bingsho-shotoke-europ-question-answers-class-9-history

বিংশ শতকে ইউরোপ প্রশ্নের উত্তর Class 9 History

বিংশ শতকে ইউরোপ প্রশ্নের উত্তর Class 9 History নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইতিহাস বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করতে WWW.WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নের উত্তরগুলি তৈরি করে তাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। এখানে নবম শ্রেণির ভূগোল অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হলো। 

আমাদের ওয়েবসাইটের Class Note বিভাগে বিবিধ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর, Mock Test বিভাগে একাধিক বিষয়ের অসংখ্য মক টেস্ট, Suggestion বিভাগে অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন প্রদান করা হয়। আমাদের সকল আপডেট লাভ করতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইটটি। 

বিংশ শতকে ইউরোপ প্রশ্নের উত্তর Class 9 History : 

 

বিভাগ ক: বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ও উত্তর

১. ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জুন অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ কোন শহরে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন?

(ক) ভিয়েনা

(খ) সারায়েভো

(গ) বেলগ্রেড

(ঘ) বার্লিন

উত্তর: (খ) সারায়েভো

২. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ইউরোপে গড়ে ওঠা ‘ত্রিশক্তি আঁতাত’ (Triple Entente)-এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি কী কী ছিল?

(ক) জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইতালি

(খ) ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া

(গ) জার্মানি, তুরস্ক ও বুলগেরিয়া

(ঘ) ব্রিটেন, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর: (খ) ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া

৩. রাশিয়ায় ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে (রুশ ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারি) সংঘটিত প্রথম বিপ্লবের ফলে কোন রাজবংশের পতন ঘটে?

(ক) বুরবোঁ বংশ

(খ) হাবসবার্গ বংশ

(গ) রোমানভ বংশ

(ঘ) হোহেনজোলার্ন বংশ

উত্তর: (গ) রোমানভ বংশ

৪. রুশ বলশেভিক দলের অবিসংবাদিত নেতা কে ছিলেন?

(ক) আলেকজান্ডার কেরেনস্কি

(খ) লিও ট্রটস্কি

(গ) ভি. আই. লেনিন

(ঘ) জোসেফ স্ট্যালিন

উত্তর: (গ) ভি. আই. লেনিন

৫. লেনিন ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে তাঁর বিখ্যাত কোন নীতি বা নির্দেশনামা ঘোষণা করেন?

(ক) এপ্রিল থিসিস (April Theses)

(খ) নয়া অর্থনৈতিক নীতি

(গ) চৌদ্দ দফা নীতি

(ঘ) যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ

উত্তর: (ক) এপ্রিল থিসিস (April Theses)

৬. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে সোভিয়েত রাশিয়া জার্মানির সাথে কোন সন্ধি স্বাক্ষর করেছিল?

(ক) ভার্সাই সন্ধি

(খ) ব্রেস্ট-লিটভস্কের সন্ধি

(গ) সেন্ট জার্মেইনের সন্ধি

(ঘ) সেভরের সন্ধি

উত্তর: (খ) ব্রেস্ট-লিটভস্কের সন্ধি

৭. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ‘চৌদ্দ দফা নীতি’ (Fourteen Points) কে ঘোষণা করেছিলেন?

(ক) ডেভিড লয়েড জর্জ

(খ) উড্রো উইলসন

(গ) জর্জেস ক্লিমেনশো

(ঘ) ভিট্টোরিও অরল্যান্ডো

উত্তর: (খ) উড্রো উইলসন

৮. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জুন জার্মানির ওপর কোন ঐতিহাসিক সন্ধি চাপিয়ে দেওয়া হয়?

(ক) লোকার্নো চুক্তি

(খ) ভার্সাই সন্ধি

(গ) জেনেভা প্রোটোকল

(ঘ) নিউলির সন্ধি

উত্তর: (খ) ভার্সাই সন্ধি

৯. ভার্সাই সন্ধির কত নম্বর ধারাকে কুখ্যাত ‘যুদ্ধাপরাধ ধারা’ (War Guilt Clause) বলা হয়?

(ক) ২৩১ নম্বর ধারা

(খ) ২২৩ নম্বর ধারা

(গ) ১৫০ নম্বর ধারা

(ঘ) ৯৯ নম্বর ধারা

উত্তর: (ক) ২৩১ নম্বর ধারা

১০. আন্তর্জাতিক শান্তি ও যৌথ নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে কোন বিশ্বসংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়?

(ক) জাতিসংঘ বা লিগ অব নেশনস (League of Nations)

(খ) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UNO)

(গ) কমনওয়েলথ

(ঘ) ওয়ারশ প্যাক্ট

উত্তর: (ক) জাতিসংঘ বা লিগ অব নেশনস (League of Nations)

১১. রাশিয়ায় অর্থনৈতিক সংকট মোচনে লেনিন কত খ্রিস্টাব্দে ‘নয়া অর্থনৈতিক নীতি’ বা NEP প্রবর্তন করেন?

(ক) ১৯১৭

(খ) ১৯১৯

(গ) ১৯২১

(ঘ) ১৯২৪

উত্তর: (গ) ১৯২১

১২. সোভিয়েত রাশিয়ায় কৃষি যৌথীকরণ ও দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে ‘পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা’ (Five-Year Plans) কে প্রবর্তন করেন?

(ক) লেনিন

(খ) স্ট্যালিন

(গ) ক্রুশ্চেভ

(ঘ) গর্বাচেভ

উত্তর: (খ) স্ট্যালিন

১৩. ইতালিতে উগ্র জাতীয়তাবাদী ‘ফ্যাসিবাদ’ (Fascism)-এর প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

(ক) বেনিতো মুসোলিনি

(খ) কাউন্ট কাভুর

(গ) জেনারেল ফ্রাঙ্কো

(ঘ) অ্যাডলফ হিটলার

উত্তর: (ক) বেনিতো মুসোলিনি

১৪. মুসোলিনির অনুগামী স্বেচ্ছাসেবক ফ্যাসিস্ট বাহিনীকে কী বলা হতো?

(ক) লাল ফৌজ

(খ) ব্ল্যাক শার্ট বা কালো কুর্তা

(গ) ব্রাউন শার্ট

(ঘ) গেস্টাপো

উত্তর: (খ) ব্ল্যাক শার্ট বা কালো কুর্তা

১৫. জার্মানিতে ‘নাৎসি দল’ (Nazi Party)-এর পুরো নাম কী ছিল?

(ক) ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি

(খ) সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি

(গ) জার্মান রিপাবলিকান ইউনিয়ন

(ঘ) ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টি

উত্তর: (ক) ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি

১৬. অ্যাডলফ হিটলারের রাজনৈতিক আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটির নাম কী?

(ক) ডাস ক্যাপিটাল

(খ) মাইন ক্যাম্ফ (Mein Kampf)

(গ) দ্য ওয়েলথ অব নেশনস

(ঘ) সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট

উত্তর: (খ) মাইন ক্যাম্ফ (Mein Kampf)

১৭. ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিট শেয়ার বাজারে ধসের মাধ্যমে শুরু হওয়া বৈশ্বিক বিপর্যয়কে কী বলা হয়?

(ক) দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব

(খ) গ্রেট ডিপ্রেশন বা মহামন্দা

(গ) অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ

(ঘ) মুদ্রাস্ফীতি সংকট

উত্তর: (খ) গ্রেট ডিপ্রেশন বা মহামন্দা

১৮. ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গ হিটলারকে জার্মানির কোন্ পদে নিযুক্ত করেছিলেন?

(ক) চ্যান্সেলর

(খ) রাষ্ট্রপতি

(গ) সেনাপ্রধান

(ঘ) রাষ্ট্রদূত

উত্তর: (ক) চ্যান্সেলর

১৯. ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেন হিটলারকে সন্তুষ্ট করতে কোন বিখ্যাত চুক্তি স্বাক্ষর করেন?

(ক) লোকার্নো চুক্তি

(খ) মিউনিখ চুক্তি

(গ) রোম-বার্লিন চুক্তি

(ঘ) ব্রাসেলস চুক্তি

উত্তর: (খ) মিউনিখ চুক্তি

২০. জার্মানি কোন দেশ আক্রমণ করলে ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়?

(ক) ফ্রান্স

(খ) পোল্যান্ড

(গ) চেকোস্লোভাকিয়া

(ঘ) রাশিয়া

উত্তর: (খ) পোল্যান্ড

@ বিংশ শতকে ইউরোপ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

বিভাগ খ: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ও উত্তর

১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ কোন্ ঘটনাটি ছিল?

উত্তর: ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জুন বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে সার্ব উগ্রপন্থী সংগঠন ‘ব্ল্যাক হ্যান্ড’-এর সদস্য গ্যাভ্রিলো প্রিন্সিপ কর্তৃক অস্ট্রো-হাঙ্গেরির যুবরাজ ফার্দিনান্দ ও তাঁর স্ত্রীর হত্যাকাণ্ড।

২. ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইতালির মধ্যে সম্পাদিত সামরিক জোটটির নাম কী ছিল?

উত্তর: ত্রিশক্তি চুক্তি বা ট্রিপল অ্যালায়েন্স (Triple Alliance)।

৩. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পশ্চিম রণাঙ্গনের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধটির নাম কী?

উত্তর: ভিয়েদেনের যুদ্ধ বা ভাদুঁর যুদ্ধ (Battle of Verdun, ১৯১৬)।

৪. ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের রুশ বিপ্লবের সময় রাশিয়ার সম্রাট বা জার কে ছিলেন?

উত্তর: জার দ্বিতীয় নিকোলাস (Czar Nicholas II)।

৫. ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে বলশেভিক বিপ্লবের মূল রাজনৈতিক স্লোগান কী ছিল?

উত্তর: “শান্তি, রুটি ও জমি” (Peace, Bread and Land) এবং “সমস্ত ক্ষমতা সোভিয়েতগুলির হাতে দাও” (All Power to the Soviets)।

৬. বলশেভিক বিপ্লবের পর অভ্যন্তরীণ প্রতিবিপ্লবীদের দমন করতে সোভিয়েত রাশিয়ায় গঠিত বিশেষ গোপন পুলিশ বাহিনীর নাম কী ছিল?

উত্তর: চেকা (Cheka)।

৭. রাশিয়ায় গৃহযুদ্ধের সময় লেনিন প্রবর্তিত কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নাম কী ছিল?

উত্তর: যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ (War Communism)।

৮. রাশিয়ার প্রথম যৌথ খামার ব্যবস্থার কৃষকদের কী বলা হতো এবং ধনী কৃষকদের কী বলা হতো?

উত্তর: যৌথ খামারকে বলা হতো ‘কলখোজ’ (Kolkhoz) এবং ধনী স্বার্থান্বেষী কৃষকদের বলা হতো ‘কুলাক’ (Kulak)।

৯. ভার্সাই সম্মেলনে ‘বিগ ফোর’ (Big Four) নামে পরিচিত চারজন প্রধান রাষ্ট্রনেতা কে কে ছিলেন?

উত্তর: মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড লয়েড জর্জ, ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জর্জেস ক্লিমেনশো এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী ভিট্টোরিও অরল্যান্ডো।

১০. ভার্সাই সন্ধির দ্বারা জার্মানির কোন গুরুত্বপূর্ণ সীমানা অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণভাবে অসামরিকীকরণ (Demilitarized) করা হয়েছিল?

উত্তর: রাইনল্যান্ড (Rhineland) অঞ্চলকে।

১১. জাতিসংঘ বা লিগ অব নেশনস-এর সদর দপ্তর কোন শহরে অবস্থিত ছিল?

উত্তর: সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে।

১২. ইতালীয় শব্দ ‘ফ্যাসিও’ (Fascio)-র আক্ষরিক অর্থ কী?

উত্তর: একতাবদ্ধ লাঠির আঁটি বা কাষ্ঠদণ্ডগুচ্ছ, যা একতা ও শক্তির প্রতীক।

১৩. মুসোলিনি কবে এবং কোন ঐতিহাসিক অভিযানের মাধ্যমে ইতালির ক্ষমতা দখল করেন?

উত্তর: ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ২৮-২৯ অক্টোবর ‘রোম অভিযান’ (March on Rome)-এর মাধ্যমে।

১৪. মুসোলিনি ও ভ্যাটিকানের পোপের মধ্যে ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে সম্পাদিত ঐতিহাসিক ধর্মীয় চুক্তির নাম কী?

উত্তর: ল্যাটেরান চুক্তি (Lateran Treaty)।

১৫. হিটলারের গোপন রাজনৈতিক পুলিশ বাহিনীর নাম কী ছিল?

উত্তর: গেস্টাপো (Gestapo)।

১৬. নাৎসি পার্টির সামরিক শাখা বা স্টর্ম ট্রুপার্স (Storm Troopers)-দের পোশাকের রঙের ভিত্তিতে কী বলা হতো?

উত্তর: ব্রাউন শার্ট বা বাদামি কুর্তা বাহিনী।

১৭. ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে নাৎসি জার্মানি ইহুদিদের নাগরিক অধিকার হরণ করতে কোন কুখ্যাত আইন পাস করে?

উত্তর: নুরেমবার্গ আইন (Nuremberg Laws)।

১৮. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ফ্যাসিবাদের সমর্থনে কোন তিনটি দেশ মিলে ‘রোম-বার্লিন-টোকিও অক্ষচুক্তি’ গঠন করেছিল?

উত্তর: ইতালি, জার্মানি ও জাপান।

১৯. ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের আগস্টে জার্মানি ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক অনাক্রমণ চুক্তির নাম কী?

উত্তর: নাৎসি-সোভিয়েত অনাক্রমণ চুক্তি (Nazi-Soviet Non-Aggression Pact)।

২০. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান বাহিনীর অতিদ্রুত ধ্বংসাত্মক যুদ্ধকৌশলকে কী বলা হতো?

উত্তর: ব্লিৎসক্রিগ (Blitzkrieg) বা ঝটিকা যুদ্ধ।

@ বিংশ শতকে ইউরোপ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

বিভাগ গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ২)

১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ইউরোপ কীভাবে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল?

  • ত্রিশক্তি চুক্তি (Triple Alliance, ১৮৮২):

    জার্মানির নেতৃত্বে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে জার্মানি, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য ও ইতালিকে নিয়ে এই রক্ষণশীল সামরিক বলয় তৈরি হয়।

  • ত্রিশক্তি আঁতাত (Triple Entente, ১৯০৭):

    জার্মানির ক্রমবর্ধমান নৌ ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আশঙ্কায় দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়ে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার-শাসিত রাশিয়া যৌথ নিরাপত্তার খাতিরে পাল্টা সামরিক অক্ষ গড়ে তোলে।

২. ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ‘সারায়েভো হত্যাকাণ্ড’ কী ছিল?

  • ঘটনার বিবরণ:

    ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সিংহাসনের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ ও তাঁর স্ত্রী সোফিয়া বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভো সফরে গেলে সার্বিয়ার চরমপন্থী দল ‘ব্ল্যাক হ্যান্ড’-এর সদস্য গ্যাভ্রিলো প্রিন্সিপ তাঁদের পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করে।

  • রাজনৈতিক পরিণতি:

    অস্ট্রিয়া এই হত্যাকাণ্ডের দায় সার্বিয়ার ওপর চাপিয়ে চরমপত্র পাঠায় এবং পরবর্তীতে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।

৩. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পশ্চিম রণাঙ্গনের ‘পরিখা যুদ্ধ’ (Trench Warfare) বলতে কী বোঝায়?

  • মাটির নিচে আত্মরক্ষা ও অবস্থান:

    সুইজারল্যান্ড সীমান্ত থেকে উত্তর সাগর পর্যন্ত শত শত মাইল জুড়ে ফরাসি, ব্রিটিশ ও জার্মান সেনারা মাটির নিচে গভীর পরিখা (বা ট্রেঞ্চ) খনন করে মুখোমুখি রক্তক্ষয়ী অবস্থান যুদ্ধ শুরু করে।

  • অমানুষিক পরিস্থিতি:

    কাঁটাতার, ভারী মেশিনগান ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে কোনো পক্ষই দ্রুত এগোতে পারত না; মাসের পর মাস জল-কাদায় পচে, রোগের শিকার হয়ে লক্ষ লক্ষ সেনার মৃত্যু এই পরিখা যুদ্ধের বৈশিষ্ট্য ছিল।

৪. রাশিয়ায় ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ‘ফেব্রুয়ারি বিপ্লব’ কেন ঘটেছিল?

  • যুদ্ধকালীন চরম খাদ্যসংকট ও ক্ষোভ:

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার প্রায় বিশ লক্ষ সেনার মৃত্যু এবং দেশজুড়ে রুটি ও জ্বালানির তীব্র হাহাকার সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

  • স্বৈরাচারী শাসনের অবসান:

    ৮ মার্চ (রুশ মতে ২৩ ফেব্রুয়ারি) পেট্রোগ্রাডের নারী শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ধর্মঘট শুরু করে এবং সেনাবাহিনী জনতার ওপর গুলি চালাতে অস্বীকার করলে জার দ্বিতীয় নিকোলাস সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

৫. লেনিনের ‘এপ্রিল থিসিস’ (April Theses)-এর মূল বিষয়বস্তু কী ছিল?

  • বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্বের ডাক:

    সুইজারল্যান্ড থেকে নির্বাসন কাটিয়ে ফিরে এসে লেনিন ঘোষণা করেন যে প্রথম বিপ্লব বুর্জোয়াদের হাতে গেছে; এবার শ্রমিক ও কৃষকদের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করতে হবে।

  • মূল দাবি:

    অবিলম্বে রাশিয়াকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ থেকে বের করে আনা, জমিদারদের জমি কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করা এবং সমস্ত রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ‘সোভিয়েত’ নামক শ্রমিক-সৈনিক পরিষদের হাতে অর্পণ করা।

৬. ‘ব্রেস্ট-লিটভস্কের সন্ধি’ (১৯১৮)-র শর্ত সোভিয়েত রাশিয়ার জন্য কেন অপমানজনক ছিল?

  • বিপুল ভূখণ্ড ত্যাগ:

    বিপ্লবকে রক্ষা করতে যুদ্ধবিরতির তাগিদে জার্মানির সঙ্গে এই সন্ধি করে রাশিয়াকে পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং ইউক্রেনের মতো উর্বর ভূখণ্ড হারাতে হয়।

  • অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি:

    রাশিয়ার মোট কয়লাখনির শতকরা নব্বই ভাগ এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আবাদি জমি ও জনসংখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়, যা ছিল লেনিনের কাছে এক চরম আত্মত্যাগ।

৭. লেনিনের ‘নয়া অর্থনৈতিক নীতি’ বা নেপ (NEP)-এর দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন।

  • ব্যক্তিগত মালিকানার আংশিক প্রত্যাবর্তন:

    কঠোর যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ প্রত্যাহার করে ক্ষুদ্র কারখানা ও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে সীমিত ব্যক্তিমালিকানা এবং ব্যক্তিগত মুনাফার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

  • কৃষকদের উদ্বৃত্ত শস্য বিক্রির স্বাধীনতা:

    কৃষকদের সমস্ত ফসল বাজেয়াপ্ত না করে একটি নির্দিষ্ট শস্য-কর ধার্য করা হয় এবং বাকি অতিরিক্ত শস্য খোলা বাজারে স্বাধীনভাবে বিক্রি করার অধিকার দেওয়া হয়।

৮. স্ট্যালিনের রাশিয়ায় ‘কৃষি যৌথীকরণ’ (Collectivization) নীতি কী ছিল?

  • যৌথ খামার প্রতিষ্ঠা:

    কৃষিতে আধুনিক যন্ত্র ও ট্র্যাক্টরের ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমিগুলিকে একত্রিত করে বৃহৎ রাষ্ট্রীয় ও সমবায় খামার (কলখোজ) গড়ে তোলার নীতি নেওয়া হয়।

  • কুলাকদের উচ্ছেদ:

    ধনী স্বতন্ত্র কৃষক বা ‘কুলাক’রা এই যৌথীকরণের বিরোধিতা করলে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে তাদের জমি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং লক্ষ লক্ষ চাষিকে সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত করা হয়।

৯. ভার্সাই সন্ধিকে কেন ‘চাপিয়ে দেওয়া শান্তি’ বা ‘ডিকটেট’ (Diktat) বলা হয়?

  • পরাজিত শক্তির অনুপস্থিতি:

    প্যারিস শান্তি সম্মেলনে জার্মানি বা তার মিত্রদের আলোচনার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি; বিজয়ী মিত্রশক্তি তাদের ইচ্ছামতো শর্ত রচনা করেছিল।

  • বলপূর্বক স্বাক্ষর:

    জার্মানিকে খসড়া সন্ধিপত্র দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় যে নিঃশর্তে স্বাক্ষর না করলে পুনরায় সেনা অভিযান চালিয়ে জার্মানি ধ্বংস করা হবে; ফলে বলপ্রয়োগের মুখে জার্মানি এতে সই করতে বাধ্য হয়।

১০. জাতিসংঘ বা লিগ অব নেশনস (League of Nations)-এর প্রধান দুটি ব্যর্থতা কী ছিল?

  • নিজস্ব আন্তর্জাতিক সেনাবাহিনীর অভাব:

    কোনো আক্রমণকারী দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা কার্যকর করার মতো নিজস্ব সৈন্যবাহিনী জাতিসংঘের ছিল না; ফলে তারা বড় শক্তির করুণার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

  • বৃহৎ পরাশক্তিগুলির অসহযোগিতা:

    সংস্থাটির অন্যতম রূপকার আমেরিকা নিজেই এতে যোগ দেয়নি; পরবর্তীতে জাপান, ইতালি ও জার্মানি আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে লিগ ত্যাগ করলেও জাতিসংঘ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

১১. ফ্যাসিবাদের (Fascism) দুটি প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কী?

  • সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রবাদ:

    ব্যক্তির স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। মুসোলিনির স্লোগান ছিল—”রাষ্ট্রের মধ্যে সবকিছু, রাষ্ট্রের বাইরে কিছু নয়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কেউ নয়।”

  • গণতন্ত্র ও শান্তির তীব্র বিরোধিতা:

    গণতন্ত্রকে দুর্বলদের শাসন মনে করা এবং আগ্রাসী যুদ্ধ ও সামরিক বিস্তারকে জাতির পৌরুষ ও বিকাশের প্রধান লক্ষণ বলে প্রচার করা।

১২. হিটলারের ঘোষিত ‘লেবেনসরাউম’ (Lebensraum) তত্ত্বটি কী ছিল?

  • জীবনধারণের স্থান বিস্তার:

    হিটলার প্রচার করেছিলেন যে শ্রেষ্ঠ নর্ডিক বা আর্য জার্মান জাতির জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার জন্য অতিরিক্ত ভূখণ্ডের প্রয়োজন।

  • পূর্ব ইউরোপ দখলের নীতি:

    জার্মান সীমান্তের বাইরে পূর্ব ইউরোপ ও রাশিয়ার স্লাভ অধ্যুষিত উর্বর জমি ও খনিজ সম্পদ সামরিক শক্তির জোরে দখল করে সেখানে জার্মান উপনিবেশ স্থাপন করাই ছিল এর লক্ষ্য।

১৩. ১৯২৯ সালের ‘মহামন্দা’ (Great Depression)-র দুটি প্রধান প্রভাব উল্লেখ করুন।

  • বিশ্বজুড়ে কলকারখানা বন্ধ ও বেকারত্ব:

    আমেরিকার ব্যাংক ব্যবস্থার পতনের সাথে সাথে বিশ্ববাণিজ্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে; একা জার্মানিতেই বেকার যুবকের সংখ্যা ষাট লক্ষ ছাড়িয়ে যায়।

  • গণতন্ত্রের সংকট ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম:

    গণতান্ত্রিক সরকারগুলি খাদ্য ও কর্মসংস্থান দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিভ্রান্ত সাধারণ মানুষ উগ্র ফ্যাসিবাদী ও নাৎসিদের চরম প্রতিশ্রুতিতে আকৃষ্ট হয়।

১৪. তোষণ নীতি (Appeasement Policy) বলতে কী বোঝায়?

  • একনায়কদের অন্যায় দাবি মেনে নেওয়া:

    ১৯৩০-এর দশকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের রক্ষণশীল সরকারগুলি সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে এবং সোভিয়েত কমিউনিজমকে আটকাতে হিটলার ও মুসোলিনির একের পর এক আন্তর্জাতিক আইনভঙ্গ ও সামরিক আগ্রাসনকে আপসকামিতার মাধ্যমে মেনে নেওয়ার যে দুর্বল নীতি নেয়, তাকে তোষণ নীতি বলে।

  • মিউনিখ চুক্তি দ্বারা দৃষ্টান্ত:

    ১৯৩৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার সুদেতেনল্যান্ড অঞ্চল হিটলারকে বিনা যুদ্ধে উপহার দেওয়া ছিল এই নীতির চরম ও আত্মঘাতী নিদর্শন।

১৫. ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ‘নাৎসি-সোভিয়েত অনাক্রমণ চুক্তি’-র তাৎপর্য কী ছিল?

  • দুই চরম শত্রুর কৌশলগত মিলন:

    পরস্পরবিরোধী মতাদর্শ থাকা সত্ত্বেও জার্মানি ও সোভিয়েত রাশিয়া দশ বছরের জন্য পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে না যাওয়ার গোপন সমঝোতা করে।

  • পোল্যান্ড বিভাজন ও বিশ্বযুদ্ধের পথ উন্মুক্ত:

    এই চুক্তির গোপন শর্তে পোল্যান্ডকে দুজনে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়; এর ফলে জার্মানি দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের ভয় কাটিয়ে নিশ্চিন্তে পোল্যান্ড আক্রমণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটায়।

@ বিংশ শতকে ইউরোপ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

 

বিভাগ ঘ: বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৪)

১. রাশিয়ায় ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের বলশেভিক বা নভেম্বর বিপ্লবের প্রধান কারণগুলি বিশ্লেষণ করুন।

১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ৭ নভেম্বর (তৎকালীন রুশ ক্যালেন্ডারে ২৫ অক্টোবর) লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় শ্রমিক ও কৃষকদের যে সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটেছিল, তা আধুনিক বিশ্বের প্রথম সফল সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্ম দেয়।

  • কেরেনস্কির অস্থায়ী সরকারের ব্যর্থতা ও যুদ্ধনীতি:

    মার্চ মাসে জারতন্ত্রের পতনের পর প্রতিষ্ঠিত বুর্জোয়া নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকার জনগণের মূল আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। তারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার অহেতুক অংশগ্রহণ চালিয়ে যাওয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে একের পর এক রুশ সৈন্যের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে এবং সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে।

  • অর্থনৈতিক অরাজকতা ও তীব্র খাদ্যসংকট:

    যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছায়, কলকারখানায় কাঁচামালের টান পড়ে এবং পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। রাজধানী পেট্রোগ্রাডসহ প্রধান প্রধান শহরগুলিতে রুটির জন্য হাহাকার শুরু হয়। অস্থায়ী সরকার ক্ষুধার্ত জনতার মুখে অন্ন তুলে দিতে সম্পূর্ণ অক্ষম প্রমাণিত হয়।

  • কৃষকদের ভূমিহীনতা ও অসন্তোষ:

    রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার সিংহভাগ ছিল দরিদ্র কৃষক। জারতন্ত্রের পতন ঘটলেও জমিদারদের বিশালাকার ভূসম্পত্তি কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করতে অস্থায়ী সরকার দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। ফলে কৃষকরা নিজেরাই বিভিন্ন স্থানে জমি দখল করতে শুরু করে এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের প্রতি সমর্থন জানায়।

  • লেনিনের আপসহীন নেতৃত্ব ও কার্যকর স্লোগান:

    বলশেভিক নেতা লেনিন সাধারণ মানুষের মনের নাড়ি বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি অতি সাধারণ ভাষায় তিনটি মূল প্রতিশ্রুতি মানুষের সামনে তুলে ধরেন—”শান্তি, জমি ও রুটি” (Peace, Land and Bread)। এই অমোঘ বাণী ক্লান্ত সৈন্য, ক্ষুধার্ত শ্রমিক ও ভূমিহীন কৃষকদের বলশেভিকদের লাল পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ করে সশস্ত্র বিপ্লবকে অনিবার্য করে তোলে।

২. ভার্সাই সন্ধির (১৯১৯) শর্তগুলির মধ্যে কীভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ সুপ্ত ছিল?

১৯১৯ সালের ২৮ জুন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী মিত্রশক্তি জার্মানির ওপর যে ভার্সাই সন্ধি চাপিয়ে দিয়েছিল, তা কোনো দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি; বরং তার প্রতিশোধমূলক ও অন্যায্য শর্তাবলি পরবর্তী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।

                                    ভার্সাই সন্ধির ধ্বংসাত্মক চক্র
                                                  │
                 ┌────────────────────────────────┼────────────────────────────────┐
                 ▼                                ▼                                ▼
           ভূখণ্ডগত অঙ্গচ্ছেদ                অর্থনৈতিক পঙ্গুত্ব               জাতীয় আত্মমর্যাদায় আঘাত
 ┌───────────────────────────────┐ ┌───────────────────────────────┐ ┌───────────────────────────────┐
 │• আলসাস-লোরেন কেড়ে নেওয়া     │ │• ৬৬০ কোটি পাউন্ড ক্ষতিপূরণ   │ │• ২৩১ নম্বর 'যুদ্ধাপরাধ ধারা'  │
 │• পোলিশ করিডোর দিয়ে বিচ্ছিন্নতা │ │• সার কয়লাখনি হস্তান্তর      │ │• একতরফা সামরিক নিরস্ত্রীকরণ  │
 └───────────────────────────────┘ └───────────────────────────────┘ └───────────────────────────────┘
                                                  │
                                                  ▼
                                    হিটলারের উত্থান ও উগ্র প্রতিশোধবাদ
  • ভূখণ্ডগত অঙ্গচ্ছেদ ও জাতিগত বিচ্ছিন্নতা:

    জার্মানির আলসাস ও লোরেন অঞ্চল ফ্রান্সকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং পোলিশ করিডোর তৈরি করে পূর্ব প্রুশিয়াকে মূল জার্মানি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর ফলে বহু জার্মানভাষী জনগোষ্ঠী অন্য দেশের অধীনে চলে যায়। উইলসনের স্বাধিকারের বাণী জার্মানির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়।

  • অর্থনৈতিক শোষণ ও যুদ্ধাপরাধের বোঝা:

    ২৩১ নম্বর ধারার মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমস্ত রক্তপাত ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য জার্মানিকে এককভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়। জার্মানির ওপর তৎকালীন ৬৬০ কোটি পাউন্ডের এক অসম্ভব ক্ষতিপূরণের বোঝা চাপানো হয় এবং দেশটির সার কয়লাখনি ফ্রান্সের অধীনে দিয়ে তার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

  • চরম সামরিক অপমান ও হিটলারের উত্থান:

    জার্মান সেনাসংখ্যা কমিয়ে মাত্র এক লক্ষে সীমাবদ্ধ করা হয়, নৌবহর ধ্বংস করা হয় এবং বিমানবাহিনী সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়। এই জাতীয় অবমাননা প্রতিটি জার্মান নাগরিকের মনে এক গভীর ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি করেছিল। ফরাসি সেনাপতি মার্শাল ফোচ (Ferdinand Foch) সন্ধিপত্র দেখে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন:

    “This is not peace. It is an armistice for twenty years.”

    (এটি কোনো শান্তি নয়; এটি হলো মাত্র কুড়ি বছরের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি।)

    এই অবমাননার আগুনে ঘি ঢেলে হিটলার অতি সহজে জার্মান জাতির আবেগকে উস্কে দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে পা বাড়িয়েছিলেন।

৩. পশ্চিমী শক্তিগুলির ‘তোষণ নীতি’ (Appeasement Policy) কীভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল?

১৯৩০-এর দশকে হিটলার এবং মুসোলিনির বেপরোয়া আন্তর্জাতিক আগ্রাসনের মুখে ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের সরকার যে তোষণমূলক বা নমনীয় আপসকামী নীতি গ্রহণ করেছিল, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ রোধ করার পরিবর্তে যুদ্ধকে আরও দ্রুত ও অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল।

  • যুদ্ধভীতি ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা:

    ব্রিটেন ও ফ্রান্স প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ রক্তক্ষয় ও অর্থনৈতিক আঘাত ভুলতে পারেনি। তাদের সাধারণ মানুষ কোনো অবস্থাতেই আরেকটি মহাযুদ্ধে জড়াতে প্রস্তুত ছিল না। ফলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেন বিশ্বাস করতেন যে আলোচনার মাধ্যমে হিটলারের ন্যায্য দাবিগুলি মেনে নিলে হয়তো ইউরোপকে নতুন যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে।

  • কমিউনিজম বা সোভিয়েত ভীতি:

    পশ্চিমা পুঁজিবাদী দেশগুলি রাশিয়ার বলশেভিক সাম্যবাদকে তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপজ্জনক শত্রু বলে মনে করত। তারা ভেবেছিল শক্তিশালী নাৎসি জার্মানি ইউরোপের বুকে কমিউনিজমের বিস্তার রোধে একটি কার্যকর “প্রতিরক্ষা প্রাচীর” হিসেবে কাজ করবে। তাই তারা হিটলারের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দিকে দেখেও না দেখার ভান করেছিল।

  • একনায়কদের দুঃসাহস বৃদ্ধি ও মিউনিখ চুক্তির বিশ্বাসঘাতকতা:

    হিটলার যখন একে একে ভার্সাই সন্ধির শর্ত ভেঙে রাইনল্যান্ডে সেনা পাঠালেন (১৯৩৬), অস্ট্রিয়া দখল করলেন (১৯৩৮) এবং স্পেনীয় গৃহযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিলেন—তখন কোনো কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ায় হিটলারের আত্মবিশ্বাস দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

    ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তির মাধ্যমে চেকোস্লোভাকিয়াকে সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ করে তার সুদেতেনল্যান্ড অঞ্চল হিটলারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে হিটলার নিশ্চিত হন যে পশ্চিমী শক্তিগুলি কাপুরুষ এবং তারা কখনো প্রতিরোধ করবে না। এই চরম ভুলের পরিণতিতেই হিটলার ১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বরে নির্ভয়ে পোল্যান্ড আক্রমণ করেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

@ বিংশ শতকে ইউরোপ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

 

বিভাগ ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন (প্রতিটির মান: ৮)

১. ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনির নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদ এবং জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসিবাদ উত্থানের তুলনামূলক কারণ ও প্রেক্ষাপট আলোচনা করুন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পরবর্তী দুই দশকে ইউরোপের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর এক মারাত্মক আঘাত হেনেছিল উগ্র সর্বগ্রাসী একনায়কতন্ত্র। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ইতালিতে মুসোলিনির নেতৃত্বে ‘ফ্যাসিবাদ’ এবং ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে জার্মানিতে হিটলারের নেতৃত্বে ‘নাৎসিবাদ’-এর উত্থান ঘটেছিল। যদিও তাদের প্রকাশ ঘটেছিল দুটি ভিন্ন রাষ্ট্রে, তবুও তাদের ক্ষমতায় আসার সামাজিক, রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে এক বিস্ময়কর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

                              ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের উত্থান-বৃত্তান্ত
                                                │
             ┌──────────────────────────────────┼──────────────────────────────────┐
             ▼                                  ▼                                  ▼
      যুদ্ধোত্তর মোহভঙ্গ ও অপমান               অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও বেকারত্ব          উগ্র জাতীয়তাবাদ ও নেতৃত্ব
 ┌───────────────────────────────┐  ┌───────────────────────────────┐  ┌───────────────────────────────┐
 │• ইতালি: "পরাজিতদের মতো শান্তি"│  │• ১৯২৯-এর মহামন্দা ও মুদ্রাস্ফীতি│  │• মুসোলিনির রোমান সাম্রাজ্যের স্বপ্ন│
 │• জার্মানি: ভার্সাই সন্ধির লজ্জা │  │• কোটি কোটি যুবকের কর্মহীনতা   │  │• হিটলারের বিশুদ্ধ আর্য শ্রেষ্ঠত্ব│
 │• সংসদীয় গণতন্ত্রের অদক্ষতা   │  │• পুঁজিবাদ বনাম সাম্যবাদের দ্বন্দ্ব │  │• সুসংগঠিত দলীয় সশস্ত্র বাহিনী    │
 └───────────────────────────────┘  └───────────────────────────────┘  └───────────────────────────────┘

ফ্যাসিবাদের উত্থানের প্রেক্ষাপট (ইতালি)

  • বিজয়ী হয়েও প্রান্তিকতার অপমান:

    ইতালি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির পক্ষে যুদ্ধ করেছিল প্রচুর রক্ত ও অর্থ ক্ষয় করে। কিন্তু যুদ্ধের পর প্যারিস শান্তি সম্মেলনে তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অ্যাড্রিয়াটিক উপকূল ও ফিউম বন্দর দেওয়া হয়নি। ইতালীয় জনগণের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে তারা “যুদ্ধে জয়ী হলেও শান্তিতে পরাজিত” (Mutilated Victory) হয়েছে। এই জাতীয় ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে মুসোলিনি এক পরাক্রমশালী রোমান সাম্রাজ্য পুনর্গ  N ঠনের স্বপ্ন দেখান।

  • অর্থনৈতিক অরাজকতা ও বামপন্থী আন্দোলনের ভয়:

    যুদ্ধোত্তর ইতালিতে খাদ্যসংকট, জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং লাখ লাখ সেনার কর্মহীনতা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে। রাশিয়ার বিপ্লবে উৎসাহিত হয়ে ইতালির শ্রমিকরা একের পর এক কারখানায় লাল পতাকা উড়িয়ে ধর্মঘট শুরু করে এবং কৃষকরা জমি দখল করতে থাকে। ইতালির ধনিক পুঁজিপতি, ভূস্বামী এবং মধ্যবিত্তরা সাম্যবাদের আতঙ্কে প্রমাদ গণে। মুসোলিনির দল তাঁদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ায় তাঁরা ফ্যাসিস্টদের বিপুল অর্থসাহায্য করতে থাকেন।

  • দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রশাসন ও রোম অভিযান (১৯২২):

    ইতালির উদারনৈতিক সংসদীয় সরকার অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। এই প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ১৯২২ সালের অক্টোবরে মুসোলিনি তাঁর হাজার হাজার সশস্ত্র ‘ব্ল্যাক শার্ট’ বাহিনী নিয়ে ঐতিহাসিক ‘রোম অভিযান’ (March on Rome) পরিচালনা করেন। গৃহযুদ্ধের ভয়ে ভীত দুর্বল রাজা তৃতীয় ভিক্টর ইমানুয়েল কোনো প্রতিরোধ না করে মুসোলিনিকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসাতে বাধ্য হন।

নাৎসিবাদের উত্থানের প্রেক্ষাপট (জার্মানি)

  • ভার্সাই সন্ধির অপমানের বোঝা ও ভাইমার প্রজাতন্ত্রের দুর্বলতা:

    জার্মানির বুকে রাজতন্ত্রের পতনের পর প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক ‘ভাইমার প্রজাতন্ত্র’ শুরু থেকেই মানুষের কাছে ঘৃণ্য ছিল, কারণ তারা মিত্রশক্তির অপমানজনক ভার্সাই সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করেছিল। উগ্র জাতীয়তাবাদীরা প্রচার করতে থাকে যে জার্মান সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে হারেনি; সমাজতন্ত্রী ও ইহুদিরা পেছন থেকে তাদের “পিঠে ছুরি মেরেছে” (Stab-in-the-back myth)। হিটলার তাঁর জাদুকরী ও সম্মোহনী বক্তৃতায় ভার্সাই সন্ধির শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমগ্র জার্মানির জাতীয় বীর হয়ে ওঠেন।

  • ১৯২৯-এর ঐতিহাসিক মহামন্দা ও সর্বনাশা বেকারত্ব:

    আমেরিকার শেয়ার বাজারে ধসের সাথে সাথে ভাইমার প্রজাতন্ত্রের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ে। বিদেশি ঋণ বন্ধ হয়ে যায়, কলকারখানা বন্ধ হয় এবং জার্মানির রাজপথে ষাট লক্ষের বেশি যুবক কর্মহীন হয়ে ভবঘুরের মতো ঘুরতে থাকে। পেটের ক্ষুধা ও মর্যাদাহীন জীবন সাধারণ মানুষকে প্রচলিত রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। হিটলার প্রতিশ্রুতি দেন—”প্রত্যেক মানুষের কাজ এবং পেটে রুটি।”

  • ইহুদিবিদ্বেষ ও বিশুদ্ধ আর্য জাতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার:

    হিটলার অত্যন্ত চতুরতার সাথে জার্মানির সমস্ত ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক দুর্গতির জন্য ইহুদি ও কমিউনিস্টদের দায়ী করেন। তিনি তাঁর গ্রন্থ ‘মাইন ক্যাম্ফ’-এ প্রচার করেন যে নর্ডিক জার্মান জাতি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি এবং সমগ্র বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করাই তাদের ভাগ্য।

  • হিটলারের চ্যান্সেলর পদে আসীন হওয়া (১৯৩৩):

    নাৎসি দলের ‘ব্রাউন শার্ট’ বা স্টর্ম ট্রুপার্স বাহিনী রাজপথে কমিউনিস্টদের পিটিয়ে আতঙ্ক কায়েম করে। ১৯৩২ সালের নির্বাচনে নাৎসি দল একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। বিভ্রান্ত ও দিশেহারা প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গ অবশেষে বাধ্য হয়ে ১৯৩৩ সালের ৩০ জানুয়ারি অ্যাডলফ হিটলারকে জার্মানির চ্যান্সেলর নিযুক্ত করেন। ক্ষমতায় বসেই হিটলার কমিউনিস্টদের ওপর সংসদ ভবনে আগুন লাগানোর (Reichstag Fire) দোষ চাপিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং সমস্ত বিরোধী দল নিষিদ্ধ করে নিজেকে জার্মানির একচ্ছত্র একনায়ক বা ‘ফুহরের’ (Führer) ঘোষণা করেন।

ঐতিহাসিক মূল্যায়ন ও তুলনা

ইতালীয় ফ্যাসিবাদ এবং জার্মান নাৎসিবাদ কেবল কোনো স্থানীয় বিদ্রোহ ছিল না; তা ছিল গণতন্ত্রের দুর্বলতার ওপর দাঁড়িয়ে পুঁজিপতিদের মদতে গড়ে ওঠা এক হিংস্র সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রদর্শন।

ঐতিহাসিক অ্যালান বুলক (Alan Bullock) যথার্থই বিশ্লেষণ করেছেন যে, হিটলার ও মুসোলিনির মতো একনায়কদের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা ও রাজনৈতিক চাতুর্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তৎকালীন ইউরোপের গভীর অর্থনৈতিক ক্ষত ও যুদ্ধোত্তর আত্মমর্যাদার অবক্ষয়ই তাঁদের উত্থানের অনুকূল সামাজিক জমি তৈরি করে দিয়েছিল। এই সর্বগ্রাসী দানবীয় উন্মাদনার অবশ্যম্ভাবী পরিণতিতেই সমগ্র মানবজাতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের মুখে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল।

@ বিংশ শতকে ইউরোপ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) প্রধান কারণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করুন। এই বিশ্বযুদ্ধ কি প্রথম বিশ্বযুদ্ধেরই একটি অনিবার্য পরিণতি ছিল?

১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যে ভয়াল দামামা বেজে উঠেছিল, তা ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত চলে কোটি কোটি মানুষের প্রাণহানি এবং অভূতপূর্ব ধ্বংসলীলা ঘটিয়েছিল। এই মহাযুদ্ধ কোনো আকস্মিক সামরিক দুর্ঘটনা ছিল না; এটি ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী দুই দশকের অমীমাংসিত সাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব, সর্বগ্রাসী একনায়কতন্ত্রের আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক কাঠামোর চরম ব্যর্থতার এক সর্বনাশা বহিঃপ্রকাশ।

                                দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ-পরিক্রমা
                                                │
             ┌──────────────────────────────────┼──────────────────────────────────┐
             ▼                                  ▼                                  ▼
      ভার্সাই ব্যবস্থার অদূরদর্শিতা           একনায়কদের আগ্রাসী বিস্তার             আন্তর্জাতিক সংস্থার পঙ্গুত্ব
 ┌───────────────────────────────┐  ┌───────────────────────────────┐  ┌───────────────────────────────┐
 │• জার্মানির ওপর অন্যায্য ডিকটেট │  │• হিটলারের 'লেবেনসরাউম' নীতি   │  │• লিগ অব নেশনস-এর অক্ষমতা      │
 │• ক্ষতিপূরণ ও ভূখণ্ডগত বঞ্চনা   │  │• মুসোলিনির আবিসিনিয়া বিজয়   │  │• নিরস্ত্রীকরণের সামগ্রিক ব্যর্থতা│
 │• কৃত্রিম জাতিরাষ্ট্র গঠন      │  │• জাপানের মাঞ্চুরিয়া আগ্রাসন  │  │• বৃহৎ শক্তিগুলির তোষণ নীতি    │
 └───────────────────────────────┘  └───────────────────────────────┘  └───────────────────────────────┘
                                                │
                                                ▼
                               পোল্যান্ড আক্রমণ ও মহাযুদ্ধের সূচনা

প্রধান কারণসমূহ

  • ভার্সাই সন্ধির চরম অন্যায় ও ত্রুটিপূর্ণ ভিত্তি:

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শিকড় গভীরভাবে প্রোথিত ছিল ১৯১৯ সালের ভার্সাই সন্ধির অন্যায্য ব্যবস্থার মধ্যে। জার্মানির ভূখণ্ড ছিন্নভিন্ন করা, একতরফা যুদ্ধাপরাধ চাপানো এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে দেশটিকে পঙ্গু করে দেওয়ার যে নীতি মিত্রশক্তি নিয়েছিল, তা জার্মান জাতির মধ্যে স্থায়ী ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ইউরোপীয় মানচিত্র নতুন করে আঁকতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘুকে অন্য জাতির অধীনে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যা জাতিগত সংঘাতকে বাঁচিয়ে রাখে।

  • ফ্যাসিবাদী ও নাৎসি আগ্রাসনবাদ:

    জার্মানি ও ইতালির উগ্র জাতীয়তাবাদী সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক সামরিক অভিযান শুরু করে।

    • হিটলারের সীমাহীন বিস্তার: ১৯৩৫ সালে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু করা, ১৯৩৬ সালে রাইনল্যান্ডে সেনা প্রবেশ, ১৯৩৮ সালে অস্ট্রিয়া দখল (Anschluss) এবং একই বছর চেকোস্লোভাকিয়ার সুদেতেনল্যান্ড হস্তগত করে হিটলার তাঁর সাম্রাজ্যবাদী ক্ষুধা অব্যাহত রাখেন।

    • মুসোলিনির আবিসিনিয়া আক্রমণ: ১৯৩৫ সালে ইতালি আফ্রিকার স্বাধীন দেশ আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া) আক্রমণ করে নির্বিচারে বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করে তা দখল করে।

  • জাপানের উগ্র সামরিক সাম্রাজ্যবাদ:

    এশিয়া ভূখণ্ডে জাপান ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে চীনের মাঞ্চুরিয়া দখল করে একটি পুতুল সরকার গঠন করে। পরবর্তীতে ১৯৩৭ সালে জাপান সমগ্র চীনের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু করে। এই অক্ষশক্তিগুলি (রোম-বার্লিন-টোকিও) একজোট হয়ে সমগ্র বিশ্বকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনায় লিপ্ত হয়।

  • জাতিসংঘ বা লিগ অব নেশনস-এর মর্মান্তিক ব্যর্থতা:

    যে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি তৈরি হয়েছিল বিশ্বশান্তি রক্ষার শপথ নিয়ে, বড় শক্তিগুলির আগ্রাসনের মুখে তার সম্পূর্ণ নপুংসক রূপ প্রকাশিত হয়ে পড়ে। জাপান যখন মাঞ্চুরিয়া দখল করল কিংবা ইতালি যখন আবিসিনিয়া আক্রমণ করল, তখন লিগ শুধু মৌখিক নিন্দা ছাড়া কোনো কার্যকর সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এই চরম অক্ষমতা আগ্রাসী একনায়কদের বুঝিয়ে দিয়েছিল যে আন্তর্জাতিক নিয়মের কোনো বাস্তব মূল্য নেই।

  • পশ্চিমী গণতান্ত্রিক শক্তিগুলির তোষণ নীতি (Policy of Appeasement):

    ব্রিটেন ও ফ্রান্সের চরম দুর্বলচিত্ত এবং যুদ্ধভীতি হিটলারের সাহস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। সাম্যবাদের ভয় দেখিয়ে হিটলার যখন একের পর এক চুক্তি লঙ্ঘন করছিলেন, তখন ব্রিটেন ও ফ্রান্স তাঁকে রুখে দেওয়ার বদলে তাঁর প্রতিটি অন্যায় আবদার মেনে নিয়েছিল। ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তি ছিল এই কাপুরুষোচিত তোষণের শীর্ষবিন্দু, যা হিটলারের মনে এই বদ্ধমূল ধারণা তৈরি করে যে পশ্চিমীরা যুদ্ধ করার সাহস হারিয়ে ফেলেছে।

  • তাৎক্ষণিক কারণ (পোল্যান্ড আক্রমণ):

    ১৯৩৯ সালের ২৩ আগস্ট হিটলার সোভিয়েত রাশিয়ার সাথে অনাক্রমণ চুক্তি সম্পাদন করে নিজেকে সুরক্ষিত করেন। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর—১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মান বাহিনী পোল্যান্ডের ওপর সর্বশক্তি নিয়ে ‘ঝটিকা আক্রমণ’ (Blitzkrieg) হানে। পোল্যান্ডের ভৌগোলিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়ে রাখা ব্রিটেন ও ফ্রান্স অবশেষে বাধ্য হয়ে ৩ সেপ্টেম্বর জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। শুরু হয় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রলয়ংকর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

এই যুদ্ধ কি প্রথম বিশ্বযুদ্ধেরই এক অনিবার্য পরিণতি ছিল?

ইতিহাসবিদদের একটি প্রভাবশালী অংশ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কোনো যুদ্ধ বলে মনে করেন না। বিখ্যাত ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ ই. এইচ. কার (E. H. Carr) এবং এ. জে. পি. টেলর (A. J. P. Taylor)-এর মতে, ১৯১৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সময়কাল বস্তুত ইউরোপের ইতিহাসে একটি “ত্রিশ বছরের গৃহযুদ্ধ” (A Second Thirty Years’ War)।

  • প্রথম যুদ্ধের অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা ও জাতীয়তাবাদী ক্ষোভের কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। বরং এটি পুরনো সমস্যার ওপর ভার্সাই চুক্তির মারাত্মক অন্যায় চাপিয়ে দিয়ে নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছিল।

  • বিজয়ীদের স্বার্থপরতা ও দায়িত্বহীনতা: আমেরিকা বিশ্বনেতৃত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতি গ্রহণ করেছিল, আর ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স বিশ্বশান্তির দায়িত্ব কাঁধে না নিয়ে কেবল নিজেদের ঔপনিবেশিক স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত ছিল।

অতএব, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উপসংহারে যে বীজ উপ্ত হয়েছিল, একনায়কদের আগ্রাসন ও পুঁজিবাদী সংকটের উর্বর মাটিতে তা-ই বিষবৃক্ষ হয়ে পল্লবিত হয়েছিল। এই অর্থেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অসমাপ্ত অধ্যায়ের এক রক্তক্ষয়ী ও অনিবার্য ঐতিহাসিক পরিণতি।

PDF DOWNLOAD LINK (Preview Copy)

বিংশ শতকে ইউরোপ

বিংশ শতকে ইউরোপ প্রশ্নের উত্তর – উপরের ফাইলটিতে অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। নিম্নের PDF ফাইলটিতে এই অধ্যায়ের সমস্ত MCQ, SAQ , ২ নম্বরের প্রশ্ন, ৪ নম্বরের প্রশ্ন, ৮ নম্বরের প্রশ্ন উত্তরসহ শুধুমাত্র আমাদের Subscribers -দের জন্য প্রদান করা হলো। নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ের সাবস্ক্রিপশন নিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথেঃ What’s App: 7001880232

১) নবম শ্রেণির ইতিহাস পঞ্চম অধ্যায় – বিংশ শতকে ইউরোপ (Only for Subscribers) 

Click here to view pdf file

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সকল বিষয়ের MCQ প্রশ্নের মক টেস্ট প্রদান করতে নিম্নের লিঙ্কটি অনুসরণ করতে হবে 

নবম শ্রেণির ভূগোল প্রশ্নের উত্তর

সকল শ্রেণির বাংলা অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিম্নের ছবিতে ক্লিক/টাচ করতে হবে

উত্তর আমেরিকা MCQ

আমাদের কথাঃ পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য।

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃত প্রভৃতি বিষয়ে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা হবে।

ভালো করে পড়াশোনা করা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের সামগ্রিক জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। সঠিক শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে।

জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে যেকোনো বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার হয়। এটি বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা তৈরি করে। @ বিংশ শতকে ইউরোপ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আত্মনির্ভরশীলতা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভালো পড়াশোনা ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে, যা একজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক।

পড়াশোনাকে শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে শেখা উচিত। নিয়মিত ও পরিকল্পিত অধ্যবসায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই সফল, সচেতন ও মার্জিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ভালো করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত জরুরি। @ বিংশ শতকে ইউরোপ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন আলোচনা প্রদান করবার প্রচেষ্টা করে চলেছি। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পরিচিতদের সাথে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটটিকে শেয়ার করবেন। @ বিংশ শতকে ইউরোপ প্রশ্নের উত্তর – WBNOTES.IN

আমাদের লক্ষ্যঃ পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় বিবিধ বিষয়ের একটি সুসংগঠিত অনলাইন শিক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা যেমন বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সুবিধা প্রদান করেছি; আবার মাননীয় শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের WBNOTES.IN ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে নরমাল ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন। আমাদের সাবস্ক্রীপশন পেজে আপনারা এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করার প্রচেষ্টা করবেন না !
Scroll to Top