাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে। এর প্রভাবে পাহাড়ে তুষারপাত ও সমভূমিতে মৃদু বৃষ্টিপাত ঘটে, যা গম চাষের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী।

১১. বৃষ্টির জল সংরক্ষণে তামিলনাড়ুর ভূমিকা কী?

উত্তর: তামিলনাড়ু হলো ভারতের প্রথম ও একমাত্র রাজ্য যেখানে প্রতিটি বাড়ির ছাদে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting) পরিকাঠামো নির্মাণ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সফল ব্যবস্থার ফলে রাজ্যের ভূগর্ভস্থ জলের স্তর পুনর্ভরণ করা সম্ভব হয়েছে এবং খরা মোকাবিলা সহজ হয়েছে।

১২. রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকার দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:

  • এই মাটিতে কাদামাটির ভাগ (ক্লে) বেশি থাকায় এর জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি এবং মাটি দীর্ঘদিন আর্দ্র থাকে।

  • শুকিয়ে গেলে এই মাটিতে গভীর ও চওড়া ফাটল দেখা দেয়, যার ফলে মাটি স্বাভাবিকভাবেই বাতাস চলাচলের উপযুক্ত হয়ে স্বয়ং-কর্ষিত হয়। এতে তুলো চাষ উৎকৃষ্ট হয়।

১৩. খাদার ও ভাঙরের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:

  • খাদার: নদীর প্লাবনভূমিতে প্রতি বছর বন্যায় জমা হওয়া উর্বর, নবীন পলিমাটিকে খাদার বলে। এটি হালকা রঙের এবং কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উর্বর।

  • ভাঙর: নদীর উপত্যকার থেকে উঁচুতে অবস্থিত প্রাচীন ও অনুর্ভর পলিমাটিকে ভাঙর বলে। এটি গাঢ় রঙের এবং এতে চুনাপাথরের নুড়ি বা ‘কঙ্কর’ বেশি থাকে।

১৪. সামাজিক বনসৃজন (Social Forestry) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গ্রামীণ মানুষের জ্বালানি কাঠ, পশুখাদ্য ও জীবিকার জোগান দেওয়ার উদ্দেশ্যে পতিত জমি, রাস্তার ধার, রেললাইনের পাশ ও খালের পাড়ে স্থানীয় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ করার কর্মসূচিকে সামাজিক বনসৃজন বলে (১৯৭৬ সালে ন্যাশনাল কমিশন অন এগ্রিকালচার এটি প্রথম গ্রহণ করে)।

১৫. ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের দুটি শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন লেখো।

উত্তর:

  • শ্বাসমূল: উপকূলের কাদা ও লবণাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় উদ্ভিদের মূল মাটির ওপরে খাঁড়ার মতো উঠে এসে বাতাসের অক্সিজেন গ্রহণ করে।

  • জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম: লবণাক্ত জলে বীজ ভাসলে নষ্ট হয়ে যাবে বলে ফল গাছে থাকা অবস্থাতেই বীজের অঙ্কুরোদ্গম সম্পন্ন হয় এবং ভারী হয়ে কাদামাটিতে গেঁথে যায়।

@ ভারত – প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৪. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: ৩) 

প্রশ্ন ১: ভারতের পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম উপকূলের সমভূমির মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

তুলনার বিষয়পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমিপূর্ব উপকূলীয় সমভূমি
১. বিস্তার ও রূপআরব সাগরের তীরে কচ্ছ থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি অত্যন্ত সংকীর্ণ (গড়ে ৫০-৬৫ কিমি)।বঙ্গোপসাগরের তীরে সুবর্ণরেখা থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি অনেক বেশি প্রশস্ত ও চওড়া (৮০-১০০ কিমি)।
২. বদ্বীপের উপস্থিতিনদীগুলি খরস্রোতা হওয়ায় মোহনায় কোনো বদ্বীপ গঠিত হয়নি; অসংখ্য খাড়ি ও খাঁদ রয়েছে।মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরীর মোহনায় সুবিশাল ও উর্বর বদ্বীপ সমভূমি গড়ে উঠেছে।
৩. ভূপ্রকৃতির বৈচিত্র্যবালিয়াড়ি ও ব্যাকওয়াটার বা কয়ালের (যেমন—ভেম্বানাদ) প্রাচুর্য দেখা যায়।উপকূল সোজা ও সমতল হওয়ায় কয়াল কম, তবে বড় বড় লেগুন বা উপহ্রদ (যেমন—চিল্কা, পুলিকট) বিদ্যমান।

প্রশ্ন ২: উত্তর ভারতের নদনদী ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীর মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য নির্দেশ করো।

উত্তর:

তুলনার বিষয়উত্তর ভারতের নদনদী (যেমন—গঙ্গা, সিন্ধু)দক্ষিণ ভারতের নদনদী (যেমন—গোদাবরী, কৃষ্ণা)
১. জলের উৎসহিমালয়ের হিমবাহের বরফগলা জলে এবং বর্ষার জলে পুষ্ট, তাই নদীগুলি নিত্যবহ (সারা বছর জল থাকে)।মালভূমির বৃষ্টিপাতের জলে পুষ্ট, তাই নদীগুলি অনিত্যবহ (গ্রীষ্মকালে জল শুকিয়ে প্রায় ক্ষীণ হয়ে যায়)।
২. গতিপথের পর্যায়দীর্ঘ গতিপথ জুড়ে উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন—নদীর তিনটি গতিই অত্যন্ত স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ।গতিপথ অপেক্ষাকৃত ছোট এবং অধিকাংশই পরিণত বা প্রাচীন অবস্থায় প্রবহমান; কোনো স্পষ্ট সমভূমি নিম্নগতি নেই।
৩. উপযোগিতাশান্ত প্রবাহ ও গভীরতার কারণে নদীগুলি অভ্যন্তরীণ জলপথ ও দীর্ঘ সেচখালের পক্ষে আদর্শ।খরস্রোতা হওয়ার কারণে নৌচলাচলের অনুপযোগী হলেও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপযোগী।

প্রশ্ন ৩: ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর তিনটি প্রধান প্রভাব সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর:

মৌসুমি বায়ু হলো ভারতের জলবায়ুর প্রকৃত প্রাণস্পন্দন:

  • ঋতুচক্রের পরিবর্তন: মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই ভারতে মূলত চারটি ঋতু আবর্তিত হয়—গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল, শরৎকাল (প্রত্যাবর্তন কাল) এবং শীতকাল।

  • বৃষ্টিপাতের অসম বণ্টন: ভারতের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০% ঘটে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে। তবে পাহাড়ের অবস্থান অনুযায়ী বৃষ্টিপাতের তীব্র তারতম্য ঘটে; যেমন—মেঘালয়ের মৌসিনরামে সর্বাধিক বৃষ্টি হলেও রাজস্থানের থর মরুভূমি প্রায় শুষ্ক থেকে যায়।

  • কৃষি ও অর্থনীতির ভিত্তি: ভারতের কৃষিব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে মৌসুমি বায়ুর সঠিক সময়ের আগমনের ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো বর্ষা হলে বাম্পার ফসল উৎপাদিত হয়, কিন্তু বর্ষার খামখেয়ালিপনায় খরা বা বন্যার সৃষ্টি হলে সমগ্র ভারতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় (এজন্য ভারতীয় বাজেটকে ‘মৌসুমি বায়ুর জুয়াখেলা’ বলা হয়)।

প্রশ্ন ৪: মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ এবং এর তিনটি প্রতিরোধের উপায় সংক্ষেপে লেখো। (১.৫ + ১.৫)

উত্তর:

  • মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ: অতিরিক্ত পরিমাণে বনভূমি ধ্বংস (Deforestation), অবৈজ্ঞানিকভাবে খাড়াই পাহাড়ে চাষাবাদ এবং পশুপালনের ফলে মাটির উপরিভাগের উর্বর স্তর বৃষ্টি ও বাতাসের ঘর্ষণে বিনষ্ট হচ্ছে।

  • মৃত্তিকা ক্ষয় প্রতিরোধের উপায়সমূহ:

    1. ধাপ চাষ ও সমন্বতি রেখা বরাবর চাষ: পাহাড়ি অঞ্চলে ঢাল বরাবর ধাপ কেটে এবং কন্ট্রোল লাইন ধরে জমি তৈরি করলে জলের প্রবাহের বেগ কমে মাটির ক্ষয় রোধ হয়।

    2. ফালি চাষ ও শস্যাবর্তন: জমিতে একই ফসল বারবার না লাগিয়ে শস্যের অদলবদল (শস্যাবর্তন) করা এবং মাটিকে ঢেকে রাখার জন্য কভার ক্রপ (ডালশস্য) ফালি আকারে চাষ করা।

    3. ব্যাপক বনসৃজন ও প্রতিরক্ষামূলক বেষ্টনী: পতিত জমিতে প্রচুর গাছ লাগানো এবং মরুপ্রান্তে বাতাসের গতি রুখতে কাটারির মতো গাছের ‘শেল্টার বেল্ট’ বা বায়ু প্রাচীর তৈরি করা।

প্রশ্ন ৫: ভারতের বনভূমি সংরক্ষণের তিনটি প্রধান উপায় উল্লেখ করো।

উত্তর:

ভারতের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অরণ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি:

  • অনিয়ন্ত্রিত বৃক্ষছেদন বন্ধ ও কঠোর আইন: পরিণত গাছ কাটার পর সমসংখ্যক বা তার চেয়ে বেশি নতুন চারা রোপণ বাধ্যতামূলক করা এবং সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত বনে চোরাচালান ও বেআইনি গাছ কাটা বন্ধে বনদপ্তরের পাহারা কঠোর করা।

  • দাবানল ও রোগবালাই প্রতিরোধ: শুকনো পাতা ও ঘর্ষণের ফলে লাগা দাবানল দ্রুত নেভাতে আধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং গাছের ক্ষতিকারক পোকা দমনে জৈব কীটনাশক প্রয়োগ করা।

  • সামাজিক বনসৃজন ও জেএফএম (JFM): স্থানীয় আদিবাসী ও বনবাসীদের সাথে নিয়ে যৌথ বন পরিচালনা (Joint Forest Management) গড়ে তোলা এবং গ্রামীণ পতিত জমিতে দ্রুত বর্ধনশীল গাছ লাগিয়ে বাণিজ্যিক কাঠের চাপ কমানো।

@ ভারত – প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

৫. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫)

প্রশ্ন ১: ভারতের পশ্চিম হিমালয় ও পূর্ব হিমালয়ের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক আলোচনা করো। (৫)

উত্তর:

হিমালয় পর্বতমালা ভারতের উত্তর সীমান্ত জুড়ে প্রায় ২,৪০০ কিমি দীর্ঘ একটি চাপাকারে অবস্থান করছে। প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের ভিত্তিতে একে মূলত পশ্চিম হিমালয় ও পূর্ব হিমালয়—এই দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

                            [হিমালয়ের প্রাকৃতিক বিভাজন]
  
      পশ্চিম হিমালয় (কাশ্মীর, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড)               পূর্ব হিমালয় (সিকিম, ভুটান, অরুণাচল)
  -------------------------------------------------     -------------------------------------------------
  - প্রস্থ অনেক বেশি (২৫০–৪০০ কিমি)                    - প্রস্থ তুলনামূলক সংকীর্ণ (১৫০–১৬০ কিমি)
  - ঢাল ক্রমশ মৃদু ও ধাপে ধাপে বিস্তৃত                 - ঢাল অত্যন্ত খাড়া ও আকস্মিক উল্লম্ব উত্থান
  - বৃষ্টিপাত কম, হিমরেখার উচ্চতা বেশি                 - আর্দ্র বাতাস প্রথমে ঢোকায় প্রবল বৃষ্টিপাত,
    (শুষ্ক আবহাওয়া)                                       হিমরেখার উচ্চতা অনেক কম (বরফ নিচে নামে)
  - উল্লেখযোগ্য পর্বতমালা: পীরপাঞ্জাল, জাস্কর, কারাকোরাম      - উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গ: কাঞ্চনজঙ্ঘা, নামচাবারওয়া
  - উপত্যকা: কাশ্মীর উপত্যকা, দেরাদুন                  - নদী উপত্যকা: গভীর গিরিখাতযুক্ত ব্রহ্মপুত্র খাত

১. বিস্তার ও প্রস্থের পার্থক্য:

  • পশ্চিম হিমালয়: সিন্ধু নদের বাঁক থেকে পূর্বে কালী নদী (নেপাল সীমান্ত) পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অংশটি অত্যন্ত চওড়া বা প্রশস্ত; এর গড় বিস্তার প্রায় ২৫০ থেকে ৪০০ কিমি।

  • পূর্ব হিমালয়: পূর্বে তিস্তা নদী থেকে ব্রহ্মপুত্রের বাঁক (নামচাবারওয়া) পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অংশটি অনেক বেশি সংকীর্ণ; এর গড় বিস্তার মাত্র ১৫০ থেকে ১৬০ কিমি।

২. ভূ-প্রকৃতি ও ঢাল:

  • পশ্চিম হিমালয়: একাধিক সমান্তরাল শৈলশিরা নিয়ে ধাপে ধাপে ওপরের দিকে উঠেছে। ফলে এর উত্থান ও ঢাল তুলনামূলকভাবে মৃদু। এখানে কাশ্মীর উপত্যকা, কারেওয়া সমভূমি এবং দেরাদুনের মতো সুবিশাল অনুদৈর্ঘ্য ‘দুন’ উপত্যকা দেখা যায়।

  • পূর্ব হিমালয়: সমভূমি থেকে হঠাৎ খাড়া দেওয়ালের মতো সোজা উঠে গেছে। এর ঢাল অত্যন্ত তীব্র ও চড়াই প্রকৃতির। শৈলশিরাগুলি খুব কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় নদীগুলি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও গভীর গিরিখাত তৈরি করেছে।

৩. বৃষ্টিপাত ও হিমরেখার উচ্চতা:

  • পশ্চিম হিমালয়: বঙ্গোপসাগর থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায় এখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক কম (গড়ে ৫০-১০০ সেমি)। জলবায়ু শুষ্ক প্রকৃতির। শুষ্কতার কারণে এখানে হিমরেখার উচ্চতা অনেক বেশি (প্রায় ৫,১০০ থেকে ৫,৮০০ মিটার ওপরে বরফ থাকে)।

  • পূর্ব হিমালয়: বঙ্গোপসাগরের খুব কাছে হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সরাসরি পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়ে এবং প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায় (বার্ষিক ২০০–৩০০ সেমি)। বাতাসে প্রচুর আর্দ্রতা থাকার কারণে এখানে হিমরেখা অনেক নিচে অবস্থিত (প্রায় ৪,০০০ থেকে ৪,৩০০ মিটার উচ্চতাতেই বরফ জমে যায়)।

৪. উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য:

  • পশ্চিম হিমালয়: কম বৃষ্টিপাতের কারণে চিরহরিৎ অরণ্য দেখা যায় না বললেই চলে; এখানে পাইন, ফার, দেবদারু, ওক প্রভৃতি সরলবর্গীয় ও আল্পীয় তৃণভূমির প্রাচুর্য বেশি।

  • পূর্ব হিমালয়: প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য পাহাড়ের নিচু অংশে ঘন ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য (শাল, সেগুন, রবার, বাঁশ) এবং ওপরে নাতিশীতোষ্ণ ও রডোডেনড্রনের গভীর বন দেখা যায়। ফলে এটি আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্যের হটস্পট (Hotspot)।

প্রশ্ন ২: ভারতে জলসেচের প্রয়োজনীয়তা কী? অতিরিক্ত জলসেচের ক্ষতিকর প্রভাবগুলি সংক্ষেপে লেখো। (৩ + ২)

উত্তর:

ক. ভারতে জলসেচের প্রধান প্রয়োজনীয়তা (মান: ৩):

ভারত একটি কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও কৃষিকাজে কৃত্রিম জলসেচের ওপর একান্তভাবে নির্ভর করতে হয়। এর কারণগুলি নিম্নরূপ:

১. মৌসুমি বায়ুর অনিশ্চয়তা ও খামখেয়ালিপনা: ভারতীয় কৃষি মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মৌসুমি বায়ু কোনো বছর নির্দিষ্ট সময়ের আগেই চলে আসে, আবার কোনো বছর দেরিতে আসে। অনাবৃষ্টি বা খরা দেখা দিলে কৃত্রিম জলসেচ ছাড়া ফসল বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।

২. বৃষ্টিপাতের অসম ভৌগোলিক বণ্টন: ভারতের সর্বত্র বৃষ্টিপাত সমান নয়। পশ্চিম রাজস্থান, গুজরাট, পাঞ্জাব ও দক্ষিণ ভারতের অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৫০ সেমিরও কম। এইসব শুষ্ক ও আধা-শুষ্ক অঞ্চলে চাষাবাদের জন্য জলসেচই একমাত্র ভরসা।

৩. শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন চাষ (শুষ্ক ঋতু): ভারতে মোট বৃষ্টিপাতের সিংহভাগই বর্ষাকালের চার মাসে সীমাবদ্ধ থাকে। শীতকালে গম, বার্লি, সরিষা (রবি শস্য) এবং প্রাক-গ্রীষ্মে বোরো ধান বা পাট (জায়েদ শস্য) চাষের জন্য সেচের জলের জোগান অপরিহার্য।

৪. উচ্চফলনশীল বীজের চাহিদা: সবুজ বিপ্লবের পর দেশে উচ্চফলনশীল জাতের বীজ (যেমন—IR-8 ধান, কল্যাণ সোনা গম) এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। এই শস্যগুলির স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সেচের জলের প্রয়োজন হয়।

খ. অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত জলসেচের ক্ষতিকর প্রভাব (মান: ২):

প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাল বা নলকূপের মাধ্যমে জমিতে জলসেচ করলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি সৃষ্টি হয়:

১. মাটির লবণাক্তকরণ ও ক্ষারত্ব বৃদ্ধি (Salinisation): শুষ্ক অঞ্চলে অতিরিক্ত সেচ দিলে কৈশিক প্রক্রিয়ায় (Capillary Action) মাটির নিচের খনিজ লবণ জলের সাথে গুলে ওপরে উঠে আসে। পরে জল বাষ্পীভূত হয়ে গেলে মাটির ওপর সাদা লবণের আস্তরণ পড়ে যায় (পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় একে ‘রেহ্’ বা ‘কাল্লার’ বলে), ফলে জমি সম্পূর্ণ অনুর্বর ও পতিত হয়ে পড়ে।

২. জলাবদ্ধতা (Waterlogging): অতিরিক্ত জল জমিতে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে মাটির রন্ধ্রে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উদ্ভিদের শিকড় পচে যায় এবং মাটির উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়।

৩. ভূগর্ভস্থ জলের স্তরের পতন ও আর্সেনিক দূষণ: অতিরিক্ত নলকূপ ও সাবমার্সিবল পাম্প চালিয়ে ভূগর্ভ থেকে লাগামহীন জল তোলার ফলে পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মাটির নিচের জলের স্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে যাচ্ছে এবং পানীয় জলে বিষাক্ত আর্সেনিক ও ফ্লুরাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপসংহার:

সুতরাং, কৃষির উন্নয়নের জন্য নির্বিচার প্লাবন সেচ পরিহার করে আধুনিক টেকসই প্রযুক্তি—যেমন ‘বিন্দু সেচ’ (Drip Irrigation) ও ‘ছিটানো সেচ’ (Sprinkler Irrigation) পদ্ধতি অবলম্বন করা বর্তমান ভারতে অত্যন্ত জরুরি।

PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)

ভারত - প্রাকৃতিক পরিবেশ

ভারত – প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ, SAQ , ২ নম্বরের প্রশ্ন, ৩ নম্বরের প্রশ্ন, ৫ নম্বরের প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232

১) মাধ্যমিক ভূগোল পঞ্চম অধ্যায় – ভারত – প্রাকৃতিক পরিবেশ (Only for Subscribers) 

Click here to view pdf file

সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে

তালনবমী MCQ

আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে। @ ভারত – প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।

জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে।

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। @ ভারত – প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।

পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি।

আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ ভারত – প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করার প্রচেষ্টা করবেন না !
Scroll to Top